শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪

স্মৃতির কথকতা

 মানুষ শুধু কুঁড়িয়েই যায়

সেই জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি,  

তবুও শেষমেশ আসলে হাতে থাকে না কিছুই 

থাকে শুধু স্মৃতির পাতায় গেঁথে যাওয়া স্মৃতিগুলো; 


থাকে কিছু মনমরা ঢলা রোদ কিছু তেজস্বী ঝলসানো দুপুর  

থাকে চাঁদ থাকে জ্যোৎস্না থাকে অমাবস্যা, 

থাকে বছরের তিনশত পঁয়ষট্টি দিনের মাঝে হাতেগোনা অল্প কিছু দিন

যখন তুই হেসেছিলি বালিকা, যখন তুই কেঁদেছিলি

যখন তুই ভালবেসেছিলি, যখন ছেড়ে গিয়েছিলি

যখন মনে প্রেম এসেছিলো আর জীবনটা তুইময় ছিলো,


থাকে কুঁড়িয়ে তোলা হাজার সম্পর্কের ভীরে অল্প কিছু সম্পর্ক

যারা ভালবেসেছিল, যারা দুঃখ দিয়েছিলো

যারা কিছু পাওয়ার আসায় কাছে এসেছিলো 

যারা স্বার্থের লোভে ছেড়ে গিয়েছিলো

যাদের জন্য হেসেছিলেম কখনো 

আর যাদের জন্য কাঁদতে হচ্ছে আজও,


ক্ষণস্থায়ী জীবনে কিছু দীর্ঘস্থায়ী অতীত  

স্মৃতির কোষে কোষে নেশার বিষের মত 

শরীরের ভেতর বাসা বাঁধে 

রোধ পোহায়

নিউরন কোষ কুঁড়ে কুঁড়ে খায়

বেড়ে উঠতে উঠতে একসময় যখন থেমে যায়

তারপর মন হামানদিস্তায় পিষে যায় স্মৃতিগুলো 

পিষে যায় মানুষগুলো, সম্পর্কগুলো

ভালোবাসা, হাসি-কান্না আর দুঃখগুলো 

তারপর বাতাসে উড়িয়ে দেয় সকল মৃতদেহ

মৃত মানুষ

মৃত সম্পর্কগুলো

মৃত অনুভূতির সকল অনুভব

তারপর সৎকার হয়ে যায় সকল দীর্ঘশ্বাসের;


ঐ তো ইতস্তত পড়ে আছি আমি 

স্মৃতিগুলো সব মেরে ফেলে,  


তোমরা শব বলে আমায় নিয়ে যাচ্ছ 

দেহটা সৎকারে। 



#হিবিজিবি_ভাবনা 

 

স্মৃতির কথকতা 

 - মোঃ আহসানুল হক 


১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ 





সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

তারার হাসি

 ঐ যে শ্যাওলা পুকুরটায় গাঢ় সবুজ জল! 

আঁধার নামতেই জলে কালো  

একমাত্র সূর্যই সাহস করে  

টুপ করে ডুবে যেতে, সন্ধ্যা নামতেই......... 

প্রেমে ডুবতে না পারার অক্ষমতা 

শুধুই প্রেমিকের...... 


কত রূপেই না দেখি চাঁদ'কে! 

কত শোভা, কত নাম আর প্রেমিকের কবিতায় আঁকা 

নিজস্ব আলো কোথায় তার? 

ধার করা আলোতে পথ চলতে চায় প্রেমিক 

প্রেমে অমাবস্যা এলে দোষ দেবে কাকে? 


সন্ধ্যা পার হতেই রাতের সাথে অন্ধকারের ফিসফাস

প্রেমের কবিতা বোনা হয় ব্যর্থতার জালে 

তারপর ঝপ করে কান্নার জাল ফেলতেই 

একটি দুটি রূপালী ইলিশের চকচক  

চাঁদের ধার করা সূর্যের রাতে;  


ভালোবাসার খুব গভীরে কোথাও কি আলো আছে?  

প্রেমের নিকষ কালো রাতে তারা'রা হাসে..................... 

প্রেমিকের কলম ব্যর্থতা লিখে 

রাত-বাদুরের পিঠে। 


#হিবিজিবি_এলোমেলো 


তারার হাসি 

 - মোঃ আহসানুল হক 


০৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ 





বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

সংগ্রহ

 কতরকম শখই না মানুষের আছে  

এর মাঝে সংগ্রহে বিভিন্ন রকম জিনিস রাখা একটি শখ

সখ করে নানা জিনিষ  সংগ্রহ করে তারপর শোকেসে সাজিয়ে রাখে থরে থরে, 

কেউ মুদ্রা সংগ্রহে রাখে কেউ রাখে পুরনো স্ট্যাম্প

কেউ পুরনো গানের রেকর্ড 

কারও বা বইয়ের সংগ্রহ 

আমি ছোটবেলা সংগ্রহে রাখতাম লাল নীল সবুজ হলুদ নানা রঙের মার্বেল

তারপর সংগ্রহ করা শুরু করলাম বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের প্যাকেট 

আরেকটু বড় হয়ে কৈশোরে এসে স্ট্যাম্প, তারপর বই

যৌবনে এসে সংগ্রহ ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হতে থাকলো টুকরো টুকরো নানা দুঃখ বেদনায় 

বেশিরভাগ খুব কাছের নিজের মানুষের দেয়া,  

ওগুলো বেশিরভাগই স্বার্থসংশ্লিষ্ট  

তারপর থেকে ক্রমাগত কষ্ট আর বেদনার ইতিহাস

সাপের মত পেঁচিয়ে ধরে রেখেছে স্মৃতিগুলো; 

আজকাল আর কিছুই জমাই না  

আয়নায় তাকালেই দেখি বয়সের ভারে ন্যুয়ে থাকা আমি 

আর পেছনে একরাশ লম্বা দুঃখ বেদনার দীর্ঘশ্বাস, 

কি নিদারুণ সংগ্রহই না আমার! 


#হিবিজিবি_দীর্ঘশ্বাস 


সংগ্রহ 

 -মোঃ আহসানুল হক 


০৫ ডিসেম্বর ২০২8

ঝগড়াচ্ছা - রম্য

 আমার একটা খারাপ অভ্যাস আছে, খুবই খারাপ অভ্যাস।  আমি ঝগড়া না করে বেশিক্ষণ থাকতে পারি না।  আমার মুখের ভেতরটা কেমন যেন চুলকায়, পোয়াতি মেয়েদের মত ক্রমাগত শরীর গুলায়।   

বাসায় থাকতে আমি সারাক্ষণ ঝগড়া করি, বউয়ের সাথে।  সেও কি ঝগড়া করে না? আরে করে বাবা! করে; এক হাতে তো আর তালি বাজে না! আমি যদি একশটা কথা শোনাই সে একটার তো জবাব দেয়! তাতেই আমি উৎসাহিত হয়ে পরবর্তী আরও দুইশটা বলার সুযোগ পাই। আমাদের কন্টিনিউয়াস ঝগড়া লেগেই থাকে।  

আমি যেমন আমার বউয়ের সাথে ঝগড়া করি!  ঠিক তেমনি আমার মেয়ে আমার সাথে ঝগড়া করে।  আমার মেয়ের ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা আমার বউয়ের মত।  সে দুইশ বললে আমি একটা বলি তারপর আরও চারশো শোনার জন্য একটু খোঁচা মারি। 

ব্যাস! আর যায় কোথায়! 


আমার আরেকটা খুবই খারাপ অভ্যাস আছে। আমার বেশিক্ষণ ভালো না বাসলেও চলে না, কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগে। আর ভালোবাসার পাত্রীও ঘুরেফিরে এই দুইজনই। তবে এক্ষেত্রে আমার বউয়ের থেকে মেয়ে খানিকটা এগিয়ে।  মেয়েকে ১০০, ২০০ বার ভালবাসলে সে আমাকে এক দুইবার প্রতিদান দেয়।  ওইটুকু আমার জন্য যথেষ্ট।  বউকে অবশ্য ১০০ বার ভালবাসলে সে এক হাজার বার প্রতিদান দেয়। তবুও যেন আমার মন ভরে না।  

আজ দুইদিন ধরে বাসায় এদের দুজনার একজনও নাই।  আমার মন খুবই খারাপ।  মুখের ভেতরটা চুলকাচ্ছে ঝগড়া করার জন্য মন চুলকাচ্ছে ওদের ভালোবাসার জন্য।  আমি ছাদে বসে রেলিং এ হেলান  দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, আর চিন্তা করছি কখন থেকে আমার এই অসুখের সূচনা!


একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলাম - এই অসুখের সূচনা আমার খুব বাল্যকালে।  সূচনাটা অবশ্য প্রেম দিয়ে, অতঃপর প্রেমের অপ্রাপ্তিতে রাগ তার থেকে ঝগড়া।  সময় বাড়ার সাথে সাথে দুটোতেই আমি বেশ পটু হয়ে উঠেছিলাম। 

কবে থেকে প্রেমের সূচনা জানো? লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তোমাদের আজকাল যেমন নার্সারি, প্লে গ্রুপ ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি! আমাদের সময় ছিল ক্লাস বেবি ওয়ান টু থ্রি।  আমি মনে হয় ছোটবেলায় বয়সের তুলনায় একটু বেশিই পেকে গিয়েছিলাম, তাই বাবা-মা আমাকে বেবিতে ভর্তি না করিয়ে সরাসরি ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করায়। ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়ে দেখি আমার বড় ভাইও সেখানে আর তার বন্ধু-বান্ধবরা ও সেখানে। ক্লাসে আমি বয়সের তুলনায় সবচেয়ে ছোট ছিলাম, এমনকি সাইজে আর হাইটেও। যেদিকেই তাকাই আমার মাথার ওপর বিঘৎ-খানেক কিংবা আধা-একহাত মাথা দেখতে পাই। সাইজে ছোট বলে ক্লাসের বাকিরা কেউ আমাকে পাত্তাই দিতো না।  


আমাদের ছিলো কো-এডুকেশন স্কুল। স্কুলে ভর্তি হয়ে প্রথম দিনে আমার চোখ গেল সালুজার দিকে। আমার থেকে আধ হাত লম্বা, শ্যামলা মায়াবী চেহারার একটি মেয়ে।  তার ডাগর কালো চোখের দিকে তাকিয়ে যেন আমি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলাম সেই ইঁচড়ে পাকা বয়সে। আচ্ছা তোমরাই বল পাঁচ বছর বয়সে কারো মনে কি প্রেম ভাব জাগতে পারে? কারো মনে পারে কিনা জানিনা আমার জেগেছিল। এখন ঐ বয়সে কেন প্রেম অনুভূতিটা এ তীক্ষ্ণ হয়ে মনে এসেছিলো তা বলতে পারব না।  প্রথম দর্শনেই প্রেম - বয়সে আমার থেকে এক বছর বড়, লম্বায় আমার থেকে আধ হাত বড় লাস্যময়ী একটা মেয়ের সাথে।  আমি তাকে কিছুই বলিনি,  তবে স্কুলটা হঠাৎ করেই যেন আমার খুব প্রিয় হয়ে উঠেছিল। সকাল হলেই স্কুলে যাওয়ার জন্য ছটফট করতাম,  আর স্কুলে গিয়ে সালুজা মেয়েদের যে বেঞ্চটায় বসতো তাই বসতো আমি ঠিক তার পাশেই ছেলেদের অংশে গিয়ে বসতাম। সপ্তাহ-খানেক এভাবেই চলেছিল।  


তারপর আমার মাথায় আকাশ ভাঙল - যেদিন স্কুলে প্রিন্সের আগমন ঘটলো।  প্রিন্স এ স্কুলেরই ছাত্র ক্লাস, বেবি থেকে ওরা বাকি ছাত্র-ছাত্রীরা একসাথেই পাস করে ওয়ানে উঠেছিলো, আমিই একমাত্র নতুন ছাত্র। আমি ভর্তি হওয়ার সময় প্রিন্স  কোথায় জানি বেড়াতে গিয়েছিল। প্রিন্সের চেহারা প্রিন্সের মতই সুন্দর।  আমার থেকে এক হাত লম্বা, ধবধবে ফর্সা নায়কের মত একটা ছেলে।  সে প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকেই ধাক্কা দিয়ে আমাকে আমার জায়গা থেকে সরিয়ে দিয়ে বললো - কিরে পুঁচকি এখানে বসেছিস কেন?  আমি তার দিকে রাগত দৃষ্টিতে চাইতেই সে ফিক করে হেসে দিয়ে বলল - ওহে বাচ্চা এটা আমার জায়গা। সালুজার দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে  বললো - আর ওই যে পরীর মত মেয়েটা দেখছিস না! ওটা আমার বউ।  

ওমা তার কথা শুনেই সুন্দরীর মুখে প্রথমবারের মতো প্রশ্রয়ের হাসি আর আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। তারপর পুরোটা স্কুল সময় তাদের দুজনের খুনসুটি, আর আমার বুকে রাগের কাটাকুটি।  আমি অনেক চিন্তা করে দেখলাম সেটাই বোধহয় আমার জীবনে প্রথম প্রেম আর সেটাই বোধ হয় আমার প্রথম রাগ করা। তো সেই রাগ থেকে যেই প্রিন্সের সাথে ঝগড়া করতে গিয়েছি সে মাছি তাড়াবার মত করে ধারাম করে আমার মাথায় গাট্টা মারলো। আমি ছিটকে পড়ে গিয়ে রাগত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। রাগ মিটালাম বাসায় এসে মায়ের সাথে অযথাই ঝগড়ায় মেতে। সেই থেকে শুরু।   

আজ প্রিন্সই বা কোথায় সালুজাই বা কোথায়?  নাহ! পরবর্তীতে তাদের প্রেম আর টিকে নি। সালুজার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল মেট্রিক পরীক্ষার পরপরই।  প্রিন্স পরবর্তীতে আরও চারটা পাঁচটা লদগালদগি প্রেম করে শুনেছি শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছিল কার সাথে জানি। এদের কারোর সাথেই আজ আমার যোগাযোগ নেই। প্রিন্স তুই কি আছিস আমার ফেবু লিস্টে? সালুজা? ওরা থাকলে এই লেখা পড়ে হাসবে,  হয়তো আমাকে গালাগালি করবে। বিশ্বাস কর আমি কিন্তু তোদের পুরো নাম বলি নি, নিক নামে কয়জন কাকে চেনে? 


সবাই যার যার প্রেম নিয়ে ভালো থাকুক।  কিন্তু আমার এখন ঝগড়া করতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা ঝগড়া করার ইচ্ছা কি ঝগড়াচ্ছা হয় না? নাকি ঝগড়া + ইচ্ছা = ঝগড়িচ্ছা? যাই হোক আমি না হয় ভুল নামই দিলাম ঝগড়াচ্ছা! আচ্ছা! এর ব্যাসবাক্য কি? এটা কোন সমাসই বা কি? আমি অবশ্য বাংলায় ভয়ংকর রকম কাঁচা। ক্লাস টেনে টেস্টে বাংলা প্রথম পত্রে ৩৪ আর দ্বিতীয় পত্রে ৩২ পেয়ে কোনমতে দুই পেপার মিলে পাশ করেছিলাম। তারপর আর বাংলার ঘর মাড়াই নাই। থাক বাবা লেখার মত বিদ্যেটা তো হয়েছে! না হয় ভুল ব্যকরণে অথবা ভুল বানানে। 


ধ্যাত! যা ইচ্ছা তাই হোক, মুখের ভেতরটা ভয়ংকর চুলকাচ্ছে। আচ্ছা! ইচগার্ড দিয়ে মুখের ভেতর ডলা দিলে কি চুলকানি বন্ধ হবে? নাকি কচুর রস ডলব? ধ্যাত! কেউ তো এসে ঝগড়া করুক আমার সাথে! না হয় প্রেম! আকাশ লাল হতে হতে কালো হয়ে গেলো। কেউ এলো না। আচ্ছা! অন্ধকারের কি মন খারাপ হয়? 


#হিবিজিবি_হাবিজাবি 


ঝগড়াচ্ছা 

 - মোঃ আহসানুল হক 


০৪ ডিসেম্বর, ২০২৪


#রম্য 


বন্ধুত্বের সম্পর্ক

 আমি প্রায়ঃশই নানা কারণে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াই 

নানা রকম মানুষের সংস্পর্শে আসি, আর সম্পর্ক কুড়াই, 

প্রত্যেকটা মানুষ একজন আরেকজন থেকে অন্যরকম 

কিছু ভালো কিছু খারাপ কেউ বিরক্তিকর, যার যার স্বভাব মতন 

আমি প্রত্যেক ধরনের মানুষের সাথেই মিশে যাই খুব বেশ 

কারও কথা ভুলে যাই আর কারও কথা রয়ে যায় স্মৃতিতে রেশ 

তবে মনে দাগ না কাটলে খুব সময় লাগে না তাদের ভুলে যেতে 

এদের মাঝেই একজন দুজন খুব হঠাৎ করেই বসে যায় মনের রথে 

বন্ধুত্বের সূচনাগুলো এভাবেই হয়, দেশে কিংবা বিদেশে

তারপর মনে সম্পর্কগুলোর লালন পালন স্মৃতির পাশে; 

এদের কারো কারো সঙ্গে দেখা হয় না অনেকদিন হয়তো 

আজকাল যোগাযোগের কতই না মাধ্যম! তাই যোগাযোগ রয় তো 

তারপর পৃথিবীর গোলক ঘুরে দেখা হয়ে যায় কোথাও না কোথাও 

দেখা হতেই বিচ্ছেদের মধ্যেকার সময় গুলো হঠাৎ করেই উধাও 

গল্পে স্মৃতিচারণে দুজনার সময়গুলো কিছুদিন বেশ ভালই কাটে

তারপর আবার যে যার পথে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা রয়ে যায় বটে। 


