মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সমঝোতার বন্ধন

দাম্পত্য একটি বন্ধন

পবিত্র, 

যার যার ধর্মে কবুল পড়ে দুজন দুজনকে জীবনের সাথে জুড়ে নেয়া

সে প্রেমের বিয়েই হোক কিংবা পারিবারিক ভাবে জুড়ে দেয়াই হোক;


যদিও জন্ম মৃত্যু আর বিয়ে, মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার পূর্ব নির্ধারিত!

তবুও কি জুড়ে নেয়ার আগে যাচার চেষ্টা করা হয় না?

হয়তো! 

যারা প্রেম করে! আর যারা প্রেমে পড়ে! 

- তারা কি পরস্পর না যেচেই পড়ে?

পারিবারিক ভাবে যাদের জুড়ে দেয়া হয়! 

 - তারা কি পরস্পর'কে যাচে না?

অল্প কিছু থাকে চাপিয়ে দেয়া; 


এত যাচাই বাছাই এর পরেও সব দাম্পত্য টেকে না

 - প্রেমের বিয়েতে প্রেম অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কোথায় জানি উবে যায় 

 - জুড়ে দেয়া দাম্পত্যের আঠা কেন জানি আলগা হয়ে যায় 


ছোট্ট একটু ভুল বুঝাবুঝি থেকে দাম্পত্য ভাঙনে গড়ায় 

কিছু দাম্পত্য সন্তানের দিকে তাকিয়ে ঠুনকো কাঁচের মত টিকে তো রয়!

তাতে আসলে কি সন্তানের মঙ্গল হয়? 

বাবা মায়ের নিত্য লড়াই দেখতে দেখতে সন্তানগুলো কি স্বাভাবিক রয়?

নাকি অসহনীয় এক পরিবেশে এদের জীবন ছেয়ে যায় বিতৃষ্ণায়? 

তার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া কি ভালো নয়!


কেউ বোঝে

সম্মানজনক-ভাবে আলাদা হওয়ার পথ খোঁজে,  

আর কেউ জোড় করে আঠার মত লেগে থাকে  

যে সকল দাম্পত্যগুলো গড়তে গড়তে ভেঙে গিয়েছিলো ঝুরঝুর কাঁচের মত; 


আর বাকি দাম্পত্যগুলো একেকটা একেক রকম

একটার সাথে আরেকটা মিলাতে যায় বোকারা

কোনটা দিনে হাঁড়িকুঁড়ি ঝনঝন করেও রাতে নিস্তব্ধ হয়ে যায় খাটে

আর কোনটা হাসি গল্পে মেতে হাতে হাত রেখে;


দাম্পত্য সমঝোতার বন্ধন 

জোড় করে আঠা লাগিয়ে রাখার বস্তু নয়। 


০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


সমঝোতার বন্ধন 

 - যাযাবর জীবন 


  


 

ঢেকে রাখা দুঃখগুলো

দুঃখগুলো একদম নিজস্ব, ঢেকে রাখতে হয় 

মানুষকে দেখে ফেললেই বিপদ

প্রথমে আহা উঁহুর বন্যা 

কিছুদিন পর ওখানেও একটু একটু টোকা

কোন একদিন আশ্চর্য হয়ে দেখবে কেউ কেউ ওখানে দিয়েছে খোঁচা 

তারপর পালা পার্বণে সুযোগে নানাজন দিচ্ছে লবণের ছিটা

ভালো লাগবে?


তার থেকে দুঃখগুলো থাকুক না একদম আমার নিজের মনে ঢাকা  

মাঝে মধ্যে না হয় খুব বৃষ্টি হলে চোখ ভাসাবো কেঁদে

বৃষ্টির সাথে চোখের জল মিশে গেলে কান্না বুঝবে কে?

