মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট, ২০১২

শ্রদ্ধাঞ্জলি - মহাকালের মহানায়কের প্রতি


মহাকালের এক মহা নায়কের প্রয়াণ হয়েছিল
এক মহা বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রের মাঝে
কিছু নরমাংস লোভী হায়েনা কুকুরের ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের শব্দ
স্তব্ধ করে দিল এক মহাকালের মহাপুরুষকে
হায়েনাগুলোর একটুও বুক কাঁপেনি তার পরিবারের শিশু সন্তানদের বুক ঝাঁঝরা করে দিতেও
আজ ১৫ই আগস্ট বাঙ্গালি জাতির লজ্জার দিন
কলঙ্কিত করেছিল এই দিনে ওই বেদীনের দল বাংলার মাটিকে
নারী, শিশু সন্তান সহ হত্যা করেছিল বাঙ্গালির আত্মাকে
বাংলার মহানায়কের পরিবারবর্গকে।

যে মানুষটার জন্য পেয়েছি আজ স্বাধীন বাংলা
যে মানুষটার ছোঁয়া লেগে আছে গ্রাম বাংলার মাঠে ঘাটে
রাজপথের ধুলোগুলোও যেন আজ অঝোর ধারায় কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে
যে মানুষটা রক্ত ঝরিয়েছে অবিরল বাংলার মানুষের তরে
সংগ্রামে সংগ্রামে
শুধু বাংলা মায়ের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে
তাকে আজকের এই ভয়াল রাতে হত্যা করেছে পিশাচেরা সব মিলে
বুলেট বর্ষণে পরিবার পরিজন সহ।
যে মানুষটার একটা ডাকে সারা বাংলা কাঁপে
যে মানুষটার একটা আহ্বানে সারা দিয়ে জীবন দিয়েছে তিরিশ লক্ষ শহীদের প্রাণ অকাতরে
যে মানুষটা ছিল আমার বাংলা মায়ের প্রতিকৃত
সে মানুষটাই হলো যেন বাংলার স্বাধীনতার সর্বশেষ শহীদ।
আজকের এই দিনে মনের গভীর কোন থেকে বারিধারা নেমে আসে
তাকেই স্মরণ করে তার মহা কীর্তির কাব্য-গাথা মনে করে।
হে মহান বিজয় নায়ক তোমার জন্যই আজ আমি বাংলার সন্তান
তোমার জন্যই আজ আমি মাথা উঁচু করে গর্বভরে বলতে পারি আমি বাঙ্গালী।
তোমাকে জানাই সহস্র কোটি প্রণাম আর মনের সকল শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ঘৃণা জানাই প্রতিটি বাঙ্গালির হয়ে, আমার মনের গভীর তলদেশ থেকে
ওই সব পিশাচে দলকে যারা তোমায় হত্যা করেছিল নির্মম আঘাতে।
হে মহাকালের মহানায়ক তুমি বেঁচে থাকবে চিরকালই বাঙ্গালির মনের মাঝে
যতদিন বাংলাদেশ বলে কোন দেশ থাকবে
তুমি হয়ে থাকবে বাংলার মহানায়কের এক মহা নাম
হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।





ঘুমচোখে চেয়ে থাকি




আমার কাছে এখন দিন রাত্রির কোন পার্থক্য নেই
তুমি চলে যাবার পরে থেকে
আলো আঁধারের পার্থক্য খুঁজি না আর
ঝাপসা চোখের জানলা খুলে দিয়ে
অমাবস্যা আর পূর্ণিমা চক্রাকারে ঘুরে আসে
আমার দুচোখ এক হতে পারে না দিন রাত্রি আলাদা করে
খর চোখে চেয়ে থাকি শূন্য এক দৃষ্টি নিয়ে
আকাশের দিকে তাকিয়ে ঘুমচোখে চেয়ে থাকি
চাঁদ বা সূর্য দেখার ছলে
চোখের পাতা এখন আর এক করতে পারি না ভয়ে
যদি ভুল করে কখনো চলে আস তুমি আমার কাছে
সকল অভিমান ভুলে;
আর আমায় ঘুমন্ত পেয়ে
আবার ফিরে চলে যাও আগের মতন করে।


মেঘমালার অশ্রু



কোন এক সারা দিন ভরে আকাশটা ছেয়ে থাকে কালো মেঘে
ক্ষণে ক্ষণে দু এক পশলা বৃষ্টি, ক্ষণে ক্ষণে হিম হাওয়া বয়ে যায়
সারাদিন গুমোট আবহাওয়ার মাঝেও হয়তো রাতভর বৃষ্টি ঝরে পরে
ঠিক তখনই তোমাকে মনে পড়ে।
কোথা থেকে জানি ভালোবাসার এক হাওয়ার ঠাণ্ডা ঝাপটা পাঠিয়ে দাও
বুকের ভেতরের আগুনটাকে আরও উসকে দিতে
তবু ধরা দাও না আমার হয়ে
কি সুখ পাও তুমি
বৃষ্টির কান্নার মত হৃদয়ের অশ্রুগুলো ঝরিয়ে।


সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১২

মেঘের ঈর্ষা



একবিংশ মরা কাটালের লালচে জ্যোৎস্না রাতে
আজ কেন আকাশটা কান্না ঝরাচ্ছে?
তোমার চেহারা মনে করে
চাঁদের পানে তাকিয়ে থাকি আনমনে;
মেঘের এত ঈর্ষা হয় কেন তাতে?
আমারই অশ্রুজল কে বলেছে তাকে আজ ঝরিয়ে যেতে?


