শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

ফাটল

দেয়ালে ছোট্ট একটা চিঁড়ের মত ফাটল
কালে কালে ধ্বসে পরে দেয়াল, 
পাহাড়ে চিঁড়ের মত ফাটল
একটা সময় পরে পাহাড়-ধ্বস, 
নদীর গতিপথে চিঁড়ের মত ফাটল
নদীর গতিপথের পরিবর্তন,  
জীবনটার দিকে তাকাও!
জীবনটাও এমন;

সম্পর্কে চিড় ধরলেই চিড় ধরে অনুভূতিতে 
চিড় ধরা অনুভূতিতে বাসা বাঁধে রাগ, অভিমান 
সুখের অনুভূতিতে ফাটল ধরলেই দুঃখের সূত্রপাত
সম্পর্কগুলোতে ছোট্ট ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝির চিড় 
সম্পর্কে ফাটল, বেড়ে বেড়ে সম্পর্কের ভাঙন 
ঘটছে, চারিদিকে অহরহই ঘটছে 
অথচ সময়ে চিড়টা মেরামত করে নিলেই 
ভাঙন রোধ করা যেত;

বেশীরভাগ মানুষ চিড় ধরলেই বুঝতে পারে
কেউ আমলে নেয় 
কেউ দেখি না কি হয়! এর অপেক্ষায় 
যারা আমলে নেয় তারা ফাটল মেরামত করার চেষ্টা করে 
প্রথম দিকে চেষ্টা করলে খুব সহজেই ফাটল মেরামত করা যায়  
সে দেয়ালেরই হোক কিংবা পাহাড়ের অথবা নদীর 
কিংবা অনুভূতির অথবা সম্পর্কের 
খুব হাতেগোনা অল্প কিছু চেষ্টা হয়তো বৃথা যায়
তবে মনে একটা শান্তি তো পাওয়া যায়!
চেষ্টা করেছিলাম সাধ্যমত;
দেয়ালে কিংবা পাহাড়ের ধ্বসে জীবনে খুব একটা পরিবর্তন না এলেও
সম্পর্কের ধ্বসে জীবন ওলোট পালট হয়ে যায়
জীবনভর কাঁদায়; 

কোন ফাটলই উপেক্ষার নয়,  
চিড় দেখলেই সাবধান হয়ে যেতে হয় 
সম্পর্কের ফাটল অনুভূতিতে কান্নানদী হয়ে যায়। 
       

৩১ জুলাই, ২০২১

#কবিতা 

ফাটল
 - যাযাবর জীবন 

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 



  

মন বিলাস

আকাশে মেঘ জমলেই মন শ্রাবণ  

আকাশ ঝরলেই মন বৃষ্টি-ভেজা

এমনি কোন এক ঝুম বৃষ্টির দিনে 

আমি কাকভেজা হয়ে অযথাই রাস্তা হাঁটছিলাম 

কিছু লোকে তাকিয়ে ছিলো 

কিছু লোকে হয়তো কথা চেলেছিলো - 'পাগলে কি না করে!

অথচ আমার মনে ছিলো বৃষ্টি বিলাস;


সবাই বৃষ্টি বিলাস বুঝে না

ঝুম বৃষ্টিতে রাস্তায় নামে আমার মতই গুটিকয়েক পাগলের দল 

এরা বৃষ্টির গন্ধ শোঁকে, এরা বৃষ্টি গায়ে মাখে  

কিছু কিছু মানুষ কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুম দেয়

কিছু কিছু মানুষ চায়ের কাপ হাতে প্রকৃতি দেখে

আর কিছু কিছু মানুষ বৃষ্টি বিলাস মনে থাকলেও বৃষ্টিতে নামার সাহস পায় না

বৃষ্টি আসলে ওদের জন্য শুধুই মন বিলাস,

সবাই কি আর পাগল হয়!

