বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

তৃষ্ণার্ত

সে দিনটায় গরম ছিলো, গুমোট আবহাওয়া

পাহাড় বাইতে গিয়েছিলাম সাথে চৈত্রের হাওয়া 

কাঠফাটা রৌদ্দুর খাড়া মাথার ওপর 

মাটি ফেটে চৌচির পাহাড়ের ভেতর; 


সে দিনটায় কেন জানি মন খারাপ ছিলো

আকাশে তাকিয়ে ভাবছিলাম মেঘের কি হলো?   

নীলাকাশে দূর দূরান্তেও দেখিনি মেঘের ভেলা 

রাগাহ্নিত সূর্যটা করছিলো গরমের সাথে খেলা;


সাথে আনা পানি শেষ হয়ে গিয়েছিলো 

দুপুর চড়তেই তৃষ্ণায় ছাতি ফাটছিলো 

কে বলেছে হীরে মণি মুক্তো অমূল্য! 

তৃষ্ণার্ত জানে একঢোক পানির মূল্য;   


সারাদিন হেঁটে হেঁটে ক্লান্ত বিকেলে 

কানে কুলকুল শব্দ পানির কথা বলে 

আরেকটু এগোতেই সামনে ঝর্ণা ধারা 

পানি দেখতেই মন খুশিতে পাগলপারা;


অঞ্জলি ভরা পানিতে পিপাসা মেটালাম 

ঝর্ণায় নেমে পড়ে নিজেকে ভেজালাম 

অপরূপ সৃষ্টি জগতের স্রষ্টা আল্লাহ্‌ মহান 

ফাবি আইয়ে আলা ই রব্বিকুমা তুকাজ্জিবান। 



১০ এপ্রিল, ২০২২


#কবিতা 


তৃষ্ণার্ত 

 - যাযাবর জীবন 




ঘাসের শিশির

ঘাসের গন্ধ ভাসে ঘাসে

মাটির কিছু গন্ধ মিশে আছে 

ভোরের গন্ধ ঘাসের শিশিরে  

রোদের গন্ধ নিয়ে সূর্য হাসে; 

 

ঐ দূরে হালকা কুয়াশা 

নদীর ওপর আবছা ধোঁয়াশা 

ঘুমভাঙা পাখিরা ঘর ছেড়েছে

রোদ মেখে নিচ্ছে খোলা পালকে;


ঘাসের ওপর সকালের শিশির

সোনারোদ চকচক করে 

ঘাসফড়িং রোদ মাখে ডানায়

বসবাস ঘাসের ঘরে; 


আমি শরীরে মাটির গন্ধ শুঁকি 

বাতাসে মেঠো ঘাসের গন্ধ ওড়ে  

আমি হাত বাড়িয়ে রোদ ছুঁতে যাই

ঘাসের শিশির টুপ করে ঝরে পড়ে। 


  

০৯ এপ্রিল, ২০২২


#কবিতা 


ঘাসের শিশির

 - যাযাবর জীবন 

 

তারপরের জীবন

নিজেকে আয়নায় একবার দেখি, একবার দেখি অন্ধকারে 

এখানে প্রখর সূর্যালোক, আর ঐ তো ওখানে শুয়ে আছি কবরে

এই যে বেঁচে থাকা ও মরে যাওয়া! মুহূর্তের পার্থক্য মাত্র 

পেছনের অগোছালো জীবনটা'কে দেখি, সময়ক্ষেপণ যত্রতত্র

কি নিদারুণ অপচয়ই না করে ফেলেছি সময়ের, অর্থ উপার্জনে 

কতটুকু পেটের প্রয়োজন ছিলো? বেশীরভাগটুকুই অপ্রয়োজনে; 


আজকাল হুটহাট করেই কাছের মানুষগুলো চলে যাচ্ছে

চলে যাচ্ছে বলতে পৃথিবী ছেড়ে অন্য এক ভূবনে পারি জমাচ্ছে 

এই তো সকালেই পাশের বাড়ির চাচার সাথে কথা বলছিলাম 

দুপুরে খেতে বসতে না বসতেই ও বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ 

খাবার প্লেটটা রেখেই দৌড়ে গিয়ে শুনি নেই, চাচা চলে গিয়েছেন 

চলে গিয়েছেন বলতে মৃত্যু নামক অজানা ভূবনে পারি জমিয়েছেন;  


