মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নীল চাঁদ

কাল চাঁদ দেখেছি নদীতে সারা রাতভর 

আর তোকে ভেবে মন জ্যোৎস্নার ঘর 

আজ সারা দিনভর সূর্যটা পুড়িয়েছে বেশ

যদিও মনে ছিলো কাল রাতের কিছু রেশ;


দিনে প্রখর সূর্য আর আকাশের নীল রঙ 

রাত নামতেই তুই নামলেই মন অন্যরকম 

রাতে চাঁদ, রাতে তারা, পুরো আকাশটা ভরা 

শুধু মনটা জানি কেমন কেমন তুই ছাড়া; 


মাঝে মাঝে দিনের বেলাতেও তোকে মন চায়   

একদিন না হয় দুপুর স্বপ্নে তো তুই চলে আয়!  

মন পুকুরে তুই নামলেই মন শ্যাওলা সবুজ  

এই দেখ! তোর কথা ভাবতেই মন অবুঝ; 


স্বপ্নে স্বপ্নে তুই আর আমি স্বপ্নের কথা কই! 

হয়তো কখনো চোখ খুলতেই দেখব সামনে তুই

সেদিন খুব জ্যোৎস্না হবে আর আকাশে নীল চাঁদ

আর আয় আয় ডাকবে তোর ভালোবাসার ফাঁদ।


 

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


নীল চাঁদ 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ মোবাইল ক্লিক। 





একা একা মন

নদীতে রাত, নদীরও রাত

তবুও কুলকুল ঢেউ চলছে

অথচ রাতটা ঠিক ঘুমিয়েছে, 

ঘুম নেই নদীর, ঘুম নেই ঢেউয়ের 

ক্রমাগত পাড়ে ভাঙছে ঢেউ

নদীর পাড় আছে, পাড়ে কোথাও নেই কেউ; 


আকাশে রাত, আকাশেরও রাত

ঘুমঘুম ঘুমে রাত ঘুমিয়েছে 

বেহায়া চোখে জেগে আছে অন্ধকার 

আর সাথে জেগে আছে চাঁদ, 

জেগে আছে সুনসান নিস্তব্ধতা 

আর মনে শূন্যতার ফাঁদ; 


আড়মোড়া ভাঙছিল মেঘ 

ইতিউতি জ্যোৎস্নার ভাঁজে  

মোড়াচ্ছিলো মন মরমর 

অসময়ে তোর উঁকি মনের খাঁজে, 

আমি চাঁদ দেখি, চাঁদে তোর মুখ 

চাঁদের উঁকিতেই মনে মনসুখ; 


একা একা রাত, একা একা চাঁদ

একা জ্যোৎস্নার সুখ 

একা নদী, একা ঢেউ 

আর পাড়ে আছড়ে পড়া দুখ,

খোলা চোখে জ্যোৎস্না, খোলা চোখে নদী

আর চোখ বন্ধ করলেই তোর মুখ। 


২১ সেপ্টেম্বর,  ২০২১


#কবিতা 


একা একা মন 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ মোবাইল ক্লিক। 




মনে আয়

হঠাৎ করেই চোখ মেলে, চারিদিকে ঘন বন  

আর চোখে সবুজ দেখে দেখে, সবুজ সবুজ মন 

বনে ঝরে পড়া পাতা, আর গুল্মলতা

কাকে জানি মনে হতেই, মনে মনে কথা 

নাম না জানা কিছু গাছ, অচেনা কিছু ফুল 

তোকে কি মনে পড়ছে? নাকি মনের ভুল? 


জালের মত খাল আর কিছু নদী 

ঢেউ এর পর ঢেউ, বয়ে চলে নিরবধি 

জোয়ার আর ভাটা, ঢেউ কুলকুল 

মন কেমন কেমন, তোতে মশগুল; 


তুই কে? 

বনে বন্য

ফুল, লতাগুল্ম 

জলে বয়ে চলা 

মনে কথা বলা,

আচ্ছা! তুই কি নারী? 

ভালোবাসায় আমি বড্ড আনাড়ি; 


ঐ চেয়ে দেখ! 

এত্ত বড় এক চাঁদ উঠেছে, 

আকাশে জ্যোৎস্নার গান 

বনে বন্য ঘ্রাণ 

বড্ড মন কেমন করছে! তুই কোথায়?  

মনে মন চাইছে, একবার মনে আয়।


২০সেপ্টেম্বর,  ২০২১


#কবিতা 


মনে আয় 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ মোবাইল ক্লিক। 




কিছু ছাড় দেয়া, কিছু মানিয়ে নেয়া

এই যে চেনা নেই,  জানা নেই 

আগে কখনো দেখাও হয় নি 

পরের বাড়ির একটা মেয়ে হুট করে জীবনে চলে এলো,   

তারপর আমার ঘরটাকেই নিজের ঘর বানিয়ে, জীবন হয়ে গেলো!  

ব্যাপারটা ঠিক কেমন জানি, একদম অন্যরকম না? 

আমার তো মাঝে মাঝে অদ্ভুত লাগে,

তোমাদের কারো লাগে কি? 