সবাই তো আর আমার মত নয়; 


কোন এক ঝুম বৃষ্টির দিনে যখন পাগলের মত পথ হাঁটছিলাম

পাশ দিয়ে হুস করে এক গাড়ি চলে গেলো

আমাকে রাস্তার কাঁদা-পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে,  

একটু থমকে গিয়েছিলাম

তারপর আবার পথ হাঁটা দিলাম, 

গাড়িটা বেশ কিছুদূর গিয়ে থেমে গেলো

আমি হাঁটতে হাঁটতে গাড়িটা পার হতেই গাড়ির কালো কাঁচ নেমে গেলো

একটা জলপরী যেন জানালায় উঁকি দিলো

ছোট করে বললো, সরি

বৃষ্টি বিলাসে ভিজতে ভিজতে একদম মন ভিজিয়ে দিলো, মন বিলাসে 

আমি ছোট্ট একটু হেসে আবার পথ হাঁটা শুরু করলাম বৃষ্টি বিলাসে

সেই থেকে শুরু,

কোন কোন প্রেমের শুরুটা বড্ড অদ্ভুত ভাবে হয়, তাই না? 


তারপর মনে প্রেম আসতেই মন বিলাস

মনে অনেকগুলো অনুভূতির খেলা 

প্রেমে পড়লে অনুভূতিগুলোর তীব্রতা বোঝা যায় 

যখন তখন ঋতু বদলে মন বদলায় 

মৌসুমি বায়ু বদলে মন দোলায়   

দোলা লাগে অনুভূতি'তে,  

কিছু অনুভূতি সুখের

কিছু অভিমানের

কিছু মিলনের 

কিছু বিরহের 

দুঃখের অনুভূতি শুরু হয় বিচ্ছেদে 

অনুভূতিগুলোর রঙ চেনা যায় আলাদা করে 

মানুষ প্রেমে পড়লে

সত্যি কি?

আমার ক্ষেত্রে হয়েছিলো তো! 

তোমাদের হয় না?

আজকাল অবশ্য আর অনুভূতিগুলো মনে তেমন একটা দাগ ফেলে না

কোন কোন প্রেমের সমাপ্তি খুব হঠাৎই হয়, কারণ ছাড়াই

গ্লাসটা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ার আগ মুহূর্তেও কেও জানতো না,  তাই না? 


আমি এখনো বৃষ্টি নামলেই ভিজি, সেই আগের মতই  

ভিজি বৃষ্টিবিলাসে; 

ঝুম বৃষ্টি কান্না ধুয়ে দিতে পারে খুব ভালো করে

আচ্ছা! স্মৃতি ধুয়ে দিতে পারে কি?

আজ দুদিন ধরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে

আমি এখনো আগের মতই রাস্তা হাঁটি, বৃষ্টি বিলাসে 

মাঝে মাঝে খুব হঠাৎ হঠাৎ তোর কথা মনে পড়ে

আবার যদি কখনও এমনি করেই দেখা হয়ে যায় আমাদের!    

এবার চিনতে পারবি?

মাঝখানে অনেকগুলো বসন্ত কিন্তু পার হয়ে গেছে

বয়সের ছাপ এখন চোখে মুখে?

তোরও নিশ্চয়ই বয়স হয়েছে!

তাতে কি? 

বৃষ্টি বিলাস এখনো সকল মন বিলাসীদের জন্য

তুই কি এখনো ভাসিস কল্প বিলাসে?

নাকি বড্ড বেশি কঠিন হয়ে গেছিস বাস্তব'কে জড়িয়ে ধরে? 

ঐ দেখ ঝুম বৃষ্টি নেমেছে

এখন অনেক রাত

ভিজবি আমার সাথে? 