এই তো কাল সকালে নাস্তা করতে করতে খবর এলো 

মহল্লার এক ছোট ভাই কার্ডিয়াক এরেস্ট, হঠাৎ করেই 

টার্মটা খুব কমন, ছোট বড় মানে না, মানে না বয়স 

টেনে নামিয়ে দেয় কবর নামক ঘরে, যখন তখন ধরেই     

হুট করে উদয় হয়, এসে চেপে বসে বুকের ওপরে   

হাসিখুশি মানুষগুলোকে টেনে নিয়ে যায় মৃত্যুর ওপারে;


আমরা বলি কার্ডিয়াক এরেস্ট, অথবা ব্রেন হেমারেজ

ছোট বড় কত কত অসুখ! কত এক্সিডেন্ট প্রহরে প্রহরে 

জীবিত মানুষগুলো হুট হঠাৎ করেই চলে যায় মৃত্যুর ওপারে, 

মৃত্যু কোন নিয়ম মানে না, বয়স মানে না, মানে না সময় 

জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, প্রযোজ্য প্রত্যেকের জন্য   

এটাই আল্লাহ্‌ তায়ালার অমোঘ বিধান, বিশ্বাসীদের জন্য;  


মৃত্যুর আগে যার একটা নাম ছিলো, ঐ তো শুয়ে আছে লাশ 

গোসল করে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে সাদা কাফনে, অপেক্ষা দাফনে 

একটু পরেই জানাজা শেষে নামিয়ে দেয়া হবে অন্ধকার কবরে 

আজকাল মৃত্যুর কথা বড্ড মনে হয়, মৃত্যু দেখে চারিধারে 

মৃত্যুর পরের জীবনটা কেমন হবে? সে তো কর্মফলের দায়   

বিশ্বাসীরা প্রস্তুতি নেয় আগে থেকে, খুব দেরী না হয়ে যায়!  

 

০৪ এপ্রিল, ২০২২


#কবিতা 


তারপরের জীবন 

 - যাযাবর জীবন 


মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২

ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন

ঐ যে বৃদ্ধ আর বৃদ্ধা'কে দেখছ অসহায়! 

হাতে হাত রেখে বসে আছে বিকেল বারান্দায়; 


একসময় ওদেরও যৌবন ছিলো, চোখে ছিলো পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন 

সংসার শুরু করেছিলো, ক্রমে ঘরে সন্তান এলো, বাবা-মায়ের চোখের রত্ন  

বেঁচে থাকা মানেই পেট, সংসার মানেই অনেকগুলো মুখের আহার 

তারপর জীবন যুদ্ধ, আর ওখানে একের পর এক চাহিদার পাহাড় 

একজনের আয়ে চাহিদা মেটে না, আরেকজন কাজে বাড়ায় হাত 

তখনো ওদের চোখে কিছু স্বপ্ন থাকে, পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো একসাথ; 


একটা সময় ক্রমাগত চাহিদার চাপে, স্বপ্ন ছোট হতে লাগলো

একসময় পৃথিবীর স্বপ্ন স্থগিত রেখে চোখে দেশ বেড়ানো আঁকলো 

একসময় কিছু টাকার সঞ্চয়, ছেলেটাকে ভালো কলেজে ভর্তি করার ভয় 

বেড়ানো পড়ে হবে, আপাতত ছেলেকে ভর্তি করে বাবা-মায়ের চোখে জয় 

সন্তানের ভবিষ্যতই সকল বাবা-মায়ের কাছেই সবচেয়ে বড় চাওয়া 

বেড়ানোর স্বপ্নগুলো? থাক না! হবে কোন একদিন কোথাও যাওয়া; 


একটা সময় জীবনে প্রৌঢ়ত্ব এলো, তখনো কিন্তু চোখে বেড়ানোর স্বপ্ন ছিলো 

হাতে কিছু টাকাও জমেছিলো, তারপর কোথা দিয়ে কি যে হয়ে গেলো! 

হঠাৎ করেই কোন একদিন বুকে ব্যথা, এম্বুল্যান্সের প্যাঁ পোঁ শব্দ 

জমানো টাকাগুলো দিয়ে অপারেশন, না হলে জীবনটাই হতো স্তব্ধ! 

