মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ঘর বাড়ি

সবাই তো বাড়ি ফিরে, ঘরে কি ফিরে? 

বাড়ি মানেই ইট কাঠ দালান কোঠা, 

ওগুলোতে অনুভূতি কোথায়? 

বাড়ি কি অপেক্ষায় থাকে? 


আমরা ঘরে ফিরতে চাই, 

যেখানে খুব মমতায় মা জিজ্ঞাসা করবে, কেমন ছিলি রে খোকা? 

যেখানে বাবা বলবে, সারাদিন ক্লান্ত হয়ে এসেছিস, যা আগে হাত মুখ ধুয়ে নে

স্ত্রী হয়তো বাবা-মায়ের সামনে কিছু বলবে না, তবে বেডরুমে একা পেলেই একটু জড়িয়ে ধরবে

জড়িয়ে ধরাটাই অনেক কথা বলে দেয়, সব কি আর মুখে বলতে হয়?

ছেলেমেয়েগুলো বাবা এসেছে বলে ছুটে আসবে, জড়িয়ে ধরবে; 

এই যে কাছের মানুষগুলোর এত এত ভালোলাগার অনুভূতির বহর! 

এদের নিয়েই তো ঘর; 


কারো কারো ঘরে ফেরার তাড়া থাকে 

ওখানে প্রিয়জনরা অপেক্ষায় আছে, 

কেউ কেউ বাড়ি ফিরতে ভয় পায়

ওখানে ইট কাঠ দালান কোঠা হো হো হাসে; 


ঘরে ফেরা মানেই আনন্দ,   

বাড়ি ফেরা সহজ নয়। 


২৫ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


ঘর বাড়ি 

 - যাযাবর জীবন 


অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে!

একটা ছেলে আর একটা মেয়ের জীবনের দিকে তাকাও! 

কোনা পার্থক্য দেখতে পাচ্ছ? 

কোন মিল? 

আমি তো দেখতে পাচ্ছি শুধুই অমিল,

ভুল হচ্ছে না তো আমার? 

বয়স হলে চোখ কত ভুলই তো দেখে, মন ভুল ভাবে,

আমি যা দেখছি সেটুকু একটু বলি! 

ভুলগুলো ধরিয়ে দিও;  

 

একটা ছেলে আর একটা মেয়ের জীবন 

ওগুলোকে একটু দেখার চেষ্টা করি জীবনের ধাপে ধাপে,   

দুজনার জীবনেই শৈশব থাকে, কৈশোর থাকে 

দুজনার জীবনেই যৌবন আসে, আসে প্রৌঢ়ত্ব, আসে বার্ধক্য 

এক এক জীবনকে না হয় ভেবে নেই এক একটা অধ্যায়! 

জীবনের অধ্যায়;

 

শৈশবটা দুজনারই অনেকটা একই রকম কাটে

খেলা খেলায়, আদরে আদরে

যেই না কৈশোরের আগমন ঘটলো! চোখের পলকে অধ্যায় বদলায়, 

ছেলেগুলোর কৈশোর কাটে খেলা খেলায়

পড়াশুনাটা ঠিকঠাক করলে আর তেমন বিধিনিষেধ কোথায়? 

অথচ মেয়েগুলো আটকে যায় বিধিনিষেধের বেড়াজালে 

এটা করো না, ওটা করো না, এখানে যেও না, সেখানে যেও না, একা যেও না 

ওভাবে কাপড় পড়তে হয় না, শরীরটা ঢেকে রাখো, ওড়নাটা ঠিক করো 

পড়াশুনার পাশাপাশি প্রতিটা মা'ই তার মেয়ে'কে, মেয়ে হওয়া শেখায়; 


যৌবন? 

ছেলেগুলোর খেলাধুলো অব্যাহত থাকে 

পড়াশুনায় ঠিক থাকলে ওদের একটু আধটু প্রেম গুরুজনের চোখে দুষ্টুমি,

মেয়েরা প্রেম করলেই তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে

এ মেয়েকে ঘরে রাখাই দায়! লেগে যায় বিয়ের জোগাড়ে

আর কৈশোরে প্রেম? ও তো মহাপাপ! 