নাহ থাক, তুই ঘুমা কাঁথা-মুড়ি ঘুমে। 




৩০ জুলাই, ২০২১


#কবিতা 


মন বিলাস 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 






লেখায় লেখক

লেখকগুলো খুব খারাপ
এরা হুটহাট মানুষের মনে উঁকি দিয়ে দেখে ফেলে 
কিভাবে যেন বুঝে ফেলে অন্যের মনের কথাগুলো 
তারপর কিছু সত্যির সাথে মিথ্যে মিশিয়ে 
কিছু অনুভূতি কল্পনায় বানিয়ে  
এটা ওটা সেটা লিখে ফেলে কাগজে কলমে; 

লেখকগুলো ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাবলি দেখে চামড়ার চোখে
বাকিটা কল্পনা করে নেয় কল্প-চোখে
দুটো চোখের দেখা মিলিয়ে আঁকাআঁকি এক দেয়ালে
আর কাগজে দাগ কেটে যায় মনের খেয়ালে, 
পাঠক কাগজের লেখাগুলো পড়ে চামড়ার চোখে 
লেখকের জীবন ভেবে নেয় মনের খেয়ালে; 

কত কত ঘটনাই তো ক্রমাগত আঁকা হয় কাগজে কলমে
সব কি আর ঘটে লেখকের জীবনে?  
শাশুড়ি বৌ এর চিরাচরিত অশান্তি যখনই কাগজে!
পাঠকের মনে করুণা আহারে কি অশান্তিই না লেখকের মনের ভাঁজে! 
চারিদিকের পরকীয়া ভাইরাস যখন কলমে আঁকে
লেখক বেচারার জীবনটাই বরবাদ পাঠকের চোখে 
কলমের আঁচরে যখনই অভাব অনটন ফুটে ওঠে
লেখক অভাবে আছে ভেবে ভক্তকুল তার থেকে দূরে ছোটে;

একদিন ড্রাগস সেবনকারীদের নিয়ে একটা ফিচার লিখেছিলাম 
অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছিলো আমি ড্রাগ নেই কি না!  
একদিন বৃদ্ধাশ্রমের এক বৃদ্ধের কান্নার রোল কবিতায় আঁকতেই 
প্রশ্নের তীর আমার দিকে, আমি এতটাই অমানুষ যে বাবাকে পাঠিয়েছি বৃদ্ধাশ্রমে! 
একদিন কোন এক লেখায় বৃহন্নলাদের জীবনযাপন নিয়ে কিছু কথা লিখেছিলাম 
কেউ কেউ প্রশ্ন তুললো, ওদের দলের না হলে এগুলো কিভাবে লিখলাম? 
একদিন এক কবিতায় এক নিশিকন্যার করুণ কাহিনী এঁকেছিলাম
পাঠককুলের ছিঃ ছিঃ ধ্বনিতে সেদিন চরিত্রহীনের খেতাব গায়ে মেখেছিলাম; 

লেখকগুলোকে একদম বিশ্বাস করতে নেই 
এরা হাসতে হাসতে কান্না লেখে 
এরা কাঁদতে কাঁদতে হাসি আঁকে। 


৩০ জুলাই, ২০২১

#কবিতা 

লেখায় লেখক 
 - যাযাবর জীবন 

 

       

কর্তব্য

বাবা-মায়ের অনেকগুলো ছেলেমেয়ে, বাবা-মা সব ছেলেমেয়ের জন্যই করে 

কারো জন্য একটু বেশি কারো জন্য একটু কম, কাউকে বেশি দেন কাউকে কম  

বাবা-মায়ের কম আর বেশিটা শুধু সন্তানরাই বোঝে, বাবা-মা কি কখনো বোঝে?

