মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

খাদ্য ও ক্ষুধা

খেতে কে না পছন্দ করে!

সবাই কি আর খেতে পারে?


কারো পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা থাকে 

খুব মাঝে মধ্যেই খাদ্য জোটে

সেটা খাদ্যের অভাবে কিংবা অর্থের, 


কারো পেটে ক্ষুধা থাকে, মনে খাওয়ার বাসনা   

খাবারও সামনে থাকে, তবুও খেতে পারে না 

অরুচি কিংবা অন্য কোন অসুখের কারণে,


কারো পেটে ক্ষুধা থাকে, ক্ষুধা থাকে মনে  

অর্থেরও কোন অভাব নেই খাবার কেনার জন্য 

রুচির অভাব নেই মুখে, দেদার খেতে পারে    

অসুখও নেই কোন যে খেতে বাঁধা আছে

তবুও এরা খেতে পারে না, কৃপণতার জন্য 

এরা শুধু টাকা চেনে, টাকা জমায় আর টাকা গুনে,  


কত রকম মানুষই না আছে পৃথিবীতে! 

 আছে কত রকমই না ক্ষুধা!  


০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


খাদ্য ও ক্ষুধা 

 - যাযাবর জীবন 

দোষের পাঁচ

দোষ 

সবাই করে 

একটা মানবিক  ত্রুটি 

কখনো ভুলে হতেই পারে  

আমার করায় কোন দোষ নেই  

অন্যে করলেই দোষ দেখি 

পরের পিছন শুঁকতে 

ভালো লাগে

ছিদ্রাহ্নেষী 



পরনিন্দা 

কারো অনুপস্থিতিতে 

আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে 

ভাইয়ের মাংস খাওয়া বলে 

অথচ আমরা নিত্যই খাই চিবিয়ে 

এটা চরম খারাপ জেনেশুনে 

তবুই করেই যাচ্ছি 

আসলে স্বভাবে 

গীবত 



রিপু 

আমার আছে  

মানুষ মাত্রেই থাকে  

কারো বেশি কারো কম   

এত বাছবিচার করে চলা যায়!  

আমার দিকে তাকাও কেন? 

অন্যে করলে দোষ 

আয়নায় দেখি 

লোভাতুর   


লোভ 

কার নেই? 

অর্থ অনর্থের মূল  

আমি ধোয়া তুলসী পাতা? 

টাকা দেখলে এক হাত জিহ্বা  

আলজিহ্বাও বের হয়ে যায় 

আর চকচকে চোখ 

ঢাকব কিভাবে? 

লোভী 



স্বার্থ 

শুনতে খারাপ

সম্পর্ক নাড়িয়ে দেয় 

সকল ঝগড়া ফ্যাসাদের মূল  

অর্থ সম্পত্তি সম্পর্ক থেকে দামী

স্বার্থে সম্পর্ক ছিন্ন হয়  

তবুও স্বার্থের জয়    

সম্পর্কের নয়  

স্বার্থপর  


৩১ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


দোষের পাঁচ 

 - যাযাবর জীবন 







 

জুড়ে দেয়া পারিবারিক সম্পর্কগুলো

জুড়ে দেয়া সম্পর্কগুলো কেমন যেন বড্ড অন্যরকম

হ্যাঁ, বিবাহ সূত্রে জুড়ে দেয়া পারিবারিক সম্পর্কগুলো, 

ওগুলো কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়

কখনো অবোধ্য, কখনো বড্ড ভাবায়; 


এই ধর যেমন, শাশুড়ি আর বৌ এর সম্পর্ক, 

শাশুড়ি কেন জানি কখনোই মা হতে পারে না 

মেয়ে হতে পারে না কেন জানি বৌগুলো,  

অথচ কি নির্বিকারেই না ছেলে বনে যায় মেয়ের স্বামীটা  

কি সহজেই না মা হয়ে যায় ছেলেগুলোর শাশুড়ি

বৌগুলো পারে না কেন? কেন পারে না বৌ এর শাশুড়ি? 