প্রেমের ভুত ভাগে গুরুজনের মারে,

আর প্রেমে যদি বাঁধা দিতে না পারে তবেই বিপত্তি 

সে কৈশোরেই হোক কিংবা যৌবনেই

বিয়ে দিয়ে হাঁপ ছাড়ে মা-বাপ,

আরে মেয়েদের আবার মন আছে না কি? 

মা গুলোও ওসময় কেন যেন ভুলে যান  

কোন একদিন ওনারাও কিশোরী ছিলেন, ছিলেন যুবতী, 

প্রচণ্ড সাহসী না হলে আসলে মেয়েদের প্রেমের হয় না কোন গতি;   


বৈবাহিক জীবন! 

সাধারণত ছেলেরা একটু দেরী করেই এ জীবনে ঢুকে

সাধারণ হিসাবে পড়ালেখার পর চাকরি বাকরি, আয় রোজগার

নিজের পায়ে দাঁড়ানো, তারপর বিবাহ

আর যদি প্রেম করে তবে কত কিছুই তো ঘটে যেতে দেখি!

আপাতত সে না হয় বাদ'ই দিলেম;

মেয়েরা খুব সহসাই এ জীবনে ঢুকে পড়ে

বেশীরভাগ প্রথম যৌবনে, বাবা-মা যেভাবে চান

আর অল্প কিছু কৈশোরে, সাহসী প্রেমের টান;


সংসার! 

ছেলেদের ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা শেষে কাঁধে টিফিন বক্স ঝুলিয়ে অফিস যাওয়া

সন্ধ্যেয় হেলতে দুলতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরে একপেট নাস্তা 

রাতের খাবার শেষে বিছানায় যেতে না যেতে উথলে ওঠা প্রেমে বৌ'কে কাছে পাওয়ার বাসনা

রমণ শেষে নাক ডেকে ঘুম, সকালে অফিসের প্রস্তুতি শেষে নাস্তার টেবিল, 

সাপ্তাহিক ছুটি ছাটায় সাপ্তাহিক বাজার করে বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা

মাসে একবার শ্বশুর বাড়িতে মধুর হাঁড়িতে নাক ডোবানো

বছরে এক আধবার বৌ'কে নিয়ে কোথাও বেড়ানো    

দৈনন্দিন এ সকল জীবন যাপন সাধারণত একই ছকে বাঁধা

সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা! চাকরি করে পয়সা কামানো, চাট্টিখানি কথা?

কি কষ্টই না করে ছেলেগুলা! সাধারণ হিসেবে 

অসাধারণ তো অনেক কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম; 

 

মেয়েদের ক্ষেত্রেই কোথায় বা তেমন আর পার্থক্য! 

না হয় একটু কাকভোরেই ঘুম থেকে উঠেতে হয় 

দুহাতে সবার নাস্তা আয়োজন আর একই সাথে স্বামীর অফিসের টিফিনের ব্যবস্থা 

স্বামী অফিসে যেতে না যেতে দুপুরের হেঁশেল ঠেলা 

বিকেলের নাস্তার আয়োজন শেষ হতে না হতে রাতের খাবারের ব্যবস্থা  

ও হ্যাঁ! প্রতিবেলা খাবারের পরে হাঁড়িকুঁড়ি বাসনকোসন ধোয়ার কাজটা তো বলাই হলো না 

বলা হলো না, খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে কুটা-বাছার আয়োজনের কথা 

বলা হলো না, নিজের কাপড়চোপড় এর সাথে সাথে স্বামীর কাপড় চোপর ধোয়ার কথা

বলা হলো না, ঘর পরিষ্কার ঝাড়ু পোঁছা, মশারি বিছানা রাতে পাতা ও সকালে তোলা 

রাতের খাবার শেষে তাড়াতাড়ি হাত চালাতে হচ্ছে, কত কাজ জমে আছে! 