#হিবিজিবি_কথা 


বন্ধুত্বের সম্পর্ক 

 - মোঃ আহসানুল হক 


২২ শে নভেম্বর ২০২৪ 

কলকাতা,ইন্ডিয়া

কালের ভেতরের কাল

 অতীত থেকে চলতে চলতে

চলে এসেছি বর্তমানে 

হেঁটে চলেছি ভবিষ্যতের পানে 

চোখ বুজতেই চোখের পলকে 

সময় গাড়ি আলোর বেগে; 


এইতো কিছুক্ষণ আগে চোখ খুলতেই সকাল হয়েছিল 

সকালে সকালটা ছিল বর্তমান 

কিভাবে যেন চোখের নিমিষে দিনটা চলে গেল 

এখন রাতের প্রথম প্রহর, রাতটা এখন বর্তমান

আর সকাল হয়ে গেছে অতীত, 

রাতটা চোখে ঘুম নামিয়ে নিয়ে আসবে 

আর ঘুম ভাঙতেই সকাল 

এই সকালটা ভবিষ্যৎ 

এই সকাল আর ওই সকালের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু?  


পলক ফেলার আগেই সময়গুলো গড়িয়ে যাচ্ছে 

বর্তমান ঢুকে যাচ্ছে অতীতের গহ্বরে 

ভবিষ্যৎ টেনে নিচ্ছে বর্তমানকে,

কালের ভেতরেও কি কাল থাকে? 

সময়ের দৌড়ে কে কবে জয়ী হতে পেরেছে? 


জীবনের আয়নায় পেছনে তাকালেই 

একে একে চোখে ভেসে ওঠে বাল্যকাল, কৈশোর আর যৌবন 

আজ প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে এসে মনে হয় এই তো সেদিনের কথা 

সময়ের গহ্বরে ওগুলো যেন শুধুই স্মৃতি 

মাঝে মাঝে মনে হয় সময় যেন কোথায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে!  

তবে কি জীবনের হাত ধরে মৃত্যুর দিকে?  


আচ্ছা! 

মৃত্যুটা কি?  

অতীত, বর্তমান না ভবিষ্যৎ? 


#হিবিজিবি_হাবিজাবি  



কালের ভেতরের কাল 

 - মোঃ আহসানুল হক 


২০ নভেম্বর ২০২৪ 

চুপি, পূর্বস্থলী 

ওয়েস্ট বেঙ্গল, ইন্ডিয়া

ভালোবাসার রং-তুলি

 আজকাল প্রেম ভালোবাসার কথা লিখতেই আমার বড্ড ভয় 

প্রেম লিখতে গিয়ে যদি আবার প্রেমে পড়ে যাই! 

ভালোবাসা আঁকতে গিয়ে আবার যদি ভালবেসে ফেলি! 

তবুও লেখার মধ্যে প্রায়শই প্রেম ভালোবাসা এসেই যায় 

আর প্রেমের কথা আসলেই 'তুই'

ভালোবাসার কথা ভাবলেই 'তুই'

কাগজে হিবিজিবি আঁচড় কাটি 

প্রেম আঁকি, ভালবাসা আঁকি তারপর কেউ দেখে ফেলার আগেই 

সব মুছে দেই চটজলদি 

মনের মাঝে তোলপাড় তোর মুখচ্ছবি

আর আমি হাতে নিয়ে বসে থাকি ভালোবাসার রং তুলি,

বড্ড ভয় হয় সাদা ক্যানভাসটায় দাগ দিতে; 


ওই দেখ আকাশে এত বড় চাঁদ 

আমি অন্ধকারে 

আর তুই নদী 

মনের মাঝে তোলপাড় হিবিজিবি 

চাঁদ হাসে আর তুই বয়ে যাস নিরবধি

আমি রং-তুলি হাতে আর সাদা ক্যানভাসটায় দেখি তোর ছবি; 


যেদিন চাঁদ ঢুকে পড়বে অমাবস্যার জরায়ুতে 

সেদিন চারিদিক ঘন অন্ধকার হবে 

তুই বয়ে চলবি অন্ধকারের নদী 

সেদিন আমি নৌকো হব 

কালো মিশমিশে তালের নৌকো, আলকাতরায় মোড়ানো 

তোর বুকে বাইবো ভালোবাসার বৈঠা

তারপর সাদা ক্যানভাসে ভালোবাসার ঝড় উঠবে 

সেদিন আর ভয় লাগবে না প্রেম লিখতে 

সেদিন আর ভয় পাবো না ভালোবাসা আঁকতে 

সাদা ক্যানভাসে, ভালোবাসার রং-তুলিতে। 


#হিবিজিবি_রাতের_হাবিজাবি


ভালোবাসার রং-তুলি

 - মোঃ আহসানুল হক 


১৮ নভেম্বর,  ২০২৪ 

সুন্দরবন,  ওয়েস্ট বেঙ্গল 

ইন্ডিয়া

অদ্ভুত কিছু স্বপ্ন

 আমি মাঝে মাঝে যেন এ পৃথিবীতে থাকি না 

থাকি অন্য কোথাও, 

বেশিরভাগ ঘুমের ঘোরে

কখনো কল্পনায় কখনো স্বপ্নে 

হয়তো আকাশে কিংবা কোন এক অন্য জগতে

কিংবা অন্য কোন পৃথিবীতে;


তারপর একসময় ধীরে ধীরে নেমে আসি মেঘের ঝুরি বেয়ে

কখনো তুষার হয়ে কখনো কুয়াশা

কখনো মেঘ কখনো ঝর্ণা 

কখনো কলকল শব্দে কখনো নিঃশব্দে 

তারপর পাখির ডানায় বসে নামতে নামতে 

নেমে যাই কোন বটের ঝুরি তে

মেঘের ঝুরি থেকে বটের ঝুরি,

ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেলো না?

স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা জানো?

না জানলে তুলনা'টা বুঝবে না;


তারপর নামতে নামতে একবারে নেমে যাই মাটির তলদেশে

কখনো নদীর পলিতে কখনো সাগরের নিচের বালিতে

মাটির তলায় কেমন যেন একটা শান্তি শান্তি ভাব আছে

কেনই বা থাকবে না!

কোন একসময় তো ঘুমাতে হবে ওখানেই

তাই মাটির টান মাটি টানবেই

শরীর'টা তো মাটিই

তাই না?


মানুষ কখনো কখনো স্বপ্ন দেখে

কখনো চরম বাস্তবতায় স্বপ্ন দেখার সময়টুকুও করতে পারে না

বাস্তবতা পেটের জন্য

পেট'টাকে শান্ত করতে পারলে তবেই না বাকি চাহিদা,

আরে চাহিদার কি আর শেষ আছে?

থাক চাহিদার কথা আজ আর নাই বা বলি

ওটা তোলা থাক অন্য কোন সময়ের জন্য;


স্বপ্ন আর বাস্তব জীবনের মধ্যে পার্থক্য বড্ড তীব্র

একটা যদি সাদা হয় আরেকটা কুচকুচে কালো

একটা সুখের হলে আরেকটা প্রচণ্ড দুঃখের

একটা হো হো হাসির হলে আরেকটা বুকফাটা কান্নার

আমি যেমন হাসি দেখেছি তেমনি দেখেছি কান্না 

আমি হাসতে হাসতে কাঁদতে দেখেছি 

কাঁদতে কাঁদতে দেখেছি হো হো হাসিতে ফেটে পড়তে

আমার বড় একটা সমস্যা হলো 

আমি নিজেরটার পাশাপাশি অন্যের হাসিকান্নাও দেখতে পাই

অন্যের হাসিতে খুশি হই

কান্নায় বয়ে যাই নদী হয়ে

তারপর সূর্যের প্রখর তাপে অন্ধকার হতে হতে 

মিশে যাই মিশমিশে কালোর সাথে;


স্বপ্নগুলো এত অদ্ভুত কেন?

 


#হিবিজিবি_কথামালা 



অদ্ভুত কিছু স্বপ্ন  

- মোঃ আহসানুল হক



২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪



  

আমাদের তালহা - একটি সত্য ঘটনা

 একটা ফুটফুটে কিশোর, মাত্র ১৭ বছর। এবার ও লেভেল দিয়েছে। 

গত ১০ দিন ধর রোজ রাতে আমার ঘরে আসে, এসে চোখে বসে। বসে খুনসুটি করে। জিজ্ঞেস করে, বাপ্পা ঘুমাচ্ছ? আমার ঘুম ভেঙে যায়। 

ধমক দিয়ে বলি - যা তো বাবা! দুষ্টুমি করিস না, ঘুমাতে দে। 


তার হাসিহাসি মুখটা মুহূর্তে কান্নায় ছেয়ে যায়। অভিমান করে আমায় বলে - জানো না আমার এজমা? জানো না আমি মাটিতে শুতে পারি না? জানো না একটু উনিশ-বিশে আমার হাঁপানির টান ওঠে? তা হলে আমাকে মাটিতে শুইয়ে তুমি কেমন করে বিছানায় ঘুমাও বাপ্পা?