কিংবা যখন একা থাকব, অথবা গভীর রাতে নির্জনে

যখন আশেপাশে কেউ থাকবে না তখন

একা একা অন্ধকার হবে দুঃখগুলোকে ভেবে;


মানুষ আমার দুঃখগুলো জেনে কি করবে? 

তোমার নুন ছিটা খেতে ইচ্ছে করলে ঢোল পিটাও, 

আমি বেশ ভালো আছি এই একা 

আমার দুঃখগুলো সব মনের চাদরে রাখা আছে ঢাকা।


 

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


ঢেকে রাখা দুঃখগুলো 

 - যাযাবর জীবন 



   

নানা রকম দাম্পত্য

এক এক দাম্পত্য এক এক রকম

এক এক দাম্পত্যের পরিণাম এক এক রকম;


দাম্পত্য দুটি মানুষের বন্ধন

একসাথে পথচলা 

একসাথে ঘরবাঁধা 

একসাথে বসবাস

একসাথে হাতে হাত ধরে জীবন  যাপন;


একসাথে কি সবাই হাতে হাত ধরে জীবন যাপন করতে পারে?

তাহলে দাম্পত্যে বিচ্ছেদ হবে কেন?


কিছু দম্পতি একসাথে পথ চলা তো শুরু করে, 

কতদূর যেতে পারে? 

কিছু দাম্পত্য পথের শুরুতেই পথ শেষ করে দেয়

কিছু দাম্পত্য কিছুদূর একসাথে এগোয় তারপর হাত ছেড়ে দেয়

কিছু দাম্পত্য বহুদূর একসাথে চলার পর খুব আশ্চর্যজনক ভাবে বিচ্ছেদে গড়ায়

কিছু দাম্পত্যের বিচ্ছেদ হয় মৃত্যুতে;


দম্পতিরা বেশীরভাগই ঘর বাঁধে

কেউ অল্প সময়ের জন্য

কেউ অনেকটা সময় পারি দেয় 

কেউ আমৃত্যু একসাথে রয়ে যায়,

আর অল্প কিছু দাম্পত্য রয়ে যায় শুধুই কাগজে কলমে

এদের শুরুও কাগজে কলমে, সমাপ্তিও কাগজে কলমে

একসাথে ঘর আর বাঁধা হয় নি এদের জীবনে;


আচ্ছা! এই যারা আমৃত্যু একসাথে রয়ে যায়

এরা কি সবসময় সুখী হয়?

এদের মধ্যেও তো কত দাম্পত্য কলহ!

কত কত মান অভিমান, কত কত বিরহ! 


ঐ যে ওদের দেখ!

ওরা কিন্তু দম্পতি, 

একসাথে এক ছাদের নীচে আমৃত্যু বসবাস করেও 

এরা পরস্পর কথা বলে না, কথার আদান প্রদান সন্তানের মাধ্যমে 

কিছু দম্পতি তো বছরের পর বছর একদম কথা না বলেই কাটিয়ে দেয়

কিছু দম্পতি এক ছাদের নীচে তো রয়, তবুও রাতে এদের বিছানা আলাদা হয়,  

এরা একসাথে কেন থাকে?

কেউ কেউ বাধ্য হয়ে, কেউ লোকলজ্জার ভয়ে

কেউ সন্তানের দিকে তাকিয়ে, বাকিরা কোন না কোন কারণে;  


আর ঐ যে ওদিকে চেয়ে দেখ!

ওরাও দম্পতি, 

দু'জনই সারাদিন বাইরে কঠোর পরিশ্রমে কাটায়, জীবিকা নির্বাহে 

সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে সন্তানের ফাই ফরমাস, রান্না বান্না, এটা সেটা 

তারপরেও রাতে পরস্পরের হাতে হাত না রাখলে এদের ঘুম আসে না; 


কত রকম মানুষই না আছে আমাদের মাঝে!

