শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০১৪

ডিজিটাল প্রেমের ভণ্ডামি



ডিজিটাল প্রেমের ভণ্ডামি
- যাযাবর জীবন

দৃশ্য - ১:
স্বামীর বুকে মাথা রেখে
চোখ বুজে নিচ্ছিস আবেশে ওম
ফেসবুক প্রেমিকের হাতছানিতে টিং করল মোবাইলটা
আধখোলা চোখে ছুড়ে দিচ্ছিস তাকে ভার্চুয়াল উড়ন্ত চুম;
মেয়েদের সাহস একটু বেশিই হয়
স্বামী নামক চিজ পরোয়া করতে নয়।

দৃশ্য - ২:
স্ত্রীকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে খুব সাবধানে
মোবাইলটা সাইলেন্ট মুডে চুপেচাপে টিপে যায় বোতামে
প্রেমিকা ওদিকে অপেক্ষার প্রহর গোনে স্বামীর বুকের পরে
উম্মা উম্মা উড়ন্ত চুম্মা
দুজনে মিলে ভার্চুয়াল চুম
মোবাইলের ইমোতে ভাসে শরীরের ওম;
ছেলেদের অত সাহস কোথায়?
অকাজ যত স্ত্রী ঘুমানোর পরে চাড়া দেয় মাথায়।

ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা দরকার
কিংবা ডিজিটাল প্রেমের রূপরেখার।


বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০১৪


বোধে বিবি সাহেবান
- যাযাবর জীবন

ও গো বিবি সাহেবান,
অহংকারের এত কি আছে?
নিত্যই করে যান;
আপনার পেট আছে
আছে ক্ষুধা, খাদ্য খান
আপনার ঘরের ঐ বান্দিটারও তো ক্ষুধা লাগে
মোচড়ায় পেটের ভেতর
আঁচড়ায় ক্ষুধার নখর
একবারও কি চিন্তায় আসে?
তার কথা কেন ভুলে যান?
আপনারা ভাত খান, সে কি পাথর খায়?
পেট ভরলে আপনি না হয় নরম ম্যট্রেসে ঘুমান
সে মাটিতে শুয়েই ঘুম যায়
যদি পেটে পড়ে সেদ্ধ একমুঠ চাল
আপনার মাটির শরীর রক্তে মাংসে গড়া
তারও তো হাত কাটলে রক্ত বের হয় লাল;
আপনার দেহে যতগুলো ভাঁজ
তারও কিন্তু আছে সম পরিমাণ
আপনার আছে
লোভ
কাম
ক্রোধ
ক্ষমতা আছে আপনার মেটানোর সে সব বোধ;
তার নেই?
আছে, শুধু মেটানোর ক্ষমতা নেই।

আপনি না হয় স্বামী সোহাগী
ওম নেন বুকের ভেতর ঢুকে
সাহস থাকে তো ভালোমানুষ স্বামীটারে
রাতের অন্ধকারে,
একবার সুযোগ দিয়ে দেখেন দেখি!
কত দেখলাম ভদ্দরনোক!!!

লাইটের আলোতে আপনি না হয় দেখতে সাদাই হলেন একটু
সাহস থাকে তো লাইট নিভিয়ে দেখুন তো পরখ করে
তার আর আপনার মাঝে পার্থক্য কতটুকু?
শরীরের ভাঁজে
দেহের খাঁজে
অনুভূতিতে
ক্ষুধায়
যন্ত্রণায়
কামে
ও ক্রোধে;
ভেবেছেন কি একবার?
আসে কি বোধে?
তবে এত অহংকার কেন গো আপনার
হে বিবি সাহেবান।




বুধবার, ১১ জুন, ২০১৪

অশ্রুকন্যা


অশ্রুকন্যা
- যাযাবর জীবন

কালো দুচোখ দেখেছি ভাসাভাসা
পড়তে পারিনি তাঁর চোখের ভাষা
চুপ করে থেকেও যেন কবিতা বলে
কথায় কথায় হেসে ফেলে
কান্নার ফোঁটা চোখে টলটলে
যেন টুপ করে এই ঝরে পড়লো বলে!