আমি লাফিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসি। অন্ধকারে চেয়ে থাকি। একসময় অন্ধকারটাও ঝাপসা হয়ে যায় চোখের পানিতে। তারপর নির্ঘুম রাত। 


না, আমি কোন গল্প লিখছি না। 

আমি আমার কথাই লিখছি। 


আমার এই বাবাটা আমার ১৭ বছরের ভাতিজা - তালহা। আমরা দুই ভাই পুরানো চিন্তা চেতনার মানুষ, তাই হয়তো এখনো জয়েন্ট ফ্যামিলিতে মিলেমিশে থাকি। তালহারা দুই ভাই ওদের বাবা'কে বাবা ডাকে আর আমাকে ডাকে বাপ্পা, তাদের চাচীকে ডাকে বড় মা। আমার সন্তানদের কাছে তাঁদের চাচী - ছোট মা। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আমাদের ফ্যামিলি বন্ডিং। 


তালহাকে গত ২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার প্রাইভেট পড়ে আসার সময় এক আর্মি অফিসার ধরে নিয়ে যায়। তার অপরাধ ছিলো, পড়ে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরার সময় গাড়ির সিট এলিয়ে পা ড্যাশ-বোর্ডে উঠিয়ে আরাম করতে করতে আসছিলো। অনেক উঁচু র‍্যাংকের আর্মি ভাইয়ের তা সহ্য হয় নি। 

কি?  

এতবড় কথা?

আমাকে পা দেখায়!!!  

গাড়ি থামিয়ে বললো, পা দেখালি কেন? গাড়ি থেকে নাম্।


তালহা থতমত খেয়ে গাড়ি থেকে নামলো। 

তারপর তার মোবাইল চেক করে কি কি যেন দেখলো, তারপর উঠিয়ে থানায় নিয়ে গেলো। 

তালহা বলেছিলাম, আঙ্কেল আমি আপনাকে পা দেখাই নি, আমি শুয়ে ছিলাম মাত্র। আমি টিচারের বাসায় পড়তে এসেছিলাম এখন বাসায় ফিরছি। আমি মাত্র স্কুল শেষ করে এবার ও লেভেল পরীক্ষা দিয়েছেই। আমাকে ধরবেন না, প্লিজ ছেড়ে দেন। কিন্তু আর্মি অফিসার সাহেবের মোটা মাথায় কোন অনুনয়ই প্রভাব ফেললো না। তালহাকে অবাক করে দিয়ে তুলে নিয়ে গেলো।  

খবর পেয়ে আমাদের পরিবারের ওপর যেন বজ্র পড়লো। 


ডিটেল না বললাম, শুধু এটুকু বলতে পারি যে আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব আর অসম্ভব করার ছিলো আমরা তার কোন কিছু করতেই বাকি রাখি নি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সন্তানকে আনতে সফল হলাম না। 

কেন জানো?

ঐ আর্মি অফিসারের ইগো।

তাকে নাকি ঠ্যাং দেখানো হয়েছে। 

কোন অনুনয় বিনুনয় করেও তার মন গলানো গেলো না। 


আমাদের জানাশোনা কিছু আত্মীয়-স্বজন ওনার অনেক ওপরের লেভেলের অফিসার; ওনাদের দিয়ে ফোন করালাম, বললো তার মোবাইলে ভয়ংকর সব দেশদ্রোহী ভিডিও পাওয়া গিয়েছে। আমরা দেখতে চাইলাম কি ভিডিও। দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলো।  


থানার লোকেরা থানায় ৩ দিন রাখলো আর্মি সাহেবের মন গলাবার জন্য, বাচ্চা ছেলে ভুল করে ফেলেছে নিজেদের গাড়িতে পা উঠিয়ে শুয়ে। তার মা বাবা অনেক অনুনয় করলো আর্মি অফিসার'কে, এই বলে যে স্যার ওর তো এখনো আঠারও হয় নি, ছেলেটার বাকি জীবনটা পড়েই আছে, ওর ভবিষ্যত নষ্ট করে দিবেন না; উনি পাথর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। যখন আর কোন অনুনয়েই কাজ হলো না ৩ দিন পর বাধ্য হয়ে থানা থেকে তাকে পাঠিয়ে দিলো জেলে। 


আজ প্রায় পনর দিন ধরে সে জেলে আছে, কেমন আছে, কি অবস্থায় আছে কিচ্ছু জানি না। ওখানে খাট পেয়েছে না মাটিতে ঘুমাচ্ছে, জানি না। কবে ফিরে পাব তাকে, জানি না। আমাদের সবচেয়ে ছোট সন্তান, সবচেয়ে ইনোসেন্ট আর হাসিখুশি বাচ্চাটা আজ শুয়ে আছে জেলে, হয়তো খাটে কিংবা মেঝেতে। 


আমি ঘুমাই কি করে? গত পনর রাত ধরে প্রায় সারারাত জেগে থাকি, তাহাজ্জুদে সেজদায় পড়ে থাকি।



মজার ব্যাপার কি জানো? তালহার কেসে কোথাও মোবাইল ভিডিও বা মোবাইল জব্দের কথা লেখা নাই। সে নাকি যেসকল  না না জানা পাঁচ ছয় হাজার ছাত্র মিলে সরকারের বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করেছিলো (যার মূল্য পনর লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা মাত্র) তালহা তাদেরই একজন। মনে শান্তি এলো, যাক! অধিকার আন্দোলনের যোদ্ধাদের সাথে আমাদের ছেলেটার নাম তো যুক্ত হলো! যেমন তার এক দাদার নামের পাশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নামটা লেখা আছে।   


আচ্ছা! আমার মনে একটা প্রশ্ন খেলছে!!!  তালহার মোবাইলটা গেলো কোথায়? আর্মি অফিসার সাহেবের কাছে না থানার ওসির কাছে? কি করছে তারা ঐ বাচ্চা ছেলেটার মোবাইল দিয়ে? তাঁদের সন্তানদের উপহার দিয়েছে!  কত প্রশ্নের উত্তর যে আমাদের জানা হয় না! 


কার কাছে বিচার দেব? দুঃখে শোকে আল্লাহ্‌'কেই ডাকি, তাকেই বলি - হে আল্লাহ্‌! এ জালিমদের থেকে আমাদের সন্তানদের হেফাজত করুন। আমাদের সন্তানকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। 

সেজদায় প্রতি ওয়াক্তে দোয়া করি যেন ফিরে পাই, আমাদের সন্তানকে যেন ফিরে পাই।  

হোক সাত দিন হোক পনর দিন কিংবা মাস। 

ফিরে পাই যেন। 


#একজন_পিতার_কথা  


আমাদের তালহা 

 - মোঃ আহসানুল হক 


০৪ অগাস্ট, ২০২৪ 



বিঃদ্রঃ আজ তালহার মত হাজারো ছেলে এভাবেই বিনা অপরাধে জেলে পড়ে আছে, ওরা নিজেও জানে না কি অপরাধে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও কি আমরা কথা বলার, নিশ্চিন্তে চলাফেরা করার স্বাধীনতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছি? 

আজ ঘরে ঘরে এক একজন তালহার কাহিনী। 

 


 


 






 

ঘুমাতে পারে না আমার ছেলে, আগে রুমে থাকলে সারাক্ষণ এসি চালিয়ে রাখতো, তালহা যাওয়ার পর তার ঘরে এসি চলে না। জিজ্ঞেস করায় বলে - আমার ভাই এসি ছাড়া একটা রাতও কাটাতে পারতো না তার হাঁপানির টান উঠে যেত, সে এখন মেঝেতে শুয়ে। আমি এসি চালাই কিভাবে? 





ডিটেল না বললাম, শুধু এটুকু বলতে পারি যে থানায় আজকাল মানুষ কেনাবেচা হয়। 

দুঃখের বিষয় কি জানো! এই কেনাবেচার হাটে ঔরসজাত সন্তানকেই কিনতে যেতে হয় বাবাকেই অথবা চাচা কিংবা ভাই-বোনদের। দেশরক্ষা বাহিনী যেখানে মানুষ কেনাবেচার হাট বসায় সেখানে তো অসহায় পিতামাতাকে জন্ম দেওয়া সন্তানটা তাঁদের কাছ থেকেই কিনে নিতেই হয়। কেন? - তাকে দেশরক্ষা বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচাতে। তাই না?

 

আমরাও আমাদের সন্তান কিনতে গেলাম। থানার সাথে তো দফারফা হলো, কিন্তু  শেষ পর্যন্ত আমাদের সন্তানকে কিনতে সফল হলাম না। 

কেন জানো?

