সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

চুমুকাহন


চুমুকাহন
- যাযাবর জীবন

চুমুতে শুরু
চুমুতে আদর
চুমুতে ভালোবাসা
চুমুতে আকর্ষণ
চুমুতে বিহ্বলতা
চুমুতে কাম;
চুমুর সমাপ্তি কোথায়?

কেও অর্ধেক গ্লাস ভরা দেখে
কেও অর্ধেক খালি
তৃষ্ণা মিটে গেলে গ্লাসের প্রয়োজন ফুরোয়
কাম মিটে গেলে স্পর্শটাও কারো কাছে বিরক্তিকর
চুমুতে শুরু
সমাপ্তি বিচ্ছেদে।

ওহে প্রেমিকা, চুমু খাবে না?


রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

তোতে



তোতে
- যাযাবর জীবন

হৃদয়ের কাদাভেজা উঠোনে প্রেমের চিৎপটাং
হরহামেশাই,
হাতের উল্টোতালুতে চোখের লবণ চাটা
যখন তখন,
প্রেমের সূচনায়
উন্মত্ত আদর ঝড়ে উল্টানো ছাতা'তে মাছের ডিম ভাসে
বৃষ্টিতে কি যায় আসে?
কে বলেছে কামের সূত্রপাতে শুভদৃষ্টি হতেই হয়?
আগুনের পাশে বরফ থাকলে একটু তো কামভেজা হবেই,
কিংবা নারীর পাশে নর
আর আমার পাশে তুই থাকলে তো কথাই নেই,
ঠোঁটে ঠোঁট লাগানোতে তোর জুরি নেই;

সব ঠোঁটে কি আর চুমু খাওয়া যায়?
আমার শুধু তোকেই প্রয়োজন;
সেই প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত
মাখামাখি হতে
তোতে আর তোতে
ঘর্মাক্ত ভালোবাসায়।





জমিন


জমিন
- যাযাবর জীবন

জমি খালি পড়ে থাকে কতকাল?
কেও না কেও কখনো না কখনো দখল নিয়েই নেয়
জানতে বা অজান্তে
আপোষে বা জবর দখলে
সে মাটির জমিনই হোক আর মনের জমিন;
মাটির বুক চিরে শস্য ফলানো তো আর সহজ নয়
শুকনো জমিনে ধারালো ফলার কর্কশ আঁচড়ে ক্ষত ধরে
তারপর কত সেবা শুশ্রূষা
বীজ পানি সার
তবেই না অঙ্কুরোদগম
শস্যদানায় ভরপুর জমি নিজের দিকে গর্বিত নয়নে চায়
কার জমি কে ভোগ করে তাতে জমির কি আসে যায়?
কারো মনের জমিনে প্রেমের ফল্গুধারা বসন্তে বসন্তে ছায়
কারো মনে কাঠ ফাটা রৌদ্দুর ঘন বর্ষায়;
জমি খালি পড়ে থাকে কতকাল?

যন্ত্রণার কর্ষিত মনের জমিনে এখনো'তো শুধু "তুই"
মনের কপাট খুলে চাঁদনি রাতে তোকে ছুঁই
তারপর আবার অনাবাদী মনের হয়ে রই;
অমাবস্যা দেখতে হবে কতকাল?



শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

সময়-ঘড়ি


সময়-ঘড়ি

- যাযাবর জীবন

জীবনটা নদীর মত
বয়ে চলে
ক্ষণে জোয়ার ক্ষণে ভাটা
নদীর জলে;
সময়টা মুঠোর বালু
ঘড়ি টিক টিক চলে
যতই ধরতে যাই
সময় মুঠো গলে;

যদি সময়কে থমকে দেয়া যেত
কিংবা জীবনটাকে;
না হত বিগ-ব্যাং
না হত পৃথিবী
না থাকত সময়
না পেতাম জীবন;

