বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

সময়ের পথ হাঁটা



সময়ের পথ হাঁটা
- যাযাবর জীবন


সময়'কে দেখা যায় না
ছোঁয়া যায় না
অনুভব করা যায় না,
তবুও সময় ছিলো
সময় আছে
সময় থাকবে,
কালের সময়ে;
সময়'কে কে আর ধরে রাখতে পারে?
সময় হেঁটে চলে সময়ের পথ ধরে;

সময় আসে, সময় চলে যায়, সময়ের পথ ধরে
পৃথিবীতে মানুষ আসে সময়ের হাত ধরে
পৃথিবী থেকে মানুষ চলে যায় সময় ফুঁড়িয়ে গেলে
কালের চাকায় সময় ঘুরে, সময়ের পথ ধরে;

আমরা পৃথিবীতে আসি আমাদের সময় হলে
আমরা হাসি, খেলি, বেঁচে থাকি আমাদের সময়ে
রোগ, শোক, দুঃখ, বেদনা ভোগ করি আমাদের সময়ে
প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা আর মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ি আমাদের সময়ে
আমরা আমাদের দীর্ঘ এক জীবন পাড়ি দেই মহাকালের অণু সময়ে,
তারপর একসময় থমকে যাই নিথর হয়ে
পৃথিবী ছেড়ে আমাদের চলে যেতে হয়, মৃত্যুর সময় হলে;

সময় কি আর থমকে থাকে?
সময় চলতে থাকে তার পথে, সময়ে;
সেই সুদূর অতীত থেকে হেঁটে হেঁটে অজানা এক সুদূর ভবিষ্যতের পানে।






মন খুলে খুলে



মন খুলে খুলে
- যাযাবর জীবন


শরীরে কি আছে ?
দলা দলা চর্বি
স্থানে স্থানে মাংসপিণ্ড
চামড়া দিয়ে মোড়ানো,
চর্বি আর মাংসের ভেতর কিছু হাড়গোড়
তারও ভেতরে ফুসফুস, যকৃৎ, কলিজা, হৃদয়;

হৃদয়?
সে আবার কি?
তোমরা যাকে মন বলো,
আরে ওটাই তো যত গণ্ডগোলের মূল
ওখানেই যত অনুভব;

তাহলে শরীরের প্রতি শরীরের এত টান কেন?
কেন এত ইচ্ছে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখার?
কেন রিপুর তাড়না?
কতক্ষণের টান?
কিছু মিনিট না হয় ঘণ্টা
তারপর তো পুরোটাই মন
আনন্দ কিংবা বেদনা;

আচ্ছা!
মনে কি থাকে?
সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না
প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা, ঘৃণা
দম্ভ, অহংকার, ক্রোধ, আর রিপুর তাড়না
পাওয়ার খুশি আর না পাওয়ার বেদনা?
মন কেন শরীর ছুঁতে চায়?
কামনায় কিংবা ভালোবাসায়;
শরীরের অংশ বলে?

আচ্ছা! মন কি শরীরের অংশ?
তাহলে দেখা যায় না কেন?

আমার একবার খুব মন দেখতে ইচ্ছে করে,
মন খুলে খুলে।







অলীক ইচ্ছেগুলো



অলীক ইচ্ছেগুলো
- যাযাবর জীবন


অনেকদিন দুপুর দেখি নি একসাথে
অনেক দিন মেঘ দেখি নি
বৃষ্টিতে ভিজি নি
অনেক দিন আকাশ দেখি নি একসাথে,
অনেক অনেকদিন তোকে যে দেখি নি!
কেমন আছিস রে তুই?
কোথায় আছিস?

