শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৫

ডাস্টবিন



ডাস্টবিন
- যাযাবর জীবন

ওহে,
দাঁড়াও না একটু
এখনই চললে কোথায়?
ব্যবহার কি শেষ হয়েছে এবারকার মত?
আরে, আরে!
ব্যবহার কি শেষ হয় একবারে?
আবার তো আসতেই হবে তোমাদের
নানা নিমিত্তে ব্যবহারে!
বারে বারে, বারে বারে।

খেলার পুতুল ভেবে খেলতে আসে রাজনীতিবিদরা
ভোট ব্যবসায়ীরা আসে ঝুলি ভরতে কিংবা ফেলতে
স্বার্থান্বেষীরা স্বার্থ উদ্ধারে
লোভী কিছু মানুষ লোভের পিক ফেলে;
কোন একটা তো জায়গা লাগবে!
ময়লা ফেলার কিংবা ঘেঁটে কুড়ানোর।
যখন কোন কিছুই না লাগে
তখন এক চিপটি পানের পিক
আর না হয় দুটো গালি হলেও ফেলে যাও তোমরা;
আমি আম জনতা!
আমিই তোমাদের ডাস্টবিন।
পার্থক্য আছে কি কোথাও?
নিমিত্তে ব্যবহারে
আম জনতাকে
কিংবা ডাস্টবিন
আর না হয় আমা'রে?

ওহে!
দাঁড়াও একটু;
এক চিপটি পিক ফেলে যাও।
আবার না হয় রঙ করে দিও নতুন করে
ভোটের আগে
স্বার্থ উদ্ধারের কালে
যখন যার যেভাবে
কাজে লাগে।


বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৫

আমার বাবা:


আমার বাবা:



পিতা মাত্রই সন্তানের জীবনে একটি বটগাছ। মাথার ওপরকার ছায়া হঠাৎ করে সরে গেলে তবেই বোঝা যায় কি নিশ্চিন্ত নির্ভাবনায় এতটা কাল কাটিয়েছি বিশাল এক মহীরুহের নীচে।

আমার বাবা গত ৫ই জানুয়ারি, ২০১৫ (বিকেল ৪.৪০মিনিটে) আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, না ফেরার দেশে ("ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" - 'নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাব')।

সারাজীবন উনি আমাদের শুধু দিয়েই গিয়েছেন। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাটুকু ছাড়া কারো কাছ থেকে অন্য কিছুই নেন নি তিনি। মৃত্যুর সময় সাথে করে গেলেন শুধুমাত্র নিজের সারাজীবনের সঞ্চয় - দু হাত উপচানো নেক আমলনামা ।

বই পুস্তকে সবাই পড়ে থাকে নির্মোহ, নির্লোভ মানুষের কথা; আমার অনেক সৌভাগ্য যে জন্ম থেকে এই অব্দি এতটা জীবন কাটিয়েছি রিপু-জয়ী একজন মানুষের ছায়ার তলে - “তিনি আমার বাবা”।

অনেক বড় সৌভাগ্যবান না হলে এমন বাবার সন্তান হওয়া খুব কম মানুষের ভাগ্যেই জোটে। আমি গর্বিত, আমি সৌভাগ্যবান।
বাবা, খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে তুমি। তোমার অভাব পূরণ হবার নয়।

"মিনহা খালাকনাকুম,
ওয়া ফিহা নুয়িদিকুম,
ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম
তা-রাতান উখরা।"
অর্থ: "এই মাটি থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, এখানে তোমাদের ফিরে আসতে হবে, এবং এখান থেকেই আরও একবার তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।"
তোমার সাড়ে তিন হাত ছোট্ট ঘর পরিণত হোক বেহেস্তের বাগানে। শেষ পুনরুত্থানের আগ পর্যন্ত তুমি ঘুমাও শান্তিতে – আমীন।

হঠাৎ করে আসা শোকে কিংকর্তব্যবিমুর অবস্থায় অনেককেই জানাজার সংবাদ জানাতে পারি নাই, কাছের এবং দূরের সকলের কাছে এ জন্য ক্ষমা-প্রার্থী।
আমার বাবার জন্য আপনাদের সকলের কাছে দোয়া-প্রার্থী।

***************************************

একটা গাছ ছিল
বিশাল
মহীরুহ
দিগন্ত বিস্তৃত,
বটগাছের জন্মই ছায়া দেবার জন্য;
পাখ পাখালির আশ্রয়স্থল
জীব জগতের মাথার ওপরকার ছাদ
ঝড় ঝঞ্ঝা রোদ খরা
বৃষ্টি বজ্রপাত
আরও কত বালা
সকল মুসিবত নিজের মাথায় নিয়ে
স্থির, অবিচল বটবৃক্ষ মাথার ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে;
আমরা জীবন কাটাই নিশ্চিন্ত নির্ভাবনায়
মাথার ওপর আছে ছাদ।

হঠাৎ করেই দমকা ঝড় আসে
কেও কিছু বোঝার আগেই বটবৃক্ষ তার শেকড় উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়
অন্য এক ভুবনে,
না ফেরার দেশে;
মাথার ওপরকার ছাদটা সরে গেলে বড্ড অসহায় লাগে,
যার গেছে সেই বোঝে।

ঝড় ঝঞ্ঝা রোদ বৃষ্টি খরা
দুর্যোগ বালা মুসিবতে ভুবন ভরা;
এ সব কিছুই সইতে হবে এখন থেকে আমাদেরই,
মাথা পেতে।