বেচারা স্বামীটা একটু শারীরিক আদরের জন্য কাতর হয়ে আছে

ছুটি ছাটার দিনে একটু মাথা গা হাত পা টিপে দিলে কি খুশিই না হয় বেচারা, 

আর যদি ভুলে একান্নবর্তী পরিবার হয়! সেটা হিসেবের একদম বাইরেই রাখি 

বিনি পয়সার এমন ঝি, কোথাও খুঁজে পাবে নাকি? সাধারণ হিসেবে 

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম; 


প্রৌঢ়ত্বে ছেলেদের অবসর জীবন

সারাজীবন অনেক কাজ করা হয়েছে, করেছে কষ্টকর উপার্জন 

এবার বসে খাবার দিন,

ঘরে কন্যা সন্তান থাকলে তো কথাই নেই 

বাবার জন্য কিছু করতে মেয়েগুলোর কখনো না নেই

ছেলেটা যদিও একটু বোহেমিয়ান, তবুও বাবা অন্ত প্রাণ 

আর স্ত্রী তো সেই বিয়ের পর থেকেই সেবাদাসী, চাহিবা মাত্র সব হাজির, 

ভালোই কেটে যায় অবসর জীবন, সাধারণ হিসেবে 

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম; 

 

মেয়েদের আবার প্রৌঢ়ত্ব কি? অবসর জীবনই বা কি?  

কি এমন ঘোড়ার ডিমের কাজটা করে উল্টে ফেলে তারা? 

ঐ তো একটু হেঁসেল সামলানো! বাচ্চাকাচ্চাগুলো মানুষ করা

স্বামী সেবা, বাজার সদাই রান্না বান্না

ঘরদোর একটু পয় পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা 

সেই একই রুটিন তো বিয়ের পর থেকে করেই আসছে

তার আবার কষ্টটা কি? 

আরে অবসর মানেই বাত ব্যামো, এটা ওটা সেটা

যতদিন কাজে ততদিনই সুস্থ জীবন

যা করছে করুক না! এটাই সাধারণ হিসেব 

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! আমরা সেদিকে নাই বা গেলাম;    


বৃদ্ধ বয়সের আবার নারী আর পুরুষ কি? 

সন্তানরা চাইলে ভালো থাকা, না চাইলে গলগ্রহ হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা

সে নারীই হোক কিংবা পুরুষ, সাধারণ হিসেবে

অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে! 


আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ হিসেবেই দেখি!  

আমি যেভাবে দেখছি, ভুল হলো কি?

কি জানি! হয়তো হতেও পারে

যুগ বদলে গিয়েছে, বদলেছে মানুষ

বদলে গিয়েছে আমাদের মানসিকতা,

হয়তো আমারই চোখের ভুল, কিংবা মনের। 


২৪ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


অসাধারণ তো কত কিছুই হতে পারে!

 - যাযাবর জীবন 





এলো চুলে এলোমেলো ভাবনা

সেদিন স্নান শেষে তুই ভিজে চুল আঁচড়াচ্ছিলি, 

তোর চুলের ফাঁকে চিরুনিটা হারাতে দেখেই পুরনো কথা মনে পড়ে গেলো 

একদিন আমিও হারিয়ে গিয়েছিলাম তোর মনের বাঁকে, সবটুকু প্রেম নিয়ে 

এতই সহজ নারীর মনে ডুব দেয়া? একবার ডুবলে ভাসতে পেরেছিলো কে কবে?    


চিরুনির আঁচরে তুই চুলের জট খুলছিলি 

আমি খুলতে চেষ্টা করছিলাম মনের জটগুলো 

মেয়েরা চুলের জট ছাড়াতে পারে খুব সহজেই

মনের জট কি খোলা যায় রে? তুই পেরেছিস?  


মনে আছে! ভালোবাসার সেই প্রথম দিনগুলোতে 

আমি নাক ডুবিয়ে থাকতাম তোর চুলের গভীরে

তোর গায়ের সোঁদা গন্ধ আজো মাতাল করে আমায় 

প্রতিটা গায়েরই আলাদা গন্ধ থাকে, শুধু দম্পতি চেনে; 


এই যে চুলে বেণির পাক দিয়ে ঘুমুতে এলি!

