মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৯

কয়েকটি অন্ধকার ঘরের গল্প



কয়েকটি অন্ধকার ঘরের গল্প
- যাযাবর জীবন


রাত হতেই আকাশ অন্ধকার হয়ে যায়
আর মন অমাবস্যা,
আমার অন্ধকারে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালো লাগে
ঘন কালো অন্ধকারে,
এখানে আমায় দেখে না কেও
অথচ আমি দেখি সবাইকে;

আমার একটা বাড়ি আছে
যার অনেকগুলো প্রকোষ্ঠ
এক এক প্রকোষ্ঠের এক এক স্মৃতি
এক এক জানালা খুললেই এক এক গল্প;

মন অন্ধকার হতেই আমি
এক একদিন এক এক ঘরে ঢুকে যাই;

কিছু কিছু ঘরের কোন জানালা নেই
বাইরে থেকে এ ঘরগুলো একদম কবরের মত নিশ্চুপ
অথচ ভিতরে জাহান্নামের কোলাহল,
সেসব ঘরে ঢুকলে বড্ড অস্বস্তি লাগে
কেমন যেন দম বন্ধ করা অনুভব
যেন আমি মৃত,
আমার এক সময়ের সকল কুকর্ম বন্দী করেছি সেসব ঘরে
ইচ্ছা আর অনিচ্ছাকৃত এক সময়ের সকল ভুল
সকল কুকীর্তি,
জনালা বিহীন সে ঘরগুলো আমায় ডাকে
আঁচড়ায়, কামড়ায়, ক্ষতবিক্ষত করে,
আমি ও ঘরে ঢুকতে চাই না
তবুও মাঝে মাঝে অন্ধকার ঘর আমায় টেনে ঢোকায় তার মাঝে
আর কালো অতীত দেখায় আমাকে
আমার ঘেন্না লাগে নিজের ওপর
আমি ছুটে পালিয়ে আসি সে ঘর থেকে;

কিছু কিছু ঘরে অনেকগুলো জানালা,
অনেকগুলো স্মৃতির জ্যোৎস্না ঢুকে বিভিন্ন জানালা দিয়ে
আমি অন্ধকারে বসে শৈশবের চাঁদ দেখি
অন্ধকার মাথায় করে কৈশোরের ঝুম বৃষ্টিতে ভিজি
আবার মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ হয় যখন হারিয়ে যাওয়া অনেকগুলো মুখের উঁকি
যাদের বহু বহুকাল আগেই হারিয়ে ফেলেছি
তারা যখন হঠাত হঠাত এক এক রাতে বিভিন্ন জানালায় হানা দেয়
আমার দাদা দাদি, নানা নানী
ছোট বেলার খেলার সাথীটা
যে স্কুল থেকে ফেরার পথে ট্রাক-দানবের চাপায় পিষ্ট হয়ে পড়েছিল নিথর হয়ে,
ঐ যে আমার ছোট ফুপিটা যে কৈশোর পেরোতে না পেরোতে
হঠাত ছটফট করে চলে গেলো না ফেরার দেশে,
তারা সবাই এক একটি জানালায় উঁকি মারে
ঐ তো আমার বাবা, ঐ জানালাটায় দাঁড়িয়ে আছে চাঁদ হয়ে
পুরো আকাশটাকে দিন করে;
আচ্ছা! ওরা আমায় দেখতে পাচ্ছে কি? কে জানে!
আমি কিন্তু ঠিকই দেখতে পাচ্ছি
অন্ধকারে বসে;

অনেকগুলো জানালাওয়ালা একটা ঘর আছে
যেখানে শুধুই তোর স্মৃতি,
আমাদের কৈশোর
যৌবন
প্রেম
অভিমান
অহংকার
আর সকল ভুলের স্মৃতি,
এ ঘরটাও আমি বন্ধ করে রেখেছি,
খিল তুলে দিয়েছি ঘরের সকল দরজা জানালায়,
তবুও এ ঘরটা যখন তখন আমায় ডাকে
টেনে নিয়ে যায় এক একটা জানালার পাশে
আমি অনিচ্ছায় এগিয়ে যাই
অনিচ্ছায় জানালা খুলি
অনিচ্ছায় দরজা খুলি
তারপর কান্নায় ভিজে মিশে যাই অন্ধকারে,

ভাগ্যিস সময়টা রাত ছিল!
ভাগ্যিস ঘন অন্ধকার ছিল!

