সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মানুষ ও নদী


মানুষ ও নদী

এই বহতা নদীপথ, নৌযান গুলি, কুলুকুলু বয়ে যাওয়া জল
বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মন উদাসী হাওয়া
কোন এক পাহাড়ি ঝর্নার থেকে নেমে আসা জলরাশি
ধুন্ধুমার বেগে বয়ে এসেছিল
নদী হয়ে বয়ে গিয়েছিল
পথ চলা শেষ তার সাগরে মিশে
আমরা বয়ে চলি নদীপথে
জীবনের প্রয়োজনে।

মাঝে মাঝে তার চর জাগে, দূর্বা ঘাসে ছেয়ে যায়
চর-দখল চলে মানুষের মাঝে
ধান ক্ষেতের সবুজে চোখ জুড়ায়
বহমান নদী ঘিরে গড়ে ওঠে বসতি, আমরা মানুষ
আর আমাদের বর্জ্য আবর্জনা সুয়ারেজ বেয়ে নদীতে
কলুষিত করে দূষিত করে যাচ্ছি প্রতিদিন
ভুলে যাই পানির অপর নাম জীবন।

ধানক্ষেত গুলো জুরে নেমে আসে ধান-শালিকের ঝাঁক
কৃষাণের বুক খুঁটে খেয়ে যায় ধান
আমরা চলি নদীপথে, জুড়াই চোখ দেখি চারিদিক
মনে একটু চিন্তা কি আসে কখনো একবার
করে যাচ্ছি নিজেরাই দূষণ আমাদের জীবন ধারা
করে প্রকৃতির দূষণ, কিংবা নদীর
প্রতিশোধ নেবে একদিন নদী কিংবা পরিবেশ
নিজেই মরে গিয়ে
তখন তোমরা বেঁচে থাক দেখি কি করে?
এর ভয়াবহতার মূল্য পরিশোধ করতে হবে
একদিন আমাদেরই।





অবৈধ আকর্ষণের ডাক


অবৈধ আকর্ষণের ডাক

নিষ্ঠুর নৈঃশব্দতা কষ্ট দেয় জারজ্ সন্তানের মত
লেপ্টে থাকে জীবনের অষ্টেপৃষ্ঠে
ঝেড়ে ফেলা দেওয়া যায় না
আবার নিজস্ব করেও নেয়া যায় না।

অবৈধ প্রেম কষ্ট দেয় অঙ্গার জ্বালিয়ে
মনের গহীনে ক্ষরণ জাগায়
মনে পড়ে প্রতিক্ষণ, প্রহর অপেক্ষার
নিজের করে নেয়া হয় না।

পরকীয়া নামক ভাইরাস কুড়ে খাচ্ছে আমাদের
নারী কিংবা পুরুষ; বাধ মানে না কারো
শুধুই দহনের জ্বালা মনে মনে
কেও কারো হয় না, চিরতরে।

তবু মানুষ আজব জীব, আকর্ষণ সব নিষেধের দিকে
শুন্য হয়ে থাকে জীবনের সকল অবৈধ চাওয়াগুলো
ফাঁদে পা দিয়ে থাকি মনের অজান্তেই
পুড়ে পুড়ে অঙ্গার হতে, নিজেকে নিজে।






আশা নিরাশায় দোদুল্যমান


আশা নিরাশায় দোদুল্যমান

তৃষ্ণা তিথি জাগে কি এক আশায়
মাথায় দিয়ে চাড়া তোমার নেশায়
ভুলে ভরা জীবন একের পর এক পাওয়ার দুরাশায়
ভুলে যাই একদিন মাটি হয়ে যাব তুমি আমি সবাই।

অমাবস্যার তিথি জাগে আলোর আশায়
জ্যোৎস্না তিথি মেঘে মেঘে ছেয়ে যায়
আলো চায় অন্ধকারের বুকে ঢলে পড়তে
অন্ধকার চায় আলোর বন্যায় আলোকিত হতে।

পূবালী বাতাসে কারো কারো মন জুড়ায়
কারো করে ফেলে সর্বনাশ হেলাফেলায়
বাতাস বাতাসের মত নিজে নিজে বয়ে যায়
কার কি উপকার বা অপকার হল তাতে তার কি আসে যায়।

পানির জন্য হাহাকার জাগে কোথাও কোন এক দেশে
বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে চারিধার অন্য দেশে শুধু পাহাড় ভাসে
নিয়তি তার খেলা খেলে যায় নিজের ইচ্ছে মতন চলে
মাইলের পর মাইল ধানক্ষেত ভেসে যাক বন্যার জলে।