বুঝুক আর নাই বুঝুক তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যান, কর্তব্য মনে করে;


সব সন্তান কিন্তু বাবা-মায়ের জন্য করে না, সন্তান হবার দায়িত্ব কি সেটা বুঝেও বোঝে না 

তাদেরও সংসার আছে, বৌ বাচ্চা আছে; কে আর অশান্তি বয়ে নিয়ে যেতে চায় ঘরে 

তবে সব সন্তানের মধ্যে কেউ না কেউ কিন্তু বাবা-মায়ের জন্য ঠিকই করে, শেষদিন পর্যন্ত করে   

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সেই একজন, যাকে বাবা-মা দিয়েছিলো সবচেয়ে কম করে; 


বাকি সন্তানগুলো কিন্তু একবারে ছেড়ে দেয় না বাবা-মাকে! ওরা ভাই এর বাসায় আসে 

সময় সময় বাবা-মায়ের খবর নেয়, হাতে করে এটা ওটা সেটা নিয়ে আসে 

নিয়ে তো আসে! তবে যে ভাই এর বাসায় এসেছে তার পরিবারের জন্য নয় কিন্তু! 

বাবা-মায়ের জন্য, ঠোঙ্গায় করে; বাবা-মা তাতেই খুশিতে বাগবাকুম করে;


আর যে সন্তানটা করেই যাচ্ছে! তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে কখনো মুখে বলে কখনো খোঁটায় 

এই যে আমার এই সন্তান আজ এটা এনেছে, কাল অন্যের'টা দেখিয়ে বলে সেটা এনেছে 

যে করে, সে দেখে; দীর্ঘশ্বাস মনের ভেতর চেপে রেখে বাবা-মায়ের সামনে মুচকি হাসে 

বাবা-মা'কে হাসিমুখ দেখাতে দেখাতে সে তার কাজ করেই যায়, চুপিসারে; 


কোন পালা পার্বণে সব ভাই বোন একসাথে জড়ো হয়, বাবা-মায়ের ঘরে 

সমালোচনার ঝড় ওঠে এটা করা হয় নি, ওটা করা হয় নি; কখনো বা কৈফিয়ত দাবি 

বাবা-মা কখনো চুপ থাকে, কখনো বা ওদের সাথে তাল মেলান; তখনই দুঃখ লাগে  

যে করছে, সে চুপ করে শুনে যায়, কর্তব্য করতে করতে; বাকিরা শুধুই সমালোচনা করে। 


 

২৯ জুলাই, ২০২১


#কবিতা 


কর্তব্য 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





স্মৃতির চুমু

টিনের চালে নূপুরের নিক্বণ 

ঝুমঝুম তবলায় বৃষ্টি ধুম, 

চায়ের কাপ হাতে বৃষ্টির গান শুনছি

ড্রয়ার থেকে পুরনো কবিতার খাতাটা মেলে ধরতেই  

স্মৃতির পেয়ালায় টপটপ কিছু কান্নার ফোঁটা 

কত ব্যর্থ প্রেমই না লিখেছিলাম কৈশোর আর যৌবনে!

কোথায় আজ তারা? 

 - স্মৃতির দেয়ালে; 


কৈশোরের ছেলেমানুষি কিছু প্রেম ছিলো 

যৌবনে বুঝেছিলাম সেগুলো ইনফ্যাচুয়েশন,

যৌবনেও নরম কঠিন কিছু প্রেম এসেছিলো 

জীবনের একটা পর্যায়ে বুঝেছিলাম সেগুলোও ইনফ্যাচুয়েশন,

কবিতার পুরনো খাতার পাতায় পাতায় মোহগুলোকে এঁকে গিয়েছি 

আর ঋতু বদলের মত মন বদলেছি 

ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিতে কখনো প্রেমিকা বদলেছি আমি 

কখনো অভিমানী প্রেমিকার দ্বারা আমি নিজেই বদল হয়েছি  

কি এসে যায়! 

ইনফ্যাচুয়েশন জীবনের পাতায় পাতায় 

আর পুরনো খাতাটা ভরে উঠছিলো প্রেমের কবিতায়; 

 

ভাগ্যিস খাতাটা রাগ করে ফেলে দেই নি!

কিংবা অভিমানে পুড়িয়ে ফেলি নি,

খাতা পুড়িয়ে ফেললেই কি স্মৃতি পোড়ানো যায়?

