মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০১৪

ভালোবাসার গল্প


ভালোবাসার গল্প
- যাযাবর জীবন

সারা দিনমান পলক না ফেলে
চোখে চোখ তাকিয়ে থাকার খেলা
মাঝে মাঝে চুমুর বিরতি
তোর আর আমার দুপুরটা
নিস্তব্ধ সুনসান

পেটে টান, রেস্তোরাঁর আধো অন্ধকার
লাউয়ের শাকে কুচো চিংড়ি
অনভ্যস্ত দুজোড়া হাত এখানে ওখানে
অস্থির ছোঁয়াছুঁয়ি
অযথাই গ্লাসে চামচ বাড়ি, মিঠে টুং টাং

বৃষ্টি বিকেল তো কে পায় আর
ছপ ছপ পানি এধার ওধার
রিক্সার হুড বড্ড আপন
আহ! পর্দাটা এত ছোট কেন?
অধরে ওষ্ঠ পাগল যেন

তুই
আমি
ভালোবাসা,
দুপুর
রাত্রি
প্রেমেতে ঠাসা,
খেয়াল করিনি দুজনের কেও
ভুলের কলিং-বেলগুলো বাজছিল কোথা;
কি পাগলামিটাই না সেদিন ছিল!
খুব হঠাতই যেন সব হারিয়ে গেল।




অধরা


অধরা
- যাযাবর জীবন

তোকে ফিরিয়ে দেবার সময় মনে মনে বলেছিলাম
ভালোবাসি অনেক;
জবাবে তাকিয়ে ছিল আমার পানে তোর চোখের জল
নীরবে বয়ে গিয়েছিল সেদিন অশ্রু হয়ে,
আজো প্লাবন হয়ে ভাসায় আমায়
প্রতি পূর্ণিমা রাতে;
খিলখিল হাসিতে চাঁদ ওঠে
রিনঝিন হাসে বক্র চোখে
দেখতে দেখতে পূর্ণিমা হারিয়ে যায়
অমাবস্যার বাঁকে
চাঁদনি ধরা হলো না আজো আমার
চাঁদের রাতে।


সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০১৪

দীর্ঘশ্বাস



দীর্ঘশ্বাস
- যাযাবর জীবন

বড্ড গরম চারিধার
থমকে থাকে বাতাস
লু হাওয়ার গোঙ্গানি
ঊর্ধ্বমুখী তপ্ত হাওয়া
মেঘেরা ছুটে আসে শীতল করবে বলে;
প্রেম জমে আকাশে মেঘ হয়ে
তপ্ত বাতাস, ঠান্ডা মেঘ
জড়িয়ে ধরে দুজন দুজনকে
আপন করে
মাতামাতি প্রেমের শীৎকার
আকাশে বজ্রপাত
বারি হয়ে নেমে আসে গতর ঠান্ডা হলে;

মেঘের ওপরে চাঁদ খিলখিল হাসে
তার ওপরে তারারা মিটিমিটি দেখে
তারও অনেক অনেক ওপরে ঘন অন্ধকারে আমি থাকি বসে
মাটির ঘ্রাণে কবিতা কথা বলে;

সকলে সকলের তরে
তবুও কেও কাওকে পায় না ছুঁতে
না মেঘ
না চাঁদ
না তারা
না আমি তোকে
কবিতার দীর্ঘশ্বাস একা একা কাগজে কলম ঘষে।



ঠিকানা



ঠিকানা
- যাযাবর জীবন

সময় পেরিয়ে গেলেই ছুটির ঘণ্টা
সময় ফুরোতে চায় না,
পথ পেরিয়ে এলেই তোর দেখা
পথ শেষ হয় না,
জীবন পেরিয়ে এলেই মাটির ঠিকানা
দমে দমে জীবন-ঘড়ি দম দেওয়া;

জানা আছে -
শেষ ঘড়িটির কথা
শেষ পথের দিশা
শেষ বাড়িটি কোথা
কেও ভাবতে চাই না।

সেখানে আমি একাই যাব
কাওকে নেব না।




রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৪

প্রেমের হাট


প্রেমের হাট
- যাযাবর জীবন

প্রেমের হাট বসে নিত্য এখানে
ডিজিটাল যুগে ভার্চুয়াল দোকানে
কেজি দরে ভালোবাসা বিকোয়
দিন রাত্রিতে এখানে;
কেও কেনে খুব অল্প দামে
কেও ন্যায্য মূল্যের অধিক দামে,
মূল্য নির্ধারণ করে কে?
ভার্চুয়ালে ভালোবাসা বেঁচে যে;
কেও বেঁচে মুখের কথায়
কেও চোখের ভাষায়
কেও বেঁচে ছলায়
কেও পারদর্শী কলায়
কেও বেঁচে ঠকে
কেও কিনে ঠেকে
সবটাই লোকসান এই কেনাবেচার হাটে
ক্রেতা বিক্রেতা দুজনাই জানে
খুব ভালো করে
তবু হাটে এসে প্রেম কেনে
অল্প বা বেশি দামে
কেজি দরে
ভালোবাসার ভুত মাথাচাড়া দিলে;
কেনাবেচার ভার্চুয়াল সম্পর্ক - প্রেমে? না কামে?
উত্তরটা সবাই জানে,
তবুও মনকে চোখ ঠারে মনের আড়ালে।



শনিবার, ১২ জুলাই, ২০১৪

উঠোন



উঠোন
- যাযাবর জীবন

একটা উঠোন
খোলা,
শালিকেরা ধান খোঁটে
এখান ওখান থেকে উড়ে এসে;
কিছু জুতো পা,
হিল ছাড়া
হিল পড়া
মাড়িয়ে যায়
যত্রতত্র উঠোনের বুকে;
কিছু নূপুর পা,
আলতো পরশ
হেঁটে পারি দেয়
অথবা নৃত্যের ঝমঝম
দৌড়ে চলে যায়;
কিছু পদচিহ্ন উঠোনের বুকে
যায় রয়ে
উঠোন চুপ পড়ে রয়
একা ভয়ে
যদি পাছে লোকে কিছু বলে
রক্তাক্ত হলে;
দু চারটি নূপুর পড়ে থাকে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে
এখানে ওখানে
এলোমেলো,
উঠোনের বুক খুব মাঝে মাঝে
কখনো উদাস
কখনো এলোমেলো;
তারপর নির্লিপ্ত।




চাঁদনির অপেক্ষা



চাঁদনির অপেক্ষা
- যাযাবর জীবন

অন্ধকারের ডানা ভেঙে ধেয়ে আসে আলোর মিছিল
নৃত্যের তালে তালে,
তাঁরা জ্বলে
জোনাক জ্বলে
জ্বলে ফসফরাস জোয়ার জলে
রাত্রি জ্বলে যায় পূর্ণিমার অথৈ ঢলে।

চকচকে সোনা রোদ রাতের আকাশটা জুড়ে
ঝকঝকে কাসার থালা আকাশে সেজে আছে আলোক জ্বেলে
বাইরে আগুন বৃষ্টি হচ্ছে আজ রাতে
জ্যোৎস্নাগুলো কুঁড়িয়ে এনে বেঁধে দেব তোর আঁচলেতে;
আজ পূর্ণিমা
চাঁদনির অপেক্ষায় বসে আছি,
ভালোবাসার বন্যায় আমায় ভাসিয়ে নিতে
এখুনি এলো বলে।

স্বপ্নগুলো স্বপ্নই রয়ে যায়
ভালোবাসা জ্বলে যায় প্রতি পূর্ণিমায়
তোর অপেক্ষায়।