সোমবার, ২২ জুন, ২০২০

তুই হয়ে




তুই হয়ে
- যাযাবর জীবন


যতটুকু ক্ষমতায় ছিলো দিয়েছি তোকে,
তবুও কি পুরোপুরি দেয়া হয়েছে?

আমি আর কতটুকুই বা দিতে পেরেছি তোকে?
একটা পাহাড় চেয়েছিলি, দিতে পারিনি
একটা জঙ্গল চেয়েছিলি, দিতে পারি নি
একটা নদী চেয়েছিলি, দিতে পারিনি
একটা সাগর চেয়েছিলি, দিতে পারি নি
একটা চাঁদ চেয়েছিলি, দিতে পারি নি
একটা আকাশ চেয়েছিলি, দিতে পারি নি

কতোটুকুই দিয়েছি তোকে?
তবুও চেষ্টার কিছু কম তো করি নি;

যখন পাহাড় চেয়েছিলি তোকে নিয়ে গিয়েছিলাম পাহাড়ে
দুদিন পাহাড়ে থেকেই তুই হাঁপিয়ে উঠেছিলি
বললি এখানে নয় এখানে নয় জংগলে চলো

আমরা দুজন মিলে জংগলে চলে গেলাম
দুদিন ঘন জংগলে তাঁবু খাটালাম
জংগলের নিস্তব্ধতা সইলো না তোর, বললি নদী চাই

আমি নদীতে নিয়ে গেলাম তোকে
নৌকোর ওপর দুদিন থেকেই হাঁপিয়ে উঠেছিলি
বললি উঁহু এখানেও হবে না তোর সাগর লাগবে

নিয়ে গেলাম সাগরে, দুদিন অনেক করে বালিয়াড়ি ধরে হেঁটে বেড়ালাম
তোর মন ভরলো না, একদিন সাগর সাঁতারে কিছু লবণ মুখে যেতেই বললি
ধ্যাত! সাগর পচা, লবণে ভরা, তোর চাঁদ চাই

চাঁদে আমি কিভাবে যাই?
একদিন খুব জ্যোৎস্না উঠলো যেদিন তোকে চাঁদ দেখালাম
সারারাত চাঁদের নীচে প্রেম করে বললি উঁহু, চাঁদে দাগ, তোর আকাশটাকেই চাই

আচ্ছা! তুইই বল, আকাশ আমি দেব কিভাবে?
আমি তোকে নীল দিতে চাইলাম তুই বললি হবে না
আমি তোকে ভোরের লাল দিতে চাইলাম তুই বললি বড্ড ফিকে
আমি তোকে সূর্যাস্তের গাঢ় লাল দিতে চাইলাম তুই বললি বেশি লাল
তারপর তোকে রাত দিলাম, অন্ধকারে ভয় পেয়ে তুই আমায় জড়িয়ে ধরলি
অভিমানে বললি, ওগুলো কিছুতেই তোর মন ভরছে না;

আমি বিহ্বল হয়ে বললাম, তাইলে কি দেব বল তোকে?
অনেক অনেকক্ষণ চিন্তা করে বললি - 'আমি তোমাকেই চাই'

আমি বললাম ব্যাস! ওটুকুই?
তুই আবারও চিন্তা করে বললি
হ্যাঁ,
তোমার কাছে ওটা ওটুকুই
আমার কাছে পাহাড়
ওটুকুই আমার জঙ্গল
ওটুকুই আমার নদী
ওটুকুই আমার সাগর
তুমিই আমার চাঁদ, তুমিই আকাশ
ওটুকু হলেই আমার আর কিছু চাই না, ব্যাস;

আমি আর কতোটুকুই দিতে পারি বল!
তবে সেই থেকে তোকে আমি আমায় দিলাম
পুরোটাই, আমার আর কিছুই রইলো না আমার হয়ে