তারও অনেকদিন পর আবার কিছু সঞ্চয়, ছেলেমেয়েরা কিছু দেয় হাতে

বেড়ানোর স্বপ্ন? বার্ধক্য উপহাস করে বুড়োবুড়ির দিকে চেয়ে থাকে; 


আমাদের সংসারটা শুরু হয়েছিলো অন্যদের থেকে কিছু আগে, সেই কৈশোরে 

কৈশোরে, যৌবন থেকেও চোখে স্বপ্ন অনেক অনেক বেশি থাকে, চোখ ভরে 

তারপর যথারীতি সংসার, একের পর এক সন্তান আর তাদের চাহিদার পাহাড় 

দুজনার দম হাঁসফাঁস চাহিদার বিশাল হাঁ করা মুখে জোগাতে টাকা নামক খাবার

আজ প্রৌঢ়ত্বে এসে কোন এক জ্যোৎস্না রাতে ছাদের ওপর আমরা দুজন 

এখনো স্বপ্ন দেখি, একদিন বেড়িয়ে যাব, পৃথিবী না হোক শুধুই দেশ ভ্রমণ; 


কারও স্বপ্ন বাস্তব হয় কারোর'টা স্বপ্নই থেকে যায় 

নাই বা সত্যি হলো তবুও চোখে কিছু স্বপ্ন রয়ে যায়। 



৩০ মার্চ, ২০২২


#কবিতা 


 ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন 

 - যাযাবর জীবন 



   

মোবাইলদানব

একটা সময় ছিলো, যখন একদময়ই সময় পেতাম না 

তখন ইচ্ছেমত ঘুরতাম, ফিরতাম, খেলতাম, বেড়াতাম

বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানদের সাথে এক টেবিলে খেতাম

হাসি গল্পে সবাই মিলে বাসায় একসাথে আড্ডা জমাতাম 

বিকেলে বন্ধুদের সাথে খেলায় বা আড্ডায় মেতে উঠতাম

কখনো মন খারাপে একাকী আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম; 


তারপর একটা সময় মোবাইল নামক এক যন্ত্রদানব এলো

তারও পরে ভার্চুয়াল নামে এক নতুন জগৎ তৈরি হলো 

ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের বদল শুরু হলো 

ধীরে ধীরে জীবনে সময়ের সংকোচন শুরু হলো 

বাস্তব সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে মোবাইলে বন্দী হতে লাগলো 

তারপর একসময় জীবনটাই আমাদের ভার্চুয়ালময় হলো;  


এখন প্রচুর অবসর, তবুও সময়ের বড্ড অভাব  

আজকাল প্রকৃতির মাঝে ঘোরাফেরা হয় না বললেই চলে

 - কিন্তু প্রচুর ঘুরি, ভার্চুয়ালে;

আজকাল ঘাম ঝরিয়ে খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়েই গিয়েছে

 - তবুও প্রচুর খেলি, মোবাইলে;

আজকাল সপ্তাহান্তে পরিবারের সাথে এক টেবিলে বসা হয়

 - চুপচাপ খাবার টেবিলে, যে যার মোবাইলে;

ইদানীং বন্ধুদের সাথে আগের থেকেও আড্ডা অনেক বেড়ে গেছে

 - তবে সামনাসামনি নয়, ম্যাসেঞ্জার চ্যাটে;

আজকাল মন খারাপের বিশাল আকাশটা সংকুচিত হয়ে ছোট হয়ে ঠেকেছে 

 - মোবাইল স্ক্রিনে, ভার্চুয়াল জগতের সীমাবদ্ধতায়; 


আজকাল যখন খাবার টেবিলে সন্তানদের ডেকে পাই না!

কিংবা তাদের ডেকে নিয়ে আসলেও ওদের চোখ থাকে মোবাইলে! 

আজকাল যখন নির্ভেজাল আড্ডা মারার জন্য বন্ধুদের খুঁজে পাই না

কিংবা কখনো দাওয়াত করে নিয়ে এলেও আড্ডার বদলে ব্যস্ততা সেলফিতে! 

আজকাল ভাই-বোনদের সময়ের অভাব ভার্চুয়াল মিটিং এর ব্যস্ততায় 

তখন, ঠিক তখনই পুরনো দিনের কথাগুলো বড্ড বেশি মনে পড়ে যায়; 


মোবাইল সভ্যতা আমাদের কি দিয়েছে?

কি দিয়েছে আমাদের ভার্চুয়াল?

কিছু ভাঙন, একরাশ একাকীত্ব  

আর কিছু নষ্ট সম্পর্কের আড়াল?  


উন্নতির শিখরে উঠতে গিয়ে আমরা অবনতির চরমে নেমে যাই নি তো?

এক একবার ভাবি, পুরনো সম্পর্কগুলো ফিরে পেলে কি ভালোই না হতো! 


