শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১

অনুজ আর অগ্রজ

ছোট একটা চারাগাছ ছিল 

পাশাপাশি অনেকগুলো

একটা ক্ষেত,  

সবুজ সবুজ ঝাল ঝাল মরিচ

সবুজ মরিচটা এক সময় স্বপ্ন দেখতো ঐ দূরে দালানে উঠবে

তার খুব জানতে ইচ্ছে করতো দালানগুলোতে কি থাকে 

কখনো যাওয়ার সুযোগ হয় নি,  

একসময় সবুজ মরিচের গায়ে বয়সের দাগ লাগলো 

সবুজে লাল ধরলো 

তারপর কোত্থেকে এক মেশিন এসে ওদের পিষে ফেললো,

একদম গুড়ো গুড়ো; 


মরিচ ক্ষেতটার ঠিক পাশের ক্ষেতে কিছু হলুদ গাছ ছিলো

তার অন্যপাশে ধনে ক্ষেত  

বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো তাদের সাথে 

সবাই মিলে ওরা বাতাসে দুলতো একসাথে 

কখনো বৃষ্টিতে ভিজতো 

কখনো পুড়তো রোদে,  

একটা সময় হলুদ গাছের মূলগুলো শুকিয়ে এলো

তারপর মেশিন গুড়ো,  

একসময় পাকা ধনে রোদে শুকিয়ে গেলো

তারপর মেশিন গুড়ো; 


একটা সময় মরিচের খুব মন খারাপ হতো

একটা সময় হলুদের 

কোন একটা সময় ধনের,.

আজ খুব হঠাৎই তাদের দেখা হয়ে গেলো 

বিশাল এক দালানে, ঐ যেখানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতো কোন এক কালে

দালানের ভেতর ছোট এক রান্নাঘর 

রান্নাঘরে ছোট্ট এক হাঁড়ি  

সেখানেই দেখা হয়ে গেলো সবার সাথে খুব হঠাৎই 

এতদিন পর দেখা হতেই পরস্পরে জড়িয়ে ধরলো তারা 

তারপর ঝোলে আলুতে মিশে সে কি মাখামাখি! 

হঠাৎ করেই উনুন থেকে নামার আগে হাঁড়ির ভেতর  দুটো সবুজ কাচা মরিচ,  

হুট করে অগ্রজকে দেখে আনন্দে কেঁদে ফেললো ওরা; 


মাঝে মধ্যে দেখা হয়েই যায়! কোথাও না কোথাও

অনুজ আর অগ্রজের।


৩১ ডিসেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


অনুজ আর অগ্রজ

 - যাযাবর জীবন 

বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

চাহিদার রকমফের

এক একজনের চাহিদা এক একরকম

এক একজনের চাহিদার প্রায়োরিটি এক একরকম 

এক একজনের কাছে এক একসময় প্রায়োরিটি বদলায়

এক একজনের কাছে জীবনের মানে এক একরকম;


এই ধর যেমন একজন ধূমপায়ী

ঐ যাকে তোমরা বল চেন স্মোকার 

তার ধ্যান ধারণায় সিগারেটের একটি টান, 

আবার ধর যে মদ্যপায়ী 

যার প্রতিদিন না খেলে চলেই না 

তার চাহিদা এক ঢোক হলেও মদ্য পান,

আর ঐ যে প্রতিদিন নতুন শরীর না হলে যার চলে না

যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায়, বেশ্যা-পাড়ায়

তার কাছে নারীই পণ্য, মেটাতে কাম

অথবা অন্যকোন দলের চাহিদা অন্যকিছু;


আর সংসারের ঘানি কাঁধে ন্যুব্জ কুঁজো ঐ লোকটা! 

যার নুন আনতে পান্তা ফুঁড়োয়?

সে বোঝে ভাতের কত দাম,   

যে ছবি আঁকে! 

নেশার ঘোরে কিংবা পেট পালতে 

তার কাছে ক্যানভাসে রংতুলির একটা টান,

ঐ যে ফটোগ্রাফারটা দেখছ!