আর তারপর থেকে আমি তোর হয়ে রইলাম 'তুই হয়ে'।

১৫ জুন, ২০২০

#কবিতা
তুই হয়ে
- যাযাবর জীবন

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত, এডিট করা







ভেজা রংতুলি





ভেজা রংতুলি
- যাযাবর জীবন


একটা সময় ছিলো
তার জন্য সকাল হতো
ভোর হতো আকাশ
একটা পরিযায়ী পাখি ঢুকতো আমার ঘরে
আমায় জাগিয়ে তুলতো তার নরম ডানাগুলো খুলে খুলে
আর তার বিছানো চুলের ঘাসে লেগে থাকতো কিছু শিশিরের জলরাগ
আমি তার ঠোটের কমলা থেকে একটা কামড় খেতেই
ক্যানভাসে মালটার রঙ ধরে যেত
তার বুকের ডালিম ভাংতেই পেন্সিলের ডগায় চলে আসতো সূর্যের লাল রঙ
আমি জলরং খুঁজতে খুঁজতে একটা নদী খুঁজে যেতাম,
তাকে আঁকব বলে;

তার দুষ্কর বাঁকে বাঁকে নিজেই হারিয়ে গিয়েছি কতবার!
সেদ্ধ হয়েছি তার ভেতর জমিয়ে রাখা বুনোতাপে
ভালোবাসার জলীয়বাষ্পে মেঘ জমে উঠতো আকাশে আকাশে
আমি বুকের পাঁজরে তাকে ঢেকে নিতেই শরীরে ঝড়
প্লাবন ডাকতো নদীতে আর প্রচণ্ড ঢেউ এ নৌকোর দুলুনি
তারপর ঝুমঝুমান্তি বৃষ্টিতে ধুয়ে যেত রংতুলি;

তাকে আর আঁকা হতো না,
কি করে আঁকব বল!
বৃষ্টিস্নাত ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরটায় ঘুম যে বড্ড টানে
আর তার আদর মেখে থাকে অনুভবের অস্তিত্ব জুড়ে।


১৩ জুন, ২০২০

#কবিতা
ভেজা রংতুলি
- যাযাবর জীবন






চাটুকার বিশেষণ




চাটুকার বিশেষণ
- যাযাবর জীবন


চাটুকারে চাটুকার
চারিদিকে চাটুকার
খোলা আছে হাটু কার
একটু চাটবে, যাকে পাবে তার

চাটাচাটি করে সে
চাটুকারি করে যে
হোক সে মন্ত্রী কিবা হোক রাজাকার
চোখবন্ধ চেটে যায় একমনে চাটুকার

এই যে চাটছিস! পেলি কি কিছু?
তুই বল দেখি, বাকি আছে কি আমার?
তোর আগেও চেটে গেছে
বহু বহু চাটুকার;

কেন? অনেক পেয়েছি উচ্ছিষ্ট, রুটি আর রুজি
চাটায় জুটেছে হালুয়ার চিনি সুজি
চাটার পাশাপাশি আপনাকে করেছি সম্ভাষণ
বিনিময়ে বিশাল প্রাপ্তি, চাটুকার বিশেষণ।

১৩ জুন, ২০২০

#কবিতা
চাটুকার বিশেষণ
- যাযাবর জীবন






বৃষ্টির স্মৃতি



বৃষ্টির স্মৃতি
- যাযাবর জীবন


বৃষ্টি নামলেই মন খারাপ
ঝুম বৃষ্টিতে তো কথাই নেই
মনে আছে তোর!
ঐ যে আমরা ঝুমঝুমান্তি ভিজেছিলাম সেই?

টিপ টিপ টিপ টিপ আকাশের কান্না
আকাশের অভিমান?
ভিজতে ভিজতে ঠোঁটের কোলাজ
বৃষ্টির প্রতিদান;

মেঘ ঘন হতেই তুই ঘন হয়েছিলি বুকে
তুই ঘন হতেই ঠোঁট ছুঁয়েছিল ঠোঁটে
তারপর টিপ টিপ হতে ঝুম বৃষ্টি নামলো
ভিজলাম আমরা ভেজা প্রেম নামলো

আচ্ছা, বলতে পারিস!
স্মৃতিগুলো কেন নেমে আসে আকাশ থেকে?
আর মন খারাপের হাওয়া বয়ে যায় চারিদিকে
দাঁত কামড়ে কলম আমার কেনই বৃষ্টি আঁকে?

