শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

কাব্য না ছবি?

এক একবার ফেসবুকের ওয়ালে চোখ যায়, 

এক একবার আয়নায়;


ফেসবুক দেয়ালে হরেক রকম লেখা

কত সুন্দর সুন্দর গল্প!

কি ভালো ভালো এক একটা কবিতা! 

আমি প্রায়শই মুগ্ধ হয়ে পড়ি,

তারপর লেখার নীচে লেখকের ছবি দেখি

ছবিটা দেখলেই খুব মনে মনে ভাবি

এ লেখার সাথে ছবিটার সম্পর্ক কি?

কোথাও কোন সম্পর্ক না পেয়ে লেখকের প্রোফাইলে যাই

গিয়েই থমকে যাই, 

প্রতিটা লেখায় নানা অঙ্গভঙ্গিমায় সেঁটে দেয়া আছে 

লেখকের এক একটা দারুণ দারুণ সব ছবি, 

মাঝে মধ্যে ভাবি, আমি কি লেখকের লেখা পড়ছি? নাকি তাকে দেখছি?

দূর দূর দিয়ে লেখার সাথে ছবির কোথাও সংগতি না পেয়ে ভাবি

 - আসলে অসংগতি আমার মনে,

 - কিংবা এটাই আজকালকার রীতি;


মাঝে মধ্যে আয়নায় আমার চোখ চলে যায়

ওখানে যে অবয়ব দেখা যায় সেটার সাথে 

দূর দূর দিয়ে কোন সংগতি খুঁজে পাই না আমার কোন লেখায়,

আর ঐ চেহারাটা কোন লেখার সাথে সেঁটে দিলে?

 - রক্ষে আছে? আরে একটা দুটো যে পাঠক যাও আছে! 

 - ওরাও দৌড়ে ভাগবে ছবি দেখার সাথে সাথে, 

চারিদিকে সুন্দর চেহারার জয় জয়কার 

ওখানে কাকের কি দরকার? 


আমি মাঝে মধ্যে ভাবি,

এই যে আজকাল ভালো ভালো সব লেখাগুলো ফেসবুকে আসে!

এর সাথে নানা ভঙ্গিমায় লেখকের ছবি কেন ভাসে?

কোথাও জবাব খুঁজে পাই না

সম্ভবত প্রশ্নটা করাই আজকালকার অসংগতি,

আসলেই তাই কি?


আমি মাঝে মাঝে খুব ভাবি,

তারপর রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, সুকুমার রায়, জীবনানন্দ দাশ

শীর্ষেন্দু, সুনীল, সংকর, হুমায়ূন আহমেদ, আহমেদ সফা 

ইত্যাদি লেখকদের বইগুলোর পাতায় পাতায় খুঁজতে থাকি লেখকদের ছবি;

কোথায় ছবি? ওদের পুরো বই জুড়ে তো ঠাসা ঠাসা কলমের বুননে 

শুধুই গল্প, উপন্যাস, কবিতা আর নানা কাব্য-গাঁথা 

লেখকের ছবি যেন ওখানে বাতুলতা;


তাহলে আজকাল ফেসবুক লেখকদের কি হলো?

লেখার সাথে সাথে কেন ছবি দিতে হলো?

কি জানি বাপু? আমি বোধহয় সেই পুরনো দিনের লেখকদের মতই পুরনো

পুরনো আমার চিন্তা-চেতনা, পুরনো সব ধ্যান ধারণা

আজকালকার লেখাতে বোধহয় ছবি সাঁটাই রেওয়াজ;


মাঝে মাঝে অদ্ভুত সব চিন্তা মাথায় খেলা করে -

আচ্ছা! সুকান্তের প্রতিটা কবিতার সাথে সাথে তার একটা ছবি হলে কেমন হতো?

 - খুব খারাপ হতো না মনে হয়।

জীবনানন্দ দাশের কবিতার সাথে? 

 - ওটা আরও ভালো হতো, কাশবনে একছবি, সবুজ ধানের ক্ষেতে আরেকটা, ইত্যাদি ইত্যাদি; 

নজরুলের প্রতিটা কবিতার সাথে সাথে তো তার একটা করে বাবরি দোলানো ছবি! 