ঐ আর্মি অফিসারের ইগো।

তাকে নাকি ঠ্যাং দেখানো হয়েছে। 

কোন অনুনয় বিনুনয় করেও তার মন গলানো গেলো না। 


পতাকা রঙ

 


লাল সবুজ, পতাকা ছিলো 

বাংলাদেশটা ছিলো স্বাধীন 

হঠাৎ করেই লাল হলো

রক্তে ভেসে হলো পরাধীন;  


দামাল কিছু ছাত্র একদিন 

বললো মিলে অধিকার দাও 

পরাধীন দেশে অধিকার কই 

শাসক দল বললো - দূর হও;  


গুলির তুফান বইয়ে দিলো

আপামর ছাত্রের ওপর

ছাত্ররা সব উঠলো ফুঁসে 

সারি সারি লাশের ভেতর; 


সবুজ মানচিত্র লাল হয়ে 

পুরোটা সবুজ গেলো ঢেকে 

রক্তে জোয়ার আসে যখন 

রুখতে পারে কে তাকে?      


লাল হয়ে দেশ কাঁদছে সবে 

দেশটা পুরো শোকে হারা 

লাল হয়েছে চোখের সাদা 

কালো মণি বেয়ে রক্তধারা;


রক্তে বদলেছে মানচিত্র

কোথায় পাবে এখন সবুজ

ঝাঁকি খেয়ে রক্ত জেগেছে 

ছাত্রসমাজ হয়েছে অবুঝ;


একদিন তারা আনবে ছিনিয়ে

মানচিত্রের ঐ সবুজ রঙ 

রক্ত ধুয়ে গড়বে দেশ  

লাল সবুজের পতাকা রঙ। 



#হিবিজিবি_কথা


পতাকা রঙ 

 - মোঃ আহসানুল হক 



০৩ অগাস্ট, ২০২৪ 





   


আয়নার জবাব

 শোন! ঐদিন আমাদের মহল্লা থেকে ২ জন ছাত্র'কে ধরে নিয়ে গিয়েছে

 - হুম! আমি ঘুম 

জানো! কালকে পাশের বাসার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে গিয়েছে

 - হুম! আমি ঘুম

এই শুনছো! আজ তোমার ভাতিজাকে ওরা তুলে নিয়ে গিয়েছে

 - কি!!!!! লাফিয়ে উঠলাম বিছানা থেকে 

সাথে তোমার ছেলেও ছিলো

 - আমি খালি পায়ে দৌড়ে পুলিশ স্টেশনে;


আমাদের চরিত্র আসলে এমনই

যতক্ষণ নিজের ওপর না এসে পড়বে ততক্ষণ আমরা ঘুমিয়েই থাকি 

আমাদের চেতনার উদয় হয় নিজ পরিবারের ওপর মুসিবত এসে পড়লেই

 - তাই না?

কেন পাশের বাড়ির ছেলেটা আমার ছেলের খেলার সাথী ছিলো না?

কিংবা মহল্লার ছেলেগুলো?

আমার ছেলে কিংবা মহল্লার অন্য কোন ভাই এর ছেলে

যখন ওরা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলো! 

 - ওরা ডেকেছিলো, ডেকেছিলো সাহায্যের জন্য

অথচ আমি তো ছিলাম ঘুমে কিংবা ঘুমের ভানে, 

এখন এত তাড়া কেন আমার?


মানুষের দিকে আঙুল তোলার আগে 

নিজেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন তো আয়নায়!


উত্তর পেতে দেরি হবে না - যদি মানুষ হয়ে থাকেন

আর যদি ওদের মত বালিতে মুখ গুঁজে আয়নাকে প্রশ্ন করেন

তা হলে আয়নার কি দায় পড়েছে আপনার সাথে কথা বলতে?

আয়না কথা বলে শুধুমাত্র মানুষের সাথে।


#হিবিজিবি_কথামালা


আয়নার জবাব 

 - মোঃ আহসানুল হক 


০৩ অগাস্ট, ২০২৪ 


   


টেবিল চশমা বুদ্ধি কলম

 আমার চাচা একাত্তর এ যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন

সেই হিসাবে আমাদের ফ্যামিলির মুক্তিযোদ্ধা ট্যাগ লাগানোর কথা  

কিন্তু সেদিনই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ফ্যামিলির ট্যাগ থেকে ছাড়িয়েছি,    

যেদিন থেকে বুঝতে শিখেছি, আমারই কতিপয় রক্তের আত্মীয়-স্বজন   

শহীদ আত্মীয় আর ভাই এর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার নানা ফায়দা লুটছেন

তখন থেকেই আমি তোমাদেরই মত নরমাল ফ্যামিলি - ভুল করেছি?  


কাজের জন্য কার না সরকারি অফিসে দৌড়াতে হয়! আমারও হয়েছিলো 

সেখান থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু না কিছু শিখে আসতাম 

ইউনিভার্সিটির স্যর'রা সেগুলো কখনো  শিক্ষা দেন নাই, এটা হয়?      

ওনারা ভুলে যেতেই পারে তাই বলে বাবা-মাও এ শিক্ষাগুলো দেবেন না! 

তাহলে এখন সরকারি অফিসে কাজ করাই কি দিয়ে? বড্ড লাগছে ভয়  

আর দিনের পর দিন শুধু শুধুই ওখানে টেবিলে টেবিলে ঘুরে জুতা ক্ষয়; 


কিছু উদাহরণ, যেগুলোকে হাতেকলমে প্র্যাক্টিক্যালও বলতে পারো 

এই ধর প্রথমেই শুনলাম টেবিল মানি, বোকা আমি বুঝলাম না 

একজন বুঝিয়ে দিলো, টেবিলের ওপর যে ফাইলটা রয়েছে গাধা,  

তা চালু করার জন্য টেবিল মানি দিতে হবে না! - ঐ ঘুষ যাকে বলে 

আমি বোকার মত জিজ্ঞেস করলাম, টেবিল মানি দিয়ে ফাইল চালু? 

ফাইল কি ইঞ্জিন? উনি রাগত দৃষ্টি হেনে বললো- মুড়ি খা গাধা; 


আমি মুড়ি পাই কই? তাই টেবিল মানি দিয়ে ফাইলে স্টার্ট দিলাম 

তার পরের মাসে গিয়ে দেখি ফাইলটা টেবিলের এধার থেকে ওধারে

তারমানে কাজ হয়ে গেছে; আমি বললাম এবার ফাইলটা দিয়ে দেন

ধমকে উঠে বললো, চশমা মানি কে দেবে? আমার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি 

বললো, ষাঁড় যে ফাইলটা পড়বেন তার জন্য চোখে চশমা লাগাবে না?

আমি কিঞ্চিৎ বুঝে গিয়েছি এবার, বললাম চশমা কিনতে কত নেন?  


পরের মাসে গিয়ে দেখলাম ফাইল নেই, জিজ্ঞাসা করতেই বললো 

আরে বুদ্ধি মানি না হলে ফাইল চলবে কিভাবে? ষাঁড়দেরও বুদ্ধি লাগে 

আর এটা তো এক ষাঁড়ের বুদ্ধিতে হবে না, কয়েকজন মিলে বসবে,  

এখানে বুদ্ধিমানির পরিণাম অনেক অনেক বেশি, আমি অসহায় ছিলাম 

ফাইলটা সাইন করাতেই হবে নাইলে অনেক বড় বিপাকে পড়ে যাব 

অনেক কষ্টেসৃষ্টে ধার করে বুদ্ধিমানি দিলাম, এবার ফাইলে কলম ঘষবে;


ভেবেছিলাম কাজ হয়ে গেছে, আনন্দিত চিত্তে পরের মাসে আবার গেলাম 

গিয়ে দেখি ফাইলের খবর নাই, খোঁজ নিয়ে জানলাম ষাঁড়ের আলমিরাতে

আমি বললাম বুদ্ধিমানি তো হয়ে গেছে, এখন সাইন করতে কি বার্তা?

যেন গাধার দেখছে, এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বললো - কলমমানি কই?

ওটা কি? বললো বুদ্ধিমানির খরচ বুদ্ধিতেই শেষ, উপায় একটা বের হয়েছে 

সাইন করবে কি দিয়ে কলম না কিনে? কলম ছাড়া সাইন হয় নাকি? - অগত্যা; 


ষাঁড়ের সাইনের জন্য টেবিল, চশমা, বুদ্ধি আর মন কলমমানি দিতে দিতে 

বছর পার করে তবে ফাইল পেলাম হাতে - সেলুকাস দেশে আমাদের বাস

আপনাদের কারও কি এ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে? আমার কেন হলো?

শরীরে ট্যাগ লাগাই নি বলে? চাচা কি ট্যাগ লাগাতে শহীদ হয়েছিলেন? 

