শুক্রবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৩

মানুষের সংজ্ঞা

মানুষের সংজ্ঞা
- যাযাবর জীবন


চামড়ার পোশাকে ঢাকা হাড় মাংস কিছু
মানুষ নাকি এদের বলে, সত্যি নাকি?
ওই শকুনির গায়ে, ওই হায়েনার গায়ে ওই কুকুরের গায়ে
কিংবা হাজারো প্রাণীকুল আরো আছে ছড়িয়ে
চামড়ার পোশাকে হাড় মাংস ঢাকা তাদেরও সারা গায়ে জড়িয়ে
তবে তারাও কি মানুষ? সংজ্ঞায় কি বলে?

হৃদয় আছে প্রাণীকুলের সবারই
ধ্বক ধ্বক করে
ধমনী, শিরা, উপশিরা বেয়ে রক্ত দৌড়ে চলে
নখুন, দন্ত আর শ্বাপদের চক্ষু আছে কিছু প্রাণীকুলে
লোভী তারাও নখ দন্ত বসায়, খাদ্যের প্রয়োজনে
ঠিক মানুষ নামক প্রাণীর মতন, লোভের ছোবলে
তবে তারাও কি মানুষ? সংজ্ঞায় কি বলে?

চামড়ার নিচে শুধু কিছু হাড়গোড় আর মাংসের শ্লেষ্মা
প্রাণীকুলের একেক নাম একেক চরিত্র ঘেঁষা
আসলে কেও কারো চেয়ে আলাদা কিছু নয়
আলাদা নাম যদি কিছু হয়ে তবে সে শুধুই কাজে
“মনুষ্যত্বেই” সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ নামে পরিচয়।

হাড় চামড়ার নিচে সৃষ্টির সেরা জীবের বিবেক বোধ আছে
রক্ত মাংসের সাথে মিশে আছে প্রেম ভালোবাসা
মায়া মমতা আর কিছু মূল্যবোধের আশা
তবুও যখন বিবেক কথা না কয়
মনুষ্যত্ব মুখ ফিরিয়ে রয়
বড্ড কষ্ট হয়।

মাঝে মাঝে বড় অসহায় লাগে
যখন দেখি মানুষের মাঝে পশু রিপু
মনুষ্যত্বের খোলসে পশুত্ব কিছু
হাজারো এমন প্রশ্ন মনে জাগে
ঠিক তখনই ভাবতে ইচ্ছে করে -
চামড়ার পোশাকে ঢাকা হাড় মাংস কিছু
মানুষ নাকি এদের বলে, সত্যি নাকি?
সংজ্ঞায় কি বলে?

বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৩

বিবেকে শৈত্য প্রবাহের অনুভব

বিবেকে শৈত্য প্রবাহের অনুভব
- যাযাবর জীবন

মনে করে নাও তোমরা লেপের তলায় শুয়ে আছ
প্রিয়জনের ওম বুকে ধরে
শরীরটারে আরেকটু গরম করে;
এবার ওদিক তাকাও -
দেখো বাইরে শৈত্য প্রবাহ চলে
উলঙ্গ তুমি শুয়ে আছ ছাঁদের পরে
সত্যি না হলেও একবার ভাব অনুভবে
শুধুই একবার।

না হয় একবারের জন্য হলেও ঘুরে এসো রাজপথ ধরে
না হয় আজকের একটু বেশী খাওয়াটুকু হজম করে দিতে
বের হয়ে এসো হিটারের ওম দেওয়া ঘর থেকে
তবেই বুঝবে শীত কাকে বলে
হাড় কাঁপানো...............

না হয় গায়ে ভারি উলের সুয়েটার জড়িয়ে
তার ওপর মোটা জ্যাকেট একটা পড়ে নিও
হাতে পায়ে মোটা উলের মোজা
না হয় কানটাও ভালুক চামড়ার কান-টুপিতে ঢাকা থাক
গরম উলেন অন্তর্বাসের ওপরে
মোটা জিন্সের প্যান্টটাও না হয় পড়ে নিও
তবুও অনুরোধ
আজ এই শৈত্য প্রবাহের রাতে
একবার হেঁটে এসো রাজপথ ধরে
তবেই বুঝবে শীত কাকে বলে
হাড় কাঁপানো.....................

