বুধবার, ৬ মার্চ, ২০১৩

পুরুষের রূপ

পুরুষের রূপ
-যাযাবর জীবন

কে গো তুমি সুন্দরী ওগো মায়াময়ী
দেখিতে তোমায় যেন লাগে রূপবতী
আঁকাসের চাঁদ তুমি মাটিতে নামিলে
হৃদয় মাঝে কেন আলো করে দিলে
কেন ওগো সুন্দরী এত আলো ছড়াও
তোমাতে হেরিছে মন পাগল কেন করাও।

ওহে চাঁদ দেখ এসে জ্যোৎস্না নেমেছে
ধরার বুকেতে আজ অন্ধকার থেমেছে
সুন্দর ও মুখেতে এ কি কালো ছায়া
কার লাগি মন পোড়ে কারে করো মায়া
কারে দাও ভালোবাসা কার লাগি ধরাতে আসা
কার লাগি মন পোড়ে খোঁজো তুমি কার বাসা।

কেন তোমায় দেখে এত চেনা চেনা মনে হয়
তবে কি পৃথিবীতে নেমেছ বুকে দিতে আরো ক্ষয়
অনেক তো দিয়ে গেছ আগের জন্মে ঘৃণা
অভিমানে চলে গেছ ফেলে আমায় তুমি হীনা
মেটেনি কো তবু সাধ ফিরেছ ধরায় আজ
তোমারে দেখিয়া আজ ভালোবাসায় লাগে লাজ।

ফিরে যাও রূপবতী তোমার ভূবনে
ভালো আছি একা আছি আমার আঙনে
তুমি হীনা কাটিয়েছি যখন এতটা দিন
মনে রেখে হৃদয়েতে তোমারই প্রেমের ঋণ
ফিরে এসো অন্যদিন নিয়ে যেতে আমায়
যেদিন আমি শব হয়ে পড়ে রব কাফনেতে হায়
অভিমানের রূপ আমি দেখেছি তোমার মাঝে
পুরুষের রূপ দেখিবে তুমি আমার লাশের মাঝে।


দুঃস্বপ্ন

দুঃস্বপ্ন
-যাযাবর জীবন


দুঃস্বপ্নের হাত থেকে মুক্তি চাই
জেগে থেকে দেখা সব দুঃস্বপ্ন;

হানাহানি রাহাজানি
চারিদিক জুড়ে আজ কেমন অস্থির জানি;
ভাইয়ে ভাইয়ে, ভাই বোনে
বাবা মা, স্বামী স্ত্রী আর সন্তানে
তুচ্ছ স্বার্থ, দুটো টাকা
কেঁড়ে নেয় যেন সব মানবিকতা;
চাল ডাল নুন তেল
আকাশ ছুঁয়েছে দাম
পেটেতে ছুঁচো নাচে
কোথাও নেই কোনো কাম
মানুষের ঢল যেন সব শহর মুখি
গ্রামেতে আজ আর কেও নয় সুখী
রাজনীতির খেলা গ্রামে গঞ্জে শহরে
কার ঘারে পা রেখে কে কারে মারে
ঘুমন্ত মনুষ্যত্ব বিবেক ঘুমায়
দুঃস্বপ্ন জেগে রয় চোখের পাতায়
মানুষ আমরা মনুষ্যত্বের নেই কোনো দাম
পশু সমাজে তবু মানুষের কত সম্মান।

ঘুমের মাঝে দেখি আমরা নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন
আসলে জেগে জেগে দেখি গাঁ কাটা দিয়ে ওঠা দুঃস্বপ্ন।



ইচ্ছেগুলো

ইচ্ছেগুলো
- যাযাবর জীবন

কেন জানি মাঝে মাঝে,খুব মাঝে মাঝে
নিজেকে হারিয়ে ফেলি নিজেরই মাঝে।

কখনো ঘন কুয়াশার অশরীরী অন্ধকারে
কিংবা কবরের নিস্তব্ধ জগতের মাঝে
কখনো বালিয়াড়ির বিশাল প্রান্তরে
কখনো বা অতল সাগরের গভীর তলদেশে
কখনো মায়াবিনী চাঁদের জ্যোৎস্নায় অবগাহন শেষে
অমাবস্যার তাঁরার মেলায় জোনাকের ঝাঁকে;
পথ হারিয়ে নিজেই পথ খুঁজে বেড়াই,পথের শেষে;
তবুও হারানো আমি’কে আর খুঁজে পাই না অবশেষে।

