সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

দুষ্ট লোকের কথা



দুষ্ট লোকের কথা
- যাযাবর জীবন


সফল প্রেমিক নাকি প্রেম করে সংসার করে
আর ব্যর্থ প্রেমিক কবিতা লিখে,
দুষ্ট লোকে বলে;

কই!
আমি তো তোর সাথে প্রেম করতে করতেই কবিতা লিখি
অথচ তুই আমার ঘরে
আমি তোর সাথে প্রেম করে করেই তোকে আঁকি
যখনই তুই মন ঘরে,
কবিতার ছলে;

কেও কেও বলে আমার নাকি গল্প ভালো আসে
আমি মাঝে মাঝে কাগজ কলম নিয়ে বসি গল্প লিখব বলে
তারপর এক খাতা তোকে এঁকে প্রেম করি তোর সাথে
তোর ঘরে, আমার ঘরে
প্রেম করে
আর শুধু প্রেম করে,
তোর ঘর আর আমার ঘর তো একই ঘর, তাই না রে?
আর গল্পটা কখন জানি কবিতা হয়ে যায়! তোর মুখ মনে এলে;

আরে প্রেমেও কবিতা হয়!
যদি তালে সুর মেলে
মন ভালোবাসা হলে
আর গল্পগুলো কবিতা হয়ে যায় মনে তুই এলে;
দুষ্ট লোকে খামোখাই বাজে কথা বলে।

১০ জুন, ২০২০

#কবিতা
দুষ্ট লোকের কথা





স্পর্শে অনুভব



স্পর্শে অনুভব
- যাযাবর জীবন



স্পর্শে স্পর্শ আছে, স্পর্শে আছে গন্ধ
কেও স্পর্শই বোঝে না, মন যাদের অন্ধ
কেও স্পর্শে স্পর্শই পায়, কেও পায় অনুভব
স্পর্শে কেও ভালোবাসা পায়, আর অনুভূতিগুলো সব;

স্পর্শের কতই না রকমফের!
যারা অনুভব করে শুধু তারাই জানে
আর বাকিরা?
ডিকশনারিতে স্পর্শ বলে একটা শব্দ আছে মানে;

মায়ের স্পর্শ মায়ের পেট থেকে
মায়ের গায়ের গন্ধ! মায়ের বুকে লেপ্টে থেকে
ওখানে শান্তি শান্তি একটা পবিত্র অনুভব
ও গন্ধে মা'য়ের অস্তিত্ব থাকে;

বাবার স্পর্শ? সে তো নির্ভরতা!
মরুভূমিতে যেন বটের ছায়া
ঝুম বৃষ্টিতে মাথার ছাতা
স্পর্শে অনুভব, স্পর্শে মায়া;

প্রেমিক-প্রেমিকার স্পর্শ! প্রথম প্রথম কামোদ্রেক
তারপর হয়তো পুরোটাই কাম!
তবে যখনই স্পর্শের অনুভবে নির্ভরতা
তখনই আপন করে নেয়ার নাম;

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক পবিত্র, অনুভবে অনুভব
স্পর্শে ভালোবাসা স্পর্শেই সব অনুভব
যখনই স্পর্শে ঘৃণার অনুভূতি, তখনই আলাদা পথ
স্পর্শে নির্ভরতা? পাশাপাশি থাকার শপথ;

সন্তানের স্পর্শ? ছোটহাতে পেয়েছিলাম অনেক
তারপর? হাত বড় হতে হতে মাথায় আমার থেকেও বড়
একসময় তারও পরিবার হয়, দূরে সরে যায় আরও
বাবা-মায়ের স্পর্শ থেকে এখন সন্তানের স্পর্শ প্রিয়;

এই যে ঘুমের মাঝে হাত বাড়িয়ে তোকে খুঁজি!
কেও তো পাশে আছে! হাতে হাত পড়লেই বুঝি
নির্ভরতা আমার থেকে ভালো চেনে আর কে?
ভালোবাসায় তোর হাত, যুগযুগ স্পর্শ করে রেখেছে যে।


১০জুন, ২০২০

#কবিতা
স্পর্শে অনুভব













সপ্তম রিপু



সপ্তম রিপু
- যাযাবর জীবন


কামের বাসনায় এই যে সারাক্ষণ আচ্ছন্ন হয়ে থাকি!
আচ্ছা, আমি মানুষ নাকি?
পশুরও তো কাম থাকে, আমার থাকতে দোষ কি?