আমি একদিন এভাবেই হেঁটে গিয়েছিলেম কোন এক গলি পথ ধরে
এমনই এক শৈত্য প্রবাহের রাতে খুব প্রয়োজনে
থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম খুব হঠাৎ করেই
রাস্তার পাশের মানুষগুলোর হাড় কাঁপা হি হি দাঁত ঘষা শব্দে
বিবেকের চাবুক যেন ফিরিয়ে এনেছিল আমায় মর্তে
চোরের মতন মুখ লুকিয়ে পালিয়ে এসেছিলেম কেন জানি
আগাপাছতলা গরম উলের জামা গায়ে দিয়ে
মুখটা লজ্জায় ঢেকে ফেলেছিলেম মাফলারে আমি............

বুধবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৩

অপেক্ষায়

অপেক্ষায়
- যাযাবর জীবন

অন্ধকারের রাত বড্ড প্রলম্বিত মনে হয়
ক্ষরণ জাগায় হৃদয়ে, রক্ত ঝরায় কিছু মনে
প্রতীক্ষার অবাঞ্ছিত প্রহর দীর্ঘায়িত হয়ে রয়
বড্ড ধীরে কাটছে আজকাল অপেক্ষার সময়।

টিক টিক টিক টিক বয়ে যাওয়া সময় ঘড়ির কাঁটা
থামে না এক মুহূর্ত যেন
খসে পড়ে না একবারও প্রতিদিন বেড়ে ওঠা টিক টিক করা
ঐ টিকটিকির ল্যাজের মত
মূল্যবান জীবন খসে পড়ে প্রতিদিন নানা কৌশলে
ওত পেতে থাকা মৃত্যুফাঁদে
অপলক চেয়ে দেখি নিশ্চুপ আমি
দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অশরীরী ছায়া
যেন প্রতীক্ষায় তাকিয়ে থাকে আমারই চোখদুটি
তবুও করে না দয়া
অরুচি যমের কেন এত বেশি শুধু আমাতেই?

আর কতকাল দীর্ঘায়িত প্রহর গোনা টিক টিক করে
অতলে তলিয়ে যাই ভাবলেশহীন এক গভীর অন্ধকারে..................

মঙ্গলবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৩

দূর গগনে

দূর গগনে
- যাযাবর জীবন

যদি হারিয়ে যাই গোপন কোনো জায়গায়
যেথায় খুঁজে পাবে না কেও আমায়
শুধুই স্মৃতি হয়ে রব হয়তো
কারো মনের সোনালী ভাবনায়;
যদি হারিয়ে যাই সন্ধ্যের ধোঁয়া ধোঁয়া ধুসর কুয়াশায়
পথ খুঁজে খুঁজে হারিয়ে যেতে পথের ধুলোয়
হয়তো শুধুই রয়ে যাব
কিছু মানুষের স্মৃতির ভাবনায়;
কিংবা যদি জলে ভেসে ভেসে অনেক দূরে চলে যাই কোথাও
যেথায় দহনের জ্বালাগুলো সাগরের লোনা জল কুড়ে কুড়ে খায়
ভালোবাসাগুলো কি ঢেউ জাগাবে তোলপাড়ে
না পাওয়ার বেদনায়?

পোকা মাকড়ের বাস যখন দেহের ভেতর কিংবা মনে
ব্যাকটেরিয়া আর ভাইরাসের কিংবা ভালোবাসার দহনে
কুড়ে কুড়ে খায় দেহ মন আর হৃদয়
তখন হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে অন্য কোথাও, অন্য ভুবনে
ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়।

একদিন হয়তো ধুসর রং ধরবে ওয়াটার কালারের আঁকা ছবিগুলোতে
একদিন হয়তো ধুলো জমবে মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসাতে
একদিন হয়তো স্মৃতিগুলো ঢাকা পড়ে যাবে বিস্মৃতির অতলেতে
একদিন হয়তো সূর্য ঢেকে রবে ঘন মেঘের অন্ধকারে
একদিন হয়তো আমিও চলে যাব ভুবনের ওপারে
ইচ্ছে হয় না যেতে তবু মানুষ হারিয়ে যায়
ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়।



বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৩

বিধাতার বিধান

বিধাতার বিধান
-যাযাবর জীবন


কি যে এলো এক দিনকাল
টাকার মূল্যে ভালোবাসা নাকি বিকোয় আজকাল
নর কিংবা নারী
প্রেমের ক্ষেত্রে দেখে অপর পক্ষের পকেট কতটা ভারী
হায় কি যে পড়েছে এক দিনকাল
প্রেমের মূল্য ধার্য হয় কাগজের টাকাতে আজকাল
অমর প্রেম পড়েছি যত না কাব্য কথায়
সেসব প্রেমের অনুভবগুলো কোথা গেল আজ হায়!

কি যে হলো আজকের দিনকাল
প্রেমের মূল্যে নাকি দেহ বিকোয় আজকাল
নর কিংবা নারী
পিছিয়ে নেই কেও কাওকে ছাড়ি
বিয়ের আগেই শারীরিক ভালোবাসাবাসি
যেন একে অপরকে ভাল করে পরখ করি
প্রেমের মূল্যের যোগ্যতা আজকাল রমণে
একটু এদিক ওদিক তো দুজনে দুদিক
পুরনো প্রেমের কথা কে রাখে আজ স্মরণে?

ভাবি না আজকাল একবার হায়
সুখ কেনা যায় না কাগজের টাকায়
করি না পরকালের একবার ভয়
দেহ সুখ পেলেই আজকাল যেন হয়
টাকার মূল্যে আজ ভালোবাসা বিকোয়
রমণের সুখে যেন প্রেম গভীর হয়
কি দেখি চারিদিকে আজকাল
হায় কি যে এলো এ যুগের দিনকাল।

টাকারে দেবতা মেনে যে প্রেমের শুভ সূচনা
এ দেবতা বড়ই আনচান কখনো ভাবি না
আজকে পকেট ভারী তো কালকে খালি
আজকের রাজা সে কালকের প্রজা
ওপর ওয়ালার খেলা বোঝা দায়
বোকা নার নারী বোঝে না কি হায়!

শারীরিক ভালোবাসাবাসির সমাপ্তি হবে একদিন
সত্যিকারের প্রেম রয়ে যাবে হৃদয়ে চিরদিন
দেহ বুড়িয়ে যাবে কালের স্রোতে
শুধুই মনটা রয়ে যাবে হৃদয়ে গেঁথে
প্রাণ পাখি উড়ে যাবে, দেহ পড়ে রবে শূন্য মাকান
বোঝে না বোকা নর নারী, এটাই বিধাতার বিধান।



বুধবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৩

যাযাবরের গন্তব্য

যাযাবরের গন্তব্য
-যাযাবর জীবন

সকালের সূর্যোদয় রাঙ্গা প্রভাতে, নতুন দিনে সাজে পৃথিবী
মনুষ্যের দল ছুটে চলে যে যার পথে কর্ম সংস্থানে
পশু পাখির দল ছোটে খাদ্য অন্বেষণে
আমি তখন গভীর ঘুমে।

দিনের প্রহর গুলো কেটে যায় নিমিষেই যেন কেমন করে
মনুষ্য সমাজ সারাদিন কর্ম ব্যস্ততার মাঝে দিন কাটায়
গরিবের দুমুঠো ভাতের চাহিদা
মধ্যবিত্তের সংসারের লাঙ্গল টানা
আর উচ্চবিত্তের আরো টাকার পেছনে ছোঁটা
আমার আলসে দিন কাটে খুব ধীরে ধীরে
হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায় গড়িয়ে
কোনো দিন হয়তো ব্যস্ত নগরীর দিকে তাকিয়ে
আর খুব মাঝে মাঝে, নাহ ঠিক বললাম না
খুব প্রায়ঃশই দিন কাটে ভালোবাসার অনুরাগে
পথের দিকে চেয়ে, কারো ফিরে আসার প্রতীক্ষায়
যে পথ ধরে সে গিয়েছিল চলে।

