শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১২

বিবর্ণ ডালে নীল পাতাগুলো

বিবর্ণ ডালে নীল পাতাগুলো

- যাযাবর জীবন

পাতাগুলো একসময় সবুজ ছিল
ভালোবাসার দিনগুলোতে
তোর আর আমার দুজনার দুই গাছে
ধীরে ধীরে বিবর্ণ রঙ ধরেছিল
সবুজ সতেজ পাতাগুলোতে
তোর ভালোবাসার মত করে
শুধু আমি বুঝি নি আগে
প্রেম তোর মরে গেছে
একটু একটু করে।

এখন আর পাতাগুলো বিবর্ণ নয়
ঝরে পড়েছে টুপ করে গাছের তলে
ঠিক তুই যেমন ডুব দিয়েছিস
না বলে চোখের আড়ালে।

আবার হয়তো বৃষ্টি নামবে তোর গাছের ডালে
মনের বাগানে ফুল ফুটবে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে
পাতাগুলোতে সবুজ রঙ ধরবে
তোর নতুন ভালোবাসায় রাঙা হয়ে।

তখন একবার বসে যাস
আমার গাছের বিবর্ণ ডালে
দেখে নিস ভালো করে
চোখ মেলে মেলে
নতুন সাথীকে সঙ্গে করে
উড়ে উড়ে এসে
পাতাহীন বিবর্ণ ডালগুলো
কেমন রঙ ধরেছে নীলে
তোরই মনের যত উগরে দেয়া বিষে।




শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১২

কোরবানি ও অলিক কিছু চিন্তা

কোরবানি ও অলিক কিছু চিন্তা

-যাযাবর জীবন

“ক্যামেরার টপ শট
ঈদের আগের দিন বিকেল বেলা
বড় বাড়ির উঠোন
৪ টি বড় বড় গরু
২টি দাঁড়িয়ে বাকি দুটো বসে
তার একটু পাশে ৪ টি বিশাল আকারের খাসি
১টি দাঁড়িয়ে বাকিগুলো বসে
কোরবানির জন্য কেনা
৪টি ফ্যামিলির ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেরা গরুগুলোকে ঘিরে
কতগুলো ফুটফুটে বাচ্চা মেয়েরা একটু দূরে
যেন ভয় পাচ্ছে গরুগুলোর কাছে যেতে
ওরা খাসি বা ছাগল গুলোকে কাঁঠাল পাতা খাওয়াচ্ছে।

ক্যামেরা ক্লোজ শটে
একটি শিশু বাচ্চা ছেলের মুখ
হাসিতে দাঁত বের হয়ে আছে
দেখেছ? আমাদের লাল গরুটা সবচেয়ে বড়
দেখতে কি সুন্দর নাদুস নুদুস।

ক্যামেরা ঘুরে ক্লোজ শটে
আরেকটি শিশু বাচ্চা ছেলে
আরে নাহ আমার সাদা গরুটা দেখ
ওটাই সবচেয়ে বড়
উঁচু লম্বা সব গরুগুলোর চেয়ে।

ক্যামেরা আবার ঘুরে ক্লোজ শটে
আরেকটি শিশু বাচ্চা ছেলের মুখ
হাসিতে সবগুলো দাঁত বের হয়ে পড়েছে
ধুর তোমরা সবাই বোকা
দেখ না আমার কালো গরুটা
দুই লাখ টাকা দিয়ে কিনে এনেছি বাবা আর আমি
ষাঁড় গরু এটা, হাটের সবচেয়ে গাঁট্টাগোট্টা
এখানকার সবগুলো গরুর মধ্যে সবচেয়ে দামি।

এবার ক্যামেরা ঘুরে ক্লোজ শটে
চতুর্থ শিশু বাচ্চা ছেলের মুখে
চিন্তিত একটু যেন এই ছেলে
চারটি গরুর মধ্যে সবচেয়ে ছোট গরুটি তার
তবু মুখে কি এক প্রশান্তির হাসি
সাদা কালো ছোট গরুটির গায়ে হাত বুলায়
পরম মমতায়
একটু খানি কে যেন ভাবে
বাকি সবাইকে বলে
নিয়তে বরকত, কোরবানির ভাবনায়
গরুর দামে কি আসে যায়?
কোরবানির এই গরুটি কেনা
আমার বাবার অনেক কষ্টের পয়সায়।