তাই কেও দেখে নি আমাকে;

কান্না দেখাতে হয় না কাওকে।

আমি অন্ধকারে বসে স্মৃতির ঘরগুলোকে খুলে খুলে দেখি
তারপর আরও অন্ধকার হই, ঘন অন্ধকারে।












আমি আছি, আছিস তুই




আমি আছি, আছিস তুই
- যাযাবর জীবন



আমি তো আছি,
রোদ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে
চাঁদ সূর্যে মন শুকিয়ে
দিন আর রাতে সাগর চোখে
সাদায় কালোয় নীল হয়ে
জ্যোৎস্না অমাবস্যায় একা হয়ে
ভালো আর মন্দে মিলিয়ে মিশিয়ে
আমার আমি,
শুধুই আমার আমি;

শুধু মাঝে মধ্যে তুই,
রোদ বৃষ্টিতে আমার মনে
চাঁদ সূর্যে আমার মনে
দিন আর রাতে আমার মনে
জ্যোৎস্না অমাবস্যায় আমার মনে
স্বপ্নে স্বপ্নে আমার চোখে
চোখের ভেতর মনের ভাঁজে তুই,
মাঝে মধ্যে কিংবা সব সময়ে
মেঘ হয়ে
বৃষ্টি হয়ে
মনের চালে ঝরে পরিস তুই,
পাখি ডানায় উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে
মন আকাশের পুরোটা নীল
জুড়ে থাকিস তুই,
আমার তুই,
শুধুই আমার তুই।





স্পর্শ, অজানা এক অনুভূতি



স্পর্শ, অজানা এক অনুভূতি
- যাযাবর জীবন


স্পর্শ তো শুধুই অনুভূতি,
তাই না রে?

আচ্ছা!
স্পর্শে কি ভালোবাসা থাকে?
প্রেম?
আদর?

তবে স্পর্শের জন্য মন কেন এমন করে?
কেন ব্যকুল হই অন্ধকারে?

যখনই তুই না থাকিস,
যখনই মন একা একা লাগে
তোর স্পর্শের জন্য মন কাঁদে রে,
বড্ড কাঁদে;

আচ্ছা!
তোরও কি এমনই লাগে?

কিছু কথা কখনো জানা হবে না
না আমার
না তোর,
আচ্ছা!
তুই কি জানিস কতখানি ভালোবাসি তোকে?

আকাশ মাপতে পারিস?
সাগর?
থাক!
জানতে হবে না তোকে;

স্পর্শে কি জানি এক অজানা অনুভূতি আছে,
ভালোবাসার মানুষের স্পর্শে
তোর স্পর্শে,

কিছু অনুভূতি থাকুক না অজানা!














আদরে ভালোবাসায়



আদরে ভালোবাসায়
- যাযাবর জীবন


আদর মানেই কাম নয়
গালে হাত বুলালে
মাথায় হাত রাখলে
বুকে জড়িয়ে রাখলে
কিংবা শুধু ছুঁয়ে থাকলেই আদর হয়
অনুভবে মন ছুঁয়ে থাকাই আদর,
কেও পারে, কারো শরীর লাগে;
আচ্ছা!
আমরা কতদিন শরীরে শরীরে আদর করেছি রে?
তুই'ই বল না!
তোকে কি কম আদর করি?

ভালোবাসা মানেই শরীর নয়
দূরে থেকেও কাছে থাকা যায়
দূরে থেকেও ভালোবাসা যায়
অনুভবে কাছে থাকলেও ভালোবাসা হয়
অনুভবে কাছে আছি বোঝাতে পারলেই ভালোবাসা হয়;
কেও পারে, কারো শরীর লাগে;
আচ্ছা!
আমরা কতদিন শরীর দিয়ে ভালোবেসেছি রে?
তুই বল তো!
তোকে কি কম ভালোবাসি?

তুই আমাকে ভরিয়ে রাখিস আদরে আদরে
অনুভবে আর অনুভবে
আমি তোকে জড়িয়ে রাখি ভালোবাসায় সোহাগে
অনুভবে আর অনুভবে;

কাম?
সে তো শরীর জুড়োলেই শেষ হয়ে যায়;

ভালোবাসা!
কখনো ফুরোয়?