জায়ে জায়ে গলায় গলায় মিল দেখেছ তোমরা? আমি দেখি নি

অথচ ভায়রা আর ভায়রা কি সহজেই না বন্ধু বনে যায়! 

মা আর ছেলেতে কোথায় জানি একটা অন্যরকম মিল থাকে 

অথচ ছেলের ঘরে বৌ আসলেই মা বনে যায় পুরোদস্তর শাশুড়ি 

তখন কেন জানি ছেলে থেকে বেশি আপন হয়ে যায় মেয়ের স্বামী, 

অন্যরকম আলাদা একটা মিল থাকে বাবা আর মেয়েতে 

শ্বশুর আর মেয়ে জামাই এর খুব একটা গলায় গলায় ভাব না হলেও

ওদের মাঝে খুব একটা খারাপ সম্পর্ক সচরাচর দেখা যায় না,

আমি পারিবারিক এ সমস্যাগুলো একদমই বুঝতে পারি না 

অথচ প্রতিনিয়ত চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি একই ঘটনা; 


তুমি, আমি, তোমরা, আমরা চোখের সামনে জুড়ে দেয়া এই সম্পর্কগুলো দেখছি

জুড়ে দেয়া সম্পর্কগুলোর ভেতরের ফাঁকগুলো বড্ড চোখে লাগে, মনে বাজে  

এ ফাঁপা সম্পর্কগুলোতে নিজেকে না জুড়ে নেয়া যায়! না বিচ্ছিন্ন করা যায়!  

প্রায় সংসারেই ভুক্তভোগী ছেলেগুলোকে এ সম্পর্কগুলো সময় সময় কাঁদায়। 


২৯ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


জুড়ে দেয়া পারিবারিক সম্পর্কগুলো  

 - যাযাবর জীবন 



  

লবণের ছিটা

লবণ ছিটাতে আমাদের জুড়ি মেলা ভার 

কোথাও লাগুক আর নাই বা লাগুক

একটু লবণের ছিটা তো দিবেই!  

আরে না, না! তরকারিতে না; লবণের ছিটা দেবে মনেতে   

মাঝে মধ্যে আমিও ছিটাই, তুমি ছিটাও না? 

কারো ক্ষতে লবণ ছিটিয়ে দেখই না 

এর থেকে মজা! অন্য কিছুতেই পাবে না; 


সব মানুষই মনে হয় লবণ ছিটায়

কেও একটু কম কেউ বা বেশি,  

কোথাও একটু ক্ষত দেখলেই হলো 

ওখানে মলম লাগাবে না রে! লবণ ছিটাবে 

এক চিমটি হলেও একটু ছিটা দিবেই দিবে 

গায়ে সান্ত্বনার হাত বুলোতে বুলোতেই লবণ ছিটাবে,

লবণ ছিটানোতে ওরা অন্যরকম একটা আনন্দ পায়; 


আমি আজকাল খুব যত্ন করে ক্ষতগুলো ঢেকে-ঢুকে রাখি

তবুও সব ক্ষত কি আর ঢাকা যায়!

কোথাও যদি দেখা যায় ক্ষতের একটু উঁকি!

ওমনি কাছের মানুষগুলো এক চিমটি লবণের ছিটা দিয়ে যায়

হ্যাঁ, কাছের মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি লবণ ছিটায় 

গায়ে মাথায় সান্ত্বনার হাত বুলাতে বুলোতে,

খবরদার ক্ষত দেখিও না কিন্তু, কাছের মানুষগুলো'কে।  


২৭ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


লবণের ছিটা 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





ঘর বাড়ি

সবাই তো বাড়ি ফিরে, ঘরে কি ফিরে? 

বাড়ি মানেই ইট কাঠ দালান কোঠা, 

ওগুলোতে অনুভূতি কোথায়? 

বাড়ি কি অপেক্ষায় থাকে? 


আমরা ঘরে ফিরতে চাই, 

যেখানে খুব মমতায় মা জিজ্ঞাসা করবে, কেমন ছিলি রে খোকা? 

