শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৮

ঘুমের থাকা ও না থাকা



ঘুমের থাকা ও না থাকা
- যাযাবর জীবন


একদিকে আমার সব আছে
সব, সব;
সূর্য আছে, আছে রৌদ্দুর
চাঁদ আছে, আছে জ্যোৎস্না
অমাবস্যা আছে, আছে তারার মেলা
ভালোবাসা আছে, সুখ আছে, দুঃখ আছে, আছে হাসি-কান্না
প্রতারণা আছে, ঘৃণা আছে, আছে স্বার্থ চারিধার
পাখি আছে আছে পাখির ডাক
পাহাড় আছে, সবুজ আছে
সাগর আছে, আছে নীল
রাত আছে, আর আছে ঘুটঘুটে অন্ধকার;

শুধু ঘুম নেই আমার চোখে
না দিনে, না রাতে;

চেষ্টা করছি, একদিন ঠিক ঘুমিয়ে যাব
একেবারে, অন্ধকারে;

অন্যদিকে আমার কিছু নেই
কিছুই নেই;
আকাশে সূর্য আছে কিন্তু রৌদ্দুর আমার নয়
রাতে চাঁদ আছে জ্যোৎস্না অন্য কারো
মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে, ভেজে অন্য কেও
তোমাদের আছে ভালোবাসা , সুখ-দুঃখ, কান্না
আমি অনুভূতি শুন্য,
আকাশে পাখি ওড়ে, নীল ঝরে,
আকাশ কোথায় আমার চোখে?
সাগর, পাহাড়? ওগুলো অনেক দূরে;

আমার চোখে দিন নেই, রাত নেই
আর আমার চোখে ঘুম নেই;

কে জানে? হয়তো একদিন খুব ঘুমিয়ে যাব
একেবারে, অন্ধকারে।






সময় বদল



সময় বদল
- যাযাবর জীবন


অমাবস্যা জ্যোৎস্নাকে বলে
চলো কাল দেখা করি, দিনে;

জ্যোৎস্না মুচকি হেসে উত্তর দেয়
রাতের আকাশে চাঁদটাকে দেখছ?
দিনে হয়ে যাবে সূর্য,
রাতের আকাশের রঙ দেখেছ?
কেমন ঘোলাটে ধুসর
দিনে ফুটে উঠবে নীল,
ফারাক বিস্তর, দিন আর রাতে
ফারাক বিস্তর, চাঁদ আর সূর্যে
ফারাক বিস্তর, আলো আর অন্ধকারে
বিস্তর ফারাক, কালকের আর আজকের মাঝে,
ফারাক কালের
ফারাক সময়ের
ফারাক অনুভবের;

ঘড়ির বুকে কান পাত
খুব গভীর ভাবে,
ঢং ঢং শুনতে পাচ্ছ?

সময় বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত;
বদলাচ্ছ তুমি
বদলাচ্ছি আমি
বদলাচ্ছে কাল;

কাল তোমার কাছে আগামী
আমার কাছে গত;
আমি বাঁচি বর্তমানে।


ভাদ্রের দুপুর



ভাদ্রের দুপুর
- যাযাবর জীবন


ভাদ্রের তপ্ত দুপুর,
লাঞ্চ টাইমে অফিস ছুটি নিয়েছে দীপাহ্নিতা;
অর্ক'কে নিয়ে আজ বাইরে কোথাও লাঞ্চ করবে
কাল রাতে দুজনার তুমুল ঝগড়া হয়েছে
ইদানীং প্রায়ই হচ্ছে,
অনেকক্ষণ ধরে অর্ক'র মোবাইল বন্ধ
অফিসে ফোন করে দেখে সেখানেও সে নেই,
মন খারাপ করে রিক্সা নিয়ে বাসায় রওয়ানা দিল
পথে ফুলের দোকান খুঁজে খুঁজে এক তোড়া সাদা গোলাপ কিনলো,
সাদা গোলাপ অর্কর খুব পছন্দের
আজ তাদের বিয়ের পাঁচ বছর পূর্তি
অর্ক - তার স্বামী;

দুপুর রোদে ঘুরে ঘুরে ঘাম-ক্লান্ত দীপাহ্নিতা
বাইরে থেকে চাবি দিয়ে দরজা খুলে বাসায় ঢুকে
রান্না ঘর ড্রইং রুমে কোথায় কল্পনা'কে খুঁজে না পেয়ে
শোবার ঘরের ভেজানো দরজা ধাক্কা দিয়েই দীপাহ্নিতা জমে যায়,
অর্ক কল্পনা'কে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে
পরনে কাপড় নেই কারও
কল্পনা - বাসার ষোড়শী কাজের মেয়ে;

