সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পাথর জীবন


পাথর জীবন
- যাযাবর জীবন



সন্ধ্যা নামছে জীবনে, মন বলে ঘরে চলো
সেই ভোর থেকে পাহাড় বাইছ
বরফ কাটছ,
সেই দুপুর থেকে সাগর সেঁচছ
নৌকা বাইছ,
সেই সন্ধ্যা থেকে লাঙল চষছ
মাটি কাটছ,
অনেক তো হয়েছে ঘামঝরা
ক্লান্ত হওনি! বলো?
এবার ঘরে চলো;

একটা জীবন
পাথরের মত কঠিন
ধাপে ধাপে সময় পার
পড়ালেখা সংসার
ছেলেমেয়ে হলেই কাঁধে জোয়াল
ক্ষুধা, দারিদ্র আর কঠিন সময় পার,
বড্ড পরিশ্রান্ত চোখ ছলোছলো;
নিজেকে দেখো না আয়নায়?
অনেক ক্লান্ত তুমি
ঘুমোবার সময় হয়েছে, এবার ঘরে চলো;

কেও কেও রাত্রিতে ঘুমায়
তুমি তখনো জেগে থাকো সংসার টানায়
এত কাজও করতে হয়?
কাজ না করলে কে খাবার দেবে বলো?
হাঁড়ি খুলতেই তো ভয়
এতগুলো মানুষ
এতগুলো মুখ
কাজ না করলে খাব কি?
আমার যে আহার জোটাতে হয়!

উঁহু! অনেক হয়েছে কাজ
ক্লান্ত তুমি আজ
একটু ঘুমিয়ে নাও
একটু বিশ্রাম
এবার ঘরে চলো,
যাব তো!
ঘুমবো
আমি একবারেই ঘুমবো
একবারেই ঘরে যাব
সকাল, সন্ধ্যে কিংবা রাতে
কি আসে যায়!
সেই শবই তো,
না হয় পড়ে থাকবে মাটির আশায়।






জায়েজ



জায়েজ
- যাযাবর জীবন


প্রেমের কথা বললেই যত আপত্তি
আমি নাকি প্যাতপ্যাতা প্রেম লিখি
ভালোবাসার কথা বললে বলিস
আরে ধ্যাত! ভালোবাসা বলে কিছু আছে নাকি?
চুমুর কথা বললে বলিস বেটা বদ
শরীরের কথা বললে আমি চরিত্রহীন,
অথচ নিজেরা যখন প্রেম করিস?
কথায় তখন গন্ধ হয় না
ঠোঁটে ঠোঁট অমলিন
আর শরীরে শরীরে বিলীন,
এবার সবকিছু করা যাবে
নিজের বেলা তো!

আসলে করায় দোষ নেই
গোপনে করায়,
বললেই যত দোষ
দোষ লিখায়
প্রমাণ যে থেকে যায়!

প্রেম
প্রীতি
ভালোবাসা,
কাম
শরীর
বিছানা;
সব, সব
সবই সম্ভব!!

শুধু লিখতে মানা
মানা ছবি আঁকতে
মানা কাব্যে ভালোবাসতে,
প্রেম করতে মানা কবিতার শরীরে
শরীর খুলতে মানা কাব্যের মনে;
বাকি সব জায়েজ
চুপিচুপি গোপনে।







অভিমানের মুখে ছাই




অভিমানের মুখে ছাই
- যাযাবর জীবন


জেগে আছি রাত, জেগে থাকি
অভ্যাসের দাস হয়ে গেছি
তুই ভেবে নিস না তোর জন্য জেগে থাকি,
আমার কি দায় পড়েছে ঘুম চোখে কষ্ট নেবার
তোর কথা মনে করার?
আর তোকে ভেবে রাতভর কবিতা আঁকার?