নোনা ব্যথাগুলো বুকের মাঝে বাঁশির সুরে বেজে যায়
চোখ জ্বলে যায় একবার তারে দেখার আশায়
দূরে থাকা প্রিয়জনের জন্য একজনের বড্ড মন পোড়ায়
আর তার প্রিয়জন অন্যদিকে অন্য কারো তে মন হারায়।

নিয়তি কি নিষ্ঠুর পরিহাস করে সবকিছু উল্টো করে দিয়ে
নিয়তির হাতে যেন কোন এক ছকের খেলার ঘুটি হয়ে
প্রকৃতি কিংবা মানুষ দুজনের ক্ষেত্রেই তার একই খেলা চলে
তবুও হাজারো নিরাশার মাঝেই আশার বাস; গুরুজনেরা বলে।







বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

পরাজয়ের গ্লানি


পরাজয়ের গ্লানি

শীতল হয়ে যাচ্ছে ভাবনাগুলো
আমার ভাবুক স্বত্বা
তার সাথে আমি

তুমি হয়তো শুয়ে আছ কারো বুকে পড়ে
রমণের শ্রান্তিতে
ক্লান্ত তুমি

পরাজয়ের গ্লানি মনে, কোন বোধ কাজ করে না
ভালোবাসার খেলায় হেরে গিয়ে
কিংবা ছলনার চাতুরী

বরফ চোখে ঠাণ্ডা নির্লিপ্ততা
চেয়ে থাকে আকাশের দিকে
তারা গোনে

বিষাক্ত মন ছেয়ে থাকে বেদনায়, অবচেতন মন দেখে
অহল্যা নীল বিষের বোতল
পরাজিত জীবনে







নিজেরে নিয়ে ব্যস্ত সবাই


নিজেরে নিয়ে ব্যস্ত সবাই

আমরা ভুল করে যায় প্রতিদিন নিজে নিজে
হাজার ভুলে ভরা জীবন আমাদের
তবুও ক্ষমা করি নিজেকে নিজে
ভুলে যাই ভুলগুলো আবারো ভুল করার তরে।

আমরা ভুল ধরে যাই প্রতিদিন অন্য কারো
একটি ভুল যদি করে প্রিয়জনে
ক্ষমা করতে পারি না মনে মনে
ভুলে যাই একই ভুলই তো আমিও করেছিলাম জীবনে।

আয়নার এপাশে দাঁড়িয়ে নিজেরে নিজে দেখি
ওপাশে ঘন পারদের অন্ধকার ছেয়ে রয়
আলোকিত জীবনের করি অভিলাষ
অন্ধকার জীবন কি কারো সয়?

রঙিন দেয়ালের আলোকিত রঙ, চোখ ধাঁধায় এপাশে
পলেস্তারা খসা নগ্ন দেয়াল বের হয়ে থাকে ওপাশে
রঙিন খেয়ালে স্বপ্ন বুনে যাই ঘরের মাঝে বসে
বাস্তবতার অন্ধকার থেকে মুখ ফিরিয়ে, আমার কি যায় আসে?

আমার খোলা জানালায় দেখি নীল আকাশ, মনের খুশিতে দেখি চেয়ে
ভাবি না তোমার আকাশ থাকতে পারে ঘন কালো মেঘে ছেয়ে
অনুভূতিহীন জীবনযাপন আমাদের এখনকার অস্থির সময়ে
শুধু নিজেরটাই ভাবি আমরা পড়ে থেকে সম্মোহিত সময়ে।








বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

উত্তর মেলে না


উত্তর মেলে না


তুমি আর আমি মিলে কাটিয়েছিলেম কিছু সুখের সময় -

- ধলেশ্বরীর নদীতে নাইতে যেতাম দুজনে মিলে নদী স্নানে
- ঝমঝমে বর্ষায় "চলো বৃষ্টিতে ভিজি"
............গাইতে গাইতে টেনে নিয়ে যেতে তুমি আমায় বৃষ্টি স্নানে
- লাল পাহাড়টা বাইতাম দুজনে মিলে ঘর্মাক্ত কলেবরে
- লোহিত সাগরে গা ভাসাতাম, ঘন লবণ জল ভাসিয়ে রাখত আমাদেরে
- জ্যোৎস্না ঢালা কত রাতে করেছি জ্যোৎস্না স্নান
................দুজন দুজনার শরীরে ডুবে গিয়ে
-আমাদের সবচেয়ে প্রিয় সময় ছিল তাকিয়ে থাকা দুজনার চোখের দিকে
...........হাতে হাত রেখে, পলক না ফেলে; হোক সে দিবা কিংবা রাতে।