স্বাধীনতা কি এসেছে? স্বাধীন দেশের অফিসে এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয়?

তবে তো আমরা স্বাধীন হইই নি, স্বাধীন হওয়ার ভান করছি; বিবেকবুদ্ধি দিয়ে ক্ষয়।  


#হিবিজিবি_হাবিজাবি


টেবিল চশমা বুদ্ধি কলম

 - মোঃ আহসানুল হক 



০২ অগাস্ট, ২০২৪ 





       

বাবা-মায়ের খালি বুক

 দুহাজার চব্বিশ সালের জুলাই  

উঠলো এক স্বৈরাচারী হাত 

হাজার প্রাণ কেড়ে নিলো তারা 

আর জনগণের নির্ঘুম রাত; 


একটা চাকরির অভিপ্রায়ে কিছু 

ছাত্র-ছাত্রী একটা দাবি তুলেছিলো 

বিনিময়ে নেমে এসেছিলো তপ্ত বুলেট 

জীবনটা শীশার আগায় ঝুলেছিলো;  


এত বড় কথা! অধিকার বলিস  

তোরা সব এখনো রাজাকার 

বলেছিলো সেদিন গলা উঁচিয়ে 

জানো না কে? -ঐ স্বৈরাচার; 

  

গলা তুললি কেন? অধিকার চেয়ে 

পরাধীনতার এই দেশে 

মৃত্যুর মিছিল লম্বা হলো বড্ড   

সারি সারি শহীদের বেশে; 


পরাধীন দেশে দেখতে হয় না

চোখেতে কোন রঙিন স্বপন 

দেখতে গিয়ে দেখলি না কি হলো? 

মৃত্যুটা হলো বিনিময়ে আপন;  


গুলি চলে মাটিতে আর আকাশ পথে  

সরকারি সব বন্দুক থেকে 

মুছে দেবে তারা অধিকারে নাম

একেবারে ঝেঁটিয়ে এদেশ থেকে; 


লাখো মানুষের কান্না চোখ 

পানি ঝরে আজ অবিরত 

মৃত্যুর মিছিল বড় হতে থাকে

গুলি চালাতে ওরা থাকে যত;  


মরে পড়ে থাকে ঘরের শিশু

জানালায় দিয়ে একটু উঁকি 

জানবে না কখনো কেন মরেছে 

জীবন দিয়েছে কেন তাকে ফাঁকি;  


বাদ যায় না ছাদের শিশুটাও  

খেলছিলো ঝাঁকড়া চুল নেড়ে   

আকাশ পথে হেলিকপ্টার থেকে 

গুলি এসে জীবন নিলো কেড়ে;  


পথঘাটে থেকে হাজার হাজার

উঠিয়েছে তারা ছাত্রের দল 

বাদ যায় নি শিশুটা পর্যন্ত 

রিমান্ড হয় কি? শিশুর বল;  


আমার বাড়ির একটা শিশু

কাটাচ্ছে রাত অন্ধকার জেলে

তোমার বাড়ির কেউ কি আছে? 

স্বৈরাচারীর গরাদ সেলে;  


তবে জানবে না কি দুঃখে বলি 

বাবা-মায়ের আজ প্রাণ ফাটে 

আছাড়ে বিছাড়ে মা কাঁধে ঘরে

বাবা ফিরে আদালতে ঘাটে ঘাটে; 


মানুষ আমরা তখনই মানুষ 

মনুষ্যত্ব যখন থাকে বুকে 

বিবেক তাঁদের মরে গেছে কবে

কোন কি পাপে ধুঁকে ধুঁকে; 


ভুলে গেছে তারা মরতে হবে

তবুও কাঁপে না একটু বুক 

কি জবাব দেবে হাশরের মাঠে 

দেখাবে কিভাবে ঐ খুনি মুখ।


#হিবিজিবি_মনের_হাবিজাবি_কথা


বাবা-মায়ের খালি বুক 

 - মোঃ আহসানুল হক 


০১ অগাস্ট, ২০২৪ 



 


   


রক্তের হোলি

 বলতে পার রাজাকার কারা?

৭১ এ হানাদার বাহিনীর সাথে ছিলো যারা

আর ৭১ এ লাখো মানুষের পাশে ছিলো না যারা;

রাজাকার কি বংশ পরম্পরায় হয়?

তা হলে তো চার কোটি রাজাকারের সংখ্যা বারো কোটি হয়; 

আরে তা নয়, তা নয়

ওটা কথার কথা, ট্যাগ লাগাতে হবে না?

তাই বলে সাধারণ মানুষের কথা বাদই দিলাম

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিংবা নাতিরা কিভাবে রাজাকার হয়?

অত কথা জিজ্ঞেস করো না তো!

বড্ড বিরক্ত লাগে

আর বিরক্ত করলে গুলি করে দেব

 - সব রাজাকারের বাচ্চারা; 


বলতে পার মুক্তিযোদ্ধা কারা?

৭১ এ হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলো যারা

আর ৭১ এ লাখো মানুষের ঢাল হয়ে ছিলো যারা;

মুক্তিযোদ্ধা কি বংশ পরম্পরায় হয়?

উঁহু! ওটা যারা যুদ্ধ করেছে তারাই মাত্র হয়,

তাহলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ত্রিশ শতাংশ কেন?

ত্রিশ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছে?

অত কথা জিজ্ঞেস করো না তো!

বড্ড বিরক্ত লাগে

আর বিরক্ত করলে গুলি করে দেব

 - রাজাকারের বাচ্চারাই এত প্রশ্ন করে; 


আচ্ছা! এই যে রাজাকার এই যে মুক্তিযোদ্ধা! 

তারা এখনো বেঁচে আছে?

বেশিরভাগই মরে গেছে 

দু পক্ষেরই 

অল্প কিছু বেঁচে আছে 

তারাও ধুঁকতে ধুঁকতে মৃত্যুর অপেক্ষায় পথ চেয়ে;

তাইলে এই যে এ নিয়ে এত এত গালাগালি!

রাস্তায় রাস্তায় সকল দেশরক্ষা-কারি সরকারি বাহিনী!

কি করছে ওরা খোলা বন্ধুক হাতে?

ট্যাঙ্ক কেন মোড়ে মোড়ে পথে পথে?

গুলি চলছে কেন আকাশ থেকে?

অত কথা জিজ্ঞেস করিস না 

বড্ড বিরক্ত লাগে

আর বিরক্ত করলে গুলি করে দেব

 - রাজাকারের বাচ্চারাই এত প্রশ্ন করে; 


গুলি তো করছেনই

দেদারসে

নতুন করে আরও কি করবেন?


এবার রক্তের হোলি খেলব পথে পথে, রাজপথে


আর ঐ রক্তাক্ত বাংলাদেশ?

 - এবার তোকেই গুলি করব। 


আচ্ছা! 

সংজ্ঞা অনুযায়ী বলতে পার ২৪ এর রাজাকার কারা?

হানাদার বাহিনীর সাথে ছিলো যারা

আর লাখো মানুষের পাশে ছিলো না যারা;


তাহলে ২৪ এর মুক্তিযোদ্ধা কারা?

সংজ্ঞা অনুযায়ী হানাদার বাহিনীর সাথে ছিলো না যারা

আর লাখো মানুষের পাশে ছিলো যারা। 



#হিবিজিবি_মনের_হাবিজাবি_কথা 


রক্তের হোলি

 - মোঃ আহসানুল হক 


৩০ জুলাই, ২০২৪ 


সুশীল চাটনি

 বুদ্ধিজীবী অনেক দেশে 

সুশীল তাদের নাম 

সরকারি দল পেলেই হলো 

চাটা তাদের কাম;


পা থেকে মাথা সব চাটে তারা 

নেই ঘৃণা এদের 

চাটতে পারলেই অপার শান্তি 

আনন্দ তাঁদের; 


অনেক নাকি বুদ্ধি তোদের

ছাত্র ছিলি নাকি?