ক্যামেরা প্যান করে টপ শটে
চার রঙা চারটি গরু
চারটি গরুর গা ঘেঁসে চারটি বাচ্চা শিশু
একটু দূরে দাঁড়িয়ে চারটি শিশু মেয়ে
মুখে কোন কথা নেই তাদের
খাসি বা ছাগলকে কাঁঠাল পাতা খাওয়াচ্ছে।

চতুর্থ শিশুটির কথা শুনে
ক্যামেরা জ্যুম করে বাকি তিনটি শিশুর মুখে
এক এক জনের এক এক রকম এক্সপ্রেশন
কারো তাচ্ছিল্য কিংবা কারো যেন বুঝদার হাসি।

ক্যামেরা এগিয়ে গিয়ে জ্যুম করে
বড়ির উঠোনের লোহার শিকের গেটে
গেট বন্ধ তালা মারা
দারোয়ান দাঁড়িয়ে গেটে
পাশের বাড়ির কয়েকটি বাচ্চা ছেলের মুখ
যাদের বাবার সামর্থ্য হয়নি কোরবানির গরু কিংবা ছাগল কেনার
করুণ চোখে তাকিয়ে দেখতে থাকে
বড় বাড়ির কোরবানির পশুগুলোকে
মলিন মুখে, কি এক অসহায় চোখে
ক্যামেরার ফোকাস তাদের মলিন মুখ
ডি ফোকাস বড় বাড়ির শিশুগুলোর মুখ
ক্যামেরার ডি ফোকাস তাদের মলিন মুখ
ক্যামেরা ফোকাস বড় বাড়ির শিশুগুলোর হাসিখুশি মুখ।

ঈদের দিন দুপুরবেলা
ক্যামেরার লং শট
বড় বাড়ির খাবার টেবিল,
সবাই মিলে খাচ্ছে
কোরবানির মাংস, বড় ছোট সবাই
গল্পে মশগুল
সকলের মুখে হাসি
ক্যামেরা ফোকাস আউট।

ক্যামেরা ফোকাস ইন
পাশের বাড়ির খাবার ঘর
মাটিতে আসন পেতে বাবা মা আর দুটি সন্তান
জ্যুম শটে সাদা ভাতের গামলা
একটি বাটিতে আলু ভর্তা
একটি বাটিতে ডাল
আর ঈদ উপলক্ষে মায়ের রান্না
একটি মুরগীর মাংসের বাটি
মাদুরে খেতে বসা সবাই
ক্যামেরা ফোকাস আউট
এন্ড কাট”।

কেন এমন হয়?
কোরবানির অর্থ কি?
আমরা কি পারি না আমাদের কোরবানির মাংসের ভাগ দিতে
পাশের বাড়ির ওই প্রতিবেশীকে?
এটাই তো হওয়া উচিত কোরবানির প্রকৃত অর্থে।
তবে কেন আমরা ভুলে যাই প্রতিবেশীকে?
এই আমাদের ত্যাগের শিক্ষা?
এই আমাদের কোরবানির দীক্ষা?
কেন বড় বাড়ির গেটে ফকিরের ভীর লেগে থাকে দু টুকরো মাংসের আশায়
আর বড় বাড়ির কর্তা গিন্নী মুখ ঝামটে ঝামটে মাংস বিলিয়ে যায়
ফকিরদের মাঝে, যেন এটাই তাদের কোরবানির আসল মানে
কতটুকু বিলালো তার কি হিসেব রাখে
নাকি হিসেব কষে তার ডিপ ফ্রিজে কত বেশি মাংস আঁটে?
বাকি যা থাকে ছুড়ে ছিটিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্ষুকের পানে।
আজকের সমাজে গরীব প্রতিবেশীর খবর নেওয়ার সময় কোথায়
কিংবা মানসিকতা?
আমরা কি দিনে দিনে মনুষ্যত্ব হারাচ্ছি
নাকি অনেক টাকায় কেনা কোরবানির গরু নিয়ে গর্ব করে
সম সোসাইটির বাকি সবাইকে বলে বেড়াচ্ছি
ভাবী জানেন? আমার কর্তা এবার গরু কিনেছে এক লক্ষ টাকায়
কিংবা আরেকজনের তাচ্ছিল্য ভরা মুখে শোনে
মাত্র একলক্ষ টাকা? আমার কর্তা এবার হাটের সবচেয়ে দামী গরুটি কিনে এনেছে
আট লক্ষ বা দশ লক্ষ টাকায়।
যেন টাকাটা হাতের ময়লা, ঠিক যেমন পাশের বাসার অভুক্ত প্রতিবেশী।
এরই নাম কি কোরবানি???
ত্যাগের শিক্ষায় কবে আর আমরা কোরবানির শিক্ষা নেব?
কোরবানির মাধ্যমে কবে ত্যাগের দীক্ষায় দীক্ষিত হব?
মনুষ্যত্বহীন বিবেক কথা কয়
মানুষ যেন বুঝেও মুখ ফিরিয়ে রয়।

বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১২

স্মৃতিগুলো সযতনে

স্মৃতিগুলো সযতনে

-যাযাবর জীবন


আজকে চল আমরা কথা বলি নিজেদের সঙ্গে
তুই আর আমি
আর কিছু প্রশ্ন
তখন, এখন আর অনেকগুলো কেন।

মনে কর বেশ কিছুদিন আগের কথা
মনে কর যখন আমাদের দেখা হয়েছিল দুজনার
মনে কর প্রথম চোখাচোখি আর বসে থাকা মুখোমুখি
হাঠাৎ আবেগ দুজনের মনে একসাথে
কিছু না বলা কথা বুঝে নেয়া দুজনে দুজনার একসাথে
হঠাৎ করেই কাছে আসা, একটু হাত ধরাধরি
তাও যেন দুজনে মিলে একসাথে
একে অপরের বাড়ানো হাতে
কি জানি হয়তো ওপরওয়ালার কোনো চালে
তোর মুখে কি জানি এক লজ্জার মুচকি হাসি
হয়তোবা ধরা পড়ে গিয়ে প্রেমের বেড়াজালে;
কি যে পাগলামি ভর করেছিল দুজনার
একটু ছোঁয়াছুঁয়ি
তারপর আবিষ্কার অধরে ওষ্ঠ
অনেক ভাবাবেগে আবিষ্ট
দুজনে মিলে একসাথে;
কিছু প্রতিশ্রুতি ভালোবাসার
ঘরের এককোণে বসে দুজনে দুজনার
তারপর রিক্সা, উদার আকাশের নীচে
হাত ধরাধরি করে
কোন কারণ ছাড়াই একসাথে বসে থাকা
হাতে হাত রেখে রিক্সার হুড তুলে দিয়ে
পেঁজা মেঘ তুলোর মত নেমে আসে মর্তে
ভিজিয়ে দিতে দুজনকে একসাথে;
কারণ ছাড়াই এ দোকান সে দোকান, শপিং মলগুলো
ছোটাছুটি শুধুই, বাহানা কিছু সময় কাটানো
দুজনার একসাথে
তারপর?

এবার তুই ই না হয় একটু বল!!
কি হলো? বলবি না? লজ্জা পাচ্ছিস?
আরে ভালোবাসায় আবার কিসের লজ্জা?
পেতেছিলেম দুজনে বাসর শয্যা
তোর ঘরে আমার ঘরে
আকাশ আর পাতাল তলে
রোদে আর বৃষ্টিতে ভিজে
আলো আর অন্ধকারে
দুজনে দুজনে মিলে।
এই যাহ, দিলেম তো বলে!
এবার আড়াল তোল তোর ঘোমটার
দেখা মুখখানি ভালো করে চাঁদের আলোতে
দেখি না কার রূপ কথা বলে আমার বুকের পরেতে!
সেদিনের সেই কথাগুলো, আজো কি তোর মনে আছে?

