শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

হিম হিম শীত রাত



হিম হিম শীত রাত
- যাযাবর জীবন


হিম হিম শীত রাত
গায়ে চাদর প্যাঁচানো
ওম ওম কোমল উলেন চাদর;

আচ্ছা!
তোর কি সেই রাতটার কথা মনে আছে?
সেই প্রথম রাতটার কথা!

সেটাও তো কোন এক শীতের রাতই ছিলো,
হিম হিম শীতার্ত রাত,
সে রাতে গায়ে চাদর ছিলো না কোনো;
এক মগ কফিতে অনেকটা সময় পাড় করে দিয়েছিলাম আমরা, সহজ হতে গিয়ে
তারপর আরো এক মগ গরম চায়ে আরেকটু সময়
এবার তুই বেশ সহজ হয়ে গিয়েছিলি, খানিকটা সহজ আমি
প্রকৃতিতে শীত শীত ভাব থাকলেও হাতে কাপের গরম
মনে ওম ওম,
কাপের গরম?
কি জানি! হয়তো মনের;

তারপর আরো কিছু সময় টুকটাকের পর বললি আরেক কাপ কফি হলে কেমন হয়?
ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে বাষ্পীভূত হচ্ছিলো সময়
বাষ্পীভূত মন
চা কফি থেকে ঠোঁটে ছোঁয়া পেতে তিন কাপ,
তারপর আর শীত লাগে নি আমাদের কারোরই;

ভোর বেলায় তোর প্যাঁচানো বাহুর ওমে একবার চোখ মেলেছিলাম
তারপর আবার ওম ওম ঘুম,

সেটাও এক শীত রাত ছিলো
সারারাত গায়ে প্যাঁচানো ছিলি তুই
আর ওম ওম কোমল ঘুম।




ছোপ ছোপ অন্ধকার



ছোপ ছোপ অন্ধকার
- যাযাবর জীবন


ছোপ ছোপ কিছু কালো ঝুলে থাকে রাতের অন্ধকারে
কিছু কালো মনে,
মন কোথায়?
সে তো কবেই হারিয়ে গিয়েছে তো'তে;

ভালোবাসায় অনেক না বলা কথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে
যে ভালোবাসে সেই বোঝে
প্রেমিকের কথোপকথন চলে প্রেমিকার সাথে
একা একা মনে মনে
নির্ঘুম চোখে
ছোপ ছোপ কালো অন্ধকারে সারারাত ধরে;

কিছু ঘুম আসুক রাতের চোখে
ছিটে ফোঁটা কিছু আসুক না হয় আমার চোখে,
ঘুম তো সেই কবেই হারিয়েছি তো'তে
ছোপ ছোপ ভালোবাসায়, রাতের ঝুলন্ত কালো অন্ধকারে;

আমার সাথে কোন একরাতে ঝুলবি নাকি?
নির্ঘুম ভালোবাসার ঝুলে।













শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

সৃষ্টির সবচেয়ে বড় আশ্চর্য




সৃষ্টির সবচেয়ে বড় আশ্চর্য
- যাযাবর জীবন


পৃথিবীতে এই যে এত এত মানুষ!
কেও কারো মত না,
না চেহারায় না আচারে না ব্যবহারে
না অনুভূতিতে না অনুভবে;

অথচ আশ্চর্যের বিষয় আমাদের অনুভূতির নামগুলো এক;

পৃথিবীর ছয়শ কোটি মানুষের ছয়শ কোটি মন
ছয়শ কোটি মনের ছয়শ কোটি অনুভূতি
অথচ ঘুরেফিরে সবাই অল্পকিছু অনুভূতির আবর্তে ঘুরছে,

হয় সুখের অনুভূতি কিংবা দুঃখের অনুভূতি
আনন্দের অনুভূতি কিংবা বেদনার অনুভূতি
ভালোলাগার অনুভূতি আর ভালো না লাগার অনুভূতি
ভালোবাসার অনুভূতি নয়তো ঘৃণার অনুভূতি,

এর চেয়েও মজার বিষয় হলো
পৃথিবীর ছয়শ কোটি মানুষ মাত্র দুটি দলে বিভক্ত,
ভালো
আর মন্দ;

ছয়শ কোটি মানুষ
ছয়শ কোটি মন,
কেও কারো মত না
কারো সাথে কারো মেলে না,
অথচ সবাই মিলে মাত্র একটি জাতি
মানব জাতি;

ছয়শ কোটি মুখোশের আড়ালে
সৃষ্টির সবচেয়ে বড় আশ্চর্য।






শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

পথের শেষে



পথের শেষে
- যাযাবর জীবন


ঐ যে রাস্তাটা
দূরে বহুদূরে চলে গেছে!
একদিন আমরা পথ হাঁটা শুরু করব দুজনে,
হয়তো অল্প কিছু সময়
হয়তো অল্প কিছু পথ,
আর নয়তো দীর্ঘ হতে হতে শেষ পর্যন্ত অসীম জীবনপথ;
কে জানে!