কেউ কেউ প্রেম করে বিয়ে করে 

কেউ বিয়ে করে প্রেম করে 

কারো কারো আবার বিয়ের পরেও প্রেম হয় না 

তবুও ঠিকই সংসার কররে যাচ্ছে,  

এরা কি প্রেম বোঝে না? 

নাকি দাম্পত্যে বনিবনা হয় না? 

আচ্ছা! ভালোবাসা না থাকলে দুটি মানুষ একসাথে সংসার করে কেন? 

আমার ঠিক বোধগম্য হয় না; 


তবে কেউ কেউ সাহসী হয়

বনিবনা না হলে ক্রমাগত চেষ্টা করে যায় 

তারপরও না পারলে তখন খুব ভদ্রভাবে আলোচনা করে দুজন আলাদা হয়ে যায়,

এটাই হওয়া উচিৎ 

তবুও সব ক্ষেত্রে এটা হয় না 

পুরুষ শাসিত সমাজে, পুরুষদের মেনে নিতে কষ্ট হয়

তাদের অহং বোধে আঘাত লাগে 

খুব সহজে তারা ছেড়ে দিতে চায় না 

অত্যাচারের নিত্য চিত্র আমরা খবরের কাগজে পড়ি; 


এর আবার ব্যতিক্রমও আছে 

কিছু স্ত্রী আছে তারাও খুব সহজে ছাড় দেয় না

খোরপোষ, ভরণপোষণ এগুলোর জন্য অনেক খারাপ কিছু করে ফেলতেও দ্বিধা-বোধ করে না

এমনকি আজকাল তো মেয়েদের পক্ষে কিছু আইন হওয়াতে ও শ্রেণীটার বেশ সুবিধাই হয়েছে 

অনেক স্বামীকে বিনা অপরাধে যে জেলের ভাতের স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছে 

এগুলোও খবর হয়েছে, 

জোরাজুরিতে কি আর সংসার হয়? 

ওটা তো দুটো মনের মিলন 

তাই না? 


কোন কোন দাম্পত্য প্রেমের কলকল 

কোন কোন দাম্পত্য কলহের কোলাহল 

কিছু ছাড় দেয়া, কিছু মানিয়ে নেয়া

এটাই দাম্পত্য, 

আর নয়তো ছাড়াছাড়ি তো আকছারই হচ্ছে।


০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


কিছু ছাড় দেয়া, কিছু মানিয়ে নেয়া

 - যাযাবর জীবন 



পক্ষপাতিত্ব

ভাই-ভাই সম্পর্ক কিংবা ভাই-বোন সম্পর্ক, বাবা-মায়ের জন্য 

একই বাবার ঔরসে, একই মায়ের পেট থেকে জন্ম 

রক্তের একটা টান তো থাকবেই! এটাই শাশ্বত, এটাই সত্য

বাবা-মা আর ভাই-বোনের মাঝে পারস্পরিক টান, সংসারের মাধুর্য;  


ভাই-বোনদের মধ্যে সম্পর্ক সাধারণত মধুরই হয়, যদি স্বার্থ না আসে

যদি জীবনের কোন মোড়ে স্বার্থ এসে সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায়ই    

বেশিরভাগ বাবা-মাই ভাই সে ফাটলগুলো বন্ধ করতে সচেষ্ট থাকেন

স্বার্থের মূলে মলম লাগিয়ে সম্পর্কগুলো মধুর করার চেষ্টায় রত থাকেন; 


আমরা সাধারণত দেখি সন্তানরাই বড় হয়ে বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে থাকে

সে ঘরে বৌ এনেই হোক! কিংবা অর্থাভাব অথবা অন্য কোন কারণ  

যদিও এটা কোনভাবেই উচিৎ না তবুও দেখছি, নয় এটা চোখের ভ্রম 

চারিদিকে দেখতে দেখতে আজকাল আমাদের চোখে সয়ে গেছে বৃদ্ধাশ্রম; 

  

তবে অল্প কিছু এমন বাবা-মাও থাকেন, যারা পক্ষপাতিত্ব করেন  

সন্তানে সন্তানে পক্ষপাতিত্ব করতে গিয়ে রক্তের সম্পর্কটাই নষ্ট করে দেন

অথচ এই একটা জায়গায় সন্তানের ভরসা থাকে সবচেয়ে বেশি, তাই না? 

সন্তানের মন কখন ভেঙে যায় জানেন? বাবা-মায়ের পক্ষপাতিত্বে; তাই না?


০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


পক্ষপাতিত্ব

 - যাযাবর জীবন 


সম্পর্কের টান

টাকা পয়সা, সম্পত্তি এগুলো বস্তুগত

তবে সম্পর্ক'কে করে ফেলে যখন তখন ক্ষত 

স্বার্থ নামক অদৃশ্য এক ভাইরাস আছে  

সম্পর্ক থেকে সম্পর্ক'কে আলাদা করতে জুড়ি নেই এর মত;


আচ্ছা, সম্পর্ক কি? 