তারপর কি যে হলো তোর?
জানা হলো না আজো।
মসৃণ জীবনে নেমে এলো কালো।
দুজনে দু ভুবনে বসবাস
সেও তো অনেক দিন হয়ে গেল।

কেমন আছিস তুই আজকাল?
তোর নতুন সংসার কেমন চলছে?
জানি না তোর সম্পর্কে কিছু আজকাল
শুধু স্মৃতিগুলো কথা কয় আমার সাথে
বাড়ে বাড়ে স্বপ্ন হয়ে চোখে লেগে থাকে
দুজনার সেই সব সুখের দিনগুলো।
কি জানি রে! হয়তো আমারই কোন ভুল ছিল
কিংবা তোর হৃদয়ের দাবিদার অন্যকেও ছিল
ভবিতব্যকে কে খণ্ডাতে পারে
তাই তো মেনে নিয়ে সরে গিয়েছি
ধরা ছোঁয়ার ওপাড়ে।

অনেক যত্ন করে মনের অনেক গভীরে
এখনো ধরে রেখেছি অমূল্য সেই সব দিনের স্মৃতিগুলো
সুখের দিনের তোরই দেয়া
দুঃখের বেদনা, তাও কিন্তু তোরই দেয়া
আমি সব স্মৃতিগুলোকে মনের একটি একটি ভাঁজে
রেখে দিয়েছি সযতনে
শুধু তোর কথা যখনি মনে হয়
দিনে কিংবা রাতে
আলো কিংবা আঁধারে
রোদে কিংবা বাদলে
মনের গোপন ঘরে সযতনে লালিত
সেইসব স্মৃতিগুলো
একটু একটু করে খুলে দেখি
চুপিচুপি
বসবাস আজকে আমার
এক অভিনব পরা-বাস্তব জগতে
তুই হীনা
তোকে ছাড়া।

বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১২

তুই আর তুই এ মাখামাখি

তুই আর তুই এ মাখামাখি

- যাযাবর জীবন


আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে শুনি তোর বিশ্বাস ভঙ্গের আহাজারি
আমার প্রতিটি প্রশ্বাসে তবু তোকেই স্মরণ করি
দিনের কিংবা রাতের প্রতিটি প্রহর পলে
আমার হৃদয় ধ্বক ধ্বক করে
কান পেতে ভালো করে শুনে দেখ
সেথায় শুধু তোরই কথা বলে
আমার প্রতিটা স্বপ্ন শুধুই তোরই রূপ দেখে
প্রতিটা কল্পনায় শুধু তোরই ছবি আঁকে
হায় আমার একমাত্র স্বপ্নগুলো! শুধুই তোকে দেখে
হায় আমার একটি হারানো হৃদয়!শুধু তোরই চিন্তায় ছেয়ে থাকে
আমাতে আমি রই না স্বপ্নে বা জাগরণে
মন আমার তোরে নিয়েই বিভোর হয়ে থাকে।
এখন আমার হাতে অফুরন্ত সময়
এখন আমার দিন কাটে অয়োময়
রাতের প্রত্যেক প্রহরে একা পরে থাকি
নিজেতে নিজে হারিয়ে ভুলের সন্ধান খুঁজি
মনে মনে হয়তো তোর বেদনা বুঝি
দিনের প্রত্যেক প্রহরে একা পথ চলি
মনের কোনেতে পথের সন্ধান খুঁজি
আপনাতে আপনি একা একা ঝুঝি।
সময় বয়ে যায় সময়ের হাত ধরে
থেমে থাকে না কারো পথ চেয়ে
সমীরণ বয়ে চলে কানের পাশ ঘেঁসে
যেন তোর কথার ঝাপটা এসে লাগে
মেঘেরা পথ চলে আকাশের গাঁয়ে ভেসে
বারিধারা নেমে আসে ধরাতলে এসে
মাটির সোঁদা গন্ধ যেন ভাসে বাতাসেতে
তোর গায়ের গন্ধ যেন পাই মোর নাকেতে
ভ্রমের ঘোরে পথ চলতে চলতে
তুই পাশে রয়ে যাস ঠিক হৃদয়ের কাছ ঘেঁসে
প্রতিটি সময় দিনে কিংবা রাতে
ভ্রমের ঘোরে রয়ে যাস কাছে।

