শুক্রবার, ২০ জুন, ২০১৪

সত্যের দিশা



সত্যের দিশা
- যাযাবর জীবন

মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়
মাছ পচানো হয় শুকিয়ে খায়
পচা মাছ মাটি চাপা দুর্গন্ধ এড়াতে
শুঁটকির কদর অনেক বেশি রসনা মেটাতে
পচে যাওয়া আর পচানোর মাঝে পার্থক্য কোথায়?
কোনটা সত্য?
পচে যাওয়া না পচানো?
কে জবাব দেবে?

মন নষ্ট হয় বয়সের ভারে, মরে যায় ধীরে ধীরে
মন নষ্ট করে দেয় মানুষের ব্যবহারে
নষ্ট মন নিয়ে নষ্ট কষ্টে জীবন, ধুঁকে ধুঁকে চলে
নষ্ট করে দেয়া মনে ঘৃণা, বিতৃষ্ণা আর প্রতিহিংসা জ্বলে
নষ্ট হয়ে যাওয়া আর জোর করে নষ্ট করে দেয়ার মাঝে পার্থক্য কোথায়?
কোনটা সত্য?
নষ্ট হওয়া না করা?
কে জবাব দেবে?

মনের গহীনে উঁকি দিলেই কি
জবাব পাওয়া যাবে?
নাকি সত্যের শেকড়
জীবনের আরো অনেক গভীরে।

ধ্রুব সত্য বলে কি কিছু আছে?
নাকি সবই কথার খেলা, কথার মারপ্যাঁচ
জীবনে সত্য বলে যদি কিছু থাকে
মাটির দেহ মাটিতেই যাবে
কিংবা পুড়ে ছাই হবে
সত্য, সত্যের দিশা খুঁজে নেবে।


বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০১৪

চক্র


চক্র
- যাযাবর জীবন

জানালার শিক ধরে নেমে আসে রাত
জানালার শিক বেয়ে উড়ে যায় দিন
সুখ দুঃখ
হাসি কান্না
প্রেম প্রীতি
ভালোবাসা ঘৃণা
আলো অন্ধকার
দিন আর রাত্র
ক্রমাগত, জীবনের চক্র;
আমরা ঘুরছি,
আমি
তুমি
সে
ঘুরছে পৃথিবী
জীবন চলছে অন্তহীন পথে।

অতঃপর ব্যথাগুলো এক এক করে মিলিয়ে যাবে
অতঃপর সব গান থেমে যাবে,
তারপর চুপচাপ;
অতঃপর মাটিতে মাটি ঘুমুবে,
পরম শান্তিতে;
অতঃপর স্তব্ধ চারিধার
অন্ধকার শুধুই আমার;
ছুটে চলবে তুমি
দৌড়বে সে
ছুটে চলা জীবনের,
অন্তহীন পথে।

পৃথিবীর ছুটে চলা সদর্পে
বিরামহীন পথে
নিয়মমাফিক তাঁরারা ঝরে পড়বে কিছু
আকাশ হতে
জানা আছে সবারই,
কে কার কথা মনে রাখে?
তবুও কিছু শূন্যতার অনুভব
হয়তো রয়ে যায় কোথাও
কিংবা ভালোবাসার;
অতঃপর গতিই জীবন
অন্তহীন পথে।


ভালোবাসার ঘর


ভালোবাসার ঘর
- যাযাবর জীবন


রাত্রি দেখেছ?
অন্ধকার কালো।

মনের গভীরে ডুব দেও
ওখানে ঘন অমাবস্যা
সূর্য খুঁজছ কেন?

ভালোবাসা খুঁজতে এসো না,
হেমলক থেকে অনেক বিষ বয়ে এনেছি;
নীলাম্বরী হবার এত সাধ কেন?

নীল চেন কি? হে নারী,
বিষ?
আমায় ছুঁয়ে যাও একবার
অতঃপর নীল হও
তারপর চির অন্ধকার
সাধের ভালোবাসার ঘর।

শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০১৪

এলোমেলো টুকরো কথা - ১



এলোমেলো টুকরো কথা - ১
- যাযাবর জীবন

***********
বোধের এপারে আমি
ওপারে তুই
মাঝে অভিমানের ভাঙ্গা সাঁকো
দু-পারে দুজন অপেক্ষায়
ভালোবাসার বোধ নিয়ে মাথায়
সাঁকো পাড় হওয়া হয় না কারো............

