শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

আমিও মানুষ


আমিও মানুষ
- যাযাবর জীবন

ষড়রিপুর কবল থেকে বের হয়েছে কবে, কে?
মানুষ না বলে তাকে দেবতা বলে;
বাইরে দেখি চোখ ঝলসে যাওয়া আলো
মনের ঘরেই তো আছে অন্ধকার কালো
সেখানে ঘুমিয়ে থাকে
কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ ও মাৎসর্য
যখনি রিপুর জোয়ার আসে রাতের অন্ধকারে
যা কিছু সামনে পায় মুখে পুরে
সাপের ছোবলে টুক করে
তারপর আবার নিপাট ভালোমানুষ
কদিন রিপুর খাদ্যে জাবর কাটে
আবার থাবা মেলে খিদে পেলে
ক্রমাগত
মানুষ বলে কথা!

খুব মাঝে মাঝে নিজের ভেতর তাকাই
নিজেই চমকে যাই
রিপু এসে মাথা কুটে আমার চৌকাঠে
দরজা খুলে স্বাগত জানাই
রিপুর কবলে সঁপে দেই নিজেকে
মহানন্দে ভূরিভোজন রিপুর খাদ্যে
তারপর নিপাট ভালোমানুষটি সেজে
আবার কেওর দেই মনের ঘরে;
আরে আরে
দ্বিচারিণী শ্বাপদ দেখি আমারই ভেতরে।






বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৪

সিঁড়ি



সিঁড়ি
- যাযাবর জীবন

সিঁড়িটা ওপর থেকে নীচে নেমে গেছে
কিংবা নীচ থেকে ওপরে উঠে গেছে
কেও ওপর থেকে দেখে
কেও নীচে দাঁড়িয়ে
দুজনাই যার যার জায়গায় ঠিক
সিঁড়ি সিঁড়ির জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে স্থবির।


উল্টোরথ


উল্টোরথ
- যাযাবর জীবন

আমি উত্তরে বলি, দখিনা বাতাস বয় তোর কানে
আমি পূবে চলি তোর কদম বাড়ানো পশ্চিমে
আমি যা বলি তুই তা বুঝিস না
তুই যা শুনতে চাস আমি তা জানি না
শুরু থেকেই শুরু হয়েছিল ভুল বুঝাবুঝির খেলা
ভালোবাসা গাছের সাথে হয় না
অশ্রুধারা পাথরে দাগ কাটে না;
চল উল্টোরথে চেপে বসি
তুই
আমি
দুজনেই
আলাদা হয়ে
পূর্ব ,পশ্চিম ,উত্তর ,দক্ষিণ,ঈশান ,বায়ু,অগ্নি, নৈঋৎ, ঊর্ধ্ব, অধঃ
একবার যাত্রা শুরু করলে কোথাও তো যাব!

ক্রমাগত ভুল বুঝার চেয়ে
কিছু না বুঝে দূরে সরে যাওয়া, ঢের ভালো;
প্রথম প্রথম ক্ষরণ হবে হয়তো
সময়ে সয়ে যাবে
তোর
আমার
দুজনারই,
হাঁড়িকুঁড়ি তো বেঁচে যাবে
কিংবা কানের পর্দা
সেই ভালো, সেই ভালো।




বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০১৪

দুরকম ভালোবাসা


দুরকম ভালোবাসা
- যাযাবর জীবন

দুজনের বাস দু-ভুবনে
দুজন জীবনের দুরকম ছবি আঁকে
দুজন দুরকম স্বপ্ন দেখে
দুজন দুভাবে ভালোবাসে
কেও কাওকে পায় না ছুঁতে
তবুও দুজন একরাশ ভালোবাসা বুকে বাঁচে
পরস্পরের তরে
হৃদয়ের অনেক গভীরে;

আকাশ আর মাটি একে অপরকে টেনে রাখে
তবুও কেও কারো পারে না হতে
অনেক দূরে তারা এক সাথে মিশে
ঠিক রেললাইনের পাতের মত;
কোথাও না কোথাও ব্যবধান রয়েই যায়
আকাশ আর মাটিতে
রেলের দুটি পাতে
জীবনের পথে
দুজনের স্বপ্নে
কিংবা ভালোবাসায়।

কালের স্রোত


কালের স্রোত
- যাযাবর জীবন

সময়ের নৌকা
কি দ্রুতবেগেই না পারি দেয় জীবন সমুদ্র
চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই;
এইতো সেদিন মায়ের কোলে
তারপর হামাগুড়ি
বায়নার শিশুকালটা চোখের নিমিষে
কোথা দিয়ে দিলেম পাড়ি
লাটিম ঘুরতে না ঘুরতেই
কৈশোরের দাড়িগোঁফের ভিড়ে হারিয়ে গেল ছেলেবেলা;
জানা ছিল না প্রেম কাকে বলে
তবুও কি এক ভালোলাগার অনুভূতি তাকে দেখতেই
কৈশোরকে ল্যং মেরে তারুণ্য এগিয়ে গেলো
নারী যেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো;
বারে বারে প্রেমের দুধবমিতে অস্থির যৌবনের পদার্পণ
থিতানো ভালোবাসায় থিতু হলো যৌবন।