 - উফফ! কেন যে উনি সে কালে জন্মেছিলেন? বড্ড আফসোস হয়; 

আচ্ছা! গীতবিতানের প্রতিটি গানের সাথে সাথে যদি রবিবাবু একটি করে ছবি সেঁটে দিতেন!

 - তাহলে কি আর হতো? 

 - গীতবিতানের পৃষ্ঠার সংখ্যা না হয় দ্বিগুণ হতো!

 - বই এর ওজন না হয় মাথায় করে বইতাম! 

 - হাতে না রেখে মাটিতে রেখে পড়তাম!

 - তবুও তো পাতায় পাতায় রবিবাবুকে দেখতাম!


খুব একটা খারাপ হতো না,

কি বলো? 



১৪ অক্টোবর, ২০২১


#কবিতা 


কাব্য না ছবি? 

 - যাযাবর জীবন 


ভুলের খেসারত

একজন মানুষের ছোট খাট একটা ভুল

একটা পরিবার'কে তছনছ করে দিতে পারে,

তোমরা কেউ কেউ হয়তো দেখেছে, কেউ কেউ অনুভব করেছ

আচ্ছা! তোমরা কি কেউ এর মধ্যে দিয়ে গিয়েছ? 


ঐ যে ঐ পরিবারটার দিকে তাকাও-

 - ছেলেটা প্রেম করছিলো, তারপর একদিন কি যে হলো! কিছুদিন খুব মনমরা হয়ে থাকতো। তারপর কেউ কিছু বুঝার আগে হুট করে ফ্যানে ঝুলে পড়লো। একবার চিন্তাও করলো না বাবা-মায়ের ওপর দিয়ে কি যাবে। চিন্তা করে নি ভাই-বোনগুলোর কথা। তারপর থেকে পরিবারটার মুখে হাসি দেখি নি। 


ঐ পরিবারটাকে দেখ-  

 - ছেলেটা বেশ পড়াশুনা করছিলো। ইন্টারমিডিয়েট পড়তে পড়তে বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে মজা করে একদিন কি একটা ড্রাগস টেস্ট করলো। তারপর থেকে টেস্ট করতেই থাকলো। টেস্ট করতে করতে একসময় এডিক্টেড হয়ে গেলো। তার আর ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা হয় নি। বছরে কিছুদিন রিহ্যাব সেন্টারে থাকে, তারপর বাবা-মা ভালো হয়ে গেছে মনে করে বাসায় নিয়ে আসে। একসময় আবার ঢুকে যায় সেই অন্ধকার জগতে, আবার কিছুদিন রিহ্যাব সেন্টার আবার বাসা। এই করে প্রায় বছর পাঁচেক পার হয়ে গেলো। অথচ ড্রাগের নেশাটা খুব ক্যাজুয়ালি টেস্ট করতে করতে করে ফেলেছিলো। আজকাল মধ্যবিত্ত বাবা'র আর সাধ্যে কুলোয় না ওকে রিহ্যাব সেন্টারে দিয়ে আসতে। এই পরিবারটার মুখ থেকেও হাসি চলে গিয়েছে অনেক দিন হলো।   


আর ঐ পরিবারটাকে দেখ - 

 - মেয়েটা বেশ ভালোই পড়ালেখা করছিলো। মেট্রিক দিতে দিতে প্রেমে পড়ে গেলো। তারপর বাসা থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে বেশ প্রেম চলতে লাগলো। কোন এক সময় শরীর কথা বলে উঠলো, উঠতি যৌবনে কয়জনই বা কাম সম্বরণ করতে পারে? প্রেমিকের বন্ধুর বাসা, হোটেল, গেস্ট হাউস করতে লাগলো। একসময় পেট জানান দিলো। বাবা-মা জানলো, জানলো ভাই বোন, আত্মীয় স্বজন, জানলো পাড়া পড়শিরা। প্রেমিক তখন আর তাকে চেনে না। আর এত জানাজানি মেয়েটা সহ্য করতে না পেরে একদিন একগাদা ঘুমের ঔষধ খেয়ে নিথর হয়ে গেলো। আর বাবা-মা! ওরা যেন বুঝতেই পারলো না ওদের কি লজ্জা পাওয়া উচিৎ না দুঃখ পাওয়া উচিৎ। ঐ পরিবারটাকেও আমি আর কখনো হাসতে দেখি নি। 


ঐ যে বিশাল দোতলা বাড়িটি দেখছ! 