ভালোবাসার প্যাঁচে প্যাঁচে মনটাকে সেই কবেই বেণি করেছিলি 

মাঝে মাঝে তোর এলোমেলো খোলা চুল আমার বুকের ওপর অগোছালো পড়ে থাকে    

এলোমেলো চুলের এলোমেলো গন্ধে এলোমেলো হই আমি, দাম্পত্যে কি এমনই?


    

২৩ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


এলো চুলে এলোমেলো ভাবনা 

 - যাযাবর জীবন 


শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১

দেরী না হয়ে যায়!

কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করছে, 

কিছু একটা; 


কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করছে বাবা'কে 

অথচ বাবা অনেক আগেই চলে গিয়েছেন আমাকে ছেড়ে

ঐ সুদূরে, ধরা ছোঁয়া বাইরে অনেক অনেক দূরে

অথচ বাবা'কে কখনোই কিছু লিখা হয় নি 

কখনো বলা হয় নি কত'টা ভালোবাসি তাকে 

আজ হঠাৎ করেই তাকে লিখে আর কি হবে?

বাবা পড়তে পারবে?

কে জানে? 

হয়তো কলমটা পড়বে! কিংবা কাগজ'টা! 

আজকাল তো দেখি বাবা দিবসে ফেসবুক জুড়ে বাবা'ময় ভালোবাসা

অথচ বেঁচে থাকতে বাবা'কে একটা বার বুকে জড়িয়ে ধরি নি

একটা বার মুখ ফুটে বলি নি - 'বাবা, তোমাকে ভালোবাসি';


আজ কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করছে মা'কে 

কোথায় আছে মা? কোন সুদূরে? 

বেঁচে থাকতে কয়দিন জিজ্ঞাসা করেছি - 'মা, খেয়েছ?'

'কেমন আছ মা?'  

অথচ মা দিবসে ফেসবুক জুড়ে উথলে ওঠা মায়ের প্রতি ভালোবাসা

কোন মানে হয়? 


এই যে বাবা, মা, ভাই, বোন, সন্তান সন্ততি, এমন কি স্ত্রী

কয়দিন কয়বার ওদের বলেছি, ভালোবাসি; তোমাদের বড্ড ভালোবাসি

অথচ কখনো ভালোবাসার তো কমতি ছিলো না মনে! 

ভালোবাসার কমতি নেই এখনো,

শুধু মুখ ফুটে বলা হয় না;  


এই যে রক্তের সম্পর্কগুলো! 

দেরি হবার আগেই কথা বলে ফেলো, 

ভালোবাসার কথা চিৎকার করে বলতেও হয় না 

শুধু একটু জড়িয়ে ধরলেই হয়;


যে চলে গেছে তাকে ভালোবাসার কথা বলেই বা কি হবে?

আর লিখেই বা কি হবে? 

আমার দেরি হয়ে গেছে, 

তোমার হয়তো এখনো সময় আছে। 


২২ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


দেরী না হয়ে যায়!  

 - যাযাবর জীবন 


শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১

বড় সন্তান

বেশীরভাগ সংসারের বড় সন্তানগুলোর মুখে কুলুপ আটা থাকে,

এরা যে কথা বলতে পারে না, তা নয় কিন্তু!

কথা বললে যদি অন্যরা কষ্ট পায়! তাই সংযত হয়ে থাকে 

সংযত হয়ে থাকতে থাকতে চুপ থাকাটা এদের অভ্যাস হয়ে গেছে;


এরাও হাসে, অন্যের হাসিতে

নিজের জীবনের হাসির কারণ কালেভদ্রে আসে; 

এরা কাঁদে, যত না বাকিদের দুঃখে তারচেয়ে বেশি নিজে দুঃখ পেয়ে 

দুঃখ পেলে এরা একা একাই কাঁদে; 


বুঝ হওয়ার পর থেকে নিজের ভাগের'টা রেখে দেয় ছোট ভাইটার জন্য 

রেখে দেয় আদরের ছোট বোনটার জন্য

ওরা খেলেই যেন তার খাওয়া হয়, এক পার্থিব আনন্দ লাভ করে

এভাবে না খেতে খেতে একসময় ভালো খাওয়ার অভ্যাসটাই চলে যায় মন থেকে;