দীপাহ্নিতা ফুলের তোড়া হাতে চুপিসারে ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসে
আকাশে রৌদ্দুর যেন আরও তেঁতে উঠেছে
ফুলের তোড়া হাতে উদ্ভ্রান্তের মত রাস্তায় হাঁটতে থাকে দীপাহ্নিতা
জানে না কোথায় গন্তব্য তার,
সাত বছর প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল অর্ক আর দীপাহ্নিতা'র;

ভাদ্রের দুপুরে খুব গরম নামে
কুকুরগুলো বড্ড খেপে থাকে, ভাদ্রে।




মধুর মিথ্যা




মধুর মিথ্যা
- যাযাবর জীবন



প্রেমিক-প্রেমিকা ও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে
সর্বাধিক উচ্চারিত মধুর মিথ্যা -
"আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না"।





মানুষের খোঁজে




মানুষের খোঁজে
- যাযাবর জীবন


হাড়ের ওপর চামড়ার খোলসে
জন্তু জানোয়ারও মোড়ানো থাকে;
মানুষ বলে কাকে?

মনুষ্যত্ব শব্দটার উৎপত্তি নাকি,
মানুষ থেকে;

কে বলেছে?
আমি মানুষ;

আমি মনুষ্যত্ব খুঁজছি
মানুষের ভীরে;

আমি মানুষ খুঁজছি,
আমার ভেতরে।









মানুষ কোথায়?



মানুষ কোথায়?
- যাযাবর জীবন


ভার্চুয়াল!
বড্ড আজব এক জগৎ
কি নেই এখানে?

এখানে কোথাও কোন ঘর নেই
নেই ঘরের অবকাঠামো
নেই দরজা, জানালা
নেই মাথার ওপর ছাঁদ
অথচ এখানে লক্ষ কোটি মানুষের বাস

এখানে দিন নেই
রাত নেই
অন্ধকার নেই
নেই আলো
অথচ সবাই নাকি আলোকিত

এখানে সূর্য নেই
নেই চাঁদ তারা
নেই অমাবস্যা
নেই জ্যোৎস্না
এখানে খোলা আকাশই নেই তবুও নাকি সবার মনখোলা

এখানে প্রতিদিন লক্ষ কোটি মানুষের সাথে কথা হয়, পরিচয় ছাড়া
এখানে প্রতিদিন নতুন নতুন পরিচয়, না দেখেই;
এখানে প্রেম হয়
ভালোবাসা হয় স্পর্শ ছাড়া,
বিচ্ছেদ হয়
বিরহ হয় কান্না ছাড়া,
এখানে জ্যোৎস্না-বিলাস হয়, চাঁদ ছাড়া
কান্না-বিলাস হয়, বৃষ্টি ছাড়া
এখানে প্রতিদিন মন মন খুশি ওড়ে অথচ হাওয়া নেই কোথাও
এখানে টন টন দুঃখ পোড়ে আগুন ছাড়াই
এখানে কারণ ছাড়াই পরিচয় কারণ ছাড়াই ছাড়াছাড়ি

অনুভূতি?
হ্যাঁ! সে তো আছেই;
এখানে সবকিছু আছে,
সব, সব;
হাসি আনন্দ দুঃখ বেদনা
প্রেম প্রীতি বিচ্ছেদ ভালোবাসা
কাম ক্রোধ লোভ লালসা
টাকা স্বার্থ সম্পর্ক ছলনা
স্পর্শের অতীত সব আছে এখানে;
এটা ভার্চুয়াল, বড্ড আজব জগৎ
এখানে কোটি কোটি মানুষ আছে অথচ রক্তমাংসের কোন মানুষ নেই।






আমার কি হবে?



আমার কি হবে?
- যাযাবর জীবন


জীবনের কিছু কিছু মোড় আসে
মানুষ নিজেতে হারিয়ে যায়
কিংবা অন্ধকারে,
নিজের অজান্তেই;

খুব বুদ্ধিমান মানুষগুলো হঠাৎ করেই বোকার মত আচরণ করতে থাকে
বোকা মানুষগুলো হুট করেই চালাক সেজে বসে
ভালোমানুষগুলোর চরিত্রের অন্ধকার দিকগুলো সহসাই সবার সামনে ফুটে ওঠে
খারাপ মানুষগুলো হাঠাৎই ফেরেশতা আচরণে মাতে;

আমি তো মানুষের পর্যায়েই পরি না
আমার কি হবে?
শুধু শুধু মানুষের মনে কষ্ট দেয়ার থেকে একবারে বোবা হয়ে থাকাই শ্রেয়,
প্রাত্যহিক জীবনে কিংবা ভারচুয়ালে;

আজকাল নাকি বোবার শত্রু বেশী;
আমার কি হবে?