 - ও বাড়ির ছেলেটার বায়না ছিলো একটা হোন্ডা কিনে দেওয়ার। বাবা অনেক করে মানা করা সত্ত্বেও মা আর দাদীকে হাত করে বাবা'কে রাজী করিয়েছিল। বাবা হোন্ডাটা কিনে দেওয়ার সময় পই পই করে মানা করেছিলো - বাবা'রে জোরে চালাস না। হিরোইজম দেখাতে যাস না। যৌবন না শোনে মুরুব্বীদের কথা। বন্ধুদের সাথে রেসের পাল্লা দিতে গিয়েছিলো। বাসায় ফিরলো লাশ হয়ে। নিমিষে পরিবারটির খুশির বাতি নিভে গিয়েছিলো। এই পরিবারটির মুখেও আমি হাসি দেখি নি।  


ঐ যে মহল্লার সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ মুরুব্বী! 

 - ওনাকে সবাই শ্রদ্ধা ভক্তি করে। অথচ একদিন ইউনিভার্সিটিতে পড়া ছেলেটা'কে খুঁজতে বাসায় পুলিশ এলো। ওদের কাছেই জানতে পারলো ছেলেটা নাকি পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে আছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাক-মেইল, বোমাবাজি, ধর্ষণ, খুন এমন কোন অপরাধ নেই যেটাতে সে জড়িত নয়। অথচ মহল্লায় ভালো ছেলে বলতে তার উদাহরণ দেওয়া হতো। কবে কখন থেকে কিভাবে সন্ত্রাসী হয়ে গেলো বাবা মা কখনো বুঝতেই পারে নি। আজ মুরুব্বী মহল্লায় মাথা নিচু করে হাঁটেন। ওনার মুখ থেকে হাসি মুছে গিয়েছে চিরতরে। 


আচ্ছা! এই যে আমাদের আমাদের সন্তানদের ছোটখাটো ভুলো গুলো 

কিংবা আমাদেরই ভাই-বোনদের

অথবা হয়তো বা আমাদেরই! 

মুহূর্তে করে ফেলা ভুল; 

একটি ছোট্ট ভুল পুরো পরিবারটিকে কি অসহায় বানিয়ে ফেলে, বোধগম্য হয়? 


এমন পরিবার দেখলে তোমরা তাদের লজ্জা দিও না,

লবণ ছিটাতে যেও না তাদের দুঃখে;


কে জানে! 

এই, ঐ আর সেই, সেই পরিবারগুলোর মধ্যে তো কাল তোমার আমার পরিবারও সামিল হতে পারে। 

 


১৫ অক্টোবর, ২০২১২


#গদ্য_কবিতা


ভুলের খেসারত 

 - যাযাবর জীবন 




 



 



  

মানুষের তৈরি

এই যে সূর্যটা দেখছ!

সকালে ওঠে রাঙা হয়ে, দুপুরে তেতে থাকে সাদা হয়ে 

সন্ধ্যায় আবার লাল হয় ঘুমোতে গিয়ে, 

 - এটা মানুষ তৈরি করে নি;


এই যে চাঁদটা দেখছ!

কখনো ধনুকের মত বাঁকানো, কখনো রুটির মত গোল

পূর্ণিমায় স্নিগ্ধ আলো দেয়, অমাবস্যায় অন্ধকার হয়ে যায়,  

 - ওটা মানুষ তৈরি করে নি;


এই যে নদ নদী সাগর মহাসাগর!

এই যে ভূপৃষ্ঠের অসীম জলরাশি!