বৃষ্টি আঁকে কি? নাকি তোকে?
স্মৃতির বাস কোথায়? মস্তিষ্কে না বুকে?
আজ বৃষ্টি নেমেছে ধুম, ভিজবি আমার সাথে?
নাকি কলমে প্রেম আঁকব? চিরাচরিত মনে করে তোকে।

১৩ জুন, ২০২০

#কবিতা
বৃষ্টির স্মৃতি





নির্ভরতার গন্ধ




নির্ভরতার গন্ধ
- যাযাবর জীবন


একটা সময় ছিলো
যখন বাবা ছিলো,
এখন শুধুই স্মৃতি;

একটা সময় ছিলো
মাথার ওপর ছাতা ছিলো
তুমুল বৃষ্টিতে মাথার ওপর নিশ্চিন্ত ছাতা;

একটা সময় ছিলো
মাথার ওপর ছায়া ছিলো
ছায়াটা কেমন জানো?
ঐ যে ধু ধু প্রান্তরে যখন রোদ মাথার ওপর!
আর মাঠের ঐ বিশাল বটগাছটার ছায়াটা, ঠিক তেমন;

একটা সময় ছিলো
মাথার ওপর ছাদ ছিলো
প্রচণ্ড ঝড়ে মাথার ওপর পাকা ছাদ,
আর আমি বাবার বুকে মুখ গুঁজলেই নির্ভরতায় নির্ভার;

আচ্ছা! নির্ভরতার গন্ধ কেমন জানো?
বাবার গায়ের গন্ধ শুঁকে দেখো;

তারপর একদিন হঠাৎ,
খুব হঠাৎই দেখলাম মাথার ওপর ছাতাটা নেই ঝুম বৃষ্টিতে
প্রচণ্ড রোদে বটগাছটা কোথায় জানি উধাও হয়ে গেছে
এক ঝড়ের রাতে অনুভব করলাম মাথার ওপরে কোন ছাদ নেই;

সে যে কি প্রলয়ঙ্করী এক ঝড়!
প্রকৃতি ও জীবনে,
অথচ আমার কোন নির্ভরতার জায়গা নেই
নেই কোথাও নির্ভরতার গন্ধ,
শুধু পড়ে আছে বাবার কিছু স্মৃতি
আর অসহায় আমি তাই চেয়ে চেয়ে দেখি;

কোথায় জানি কে কে কাঁদছিল,
অথচ আমি গলার ভেতর আটকে রেখেছিলাম
দমকে দমকে আসা প্রচণ্ড কান্নাগুলো,
কে যেন বলছিলো ভেতর থেকে, শক্ত হতে হবে এবার তোমাকে
হতে হবে কারো ছাতা
কারো বটগাছ
কারো মাথার ওপরের ছাদ,
নির্ভরতার গন্ধ আনতে হবে এবার আমার ঘামে
বাবা হতে হবে এবার আমাকে;
সে যে বড় কঠিন কাজ!

প্রকৃতিই বোধহয় বাবা'কে ঘুম পাড়িয়ে রাখে সন্তানের মধ্যে
তারপর একসময় খুব হুট করে বাবা'রা চলে যায় কোন এক অন্য ভুবনে
সন্তানের ভেতর ঘুমন্ত বাবা'কে জাগিয়ে দিয়ে,
আর ঘুম থেকে আড়মোড়া ভেঙে ওঠে সন্তানের শুরু হয়ে যায়
বাবা হওয়ার লড়াই;

বাস্তবতাটা বড্ড কঠিন
কঠিন ছাতা হয়ে ওঠা
কঠিনতর বটগাছ হয়ে ওঠা
কঠিনতম মাথার ওপর ছাদ হয়ে ওঠা
কঠিন থেকে কঠিনতম - বাবা হয়ে ওঠা;

নির্ভরতার গন্ধ এমনি এমনি আসে না।


১৩ জুন, ২০২০

#কবিতা
নির্ভরতার গন্ধ
- যাযাবর জীবন

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত, এডিট করা।






মেঘের ভালোবাসা, মেঘের কান্না



মেঘের ভালোবাসা, মেঘের কান্না
- যাযাবর জীবন


আজ সারাদিন মনখারাপের টিপটিপ বৃষ্টি
অনেকদিন বৃষ্টিতে ভেজা হয় না
অনেক দিন ভেজা হয় না তোতে
একটু ভিজবি?
চল;

বৃষ্টিতে কোন প্রেম নেই
নেই আবেগ, নেই অনুভূতি
ঝিরঝির করে ঝরছে শুধুই জল
চল আজ বৃষ্টিতে ভালোবাসা মেশাই
চল আজ বৃষ্টিকে ভালোবাসা শেখাই,
চল ভিজি, চল!