এই যে রাত রাত অন্ধকার
এই যে আধো আধো চাঁদ
এই যে জোনাক জ্বলা মিটিমিটি আকাশ
এই যে বৃষ্টি বৃষ্টি মন
আর মন উদাস বাতাস!
তুই কি ভেবেছিস তোর জন্য এদের কাছে আসি
তোর কথা মনে করে এদের খুঁজি?
আমার কি দায় পড়েছে তোকে মনে করার?
তুই কে রে আমার?

এই যে ভুল ভেবে ভেবে আমরা জটিল জালে জড়াই!
প্রেমের জালে
ভালোবাসার জালে
জলে জালা পড়লেই তো তীব্র টান!
মাছ আটকেছে না ভালোবাসা! তা বুঝতে না বুঝতে হাত থেকে জাল ছুটে যায়
ভালোবাসা ধরা পড়ে না জালে
ভালোবাসা ধুয়ে যায় জলে
তোর আর আমার,
ভাগ্যিস রাতের অন্ধকারে কান্না দেখা যায় না!
আমরা অন্ধকার রাতে চোখ বন্ধ করে অশ্রু লুকাই;

ঐ যে আয়নাটা দেখছিস?
দিনের বেলায় কিন্তু সব ফকফকে
তুই তোকে দেখিস
আমি আমাকে
একদম স্বচ্ছ পরিষ্কার,
কখনো আয়নার ওপাশটা দেখেছিস
গাঢ় করে পারদের পরত দেয়া থাকে
যাতে আয়নার দুপাশ থেকে আমরা পরস্পরকে দেখতে না পাই
তবুও মন কি মানে?
আয়নায় ক্রমাগত উঁকি দিয়ে যাই
যদি তোকে দেখতে পাই!
আর অহেতুক নিজের প্রতিবিম্বের সাথে ক্রমাগত করে যাই লড়াই;

ভালোবাসার লড়াইয়ে কে জিতেছিল কবে?
শুধু শুধুই অভিমানের বড়াই!

আমি জেগে আছি রে!
তুই নিদ্রা ভেবে ভুল করিস না
একবার ডাক দিয়েই দেখ!
অভিমান পুড়িয়ে দেব ভালোবাসার আগুনে,
তারপর তোর বুকেতে ঠাঁই;

আহ! কতদিন তোর বুকে মুখ রাখিনি
কতদিন তোকে পাঁজরে পিষে ধরি নি,
ভালোবাসা ভুল করে অভিমানে, খুব নীরবে
কোন একদিন একটাবার ডেকেই দেখ না!
অভিমানের মুখে ছাই।








কিছু থাকা আর না থাকা



কিছু থাকা আর না থাকা
যাযাবর জীবন


তোর আর আমার মাঝে কিছু একটা ছিলো
কিছু একটা বন্ধন
কিছু খোলা আর কিছু বাধা
অথচ যখনই আয়নায় তাকাই
প্রতিবিম্বে কোথাও তুই নাই;
উপহাসে আয়না
হো হো শূন্যতা।

তোর আর আমার মাঝে কিছু একটা তো ছিলো
অদৃশ্য একটা সুতা
ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা
যখনই বৃষ্টি ধরতে যাই
হাত বাড়ালে কোথাও তুই নাই;
রিমঝিমিয়ে বৃষ্টি পড়ে
ভেজাতে পারে না আমায়।

তোর আর আমার মাঝে কিছুতো একটা ছিলো
অদৃশ্য একটা ঘর
অদৃশ্য সংসারে আমরা পরস্পর
অথচ যখনই ঘরে ঢুকতে যাই
চারিদিক খুঁজি, কোথাও তুই নাই;
চার দেয়ালের ঘর
শূন্যতার বসবাস।

তোর আর আমার মাঝে কিছুতো একটা ছিলো
যখনই তাকাই বুকের ছাতি খুঁড়ে
কোথায় হৃদয়? তুই পুরোটা জুড়ে
এ যে কি এক অসহনীয় অনুভব! অথচ বুঝতে গেলে নাই
বুকের ভেতর শত খোঁড়াখুঁড়ি, কোথায় তোকে পাই?
অলিন্দ নিলয় খুলে খুঁজি
ওখানে পুরোটাই রক্ত।

তোর আর আমার মাঝে কিছু তো একটা ছিলোই
হয়তো ভালোবাসার বন্ধন
মানুষ বলে রসায়ন
দুজন দুজনে, দুজন দু ভুবনে, পরস্পরের মনে ঠাঁই
অনেক দূরত্বে দুজন আমরা দুজন, স্পর্শে কোথাও নাই;
স্পর্শে তো ভালোবাসা থাকে
আমায় পাবি কোত্থেকে?