ষাঁড়ের শিঙে রঙ মেখে সং সেজে শুরু হলো সংসার
চাকুরীর জোয়ালের ওপরে, উপরি বৌ এর জোয়াল
নুন আনতে পান্তা ফুঁড়োয় সকাল বিকেল
কাচ্চাবাচ্চা ট্যাঁ টো
কোথা দিয়ে সময় উড়ে গেলো
দেখতে না দেখতে প্রৌঢ়ত্ব
আল্লাহ্‌ বিল্লাহ তসবি হাতে
সংসার তখন অনেক বড়
ছেলে মেয়ের বিবাহ
কত ব্যস্ততা, কত খুশি, কত আয়োজন
প্রথম নাতি হওয়ার দিনটির কথা ভুলতে পারে কজন?
চোখের পলক ফেলার আগেই
প্রৌঢ়ত্বের দোরগোরে বার্ধক্যের কড়া নাড়া
সময়কে কি বেঁধে রাখা যায়?
দিতে হয়েছিল সাড়া।

তারপর যেন সব এলোমেলো
আষ্টেপৃষ্ঠে জীবনকে জড়িয়ে বুড়িটা বেশ তো ছিল
জীবন থেকে কেমন জানি হঠাত করেই বিদায় নিলো
কাওকে কিছু না বলেই না ফেরার দেশে চলে গেলো;
অনেক অনেক দিনের পুরনো অভ্যেস বসে
রাতে ঘুমের ঘোরে হাত ছড়িয়ে দেই পাশে
খুব ফাঁকা লাগে
যেন বুকের কোথায় কি একটা নেই হয়ে গেছে
বড্ড একলা লাগে।

সময় পিছলে নামে সময়ের ফাঁকে
ছেলেমেয়ে কেমন দূরে সরে থাকে
বুড়োটাকে আর কাহাতক সহ্য হয়?
বৌমার ইদানীং বড্ড কষ্ট হয়
নাতি নাতনীদের ঘরের বড় টান
তিনটে মাত্র ঘরে এতগুলো মানুষের অবস্থান
বুঝি, হয়না আর জায়গার সংকুলান।

তার পরের কিছু কথা না হয় থাক অজানা
আমার এখন অনেক বন্ধু, সবার চেনা ঠিকানা
বড় সংসারে অনেক বড় বাড়ি, পারি নি আমি দিতে
বড্ড ইচ্ছে করে আমার বুড়ির কাছে যেতে
এখন যেন সময় কাটে না আর অপেক্ষার দিনগুনে
বড্ড আরামে ছেলে আমায় রেখেছে বৃদ্ধাশ্রমে।



https://www.youtube.com/watch?v=Ya8MkAV71eg


ভাঙন



ভাঙন
- যাযাবর জীবন

আয়না ভাঙে
ঝরে পরে টুকরো হয়ে
আয়নাতে মায়া
সাজায় টুকরো কুড়িয়ে;
টুকরোতে মুখ দেখে
টুকরোরে স্বপ্ন
আবার ভাঙে টুকরো হয়ে
ঝরে পড়ে অবিরত
ক্রমান্বয়
আবার টুকরো হয়
আবার সাজায় কুড়িয়ে;
একসময় টুকরো গুড়ো গুড়ো হয়
প্রেম গুড়ো গুড়ো সেদিন হয়, নিশ্চয়
গুড়ো দর্পণে হৃদয় কাটে হয়তো
রক্ত ঝরে কি?

ভাঙা আয়না হাতে বসে আছি।

ভালোবাসার ধরণ



ভালোবাসার ধরণ
- যাযাবর জীবন

প্রেমের উৎস কোথায়?
মনে?
মন কোথায়?
মস্তিষ্কে, না হৃদয়ে?
মস্তিষ্কে তো হলুদ পদার্থ, লজিক বোঝে
মন বুঝবে কি করে?
তবে, হৃদয়ে?
সেখানে তো অন্ধ অলিগলি
ধুকপুক রক্ত সঞ্চালন
লাল লাল ক্ষরণ;
আরে, প্রেম মানেই তো ক্ষরণ।
লজিক বলে হলো না,
দেহের ভেতর অনুভূতি নামক
অণু পরমাণুর সঞ্চালন
ছোঁয়াছুঁয়িতে ইলেক্ট্রিসিটি প্রবাহ
শরীর গরম
কামে উল্লাস, ভালোবাসার প্রকাশ;
আরে, আরে তাই তো?
কে বলে প্রেম মনের ভেতর!
মনেতে প্রেম দেহতে প্রকাশ
ভালোবাসার অনুভূতি
আদতে সবটাই শরীর নির্ভর।

চোখের দেখা, ভালোলাগা
স্পর্শে ছোঁয়া, কাছে আসা
উত্তপ্ত দেহ উত্তেজনা চরম
কামে ঠাণ্ডা অথবা মেজাজ গরম
ভালোবাসার আঠা ধরে রাখে
অথবা প্রেম গলে দুজন দুদিকে।