ইচ্ছে করে,আমার বড্ড ইচ্ছে করে
হারানো আমি’কে খুঁজে পেতে
হারানো পথের দিশা পেতে
হারানো ভালোবাসাটুকু ফিরে পেতে
সমস্ত না পাওয়া গুলোকে খুঁজে পেতে
আর নিজের মাঝেই হারিয়ে যাওয়া আমি’কে খুঁজে নিতে
আবার মানুষ হয়ে ফিরে আসার তরে
মানব সমাজে,মানবের বেশে।












মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০১৩

দেয়াল

দেয়াল
- যাযাবর জীবন


বাঁধাগ্রস্ত আমার দৃষ্টি সীমা
চারিদিকের কৃত্রিম দেয়ালে বন্দী
আমাদেরই তৈরি করা মনের দেয়ালে
খুব কি বেশী পার্থক্য অন্ধত্বের সাথে
নিজেকে বন্দী করে রাখার এ তৈরি দেয়াল
কিংবা স্বেচ্ছায় নিজেকে বিভ্রান্ত করে রাখা
মনকে চোখের আড়াল করার খেয়াল?

আমরা আজ দেখতে চাই না চোখ মেলে চারিদিকের
অশোভন চারিত্রিক সব মনুষ্যত্ব
চোখ বুজে নিজেকে আড়াল করে রাখি
দেখতে যাতে না হয় মানুষের সব পশুত্ব;
ক্ষুধায় জর্জরিত পৃথিবীর রূপ
শীতার্ত মানুষের অভিশপ্ত জীবন যাপন
নারী লোলুপ অমানুষদের গণ ধর্ষণ এর শিকার
মানুষরূপী হায়েনাদের বর্বর নিঃশংস হত্যাকান্ড আর অত্যাচার।

পালিয়ে থাকি আমরা নিজের মাঝে নিজে দু চোখ বন্ধ করে
চোখের সামনে মনের আড়াল তুলে
কিংবা মনের সামনে অন্ধত্বের এক মেকি দেয়াল তুলে;
এভাবে আর কতকাল?
নিজেকে করে রাখব আড়াল;
নিজে হতে?

সময় এসেছে আজ দেয়াল ভেঙ্গে ফেলার
দেখি না কতটুকু হয়েছে আজকের সভ্যতার অগ্রগতি
কিংবা অসভ্যতার পরিণতি!
আজ সময় হয়েছে দেয়াল ভাঙ্গার, মনের ও চোখের
আর কিছু না হোক চারিদিকে অসংলগ্নতা দেখে
মনেতে জাগবে তো একটু ভয়!
আর যদি কোনো কারণে বিবেক একটু কথা কয়
তবে চোখেতে আসবেই একটু জল
দেখে চারিদিকের অযাচিত কোলাহল।

তবুও তো নিজেকে একটু সান্ত্বনা দিতে পারব –
আমি এখনও মানুষ আছি
আমি আজো মানুষ হয়ে বেঁচে আছি।






সোমবার, ৪ মার্চ, ২০১৩

অগ্রিম বোধোদয়

অগ্রিম বোধোদয়
- যাযাবর জীবন

চাঁদ নেই আজ আকাশের কোথাও
জ্যোৎস্না ঘুমিয়ে পড়েছে সবে
অমাবস্যা তিথির আগমনের আগেই

বাতাস নেই আজ ধরাতে কোথাও
গাছগুলো নেড়া হয়ে আছে, পাতাগুলো উধাও
থম ধরে আছে চারিধার, ঝড়ের পূর্বাভাষের আগেই

সূর্য নেই আজ আকাশ অন্ধকার
মেঘের আনাগোনা আকাশে চারিধার
তবু ভিজে যাই অশ্রুজলেতে বৃষ্টি পড়ার আগেই

স্পর্শ নেই আজ শরীরের কোথাও
অনুভূতিগুলো হারিয়ে গিয়েছে কবে
হৃদয়টা মরে যাওয়ার আগেই

কষ্ট নেই আজ আর বুকের খাঁচায়
দুঃখগুলো উধাও কোথায়
পাজরের হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার আগেই

তুই নেই আজ শূন্য চারিধার
কষ্ট কষ্ট দুঃখগুলো বোবা কান্নার
শব হয়ে পড়ে আছি মরে যাওয়ার আগেই।


রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৩

ভালোবাসার লোনাজল

ভালোবাসার লোনাজল
- যাযাবর জীবন

বুকের ভেতর জমে থাকা ভালোবাসার কষ্টের লোনাজল গুলো
নদীরে আমি করেছিলাম সমর্পণ
ভাসিয়ে নিয়ে যেতে সাগরের জলে;
লবণাক্ততা বাড়ুক না আরেকটু
লোনা জল সঙ্গমে
আমারই বয়ে যাওয়া সকল কষ্টের লোনাজলে।

অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে আজ সকল দুঃখ কষ্টগুলো
জমে ছিল যত রক্ত মাংস আর কঙ্কালের শবাধারে
ঠুকে ঠুকে ঘৃণার পেরেক যত গেঁথেছিলি বুকে
বইয়ে দিলেম সবই আজ লোনাজলে
নদী বয়ে চলে যাক সাগর সঙ্গমে
আরেকটু লবণাক্ত হতে।

যেদিন তোর প্রিয় মানুষের হাত ধরে ঘুরে বেড়াবি সাগর পাড়ে
সোহাগী আদরে মধুচন্দ্রিমায় ঢলে পড়ে
সেদিন বড্ড গর্ব করে বলিস তারে;
এ আমারই দেয়া কষ্টের লোনা জল
চেখে দেখে চিনে নাও আমারে, আরেকটু ভালো করে;
আমার ভালোবাসার চুমুর সাথে মিশিয়ে, একসাথে পান করে।


হিপোক্রেটিক স্বপ্ন জগৎ

হিপোক্রেটিক স্বপ্ন জগৎ
- যাযাবর জীবন

অলস দুপুর আলসে রাজপথ
কেমন যেন ঝিম ধরে আছে
একা একা পথ চলি ধুলোমাখা পথে স্যান্ডেল ঘসে ঘসে
তারি মাঝে তোর কথা হাঠাৎ করেই মাথায় চলে আসে
ইশশ, শুধু তুই যদি থাকতি আজ আমার সাথে
বড্ড মিস করি রে তোকে; বাস্তব জগতে।

খুব মাঝে মাঝে বাতাসে গুলির শব্দ ভেসে আসে
আমি কান পেতে তোর হাসির শব্দ শুনতে শুনতে এগোই দিবাস্বপ্নের দেশে
থেকে থেকে জানি টায়ার পোড়ার গন্ধ নাকে আসে
আমি তোর গায়ের গন্ধটুকু নাকে নিয়ে পথ হাটি সবকিছু অবহেলায় ফেলে হেসে
কিছু যায় আসে না আমার হরতালের রাজনীতিতে
সারাটাক্ষণ তুই যেন থাকিস আমায় বুকে ধরে জড়িয়ে
আমার বাস যে তোকে নিয়ে স্বপ্ন জগতে
হয়তো বড্ড ঠুনকো কাঁচের গ্লাসের মত
তবুও তাতে মনের মাধুরী মিশিয়ে স্বপ্নের বুদবুদগুলো যাই উড়িয়ে।

দিবাস্বপ্নের ধ্রুপদী বুদবুদগুলো মিলিয়ে যেতে থাকে সন্ধ্যে নামার সাথে সাথে
ধুসর কুয়াশার চাদর পরে যখন রাত্রি নেমে আসে
অনেক কষ্টগুলোকে বুকে চেপে পথ চলি তবু আমি ঠুনকো ঐ স্বপ্ন জগতে
মনের সাথে যুদ্ধ করে তোকে নিয়ে থাকি মেতে, ঐ স্বপ্ন জগতে;

ভাব ধরি ভালো আছি, সুখে আছি – চারিদিক মাতিয়ে রাখি
আসলে কি জানিস? এক ঘোরের মধ্যে স্বপ্ন বাস গড়ি তোকে বুকে ধরে রাখি
আসলে বাধ্য হয়ে হিপোক্রেটিক এক সাগরে জীবনের তরী ভাসাই
চারিদিকে লোকজনকে দেখাই
এসো দেখো আমি ভালো আছি – অনেক অনেক ভালো
(আসলে আমি নিজেই জানি কি এক অসহনীয় বেদনায় হয়ে আছে চারিদিক কালো)
মানুষ দেখে, আমি কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত জাগি সুখের ভেলায় ভেসে
(আসলে তোর যাতনায় নিদ-পরী এসে বসে না আমার চোখে)
হয়তো এভাবেই বাকিটা জীবন সন্ন্যাস কেটে যাবে, পায়ে হেঁটে হেঁটে
(ধুলো মাখা পথে দিবাস্বপ্নে ইতস্তত ধীর চরণ ফেলে ফেলে)
তবুও মনের কোনো এক কোণে রয়ে যাবে তোকে পাবার আশা
(যদি চোখে পড়ে সেই চরণচিহ্ন গুলো, তবে চিনে নিস আমার অম্লান ভালোবাসা)।

বড় কঠিন রে এ কাজ
প্রতিনিয়ত হিপোক্রেসির সাথে বসবাস
জগতের কোথাও নিত্য কিছু নয়, তবু করে যাই ছলনা আর অভিনয়
তোকে হারিয়ে কষ্টের ধ্রুব সত্যির সাথে হয়েছে আমার পরিচয়।