যেখানে বাবা বলবে, সারাদিন ক্লান্ত হয়ে এসেছিস, যা আগে হাত মুখ ধুয়ে নে

স্ত্রী হয়তো বাবা-মায়ের সামনে কিছু বলবে না, তবে বেডরুমে একা পেলেই একটু জড়িয়ে ধরবে

জড়িয়ে ধরাটাই অনেক কথা বলে দেয়, সব কি আর মুখে বলতে হয়?

ছেলেমেয়েগুলো বাবা এসেছে বলে ছুটে আসবে, জড়িয়ে ধরবে; 

এই যে কাছের মানুষগুলোর এত এত ভালোলাগার অনুভূতির বহর! 

এদের নিয়েই তো ঘর; 


কারো কারো ঘরে ফেরার তাড়া থাকে 

ওখানে প্রিয়জনরা অপেক্ষায় আছে, 

কেউ কেউ বাড়ি ফিরতে ভয় পায়

ওখানে ইট কাঠ দালান কোঠা হো হো হাসে; 


ঘরে ফেরা মানেই আনন্দ,   

বাড়ি ফেরা সহজ নয়। 


২৫ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


ঘর বাড়ি 

 - যাযাবর জীবন 


অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে!

একটা ছেলে আর একটা মেয়ের জীবনের দিকে তাকাও! 

কোনা পার্থক্য দেখতে পাচ্ছ? 

কোন মিল? 

আমি তো দেখতে পাচ্ছি শুধুই অমিল,

ভুল হচ্ছে না তো আমার? 

বয়স হলে চোখ কত ভুলই তো দেখে, মন ভুল ভাবে,

আমি যা দেখছি সেটুকু একটু বলি! 

ভুলগুলো ধরিয়ে দিও;  

 

একটা ছেলে আর একটা মেয়ের জীবন 

ওগুলোকে একটু দেখার চেষ্টা করি জীবনের ধাপে ধাপে,   

দুজনার জীবনেই শৈশব থাকে, কৈশোর থাকে 

দুজনার জীবনেই যৌবন আসে, আসে প্রৌঢ়ত্ব, আসে বার্ধক্য 

এক এক জীবনকে না হয় ভেবে নেই এক একটা অধ্যায়! 

জীবনের অধ্যায়;

 

শৈশবটা দুজনারই অনেকটা একই রকম কাটে

খেলা খেলায়, আদরে আদরে

যেই না কৈশোরের আগমন ঘটলো! চোখের পলকে অধ্যায় বদলায়, 

ছেলেগুলোর কৈশোর কাটে খেলা খেলায়

পড়াশুনাটা ঠিকঠাক করলে আর তেমন বিধিনিষেধ কোথায়? 

অথচ মেয়েগুলো আটকে যায় বিধিনিষেধের বেড়াজালে 

এটা করো না, ওটা করো না, এখানে যেও না, সেখানে যেও না, একা যেও না 

ওভাবে কাপড় পড়তে হয় না, শরীরটা ঢেকে রাখো, ওড়নাটা ঠিক করো 

পড়াশুনার পাশাপাশি প্রতিটা মা'ই তার মেয়ে'কে, মেয়ে হওয়া শেখায়; 


যৌবন? 

ছেলেগুলোর খেলাধুলো অব্যাহত থাকে 

পড়াশুনায় ঠিক থাকলে ওদের একটু আধটু প্রেম গুরুজনের চোখে দুষ্টুমি,

মেয়েরা প্রেম করলেই তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে

এ মেয়েকে ঘরে রাখাই দায়! লেগে যায় বিয়ের জোগাড়ে

আর কৈশোরে প্রেম? ও তো মহাপাপ! 

প্রেমের ভুত ভাগে গুরুজনের মারে,

আর প্রেমে যদি বাঁধা দিতে না পারে তবেই বিপত্তি 

সে কৈশোরেই হোক কিংবা যৌবনেই

বিয়ে দিয়ে হাঁপ ছাড়ে মা-বাপ,

আরে মেয়েদের আবার মন আছে না কি? 