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াটাই তোদের

শুভঙ্করের ফাঁকি; 


আপামর জনতার সাথে 

কবেই ছিলো তারা 

চেটে চেটে তকমা সুশীল

হাতিয়েছিলো যারা;


চাটতে চাটতে জিহ্বা ক্ষয় 


জুতা হাতে নিয়ে 


বিবেকটারে বিকিয়ে দেয় 


জুতা চাটতে গিয়ে;


দাবির আওয়াজে এরা নিশ্চুপ

জনগণের দাবি 

এরা আসলে মানুষ নাকি 

প্রায়শই আমি ভাবি;


আজকে দেশের ক্রান্তি-লগ্নে

কোথায় দেশের সুশীল 

বালির মধ্যে মুখ লুকিয়ে

পাছা তাক আকাশের চিল; 


এখন তাঁদের কান বন্ধ

শুনতে পারে না শব্দ  

ধর্ম নিয়ে বলেই দেখ না 

করবে তোমাকে জব্দ; 


ধর্ম বলতে ইসলামের কথা 

বলতে চেয়েছি আমি 

বাকি সব ধর্ম তাঁদের কাছে

ভাতার কিংবা স্বামী; 


আজকে তোদের মুখ বন্ধ 

অধিকারের বজ্র নিনাদে

নিজের ঘরে অন্ধকার কোনে 

স্ত্রীর ডিমেতে তা দে;


তোদের পেলে একটা একটা 

পেছনে বাঁশ ফাটাবে

এরপর কোন আওয়াজ তুলিস

স্যান্ডেল চেটে খাওয়াবে; 


চাটতে চাটতে জিহ্বায় ঘা

চাটার লালা তোরা ঘুটে খা 

সাথে নিয়ে কিছু সমাজের ঘা 

সুশীল চাটনি মিলিয়ে খা। 


#হিবিজিবি_মনের_হাবিজাবি 


সুশীল চাটনি

 - মোঃ আহসানুল হক 


৩০ জুলাই, ২০২৪ 




 


পণ্য

 আমরা এমন একটা দেশে বাস করি

যেখানে সব কেনাবেচা হয় 

সোজা পথে না কিন্তু!

টেবিলের তলায় হাত পেতে

টেবিলের তলা বলতে কি বুঝায়? 

নিশ্চয়ই বোঝাতে হবে না তোমাদের

না বুঝলে এ হিবিজিবি পড়তেই এসো না; 


একটা সময় পণ্য কেনাবেচা হতো 

এখন হট-কেক মানুষ

হ্যাঁ, ঠিকই শুনছো

 - আজকাল মানুষ কেনাবেচা হচ্ছে দেদারসে

আর কেনাবেচা হচ্ছে লাশ;


কারা টেবিলের তলায় হাত পেতে বিক্রি করছে জানো?

ঐ যে সব জান্তার দল

যারা শত শত হাজারে হাজারে মানুষ ধরে নিয়ে এসেছে

যারা কাতারে কাতারে মানুষ'কে লাশে পরিণত করেছে

হ্যাঁ, যা বুঝছো - সেটাই

তারা বিক্রি করছে দেদার দামে;


ক্রেতা কারা জানো?

ঐ যে মানুষ নামের যে পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে তাদের বাবা-মা 

আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব নামের কিছু অসহায় মানুষ

জীবিত পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে দেদার দামে?

কত?

আরে নাহ! কেজি হিসাবে না

বিক্রেতারা দাম হাঁকায় বাবা-মায়ের আর্থিক অবস্থান জেনে,

লাশগুলোও বিক্রি হচ্ছে কিন্তু, হয়তো কিছুটা অল্প দামে

এগুলোর কোন বিক্রয় রশিদ দেয়া হয় না

সরকারে কোষাগারে ট্যাক্স ভ্যাটেরও কোন বালাই নাই

তবুও বাবা-মা নামের ক্রেতারা কিনছে দেদারসে;


আরেক ধরণের পণ্য বিক্রি হচ্ছে

সেটা না জীবিত না মৃত 

সেটা হচ্ছে গুম

গুম হওয়া পণ্যগুলোর বাবা-মা অস্থির হয়ে সন্তান নামক পণ্য খুঁজছে 

তার সুবিধা নিচ্ছে আপামর অসাধু বিক্রেতার দল

শুধুমাত্র খবরের দাম আসল পণ্য থেকে অনেক অনেক গুণ বেশি

খবরটা কি জানো?

পণ্যটা কি জীবিত না মৃত, 

মৃত হলে তবুও দাম দিয়ে কিছুটা হলেও মনের শান্তি

 - আসল খবর তো পাওয়া গেলো!

তবে লাশ পাওয়া যায় না এসকল পণ্যের - যত মূল্যই দিতে চাও

আর জীবিত পণ্যের খবরের দাম অনেক গুণ বেশি

তারপর দরদাম চলে জীবিত পণ্য উদ্ধারে

দাম শুরু হয় কোটি থেকে

যে দেশের পিয়নের চারশো কোটি টাকার লিগ্যাল সম্পদ

সে দেশে কোটির নিচে আর দাম হাঁকা যায়!

তবে শেষ পর্যন্ত যেটুকু খবর পেলাম

 - জীবিত পণ্য কোটি টাকাতেও উদ্ধার করা যায় নি একটিও

এ পণ্যের ব্যবসাকে ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কি বলব!!! 


আমরাই পৃথিবীর বাইরে একমাত্র দেশ

যেখানে পণ্য হলো মানুষ

ক্রেতারা মানুষ

বিক্রেতারা কি?

 - বড্ড জানতে ইচ্ছে করে। 


#হিবিজিবি_মনের_হাবিজাবি_কথা 


পণ্য 

 - মোঃ আহসানুল হক 


২৮ জুলাই, ২০২৪ 




 

  

মৃত বাংলাদেশ

 এই তো মাত্র কিছুদিন আগে

ছাত্রছাত্রীরা হাসিখুশি উচ্ছল 

ক্লাস করতো, গান গাইতো, নাচতো

কিছু কিছু আবার প্রেমও করতো;


তারপর হঠাৎ করেই কি থেকে জানি কি হয়ে গেলো 

হঠাৎ করেই কেউ একজন চিৎকার করে অধিকারের কথা বললো 

হঠাৎ করেই সেই চিৎকার সবার হয়ে গেলো

সবার হতে হতে তা স্লোগান হয়ে গেলো;


তারপর হঠাৎ একদিনই কারও কারও এ স্লোগান পছন্দ হলো না 

তারপর অশুভ শক্তি নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়লো ছাত্রদের ওপর 

রেহাই পেলো না ছাত্রীরাও 

তারপর রক্ত আর রক্ত

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো, রাস্তাঘাট এমন কি বাসার ছাদেও রক্ত

কিসের রক্ত জানো!

ঐ ছাত্রছাত্রীদের যারা অধিকারের কথা বলতে গিয়েছিলো

যাদের কথার টুঁটি চেপে ধরেছিলো হায়েনা বাহিনী

এক জান্তব উল্লাসে এখানে সেখানে পথে ঘাটে

গুলি চালিয়েছিলো সরকারি বন্দুকে

সাথে ছিলো আরেক নৃশংস হেলমেট বাহিনী

হেলমেটের আড়ালে মুখ লুকিয়ে তারা পথে নেমেছিলো 

গরু জবাই করার ছুড়ি নিয়ে

কেন? 

কারণ তারা পোষা, মাসোয়ারা ভোগী 

ছাত্রদের অধিকারের চিৎকারে তাঁদের না মাসোয়ারা কাটা যায়!

তাই ছুড়ি হাতে কুপিয়েছিলো নির্দ্বিধায় রাস্তায় 

জান্তার ছায়াতলে জানে কিছু হবে না তাঁদের; 


তারপর একসময় রাতের বেলায় সব বাতি নিভিয়ে দিয়ে

তারা নির্বিচারে গুলির বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিলো মহল্লা আর মহল্লায়

বাতি নিভানো বলতে কি বলছি জানো?

ঐ যে বিজলি বাতি এবং বিবেকের বাতি

আসলে কি ঠিক বললাম?

বিবেক বলে কিছু থাকলে তবেই না তা নেভানো যায়; 


আজকাল আর কেউ পড়াশোনা করে না 

এখন কারও মনে গান বাজে না 

এখন নাচের বদলে দৌড়ে জান বাঁচানোর সময়

এখন আর কারও মনে প্রেম আসে না,

আসবে কি করে বলো?

যে মেয়েটা প্রেম করতো তার প্রেমিক মরে পড়েছিলো রাস্তায়

যে ছেলেটা প্রেম করতো তার প্রেমিকাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে

আজকাল ঘরে ঘরে কান্না

তারপরও ওরা থামে না 

আজকাল আকাশপথে হামলা চালায়

আজকাল গুলি চলে মাটিতে আর আকাশে 

আজকাল হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পাশের জন রাস্তায় পড়ে যায়

রাস্তা ভেসে যায় রক্তে

আজকাল বাবা-মা আর ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ছাদে ওঠে না 

উঠবে কি করে বলো!

আকাশপথের গুলিতে ঐ যে কচি পায়ে চলা ছোট্ট মেয়েটি!

ওর লাশ দেখেছ তোমরা?

বীভৎস;


একটা সময় আসবে যখন বিশ কোটি বাংলাদেশির মধ্যে 

উনিশ কোটি মানুষ ওরা মেরে ফেলবে 

বাকি এক কোটি চাটার দল আর জান্তা 

তারও একটা সময় পরে আবার তাঁদের মধ্যেও উঠবে রক্ত দেখার নেশা

মানুষ না পেয়ে নিজেদের মধ্যেই লড়বে রক্তের নেশায়

কাতারে কাতারে চাটার দল মরবে

তারপর শুধু বেঁচে থাকবে অল্প কিছু জানোয়ার

আর লাল সবুজের বাংলাদেশ?

