বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

পরাজয়ের গ্লানি


পরাজয়ের গ্লানি

শীতল হয়ে যাচ্ছে ভাবনাগুলো
আমার ভাবুক স্বত্বা
তার সাথে আমি

তুমি হয়তো শুয়ে আছ কারো বুকে পড়ে
রমণের শ্রান্তিতে
ক্লান্ত তুমি

পরাজয়ের গ্লানি মনে, কোন বোধ কাজ করে না
ভালোবাসার খেলায় হেরে গিয়ে
কিংবা ছলনার চাতুরী

বরফ চোখে ঠাণ্ডা নির্লিপ্ততা
চেয়ে থাকে আকাশের দিকে
তারা গোনে

বিষাক্ত মন ছেয়ে থাকে বেদনায়, অবচেতন মন দেখে
অহল্যা নীল বিষের বোতল
পরাজিত জীবনে







নিজেরে নিয়ে ব্যস্ত সবাই


নিজেরে নিয়ে ব্যস্ত সবাই

আমরা ভুল করে যায় প্রতিদিন নিজে নিজে
হাজার ভুলে ভরা জীবন আমাদের
তবুও ক্ষমা করি নিজেকে নিজে
ভুলে যাই ভুলগুলো আবারো ভুল করার তরে।

আমরা ভুল ধরে যাই প্রতিদিন অন্য কারো
একটি ভুল যদি করে প্রিয়জনে
ক্ষমা করতে পারি না মনে মনে
ভুলে যাই একই ভুলই তো আমিও করেছিলাম জীবনে।

আয়নার এপাশে দাঁড়িয়ে নিজেরে নিজে দেখি
ওপাশে ঘন পারদের অন্ধকার ছেয়ে রয়
আলোকিত জীবনের করি অভিলাষ
অন্ধকার জীবন কি কারো সয়?

রঙিন দেয়ালের আলোকিত রঙ, চোখ ধাঁধায় এপাশে
পলেস্তারা খসা নগ্ন দেয়াল বের হয়ে থাকে ওপাশে
রঙিন খেয়ালে স্বপ্ন বুনে যাই ঘরের মাঝে বসে
বাস্তবতার অন্ধকার থেকে মুখ ফিরিয়ে, আমার কি যায় আসে?

আমার খোলা জানালায় দেখি নীল আকাশ, মনের খুশিতে দেখি চেয়ে
ভাবি না তোমার আকাশ থাকতে পারে ঘন কালো মেঘে ছেয়ে
অনুভূতিহীন জীবনযাপন আমাদের এখনকার অস্থির সময়ে
শুধু নিজেরটাই ভাবি আমরা পড়ে থেকে সম্মোহিত সময়ে।








বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

উত্তর মেলে না


উত্তর মেলে না


তুমি আর আমি মিলে কাটিয়েছিলেম কিছু সুখের সময় -

- ধলেশ্বরীর নদীতে নাইতে যেতাম দুজনে মিলে নদী স্নানে
- ঝমঝমে বর্ষায় "চলো বৃষ্টিতে ভিজি"
............গাইতে গাইতে টেনে নিয়ে যেতে তুমি আমায় বৃষ্টি স্নানে
- লাল পাহাড়টা বাইতাম দুজনে মিলে ঘর্মাক্ত কলেবরে
- লোহিত সাগরে গা ভাসাতাম, ঘন লবণ জল ভাসিয়ে রাখত আমাদেরে
- জ্যোৎস্না ঢালা কত রাতে করেছি জ্যোৎস্না স্নান
................দুজন দুজনার শরীরে ডুবে গিয়ে
-আমাদের সবচেয়ে প্রিয় সময় ছিল তাকিয়ে থাকা দুজনার চোখের দিকে
...........হাতে হাত রেখে, পলক না ফেলে; হোক সে দিবা কিংবা রাতে।

আজ সেই দিনগুলোর কথা বড্ড মনে পড়ে
সুখ ছিল আমাদের যেন অন্য কোন এক জনমের ঘরে
সুর ছিল, গান ছিল, ভালোবাসা ছিল আমাদের প্রাণে
কি এক স্বপ্নের সুখের দিনগুলো ছিল আমার জীবনে।

