সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

পরিচয়


পরিচয়
- যাযাবর জীবন

দন্ত জিহ্বায় পিরিত ঝরে
কাজের বেলায় সরে পড়ে
খুব গোপনে কায়দা করে
যদি দেখতে হয় পাতা হাত
হি হি; ও কি! ও কি!
পালাচ্ছ কেন বাপু?
লজ্জা লাগে কি?

আমি কার, কে আমার?
বড্ড আজব এই সংসার......

রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

অন্ধকারের রূপ



অন্ধকারের রূপ
- যাযাবর জীবন

রাত পাহারায় রাতভর
আমি, তুমি, সে
চাঁদ, তাঁরা, প্রকৃতি
চলো না দেখে আসি
আমাদের সাথে সাথে
কজন জেগে আছে?

অন্ধকার নেমে আসে
চাঁদ হাসে
জ্যোৎস্না খেলে চাঁদনি রাতে

কখনো ঘোর অমাবস্যা
মুচকি হাসি তাঁরার ঠোটে
মিটমিট করে কথা বলে

রাত নামে
চারিদিক থমথম
ধনীর ভয় তস্করে
মায়ের ভয় ঘরে কুমারী মেয়ে
বাবার দুশ্চিন্তা
ছেলেটা এখনো এলো না ঘরে
দাদীর কোলে মাথা রেখে চোখ ঘুম ঘুম
রূপকথার জুজুবুড়ি এলো বলে

রাত নামে
অন্ধকার নামে
কালো রিপুগুলো থাবা মেলে
মুচকি হাসি নিশিকন্যার ঠোঁটে
টাকার টংকারে খিলখিল খেলে

রাত নামে
অন্ধকার চারিধার
সুখী দম্পতির মুখে হাসি
পরস্পর বাহুডোরে
কিছু দম্পতি খাটের দুপাশে
নির্ঘুম চোখ প্রহর গোনে
কালরাত ভোরে;
ঐ যে একটা বুড়ো ভাম
যুবা প্রেয়সীর বুকের ওম খোঁজে
শুয়ে থেকে স্ত্রীর বুকে মুখ গুজে;
ঐ যে দেখ, কুলবধু নারী
পরম নির্ভরতায় শোয়া স্বামীর বুকে
চোখে ভাসে নতুন পুরুষ
মনে নতুন স্বপ্ন আঁকে;
দিনের বেলায় এরাই কি অবলীলায়
সংসারের সং সাজে।

রাত হাঁটে অন্ধকারে
একজন ঘুমের ঘোরে হেঁটে চলে
একজন নিজে নিজে কথা বলে
কেও ছেঁড়া চটে হুহু কাঁপে
কেও নাক ডাকে লেপের তলে
রাতজাগা কানে বড্ড বাজে।

রাত গভীর হয়
ঠকঠক হেঁটে যায় শীতবুড়ি
লাঠিটা এবার বদলাতেই হবে।


শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

বৌ শাশুড়ি খেলা



বৌ শাশুড়ি খেলা
- যাযাবর জীবন

হাঁড়িকুঁড়ি ঝনঝন
হরদম ছিটিয়ে থাকে সব
তবলচীর ঠোকাঠুকি
তবলার ত্রাহি রব;
তোমার আমার কি?
শাশুড়ি বৌ এর দাঁ কুমড়ো খেলা
নিত্যই দেখছি।

গুমোট নিম্নচাপ সংসার আকাশে
ঝড়ো বাতাস বয়ে যায় হেঁসেলটা জুড়ে
তুমুল বর্ষা খুব মাঝে মাঝে
উঠোন থেকে শুরু করে শোবার ঘরে।