ওগুলো তো সময় সময় টুপটাপ কান্না নামায় স্মৃতির পেয়ালায়

এইসব স্যাঁতস্যাঁতে ভেজা ভেজা বৃষ্টির দিনে

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে 

ঠোঁটে চা চুমুকে স্মৃতি চুমু খেলেই মন স্যাঁতস্যাঁতে। 



২৭ জুলাই, ২০২১


#কবিতা 


স্মৃতির চুমু

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 










লেখক স্বরূপ

এই যে হাসতে হাসতে লেখার মাধ্যমে মানুষ'কে কাঁদানো! 

এই যে প্রচণ্ড মন খারাপ নিয়েও লেখার খোঁচায় মানুষ'কে হাসানো!

এ বোধহয় লেখকদের পক্ষেই সম্ভব, তাই না?

তবে কি লেখকগুলো বড় অভিনয় শিল্পী? 

নাকি হিপোক্রেট?

নাকি এরা মুখে মুখোশ এঁটে থাকা কোন অদ্ভুতুড়ে প্রাণী?


এরা কি সুন্দর করেই না বিভিন্ন খাবারের বর্ণনা দেয়! 

 - অভুক্ত পেটে

এরা দুর্ভিক্ষ আঁকে, ক্ষুধার স্বরূপ এঁকে মানুষ'কে কাঁদিয়ে দেয় 

 - ভরা পেটে 

এরা ভালোবাসার আবেগে খাতার পর খাতা ভরিয়ে ফেলে 

 - আবেগহীন কাঠ মানব হয়ে 

এরা যাবতীয় খুঁটিনাটি কঠিন বাস্তবতাগুলোকে তুলে আনে

 - বুকে আবেগের পাহাড় বয়ে 

এরা সংসারের যাবতীয় খুঁটিনাটি তুলে ধরে  

 - সংসার না করে

এরা প্রেমের সৌন্দর্য আঁকে  

 - প্রেমে ধোঁকা খেয়ে 

এরা ভালোবাসার বাসর লেখে 

 - নিজেদের ভালোবাসার বিচ্ছেদে 

এরা দাম্পত্যের কত কত রূপই না আঁকে!

 - নিজের দাম্পত্য বিচ্ছেদ বয়ে   

এরা মানুষকে পুরো পৃথিবীটা ঘুরিয়ে আনে 

 - ঘরকুনো ঘরে বসে  

এরা মানুষের মনে স্বপ্ন এঁকে দেয়  

 - স্বপ্নহীন হয়ে 

এরা মানুষকে হাসায়, কাঁদায়, ভালোবাসায় ডোবায় 

 - মুখে নির্লিপ্ততার মুখোশ এঁটে;  


এদের মনে যা আসে তাই নিয়েই গল্প বানায়, ইচ্ছে হলে   

এদের ইচ্ছে আঁচরে কবিতা হয় ছন্দ মিলে কিংবা না মিলে, 

এদের কলমের লেখার সাথে নিজেদের জীবনের কোন মিলই খুঁজে পাওয়া যায় না 

কখনো বা এরা কলমে তুলে আনে নিজের জীবনের হাসি আনন্দ, দুঃখ বেদনা, হতাশা আর যন্ত্রণা;   

এরা কলমে এক মনে আরেক, এদের থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় 

এদের লেখা পড়ে আবেগ-তাড়িত হয়ে প্রেমে পড়লে বাস্তবতা বুঝে নিও,   

প্রেমে পড়া পর্যন্ত তবুও ঠিক আছে, মন তো ভালোবাসারই বাস 

তারপর এগোতে গেলেই কিন্তু জীবনের ভয়াবহ সর্বনাশ; 


যে মানুষটা কলমে আঁকছে আর যে মানুষটাকে বাস্তবে দেখছে 

দু জন তো আসলে এক না 

এদের সামনাসামনি মেলাতে গেলেই মনে ধাক্কা 

একজনের সাথে আরেকজনের কোন কিছুতেই মেলে না।


২৩ জুলাই, ২০২১


#কবিটা 


লেখক স্বরূপ 

 - যাযাবর জীবন 

  