একদিন আমরা অন্যরকম এক দুপুর দেখেছিলাম
অনেক অনেকদিন আগে
দুজন একসাথে
চোখে চোখে;

সেদিন সূর্য উঠেছিলো, না মেঘ জমেছিলো, না বৃষ্টি নেমেছিলো তা দেখিনি
সেদিন গরম ছিলো না ঠাণ্ডা ছিলো কেও অনুভব করি নি,
সেদিন শুধুই চোখে চোখ ছিলো
হাতে হাত
মনে মন
আর মাঝে মাঝে ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে ভালোবাসার অনুভূতি,
সেই এক অদ্ভুত স্বপ্নের দুপুরে;
মনে আছে?

এখন আমার আকাশে দুপুর নেমেছে
আমার একবারও জানালা দিয়ে উঁকি দিতে ইচ্ছে করছে না
একবারও জানতে ইচ্ছে করছে না
আজ কি রোদ উঠেছে? না মেঘ ভাসছে? নাকি বৃষ্টি নেমেছে?

আজ খুব দেখতে ইচ্ছে করছে তোকে
ইচ্ছে করছে সেই সেদিনের মত তোর হাত ধরে বসে থাকতে
ইচ্ছে করছে চেয়ে থাকতে তোর চোখে
আর ডুবে যেতে তোর ঠোঁটে;
মাঝে মাঝে আমার কি সব অদ্ভুত ইচ্ছেই না মনে আসে!
অসম্ভব সব অলীক ইচ্ছেগুলো
ঝনঝন করে মনের ভেতর
মনখারাপের দ্বিপ্রহরে;

আচ্ছা! তোর মনেও কি এমন অলীক ইচ্ছে জাগে?
কেও উত্তর দেয় না,
চুপ করে থাকে দুপুর
কানে তালা লাগায় নিস্তব্ধতার হুঙ্কার,
আর দুপুর বেলায় রাত নামে আমার চোখে, মনখারাপে;
ঝাপসা চোখে কি দুপুর দেখা যায়?




ভার্চুয়াল ধোঁকা


ভার্চুয়াল ধোঁকা
- যাযাবর জীবন


ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো ভার্চুয়ালেই ভালো
বাস্তবে চলে আসলেই বড্ড কাঁদায়
ভালোবাসায় কিংবা ধোঁকায়



ইচ্ছের দাসত্ব



ইচ্ছের দাসত্ব
- যাযাবর জীবন


ইচ্ছের দাসত্বে জীবন পাড়ি,
ইচ্ছেগুলো ইচ্ছেমতন
মনের ভেতর যখন তখন
ইচ্ছেকে কখনো দাস বানাতে পারি নি
ব্যর্থতা আমারই;

যখন ইচ্ছে পাহাড়ে
ইচ্ছে হলো তো নদী কিনারে
ইচ্ছে হলেই সমুদ্রের ধারে,
ইচ্ছের দাসত্বে শরীর টেনে নিয়ে যাই
ইচ্ছে মনের ইচ্ছে বড়াই,
অথচ আমার তো ইচ্ছে করে পাহাড় হতে
নদী হতে
সাগর হতে,
ইচ্ছে আর বাস্তবের মাঝে বিস্তর ব্যবধান
ব্যবধান সাধ আর সাধ্যের মাঝে;

একদিন খুব ইচ্ছে করে প্রকৃতি হতে
ইচ্ছে করে মেঘ হতে
বৃষ্টি হতে
কখনো ইচ্ছে করে ঝড় হতে
কখনো ইচ্ছে সব ওলোট পালট করে দিতে,
ইচ্ছে করে আকাশ হতে,
অথচ মানুষের সীমাবদ্ধতা শুধুই নীলে;

এই যে শরীর!
সত্তর ভাগ জল
অথচ না পারি নদী হতে না হতে পারি সাগর;
মাটির তৈরি মানুষ অথচ ইচ্ছে করলেই পারি না মাটি হতে,
মজার বিষয় কি জানো?
মাটি হতেই হয় কোন এক সময়, ইচ্ছের বিরুদ্ধে;

আমার ইদানীং একদম ইচ্ছে করে না মাটি হতে,
ইচ্ছে করে পাহাড় হতে
কখনো ইচ্ছে করে সাগর হতে
খুব বেশী ইচ্ছে করে আকাশ হতে
আর ইচ্ছে করে ইচ্ছের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে।









গন্তব্য কোথায়?