কুটকাচালি আর জোর গলাবাজি
নারী কন্ঠের শোর আসে ভেসে
কানে হাত দেয় টিকতে না পেরে
অসহায় পুরুষ অবশেষে;
কখন যে গ্রীষ্ম
কখন বর্ষা
আজ পিঠেপুলি
নাকি পাটিসাপটা
ঋতুর আগমন? শাশুড়ির মেজাজ
খাবার আয়োজন? বৌ এর মর্জির দাস
পুরুষ অসহায়
সংসার মেলায়;
অশান্তির স্ফুলিঙ্গ হরদম জ্বলে
বুকের চাতালে নাচে আগুনের ব্যালে
তবু সংসার বন্ধনের বেড়াজালে
সুখে দুঃখে মিলে মিশে যুগ যুগ চলে;
কিভাবে?
পুরুষ, তা জানে না
শুধুমাত্র শাশুড়ি আর বৌ'রাই জানে।





নোনাজল



নোনাজল
- যাযাবর জীবন

তুই আমার টুকরো ভুল
ভাবনায় চলে আসিস নিত্যই নির্ভাবনায়
মনের ঘরে দস্যু হানায়;
টুকরো মনের গভীর খাঁজে
টুকরো টুকরো স্মৃতি
হাত বাড়িয়ে মন ছড়িয়ে;

তারপর,

ভেঙ্গে পড়ে কাঁচের আয়না
চিনিগুড়ো ঝরে পড়ে দানাদানা
মিলিয়ে যায় মেঘের তুলো
একফোঁটা নোনাজল ঝরিয়ে।

ফুলের টোকা কখন দিয়েছিলেম
মনে পড়ে না।



শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪

দেয়া নেয়ার পালা

দেয়া নেয়ার পালা
- যাযাবর জীবন

যতক্ষণ দেবে
তুমি ততক্ষণ মহান
ধরিত্রীর বুকে তুমিই ভগবান;
যখনি তোমার হাত একটু টান
তুমি মহা বদ লোক
হাড় কৃপণ, ধুরন্ধর
মহা শয়তান।

মানুষের অনুভবগুলো ছুঁয়ে যায় আমায়
ভালো থেকে খারাপ নিত্য হতে হতে
পাথর হৃদয়ে আঁচর কাটে হয়তো
দাগ বসে না তাতে।

তুমি তো আছই দেয়ার তরে ভাই
আমার নেয়ার কোন শেষ নাই
তোমার ভাণ্ডার শূন্য
আমি উবে যাই।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪

দীনতা



দীনতা
- যাযাবর জীবন


মাঝে মাঝে কুয়াশায় পথ হাঁটি
পথটাকে রাজপথ মনে হয়
ভিক্ষুকগুলো শীতে কুঁকড়ে থাকে
নিজেকে 'রাজা' মনে হয়
শীতবস্ত্রে ঢাকা আপাদমস্তক;
পথের
শীতের
না ভিক্ষুকদের
তা জানি না.........


মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৪

দিবাস্বপ্ন


দিবাস্বপ্ন
- যাযাবর জীবন

বিপরীত চরিত্রের মানুষগুলোকে কেন জানি
বড্ড ভয় হয়,
তাই তো সৎ মানুষগুলোকে এড়িয়ে চলি খুব সযতনে;
যেন সিনেমার চরিত্র থেকে উঠে আসা
একটি দুটি সৎ মানুষ,
দেখা হয়ে যায় হঠাৎ করেই
খুব মাঝে মাঝে
পথ চলতে;
চমকে উঠে দূরে সরে যাই ঠিক তখনই
মনের অজান্তে,
ভয়ে কেঁপে ওঠে অন্তরাত্মা
তাঁদের সাথে দেখা হলে;
কি জানি কখন
ঘুমন্ত বিবেক জেগে ওঠে কথা বলে
নিজের সাথে,
চাবুকের কষাঘাতে।

যদি খুব অলৌকিক ভাবে
নিজেরও সৎ মানুষ হতে ইচ্ছে জাগে?
আটপৌরে সরল সোজা ঐ মানুষগুলোর সংস্পর্শে এসে;
আমার এত পাপের কষ্টার্জিত ধনরাশি;
কে খাবে?

কিংবা যদি তাঁদের সহচার্যে এসে
পাপার্জিত সম্পদের পাহাড়
বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে
খুব হঠাৎ করে;
তবে কি হবে?
আরে, আরে!
দিবাস্বপ্ন দেখারওতো একটা সীমা থাকে।