সূর্যের ঠোঁটে ঠোঁটে




সূর্যের ঠোঁটে ঠোঁটে
- যাযাবর জীবন


চা চুমু অনেক খেয়েছি
তোর সাথে,
ঠোঁটে ঠোঁটে
কাপে ঠোঁটে,

বৃষ্টি চুমেছি অনেক
আকাশ থেকে
কতবারই না আমরা ভিজেছি দুজন
ঝুম বৃষ্টিতে জড়াজড়ি হয়ে
ঠোঁটে ঠোঁটে;

জ্যোৎস্না তো সবাই খায়
ভালোবাসায় চেটেপুটে
চুমুতে চুমুতে
কবিতার আবেশে
ঠোঁটে ঠোঁটে,

সূর্য চুমেছে কে কবে?

আজ দুপুরটা দেখেছিস?
সূর্যটা কেমন উঠেছে তেতে!
চল আজ ঠোঁট শুকাই
রোদে ভিজে
রোদঠোঁটে,
তারপর ছায়া হয়ে যাই
সূর্য চুমে
ঠোঁটে ঠোঁটে।





আঁধার হয়েছে দিন, মেঘের মন খারাপ



আঁধার হয়েছে দিন, মেঘের মন খারাপ
- যাযাবর জীবন


আঁধার হয়ে এসেছে দিন
মেঘের মন খারাপ
বৃষ্টি হয়ে কাঁদছে
দিন হয়েছে রাত

দুপুরে সূর্য নেই
পাখি নেই আকাশে
মেঘের মন খারাপ
নীল বলব কাকে?

ডালের ফাঁকে ফাঁকে
পাখির দল গুটিসুটি
কাক ভেজা কাকগুলোকে
আকাশ দিয়েছে ছুটি

কোথায় সূর্য আজ?
কোথায় রৌদ্র আলো?
দুপুরের আজ মন খারাপ
বেলা সেজেছে কালো

ঝুমঝুম ঝুম বৃষ্টি
গান শোনায় কাকে?
মেঘগুলো আমায় ভিজতে
হাতছানি ডাক ডাকে

মেঘগুলো ভেসে বেড়ায় নীলে
আমি তাদের পাখি বলে ডাকি
আমার আকাশে ওড়াউড়ি করে
ধরতে গেলেই ফাঁকি

দিন আঁধার হয়েছে আজ
মেঘের মন খারাপ
আকাশে কাঁদছে মেঘ
আমার মন হয়েছে রাত।




ভালোবাসার অনুভূতি



ভালোবাসার অনুভূতি
- যাযাবর জীবন


তোকে একটু দেখতে পারার নাম দৃষ্টি
একটু ছুঁতে পারার নাম অনুভব
তোর অভিমান পোড়ায় আমায় দুপুর সূর্যে
তোর হাসিতে জ্যোৎস্না খেলে
তোর কান্নায় ঝুম বৃষ্টি নামে,
তোকে ভালোবাসার নামই হৃদয়ের ধুকপুক
তোকে ভালোবাসাটাই আমার অনুভূতি
তোকে ভালোবাসতে পারি বলেই বেঁচে আছি;

সবাই কি আর আলোতে বাঁচে?
সবার ঘরেই কি জ্যোৎস্না আসে?
বাতাস খেলে না আমার জানালায়
হাসে না নীল আমার আকাশে
তবুও খোলা রেখে দিয়েছি আমাকে আমি
একটু রৌদ্র আসুক
একটু মেঘ ঢুকুক
একটু বৃষ্টি নামুক
কিছু বাতাস আসুক
কিছু জ্যোৎস্না ঢলুক
কিছুই কি আসবে না?
কিছু না আসলেও অন্ধকার তো আসবে!
রাত্রি তো কবেই সঙ্গী করেছে আমাকে!

আচ্ছা অন্ধকার অনুভূতির নাম কি ভালোবাসা?
তবে আমার থেকে বেশী ভালো কেও বাসে নি তোরে;

আলো কিংবা আঁধার মানুষের জন্য
আমার জন্য শুধুই তুই
তোকে ভালোবাসাটাই আমার অনুভূতি,
তোকে ভালোবাসতে পারি বলেই আজো বেঁচে আছি।