কিছু রক্তের টান 

কিছু কাগজে কলমের সাইন 

আর কিছু অনুভব অনুভূতি; 


ওটা ভাঙে কিভাবে?

সম্পর্কে অর্থ এলে 

সম্পর্কের মাঝে স্বার্থ এলে 

কিংবা খলের কানকথায় কান দিলে; 


স্বার্থ নামক ভাইরাসটা কখনো কখনো 

সম্পর্কের ভেতরে বসবাসরত মানুষগুলোর মনুষ্যত্বটাই মেরে ফেলে,

মনুষ্যত্ব মরে গেলে মানুষ আর মানুষ থাকে কই? 

মানুষ যদি মানুষই না থাকে ওখানে সম্পর্ক থাকবে কি করে?  


আমি বহু সম্পর্ক হারিয়েছি, স্বার্থ ভাইরাসের কারণে 

তবুও মাঝে মাঝেই কোথায় যেন কিসের এক টান আমাকে কাঁদায়  

ওগুলো রক্তের টান কি? নাকি অনুভূতির? নাকি মৃত সম্পর্কের? 

একলা হলেই কেমন জানি লোনা লাগে চোখ; তোমরা কেউ কাঁদো কি?


০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


সম্পর্কের টান 

 - যাযাবর জীবন 



এক সেকেন্ড ব্যবধান

এক সেকেন্ড ব্যবধানে কত কিছুই না হয়ে যায়!


ঐ যে বিছানায় পড়ে আছে একটা নিথর দেহ, যেন জীবিত লাশ   

অথচ সেদিন কি সুন্দর সময়ই না কাটাচ্ছিল পরিবারের সবার সাথে! 

হাসি আনন্দে গল্প করতে করতে খাচ্ছিলো খাবার টেবিলে বসে 

হঠাৎ করেই জানি কি হলো

সেকেন্ডের ব্যবধানে মাটিতে পড়ে গেলো,

দৌড়োদৌড়ি, এম্বুলেন্স, হাসপাতাল 

হাসপাতালের বিশাল এক বিল মিটিয়ে বাসায় নিয়ে এলো 

একটা জীবিত লাশ,

সব কথা শোনে, সব বুঝে, অনুভূতিগুলোও যেন আগের থেকে তীক্ষ্ণ  

শুধু নড়তে পারে না, বলতে পারে না

নিথর বিছানায় পড়ে থাকে,

খাবার টেবিলে পড়ে যাওয়ার এক সেকেন্ড আগে কেউ ভেবেছিলো? 


এক সেকেন্ডের ছোট্ট একটা ভুল বোঝাবুঝি, একটু কথা কাটাকাটি

একটা দাম্পত্য হয়ে যেতে পারে মাটি, 

ঐ যে দম্পতিটা দেখছ!

সুখী দম্পতি বলে এক সময় সবাই খুব প্রশংসা করতো 

সবার সাথে হাসতো, গাইতো, গল্পে আনন্দে মেতে থাকতো

হঠাৎ করেই কোন একদিন কোন এক মুহূর্তে কি নিয়ে জানি বিবাদ হলো

বিবাদটা চারা থেকে মহীরুহ হলো 

তারপর বিচ্ছেদে গড়ালো,

এক সেকেন্ডের সেই কথা কাটাকাটির আগে 

এরা দুজনের কেউ ভেবেছিলো?   


এক সেকেন্ডের ব্যবধানে চলে যেতে পারে প্রাণ, 

মনে কর পরিবারের সবাই মিলে ছুটিতে গেলে 

গাড়িতে সবাই মিলে হাসি আনন্দে গল্পে মেতে ছিলে

হঠাৎ করেই ওপাশ থেকে একটা বাস কিংবা ট্রাক

বিশাল একটা শব্দ ধারাম,

লোকজনের চিৎকার, চেঁচামেচি, এম্বুলেন্স, হসপিটাল

ওখানে পরিবারের কারো হয়তো হাত কাটা পড়লো

কিংবা কারো হয়তো পা, অথবা অন্য কোন অঙ্গ

তবুও তো বেঁচে আছে! 

আর পরিবারের ঐ যে সদা হাস্যোজ্জল ছেলেটা!

মাত্র কলেজ পাশ করে বের হয়েছিলো

হসপিটালে নিতে নিতে নিথর হয়ে গেলো

বেড়াতে যাবার আগে কেউ ভেবেছিলো?  


এক সেকেন্ডের ব্যবধানে কত কিছুই না ঘটে যায়, 

অসুখ বিসুখে কেউ কেউ হয়তো বিছানায় পড়ে রয় 

কথায় কথায় কথা কাটাকাটিতে হয়তো সম্পর্ক হারায় 

কিংবা কোন এক্সিডেন্টে শরীরের কোন অঙ্গ হারায়

এমন কি এক সেকেন্ড ব্যবধানে বলা নেই কওয়া নেই 

একটা সুস্থ সবল মানুষ লাশ বনে যায়। 


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


এক সেকেন্ড ব্যবধান

 - যাযাবর জীবন