চুপ করে কি আর পথ হাঁটা যায়?
একসাথে পথ হাঁটতে হাঁটতে টুকটাক কথা
দুজন দুজনকে বোঝার চেষ্টা,
একটা দুটো কথায় কি আর মানুষ বোঝা যায়?
তাইতো একটু হাঁটতে চাই লম্বা একটি পথ;

একদিন টুকটাক কথা থেকে জীবনের গল্প
দুজন দুজনকে বোঝার চেষ্টা
গল্পে গল্পে কি আর মানুষ বোঝা যায়?
একসাথে চলতে হয় লম্বা একটি পথ;

হাঁটতে হাঁটতে একসময় হয়তো হাতে হাত ছুঁয়ে যাবে
একজন হয়তো তড়িৎ হাত সরিয়ে নেবে
আর নয়তো মুঠোয় মুঠো ভরে যাবে
পথ চলতে চলতে, পথের শেষে;

পথ পথের জায়গায় থাকে
অবস্থান পরিবর্তিত হয় মানুষের,
দুজন হাতে হাত ধরে পথ চলে একসাথে
কিংবা ভুল বোঝাবুঝিতে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন পথের মাঝে;

আমরা কত ভাবেই না একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করি!
আদৌ কি পারি?

আমাদের দুজনার পথের শেষটা কোথায়?
সময় বলে দেবে।






বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

কথার কথা



কথার কথা
- যাযাবর জীবন



কত সহজেই না মানুষ'কে ছোট করা যায়!
কথা দিয়ে;
কত সহজেই না মানুষ'কে বড় করা যায়,
কথা দিয়ে;

কথা বলতে কি আর ট্যাক্স দিতে হয়?
ভ্যাট?
অর্থ খরচ হয়?
উঁহু!
শুধু মুখ দিয়ে বলে দিলেই হয়,
কথা বলতে গিয়ে কে আর আগুপিছু চিন্তা করে?
কি সহজেই না মানুষ কঠিন কঠিন সব কথা
বলে ফেলে!

কারো কথায় মধু ঝরে
কারো কথায় বিষ
কারো কারো কথা তো পুতি দুর্গন্ধময়!
কথার কথা
মুখ ফস্কে, কথার ছলে

কারো কথায় ভালোবাসা ঝরে
কারো কথায় ঘৃণা
কারো কথায় মনখারাপ
কারো কথায় বীণা;

কেও কথায় বন্ধু গড়ে
কারো কথায় শত্রু বাড়ে
আমরা শুধু বলে ফেলি
কথার কথা, মুখ ফস্কে;

অথচ, একটাবার যদি চিন্তা করতাম!
কথা বলার আগে;
জীবনটা খুব অন্যরকম হত,
তাই না?






মন জানান দেয়



মন জানান দেয়
- যাযাবর জীবন


এই যে বহু বহুদিন আমাদের দেখা হয় না!
অথচ পরস্পর পরস্পরের মনে;
খুব আশ্চর্য একটা অনুভূতি না?

মাঝে মাঝে না!
বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে তোকে;

এই যে অনেক অনেক দিন পর পর
দুজন দুজনার প্রতি নেটে ঢিল ছোঁড়া
হয় তুই কিংবা আমি;
খুব মজার না?

মাঝে মাঝে না!
বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে তোকে;

এই যে অনেক অনেক দিন কথা হয় না!
তারপর একদিন হঠাৎই মুঠোফোন বেজে ওঠে
হয় আমার কিংবা তোর
আর আমরা দুজন দুজনার নিঃশ্বাস শুনি
খুব আজব না?

মাঝে মাঝে না!
বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে তোকে;

এইভাবেই বেশ চলে যাচ্ছে আমাদের দিনগুলি
এভাবেই বেশ কেটে যাচ্ছে আমাদের রাতগুলি
দুজন পৃথিবীর শেষ দু প্রান্তে অপেক্ষায় বসে
আর দুজন দুজনকে এক অদ্ভুত ভালোবেসে;

জানিস!
মাঝে মাঝে না!
বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে তোকে,
অথচ আমাদের দেখা হয় না;

এভাবেই কোন একদিন দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত না হয় আরো বহু বহুদিন খেলব আমরা,
দূর থেকে;

তারপর অপেক্ষার খেলা খেলতে খেলতে যখন অনেকদিন তোর মুঠোফোন একবারও বাজবে না
অনেক অনেকদিন এপাশ থেকে কেও নেটে ঢিল ছুঁড়বে না
একদিন যখন আমার কথা তোর খুব, খুব মনে হবে,
তুই পাগলের মত নেটে ঢিল ছুঁড়তেই থাকবি
এপাশ নীরব রবে,
তুই মুঠোফোনের বোতাম টিপতেই থাকবি
এপাশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখাবে,
তখন
ঠিক তখনই
তোর মন ভয়ে কেঁপে উঠবে;

মন ঠিকই জানান দেয়,
প্রিয়জনের না থাকা।



ঐ যে! আকাশ।





ঐ যে! আকাশ।
- যাযাবর জীবন


স্বার্থের গণ্ডি পার হতে পেরেছিলো কে কবে?
এই যে মায়া মমতা ভালোবাসা!
এই যে নানা রকম সম্পর্ক!
সবকিছু ছাপিয়ে স্বার্থটাই বড় হয়ে ওঠে,
স্বার্থের কাছে;

স্বার্থ তো স্বার্থই;
কখনো টাকার
কখনো বা অন্য কিছুর,
প্রত্যেকটা সম্পর্কের পেছনেই থাকে স্বার্থ;

স্বার্থের গণ্ডি কতদূর?

অন্যের ক্ষেত্রে উপদেশ;

নিজের ক্ষেত্রে ঐ তো! ঐ দেখা যায়,
কি দেখা যায়?
ঐ যে! আকাশ।