ক্রোধে অন্ধ হয়ে প্রায়শই এই যে লঙ্কাকাণ্ডগুলো ঘটাই! আমি কি ঘটাতে চাই?
যখন রাগে আমি হিংস্র, তখন কেও আমাকে দেখেছ? আমি কোথায় থাকি আমার বশে?
আরে বাবা রাগ তো পশুতেও দেখায়, আমার থাকলে দোষ কোথায়?

লোভের কি কোন সীমারেখা আছে?
অতৃপ্ত লালসা'কে কেই বা তৃপ্ত করাতে পেরেছে?
লোভী সবাই, আমার হতে দোষ কি?

মোহে অন্ধ থাকি ক্ষণস্থায়ী কিছু ভ্রান্ত ধারণায় আর উল্লসিত ক্ষণপ্রাপ্তিতে
নৈতিক স্খলন? আরে ওগুলো বইয়ের ভাষা,
মায়ার হাতছানি কে না পেয়েছে?শুধু আমায় দোষ দিও না;

মদ তো মানুষেই খায়? কেও মাতাল হতে কেও অহংকারে, কেও দম্ভভরে
অহংকারীর পতন? নিজের চরকায় তেল দাও তো! উপদেশ দিতে এসো না;
আমি এখন অহংকারের রঙ্গিন নেশায়, জানো না আমার দম্ভ কাটে না!

মাৎসর্য্য আবার শব্দ হলো নাকি? তুমি অন্যের ভাল সইতে পার না তাতে আমার কি?
এই যে তুমি এত ওপরে উঠে গেছ! আমারও তো জ্বলে, হ্যাঁ! হিংসায় জ্বলে পুরে শেষ হই আমি
তবুও তোমাকে ছুঁতে পারি কি? না তোমার অবস্থানে পৌছুতে পারি?

সপ্তম রিপু'টি খুঁজছ? আয়না দেখ; আপাদমস্তক রিপুতে রিপুতে পরিপূর্ণ
হাঁটাচলা করা এক রক্ত মাংসের পিণ্ড, আমি নামের এক 'আয়না-মানব';
আমি আয়নায় আমাকে দেখতে পাই না, সপ্তম রিপুর পুরোটাই অন্ধকার।


৮ জুন, ২০২০

#কবিতা
সপ্তম রিপু




স্বীকারোক্তি




স্বীকারোক্তি
- যাযাবর জীবন


মাংসের ওপর চামড়া পরত, ভেতরে হাড়ের কঙ্কাল
হৃদপিণ্ড ফুসফুস যকৃত আরো কত কি? আর মস্তিষ্ক ভরা একটা মাথার খুলি,
আচ্ছা! তাহলে মন কোথায় থাকে? হাড়ে, মাংসে, চামড়ায়, হৃদপিণ্ডে নাকি মস্তিষ্কে?
মন কোথায়? আমিতো রিপুতে মোড়া চামড়ার খোলস দেখি;

কেও না জানুক, আমি তো জানি;

মনের খোলস খুলতে খুলতে দেখি কালো লোভের খোলস
লোভের খোলস ঢাকতে গিয়ে ঢুকে যাই মিথ্যের খোলসে
মিথ্যে ঢাকতে গিয়ে অপরাধের জগতে, তারপর হেরে যাই রিপুর কাছে
ঐ তো আয়নার ভেতরে রক্ত মাংসের জলজ্যান্ত পাপ;

কেও না জানুক, আমি তো জানি

তারপর একসময় চামড়ায় টান ধরে জীর্ণতা
ন্যুজ্ব কুঁজো হয়ে আসে হাড়ের কঙ্কাল
সারারাত পাপ করে ভোরের সূর্যে অনুতাপের নিঃশব্দ চিৎকারে স্বীকার করি
হ্যাঁ, আমিই মন; চামড়ার খোলসে মোড়া রিপুর কাছে পরাজিত একদলা এঁটেল মাটি

কেও না জানুক, আমি তো জানি।


৮ জুন, ২০২০

#কবিতা
স্বীকারোক্তি






বৌ-শাশুড়ি



বৌ-শাশুড়ি
- যাযাবর জীবন


যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে বৌ শাশুড়ির লড়াই
কোন কারণ ছাড়াই,
ট্র্যাডিশন! বোধহয় বলতে পারি;

বোধবুদ্ধি হওয়ার পর থেকে দেখে আসছি
এঘরে ওঘরে সেঘরে, আমার ঘরে তারঘরে ওর ঘরে
ডানের ঘরে বাঁয়ের ঘরে, ওপর তলার ঘরে নিচ তলার ঘরে
ঘরে ঘরে ঘরে ঘরে
দিন নাই রাত নাই সকাল নাই সন্ধ্যা নাই
বৌ আর শাশুড়ি ঝগড়া করে;

এই যে ঘরে ঘরে দুজনে লড়ে!
কে জেতে? কেই বা হারে?
কে বলতে পারে?