পৃথিবী ঘুরতে থাকে তার অক্ষের ওপর
দিন শেষে সন্ধ্যে ঘনিয়ে আসে
রবি বিদায় নেয় পৃথিবী থেকে
মসজিদগুলো থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে
মন্দিরগুলোতে কাঁসার ঘণ্টা বাজে
পাখপাখালির দলের ঘরে ফেরার সময়
মনুষ্য সমাজের কর্ম ব্যস্ততা শেষ হয়
ঘরে ফেরার পালা তাঁদেরও
কেও পায়ে হেঁটে
কেও বাসে ঝুলে ঝুলে
আর কেওবা এসি গাড়ির কালো গ্লাসটা উঠিয়ে দিয়ে
গন্তব্যহীন আমি হেঁটে চলি অলিগলি রাস্তার পথে
কখনো রেললাইনের স্লিপার গুনে গুনে একমনে
কর্ম ব্যস্ততা আমার সয় না।

রাতের শুরুতে স্তব্ধতা নেমে আসে ধরাচর জুড়ে
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে মানুষ চলে যায় ঘুমের দেশে
পশু পাখিগুলোও যার যার ঘরে নিদ্রায় ঢলে পড়ে
নিস্তব্ধ রাত নেমে আসে পৃথিবীর বুকে
আমার চোখে ঘুম নেই কার কথা মনে করে
কি জানি?
এখন আর ভাবালু মনে আকাশের দিকে চাই না
এখন আর ভরা জ্যোৎস্নায় নিজেকে হারাই না
শুধু চেয়ে থাকি অন্ধকারের দিকে
কি জানি কি ভেবে?

আমার সকাল কাটে গভীর ঘুমে
দুপুর কাটে হয়তো কারো পথ চেয়ে
বিকেল বেলায় আলসে অবসরে
আমি সন্ধ্যের আধো অন্ধকার দেখি নির্লিপ্ত চোখে
রাতের আকাশে তারা গুলো আর গুনতে ইচ্ছে হয় না
প্রহরগুলো কেটে যাচ্ছে ঘোরের মাঝে
মনের বিচরণ আলুথালু বেশে স্বপ্নের দেশে
আমার কাছে সবাই আপন
আবার সবাই কেমন জানি পর
গন্তব্যহীন এক জীবন বেছে নিয়েছি
কারণ আমি এক যাযাবর।

যাযাবরের কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য থাকতে নেই
থাকতে নেই কোনো লক্ষ্য, কোনো চাহিদা
তার মনে স্থান নেই কোনো ভালোবাসার
অপেক্ষায় বসে নেই কেও তার জন্য
তাই তাড়া নেই তার কোথাও যাবার
পিছুটান নেই কোনো আপন জনার
তাই তাড়া নেই তার কোথাও ফেরার।

মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৩

তোর কাছে লেখা খোলা চিঠি

তোর কাছে লেখা খোলা চিঠি
- যাযাবর জীবন

কতদিন হয়ে গেছে তোর কাছে চিঠি লিখি না
ভুলেই গেছি দিনক্ষণ এখন আর মনেই থাকে না
তবুও তোর কথা অনেক বেশি করে মনে পড়ে ইদানীং
আসলে কেমন যেন মনের মধ্যে একটা ভাপ ওঠে প্রতিদিন
তোর কথা মনে হলেই কেন যেন ভিজে ওঠে চোখ লবণ জলে
আসলে কান্নাগুলো গুমরে মরে মনের ভেতর, অশ্রু আসে চোখের পাতায়
নিজেও বুঝি না ঠিক কান্নার স্বরূপ, কেন যে এত চোখ মোছায়
সুখের স্মৃতিগুলো মনে হলে মনে মনে উদাস লাগে, চোখ ভিজে ওঠে জলে
অভিমান, অপমান আর দুঃখ কষ্টগুলোর কথা মনে করতে চাই না
তবুও আপনা থেকেই ভেসে ওঠে মনের চিলেকোঠায়
দেখ, তখনো কিন্তু মনের অনুভূতিগুলোকে বাঁধ দেয়া যায় না
আপনা আপনি চোখ বেয়ে নামে লবণ জল, আমায় যেন ভাসিয়ে দিতে।