*************

দমকা বাতাস এসেছিল একবার
গা পোড়ানো কিংবা লিলুয়া
বয়ে গেছে গা বেয়ে
ভালো করে বোঝার আগেই
দমকা বাতাস এলোমেলো করে দেয়
বোঝার আগেই।

জীবনের কোন এক মোড়ে
নারী এসে পড়েছিল বুকে এক, ঝড়ের তোড়ে
হাস্যমুখি কিংবা লাস্যময়ী
হারিয়ে গিয়েছিল আবার বুঝে ওঠার আগেই
ঝড়ো প্রেম বড্ড এলোমেলো করে দেয়
বোঝার আগেই।

**********************

কাল রাত্রে এসেছিলি
খুব চুপিচুপি;
ঘুমবালিশটায় পড়ে আছে
তোর কিছু চুল
লেপ্টে আছে এখনো কিছু ওম
রাতের আঁধারে যা দিয়েছিলি;
চোখ মেলে দেখি তুই নেই
স্বপ্ন ভাঙ্গা ঘুম চোখে
তোর গায়ের গন্ধ বড্ড লাগে নাকে,
এদিক ওদিক তোকে খুঁজি
আবার চোখ বুজি;
এরচেয়ে স্বপ্নজগৎ ঢের ভালো ছিল
অনুভবে তো তুই ছিলি।

********************


মানুষ কষ্ট পায়
মানুষ আঘাত সয়
পাথর নয়

আমায় কষ্ট দেবে কে?


*************

হাত আর তালুর মাঝের দূরত্ব কতখানি?
হৃদয় থেকে হৃদয়ের দূরত্ব - অসীম
তোর আর আমার;
ছোঁয়া আর স্পর্শের অনুভবের পার্থক্য কতখানি?
চাওয়া আর পাওয়ার মাঝের ব্যবধান - ইনফিনিটি
তোর আর আমার;
ভালোবেসে জড়িয়ে আছি দুজনে অঙ্গাঙ্গী, অনুভবে
অথচ এক হওয়া হলো না
তোর আর আমার; - "নিয়তি"।

*******************

রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে
কিছু না বলা ব্যথা;

চাঁদের কি দায় পড়েছে ব্যথাগুলো ঢেকে রাখার?

চন্দ্রাহত মানুষ স্থাণু দাঁড়িয়ে রয়
জ্যোৎস্নার রাতে,
ব্যথাগুলো লজ্জায় আরক্ত
খোলা চাঁদের আলোয়;

ব্যথারও তো মাঝে মাঝে মুখ লুকোতে ইচ্ছে করে
ঘন অন্ধকারে।

***************

অর্থের থেকে বড় শত্রু আর আছে কে?
প্রয়োজন ফুরোলেই ভুলে যায় মানুষ
কর্জ নিয়েছে সে;
পাওনাদার কখনো মনে করিয়ে দিলে
সম্পর্কের ইতি টেনে দিয়ে
তুমি কে হে?

***************

অল্প কাজ, মন দিয়ে
স্বল্পাহার, সময় নিয়ে
অল্প কথা, ওজন মত
স্বল্প বুদ্ধি, দূরে থাক
একটি প্রেম, সততা নিয়ে
একটি তুই, হৃদয় দিয়ে.........

*************

কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছে
আজো মুখভার আকাশের
আসুক বৃষ্টি ঝেঁপে
আমিও দেখে নেব
কতটা নোনাজল আছে তার বুকে;
চেখে দেখার সাহস কি আছে তোর?

এ কেমন ক্ষরণ?
জলের স্বাদে নুন-লবন।

**************

মুঠো খুললেই মুঠো মুঠো ফাঁকা
হৃদয় খুললে তুই আর তুই
চোখ খুললেই একদম একা

*************

কাটফাটা দুপুরে ডাবের গায়ে আগুন
দামটাকে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করা গেলে
না হয় একটু ডাব বিলাসই হলো;
"বৃষ্টি বিলাস"?
কল্পনাতেই রয়ে গেলো।

****************

সিঁড়ি -
ওপরে ওঠার
না পতনের
জানি না
জানতে ইচ্ছেও করে না
কি হবে এত জেনে?

**************

পানপাত্র আমার হাতে নেই
নেই পানীয়
জল ঢালে কে?
ভালোবাসার মানুষটি অনেক দূরে
কিছু অনুভব আছে ঘিরে
অপাত্রে ভালোবাসা ঢালে কে?