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





ঈদ মানেই ছেলেদের কষ্টের জীবন

প্রতি বছর ঈদ আসে, বয়ে নিয়ে আসে সবার জন্য আনন্দ 

অথচ দেখ! আমরা ছেলেরা কিন্তু একটা ভয়ানক কষ্টের ঈদ কাটাই

আমরা ছেলেরা প্রতি বছর ঈদের মধ্যে কষ্ট করতে করতে 

একটা ভয়াবহ কষ্টের জীবন কাটাই;


ছেলেরা বলতে কিন্তু সব বয়সের ছেলেরাই

এই যেমন ধর! যখন ছোট ছিলাম! কিছু বুঝতাম না

বাবা মায়ের কাছে নানা রকম বায়না ধরতাম

বন্ধুবান্ধবরা কত সুন্দর সুন্দর বাহারি ঈদের পোশাক কিনে ফেলেছে?

অথচ আমার তখনো কেনা হয় নি, মায়ের কাছে ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান 

আমার বোনটা কিন্তু এদিক দিয়ে একদম ক্ষেত

কোন বায়নাই নেই যেন তার,

মা সারাদিন রান্নাবান্না করলো, সেটা তার কাজ

আমার ইচ্ছে না থাকলেও সময় মত খেতে হলো, 

সেই বাল্যকাল থেকেই কি কষ্টেরই না জীবন শুরু হলো! 


তারপর কৈশোরে একটু লেজ গজালো

বায়না আরেকটু বাড়লো, এটা দাও ওটা দাও

ঈদের দিন সেই ভোর বেলা থেকে মায়ের অত্যাচার

ঘুম থেকে উঠিয়ে মসজিদে পাঠানো 

তারপর হাবিজাবি কি কি সব রান্না করা!  

আর টেস্ট করার দায়িত্ব! সে তো আমারই 

কেন বাবা! বাসায় তো বোনটাও আছে, সে একটু কাজ করতে পারে না? 

তা না, সে আছে মায়ের সাথে রান্নাঘরে, একদম বাজে কাজে

মা'কে রান্নায় এটা এগিয়ে দিচ্ছে তো ওটা ধুয়ে দিচ্ছে

আর এদের রান্নাঘরের সকল এক্সপেরিমেন্ট, আমার ওপরে!

কি কষ্টেরই না একটা জীবন!


তারপর যৌবন, আমার ততদিনে পাখা গজিয়ে গেছে

বন্ধুবান্ধবের সাথে সারারাত মার্কেটে, চাঁদরাতে 

সকালে বাসায় ফিরতেই মায়ের অত্যাচার শুরু

গোসল কর, খেয়ে উদ্ধার কর, নামাজে যা; এটা, ওটা আরও কত কি? 

আরে বাবা! সারারাত মার্কেটে কাটিয়েছি একটু মায়াও কি হয় না!

ছেলেটাকে একটু ঘুমুতে দাও! তা না;

আর ততদিনে ঘরে একটা বৌ এলো তো হয়েই গেলো! 

ডাবল অত্যাচার সইতে হয় ছেলেদেরই

একদিকে মায়ের রান্নার টেস্টার তো ছিলামই  

এখন বৌ শুরু করলো নতুন নতুন রেসিপির অত্যাচার

একটা পেটে কতটুকু ধরে? এরা বোঝে না?

কি এমন ঘোড়ার ডিমের কাজ করে উল্টে ফেলে?

কাজের মধ্যে তো সেই রান্নাঘরে খুটখাট, আর পদে পদের রান্না,  

আর ছেলেদের কষ্টের জীবন? সে কথা আর বলো না;


রোজার ঈদ তাও কোনভাবে কষ্টেসৃষ্টে পার করা যায়, 

কোরবানি ঈদ এলে?