এই যে টিপটিপ টিপটিপ ঝরছে!
বৃষ্টিতে শুধুই জল দেখে সবাই
মেঘের কান্না কেও বোঝে না
বোঝে না মেঘের অনুভূতি, মেঘের মন খারাপ
তাই তো বাতাসে মেঘের ইতিউতি চলাচল
কে মেঘের মন বোঝে, বল?
আরে মনে ভালোবাসা থাকলে তবেই না কান্নার জল;

মেঘের আজ বড্ড মন খারাপ
মন খারাপ আমারও
আচ্ছা! তোর মন ভালো আছে আজ?
তবে ভালোবাসাবাসি করি, চল!
আজ ভালোবাসায় বৃষ্টি নামাই
ভালোবাসায় তোকে ভেজাই, চল!

সবাই কি আর ভালোবাসতে পারে রে?
মেঘ পারে, নদী পারে, সাগর পারে
ওদের সবার আছে জল,
আমি তো কেবল শিখছিই আর শিখছি,
মেঘের কান্নায়, বাতাসের হো হো শব্দে
ঝড়ে, ঝঞ্ঝায়, বন্যায় আর সাগর জলে
আর চেখে যাচ্ছি মনের লবণ জল;

আচ্ছা! তোর চোখে কেন এত জল?
অনেক ভালোবাসিস বুঝি?
তাহলে বল
চিৎকার করে বাতাসের হো হো শব্দ ছাপিয়ে দিয়ে বল
"ভালোবাসি"
"ভালোবাসি"
"ভালোবাসি"

তারপর সব ওলোটপালট করে দিয়ে
দুজন ভালোবাসার কান্নায় ভিজি চল।


১১ জুন, ২০২০

#কবিতা
মেঘের ভালোবাসা, মেঘের কান্না





হৃদয় জাগাতে হয়



হৃদয় জাগাতে হয়
- যাযাবর জীবন


এই যে পাগলের মত আদর কর!
শুধু তো শরীরটাকে ছানো
মন বুঝ কি?
নারী চেনো?

আমি ওর মাঝে ডুবে যেতে যেতে কিছু বিড়বিড়ানি শুনছি
বোধগম্য হচ্ছে কি?
ধ্যাত! এ সময় কে হাবিজাবি বুঝতে চায়!
আমি শরীর বুঝি, শরীর খুঁজি
কামে অন্ধে'র আবার বিচার বিবেচনা আছে নাকি?

শাড়ির ভাঁজ খুলতে খুলতে যখন শরীরের ভাঁজে হাত দেই
সূর্যের বিস্ফোরণ তখন আমার গায়
লবণে ভিজতে আমি সাগরে ডুবতে যাই
কে যেন ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় আমায়;

আমি চমকে উঠে যাই
তোর চোখে তাকাই
ওখানে সূর্য নেই, নেই উত্তাপ
বরফ শীতলতায় বিড়বিড় করছে তোর ঠোঁট
- 'ওখানে নয় ওখানে নয়
এই যে স্তনে ধরে আছ! ঠিক তার দু ইঞ্চি নীচে হৃদপিণ্ড রয়
ওখান থেকে শুরু করতে হয়'
ওখানে প্রাণ আছে
প্রথমে প্রাণ জাগাতে হয়
তারপর প্রেম জাগাতে পারলে তবেই না কাম
আর নয়তো কুকুর রমণে ঝরে শুধুই পুরুষের ঘাম,
আগে নারীকে বুঝতে হয়
নারীতে ডুব দেয়া? এত সোজা নয়;

আমার শরীর হঠাৎ করেই থার্মোমিটারর কাঁটায় হিমাঙ্ক ছুঁয়ে যায়
রিপুর আয়না ভেঙে যেতেই চপেটাঘাত বোধোদয়
তাই তো! পুরুষ হতে হলে আগে প্রেমিক হতে হয়
তারপর হৃদয়টা ছুঁতে হয়
তবেই না নারী কথা কয়!
তবেই না শরীর শরীরের হয়!
হ্যাঁ, নারীতে ডোবা খুব সহজ কাজ নয়।


১১জুন, ২০২০

#কবিতা
হৃদয় জাগাতে হয়
- যাযাবর জীবন