তোর আর আমার মাঝে কিছু তো একটা ছিলোই
কিছু কিছু দোষ
কিছু আক্রোশ
দোষ কিছু আমার হয়েছিলো তোকে ভালোবেসে
দোষ কিছু তোর হয়েছিলো আমায় কাঁদিয়ে
কিছু দোষ ছিলো সময়ের, কিছু পরিস্থিতির
এখন দূর থেকে ভালোবাসি, আর কপাল'কে দুষি
তুই, আমি দুজনেই।








চোখের আলো-অন্ধকার



চোখের আলো-অন্ধকার
- যাযাবর জীবন


আমি যেদিকেই তাকাই শুধুই তুই;

এই যে খোলা আকাশ নীল নীল
দিনের বেলায় কি প্রখর এক সূর্য
সূর্যের দিকে তাকাই চোখ ঝলসাই
সেখানেও তুই সূর্য হয়ে
এই যে খোলা আকাশ ধুসর ধুসর
রাতের বেলায় কি মায়াবী এক চাঁদনি!
চাঁদের দিকে তাকাই, ইচ্ছে করে চাঁদটাকে গিলে খাই
কোথায় চাঁদ? চাঁদনি হয়ে তুই;

আজকাল আর কোথাও যেতে হয় না
আজকাল আর চোখ খুলতে হয় না
আজকাল চোখ বন্ধ করতে হয় না
কি দেখব চোখ খুলে কিংবা বন্ধ করে?
তুই তো চোখের ভেতরে
চাঁদ হয়ে সূর্য হয়ে
আলো হয়ে অন্ধকার হয়ে

আমি একটা মনের কথা বলছি রে
যে কানের থেকেও বেশী শুনতে পায়
যে চোখের থেকেও বেশী দেখতে পায়
যে নাকের থেকেও বেশী ঘ্রাণ পায়
আমি কান বন্ধ করেও তোর শব্দ শুনি
আমি চোখ বন্ধ করেও তোকেই দেখি
আমি নাক বন্ধ করেও তোর গায়ের গন্ধ শুঁকি,
আমার চোখের আলো অন্ধকার তুই
আমার মনের আলো আর অন্ধকারেও তুই;

কারণহীন এক এক দিনে
কারণে আর অকারণে এক এক রাতে
হঠাৎ হঠাৎই তোর কথা মনে এলে
ক্রমাগত দিন রাত্রি তাঁতে
চাঁদ সূর্য সেলাই এ
আলো আঁধার হাতে
আমি তোকে বুনে যাই
শুধু তোকেই বুনে যাই,
কবিতা বোনা আর তোকে বোনার মাঝে আমি আজো পার্থক্য বুঝি নাই;

এই তুই তুই রোগটা আমার কবে থেকে জানিস?
যেদিন খুব হঠাৎই চোখ পড়েছিলো তোতে
আশ্চর্য সেই এক ভরা পূর্ণিমা রাতে,
তারপর থেকে আমি আর কোন নারী দেখি নি।





আকাশের জন্মদিন



আকাশের জন্মদিন
- যাযাবর জীবন


আকাশটা আকাশে খুব ভালো ছিলো;

আকাশে আকাশ হয়ে
নীল রঙের শাড়ী পড়ে চুলে মেঘ জড়িয়ে
এখানে ওখানে উড়ে বেড়াতো
কখনো সূর্য হতো
কখনো ঝমঝম বৃষ্টি
তার মনের সাথে তাল মিলিয়ে পৃথিবীতে দিন হতো কিংবা রাত্রি
আকাশটা কখনো নীল হতো কখনো লাল কখনো আলো
তার মনের সাথে রঙ বদলে সাদা কিংবা কালো