আজ সেই দিনগুলোর কথা বড্ড মনে পড়ে
সুখ ছিল আমাদের যেন অন্য কোন এক জনমের ঘরে
সুর ছিল, গান ছিল, ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রাণে
কি এক স্বপ্নের সুখের দিনগুলো ছিল আমার জীবনে।

আমি কিন্তু আজো বেঁচে আছি প্রতিদিন নিজেকে নিজেতে মরে
আছি মনের কোণে গভীর এক শূন্যতা নিয়ে-তুমি চলে যাবার পরে।

তবে তুমি চলে যাবার আগে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম তোমাকে -

কে হই আমি তোমার ?
কি ছিল তোমার সাথে সম্পর্ক আমার?
কেন এই মিছে ছলনা?
কেন দিয়ে যাচ্ছ আমায় এ বেদনা?

.....................কোন জবাব মেলে নি তোমার কাছ থেকে সেদিনও
.....................নৈঃশব্দের আঘাত রয়ে গেছে মনের মাঝে আজো

আমি বলেছিলাম তোমায়, উত্তর না দাও কিছু কথা জেনে যাও -

তুমিই ছিলে আমার পৃথিবী………………
অপেক্ষায় থাকব আমি……………………

আমার রক্তকণিকাগুলোকে মাইক্রোস্কোপের নিচে নিয়ে
.......................................একবার দেখে যাও
দেখতে পাবে প্রতিটা কণিকাতে ভালোবাসার জালের মত
.......................................জড়িয়ে আছ তুমি।

যদি তোমার প্রতিটা পথের বাঁকে বাঁকে, পথ চলতে
কাঁটা ফুটে পায়ে............
............আমায় ডেক, পাশে পাবে তুমি
কাঁটা তুলে দিতে............

আমি আছি যতদিন বেচে, রইব অপেক্ষায়
………………………..তোমার ফিরে আসার।





মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

দুই ভুবনের দুইজন



দুই ভুবনের দুইজন



তোমাকে সেই প্রথম দেখার পর থেকে
আমার মনে মনে কত কথা উড়েছিল
হায় একদিন তার সঙ্গে তোমায় দেখে
ঈর্ষায় কতই না মন আমার পুড়েছিল
যদি তুমি বুঝতে!

বোকার হদ্দ আমি বাস করি নদী চরের ঢালে
তুমি শহুরে মেয়ে বাস কর শহরে
আমার সকাল হয় সূর্যোদয়ের কালে
তোমার সকাল হয় মধ্য দুপুরে।
আগে বুঝি নি যে।

মানুষের দুঃখে তুমি কর উহু আর আহা
আমার চেতনায় লাগে যে বড় শ্লাঘা
ভালোবাসার শেষ ঠিকানা আমার কাছে যে বাসর ঘর
নিত্য বদল তোমার প্রেম খেলনা, পুরানো হলে কর পর
আগে বুঝি নি যে।

তবু রূপে মজে তোমার, নিজের অবস্থান যেন গিয়েছিলাম ভুলে
তাই হয়তো দিয়েছিলাম তোমায় হৃদয়ের সবটুকু পিরিতি ঢেলে
আরেকজনে সাথে দেখছি তোমার হাত ধরাধরি, গা ঢলাঢলি
ঈর্ষার জ্বালায় জ্বলছে এখন ছাতি আমার, জ্বলছে আংরানালি।
যদি তুমি বুঝতে!

বীণার তারে আঙুল না ছোঁয়ালে বাজে না যেমন সুরের বীণা
তোমায় না পেয়ে সাদাকালো লাগে সবকিছু তুমি হীনা
করুণ আবেদনে অন্য কারো সাথে করতেই মিশতে মানা;
ঝাঁঝিয়ে বলেছিলে কারো সাথে মিশব না!! করো না এ দুরাশা।

অন্য কারো সাথে দেখলে তোমায় লাল হই ঈর্ষায়, সইতে পারি না
হিংসুটে বলে গাল দিয়ে গেলে, ভালোবাসাটুকু তুমি বুঝলেনা;
হায় আমি মূর্খ কিবা কতা কও হে বাহে, কিছু বুঝি না
ঈর্ষা ছাড়া প্রেম!!! এইডা আবার কেমুন ভালোবাসা?

হায়, যদি আমি বুঝতেম তোমার ভাবনা
হায়, যদি তুমি বুঝতে আমার যাতনা।