আমি কিন্তু আজো বেঁচে আছি প্রতিদিন নিজেকে নিজেতে মরে
আছি মনের কোণে গভীর এক শূন্যতা নিয়ে-তুমি চলে যাবার পরে।

তবে তুমি চলে যাবার আগে কিছু প্রশ্ন করেছিলাম তোমাকে -

কে হই আমি তোমার ?
কি ছিল তোমার সাথে সম্পর্ক আমার?
কেন এই মিছে ছলনা?
কেন দিয়ে যাচ্ছ আমায় এ বেদনা?

.....................কোন জবাব মেলে নি তোমার কাছ থেকে সেদিনও
.....................নৈঃশব্দের আঘাত রয়ে গেছে মনের মাঝে আজো

আমি বলেছিলাম তোমায়, উত্তর না দাও কিছু কথা জেনে যাও -

তুমিই ছিলে আমার পৃথিবী………………
অপেক্ষায় থাকব আমি……………………

আমার রক্তকণিকাগুলোকে মাইক্রোস্কোপের নিচে নিয়ে
.......................................একবার দেখে যাও
দেখতে পাবে প্রতিটা কণিকাতে ভালোবাসার জালের মত
.......................................জড়িয়ে আছ তুমি।

যদি তোমার প্রতিটা পথের বাঁকে বাঁকে, পথ চলতে
কাঁটা ফুটে পায়ে............
............আমায় ডেক, পাশে পাবে তুমি
কাঁটা তুলে দিতে............

আমি আছি যতদিন বেচে, রইব অপেক্ষায়
………………………..তোমার ফিরে আসার।





মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

দুই ভুবনের দুইজন



দুই ভুবনের দুইজন



তোমাকে সেই প্রথম দেখার পর থেকে
আমার মনে মনে কত কথা উড়েছিল
হায় একদিন তার সঙ্গে তোমায় দেখে
ঈর্ষায় কতই না মন আমার পুড়েছিল
যদি তুমি বুঝতে!

বোকার হদ্দ আমি বাস করি নদী চরের ঢালে
তুমি শহুরে মেয়ে বাস কর শহরে
আমার সকাল হয় সূর্যোদয়ের কালে
তোমার সকাল হয় মধ্য দুপুরে।
আগে বুঝি নি যে।

মানুষের দুঃখে তুমি কর উহু আর আহা
আমার চেতনায় লাগে যে বড় শ্লাঘা
ভালোবাসার শেষ ঠিকানা আমার কাছে যে বাসর ঘর
নিত্য বদল তোমার প্রেম খেলনা, পুরানো হলে কর পর
আগে বুঝি নি যে।

তবু রূপে মজে তোমার, নিজের অবস্থান যেন গিয়েছিলাম ভুলে
তাই হয়তো দিয়েছিলাম তোমায় হৃদয়ের সবটুকু পিরিতি ঢেলে
আরেকজনে সাথে দেখছি তোমার হাত ধরাধরি, গা ঢলাঢলি
ঈর্ষার জ্বালায় জ্বলছে এখন ছাতি আমার, জ্বলছে আংরানালি।
যদি তুমি বুঝতে!

বীণার তারে আঙুল না ছোঁয়ালে বাজে না যেমন সুরের বীণা
তোমায় না পেয়ে সাদাকালো লাগে সবকিছু তুমি হীনা
করুণ আবেদনে অন্য কারো সাথে করতেই মিশতে মানা;
ঝাঁঝিয়ে বলেছিলে কারো সাথে মিশব না!! করো না এ দুরাশা।

অন্য কারো সাথে দেখলে তোমায় লাল হই ঈর্ষায়, সইতে পারি না
হিংসুটে বলে গাল দিয়ে গেলে, ভালোবাসাটুকু তুমি বুঝলেনা;
হায় আমি মূর্খ কিবা কতা কও হে বাহে, কিছু বুঝি না
ঈর্ষা ছাড়া প্রেম!!! এইডা আবার কেমুন ভালোবাসা?