বন্য ভালোবাসা তোর জন্য




বড্ড বেশি অস্থিরতা ভর করে আছে আজ আমার দেহে কিংবা মনে!
হয়তো তোর জন্য, হয়তো তোকে কাছে না পাওয়ার জন্য
একটা বন্য প্রেমের তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়ার জন্য
কিংবা আদিম কামনায় তোকে নিয়ে বন্য হওয়ার জন্য
হয়তো অন্যরকম এক ভালোবাসার জন্য, তোকে নিয়ে;
তোকে অন্য একটা প্রেমের জগতে টেনে নিয়ে ধ্বংস করার জন্য।

আমি চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত
তোর প্রত্যেকটি অংশের ভালোবাসা চাই
শুধুই আমার জন্য, শুধুই আমার করে!
ঈর্ষা-কাতর বন্য ভালোবাসা আমায় অন্ধ করে রাখে
তোকে অন্য কারো সাথে কথা বলতে দেখলে।
তোর চোখ আমি গেলে দেব অন্য কারো দিকে চাইলে
তোর হৃদয় উপড়ে নিয়ে সিথানে রেখে দেব অন্য কাওকে ভালবাসলে
ঈর্ষা কাতর এক প্রেমিক আমি
তোর কোন কিছুর সাথেই কাওকে আমি কোন ভাগ করতে দেব না
দহনের জ্বালায় জ্বলতে চাই না আমি তোকে অন্য কারো সাথে দেখে।

আমি তোকে চাই আমার মতন করে
তোর ঠোঁটের ওম চাই আগুনের মত
বৃষ্টির রাতের হালকা শীত শীত অনুভূতির মাঝে!
তোর ওম চাই দিনে আর রাতে
শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠা চুম্বনের বর্ষণে।
তুই যে আমার ড্রাগের নেশা নিত্যদিনের সর্বক্ষণে
তোকে আমি ভাগ করি কেমন করে কারো সাথে
বল তুই আমারে।

আমি একরোখা উন্মাদ পাগলের মত তোকে ভালোবাসে যাই
তাই হয়তো অস্থির চুম্বনের পাগলা নেশার মত করে
শুধুই তোর ভালোবাসা চাই আমার প্রতিটি লোমকূপের গোঁড়ায় গোঁড়ায়
হোক না সে তিতা চিরতার রস কিংবা অহল্যার বিষ
প্রতিবার না হয় ঝাঁকি দিয়ে যাক আমার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে
তবুও তা আমি পান করে যাব মুখ বুজে মিষ্টির রস ভেবে।






শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১২

প্রসব বেদনা


একটি কবিতা প্রসবের বেদনা কেও বোঝে না
শুধু বোঝে কবি নিজে
মাথার ভেতর গিজগিজ করে ঘুরপাক খেতে থাকে শব্দগুলো
জটপাকাতে থাকে কথার মালা গাঁথার তরে
কোথাও সুতো কম পড়ে যায় কোথাও সূচের ফোঁড় দেয়ার জায়গা থাকে না
মালা আর গাঁথা হয় না
শব্দ জটের প্রসব বেদনায় কাঁতর কবি অসহায়
যে-বেদনা লাঘবের ডাক্তার মেলা ভার
নারীর প্রসব বেদনার তীব্র কষ্টের অনুভুতি
কবির অনুভবের মাঝে রয়ে যায়
একটি কবিতা প্রসব করার অপেক্ষায়।

শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১২

অপেক্ষা অরণ্যে তোমার:



আজ আমি চলে যাব বাঁশ বাগানের সেই গহীন অরণ্যের পথ হেঁটে হেঁটে
তোমার দেয়া ভালোবাসার বাঁশের কঞ্চিগুলো আমায় পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে
কোন এক না ফেরার দেশে, জলে ভাসা সিঞ্চিত নয়নে
একা এক ভুবন গড়ে তুলব সেথা তোমার সব ভালোবাসার স্মৃতিগুলো মনে গেঁথে।

তুমি হয়তো এ-ভুবনে কোথাও বসে খিলখিল হাসিতে তরঙ্গ তুলবে
তোমার উদ্ভিন্ন যৌবনের বাঁকা দেহ-বল্লবের গর্বিত মহিমায়
হচ্ছে আজ চারিদিক ঝংকৃত মথিত একাকার;

তির্যক চাঁদের জ্যোৎস্না এসে হেলে পড়ছে তোমার বুকের খাঁজে
নামকরা চিত্রকরের তুলির স্পর্শে অঙ্কিত তোমার বাঁকা দেহের নগ্ন ছবি
শোভা বাড়াবে হয়তো ঝুলন্ত হয়ে আলিয়াস ফ্রান্সিসের দামী দেয়ালে;

নূপুরের নিক্কণে নেচে যাচ্ছ আজ তুমি বৃষ্টির তালে তালে
কারো চন্দ্রমল্লিকার বাগানে ফুল ফোঁটাতে ফোঁটাতে
বিরহী গন্ধে ভর উঠছে আমার আকাশ বাতাস
ঈর্ষার আগুনে পুরে পুরে আমি হেঁটে চলে যাচ্ছি
ওই বাঁশ বাগানের আরো অনেক গভীরে,
বাসা বাধবো শেষ প্রান্তের দিকে কোন এক গহ্বর খুঁজে নিয়ে
আমি সেখানেই অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকব তোমার জন্য আজ থেকে।

তোমার দেহের তপ্ত যৌবনের আগুনের হলকা কমে এলে
সবাই একদিন সরে যাবে দূরে তোমা থেকে একে একে
দ্বিধাহীন মনে তুমি সেদিন চলে এসো আমার বাঁশ বাগানের গহ্বরের ঘরে
সেদিনও আমি থাকব সেথা তোমার অপেক্ষায় বসে একই ভাবে ভালোবেসে
আমাদের দেখা হবার দিন থেকে যেভাবে ভালবেসেছিলেম তোমাকে।