তারপর বয়স বাড়ার সাথে সাথে সংসারের টুকটাক দায়িত্ব 

বাবার আর্থিক অবস্থাটা এ বুঝে যায় সবার আগে 

নিজের পড়ালেখাটা নিজেই চালানোর চেষ্টা টিউশনি কিংবা টুকটাক কাজে

সাথে ছোট ভাইবোনগুলোর জন্য কিছু একটা করার চেষ্টা, এভাবেই দিন চলে; 


পালা পার্বণে ভালো কাপড়টা! এ বছর ছোট ভাইটা নেক! ও বছর ছোট বোনটা

বাবা বলেন, তুই কাপড় পড়বি না? সে হেসে বলে, ওরা পড়লেই আমার পড়া 

ভালো খাবারটা! আগে বাবা খেয়ে নেক, তারপর ভাই বোনগুলো, বাকি থাকলে মা

মা বলেন, তুই খাবি না? আরে মা! ওরা খেলেই আমার খাওয়া;


দিন যায়, মাস গড়ায়, বছর পার হয়ে যুগ চলে যায়

একসময় বাবাও চলে যান, তারপর পৈতৃক কিছু সম্পত্তি; ভাগ বাটোয়ারা 

ভাই বোনরা ভালোটা, বাকি যেটা থাকে সেটা রইলো তার! 

ভাগ বাটোয়ারায় মা'টা যে রয়ে গেলো? ভাইবোনরা মিলে ওটা বড়জনকে উপহার দিলো; 


যাক, ওরা সন্তুষ্ট সে এতেই খুশি; মা'কে নিয়ে এবার আলাদা সংসার 

নিজেরও তো সংসার আছে! স্ত্রী আছে সন্তান আছে! সাথে নতুন অতিথি 'মা' 

শাশুড়ি বৌ এর কবে হয়েছিলো বনিবনা? সংসারে হাঁড়িকুঁড়ি বাজে    

কাজে দেয় সংযত হয়ে থাকতে থাকতে চুপ থাকার অভ্যাসটা; 


চাকরির টাকায় সংসার, কিছু টানাটানি তো লেগেই থাকে! আরে! অভ্যাস তো আছেই!  

এখন ভালো খাবারটা আগে মায়ের জন্য, তারপর সন্তানদের জন্য, তারপর স্ত্রী 

ওরা খায়, সে তৃপ্তি নিয়ে দেখে; ভালো খাবারের অভ্যাসটা তার সেই কবেই চলে গেছে!

কাপড় চোপড়! আগে মা, তারপর সন্তান, তারপর স্ত্রী; পুরনোটা তার আরও বেশ কিছুদিন চলবে; 


সংসারে কাউকে না কাউকে সংযত হতে হয়, কাউকে না কাউকে ত্যাগ করতে হয়

বড় সন্তান বাবা মায়ের অনেক আদরের ধন, তার কাছে বাবা-মায়ের আশা সবচেয়ে বেশি

তার কাছে তার সন্তানদের আশা সবচেয়ে বেশি, তার স্ত্রীর আশা সবচেয়ে বেশি 

শুধু তাকেই কোনও আশা করতে হয় না, ওদের হাসিমুখ দেখলেই এর মুখে হাসি।


    

২১ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


বড় সন্তান 

 - যাযাবর জীবন 








   

সম্পত্তির নেশায়

উপার্জন তো করছি আমরা সবাই! 

বেঁচে থাকার জন্য, একটু ভালো থাকার জন্য

যত না নিজেদের জন্য তারচেয়ে বেশি সন্তানদের জন্য

তাই না? 


আমার সেই ছাত্রজীবন থেকে শুরু 

তারপর চাকরি

তারপর ব্যবসা

তিলে তিলে সঞ্চয়

মাটির ব্যাঙ্ক থেকে বেসরকারি ব্যাঙ্কে একটা একাউন্ট

ওখানে থোক কিছু সঞ্চয়, দুর্দিনের জন্য  

তিলে তিলে গড়া অল্প কিছু সহায় সম্পত্তি 

মাথা গুঁজার ঠাই, একটা বাড়ি 

যাতায়াতের জন্য একটা গাড়ি,

ভালো ভাবে বেঁচে থাকার জন্য অনেক হয়েছে না?