অশ্রুকন্যা তোরে বানিয়েছেন অনেক যত্ন করে
হাত পাতি না হৃদয় পাতি
অশ্রু কোথায় ধরে রাখি?
ওপরওয়ালা এতটা ক্ষমতা দেয়নি মোরে।

প্রেমের কাকভোর



প্রেমের কাকভোর
- যাযাবর জীবন

জাগিয়ে দিলি আমায় সেই কাকভোরে
স্বপ্ন-ঘুমে কাকঠুকরে
নাইতে এলেম দুজন মিলে
কাকচক্ষু পুকুর-জলে;
এমা ছি ছি
কাকগুলো কি নির্লজ্জরে!
আরে আরে!!
দেখছে মোদের জলকেলি দুচোখ মেলে
কাকা রবে কান ঝালাপালা।

প্রেমিকের আবার লজ্জা আছে নাকি?


স্বপ্নে তুই


স্বপ্নে তুই
- যাযাবর জীবন

চায়ের কাপে টুংটাং
চামচে চিনি খানিক
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি
কাপে আলসে চুমুক
অনুভবে তোর ঠোঁট
বড্ড মিষ্টি।

অনুভবে তুই
বিহ্বল হয়ে রই
স্পর্শে তুই
হাত বাড়িয়ে একটু ছুঁই;
এই যাহ্‌
দমকা হাওয়াতে
উড়িয়ে নিলো তোকে
উড়ে গেল স্বপ্ন
চলে গেলি তুই।

তুই বড্ড জ্বালাতন করিস স্বপ্নে এসে
চোখ খুললেই মিলিয়ে যাস পরীর দেশে।


রবিবার, ৮ জুন, ২০১৪

দাবার ঘুঁটি


দাবার ঘুঁটি
- যাযাবর জীবন

দাবার ঘুঁটি আমরা সবাই
খেলে অন্য কেও
বসে অন্য কোথাও;
শতরঞ্জির খেলায় এক ঘর হাঁটে রাজা কুঁড়ে
মন্ত্রী লাফায় বিপুল বেগে তাঁর চারিদিক জুড়ে
ঘোড়ার লাফ আড়াই ঘরে
রাস্তা কাটে হাতি পেঁচিয়ে শুরে
পাল তোলে নৌকা ওপর নীচে
এক পা, এক পা করে বাড়ে বড়ে
শতরঞ্জির পুরোটা মাঠ জুড়ে,
দাবার ঘুঁটি শতরঞ্জিতে সেজে বসে
খেলে অন্য কেও, অন্য কোথাও বসে।

শতরঞ্জির খেলার মাঠ
সাজ সাজ রব রণের মাঠ
খেলা শেষে সৈন্য সামন্ত রাজা মন্ত্রী
দাবার বাক্সে একসাথে মিলে সবাই বন্দি;

জীবন খেলায় আমরা সবাই দাবার ঘুঁটি
শতরঞ্জির মাঠে সবাই মিলে সেজে বসি
খেলে অন্য কেও, অন্য কোথাও বসে
বড়ে'র ঘোড়ার লাফ দেখে কুটিকুটি হয় হেসে;

রাজার সাথে দাবার বাক্সে পাশাপাশি শোয় বড়ে
মরার পরে সকল দেহ মাটি হবে, মাটির ঘরে।

মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০১৪

চরকা

চরকা
- যাযাবর জীবন

আমার চালে বৃষ্টি
ঘরে হাঁটু পানি
আমার ছাঁদে সূর্য
রৌদ্দুর অনেকখানি।

মাথার ওপর ছাঁদ থাকে ক'জনার?

আমার তো তাও চাল রয়েছে
না হয় থাকলোই বা কিছু ফুটো,
চাঁদনি রাতে জ্যোৎস্না স্নান
অন্ধকার রাতে তারা গোনা;
যখন তখন আকাশের সাথে কথা বলা
তোর মন টাটায়, আমার উপরি পাওনা।

তুই তোর চালুনির দিকে নজর দে।