২৬ মার্চ, ২০২২


#কবিতা 


মোবাইলদানব 

 - যাযাবর জীবন 


এদের ভালোবাসা

আমার পিঠে ডানা নেই 

আছে ওড়ার মন 

কখনো ইচ্ছেয় উড়ি কখনো বাধ্য হয়ে

আচ্ছা! তোমরাই বলো? মন খারাপ হলে মন কি আর মনে থাকে?

উড়ে বেড়ায় না আকাশে? 

মাঝে মধ্যে আমাকে উড়তে হয় পেটের টানে

কাজের জন্যে,

তারপর আবার পৃথিবীতে ফিরে আসি আপনজনের মাঝে;  


আমি মেঘ নই তবুও ভাসতে ইচ্ছে হয় 

মেঘের মত মেঘের সাথে,  

যখন আমার খুব মন খারাপ হয়! 

যখন পৃথিবীর সমস্ত কিছু অসহ্য মনে হয়!

আমি মনকে আলাদা করে ফেলি শরীর থেকে

মন ভাসিয়ে দেই মেঘের সাথে 

তারপর কান্না হয়ে আবার ফিরে আসি পৃথিবীর কাছে,

যতই আকাশে উড়ি কিংবা মেঘের ভেলায় ভাসি

আমার সকল ভালোবাসা পৃথিবীর পরে

আমি বাঁচি পৃথিবীর মানুষগুলোকে জড়িয়ে ধরে; 


আমি নদী নই তবুও ডুবতে ইচ্ছে করে 

ঢেউয়ে ভেসে ঢেউয়ে ডুবে 

পানির একটা অন্যরকম আলাদা রূপ আছে

সে কান্না ধুইয়ে দেয় মানুষের চোখ এড়িয়ে 

আমি মন খারাপে ডুবে যেতে যেতে কান্নাগুলো ডুবিয়ে দেই নদী জলে 

আবার একসময় ভুস করে ভেসে উঠে চলে আসি মানুষের কাছে, কান্না ধুয়ে

তারপর আবার ভালোবাসার মানুষগুলোর ভেতর ডুবে যাই ভালোবেসে; 


মানুষের কত রকম ইচ্ছেই না জাগে! 

ওড়ার, ভাসার কিংবা ডোবার!

এই ইচ্ছেগুলো কোত্থেকে আসে?

মনের আঘাত থেকে?


সবচেয়ে বড় আঘাত দেয় কারা?

যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তারা; 


তবুও বারবার এদের কাছেই আবার ফিরে আসি

এদেরই ভালোবাসি,


এদের ভালোবেসেই উড়ি, ভাসি কিংবা ডুবি - এদেরই ভালোবাসায়। 


২৫ মার্চ, ২০২২


#কবিতা 


এদের ভালোবাসা

 - যাযাবর জীবন 


ভালোবাসার খাদ

আজ আকাশের দিকে তাকিয়েছিস? 

এত্ত বড় একটা চাঁদ,

একদিন তুই ছিলি, আমি ছিলাম, ভালোবাসা ছিলো 

আর ছিলো ভালোবাসায় অল্প একটু খাদ; 


খাদের কথা কেন বলছি জানিস?

স্বর্ণে খাদ না মেশালে কি গয়না হয়ে ওঠে রে? 

ভালোবাসায় খাদ না মিললে আমাদের বন্ধন হয়েছিলো কিসে?

আজ কখনো তুই একা, কখনো আমি আর একা ঐ চাঁদ; 


আজকাল তোর কথা একদমই ভাবতে চাই না; 


তবুও যখন রোদ তেতে ওঠে তোর রাগ মনে পড়ে

যখন কুয়াশা ঝড়ে! অভিমানের বাষ্প ওড়ে 

যখন ঝুমঝুম বৃষ্টি নামে, কারও কান্না ঝরে পড়ে

সূর্যাস্তে যতই তুই মন থেকে ডুবে যাস!

পরদিন ঠিক স্মৃতিতে উঠে যাস সূর্যোদয়ে,

অমাবস্যায় যতই মন'কে ঘুম পারিয়ে রাখি!

জ্যোৎস্নায় ঠিক আকাশে ভাসিস আলো হয়ে; 


আচ্ছা! একে কি ভালোবাসা বলে?

তাহলে ঐ যে আমাদের ভালোবাসার খাদ!  

হয়তো ওটাও ছিলো মনের একটা ফাঁদ, 

দেখ! মনে তুই আসতেই আকাশে বিশাল একটা চাঁদ। 


২২ মার্চ, ২০২২


#কবিতা 


ভালোবাসার খাদ 

 - যাযাবর জীবন