প্রতিটি সূর্যোদয়ের কালে
প্রতিটি সূর্যাস্তের কালে
প্রতিটি জ্যোৎস্না রাতের আলোর মাঝে
প্রতিটি অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে
প্রতিটি দিন
প্রতিটি রাত
প্রতিটি প্রহর
প্রতিটি সময়
প্রতিটি ঘণ্টা
প্রতিটি মিনিট
প্রতিটি সেকেন্ড ...........
তোর উপস্থিতি আমার হৃদয়ের খুব কাছে
তোর পদধ্বনি আমার কানে এসে বাজে
তোর গাঁয়ের গন্ধ নাকে এসে লাগে
তুই আর তুই তে মাখামাখি হয়ে
প্রতিটি সময়
প্রতিটি সময়
প্রতিটি সময়
বলতে পারিস কেন এমন হয়?..........
.







ক্ষয়িষ্ণু মানবতা

ক্ষয়িষ্ণু মানবতা


-যাযাবর জীবন



কি দেখতে পাই আমরা আজ দু-চোখ মেলে?

নষ্ট হয়ে যাওয়া মানবসমাজ!!
ক্ষুধায় কাঁতর কিছু শিশু মুখ!!
মায়ের আহাজারি একটু ভাতের ফ্যানের জন্য!!
বিবেকহীন মনুষ্যত্ব!!
স্বৈরাচারের রাজনীতি, কালোবাজারি আর মজুতদারি!
এখানে ওখানে যুদ্ধ!
ঘৃণা উপেক্ষা আর অবহেলা!
কিংবা এখানে ওখানে পরে থাকা লাশের রাজত্ব!!!



ভয় নেই যেন আজ তোদের প্রতিপালককে
ভয় নেই যে তোদের একই আত্মা হতে সৃষ্টি করেছেন
শোকর নেই তোদের মাঝে যিনি অন্ন দিয়েছেন
তোদের প্রত্যেককে একটি করে সঙ্গিনী দিয়েছেন
জীবন চলার পথে জীবনের জন্য; রমণের প্রয়োজনে
অথচ, আজ তোরা বহু-গমনের পথে চলেছিস
এক নারীতে তৃপ্তি হয়নি তোদের
তাইতো পরকীয়া ভাইরাস আজ অণু পরমাণুতে
আজকাল তোদের নারীতেও দেহ-বাসনা মেটে না
আড়ালে আবডালে করে যাচ্ছিস সমকামিতার নোংরা খেলা
আজ তোরা কিছু ভালোবাসার নামে দেহপসারিনি
যৌবনের অতৃপ্ত ক্ষুধায়
অথচ ওদিকে তাকিয়ে দেখ একবার ভালো করে চোখ মেলে
ঠিক তোরই মতন আরেকটি মা দেহ বেচে
সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে উপায়হীন হয়ে
আজ তোরা বেশ্যার দালাল দুটো টাকার জন্য
তোরই মা বোন বেচা পয়সায় তুলে দিস
তোরই সন্তানের মুখে অন্ন
তোরা মানব নামের দানব
ধিক তোদের আজ।

আজ তোরা মাতৃগর্ভকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাস
বৌ এর আচলের তলায় মুখ লুকিয়ে
আজ তোরা জন্মদাতা পিতাকে ফেলে আসিস
ওল্ডহ্যামের কারাগারে বন্দী করে
আজ ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ, ভাই বোনের হাতাহাতি লড়াই
বাবার রেখে যাওয়া কিছু সম্পত্তির জন্য
অথচ বাবার শব পড়ে আছে দাফনের অপেক্ষায়
কাফন বাঁধা হয়ে কাঁদে যেন লজ্জায়
সাড়ে তিন হাত মাটির তলায় সেঁধিয়ে যেতে চায় ।