ঘরে ঘরে শাশুড়ি-বৌ এর অশান্তি
লেগে আছে তো লেগেই আছে যত্রতত্র
এ যেন এক শেষ না হওয়া কাব্য
দা-কুমড়ো তো উপমা মাত্র;

অথচ আজকের শাশুড়ি কিন্তু এক সময়ের বৌ ছিলো
আজকের বৌটাও কিন্তু একসময় শাশুড়ি হবে
এটাই শাশ্বত
এটাই সত্য;

শাশুড়ি কখনোই মা হতে পারে না
তার ব্যবহারে, আচার আচরণে কিংবা কাছে টেনে নেয়ায়,'
কেন? কেও জানে না;

বৌরাও কখনোই মেয়ে হতে পারে না
হয়তো শাশুড়ির কাছ থেকে পাওয়া ব্যবহারে, আচার আচরণে কিংবা দূরে ঠেলে দেয়ায়,
তাই কি? নাকি রক্তে ট্র্যাডিশন! কেও জানে না;

ফলশ্রুতি!
দা-কুমড়োই বলি কিংবা বটি-তরকারি
লেগেই থাকে ঘরে ঘরে
আর ঝনঝন থালা-বাটি হাঁড়িকুঁড়ি;

একজন পাটা তো আরেকজন পুঁতো
দুজনে দিনরাত যেন কাপড়ে চালায় সেলাই সুতো
মশলা কিন্তু একজনই কিংবা কাপড়টা
- আমি, তুমি, ও কিংবা সে,
- একই ব্যক্তি
- মায়েদের সন্তান আর স্ত্রীদের স্বামী
ট্র্যাডিশনের ভুক্তভোগী;

না পারে মা'কে সামলাতে
না পারে বৌকে
বিনা অপরাধে দুজনারই রোষানলের ভাগী;

মা'কে বোঝাতে গেলেই
- কুলাঙ্গার ধরেছি পেটে, বেটা বৌ এর গোলাম
স্ত্রীকে বলতে গেলে
- তোমার ঘরে এসে, বলো আমি কি পেলাম?
ইমোশনাল ব্ল্যাক-মেইলিং এ, কেও কারো থেকে কম যায় না
কথার ছুড়িতে কারোরই ধার কম না,
ছেলেদের বোধহয় হজম শক্তি অনেক বেশী, তাই না?

মায়ের সাথে গলা উঁচুর প্রশ্নই ওঠে না;
পরিবারের মাধ্যমে সমঝোতা? আসলে হয় না
- গুরুজনের একটাই বক্তব্য, স্ত্রী'কে ছেড়ে দাও
আরে বাবা! ও কি আমার সন্তানের মা না? বলতে গিয়ে কেন এরা একবারও ভাবে না?
কেন ভুলে যায়! ওর ঘরেও তো একই কাহিনী;
স্ত্রী'কে কড়া কিছু বলব?
ব্যাস! হয়ে গেলো, বোঁচকাবুচকি নিয়ে বাপের বাড়ি
আমার সংসার সামলায় কে? আমার বৃদ্ধা মায়ের সেবা করে কে?
তথাকথিত গুরুজনেরা এসে?
অগত্য! দায় সব আমারই,
ছেলেদের বোধহয় সহ্য ক্ষমতা অনেক বেশী, তাই না?