মা গুলোও ওসময় কেন যেন ভুলে যান  

কোন একদিন ওনারাও কিশোরী ছিলেন, ছিলেন যুবতী, 

প্রচণ্ড সাহসী না হলে আসলে মেয়েদের প্রেমের হয় না কোন গতি;   


বৈবাহিক জীবন! 

সাধারণত ছেলেরা একটু দেরী করেই এ জীবনে ঢুকে

সাধারণ হিসাবে পড়ালেখার পর চাকরি বাকরি, আয় রোজগার

নিজের পায়ে দাঁড়ানো, তারপর বিবাহ

আর যদি প্রেম করে তবে কত কিছুই তো ঘটে যেতে দেখি!

আপাতত সে না হয় বাদ'ই দিলেম;

মেয়েরা খুব সহসাই এ জীবনে ঢুকে পড়ে

বেশীরভাগ প্রথম যৌবনে, বাবা-মা যেভাবে চান

আর অল্প কিছু কৈশোরে, সাহসী প্রেমের টান;


সংসার! 

ছেলেদের ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা শেষে কাঁধে টিফিন বক্স ঝুলিয়ে অফিস যাওয়া

সন্ধ্যেয় হেলতে দুলতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরে একপেট নাস্তা 

রাতের খাবার শেষে বিছানায় যেতে না যেতে উথলে ওঠা প্রেমে বৌ'কে কাছে পাওয়ার বাসনা

রমণ শেষে নাক ডেকে ঘুম, সকালে অফিসের প্রস্তুতি শেষে নাস্তার টেবিল, 

সাপ্তাহিক ছুটি ছাটায় সাপ্তাহিক বাজার করে বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা

মাসে একবার শ্বশুর বাড়িতে মধুর হাঁড়িতে নাক ডোবানো

বছরে এক আধবার বৌ'কে নিয়ে কোথাও বেড়ানো    

দৈনন্দিন এ সকল জীবন যাপন সাধারণত একই ছকে বাঁধা

সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা! চাকরি করে পয়সা কামানো, চাট্টিখানি কথা?

কি কষ্টই না করে ছেলেগুলা! সাধারণ হিসেবে 

অসাধারণ তো অনেক কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম; 

 

মেয়েদের ক্ষেত্রেই কোথায় বা তেমন আর পার্থক্য! 

না হয় একটু কাকভোরেই ঘুম থেকে উঠেতে হয় 

দুহাতে সবার নাস্তা আয়োজন আর একই সাথে স্বামীর অফিসের টিফিনের ব্যবস্থা 

স্বামী অফিসে যেতে না যেতে দুপুরের হেঁশেল ঠেলা 

বিকেলের নাস্তার আয়োজন শেষ হতে না হতে রাতের খাবারের ব্যবস্থা  

ও হ্যাঁ! প্রতিবেলা খাবারের পরে হাঁড়িকুঁড়ি বাসনকোসন ধোয়ার কাজটা তো বলাই হলো না 

বলা হলো না, খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে কুটা-বাছার আয়োজনের কথা 

বলা হলো না, নিজের কাপড়চোপড় এর সাথে সাথে স্বামীর কাপড় চোপর ধোয়ার কথা

বলা হলো না, ঘর পরিষ্কার ঝাড়ু পোঁছা, মশারি বিছানা রাতে পাতা ও সকালে তোলা 

রাতের খাবার শেষে তাড়াতাড়ি হাত চালাতে হচ্ছে, কত কাজ জমে আছে! 