আজ তোরা ভূমি দস্যু যেখানে যেটুকু পাস
ছলনা আর চাতুরীতে করিস গরীবের সর্বনাশ
আজ তোরা পিতৃহীন এতিম শিশুকে কোলে তুলে নিস
তার যুবতী মাতার দেহের লোভে, ছলনায় ফেলে ধর্ষণ করিস
ভালোবাসার ছলনায় কিংবা তার স্বামীর রেখে যাওয়া
একটুকরো ভিটেমাটির সম্পত্তির লোভে
নামেই তোরা মানুষ, কোথায় মনুষ্যত্বের বাস?
মানুষের রূপে কিছু পশুর পদচারণ আজ মানুষেরই জঙ্গলে
অথচ জল-জঙ্গলের কাব্য লিখে যাস তোরা
ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে
গভীর মমতায় কাগজে আর কলমে।






মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১২

ভালোবাসার উপহার


ভালোবাসার উপহার

-যাযাবর জীবন


এক একটি পুরুষ মানুষ এক এক রকম হয়
এক একটি পুরুষ মানুষ এক এক ভাবে তার ভালোবাসার কথা কয়
কখনো ঢাক ঢোল পিটিয়ে, কখনো বা খুব সঙ্গোপনে
কখনো তার স্ত্রীকে নিয়ে কখনো বা তার প্রেমিকাকে ঘিরে।

কখনো স্ত্রী কিংবা প্রেমিকার জন্মদিন মনে আসে,
কখনো ভালোবাসার মানুষটির সাথে কাটানো খুব খুব গোপন
কোন একটি দিনের কথা খুব প্রায়ঃশই মনে পড়ে;
ভালোবাসার ছলনা কিংবা জীবনের সাথে প্রতারণায়
আজ তার স্ত্রী হয়তো অনেক দূরে কোথাও
নতুন সংসার পেতেছে, মেতেছে অন্য পুরুষে;
কিংবা তার প্রেয়সী আজ হয়তো অন্য কোন পুরুষের বাহুডোরে
নতুন এক স্বপ্নে বিভোর হয়ে
ছেলেমানুষি প্রেম পিছু ফেলে
বাস্তবতাকে আঁকড়ে ধরে।
কঠিন বাস্তবতা, মহামূল্যবান টাকার বাঁধনে গাঁথা।

তবু যেন প্রেমিকের হৃদয়ে সত্যিকারের ভালোবাসা
মনের অনেক অনেক গভীরে বাসা বেঁধে থাকে
হঠাৎ করেই বিশেষ বিশেষ দিনগুলিতে
প্রিয়ার মুখ বড্ড বেশি মনে পড়ে
তার জন্যে কিছু করতে ইচ্ছে করে
তাকে কিছু উপহার দিতে ইচ্ছে করে।

কোথায় আছে সে?
কেমন আছে আজকের এই বিশেষ দিনটিতে?
খুব গোপন, একান্ত সঙ্গোপন, শুধুই দুজনে দুজনার
গভীর প্রণয়ের মাঝে
দুজনে মিলেমিশে একসাথে হয়ে
আজকের এই দিনে;
এই বিশেষ দিনটির কথা; তার কি মনে আছে?
কবির ভাবনায় কত কথা মনে ভাসে;
থাকুক না তার প্রেমিকা কিংবা স্ত্রী
অনেক অনেক দূরের কোন দেশে
কিংবা হয়ে অন্য কারো, না হয় অন্য কোন বেশে।

তবুও কবি যেন পরা-বাস্তব এক যুগে বাস করে
– স্বপ্নালু চোখে দেখে আর মনে মনে ভাবে
কি দেওয়া যায় তার প্রেমিকাকে!
আজকের দুজনার একান্ত ভালবাসা-বাসির বিশেষ এই দিনে
কি পেলে খুশি হবে সে?
ভাবতে ভাবতেই যেন সময় বয়ে যায় চোখের নিমিষে।

–একটি গোলাপ টকটকে লাল!
কিংবা প্রিয়ার অনেক পছন্দের একগুচ্ছ হলুদ গোলাপের ডালি!!
নাহ, গোলাপ নয় – “কাঁটা বিধতে পারে তার কোমল হাতে”।

- একগুচ্ছ রজনীগন্ধা!
কিংবা অসময়ের বেলি ফুলের মালা
ইচ্ছে করে বাগান তুলে নিয়ে আসতে তার জন্য,
নিজ হাতে মালা গেঁথে পড়াতে ইচ্ছে করে তার খোঁপায়
কিংবা তার গলায়
পড়িয়েছিল যেভাবে আগের সেই দিনগুলোতে।
নাহ – “কোথাও যদি মধু-পিঁপড়ে রয়ে যায়”!
বেলি ফুলের গোপন কোনো ভাজে?
আমার প্রিয়ার কোমল ত্বক সইতে পারবে না
“লাল পিঁপড়ের কামড়ের যন্ত্রণা”
কবি বসে ভাবে।

- তার থেকে একটি কবিতা না হয় উপহার হয়ে থাক আজ তার তরে
মনের সকল কথাগুলো, কলমের আঁচরেতে ভরে
হয়তো কখনো সে পড়বে কোন এক পত্রিকার পাতার ভাজে
কিংবা কখনো সময় পেলে নেট এ ঢুকে পড়বে কোন এক ব্লগে।

- হয়তো কোন এক “ভরাট কন্ঠের আবৃতিকার”
গমগমে কন্ঠে আবৃতি করে যাবে আনজান কোন পাগল কবির
বিশেষ কোন দিনে প্রেমিকাকে লেখা
ভালোবাসার উপহারের কবিতাখানি –

“জন্মদিনের উপহার – তোর যৌবনের রূপ”

***************************************
“বয়স তোর কত হল আজ ?
ছত্রিশ বা সাঁইত্রিশ কিংবা ছেচল্লিশ বা সাতচল্লিশ
সাল মাস এখন আর তেমন করে মনে থাকে না
বুড়ো হয়ে গিয়েছি আমি
স্মৃতিশক্তি পেয়েছে লোপ
তবু আজকের দিনটির কথা মনে আছে আমার
কিভাবে যেন!
“হয়তো জন্মদিন বলে তোর”।

অথচ সামনে থেকে দেখলে, কে বলবে তোর বয়স হয়েছে?
তোকে দেখায় এখনো তেইশ কিংবা চব্বিশ
কোন প্রকার মেকআপ ছাড়াই।
তা আমার থেকে ভালো কে জানে?
মেয়েরা তোকে দেখলে এখনো ঈর্ষে করে
কিভাবে ধরে রেখেছিস বয়সটারে
যৌবনের বেড়াজালে আটকে দিয়ে?
মনে তাদের অনেক প্রশ্ন জেগে ওঠে
নানা কথার ছলনায় জানতে চেষ্টা করে।

খবরদার কোন মেয়ে যেন তোকে কখনো
খোলা শরীরের দেখে না ফেলে;
তাহলে হিংসেয় তাঁরা জ্বলে পুড়ে মরবে
তোর শরীরের গাঁথুনি দেখে;
কে না বলবে শরীরের বাঁধুনিতে
তোর বয়স এখনো
আঠারো কিংবা উনিশ?”

***********************************


- প্রিয়ার কানে হয়তো এই কবিতার কিছু শব্দমালা ঢুকবে
একটু হয়তো চমকে ভাববে, থমকে তাকাবে
ভরাট কন্ঠের কবিতা আবৃতি শুনে।

- মনে মনে হয়তো বলবে - “কি অসভ্য লেখকরে বাবা”
প্রিয়ার যত গোপন কথা কবিতার ভাষায় দিয়েছে বলে
– ছিঃ, বেটা “মানব না দানব” বলে মুখ ফেরাবে।

- একবারের তরেও ভাববে না
“কবিতাটি লেখা হয়েছিল শুধুমাত্র তাকেই ঘিরে
কবি বাতাসে উড়িয়ে দিয়েছিল তার জন্মদিনের উপহার স্বরূপ
কবিতার কথার ছলে”।

সমগ্র পৃথিবী জুড়ে লাখো প্রেমের কবিতারা বাতাসে উড়ে চলে
প্রেমিকাকে মনে করে;
তাতে কি এসে যায় প্রেমিকাদের?
আজকের কঠিন বাস্তবতার বাহুডোরে বাঁধা পড়া দিনগুলোতে
পাগল সে সব আনজান প্রেমিকের কথা কে মনে করে?

সে আজ বড্ড ব্যস্ত তার বিশাল বড়লোক স্বামীর আমন্ত্রণে
আগত অতিথিদের আপ্যায়নে;
কোন এক ফাইভ স্টার হোটেলের পার্টিতে
নাচে গানে বিভোর হয়ে।
স্মরণ কালের শ্রেষ্ঠ পার্টি শেষ হয় রাত অনেক গভীর হলে
শরাবের নেশায় বুঁদ হয়ে স্বামী-স্ত্রী ঘরে ফেরে
বিছানায় এলিয়ে পড়ে স্বামীর বাহুডোরে সোহাগে আদরে
আনজান এক প্রেমিকের কথাগুলো
কখনো তার কানে আসে না ভেসে
হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় কথামালাগুলো
লাখো প্রেমিকের হাহাকার হয়ে।

সব জেনেশুনেও প্রেমিক সকল
বাতাসেই উড়িয়ে দেয় এলোমেলো কিছু কথা
তার প্রিয়ার কথা মনে করে হৃদয়ের কিছু ব্যথা
কবিতার ছলে।

পাগল এক আনজান কবি
বিশেষ কোন দিনের কথা মনে করে
মনে মনে চলে যায় প্রেমিকার ঘরে
হৃদয়ের বাঁধানো খাতাটি কল্পনায় হাতে ধরে
তার প্রেমিকার জন্মদিন উপলক্ষে লেখা
একটি কবিতা উপহার নিয়ে।

প্রেমিকা সারাদিনের পার্টির আনন্দ ধকল শেষে গভীর আনন্দে
পড়ে থাকে তার বড়লোক স্বামীর লোমশ বুকের পরে
শরীরের শরীরে কথা বলে
প্রেমের অভিনয় চলে
(যেমন একদা চলেছিল তার পুরনো প্রেমিকের সাথে)
কিংবা বাসনার তৃপ্তিতে ঢলে পড়ে
নিদের দেশে হারিয়ে যায়, ঘুম নেমে আসে চোখে।

নির্ঘুম চোখে আনজান কবি হৃদয়ে সকল ব্যথা ধরে
প্রহর গোনে রাতের সাথে সাথে
বিশেষ এই আজকের দিনটিকে মনে করে।





বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১২

প্রেমের ভাইরাস

প্রেমের ভাইরাস

প্রেমের ভাইরাস কাটিতেছে হায়
কুড়কুড় করে মনের গোড়ায়
প্রেমিক প্রেমিকা খোঁজে মধু।

কষ্ট বোধের নষ্ট জীবন
নষ্ট প্রেমের আলগা বাঁধন
কষ্ট পাওয়া শুধু।

পষ্ট কথায় নষ্ট প্রেম
মনের মাঝে ঝরে হেম
প্রেমেতে আছে কি যে মধু !!

তবুও ভোমরা সব ফুলো বনে
ঘুরে বেড়ায় আপন মনে
মধুতে আছে কি যাদু !!

গড়ালে বেলা ফুল যে শুকোয়
তবু ভোমরা উড়িতে না পায়
গুনগুনিয়ে খেতে চায় মধু ।

প্রেমেতে মজিলে ভোলা না যায়
উড়ে বেড়ায় সব পিপীলিকায়
প্রেমের ডানায় আগুন লাগায়
ঝাঁকে ঝাঁকে শেষ হয় মরে
তবুও প্রেমের আগুনে ডানা মেলে
প্রেমিক প্রেমিকা সব ঝাঁপিয়ে পোড়ে।

নষ্ট প্রেমের কষ্ট ফুরায়
তবু কোথায় যেন হৃদয় হারায়
প্রেমিক প্রেমিকা ঝাঁকে ঝাঁকে হায়
পোড়ে প্রেম বনে, অজান্তেই নিজ মনে
নষ্ট কষ্টের আগুন জ্বেলে
প্রেমের ভাইরাসের দাবানলে!!!