অন্য ভুবনের জীবন কি পৃথিবীর মত?
ওখানেও কি সময়-ঘড়ি টিকটিক করে?
বড্ড জানতে ইচ্ছে করে।


শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

জয় পরাজয়


জয় পরাজয়
- যাযাবর জীবন

যখনই মাথায় জয়ের মুকুট
তখনই তোমাদের হাত তালি
বাহবার ফুলঝুরি;
অথচ মনের গভীরে
চোরা উঁকি দিতেই
রিপুর লকলকে কালো জিহ্বা
ওত পাতা লোভের ছোবল ফণা তোলা
বিষিয়ে দিতে তোমাদের সারা গায়
ক্ষণিকের কামের সুখের অসুখ মনেতে ছায়;
কতবার কতভাবে দুমড়ে মুচড়ে ছিনিয়ে এনেছি জয়
বিবেকের টুঁটি চেপে ধরে
জয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে
তোমাদের বাহবা পেতে
হাততালি পেতে কার না মন চায়?

তোমাদের পৃথিবীতে যতবার হয়েছে আমার জয়
রিপুর কাছে বারে বারে হয়েছে বিবেকের পরাজয় ।


ঋণাত্মক প্রেম



ঋণাত্মক প্রেম

- যাযাবর জীবন

কাপড়ের ওপরে সব সুন্দরী রমণী
ভেতরটা কারো সাদা তো কেও বহু-গামিনী
লকলকে রিপুর জিহ্বা সবারই পায়ে ঠেকে
পুরুষের বয়স; কে আর দেখে?
প্রেম প্রীতি ভালোবাসার মধুর বাণী
পুরুষের ছলা কলা, সবাই জানি
মেয়ে মানুষ! সব ধোয়া তুলসী পাতা
আড়াল লাগে তাদের, লাগে মাথার ওপর ছাতা;
প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা? ছলনার কথা
বিছানায় জড়াজড়ি, প্রেমের মোদ্দা কথা।





শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

প্রেম ইদানীং



প্রেম ইদানীং
- যাযাবর জীবন

হরেক রকম নারী হরেক রকম দেহে
নারী'তে ডুবন্ত পুরুষ প্রেমে কিংবা মোহে
কাপড়ের ওপরে সকলে রঙের ছটায় রঙিন
আদতে দেখতে প্রায় একই রকম কাপড় বিহীন;
প্রেমিকের চোখে প্রেমিকা শত রূপে রূপসী
সকল নারীই সুন্দরী, কম আর বেশী
আদতে নারী দেহ দেখতে সব একই
পার্থক্য স্বামী আর প্রেমিকের দৃষ্টিভঙ্গি;
কারো দেহ টানটান, কেও বা একটু স্থুলো
স্বামীর চোখে আটার বস্তা, প্রেমিকের চোখে তুলো
ওজনে কেও স্বল্প কেও বা একটু ভারী
নব্য প্রেমিকের স্পর্শ বড্ড আনাড়ি;
কেও হয়তো ফর্সা, কেও শ্যামলা কেও বা একটু কালো
স্বামীর চোখে অমাবস্যা, প্রেমিক দেখে জ্যোৎস্নালো
কেও স্বাস্থ্যের দিকে চিকন কেও গুরু নিতম্বিনী
স্বামীর মুখে নিমপাতা, প্রেমিকের মুখে চিনি;
তবুও প্রেম নিয়ে চারিদিকে মাতামাতি হুড়োহুড়ি
আদতে শরীরের দখল নিয়ে মারামারি কাড়াকাড়ি
এ যুগের প্রেমের পরিণতি বিছানায় গড়াগড়ি
কাপড়ের ওপরে প্রেমিকা, খুললেই হয়ে যায় নারী;
নারীর মাঝে কেও হয়তো একটু লম্বা কেও বা বেটে
কি এসে যায়? প্রেম যখন জড়াজড়ি খাটে।