ওহে দেখছ কি? আমি তোমারই ঘরের গল্প করছি
আমার ঘর, তোমার ঘর, পাশের ঘর
তার পাশের ঘর
তারও পাশে
যতদূর চোখ যায়,
প্রতিটা ঘরের প্রায় একই রকম কাহিনী;

হ্যাঁ! আমি বোধহয় নব্বই শতাংশ ঘরের কথাই বলছি;
অল্প কিছু কম হলো কি
কিংবা অল্প কিছু বেশী?
আসলে বৌ-শাশুড়ির চিৎকারে কেও শুনতেই পাচ্ছে না কি বলছি।


০৪ জুন, ২০২০

#কবিতা





অনুভূতির নাম



অনুভূতির নাম
- যাযাবর জীবন


আলোটা বড্ড চোখে লাগছে
বলতেই তুই বাতি নিভিয়ে দিলি
অথচ যদি আমার চোখ পড়তে পারতি তবে বুঝতি
বড্ড চুমু খেতে ইচ্ছে করছিলো তোকে

বড্ড মেঘ করেছে আজ
বলতেই তুই ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিলি
অথচ অথচ যদি আমার চোখ পড়তে পারতি তবে বুঝতি
আজ আমার বড্ড মন খারাপ

কি তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে, তাই না?
বলতেই তুই জানালার পর্দাগুলো টেনে দিয়ে বললি, দেখো আবার ভিজো না যেন
অথচ অথচ যদি আমার চোখ পড়তে পারতি তবে বুঝতি
তোকে নিয়ে বড্ড ভিজতে ইচ্ছে করছে ঝুম বৃষ্টিতে

আচ্ছা! চোখে কি ভাষা লেখা থাকে না?
তবে পড়তে পারিস না কেন রে?

এই যে রোদ উঠলে তোর মাঝে রাগের তেতে ওঠা দেখি!
এই যে চায়ের কাপে চুমুকে চুমুকে তোকে চুমু খেতে ইচ্ছে করে
এই যে বৃষ্টি হলেই তোর সাথে ভিজতে ইচ্ছে হয়
এই যে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে তোতে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে
এই যে জ্যোৎস্না দেখতে দেখতে তোকে দেখি
এই যে অন্ধকারে এত এত কবিতা লিখি!

চোখের ভাষা বুঝিস না কেন রে?
বুঝেছি, তুই আমার চোখ পড়তেই চাস না রে!

আসলে ভালোবাসার মানুষের চোখ পড়তে নেই
ওখানের সুখ আর আনন্দটুকু যদিওবা হাসায়
তবে বেদনাগুলো তারচেয়ে অনেক বেশী কাঁদায়।

এই যে তোকে দেখলেই,
তোর চোখ পড়লেই,
আমার ভেতরের যে অনুভূতিগুলো জেগে ওঠে!
এ অনুভূতিগুলোর কি কোন নাম আছে?


০১ জুন, ২০২০

#কবিতা

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত







হিপোক্রেসির কাব্য



হিপোক্রেসির কাব্য
- যাযাবর জীবন

----------------------------
কেও কেও বলে কাব্য হয় বিচ্ছেদে;
একদিন কেও তো ছিলো! এই অনুভবে,
অনুভব তো অনুভবই,
যখনি তার কথা মনে হয়!
যখনই সৃতি দাগ কাটে মনে, কলম দাগ কাটতে বসে যায় কাগজে
কখনো কবিতার ছন্দে, কখনো বা স্মৃতির রোমন্থনে
আরে বাবা!
মনে স্মৃতির জাবর না কাটলে কবিতা হবে কি করে?

আর মিলনে?
সে তো ঘরের বৌ!
এখানে কাব্য কোথায়?
এখানে দৈনন্দিন হাঁড়িকুঁড়ি
বাজার সদাই এর ফর্দ
এটা নাই ওটা নাই
এটা চাই ওটা চাই
সকালে নাস্তা করে অফিস যাই
রাতে রমণ শেষে দুজন দুপাশ ফিরে ঘুমাই;
ধ্যাত! এটা কিছু হলো?

আরে বাবা!
হলো, এটাও হলো
সংসার কারো কাছে যন্ত্রণা
আর কারো কাছে সংসারটাই কবিতা
যে যেভাবে দেখে,
তুমি কিভাবে দেখছ?
ওহে বাছা!
তোমার তো দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর সময় হলো;

আচ্ছা! বৌ কে যখন গভীর আবেগে বুকে জড়িয়ে ধর
তখন, ঠিক তখনই কি পুরনো প্রেমিকা মাথাচাড়া দেয় কখনো?
এই যে সারাদিন বৌ এর সাথে লেপ্টে থাকো!
কবিতায় কেন প্রেমিকা আঁক?

আচ্ছা! হিপোক্রেসিকে কবিতার ভাষায় কি বলে?

৩১ মে, ২০২০

#কবিতা

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত, কিছুটা এডিট করা