আছে কতরকমের দম্পতি

আছে কত রকমের দাম্পত্য,

একটির সাথে আরেকটির কোনরকম মিলই খুঁজে পাওয়া যায় না। 



০২ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


নানা রকম দাম্পত্য 

 - যাযাবর জীবন 



  

খাদ্য ও ক্ষুধা

খেতে কে না পছন্দ করে!

সবাই কি আর খেতে পারে?


কারো পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা থাকে 

খুব মাঝে মধ্যেই খাদ্য জোটে

সেটা খাদ্যের অভাবে কিংবা অর্থের, 


কারো পেটে ক্ষুধা থাকে, মনে খাওয়ার বাসনা   

খাবারও সামনে থাকে, তবুও খেতে পারে না 

অরুচি কিংবা অন্য কোন অসুখের কারণে,


কারো পেটে ক্ষুধা থাকে, ক্ষুধা থাকে মনে  

অর্থেরও কোন অভাব নেই খাবার কেনার জন্য 

রুচির অভাব নেই মুখে, দেদার খেতে পারে    

অসুখও নেই কোন যে খেতে বাঁধা আছে

তবুও এরা খেতে পারে না, কৃপণতার জন্য 

এরা শুধু টাকা চেনে, টাকা জমায় আর টাকা গুনে,  


কত রকম মানুষই না আছে পৃথিবীতে! 

 আছে কত রকমই না ক্ষুধা!  


০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


খাদ্য ও ক্ষুধা 

 - যাযাবর জীবন 

দোষের পাঁচ

দোষ 

সবাই করে 

একটা মানবিক  ত্রুটি 

কখনো ভুলে হতেই পারে  

আমার করায় কোন দোষ নেই  

অন্যে করলেই দোষ দেখি 

পরের পিছন শুঁকতে 

ভালো লাগে

ছিদ্রাহ্নেষী 



পরনিন্দা 

কারো অনুপস্থিতিতে 

আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে 

ভাইয়ের মাংস খাওয়া বলে 

অথচ আমরা নিত্যই খাই চিবিয়ে 

এটা চরম খারাপ জেনেশুনে 

তবুই করেই যাচ্ছি 

আসলে স্বভাবে 

গীবত 



রিপু 

আমার আছে  

মানুষ মাত্রেই থাকে  

কারো বেশি কারো কম   

এত বাছবিচার করে চলা যায়!  

আমার দিকে তাকাও কেন? 

অন্যে করলে দোষ 

আয়নায় দেখি 

লোভাতুর   


লোভ 

কার নেই? 

অর্থ অনর্থের মূল  

আমি ধোয়া তুলসী পাতা? 

টাকা দেখলে এক হাত জিহ্বা  

আলজিহ্বাও বের হয়ে যায় 

আর চকচকে চোখ 

ঢাকব কিভাবে? 

লোভী 



স্বার্থ 

শুনতে খারাপ

সম্পর্ক নাড়িয়ে দেয় 

সকল ঝগড়া ফ্যাসাদের মূল  

অর্থ সম্পত্তি সম্পর্ক থেকে দামী

স্বার্থে সম্পর্ক ছিন্ন হয়  

তবুও স্বার্থের জয়    

সম্পর্কের নয়  

স্বার্থপর  


৩১ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


দোষের পাঁচ 

 - যাযাবর জীবন 







 

জুড়ে দেয়া পারিবারিক সম্পর্কগুলো

জুড়ে দেয়া সম্পর্কগুলো কেমন যেন বড্ড অন্যরকম

হ্যাঁ, বিবাহ সূত্রে জুড়ে দেয়া পারিবারিক সম্পর্কগুলো, 

ওগুলো কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়

কখনো অবোধ্য, কখনো বড্ড ভাবায়; 


এই ধর যেমন, শাশুড়ি আর বৌ এর সম্পর্ক, 

শাশুড়ি কেন জানি কখনোই মা হতে পারে না 

মেয়ে হতে পারে না কেন জানি বৌগুলো,  

অথচ কি নির্বিকারেই না ছেলে বনে যায় মেয়ের স্বামীটা  

কি সহজেই না মা হয়ে যায় ছেলেগুলোর শাশুড়ি

বৌগুলো পারে না কেন? কেন পারে না বৌ এর শাশুড়ি? 


