বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

মন খুলে খুলে



মন খুলে খুলে
- যাযাবর জীবন


শরীরে কি আছে ?
দলা দলা চর্বি
স্থানে স্থানে মাংসপিণ্ড
চামড়া দিয়ে মোড়ানো,
চর্বি আর মাংসের ভেতর কিছু হাড়গোড়
তারও ভেতরে ফুসফুস, যকৃৎ, কলিজা, হৃদয়;

হৃদয়?
সে আবার কি?
তোমরা যাকে মন বলো,
আরে ওটাই তো যত গণ্ডগোলের মূল
ওখানেই যত অনুভব;

তাহলে শরীরের প্রতি শরীরের এত টান কেন?
কেন এত ইচ্ছে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখার?
কেন রিপুর তাড়না?
কতক্ষণের টান?
কিছু মিনিট না হয় ঘণ্টা
তারপর তো পুরোটাই মন
আনন্দ কিংবা বেদনা;

আচ্ছা!
মনে কি থাকে?
সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না
প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, ঘৃণা
দম্ভ, অহংকার, ক্রোধ, আর রিপুর তাড়না
পাওয়ার খুশি আর না পাওয়ার বেদনা?
মন কেন শরীর ছুঁতে চায়?
কামনায় কিংবা ভালোবাসায়;
শরীরের অংশ বলে?

আচ্ছা! মন কি শরীরের অংশ?
তাহলে দেখা যায় না কেন?

আমার একবার খুব মন দেখতে ইচ্ছে করে,
মন খুলে খুলে।







অলীক ইচ্ছেগুলো



অলীক ইচ্ছেগুলো
- যাযাবর জীবন


অনেকদিন দুপুর দেখি নি একসাথে
অনেক দিন মেঘ দেখি নি
বৃষ্টিতে ভিজি নি
অনেক দিন আকাশ দেখি নি একসাথে,
অনেক অনেকদিন তোকে যে দেখি নি!
কেমন আছিস রে তুই?
কোথায় আছিস?

একদিন আমরা অন্যরকম এক দুপুর দেখেছিলাম
অনেক অনেকদিন আগে
দুজন একসাথে
চোখে চোখে;

সেদিন সূর্য উঠেছিলো, না মেঘ জমেছিলো, না বৃষ্টি নেমেছিলো তা দেখিনি
সেদিন গরম ছিলো না ঠাণ্ডা ছিলো কেও অনুভব করি নি,
সেদিন শুধুই চোখে চোখ ছিলো
হাতে হাত
মনে মন
আর মাঝে মাঝে ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে ভালোবাসার অনুভূতি,
সেই এক অদ্ভুত স্বপ্নের দুপুরে;
মনে আছে?

এখন আমার আকাশে দুপুর নেমেছে
আমার একবারও জানালা দিয়ে উঁকি দিতে ইচ্ছে করছে না
একবারও জানতে ইচ্ছে করছে না
আজ কি রোদ উঠেছে? না মেঘ ভাসছে? নাকি বৃষ্টি নেমেছে?

আজ খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তোকে
ইচ্ছে করছে সেই সেদিনের মত তোর হাত ধরে বসে থাকতে
ইচ্ছে করছে চেয়ে থাকতে তোর চোখে
আর ডুবে যেতে তোর ঠোঁটে;
মাঝে মাঝে আমার কি সব অদ্ভুত ইচ্ছেই না মনে আসে!
অসম্ভব সব অলীক ইচ্ছেগুলো
ঝনঝন করে মনের ভেতর
মনখারাপের দ্বিপ্রহরে;

আচ্ছা! তোর মনেও কি এমন অলীক ইচ্ছে জাগে?
কেও উত্তর দেয় না,
চুপ করে থাকে দুপুর
কানে তালা লাগায় নিস্তব্ধতার হুঙ্কার,
আর দুপুর বেলায় রাত নামে আমার চোখে, মনখারাপে;
ঝাপসা চোখে কি দুপুর দেখা যায়?




