শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

ভাত বন্ধ



ভাত বন্ধ
- যাযাবর জীবন


এক সময় বাবা-মায়ের সাথে রাগ
তো ভাত বন্ধ
এক সময় স্বামী-স্ত্রী মনোমালিন্য
তো ভাত বন্ধ

আপন জনের সাথে রাগ অভিমান
প্রয়োগ ভাতের থালায়,
কার জীবনে ভাত বন্ধ হয় নি, দু চার দশবার?

বাবা-মা রাগ ভাঙায় সন্তানের
স্বামী-স্ত্রী অভিমান ভাঙায় পরস্পরের,

বাবা-মায়ের মনোকষ্ট? কবে বুঝেছিল সন্তান?
কই শুনি নি তো? বাবা-মায়ের ভাত বন্ধ,
কি জানি? হবে হয়তো কোথাও কখনো
দু একটি ঘরের কোনায়
কালে ভদ্রে, কচিত কদাচিৎ;
আলো'তে আসে না কখনো।

কোন একটা সময় কেও থাকে না মনের কষ্ট ভাঙানোর,
পেটের ক্ষুধা টেনে নেয় ভাতের থালা;
চোখেই শুকায়, চোখের জল।








মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

প্রকৃতি ও তুই



প্রকৃতি ও তুই
- যাযাবর জীবন


আকাশটা নীলের সাগর
মেঘের নৌকো ভাসে
কোথাও সাদা কোথাও ধুসর
বৃষ্টির জন্য মন আনচান
কালো বৈঠাটা দেখলাম না কোথাও

চরের মাঠে ঘাসের মেঘ
দুলছে বাতাসে
কোথাও জলজ কোথাও সবুজ
প্রচুর শ্যাওলা বুকপুকুরে
মন আনচান ডুব দিতে

বুকের চাতালে কুলকুল নদী
নূপুর বাজায় জলে,
এর গভীরতা মেপেছে কে?
কোন এক সময় তুই ডুব দিয়েছিলি
সেই থেকে পলি পড়ে গেছে

এই যে আকাশ আর ধুসর ধুসর মেঘ
এই যে সবুজ সবুজ ঘাসের মাঠ
এই ছলছল কলকল নদী
আর এই জরাজীর্ণ পুরনো আমি,
সবই আছে চারিদিকে;

শুধু তুই হারিয়ে গিয়েছিস
সময়ের সাথে সাথে।


সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০১৭

ইতিহাস



ইতিহাস
- যাযাবর জীবন


একটা মেয়ে ছিল জীবনের গল্প
আজ জীবন থেকেই হারিয়ে গেলো

একটা মেয়ে ছিল আমার আকাশের সূর্য
অমাবস্যায় আজ তারে কোথায় খুঁজে পাব?

একটা মেয়ে ছিল আমার প্রতি রাতের চাঁদ
কোথায় যে জোনাকি ডানায় উড়ে গেলো?

একটা মেয়ে ছিল রাতভর জ্যোৎস্না
আমার স্পর্শে নিভে গিয়ে রাত হলো

একটা মেয়ে ছিল আমার নেশা
নির্ঘুম চোখ দিয়ে কোথায় পালালো?

একটা মেয়ে ছিল আপাদমস্তক কবিতা
আমার কলমে এখন শুধুই ইতিহাস।














প্রহরান্তে পশু



প্রহরান্তে পশু
- যাযাবর জীবন


আদুরে বিড়ালের চোখে আড়মোড়া ভাঙে সূর্য
প্রতিদিন ভোরে
আমি তখন গভীর ঘুমে
স্বপ্নে সাপ-লুডু তোর সাথে
জানালায় তারস্বরে পাখি ডাকে
আমার স্বপ্ন ভাঙাতে

শীত-নিদ্রার সাপ আলসে গড়ায় দুপুর পর্যন্ত
ঘষটে ঘষটে কচ্ছপ পায়ে রোদ চড়ে মাথার ওপর
সেদিন সূর্যের দিকে তাকাতেই চোখ ঝলসে গিয়েছিল তোতে
ভুলে চোখে ঝাপটা দিয়েছিলাম লবণ জলে
ঠাণ্ডা হতে ডুব দেই কান্না-পুকুরে

রোদ ঝাঁ ঝাঁ দুপুরটা তোর মত তেতে থাকে বাঘচোখে
আমি রোদের হেলানের অপেক্ষায় বিকেল বারান্দায়
মাঝে মাঝে বড্ড ইচ্ছে করে বাঘের গায়ে গা ঘষতে
ইশশ! বাঘটা কেন যে বেড়াল হয় না?
আদর খেতে

বিকেল ছোটে চিতার পিঠে
সূর্যটা ডিম পোচ হয় ফ্রাইপেনে, চোখের নিমিষে
আমি তখন ঘরে ফেরা পাখি আঁকি
রংতুলি দাঁতে খুঁটে
ডিমের কুসুমের সাথে বুকের ক্ষরণে লাল হয় ক্যানভাস
আঁকা আর হয় না তোকে

ধূর্ত শেয়ালের উঁকি সন্ধ্যের ঘরে
শেষ গোধূলিতে শিকার দেখে নিচ্ছে ঈগল চোখে
হানা দেবে রাতে হায়েনার দাঁতে
আলো আড়াল হয় অন্ধকারে

বিশেষ কতগুলো রাত হায়েনার বিষ দাঁত
কারো ব্যাং লাফ তো কারো সর্প-নৃত্য, অন্তর্বাসে
কুকুর-বেড়াল ভেজে কাম-রিপু
লজ্জা পায় ভাদ্রের কুকুর
মানুষের কাণ্ড দেখে

তোমরা দিন দেখ
রাত দেখ,
আমি পশু দেখি হরহামেশায়
আমার চারিদিকে, প্রহরান্তে;
হয়তো আমিও তাদেরই একজন
ভেতর থেকে।












মন চুপের সময়


মন চুপের সময়
- যাযাবর জীবন


এক একটা সময় আসে "মন চুপ"
তখন কারো কথাই ভালো লাগে না,
ভালোবাসার কথা তো অসহ্য।


সংযম



সংযম
- যাযাবর জীবন


পর্দার আবরণে ঢাকা তোর অবয়ব
কালো চশমায় আমার দুচোখ;

প্রেম প্রীতি ভালোবাসা
কাম বাসনা ভোগ লালসা সবই তো আমাদের মনে,
তোর
আমার
তার
ওর
সবার;

পাপ মনে
ব্যবহার শরীরে,
পর্দা দিতে হয় মনে
পাপ ঢাকতে;

আমাদের বড্ড সংযমের অভাব;
কথায় ও আচরণে।

খাদ্য


খাদ্য
- যাযাবর জীবন


কামগন্ধা রাত ম ম
শরীর উনুনে
লকলকে জিহ্বায় টস টসে লালা
খাবার বিছিয়ে আছে নাভিমূলে;

ছুটির রাতের গল্প,
কামুকের;
মদ মচ্ছবে।