সেই ভোর বেলা ওঠো, নামাজে যাও তারপর হুজুরের পেছন পেছন দৌড়াও

কোরবানি করার পর একটু বিশ্রাম, তারপর একটু শান্তির ঘুম

আর ঐদিকে? 

মা কিংবা বৌ, এদের তো আর কোন কাজ নেই

কাল সারারাত হাবিজাবি করে রান্নাঘরে সময় কাটিয়েছে

একজন আজকের মাংস রান্নার মশলার তদারকি

একজন সকালের নাস্তার আর কসাইদের খাবার 

এগুলো কোন কাজ হলো?

তারপর কোরবানির পর শুরু হলো কসাইগুলোর ওপর তাদের অত্যাচার 

মাংস এভাবে কাটা যাবে না, ওভাবে কাটা যাবে না, কসাইগুলো অতিষ্ঠ

কষাই তদারকি কোন কাজ হলো! ওটা তো একটা বাচ্চাও করতে পারে!

তারপর আশেপাশে বাড়িগুলোতে কে কোরবানি করে নি তার খবর যেন ওদের নখদর্পণে 

কাজ না থাকলে যা হয়! মানুষের হাঁড়ির খবর নেবার মত ফালতু কাজ করতে পারে ওরাই   

তারপর মাংসগুলো ভাগ কর, যারা কোরবানি দেয় নি তাদের বাড়ি বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা কর

এগুলো কোনও কাজ? তারপর তো আছে শাশুড়ি বৌ এ মিলে চুলোয় রান্না বসানো

যেটা না করলে ওদের পেটের ভাত হজম হয় না,

আমি বাবা এসব আজাইরা কাজে নেই, কোরবানি হয়ে যাওয়ার পর একটা ঘুম দিয়েছি

তোমরাই বলো! ঘুমের থেকে শান্তির আর কিছু আছে?

সে শান্তিটাও আর দিলো কই? চোখটা লাগতে না লাগতে চেঁচিয়ে বাড়ি মাত 

কিংবা ধাক্কাধাক্কি করে ঘুম ভাঙ্গানো, দুপুর তিনটা বেজে গেছে; খেয়ে উদ্ধার করো!

আরে বাবা! অত্যাচারের একটা লিমিট থাকা দরকার,

কাল সারারাত বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সকালে নামাজ পড়ে 

কোরবানি দিয়ে একটু বিছানায় গা টা লাগিয়েছি, এদের সেটাও সহ্য হচ্ছে না!

এখন গুচ্ছের খাবার খাওয়ার জন্য উঠতে হবে,

আমিও উল্টো চেঁচিয়ে উঠি, কি এমন বিশাল কাজ করে ফেলেছ? 

একটু রান্নাই না হয় করেছ, সে তো প্রতিদিনই কর; তাই বলে ঘুম ভাঙ্গিয়ে খাওয়াতে হবে?

ছেলেদের কষ্টের জীবন? সে মেয়েরা কখনোই বুঝবে না,

না বাল্যকালে, কৈশোরে মা বুঝেছিলো 

না যৌবনে আর প্রৌঢ়ত্বে বৌ বুঝে

না মেয়েরা কিংবা ছেলের বৌরা বুঝবে বৃদ্ধকালে;

পুরুষের জীবন, কষ্টে কষ্টময়! 


বিশেষ করে প্রতিটা ঈদে

অকাজের কাজীগুলো সারাদিন ধরে গুচ্ছের খাবার রাঁধবে, 

আর শান্তির ঘুম থেকে অশান্তি করে ঠেলে তুলে আমাদের দিয়ে টেস্ট করাবে,   

অত্যাচারের একটা সীমা থাকা উচিৎ;

ছেলেদের কষ্টের জীবন? সে কথা আর বলো না।  

  

২১ জুলাই, ২০২১


#কবিতা


ঈদ মানেই ছেলেদের কষ্টের জীবন

 - যাযাবর জীবন