বেচারা স্বামীটা একটু শারীরিক আদরের জন্য কাতর হয়ে আছে

ছুটি ছাটার দিনে একটু মাথা গা হাত পা টিপে দিলে কি খুশিই না হয় বেচারা, 

আর যদি ভুলে একান্নবর্তী পরিবার হয়! সেটা হিসেবের একদম বাইরেই রাখি 

বিনি পয়সার এমন ঝি, কোথাও খুঁজে পাবে নাকি? সাধারণ হিসেবে 

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম; 


প্রৌঢ়ত্বে ছেলেদের অবসর জীবন

সারাজীবন অনেক কাজ করা হয়েছে, করেছে কষ্টকর উপার্জন 

এবার বসে খাবার দিন,

ঘরে কন্যা সন্তান থাকলে তো কথাই নেই 

বাবার জন্য কিছু করতে মেয়েগুলোর কখনো না নেই

ছেলেটা যদিও একটু বোহেমিয়ান, তবুও বাবা অন্ত প্রাণ 

আর স্ত্রী তো সেই বিয়ের পর থেকেই সেবাদাসী, চাহিবা মাত্র সব হাজির, 

ভালোই কেটে যায় অবসর জীবন, সাধারণ হিসেবে 

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম; 

 

মেয়েদের আবার প্রৌঢ়ত্ব কি? অবসর জীবনই বা কি?  

কি এমন ঘোড়ার ডিমের কাজটা করে উল্টে ফেলে তারা? 

ঐ তো একটু হেঁসেল সামলানো! বাচ্চাকাচ্চাগুলো মানুষ করা

স্বামী সেবা, বাজার সদাই রান্না বান্না

ঘরদোর একটু পয় পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা 

সেই একই রুটিন তো বিয়ের পর থেকে করেই আসছে

তার আবার কষ্টটা কি? 

আরে অবসর মানেই বাত ব্যামো, এটা ওটা সেটা

যতদিন কাজে ততদিনই সুস্থ জীবন

যা করছে করুক না! এটাই সাধারণ হিসেব 

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম;    


বৃদ্ধ বয়সের আবার নারী আর পুরুষ কি? 

সন্তানরা চাইলে ভালো থাকা, না চাইলে গলগ্রহ হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা

সে নারীই হোক কিংবা পুরুষ, সাধারণ হিসেবে

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! 


আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ হিসেবেই দেখি!  

আমি যেভাবে দেখছি, ভুল হলো কি?

কি জানি! হয়তো হতেও পারে

যুগ বদলে গিয়েছে, বদলেছে মানুষ

বদলে গিয়েছে আমাদের মানসিকতা,

হয়তো আমারই চোখের ভুল, কিংবা মনের। 


২৪ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে!

 - যাযাবর জীবন 





এলো চুলে এলোমেলো ভাবনা

সেদিন স্নান শেষে তুই ভিজে চুল আঁচড়াচ্ছিলি, 

তোর চুলের ফাঁকে চিরুনিটা হারাতে দেখেই পুরনো কথা মনে পড়ে গেলো 

একদিন আমিও হারিয়ে গিয়েছিলাম তোর মনের বাঁকে, সবটুকু প্রেম নিয়ে 

এতই সহজ নারীর মনে ডুব দেয়া? একবার ডুবলে ভাসতে পেরেছিলো কে কবে?    


চিরুনির আঁচরে তুই চুলের জট খুলছিলি 

আমি খুলতে চেষ্টা করছিলাম মনের জটগুলো 

মেয়েরা চুলের জট ছাড়াতে পারে খুব সহজেই

মনের জট কি খোলা যায় রে? তুই পেরেছিস?  


মনে আছে! ভালোবাসার সেই প্রথম দিনগুলোতে 

আমি নাক ডুবিয়ে থাকতাম তোর চুলের গভীরে

তোর গায়ের সোঁদা গন্ধ আজো মাতাল করে আমায় 

প্রতিটা গায়েরই আলাদা গন্ধ থাকে, শুধু দম্পতি চেনে; 


এই যে চুলে বেণির পাক দিয়ে ঘুমুতে এলি!

ভালোবাসার প্যাঁচে প্যাঁচে মনটাকে সেই কবেই বেণি করেছিলি 

মাঝে মাঝে তোর এলোমেলো খোলা চুল আমার বুকের ওপর অগোছালো পড়ে থাকে    

এলোমেলো চুলের এলোমেলো গন্ধে এলোমেলো হই আমি, দাম্পত্যে কি এমনই?


    

২৩ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


এলো চুলে এলোমেলো ভাবনা 

 - যাযাবর জীবন