এই যে হিমবাহ, এই যে জলপ্রবাহ!

 - এগুলো মানুষ তৈরি করে নি;


এই যে উঁচু নিচু ভূমি!

এই যে ছোট বড় টিলা আর সুউচ্চ বিশাল বিশাল পাহাড়! 

এই যে নান রঙের কঠিন কোমল মাটি!

 - এগুলোও মানুষ তৈরি করে নি;


এই যে লাখো উড়ন্ত পাখি!

এই যে কোটি রকম প্রাণী!

কোমল ও হিংস্র ধরণে, রঙ আর বৈচিত্র্য গড়নে; 

 - ওগুলো মানুষ তৈরি করে নি; 


এই যে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা এক কোষী প্রাণী

ঐ যে দূরবীন যন্ত্রে দেখা কোটি তারা রাশি 

আর দৃষ্টিসীমার বাইরের সৃষ্টি সকল! 

 - ওগুলোও মানুষ তৈরি করে নি;

 


এই যে রাশি রাশি পানির সাগর আর মহাসাগর  

আর তার মাঝে বসবাসরত মৎস্য ও প্রাণীকুল! 

এই যে গ্রহ, নক্ষত্র, সৌরজগৎ আর মহাকাশ 

আর তার মাঝে বাস করা পক্ষী ও পশুকুল! 

ঐ যে উড়ন্ত ডানায় উড়ে চলা পাখি

ঐ যে বনে বাদারে ডাঙায় হিংস্র শ্বাপদকুল

এই যে ক্ষুধা! আর ক্ষুধা নিবারণের জন্য শস্যদানা

এই যে তৃষ্ণা! আর তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পানি,   

এই যে জন্ম আর ঐ যে মৃত্যু! 

আর ঐ মানুষ নামক বুদ্ধিমান প্রাণী!

 - এর কিছুই তো মানুষ তৈরি করে নি!  

     

তবে এগুলো আসলো কোত্থেকে? 

ভাবনায় কখনো এসেছে কি?

 - নাকি মানুষ এগুলো নিয়ে কখনো ভাবেই নি! 


আচ্ছা! মানুষ কি কি তৈরি করেছে?

ওরা শস্যদানা দিয়ে রুচিকর খাবার তো বানিয়েছে!

 - শস্যদানা কি বানাতে পেরেছে?

ওরা পানিতে নানা রঙ ও উপকরণ মিশিয়ে পানিয় তো বানিয়েছে!

 - পানি কি বানাতে পেরেছে? 

ওরা রাস্তা, ঘাট বানিয়েছে, বাঁধ দিয়েছে নদীতে

 - মাটি কি বানাতে পেরেছে?  

ওরা গ্রহ, উপগ্রহ, সৌরজগৎ তো দেখেছে! 

 - সামান্য চোখটাও কি বানাতে পেরেছে?  

এত এত বুদ্ধির চর্চা করা মগজটাও তো বানাতে পারে নি

 - তবে আর কি বানিয়েছে? 


বানিয়েছে,

আরে, বানিয়েছে;


মানুষ লোভ বানিয়েছে, হিংসা বানিয়েছে, বানিয়েছে হিংস্রতা 

বানিয়েছে হানাহানি, মারামারি, কাড়াকাড়ি 

বানিয়েছে ধনী, গরীব আর সামাজিক বৈষম্য

বানিয়েছে সাদা, কালো আর বাদামী চামড়ার দল, আর বর্ণ বৈষম্য 

বানিয়েছে অর্থ, স্বার্থ আর মানুষে মানুষে বিভেদ;


মানুষ জন্ম নিয়েছে, জন্ম দেখেছে 

 - অনুভব করতে পারে নি, 

মানুষ মৃত্যু দেখেছে, মারা যাওয়ার সময় মৃত্যু যন্ত্রণায় ভুগেছে 

 - অনুভূতিটা বলে যেতে পারে নি, 

যদি পারতো! তবে পৃথিবীটা অনেক অন্যরকম হতো;