ক্লিক ক্লিক ছবি তোলে! ওটাতেও তার পেট চলে 

সেই শুধু জানে সঠিক সময়ে একটা সঠিক ক্লিকের কি দাম! 

কিংবা নানা পেশার লোকের নানারকম অবস্থান; 


যদি সংসারের কথা চিন্তা করি!

বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান 

সবাই মিলেমিশে এক বাড়িতে অবস্থান,

সব সময় কি তা আর ঘটে?

শাশুড়ি বৌ এর ঝগড়াটাও তো চিন্তা করতে হয় বটে

তারপর এক একজনের আলাদা আলাদা বাসস্থান,  

স্বামী-স্ত্রী, আজকাল একেক সংসারে এক একরকম দেখি 

রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় দুজন হাতে হাত একটু জড়াজড়ি 

সুখী দাম্পত্যে আজকাল এটার অনেক বড় একটা অবদান,

বিভিন্ন সংসারে বিভিন্ন রকমও ঘটে;  


এই যে আমাদের চারিপাশে নানা রকম মানুষজন! 

এদের এক একজনের সুখে বা দুঃখের এক এক কারণ,  

এদের প্রত্যেকের চাহিদা প্রত্যেকের থেকে ভিন্ন 

একজনের অবস্থান আরেকজন থেকে অন্য 

কেউ চাকুরীজীবী কেউ ব্যবসায়ী কেউ নিজেকেই করে পণ্য  

বেশীরভাগই অসুখী, আর অল্প কেউ নিজ অবস্থানেই ধন্য;  


আমরা একজনের চাহিদা অন্যজন বুঝি না 

একে অন্যকে না বুঝেই অকারণ করে যাই সমালোচনা। 

  


২৭ ডিসেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


চাহিদার রকমফের 

 - যাযাবর জীবন 


মানুষ পোকা

কোথাও আলো জ্বললেই আলো পোকাদের ভিড়

অন্ধকারের পোকারাও ছুটে আসে অন্ধকারে,  


আলো কিংবা অন্ধকার, যে কোন পোকারাই শরীর হলেই বসতে চায়  

এরা শরীরে বসতে চায় প্রেমের ছলে, কামের ছলে 

বেশীরভাগ শরীরে বসতেই পারে না 

অনেকগুলো ইতিউতি শরীর ঘাটে তারপর নিজেই উড়ে যায়

অল্প কিছু নিজের অপুষ্ট শরীর নিয়ে শরীরেই মরে যায়   

আর অল্প কিছু পোকা শরীরের বদলে লেগে থাকে মন আঠায়; 


এরা প্রেম করে, এরা প্রেমে পড়ে 

তারপর যতদিন শরীর ততদিনই শরীরে লেগে থাকার চেষ্টা,  

এদের মাঝেও কিছু পোকা উড়ে যায় মধুর মিষ্টতা শেষে 

কিছু পোকা নেমে যায় শরীরের ভাঁটায়  

আর কিছু কিছু অন্য কোন কারণে  

অল্প কিছু পোকা মরা নদীতেও সাঁতরায়, শরীর জড়িয়ে;


উড়ে যাওয়া, ভেসে যাওয়া, নেমে যাওয়া পোকাদের কথা কে আর মনে রাখে?  

দাম্পত্যের শেষ গোধূলিতে পরস্পর জড়িয়ে থাকা পোকাগুলোকেই লোকে মানুষ বলে।

 

২৬ ডিসেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


মানুষ পোকা 

- যাযাবর জীবন 


আলোতে অন্ধকারে

ঘুটঘুটে অন্ধকার

কামাতুর রাত 

দুটি শরীর বিছানায় কাত 

হাতে হাত স্পর্শ থেকে শরীরে শরীর

ঠোঁটে ঠোঁট চুমুর চিৎকার 

শরীরে শরীর কাম শীৎকার 

বাতি নেভানো ঘর, ঘন অন্ধকার

ওখানে স্বামী স্ত্রী অথবা নর ও নারী,  

নরের কল্পনায় বিছানায় অপ্সরা মেনকা সুন্দরী   

নারীর কল্পনায় সুঠাম সুদর্শন নায়ক এক ভারী  

অন্ধকারে শরীরে শরীর, কল্পনায় নর ও নারী 

কল্পনায় নায়ক ও নায়িকার কাম, বাস্তবে বিছানায় ঘাম  

রতি শেষে ক্লান্ত দেহ বিছানায় কাত 

খাটের দুপ্রান্ত থেকে হাতের ওপর হাত; 


খুট করে বেড সুইচটা জ্বলে উঠতেই কল্পনার অবসান

কোথায় নায়ক? 

কোথায় নায়িকা? 

এক কাতে ঘর্মাক্ত শুয়ে ভুঁড়িওয়ালা সেই পুরনো চেহারা      

আরেক কাতে আটপৌরে ঢলা যৌবনা 

যারা চোখের সামনে থাকে সারা দিনমান,  

বেশ তো ছিলো অন্ধকারে কামঘন কল্পনার বাসর

আলোতে আয়না, আলোতে কঠোর বাস্তবতার আসর;


অন্ধকারে কল্পনার বাসরে মনের ঘরে কত চেহারাই না খেলা করে! 

ধাক্কা খেতে হয় খুট করে আলো জ্বাললে। 


  

২৩ ডিসেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


আলোতে অন্ধকারে 

 - যাযাবর জীবন 


     


সম্বোধন

সম্বোধন'টা কি খুব জরুরী?

একটা আছে রক্তের সম্পর্ক, ওখানে নানা রকম সম্বোধন

আরেকটা পাড়াতো, মুখ চেনা; সেখানেও সম্বোধন

আর আজকাল সম্পর্কের নতুন মাধ্যম হলেও 

আমাদের সবচেয়ে বেশি দেখাশোনা হয় ভার্চুয়ালে 

এটাও পরিচিতির একটা নিমিত্ত, এখানেও কিছু কিছু সম্বোধন;


এখানকার সম্বোধনগুলো কেন জানি না বেশীরভাগই লোক দেখানো

কিছু কিছু তো রীতিমত তৈলমর্দন

তৈলমর্দন অবশ্য আমাদের অনেকটা মজ্জাগত

তবুও যখন ভার্চুয়ালে পরিচিত, অপরিচিত, আধা-পরিচিত

শুধুমাত্র কে কোন কর্পোরেটের কত বড় মাথা

কে কোন ব্যবসায় আছে!

কার অর্থনৈতিক স্ট্যাটাস ভার্চুয়াল ফুটে কতটা বিচ্ছুরিত হচ্ছে

সেটা অনুধাবন করে যখন সম্বোধন নির্ধারণ হয়

তখন, ঠিক তখনই কেন জানি আমার কাছে বিসদৃশ মনে হয়;


ভার্চুয়ালে কারো সম্বোধন ভাই কিংবা বোন

কারো দিদি কিংবা দাদা 

কেউ তো স্যার ছাড়া কথাই বলে না

আর ঘানি ভাঙা খাঁটি তেলের মালিশ;


দাদা-দিদি, ভাই-বোন একটা সম্পর্ক 

ওটা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট 

ভার্চুয়ালে আমাদের কিছু স্বার্থ নিশ্চয়ই থাকতেই পারে,

চট করে বন্ধু সম্বোধন'টা আসলে একদমই মৌখিক 

বন্ধু আমার কাছে অনেক বড় সম্পর্ক

যাকে সব বলা যায়, যে চুপ করে পাশে বসে থেকেও সব দুঃখ বুঝে যায়

তা না হলে আর বন্ধু কোথায়?

ভার্চুয়ালে আছে নাকি এমন বন্ধু?

তবে আর সম্বোধনে কি আসে যায়? 


ভার্চুয়ালে সাধারণত আমি সম্বোধনটা উহ্যই রাখি 

দেখাই যাক না সম্পর্ক কোথায় নিয়ে যায় আমাদের!

প্রতিদিনই তো কত কত সম্পর্ক বদলায়, কারণে আর অকারণে

কে বলেছে সম্বোধন করতেই হবে সম্বোধনের নিয়মে? 