আকাশে আকাশ আকাশ একটা মেয়ে ছিলো
আকাশের মত মন
একদিন ভালোবেসে মাটিতে নেমে এলো
তারপর থেকে ঋতু বদল
তারপর থেকে সময়
আর তারপরই মেয়েটার জীবন,

আসলে যতক্ষণ আকাশ ততক্ষণই বিশালতা
মাটিতে নামলে সবাই তো মানুষই
কেও সাদা কেও কালো
আর হাজারো আশা নিরাশা;

আকাশটা আকাশেই ভালো ছিলো
শুধু শুধুই মাটিতে নামালো মন
মানুষকে ভালোবেসে
দুঃখ কষ্টের মানুষের জীবন

একদিন আকাশ আবার আকাশ হবে
যেদিন মন থেকে ভালোবাসা মুছে যাবে
আবার মেঘের সাথে ভাসবে
রঙের সাথে খেলবে
মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে পৃথিবীর দিকে তাকাবে যখন তখন
কখনো নীল হয়ে কখনো লাল কখনো অন্ধকার
মাঝে মাঝে খুব বেশী পৃথিবীর কথা মনে হলে
মাটিতে নেমে আসবে বৃষ্টির সাথে
রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিমিয়ে,
মানুষগুলো বলবে -
ধ্যাত! আকাশটা হয়েছে কি?
বড্ড কাঁদছে;
আকাশের কান্নায় মানুষের কি এসে যায়?


..........................................................


একদিন আকাশ থেকে একটা মেয়ে নেমে এসেছিলো
পৃথিবী ভালোবেসে
আজ কি জানি এক মনখারাপে আকাশ হয়ে গেছে,

আজ মেয়েটার জন্মদিন
তাই বড্ড কাঁদছে
তোমরা চেন তাকে?

আমি শুভেচ্ছা জানাতে পারি না
পারি না এটা ওটা দিতে
মাঝে মাঝে টুকটাক মনের কথা
পারি আকাশে লিখে দিতে............









অনন্ত ঘুম




অনন্ত ঘুম
- যাযাবর জীবন


এখানে আর ভালো লাগছে না
এখানে চারিদিকে বড্ড অশান্তি
এখানে একটা পেট রয়েছে
রয়েছে ক্ষুধা তৃষ্ণা আর বুভুক্ষু
রয়েছে অর্থ কদর্যতা আর স্বার্থ
এখানে মন নামের রয়েছে অদ্ভুত এক অনুভব
রয়েছে অনুভূতিহীন কিছু সম্পর্ক
আর রয়েছে ভালোবাসা নামের অনর্থ;

এক একটা সময় মনে হয় অনেক দূরে চলে যাই
অনেক অনেক দূরে কোথাও
যেখান থেকে আর কখনো ফিরতে হবে না
যেখান থেকে আসলে ফেরা যায় না;

যেখানে সময় বলে কিছু নেই
যেখানে ক্লান্তি নেই শ্রান্তি নেই
যেখানে ক্ষুধা নেই স্বার্থ নেই
যেখানে নেই কোন লেনদেন
যেখানে নেই মায়া মমতা ভালোবাসা
যেখানে কেও থাকে না কারো অপেক্ষায়
যেখানে কোন অনুভূতিই কাজ করে না;

সেখানে শুধুই আমি থাকব
একার আমিতে আমিত্বময় হয়ে
এখানে থেকে অনেক অনেক দূরে
কোন এক নির্জন একলা মাটির ঘরে
কোন এক অজানা ঘুমের দেশে
স্বপ্নহীন গাঢ় নিশ্চিন্ত এক অনন্ত ঘুম ঘুমবো
অনন্ত থেকে অনন্তকাল জুড়ে।