গন্তব্য কোথায়?
- যাযাবর জীবন


ট্রেন আসে
ট্রেন যায়
দিনে, দিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে
রাতে, রাতের নীরবতা
বিকট শব্দে হুইসেল বাজে কুউউউউউ
ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক
ষ্টেশনে ট্রেন আসে
ষ্টেশন জীবন্ত হয় কিছুক্ষণের জন্য
কিছু মানুষ নামে
কিছু ওঠে
যে যার গন্তব্যে
কু ঝিক ঝিক ঝিক ঝিক ট্রেন চলে যায়
ষ্টেশন নীরব হতে থাকে ব্যস্ততা কমে যায়
এই ফাঁকে একটুখানি ঝিমিয়ে নেয় ঘুম চোখে
সজাগ মন অপেক্ষায়
পরবর্তী ট্রেন আসার
ট্রেন আসে
ট্রেন যায়

ষ্টেশন পড়ে থাকে ষ্টেশনে
মানুষ নামে
মানুষ ওঠে
ট্রেন চলে যায়,
মানুষের গন্তব্য আছে
গন্তব্য আছে ট্রেনের
ষ্টেশনের কোন গন্তব্য নেই
ষ্টেশন দাঁড়িয়ে থাকে ঠায়;

আমার নিজেকে মাঝে মাঝে ষ্টেশন মনে হয়
কত মানুষ নামলো বুকে পা দিয়ে
কত মানুষ উঠলো আমায় মাড়িয়ে
যে যার গন্তব্যে,
আমি বসে একঠায়,
ভাবছি ষ্টেশনটার একটা নাম দেব,
কি নাম দেয়া যায়?
আচ্ছা!
অপেক্ষা নামটা কেমন হয়?

ধ্যাত!
কি সব আজেবাজে ভাবছি
ষ্টেশন তো ব্যবহারের জন্যই
মানুষ তো মাড়াবেই;

আমি কার গন্তব্য?
আমারই বা গন্তব্য কোথায়?
আমি কার অপেক্ষায়?
কিসের অপেক্ষায়?










ঘুমন্ত রাত



ঘুমন্ত রাত
- যাযাবর জীবন


কারো ভালোবাসার প্রকাশ প্রচণ্ড আবেগে
কেও কেও বুকের ভেতর চেপে রাখে
আমি কাওকে ভালোবাসতেই পারলাম না
আবেগ প্রকাশ করবো কি করে?

তবে খুব বুঝতে পারি কেও কেও আমায় ভালোবাসে
কেও অল্প স্বল্প
কেও প্রচণ্ড ভাবে
অল্পস্বল্প ভালোবাসার টান আমি উপেক্ষা করে যাই
প্রচণ্ড ভালোবাসার কাছে নিজেকে বড্ড তুচ্ছ মনে হয়
আমি নিজেতে নিজে বড্ড অসহায় হয়ে যাই;

ভালোবাসায় আমার বড্ড ভয়
আবেগহীন মনে কি জানি এক সংশয়,
পড়ন্ত বেলায় কি আর সূর্যোদয় হয়?
কে বোঝাবে তোকে?
শুধু শুধুই ভালোবেসে কষ্ট দিস মনটাকে;

তার থেকে সূর্য ভালোবাস
তাপ বিলাবে
মেঘ ভালোবাস
বৃষ্টি দেবে
জ্যোৎস্না ভালোবাস
আলো দেবে;

কেন রাত জাগিস ভালোবাসায়?
কেন অপেক্ষা করিস আমার আশায়?
আমি তো ঘুমন্ত রাত,
আমায় ভালোবেসে কি হবে?