জন্ম আর মৃত্যু 

আর এর মাঝের কিছু সময় 

এটুকুই মানব জীবন 

আর কিছু নয়; 


সমস্ত সৃষ্টিকুল আর তার স্রস্টা 

 - মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা, 

কারো কাছে ইহকালই সব, বিশ্বাসীদের পরকাল 

যাদের আছে আল্লাহ্‌র ভয়।  



১২ অক্টোবর, ২০২১


#কবিতা 


মানুষের তৈরি 

 - যাযাবর জীবন 





বন ডাকে মন

একটু ছুটি মানেই কোথাও একটু অবসর

একটুকু দম নিতে তাই ঘরের বাইরে ঘর  

সবুজ বন ডাকে, ডাকে সতেজ বাতাস

কাশবন নাচে আর দিগন্ত নীল আকাশ,  


বনে বানর ছিলো আর ছিলো কিছু হরিণ

ছিলো রাঙা প্রজাপতি আর কিছু ফড়িং

সাপ আর গুইসাপের ছিলো কিছু ভয়

একলা বনে হাঁটতে গেলেই মনে সংশয়, 


বনে বাঘের ভয়, তবুও চোখ খোঁজে তাকে

কোথায় লুকিয়ে আছে, কোন গাছের ফাঁকে? 

পানির কুমির, কাদায় শুয়ে থাকে ডাঙায়

একটু ছুটি পেলেই, বন ডাকে আমায়,  

 

বন ডাকলেই কেমন জানি ছুটি ছুটি করে মন 

সময়টা বের করেই বনে ছুট দেই তখন  

কদিন বনে কাটিয়ে ছুটি শেষে ঘরে ফেরা

ওখানে বেশ ছিলাম, ছিলো না কাজের তাড়া,  

 

পশুপাখির সাথে মিশে বেশ কাটিয়ে দিলাম 

জঙ্গলে গিয়ে কিছুটা কি জংলী হয়েছিলাম?   

এবার ঘরে ফেরার পালা, চল মন ঘরে চল

আর দিনরাত ইট-কাঠের সাথে কথা বল।   


  

১১ অক্টোবর, ২০২১


#কবিতা 


বন ডাকে মন 

 - যাযাবর জীবন


 

 


নিস্তব্ধতার কলম

সবসময় তো আমি কথা বলেই যাচ্ছি

আর কথা বলছে প্রকৃতি;


তোমরা প্রকৃতির কথা শুনেছ কি?  


এই যেমন ভোরে কথা বলে ওঠে সূর্য 

দুপুরে চিড়বিড় করে কথা বলে গরম

বিকেলটাইয় বিষণ্ণ শব্দের মন খারাপ

সন্ধ্যে হলেই ঝিঁঝিঁর ডাক

রাতে কথা বলে ওঠে অন্ধকার 

অনেক দূরে মদন টাকের ডাকে চমকে ওঠে শিশুরা 

শেষ রাতের দিকে চিৎকার করে ডাকে নৈঃশব্দ্যতা 

আর কারো কানে কানে ফিসফিস কথা বলে অশরীরী কিছু ভয়  

কোন কোন রাতে মধ্যে আকাশে হাসতে হাসতে কথা বলে ওঠে চাঁদ

জ্যোৎস্না কথা বললেই মন ভয়কে করে ফেলে জয়; 


আর আমার কথা? 

কত আর বলবো? 


আমি মাঝে মধ্যে আনন্দের কথা বলি 

মাঝে মধ্যে বলি দুঃখের কথা 

প্রায়শই নানাভাবে বলে থাকি বিভিন্ন সম্পর্কগুলোর কথা,  

এই যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, পরিবার, সন্তান 

আর তাদের কথা দিয়ে বলা বিভিন্ন শব্দের ব্যথা,  

মাঝে মধ্যে বলি সম্পর্কগুলোতে বসবাসরত নানা স্বার্থের কথা 

আর স্বার্থ বিকট শব্দে সম্পর্ক ভেঙে দিলে 

মাঝে মধ্যে অসহ্য হয়ে উঠে বলি স্বার্থে সম্পর্কহীনতার কথা; 

কান্নার কথা কত আর বলব বলো?   