ভার্চুয়াল ধোঁকা


ভার্চুয়াল ধোঁকা
- যাযাবর জীবন


ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো ভার্চুয়ালেই ভালো
বাস্তবে চলে আসলেই বড্ড কাঁদায়
ভালোবাসায় কিংবা ধোঁকায়



ইচ্ছের দাসত্ব



ইচ্ছের দাসত্ব
- যাযাবর জীবন


ইচ্ছের দাসত্বে জীবন পাড়ি,
ইচ্ছেগুলো ইচ্ছেমতন
মনের ভেতর যখন তখন
ইচ্ছেকে কখনো দাস বানাতে পারি নি
ব্যর্থতা আমারই;

যখন ইচ্ছে পাহাড়ে
ইচ্ছে হলো তো নদী কিনারে
ইচ্ছে হলেই সমুদ্রের ধারে,
ইচ্ছের দাসত্বে শরীর টেনে নিয়ে যাই
ইচ্ছে মনের ইচ্ছে বড়াই,
অথচ আমার তো ইচ্ছে করে পাহাড় হতে
নদী হতে
সাগর হতে,
ইচ্ছে আর বাস্তবের মাঝে বিস্তর ব্যবধান
ব্যবধান সাধ আর সাধ্যের মাঝে;

একদিন খুব ইচ্ছে করে প্রকৃতি হতে
ইচ্ছে করে মেঘ হতে
বৃষ্টি হতে
কখনো ইচ্ছে করে ঝড় হতে
কখনো ইচ্ছে সব ওলোট পালট করে দিতে,
ইচ্ছে করে আকাশ হতে,
অথচ মানুষের সীমাবদ্ধতা শুধুই নীলে;

এই যে শরীর!
সত্তর ভাগ জল
অথচ না পারি নদী হতে না হতে পারি সাগর;
মাটির তৈরি মানুষ অথচ ইচ্ছে করলেই পারি না মাটি হতে,
মজার বিষয় কি জানো?
মাটি হতেই হয় কোন এক সময়, ইচ্ছের বিরুদ্ধে;

আমার ইদানীং একদম ইচ্ছে করে না মাটি হতে,
ইচ্ছে করে পাহাড় হতে
কখনো ইচ্ছে করে সাগর হতে
খুব বেশী ইচ্ছে করে আকাশ হতে
আর ইচ্ছে করে ইচ্ছের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে।









গন্তব্য কোথায়?



গন্তব্য কোথায়?
- যাযাবর জীবন


ট্রেন আসে
ট্রেন যায়
দিনে, দিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে
রাতে, রাতের নীরবতা
বিকট শব্দে হুইসেল বাজে কুউউউউউ
ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক
ষ্টেশনে ট্রেন আসে
ষ্টেশন জীবন্ত হয় কিছুক্ষণের জন্য
কিছু মানুষ নামে
কিছু ওঠে
যে যার গন্তব্যে
কু ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক ট্রেন চলে যায়
ষ্টেশন নীরব হতে থাকে ব্যস্ততা কমে যায়
এই ফাঁকে একটুখানি ঝিমিয়ে নেয় ঘুম চোখে
সজাগ মন অপেক্ষায়
পরবর্তী ট্রেন আসার
ট্রেন আসে
ট্রেন যায়

ষ্টেশন পড়ে থাকে ষ্টেশনে
মানুষ নামে
মানুষ ওঠে
ট্রেন চলে যায়,
মানুষের গন্তব্য আছে
গন্তব্য আছে ট্রেনের
ষ্টেশনের কোন গন্তব্য নেই
ষ্টেশন দাঁড়িয়ে থাকে ঠায়;

আমার নিজেকে মাঝে মাঝে ষ্টেশন মনে হয়
কত মানুষ নামলো বুকে পা দিয়ে
কত মানুষ উঠলো আমায় মাড়িয়ে
যে যার গন্তব্যে,
আমি বসে একঠায়,
ভাবছি ষ্টেশনটার একটা নাম দেব,
কি নাম দেয়া যায়?
আচ্ছা!
অপেক্ষা নামটা কেমন হয়?

ধ্যাত!
কি সব আজেবাজে ভাবছি
ষ্টেশন তো ব্যবহারের জন্যই
মানুষ তো মাড়াবেই;

আমি কার গন্তব্য?
আমারই বা গন্তব্য কোথায়?
আমি কার অপেক্ষায়?
কিসের অপেক্ষায়?










ঘুমন্ত রাত



ঘুমন্ত রাত
- যাযাবর জীবন


কারো ভালোবাসার প্রকাশ প্রচণ্ড আবেগে
কেও কেও বুকের ভেতর চেপে রাখে
আমি কাওকে ভালোবাসতেই পারলাম না
আবেগ প্রকাশ করবো কি করে?