আমার তো হয়েছে;


অনেকের দেখি হয় না,

টাকা টাকা করতে করতে টাকা বেশুমার 

এখানে ওখানে সেখানে সম্পত্তির পাহাড় 

গ্যারেজে নামি দামি ব্র্যান্ডের গাড়ির সমাহার 

তবুও কি মন ভরে?

ধ্যাত! পাঁচ দশটা ফ্ল্যাটে কি হয়? কিংবা দু চারটা বাড়িতে!

আরে! নিজ নামে কমার্শিয়াল একটা টাওয়ার করতে না পারলে মন শান্ত হয়?

তারপর আরেকটা, আরেকটা

আচ্ছা! একটা শপিং কমপ্লেক্স করা উচিৎ না? 

দেশে অনেক হয়েছে! এবার কিছু বাড়ি কেনা যাক অন্যান্য দেশে

শুনেছি মালয়েশিয়ায় নাকি বাড়ি খুব সস্তা

আরে আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়া তো ব্যবসায়ীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে

ওখানে কিছু টাকা ছড়িয়ে না আসলে কেমন হয়! 

টাকাগুলো এ ব্যাঙ্ক ও ব্যাঙ্কে বড্ড ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে

নিজের একটা ব্যাঙ্ক না হলেই নয়! 

মার্সিডিজ তো সবার কাছেই থাকে! এবার একটা বুগাটি কিংবা রোলস রয়েস!

আজকাল বড্ড বেশি বিদেশে যাওয়া হচ্ছে, 

একটা প্রাইভেট জেট হলে খারাপ হয় না;


চাহিদা হাঁটি হাঁটি পা পা করতে করতে দৌড়োতে শুরু করেছিলো সেই কবেই

তারপর পাহাড় পর্বত ডিঙিয়ে এভারেস্ট ছুঁয়েছিল 

আজকাল আকাশে উড়তে উড়তে প্রায় ঐ চাঁদ ছুঁয়ে ফেলেছে, 

মন ভরছে কি?


আচ্ছা! একবার একটু অন্যরকম চিন্তা করে দেখি তো! 

প্রথম যে বন্ধুটা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলো! সে সেই ছাত্র জীবনে

তার পরের জন, যখন চাকরি শুরু করেছিলাম 

তারপর একজন দুজন করে ওদের সংখ্যাটা কমতে শুরু করেছে

আজকাল কিন্তু খুব কাছের বন্ধুগুলো কড়ায় গুনতে পারি

এরপর যে কোন সময় আমি, যে কোন সময় তুমি, যে কোন সময় সে;


 - যে ছাত্রজীবনে চলে গিয়েছিলো 

তার পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছিলো ভাইবোনদের মধ্যে,

ভাইদের সময় কোথায় তার কথা ভাবার?  


 - যে চাকরি করতে করতে চলে গিয়েছিলো

তারও কোন সন্তান ছিলো না, বৌটা আরেকটা বিয়ে করে এখন সংসার করছে

পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করছে ভাই বোনরা, ওকে স্মরণ করে কে? 


 - তারপর যারা সন্তান সন্ততি রেখে চলে গিয়েছে, তাদের মধ্যে 

যাদের অল্প ব্যাঙ্ক ব্যাল্যান্স যা ছিলো, সন্তানদের পড়ালেখাতেই শেষ 

যারা কিছু সহায় সম্পত্তি রেখে গিয়েছিলো, সন্তানদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি ঝগড়া 

যাদের সম্পত্তির পরিমাণ যত বেশি ছিলো, তাদের সন্তানদের মধ্যে ঝগড়া তত বেশি, 


ঐ যে বাবা'টা তিল তিল করে যে সঞ্চয় রেখে গিয়েছিলো! তাকে স্মরণ করার সময় কোথায়?

বরং মাঝে মধ্যেই গালাগালির পাহাড়, কেন আরেকটু বেশি রেখে যায় নি এই বলে,  

প্রথম প্রথম মৃত্যু দিবসে হুজুর ডাকিয়ে দোয়ার আয়োজন করতো!

তারপর সময়ের সাথে মৃত্যু দিবসটাই ফিকে হতে হতে কেউ কেউ হয়তো ভুলেই গেছে;

 

বাবার'ই যখন এই অবস্থা! তখন দাদা, পর-দাদাদের অবস্থান কোথায়?

অথচ বাবা'টা ঐ মাটির ঘরটায় শুয়ে সন্তানের দিকে চেয়ে থাকে একটু দোয়ার আশায়

তার এত এত সহায় সম্পত্তি কাজে লাগে কোথায়?

না এ জীবনে সে ভোগ করে যেতে পারলো!

না ও জীবনে সম্পদের পাহাড় তার কোন কাজে লাগলো! 


অথচ আমরা পাগলের মত ছুটছি সম্পত্তির পাহাড় গড়ার নেশায়। 

একটু চিন্তা করার সময় কি এখনো হয় নি আমাদের? 



২১ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


সম্পত্তির নেশায়

 - যাযাবর জীবন 




পোড়া গন্ধ

গন্ধ পাচ্ছ তোমরা? 

পোড়া গন্ধ, 

কি জানি একটা পুড়ছে! 


রাবার পোড়া গন্ধ কি? 

ইলেকট্রিসিটির তারে আগুন লাগলো নাকি?  

ইলেকট্রিক বিলে তো আগুন লেগেই আছে;  


টায়ার পোড়াচ্ছে না তো কেও?

বোকার মত কথা বলো না তো! 

আজকাল হরতাল কোথায়?


গ্যাস পুড়ছে না তো কোথায়?

তিতাসের সাপ্লাই তো বন্ধ হয়ে গেছে  

কে আর শখ করে সিলিন্ডারে কাপড় শুকায়? 


মন পুড়ছে না তো কারো?

আজকাল কি আর মন পোড়ে?

প্রেমের সংজ্ঞাই তো পালটে গেছে; 


মনে হয় ফেসবুক পুড়ছে

আজকাল রাত হলেই আগুন লাগে ইনবক্সে

কথার ঘষাঘষিতে শরীরে আগুন লাগতে কতক্ষণ? 


রাত গভীর হলেই অলিতে গলিতে গাড়ি

নিশিকন্যাদের পশরা, দরদামে বনলে 

গাড়ির ভেতরেই শরীর পোড়া গন্ধ;


ক্লাবগুলো পুড়ছে নরনারীর গরমে 

গলা পুড়ছে রঙিন পানি ধ্বকে,  

মাঝে মধ্যে খবর পোড়া গন্ধ; 


পরকীয়া তো আগুন জ্বালায়ই  

সংসার পুড়ছে হরহামেশায় 

দাম্পত্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়; 


কথার গরম শাশুড়ির

কথায় গরম বৌ 

সম্পর্ক পুড়ে হরহামেশায়; 


বাড়িতে বাড়িতে স্বার্থের আগুন 

আগুন লেগে থাকে সম্পর্কে 

বাবা-ছেলে, ভাই-ভাই; কি আসে যায়? 


ঈর্ষা পুড়ছে কোথাও, কেউ পুড়ছে ঈর্ষায়  

কোথাও পুড়ে অভিমান, কেউ পুড়ে অভিমানে  

আমরা মানুষের পেছনের গন্ধ শুঁকি;   


কেউ শরীর পুড়িয়ে ক্ষুধা মেটায় 

কেউ টাকা পুড়িয়ে শরীর মেটায় 

আমরা গল্পের গন্ধ পাই;  


হরহামেশাই আগুন লাগে কোথাও না কোথাও  

হরহামেশাই কিছু না কিছু পুড়ে

বস্তু কিংবা মানুষ, শরীর অথবা মন;

  

আজকাল পোড়া গন্ধগুলো বড্ড তীব্র লাগে 

কাম, শরীর, স্বার্থ, সম্পর্ক  

অনেক আগেই পুড়িয়ে ফেলেছি মনুষ্যত্ব। 


১৭ আগস্ট, ২০২১


#কবিতা 


পোড়া গন্ধ

 - যাযাবর জীবন