তার থেকে অনেক ভালো মুখ বন্ধ করে চুপকথা, 

নৈঃশব্দ্যতার বেদনা না হয় একলাই মগজ খুঁড়ুক আমার

তোমাদের সাথে শুধু হো হো হাসির শব্দে বিলিয়ে যাই আনন্দগাঁথা; 


আচ্ছা ওসব কথা বাদ দাও,


জীবন জীবনের যায়গায় থাক 

দুপুর রোদে চামড়া পুড়ে যাক 

আমি ঘাম-ক্লান্ত দেহে নিঃশব্দে চেয়ে দেখি 

শব্দ করে রোদে জ্বলছে কিছু কবিতা, 

বেদনাগুলো দুঃখের ভেতর থাক 

মধ্য রাতে স্মৃতিগুলো পুড়ে যাক 

আমি নিঃশব্দ স্মৃতি-ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে দেখি 

শব্দ করে অন্ধকারে পুড়ছে কিছু কবিতা, 

কবিতারা জ্বলতে থাক

আমি মুখ খুলব না

কবিতারা পুড়তে থাক 

আমি কথা বলব না, 

আমি চুপ হয়ে থেকে নিস্তব্ধতার কলমে লিখে যাব 

নৈঃশব্দ্যতার কবিতা। 


০৩ অক্টোবর, ২০২১


#কবিতা 


নিস্তব্ধতার কলম

 - যাযাবর জীবন 




বন্ধু

বন্ধুরা একসাথে 

বহুদিন পর

দেখা হতেই আলিঙ্গন 

বুকের ভেতর 


বন্ধুরা একসাথে 

বহুদিন পর

আড্ডা গল্পে মাতে 

সময় বেখবর 


বন্ধুত্বের বাঁধনে 

বন্ধু সবাই

একসাথে মিলেমিশে 

সময় কাটাই 


বন্ধুত্বের অধিকার

বন্ধুদের টেনে আনে 

অলস আড্ডা সময়

কবিতা গানে গানে


চায়ের কাপে কাপে   

পুরনো স্মৃতিচারণ  

স্মৃতির খুনসুটি  

কালের বিবর্তন 


বন্ধুদের হুটোপুটি 

চায়ের আড্ডায় 

কেউ কবিতা বলে 

কেউ গান গায় 


সিগারেটের ধোঁয়ায় 

সময় উড়ে যাক 

কালের বিবর্তনে 

হৃদয়ে বন্ধু থাক।


#কবিতা 


৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১


বন্ধু

 - যাযাবর জীবন 

মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নীল চাঁদ

কাল চাঁদ দেখেছি নদীতে সারা রাতভর 

আর তোকে ভেবে মন জ্যোৎস্নার ঘর 

আজ সারা দিনভর সূর্যটা পুড়িয়েছে বেশ

যদিও মনে ছিলো কাল রাতের কিছু রেশ;


দিনে প্রখর সূর্য আর আকাশের নীল রঙ 

রাত নামতেই তুই নামলেই মন অন্যরকম 

রাতে চাঁদ, রাতে তারা, পুরো আকাশটা ভরা 

শুধু মনটা জানি কেমন কেমন তুই ছাড়া; 


মাঝে মাঝে দিনের বেলাতেও তোকে মন চায়   

একদিন না হয় দুপুর স্বপ্নে তো তুই চলে আয়!  

মন পুকুরে তুই নামলেই মন শ্যাওলা সবুজ  

এই দেখ! তোর কথা ভাবতেই মন অবুঝ; 


স্বপ্নে স্বপ্নে তুই আর আমি স্বপ্নের কথা কই! 

হয়তো কখনো চোখ খুলতেই দেখব সামনে তুই

সেদিন খুব জ্যোৎস্না হবে আর আকাশে নীল চাঁদ

আর আয় আয় ডাকবে তোর ভালোবাসার ফাঁদ।


 

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


নীল চাঁদ 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ মোবাইল ক্লিক।