বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

দুঃখের ফেরিওয়ালা



দুঃখের ফেরিওয়ালা
- যাযাবর জীবন


শুধু শুধুই তুই দুঃখের ফেরি করিস
ঝুড়িতে দুঃখ ভরে
একবার ঝুড়িতে আমাকে উঠিয়েই দেখ না
ভালোবাসায় আপন করে;

আমি তো ঘাটে ঘাটে ঘুরি
হয়ে আকাশ ঘুড়ি
তবুও মাঝে মাঝে যখন তখন
তোকেই মনে করি;

ও ফেরিওয়ালা এবার নামা আমায়
খালি কর তোর ঝুড়ি
আমার আকাশে নীল হ তুই
আমি মেঘ হয়ে হয়ে উড়ি........



কিছু কিছু নীরবতা



কিছু কিছু নীরবতা
- যাযাবর জীবন


কিছু কিছু সময় কথা
কিছু কিছু সময় নীরবতা
কিছু কিছু সময় ঠোঁট
কিছু কিছু সময় চুপ
কিছু কিছু সময় ভালোবাসা
কিছু কিছু সময় কামের দৌরাত্ম্য
কিছু কিছু সময় দূরে থাকা
কিছু কিছু সময় দূরত্ব
ভালোবাসা সবাই বোঝে না
বোঝে না ভালোবাসার মাহাত্ম্য;

কিছু নীরবতা আজ উড়িয়ে দিলাম আকাশে;
ভালোবাসা বুঝে নিস।



খুব নিশীথে, ক্ষণে ক্ষণে



খুব নিশীথে, ক্ষণে ক্ষণে
- যাযাবর জীবন


এই যে তোকে মনে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে,
এই যে তুই ঘুমিয়ে থাকিস মনে;
আমিও কি কোথাও আছি?
তোর মনে? গোপন কোনো কোণে;

কোথাও তো কিছু আছেই
কোথাও কেও থাকেই
যার জন্য একটা কেমন কেমন অনুভব
একটা অস্বস্তিকর অনুভূতি
মনের ভেতর
খুব গোপন কোনো কোণে;

আচ্ছা! একে কি ভালোবাসা বলে?

কেন যে অযথা মন খারাপ হয় খুব নিশীথে, ক্ষণে ক্ষণে?
কারণে আর অকারণে।




সিকোয়েন্স



সিকোয়েন্স
- যাযাবর জীবন


পৃথিবীতে আসার একটা নিয়ম আছে
আছে সিকোয়েন্স
আছে সিরিয়াল,
আগে দাদা
পরে বাবা
তারপর আমি
তারপর সন্তান
তারপর নাতি নাতনি,
সিকোয়েন্সটা খুব সহজ
একের পর এক
নিয়ম মেনে;

যাওয়ার নিয়ম কোথায়?
কে আগে যায়?
কে পরে?

যাওয়ার কোন নিয়ম নেই
নেই সিকোয়েন্স
নেই সিরিয়াল
কে যে কার আগে যাবে কে বলতে পারে?
বাবার আগেই চলে যায় সন্তান
দাদার আগে নাতি কিংবা নাতিন
এর মাঝে সবচেয়ে ভারী বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ;

যাবার একটা সিকোয়েন্স থাকলে বড্ড ভালো হতো,
মৃত্যু নিয়ম মানে কোথায়?



সাথে করে কি নিয়ে যাচ্ছি?



সাথে করে কি নিয়ে যাচ্ছি?
- যাযাবর জীবন


কাঁচের আয়নায় বাইরেটুকু দেখা যায়, যতটুকু চোখ দেখে
মনের আয়না দেখে সবটুকু, ভেতর থেকে;
মাঝে মাঝে আমি আমায় দেখে শিউরে শিউরে উঠি
মানুষের খোলসে মানুষ নাকি?