সে তো মারা গেছে সেই কবেই! 

 - মানুষ শূন্য হয়ে। 


একদিন সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলো মানুষ

আর মৃত বাংলাদেশে বেঁচে আছে অল্প কিছু হায়েনা

ওরা তারপর কি খাবে?

নিজেদের নিজে?



#হাবিজাবি_মনের_হিবিজিবি_কথা 


মৃত বাংলাদেশ

 - মোঃ আহসানুল হক 


২৯ জুলাই, ২০২৪ 



     


   


চিৎকার

 ছেলেটা বলতে চেয়েছিলো কিছু কথা 

বলতে চেয়েছিলো তার কিছু মৌলিক চাহিদার কথা 

হয়তো অধিকারের সুরে 

তাই হয়তো একটু চিৎকার করে

তাতে কি হলো জানো?

ওর চারিদিকে যারা ছিলো তারাও শুনতে পেলো

শোনার পর তাদের মনেও আসলো 

 - আরে! এ তো আমাদেরও মনের কথা 

তারাও গলা মেলালো ছেলেটার সুরে; 


অনেক জন যখন চিৎকার করে গলা মেলায়

কি হয় জানো? 

 - একটা অনুরণন তৈরি হয় 

 - অনুরণনগুলো একসাথে হয়ে একটা স্লোগানের সৃষ্টি হয়


স্লোগান সৃষ্টি হলে কি হয় জানো?

 - কিছু মানুষের ভেতরে ভীতির জন্ম নেয়

ভীতি থেকে কি হয় জানো?

 - স্লোগানগুলোর গলা চেপে ধরে 

 - স্লোগানগুলোর গলা চেপে ধরতে গিয়ে বিবেক হারিয়ে ফেলে

 - বিবেকহীন মানুষরা যে কি করতে পারে তা তোমরা দেখছ

তাই না?


ছেলেগুলো কেন যে তাদের চাহিদার কথা বলতে গেলো?

কি লাভ হলো?

ঐ যে দেখছ সারি সারি লাশ!

 - বাংলাদেশের পতাকায় মোড়া 

কখনো প্রশ্ন এসেছে মনে! 

 - এদের কেন পতাকায় মোড়া হলো?

লাল সবুজের পতাকায়?


এরা সবুজ শ্যামল দেশে বুকের রক্ত ঝরিয়ে লাল করে দিয়েছিলো

তাই তো আপামর দেশের মানুষ এদের ভালোবেসে 

কাফনের জায়গায় লাল সবুজে মুড়ে দিলো;


এরা আর কথা বলবে না কখনো

বলবে না তাদের চাহিদার কথা 

বলবে না অধিকারে কথা অধিকারের সুরে

তবে কোটি প্রাণের মাঝে এরা বেঁচে থাকবে চিরকাল

 - শহীদের মর্যাদায়

 - অত্যাচারীর গুলিতে নিহত হয়ে এরা শহীদ হয়ে গেলো;


আর কোটি মানুষের মনে জাগিয়ে দিয়ে গেলো - 

বলো

তোমরাও বলো

চাহিদার কথা বলো

অধিকারের কথা বলো 

চিৎকার করে অনুরণন তোলো

হোক না স্লোগান!

শহীদের লিস্ট বড় হতে হতে না হয়  

একসময় পুরো দেশটাই শহীদ হয়ে যাবে! 



 

#হিবিজিবি_মনের_হাবিজাবি_কথা 


চিৎকার 

 - মোঃ আহসানুল হক 


২৮ জুলাই, ২০২৪ 

 




  





শবের মিছিল

 একদিন আমিও যুবা ছিলাম, সাহস ছিলো বুকে

আজ যেন বেশ বয়স হয়েছে, বাঁচছি ধুঁকে ধুঁকে 

তখন আমি সন্তান ছিলাম, চিন্তা ছিলো বাবার

আজকে যখন বাবা আমি, সব চিন্তাই আমার; 


পঁচাশি থেকে নব্বই, ছিলাম রাজপথে পড়ে  

স্বৈরাচারের নিপাত করে, ফিরে এসেছিলাম ঘরে

নূর হোসেন শহীদ হলো, হন্তক চালালো গুলি 

'স্বৈরাচারের নিপাত যাক'- বুকে লেখা ছিলো বুলি; 


সেদিনও আমি নির্ভীক যুবা, তার পাশে রাজপথে

বাবা সেদিন চিন্তায় ছিলো, অপেক্ষায় চেয়ে পথে 

আজ আমার সন্তান সব, পথে পথে রাজপথে 

সময়টা কি চলছে তবে! উল্টো চাকার রথে; 


আজ কেন রক্ত আমার, বরফ ঠাণ্ডা হলো!  

জুজুর ভয়ে অস্থির থাকি, এই বুঝি ধরে নিলো

আজকে আমার সন্তানের বুকে, গুলির বড্ড ভার 

তবে কি সেদিন করতে পারি নি, নিপাত স্বৈরাচার;


আজকে আমি বাবা হয়ে, সন্তানের পথ চেয়ে থাকি

ঐ যে কারা আসছে যেন, কাঁধে লাশ কেন? - এ কি!

সন্তানের বুকে গুলি লাগার আগে, দেই নি বুক পেতে

খাটিয়া ধরে কাঁদছি মরাকান্না! পারি নি বাবা হতে?


দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এখন কাকে খুঁজবে দুচোখ

সন্তান আমার পতাকায় মোড়া, ঘুমিয়েছে তার চোখ 

বাকি সন্তানেরা এখনো রাস্তায়, বুকে পিঠে গুলি খায় 

বাবারা সব বিশ্রামে আছে, পিঠ এলিয়ে বিছানায়;


যেদিন বাবাদের ঘুম ভাঙবে, দাঁড়াবে সন্তানের পাশে

কাতারে কাতারে পিতা সন্তান, শবের মিছিল লাশে  

সেদিনও তারা গুলি চালাবে, আমার ট্যাক্সের বন্দুকে 

সন্তানের সামনে বাবা দাঁড়িয়ে, গুলি টেনে নিতে বুকে।


    


#হিবিজিবি_মনের_হাবিজাবি_কথা 


শবের মিছিল

 - মোঃ আহসানুল হক 


২৭ জুলাই, ২০২৪ 


 


 

 




 


জীবন্ত লাশ

 ওরা বলেছে মুখ বন্ধ কর

আমি মুখ বন্ধ রেখেছি

সাহস হয় নি বলতে আমার 

চারিদিকে যা দেখেছি  

আমি ওদের কথা রেখেছি, 

মুখ বন্ধ রাখতে রাখতে 

আমি বোবা হয়ে গিয়েছি 

আজকে আমি বলতে পারি না

তবুও কোথায় কি হচ্ছে জেনেছি; 


ওরা বলেছে কান বন্ধ কর

আমি কান বন্ধ করেছি

সাহস হয় নি শুনতে আমার 

কি হচ্ছে চারিদিকে 

আমি ওদের কথা রেখেছি

কান বন্ধ রাখতে রাখতে 

আমি বধির হয়ে গিয়েছি 

আজকে আমি কিছুই শুনি না

কিন্তু ওদের কথাই শুনেছি; 


ওরা বলেছে চোখ বন্ধ কর

আমি চোখ বন্ধ রেখেছি

সাহস হয় নি দেখতে আমার 

চারিদিকের ঘটনাগুলো  

আমি ওদের কথা রেখেছি

চোখ বন্ধ রাখতে রাখতে 

আমি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি 

আজকে আমি কিছুই দেখি না

আমি ওদের চোখেই দেখছি;  


ওরা বলেছে বিবেক বেঁচে দাও 

আমি অল্প-মূল্যে বেঁচে দিয়েছি 

সাহস হয় নি তাঁদের না বলতে  

সবাই নাকি বেচছে দেদারসে  

আমি ওদের কথায় বেঁচেছি 

বিবেক বেঁচে আমার লাভই হয়েছে

আমি বিবেক-শূন্য মানুষ হয়েছি  

আসলে মানুষ? আমি জানি না 

শুধু ওদের কথামতোই চলেছি;


হঠাৎ একদিন বোবা হয়ে আসা কথাগুলো বললো

 - কথা বলার চেষ্টা কর   

হঠাৎ একদিন বধির কান কানপড়া দিয়ে বললো 

 - কথা শোনার চেষ্টা কর 

হঠাৎ একদিন অন্ধ চোখ বলে উঠলো

- তাকা চারিদিক

তারও অনেক দিন পর 

হঠাৎ একদিন বিবেক কড়া নেড়ে বললো

 - এবার মানুষ হ, 

আমি মানুষ হতে গিয়ে আয়নায় দেখলাম

 - মানুষের অবয়বে দাঁড়িয়ে - জীবন্ত লাশ। 


 


#হিবিজিবি_হাবিজাবি


জীবন্ত লাশ

 - মোঃ আহসানুল হক 


২৭ জুলাই, ২০২৪