তবে খুব বুঝতে পারি কেও কেও আমায় ভালোবাসে
কেও অল্প স্বল্প
কেও প্রচণ্ড ভাবে
অল্পস্বল্প ভালোবাসার টান আমি উপেক্ষা করে যাই
প্রচণ্ড ভালোবাসার কাছে নিজেকে বড্ড তুচ্ছ মনে হয়
আমি নিজেতে নিজে বড্ড অসহায় হয়ে যাই;

ভালোবাসায় আমার বড্ড ভয়
আবেগহীন মনে কি জানি এক সংশয়,
পড়ন্ত বেলায় কি আর সূর্যোদয় হয়?
কে বোঝাবে তোকে?
শুধু শুধুই ভালোবেসে কষ্ট দিস মনটাকে;

তার থেকে সূর্য ভালোবাস
তাপ বিলাবে
মেঘ ভালোবাস
বৃষ্টি দেবে
জ্যোৎস্না ভালোবাস
আলো দেবে;

কেন রাত জাগিস ভালোবাসায়?
কেন অপেক্ষা করিস আমার আশায়?
আমি তো ঘুমন্ত রাত,
আমায় ভালোবেসে কি হবে?




মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯

কামাই



কামাই
- যাযাবর জীবন


খালি হাতে আসি
খালি হাতে যাই
মাঝখানের সময়টায় কতকিছুই না কামাই!

শিশুকালটা কাটে আদর সোহাগ কামানোতে
ছেলেবেলা দাদা দাদী নানা নানীর প্রশ্রয়ে
পড়ালেখা স্কুল আদর শাসন কতকিছুই জোটে
কৈশোরে মনে ভালোলাগার ফুল ফোটে
যৌবনে ভালোবাসার পূর্ণ জোয়ার
প্রেমের পথে বাঁধা, মানে কি গোয়ার?

জীবন তো শুধুই কামানোর পালা
শিক্ষা দীক্ষা থেকে শুরু করে টাকা পয়সা
অর্থ বিত্ত সম্পত্তি থেকে স্বার্থ আর শত্রুতা
কেও ভালোবাসা পেতে সম্পর্ক কামাতে যায়
কেও স্বার্থের আক্রোশে সম্পর্ক হারায়
জন্মের পর থেকে কত কিছুই না কামাই!
কামাতে কামাতে কত কিছুই না হারাই!

আচ্ছা! এই যে মুঠো মুঠো টাকা পয়সা জমাতে জমাতে
উপচে পড়া ব্যাঙ্ক
মুঠোটা একবার খুলে দেখ তো ভাই!
হাতের তালু থেকে আকাশ পর্যন্ত বিশাল এক শূন্য
কোথায় কাড়ি কাড়ি টাকা?
কোথায় তোমার কামাই?

এই যে সম্পত্তি গড়তে গড়তে
সম্পদের পাহাড়
খোলা মাঠে চিৎ হয়ে একবার শুয়ে দেখ তো ভাই!
চোখ থেকে ঐ দূর আকাশ পর্যন্ত শূন্যতা দেখছ?
কোথায় দেখা যায় সম্পদ?
কোথায় তোমার কামাই?

এই যে পরপুরুষ, পরনারীতে প্রেম ভালোবাসা
এই যে পরের অর্থে লোভ লালসা
পর-সম্পত্তি আত্মসাতের ইচ্ছা
আর ক্রমাগত রিপুর কাছে নত মাথা
কি করছি কামাই?
আদতে কতটুকু কামাই আর কতখানি খোয়াই?

খালি হাতে আসি আমরা খালি হাতে যাই,
আর জীবন পথের প্রতিটা বাঁকে
কুড়িয়ে কুড়িয়ে পাপ কামাই,
এবার একটু থামি
একটু পেছন ফিরে দেখি
কতটুকু কামাতে গিয়ে কতটুকু হলো খোয়াই!

ঐ যে পড়ে আছি আমি
নিথর নীরব
সারাটা জীবন ছিলাম কামাইয়ে কামাইয়ে সরব,
তোমরা দয়া করলে তবেই না মাটি!
আচ্ছা! আজ ছোট্ট একটা ঘর কামাই হবে তো?
মাটির ঘর!