জায়ে জায়ে গলায় গলায় মিল দেখেছ তোমরা? আমি দেখি নি

অথচ ভায়রা আর ভায়রা কি সহজেই না বন্ধু বনে যায়! 

মা আর ছেলেতে কোথায় জানি একটা অন্যরকম মিল থাকে 

অথচ ছেলের ঘরে বৌ আসলেই মা বনে যায় পুরোদস্তর শাশুড়ি 

তখন কেন জানি ছেলে থেকে বেশি আপন হয়ে যায় মেয়ের স্বামী, 

অন্যরকম আলাদা একটা মিল থাকে বাবা আর মেয়েতে 

শ্বশুর আর মেয়ে জামাই এর খুব একটা গলায় গলায় ভাব না হলেও

ওদের মাঝে খুব একটা খারাপ সম্পর্ক সচরাচর দেখা যায় না,

আমি পারিবারিক এ সমস্যাগুলো একদমই বুঝতে পারি না 

অথচ প্রতিনিয়ত চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি একই ঘটনা; 


তুমি, আমি, তোমরা, আমরা চোখের সামনে জুড়ে দেয়া এই সম্পর্কগুলো দেখছি

জুড়ে দেয়া সম্পর্কগুলোর ভেতরের ফাঁকগুলো বড্ড চোখে লাগে, মনে বাজে  

এ ফাঁপা সম্পর্কগুলোতে নিজেকে না জুড়ে নেয়া যায়! না বিচ্ছিন্ন করা যায়!  

প্রায় সংসারেই ভুক্তভোগী ছেলেগুলোকে এ সম্পর্কগুলো সময় সময় কাঁদায়। 


২৯ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


জুড়ে দেয়া পারিবারিক সম্পর্কগুলো  

 - যাযাবর জীবন 



  

লবণের ছিটা

লবণ ছিটাতে আমাদের জুড়ি মেলা ভার 

কোথাও লাগুক আর নাই বা লাগুক

একটু লবণের ছিটা তো দিবেই!  

আরে না, না! তরকারিতে না; লবণের ছিটা দেবে মনেতে   

মাঝে মধ্যে আমিও ছিটাই, তুমি ছিটাও না? 

কারো ক্ষতে লবণ ছিটিয়ে দেখই না 

এর থেকে মজা! অন্য কিছুতেই পাবে না; 


সব মানুষই মনে হয় লবণ ছিটায়

কেও একটু কম কেউ বা বেশি,  

কোথাও একটু ক্ষত দেখলেই হলো 

ওখানে মলম লাগাবে না রে! লবণ ছিটাবে 

এক চিমটি হলেও একটু ছিটা দিবেই দিবে 

গায়ে সান্ত্বনার হাত বুলোতে বুলোতেই লবণ ছিটাবে,

লবণ ছিটানোতে ওরা অন্যরকম একটা আনন্দ পায়; 


আমি আজকাল খুব যত্ন করে ক্ষতগুলো ঢেকে-ঢুকে রাখি

তবুও সব ক্ষত কি আর ঢাকা যায়!

কোথাও যদি দেখা যায় ক্ষতের একটু উঁকি!

ওমনি কাছের মানুষগুলো এক চিমটি লবণের ছিটা দিয়ে যায়

হ্যাঁ, কাছের মানুষগুলোই সবচেয়ে বেশি লবণ ছিটায় 

গায়ে মাথায় সান্ত্বনার হাত বুলাতে বুলোতে,

খবরদার ক্ষত দেখিও না কিন্তু, কাছের মানুষগুলো'কে।  


২৭ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


লবণের ছিটা 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত।