বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৪

ভবিষ্যৎ


ভবিষ্যৎ
- যাযাবর জীবন

আমি এখানে
রোদে পুড়ে
ঘামে ভিজে
দিন কাটে দিনের শেষে
অস্থির লাগে মনের ঘরে;

তুই ওখানে অনেক দূরে
এসি ঘরে
ঠান্ডা হয়ে
রাত কাটাস রাতের পরে
ঘুম কি আসে চোখের পরে?

এখন আমাদের মাঝে
দূরত্ব মাইলের
দূরত্ব সময়ের
দূরত্ব অনুভবের
দূরত্ব মানসিকতার;
তবুও হৃদয়ের কোথাও কি সুতোর টান বুঝিস না?
ভালোবাসাবাসির সে দিনগুলোতে দূরত্ব কিন্তু ছিল না।

যতই সরে গিয়েছি আমরা পরস্পর থেকে দূরে
ততই সরে গিয়েছে ভবিষ্যৎ আমাদের থেকে দূরে;

এখন আর তাল মিল লয় খুঁজে কি হবে?
বীণার ছেঁড়া তারে সুর লাগে না।

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৪


তবুও বাবু
- যাযাবর জীবন

ভালোবাসি কথাটি মুখে বলা হয় নি
মনে বললেই তো হলো;
হলো কি?
যদি ভুল বোঝা হয়
যদি একদম নাই বোঝা হয়
দ্বিধার দেয়াল পাড়ি দেওয়া হয়নি
তবু;
মুখে বলি নি
ভালোবাসি,
তোকে ভালোবাসি
বাবু।

হয়তো বুঝেছিস
নয়তো নয়,
তবু
ফিরে দেখিস নি,
বাবু।

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

মরা নদী বুড়িগঙ্গা

মরা নদী বুড়িগঙ্গা
- যাযাবর জীবন

তুমি বড্ড নতুন
কিংবা আমি অথবা আমাদের সন্তান;
তোমার পিতামহ কিংবা ওনার পিতামহ
কিংবা তারও পিতামহকেই কি প্রাচীন বলা যাবে?
হয়তো;
তার চেয়েও তো প্রাচীন আমাদের সভ্যতা,
আরে তাইতো!
কিন্তু তার চেয়েও প্রাচীন যে আরো কিছু আছে
ভেবেছ কি?
সেটা কি?
ঐ যে অতি প্রাচীন সময়ের উদ্ভিন্ন যৌবনা নদীটি
নাম যার বুড়িগঙ্গা;
ও হো তাই তো?
সভ্যতা গড়ে ওঠে নদী পাড়ে
এ আর এমন নতুন কি কথা?
খুব পুরনো?
আরে হ্যাঁ তাই তো! এটা তো জানা কথা।
তবে এ তো আমার প্রপিতামহ, তার প্রপিতামহ
তারও প্রপিতামহ থেকেও প্রাচীন আপন কেহ,
হ্যাঁ রে ঠিক বলেছিস,
তাই তো, তাই তো!
তার অস্তিত্বের অনুভব কি মনে আসে?
যেমনি করে সন্তান তার বাবা মা'কে
কিংবা দাদা দাদি, নানা নানী আর পূর্ব পুরুষদের ভালোবাসে,
না তো;
কেন নয় রে মূর্খ?
বুড়িগঙ্গাও তো তাঁদের থেকেও প্রাচীন আপন আমাদের
সভ্যতা উঠেছিল যাকে ঘিরে,
আরে, তাই তো!

আপনার অতি আপন সেই প্রাচীন জন
আজ কেন মরা নদী?
কালো হয়ে শ্বাস নেয় ধুঁকে ধুঁকে
তোমাদেরই বর্জ্য দেহে বয়ে।

তার যে এখন মরার দিন ঘনিয়েছে
তোমাদের সভ্যতা কি বেঁচে আছে?

ভালো করে ভেবে দেখ অনুভবের চোখ দিয়ে।



মেঘ বিলাস
- যাযাবর জীবন

ছায়া নেই?
আচ্ছা না হয় কিছু অশ্বত্থ গাছ পাঠিয়ে দেব সূর্যের দেশে
পানি নেই?
সেটাও না হয় কিছু তুলে দেব সাগর সেঁচে।

পাখির ঠোঁটে জলের তৃষ্ণা আকণ্ঠ
দুপুরে নামে অন্ধকার
কাঠফাটা নিম গাছটায় মরে আছে কিছু কাক
কাকচক্ষু পুকুরটা লুকিয়েছে কোথায়?
ছটফটে রাতটাকে আলুপোড়া দেই সূর্যের উনুনে
ঘুম কোথায়?
বেড়াল জিহ্বায় খরচোখেতে লবন চাটে লু-বাতাস;
মাটির মানচিত্র কাঁদে
পানির হাহাকার;
না হয় কিছু মেঘ পাঠিয়ে দেব তোর কাছে
বাষ্পের লিফটে ভরে
এবার তো সিক্ত কর আমায়, হে আকাশ।


শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৪

বিশুদ্ধ ভুল


বিশুদ্ধ ভুল
- যাযাবর জীবন

জীবনে যখনই শূন্যতা খুঁজেছি
তোর বাড়ানো হাতটাকেই খুঁজে পেয়েছি
জীবনে যখনই পূর্ণতা চেয়েছি
শূন্যতা হয়েছে আগ্রাসী;
আসলে ভুল হয়েছে আমারই
ভুল করে ভুল জায়গায়
ভুল সময়ে ভুল হাতটাকে ধরেছি
তাইতো শূন্যতায় পূর্ণ হয়েছি।

বিশুদ্ধ একটা ভুল করেছি
তোকে বড্ড ভালোবেসেছি।



বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৪

জীবনের সিঁড়ি

জীবনের সিঁড়ি
- যাযাবর জীবন

সিঁড়িটা কখনো ভালো করে লক্ষ্য করেছিস?
ঐ যে ওখানে অনেক ওপরে উঠে গেছে
শেষ সীমাটা যেন দৃষ্টি সীমা ছাড়িয়ে
আরো অনেক অনেক দূরে;
ওখানে উঠতে হয় কিন্তু খুব ধীরে ধীরে
ধাপে ধাপে পা ফেলে
এক পা দুপা করে এগিয়ে
ধাপের পর ধাপ পার হয়ে;
বড্ড কষ্ট ওপরে ওঠা
জীবনের ঊর্ধ্বগতি
উন্নতি
কিংবা ওপরে ওঠার পথ।

নামার সিঁড়িটাও তাকিয়ে দেখ ভালো করে
নেমে চলেছে যেন কোন পাতালে
নামাটা খুব সোজা
তরতর সিঁড়ি বেয়ে
কিংবা ধাপগুলো পার হওয়া
লাফিয়ে লাফিয়ে;
সময় লাগে না নেমে যেতে
নিম্নমুখী পথ বেয়ে
জীবনের
অবনতির
কিংবা পতনে।

ওপরে ওঠার স্বপ্নের সিঁড়িতে সবাই পা রাখে
কেও ধাপ ভেঙ্গে উঠে আসে অল্প কিছুদূর
কেও মুখ থুবরে পরে কিছুদূর এসে
কেও বা চলে আসে অনেকটা পথ
সিঁড়ির ধাপগুলো পার হয়ে;
কেও ধীরে ধীরে
ধাপে ধাপে পা ফেলে
কেও খুব তাড়াহুড়ায়
লিফটে চড়ে
বাকি সবাইকে রেসের দৌড়ে পেছন ফেলে।

নিচে নামার সিঁড়িতেও পা রাখতে হয় সবাইকেই
জীবনের কোন না কোন সময়ে এসে
উত্থানের সাথে পতন, এ যে নিয়তিতেই লেখা আছে;
এক পা, দু পা করে এগিয়েছিল যে ধাপে ধাপে
সাধারণত সে নামে ধীর গতিতে
তার ওপরে থাকার নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলে;
খুব তাড়াহুড়োতে যে ওপরে উঠেছিল লিফটে করে
নামার সিঁড়ি পায় না পায়ের তলে
একবারে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে ধপাস
সকল মানুষের জন্য শিক্ষা, নিয়তির পরিহাস।



মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৪

লাল অথবা নীল

লাল অথবা নীল
- যাযাবর জীবন

লাল রঙটা সবসময়ই খুব প্রিয় ছিল তোর
কৃষ্ণচূড়া, শিমুল কিংবা পলাশ
অথবা টকটকে লাল গোলাপ
আর নয় তো লাল ঠোঁটের সবুজ টিয়ে;
ফুলগুলো তুই রেখে দিয়েছিস সাজিয়ে
টিয়াটাও তোর ঘরে
হয়তো আরো সবুজ সতেজ হয়ে
শুধু লালটুকু দিয়েছিলি আমায়
চুলচেরা ভাগ করে।

আমি এখন রঙ দেখি না
ফুলে সুগন্ধি হয় বলে শুনেছি
বর্ষায় নাকি সবুজে সাজে প্রকৃতি
তোর কাছ থেকে লাল রঙ পেয়েছি
প্রেমের ভাগাভাগি;
বেদনার রঙ নাকি নীল
হিসেব মেলাতে পারে না
এক জীবন্ত ফসিল।