মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৭

ঈর্ষার চাঁদ



ঈর্ষার চাঁদ
- যাযাবর জীবন


আমার এক চোখে তুই
এক চোখে চাঁদনি;

চাঁদটা দেখেছিস?
পূর্ণ যৌবনা,
আগুন উগরচ্ছে চাঁদনি আমার ভালোবাসায়
ঈর্ষার আগুনে জ্বলছিস তুই ভালোবেসে আমায়
তুই, আমি আর চাঁদনি
ঘুরছি ত্রিভুজ প্রেমে
কেন্দ্রবিন্দুতে চাঁদ;

সারারাত প্রেম শেষে চাঁদটা ডুবে গেলেই
ঘুমিয়ে যায় চাঁদনি
ঘুমিয়ে পরি আমি
জেগে থাকিস তুই ঈর্ষায়।



পৃথিবীর দিনরাত্রি



পৃথিবীর দিনরাত্রি
- যাযাবর জীবন


কালকের রাতটা কি অবলীলায় হারিয়ে গেলো সকালের ভাঁজে
ভোরটা চুপটি করে মুখ লুকিয়েছিল কুয়াশায়
সূর্য হেসে উঁকি দিতেই কুয়াশার চোখে ঘুম
রবি চোখ রাঙিয়ে আড়মোড়া ভাংতেই
কুয়াশাগুলো সুড়সুড় করে সেঁধিয়ে গেলো
সবুজ ঘাসের লেপে
এবার বিকেল পর্যন্ত তার নিশ্চিন্ত ঘুম;

ওদিকে পৃথিবী তেতে উঠছে সূর্যের রাগের সাথে
দুপুর হয়ে এলো বলে
রোদে তাপে ঝিমুনি পশুকুলে
দ্বিপ্রহর এর আহার শেষে কেও কেও ভাতঘুমে
সূর্য হাটি হাটি পা পা করে ছুঁয়ে দেয় বিষণ্ণ বিকেল
কুয়াশার ঘুম ভাঙার সময় হলো;

পাখিগুলো সারাদিনের শ্রান্তি শেষে ঘরে ফিরছে ডানা ঝাপটে
সূর্যের চোখ লাল হয়ে আসছে ঘুমে
একটু পরেই হারিয়ে যাবে পাহাড়ের ওপাশে
কিংবা টুপ করে ডুবে যাবে সমুদ্রে
আর নয়তো লুকিয়ে যাবে সন্ধ্যের ভাঁজে;

গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসেছে শীতের কুয়াশা
মন কেমন করা ছায়া ছায়া ভুতুড়ে আলো
রাত অন্ধকারের লেপ টেনে দিচ্ছে দিনের ওপর
দিনের এখন ঘুমোনোর সময়;

আজ কি পূর্ণিমা?
চাঁদ কি আলো ছড়াবে?
সূর্য তো ঘুমুচ্ছে পৃথিবীর ওদিকে,
কুয়াশার চাদর সরিয়ে চাঁদের ঘুম ভাঙলেই
জ্যোৎস্নার নৃত্যে হাসবে রাত
তারপর চাঁদের সাথে চাঁদনির অভিসার
সারারাত ধরে
সূর্যের ঘুম ভাঙার আগে,
আবার আরেকটি নতুন দিন ধরাচরে;

ভালোই তো কেটে যাচ্ছে পৃথিবীর দিনরাত্রিগুলো
অযুত নিযুতাব্দি ধরে;
কি এসে যায় পৃথিবীর
সূর্যের
চন্দ্রের
আর সৌরজগৎ এর,
কে কি ভাবলো আর
কে কি লিখলো শব্দ বুনে থরে থরে।





মনে তুই



মনে তুই
- যাযাবর জীবন


ভোরটা ঘুমের, সবারই;
আমার পাখির ডানায়, গাড়ির চাকায়
নৌকো, ষ্টীমার কিংবা রেলের চাকায়
সময় গড়ায় সময় চাকায়
কঠোর জীবন, জীবন আগায়;

মাঝে মাঝে যখন খুব হাঁপিয়ে যাই
তুই উঁকি দিস মনের পাতায়
মনে তোর ঘুম ভাংতেই কুয়াশা ভেঙে সূর্যোদয়
রবি হাসে, তুই হাসিস
হেসে ফেলে আমার ক্লান্তি
জীবন গড়ায় সময় চাকায়
আমি এগিয়ে চলি সময়কে পিছু ফেলে
নতুন দিনে, নব উদ্যমে;

ভাগ্যিস মনে তুই ছিলি, সূর্য হয়ে।






বুকের বাঁ পাশ


বুকের বাঁ পাশ
- যাযাবর জীবন


বুকের বাঁ পাশটায় তুই
একেবারে খাঁচার অনেক ভেতরে,
মাঝে মাঝে তোকে খুলে দেখি উঁকি দিয়ে
তখন আমি তোর একার,
ঘন প্রেম শেষে আবার বুক বন্ধ করে সবার হয়ে যাই;

তুই ডুব দিয়ে ঘুমাস বুকের গভীরে
আমার হৃদপিণ্ড ধুকপুক করতে থাকে তোর নিঃশ্বাসে।


দুভাগ



দুভাগ
- যাযাবর জীবন


ভাংতে জুড়ি নেই
জুড়ি নেই মলম লাগাতে;

কতবার দুভাগ হয়েছি পথের মত,
তারপর আবার জুড়ে গিয়েছি তোতে।




মৌসুমি প্রেম



মৌসুমি প্রেম
- যাযাবর জীবন


বন্যার মত ধেয়ে আসে প্রেম কোন কোন বর্ষায়
প্রেম না নামলেও শরতে কিন্তু পানি নেমেই যায়
হেমন্তে নামতে থাকা প্রেম শীতে শুকায়
হয়তো কিছু ভেজা ভেজা অনুভব ওড়ে শীতের কুয়াশায়
তারপর জীবনের পদদলে ধুলোয় হারায়;

হায়! বন্যার মত ধেয়ে আসা প্রেম........
পথের ধুলায়.....

হয়তো আবার নতুন প্রেমের অঙ্কুরোদ্গম বসন্তের আগমনে
গ্রীষ্মে পাকবে,
কে জানে এবার বন্যায় কাকে ভাসাবে?

হায় প্রেম!
হায় মৌসুমি প্রেম।

পরিণয়



পরিণয়
- যাযাবর জীবন


ভালোবাসা কি আর মুখে বলতে হয়?
সে তো মনের সাথে মনের পরিচয়,
আর শরীরে শরীরে পরিণয়;

তোর সাথে আমার কেবলই মন ভালোবাসা
নেই কোন পরিণয়।