তোকে দেখি না সেই কতকাল হয়ে গেছে, চিঠিও দেয়া হয়নি অনেকদিন
তবুও কিন্তু আমার মনের অনেক গভীরে রয়ে গেছে তোর অনুভব
সেই সব পুরনো দিনের কথা মনে হলে আজো নস্টালজিয়ায় ছেয়ে যায় মন
সেই সব সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনার কথাগুলো মনে হয় রোজ
তোর চুপ করে বসে থাকা আমার সামনে মুখোমুখি
প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে তাকিয়ে থাকতাম তোর দিকে ভ্রু কুঁচকে
না বলা কথায় তোর মনের ভাব জানতে
কিছুই বুঝতে দিতি না তুই, শুধু কেমন এক চোখ করে তাকিয়ে থাকতি
পলক না ফেলে, কিছু জিজ্ঞাসা করলেই বলে উঠতি তুই তোর কাজ কর
আমি তোকে দেখি।
যখনি জিজ্ঞাসা করতাম নতুন করে কত আর দেখবি?
তুই হেসে উত্তর দিতে তুই বুঝবি নারে গাধা
আমিও মুচকি হেসে উত্তর দিতেম ঠিক আছে রে গারু;
আসলেও আমি বুঝি নি তোর ভেতরের ভালোবাসা
কতটুকু ছিল রে তোর মনে? আজো জানা হলো না
নাকি তুই জানতে দিলি না, তাও ঠিক বুঝি না
শুধু না বলা কথায় চেয়ে থাকা ভালোলাগা কিংবা ভালোবাসার চোখে
তবু মাঝে মাঝে সেখানেও কেন দেখতাম লবণ জল ভেসে ওঠে।

আজ আমরা দুজন দুই ভুবনের বাসিন্দা
তোর আর আমার আর কোনদিন দেখা হবে নাকি জানি না
তবে সেদিন চেয়ে থাকার বদলে যদি আমার বুকে হাত দিয়ে দেখতি একবার
কিংবা হৃদয় স্পর্শ করার চেষ্টা করতি, তবে বুঝতি ভালোবাসা কাকে বলে
তাইতো এখনো তোর কথা মনে হলে চোখ দুটি ভরে যায় লবণ জলে।

বছর ঘুরে নতুন বছর শুরু হয়ে গেছে
তোকে শুভেচ্ছা জানানো হয় নি অন্যান্য বারের মতন
তবে আমার ঠিক মনে আছে তোর কথা
যদিও অনেক আশা ছিল মনের কোণে একটি এস এম এস
কিংবা তোর লেখা একটি চিঠি পাব নতুন বছরে নতুন করে
হায় কেন ভুলে যাই বার বার যে তুই হারিয়ে গেছিস কোনো এক
অজানার দেশে, আমায় একাকী ফেলে।

আজ অনেক দিন পর তোকে চিঠি লিখলাম
হয়তো কিছু গদ্যে হয়তো কিছু পদ্যে
পোষ্ট করে দিলাম তোর না জানা ঠিকানায়
তুই যাবার আগে তো আমাকে ঠিকানা দিয়ে যাসনিরে
তাই খোলা চিঠি উড়িয়ে দিলাম আকাশের গায়ে বাতাসে ভাসিয়ে
শীতের কুয়াশায় যদি ভিজে যাস কখনো বারান্দার কোনায় বসে
তবে ঠিক বুঝে নেব, ঠিকানা-বিহীন চিঠি পৌঁছে গেছে অজানার দেশে
যদি চাঁদনি রাতে জ্যোৎস্না আলো এসে পড়ে তোর বিছানার কোল ঘেঁসে
ঠিক বুঝে নিস আমি অনেক ভালোবাসায় চুমু দিয়ে গেলাম তোর চোখে এসে।