এই যে তোকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা!
আর ঘেঁষে থাকার অনুভব
মনে সান্ত্বনার অনুভূতি, কেও তো আছে পাশে!
আমার নিজেরই স্বার্থে, স্বার্থানুভব;

আজকাল বড্ড ভয় হয় একলা হতে
এই যে তোকে ছুঁয়ে থাকা! শরীরে শরীর ঘেঁষে
মনের মাঝে এক স্বস্তি স্বস্তি বোধ
কেও তো আছে!
কেও তো ছুঁয়ে আছে আমায়!
শরীরটা শীতল হওয়ার আগে;

একদিন ঘুমের মাঝে তোর হাতে বরফ অনুভূতি হতেই
ধরফরিয়ে উঠে বসবি
লাইট জ্বেলে দেখবি
ধুকপুক শুনতে বুকে কান পাতবি,
নৈঃশব্দ্যতা কানে তালা লাগাবে তোর
হয়তো চিৎকার করে কাঁদবি;

আরে বোকা!
মরণে ভয় কি?
শুধু আমলনামার দিকে তাকিয়ে খুব ভয় করে;
সাথে করে কি নিয়ে যাচ্ছি?







মৃত্যুঞ্জয়



মৃত্যুঞ্জয়
- যাযাবর জীবন


একটা সময় ছিলো কাছে আসার
একটা সময় ছিলো ভালোবাসার
একটা সময় ছিলো অনুভবের
আর দুজন দুজনাতে একাকার;

এখন দুজনার সময় দূরত্বের
সময় স্মৃতির জাবর কাটার
এখন অনুভবে শুধুই অনুতাপ
আর দূরত্ব দুজনার;

একসময় মনে ঝুল পড়ে
একসময় ভালোবাসায় শ্যাওলা ধরে
একসময় অনুভূতি ভোঁতা হতে থাকে
একটা সময় একাকীত্বে জীবন কাটে;

একটা সময় ছিলো, তুই আমি আর ভালোবাসা
এখন সবকিছু ছাপিয়ে ক্ষুধা
একসময় অনুভূতিগুলোর মৃত্যু হয়
একটা সময় সব সঙ্গই বিষময়;

একদিন আমি ছিলাম একদিন তুইও ছিলি
একদিন মন ছিলো আমাদের ভালোবাসার
আজ আমি আছি এখানে, অনেকটা দূরত্বে তুইও আছিস সেখানে
আর সময়ের সাথে সাথে মনটাও বদলে গেছে দুজনার;

সময়ে বদলে যায় অনুভব, সময় বদলে দেয় সব
কেও তাড়াতাড়ি বোঝে কেও বুঝেও অবুঝ হয়ে রয়,
কোন একদিন খুব হঠাৎই মরণ ডাক দিয়ে বলবে, 'আয়'
কে কবে হতে পেরেছিলো মৃত্যুঞ্জয়?









ঘুম পাড়ানি গান



ঘুম পাড়ানি গান
- যাযাবর জীবন


কোন কোন রাতে মনে কবিতা আসে
কোন কোন রাতে তুই
কোন কোন রাত শুধুই অন্ধকার
সব স্বপ্নে কি আর জ্যোৎস্না থাকে

চুইয়ে পড়া জ্যোৎস্নায় অপেক্ষায় হরিণ
দূরে কোথাও থেকে হরিণীর ডাক
আমায় ডাকে না কেও অমাবস্যা পূর্ণিমায়
নির্ঘুম চোখ অন্ধকারে চেয়ে থাকে
ঘুমের অপেক্ষায়

চোখের আয়নায় অনুভূতির ছায়া
মনের আয়নায় তোর বসবাস, পারদ হয়ে
নির্ঘুম বালিশটা তোর প্রতীক্ষায়
আমি ঘুম'কে ডাকতে থাকি
আয়, আয়, আয়!

কোন কোন রাত বড্ড লম্বা হয়
চোখ নির্ঘুম হলে
কোন কোন রাত অন্ধকার হয়
তোর কথা মনে হলে

আমি আমাকে ঘুম পাড়াই
ঘুম জাগানিয়া গানে।