আছে আকণ্ঠ তৃষ্ণা
পানের কিংবা ভালোবাসার।
***************

যতই সরাতে চাই
ততই জড়িয়ে যাই
জালে
কিংবা তোতে।

**********


দুপুরে আকাশে চাঁদ
জ্যোৎস্নার তাপদহ
প্রখর সূর্যালোকে ঠান্ডা হবে প্রকৃতি;
তোকে আর আমাকে
এক করে দেবার
বৈশাখী ঝড়ের সাধ্য আছে কি?

আজ তোর বৈশাখ
আমার বারোমাস চৈত্র সংক্রান্তি।

************

আগুন সুন্দরী ফাগুনেই মানায়
পলাশে কিংবা কৃষ্ণচূড়ায় ছড়ায় লাল
আমার চোখে শিমূলের কাঁটা;
সূর্য সুন্দরী আলো ছড়ায়
তীব্র আলো চোখ ধাঁধায়
কালো চশমায় আমার চোখ ঢাকা।

তুই আরেকটু কম সুন্দরী হলে
হয়তো আমাদের মাঝে প্রেম হতো।

*****************

প্রেমের উৎপত্তি মনে
পরিণতি শরীরে
মৃত্যু হৃদয়ে;

সীমাবদ্ধতা
দেহের
মনের
না প্রেমের?

***********

আমার যদি সত্যি সত্যি একটি হৃদয় থাকতো
তবে তোর হাসিতে কবেই তা গলে যেত;

পচা গলা হৃদয় বয়ে বেড়ানো থেকে
হৃদয়হীন হয়ে থাকাটা খুব একটা মন্দ নয়।

*****************

অনেক রঙের পেন্সিল হাতে বসে থাকি
অনেক রঙ এর ভাবনা
কবিতাগুলো সাদা আর কালো কেন
ভেবে পাই না।

****************

সবার চোখ থাকে ভরা গ্লাসের দিকে
তুই খালিটাই দেখলি?

ঋণাত্মক ভালোবাসা
তোর সাথেই যায়।

************





বৈশাখ ৭ ৫ ৫


বৈশাখ ৭ ৫ ৫
- যাযাবর জীবন

.........

হাওয়া খুব জোর
পাতা উড়ছে
বৈশাখী ঝড়

.........

মেঘের গুরু ডাক
আকাশে বজ্র
ঝরছে জল

.........

কোথাও তুই নেই
একলা ছাঁদ
মন উদাস

.........

আজ চৈত্রের রাত
রবি উঠবে
কাল বৈশাখ

.........

(৭, ৫, ৫)



ঘুমের নেশা



ঘুমের নেশা
- যাযাবর জীবন

অন্ধকারে পুড়ে গেছে জ্যোৎস্না
রাত পুড়ে হয়েছে নিষক কালো
ঘুম পোড়া ছাই উড়ছে রাত ভর
স্বপ্ন ধরবে বলে বইছে বাতাস
আলোর বাতি সব আঁধারে ডুবিয়ে
আগুন নিভিয়ে দিয়েছি খুব সযতনে
যদি অমাবস্যাটাও পুড়ে যায়
তবে আমার রইবে কে?

স্বপ্নগুলো এখন আর বসে না দুচোখে এসে
চোখ জ্বলে ছাই হয় রাত গভীর হতে
সূর্য জাগে রাতের বেলায় আমার দুচোখে
ঘুমাই নি সেও তো কতদিন হয়ে গেছে!

আমার আজ বড্ড ঘুমের নেশায় পেয়েছে
সূর্যের বাতিটা কেও নিভিয়ে দিয়ে যাও।



ভুল বারে বার


ভুল বারে বার
- যাযাবর জীবন

ভুল হয়েই যায়
কোথাও না কোথাও
জানতে বা অজান্তে
মানুষ বলে কথা!
প্রায়শ্চিত্ত করে শুধরে নেয় নিজেকে
মানুষ তাকেই বলে।

একই ভুল বার বার করে
ভুল কি আর তাকে বলে?
সে যে পাপ হয়ে যায়
মূর্খ মানবের বোঝার সাধ্য কোথায়।

কিছু মানুষ পাপ করে
ইচ্ছে করে
কি এসে যায় ভাব ধরে
ধুরন্ধর মানুষগুলো
দাম্ভিকতার ভরে
অমানুষ তারে বলে।