***************************************


শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৫

হয়তো অন্ধকার



হয়তো অন্ধকার
- যাযাবর জীবন

কোন এক সবুজ সন্ধ্যায়
হয়তো আবার আমি অবুঝ হব
ঘরে ফেরা পাখিগুলোর দিকে চেয়ে
হয়তো তোতে মন হারাবো
হয়তো সেদিন তোর পথ চেয়ে পথ হাঁটব
হয়তো সেদিন খোলা চোখে স্বপ্ন আঁকব
হয়তো নতুন করে তোকে আবার ভালোবাসবো
আবার
আরেকটি বার
হয়তো সেদিন;
কোন এক
সবুজ
সোনালী
কিংবা
কোন হরিণ সন্ধ্যায়;
সেদিনও না হয় আবার আমাকে ফিরিয়ে দিস
ঠিক আজকের মত করে,
মনটাকে আবার না হয় পোড়াব সেদিন
ওড়াব ছাই কাকের ডানায়;
ভালোবাসা কি রাত্রি না অন্ধকার?

আকাশে ফিনিক ফোঁটা জ্যোৎস্নার ফুলঝুরি
তবুও আজকের রাতটা বড্ড বেশী কালো
চাঁদের সাথে সাথে মন পুড়েছে কোথাও
স্বপ্নগুলো পুড়ে অন্ধ হয়েছে আলো;
চোখটা এত ঝাপসা লাগে কেন?

ভালোবাসা কি তবে জীবিতদের কবর?


শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৫

শব্দ নিয়ে খেলা


শব্দ নিয়ে খেলা
- যাযাবর জীবন

শব্দ নিয়ে খেলতে খেলতে
কখন জানি মনের অজান্তে
মন নিয়ে খেলা শুরু করেছিলাম;
এখন কবিতা পুড়ছি দহনে।

রোদ-মগ্ন পাখির ঠোঁটে সূর্য পোড়ে,
পুড়ে যাক রোদ
পাখির কি এসে যায়?
ধ্যানমগ্ন বক ঘিরে মাছ ঘোরে,
ঘোরে ঝিনুক বুকে মুক্তোদানা
নির্লিপ্ত বকের কি এসে যায়?
প্রহরের সাথে সাথে রঙ বদলায় রোদ,
ছাতা থেকে কালো রঙ চুইয়ে
মনকালো করেছে আমায়।

রোদ পুড়ে যাক পাখির ডানায়
বৃষ্টি নামুক কদম বনে
জ্যোৎস্না পুড়ুক জোনাক আলোয়
দহনে ভালোবাসা সব জ্বলে যাক মনে;
তোর চিবুক ছুঁয়ে নেমেছে ভোরের রোদ
আজ তুই পূর্ণ নারী সকলের কামনার
অন্ধকারে পুড়ে পুড়ে আমি কালো হয়েছি
রাত্রির সাথে সখ্যতা আমার।

এখন শুধুই অন্ধকার মনে
অন্ধকার নিয়ে
অন্ধকার ঘিরে
কিছু অন্ধকারের গান,
আর কিছু অন্ধ শব্দ দিয়ে
খেলার চেষ্টা ঘন অন্ধকারে;
তোর কথা যে ভুলতে হবে
অবশ্যই আমারে।



ভয়



ভয়
- যাযাবর জীবন

সে অনেক অনেককাল আগে,
কোন একদিন
ছুটেছিলাম গোলাপ কুঞ্জে
ফুলের সুবাসে
রক্তাক্ত হাতে অবাক বোধোদয়
ফুলেও কাঁটা থাকে,
আজো ভালোবাসার ঘ্রাণে বড্ড ভয়
যদি হৃদয় আবার রক্তাক্ত হয়!

এখনো তোর কথা মনে হলেই
কাঁথার নিচে ভ্রূণ-কুণ্ডলী;
প্রেম আমার জন্য নয়।



বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৫

স্বীকারোক্তি



স্বীকারোক্তি
- যাযাবর জীবন

দোষ'কে ছুঁড়ে দিতে জুড়ি নেই কারো
ভেতরের দোষগুলো বেড়ে যায় আরও
কাঁদা ছোড়াছুড়ি খেলায় ওপরে ঢিল ছোড়ে
ভুলের কাঁদার ঢেলা নিজের মাথায় পরে
ভুলের স্বীকারে যত ভোগে হীনমন্যতায়
ভুলের ভোগে আরও ভুলগুলো যায়
সরল স্বীকারোক্তিতে না হয় কমলো কিছু মান
চিরতরে হবেই হবে সে ভুলের অবসান।




হৃদয় হীন


হৃদয় হীন
- যাযাবর জীবন

তিতলি ডানায় নানা দুঃখ ওড়ে
পাখির ডানায় কত কান্না ঝরে
ঘুঙুরে ঘুঙুরে নাচে প্রেমের ছন্দ
তবলায় ঘা দিতে থাকে মনের দ্বন্দ্ব
টুপ টাপ টুপ চোখের জল
অনেক বয়ে গেছে অশ্রু ঢল
ঠুক ঠাক ঠুক হৃদয়ে হাতুড়ি
ঘাটে ঘাটে অনেক দিয়েছে বাড়ি
মনের বাঁশরিতে আজ বিষের বীণ
শূন্য হতে হতে হয়েছি হৃদয় হীন;

মনাকাশে নানা রঙের মোহের মেঘ ভেসে রয়
বরফে হৃদয় ঘষে কি আর ভালোবাসা হয়?