হায়, যদি আমি বুঝতেম তোমার ভাবনা
হায়, যদি তুমি বুঝতে আমার যাতনা।






ক্যাকটাসের কাঁটা জালে বন্দী



ক্যাকটাসের কাঁটা জালে বন্দী

সময় বয়ে যাক সময়ের হাত ধরে
আমি অপেক্ষায় বসে থাকব তোমার
আমারই ঘরে যাবো না কোথাও
যদি এসে ফিরে যাও?
সময়ের হাত ধরবো না আর অভিমানে
করবো না হাহাকার সময়ের কথা বলে
ধরব না তোমার ক্যাকটাসে ভরা হাত
কাঁটা ফুটিয়ে যাও অবিরত
হাঁটব না তোমার সাথে পথ আর
সময়কে অতিক্রম করে।

যদি ক্যাকটাসে কাঁটায় বিধিয়ে ধরে রাখ আমায়
ঠিক ঐ পাখিটার মত করে?
আজ আমার মত পাখিটাও ছটফটে মরে
ডানা ঝাপটায়, তবু উড়ে যেতে না পারে
ক্যাকটাসে পা বেঁধে;
তুমি তো সেই কবে থেকে আমাকে বেঁধে রেখেছ
তোমার ক্যাকটাসের কাঁটা জালে।







শুধুই তুই আর কিছু প্রশ্ন


শুধুই তুই আর কিছু প্রশ্ন


তোকে দেখলেই মনের মাঝে ভায়োলিনের সুর ভেসে আসে
শুধু তুই
তোকে সামনে পেলেই জড়িয়ে ধরেতে ইচ্ছে করে
শুধু তুই
তোর চোখ দুটো দেখলে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে তার অতলে
শুধু তুই
তোর ঠোঁট দুটো দেখলে অনেক চুমু খেতে ইচ্ছে করে
শুধু তুই
তোর চুলের ঘ্রাণ আমায় পাগল করে
শুধু তুই
তুই সামনে থাকলে মনে কামনার আগুন জ্বলে
শুধুই তুই
কেন এমন হয় বলতে পারিস?
ভালোবাসায় তোর মাঝে মরতে চাওয়া
সে কি খুব দোষ হয়েছিল আমার?

তোকে যত না সামনে দেখেছি, তার চেয়ে বেশি দেখি ভাবনায়
যখন সামনে থাকিস না
মনের মাঝে শত জনমের তৃষ্ণা তোর রূপ সুধা পান করব মন ভরে
বাসনার অন্ধকারে কামনাগুলো গুমরে মরে তোকে কাছে পাবার তরে
নিঃশব্দের হাহাকার আমার কানে তোর কণ্ঠের সুরেলা ধ্বনি
মনে মনে লাখো বার বলি দেখা দে, দেখা দে আমায়
ক্ষরণ হৃদয়ে রক্তের নদী বয়ে যায়
অশ্রু পতন অবিরত, চোখ মুছি নীরবে
ঘরের খোলা জানালাটা বাড়ি খায় বাতাসের দোলায়
মনে মনে ভাবি,
কোথাও থেকে এক ভালোবাসার হিমেল হাওয়া পাঠিয়ে দিয়েছিস
তুই যেন আমারই জন্য ভালোবেসে
ক্ষরণে প্রলেপ দিতে কিংবা অশ্রু শুকিয়ে নিতে।
তোর কথা যখনই মনে হয়
মনে মনে হেঁসে বলি, তুই ভালো থাকিস
আমি আছি তোর সাথে সাথে
মনের অনেক ভেতরে তোকে রেখেছি আপন করে।

আসলে..................
আমি আছি কি কোথাও?
তোর মনের ভেতরে?
গহীন কোন কোণে?
প্রশ্ন হয়ে রয়............
জবাব মেলে না............








সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

তোমার হিসেবী ভালোবাসা



তোমার হিসেবী ভালোবাসা

কোন এক বালুকাবেলায় সূর্য ডোবার কালে
যখন পাখিগুলো ফিরছিল নীড়ে
বালির ঢিবি বানাতে বানাতে বলেছিলে গুনগুনিয়ে
ভালোবাসার কথাগুলো বসে সাগর তীরে।

একটি সাগর চেয়েছিলে আমার কাছে, ভালোবাসার সাগর
যেথায় সাঁতার কাটব দুজনে মিলে;
একটি দ্বীপ চেয়েছিলে আমার কাছে, ভালোবাসার বালুচর
যেথায় থাকব শুধুই আমরা দুজনে মিলে;
একটি পুরো বর্ষা ঋতু চেয়ে নিয়েছিলে আমার কাছে, ভরা ঝড়ো বাতাসে
দুজনে মিলে বৃষ্টিতে ভিজব বলে;
একটি আস্ত চাঁদ চেয়েছিলে আমার কাছে, মেঘহীন আকাশে
দুজনে মিলে জ্যোৎস্না স্নান করব বলে;
একটি পুরো পাহাড় চেয়েছিলে আমার কাছে, হিমালয়ের মত অনেক উঁচুতে
যার চুড়া থেকে ডানা মেলে দেব পাখি হয়ে দুজনে মিলে;
একটি স্বপ্ন গুহা চেয়েছিলে আমার কাছে, অগ্ন্যূৎপাতের উৎসের অনেক নিচুতে
যার ভেতরে ঘর বাধব আমরা দুজনে একসাথে মিলে।

আমি তোমাকে কিছুই দিতে পারি নি সেদিন সাধ্যে ছিল না বলে
তোমার চাওয়াগুলো আমার মনে হয়েছিল, চেয়েছিলে শুধু কথার ছলে
তবু আমার অপারগতা জানিয়ে বলেছিলেম তুমি আমার হৃদয়টারে রাখ
এটা পুরোটাই তোমার, তুমি আমার এ হৃদয়ের প্রতিটা ভাজ খুলে দেখ।

এখানে পাবে বিশাল ভালোবাসার সমুদ্র যেথায় স্নান করবে
এভারেস্ট থেকে উঁচুতে তোমার স্থান যেখান থেকে উড়ে বেড়াবে
আমার হৃদয়ে ডুব দিলে খুঁজে পাবে না কোন তল, এ তোমার ভালোবাসার কুয়া
জ্যোৎস্না ধরে রেখেছি হৃদয়ে তোমায় আলো দিতে, কোথাও পাবে না কোন ধোঁয়া
বর্ষাঋতু ছাড়াই বর্ষা-স্নানে তুমি সিক্ত হবে প্রতিদিন ভালোবাসার বর্ষণে
পুরো হৃদয়টাই বালুকাবেলার দ্বীপ যখন ইচ্ছে খেলাঘর বানাতে পার এখানে
বুঝলে না তুমি আমার ভালোবাসা, রাগে দুঃখে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিলে
ভালোবাসার অবমাননা করে আমায় ফেলে রেখে এখন তুমি কার কাছে গেলে?

সাহিত্যের ছাত্রী তুমি তবুও হিসেবে পাকা ছিলে চিরদিনই
দুজনের ভালোবাসা হিসেব করে নিও আজ না হয় জীবনে একবারই
কি দিয়েছিলে আর কি পেয়েছিলে হিসেবের খাতায় হিসেব কি মিলে
লজ্জা কি পাবে একবার আমার ভালোবাসায় কোন খুঁত না পেলে।

তোমার বড়লোক স্বামীর দামী জার্মান কাঁচের
বিশাল বড় আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে
শুধু ভালোবাসার পাল্লায় হিসেব করে
নিজেকে একবার প্রশ্ন কর তো নিজে আজ।

ভালোবাসার প্রত্যাখ্যানে আমার হৃদয়টাকে রক্তাক্ত করে দিয়ে;
কতটুকু হয়েছে তোমার লাভ?

করতে করতে না হয় একটু সাজ
হিসেবে লস দেখলে মনে মনে তুমি
পাবে কি একটুকু লাজ?