থাকুক না সম্বোধনহীন কিছু সম্পর্ক! 



২৩ ডিসেম্বর, ২০২১


#কবিতা


সম্বোধন

 - যাযাবর জীবন 

জীবনের স্তরগুলো

মানুষের একটাই জীবন তবে জীবনের অনেকগুলো স্তর 

শিশু থেকে কৈশোর, যৌবন হয়ে প্রৌঢ়ত্ব, বৃদ্ধ তারপর  

একটা পার হতে না হতেই আরেকটা, মৃত্যুতে সমাপ্তি 

সম্পর্ক, অর্থ, স্বার্থ, দ্বন্দ্ব জীবনের প্রতিটা স্তরের প্রাপ্তি;     


জীবনের স্তরগুলো অদ্ভুত, একই মানুষ, কত তার রূপ! 

শিশুকাল মায়ের কোলে, চেনা শুরু হয় পৃথিবীর রঙ রূপ, 

বাবা আরেকটু পরে, তারপর ভাই বোন আর আত্মীয়-স্বজন

জীবনের স্তরে স্তরে নতুন নতুন মানুষ, যখন যাকে প্রয়োজন; 


ছেলেবেলা খেলা-খেলা, তখনও মোটামুটি মা সর্বস্ব জীবন

বাবার কাছে হয়তো বায়না, তারপর আহ্লাদ বড় ভাই-বোন 

বন্ধুত্ব বলে নতুন একটা সম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে তখন

ক্রমে ক্রমে সম্পর্কের রূপ বদলায় জীবন যেখানে যেমন;


কৈশোরে বাবা-মার থেকে হঠাৎই কিছুটা, দূরত্ব তৈরি হয় 

বন্ধু বান্ধবরা আপন হতে থাকে, অল্প কিংবা বেশি পরিচয়     

স্কুলে, মহল্লায়, খেলার মাঠে ওদের'কে আপন করে নিয়ে   

তার চেয়েও আপন যেন পাশের বাড়ির ঐ ছেলে বা মেয়ে; 


যৌবনে প্রেমে, প্রেমিকের কাছে প্রেমিকাই সবচেয়ে আপন 

এ নিয়ে কথা কাটাকাটিতে বাবা-মায়ের সাথে দূরত্ব ভীষণ

লেখাপড়ায় মন নেই, মন উচাটন আর প্রেমময় জীবন

প্রেমে সবকিছু রঙিন রঙিন, স্তরটার নামই যে যৌবন!


বিয়ের পর থিতু, বাবা-মা ভাই-বোন, সবাই মিলেমিশে

শ্বশুর বাড়ি আপন আপন লাগে শ্যালিকা যদি বসে পাশে 

মেয়েদের ক্ষেত্রে শ্বশুর বাড়ি দেবর ননদ সব আপন করে   

তারপর স্বামী-স্ত্রী কাহন, সংসারে ভাঙন, জীবনের এ স্তরে; 

 

এরপর চাকরি জীবন, কেউ ব্যবসায়, নয় বাবার ঘাড়ে খায়

সংসারে নতুন শিশুর আগমন, নতুন খুশি বংশ পরম্পরায় 

ছেলেরা বাবা হয়, মেয়েরা মা, সন্তানগুলো সংসার ভরায়

বংশবৃদ্ধি এভাবেই হয়ে আসছে এই মানব সংসার ধারায়; 


অনেকটা পথ সন্তান মানুষ করতে, এরমাঝে পরকালে বাবা-মা

এ জীবনটা টাকার, টাকার পেছন পেছন কে আর ছোটে না? 

জীবনের এ স্তরে রয়ে যায় ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধব মাঝে মাঝে 

আত্মীয় স্বজন কোথায় আর আজকাল? কখনো হয়তো কাজে;  


সন্তানরা বড় হলে যে যার পথে, বাবা-মার জন্য সময় কোথায়? 

ব্যস্ত তারা সংসারে আর কাজে, জীবন যাকে যেখানে নিয়ে যায়, 

বাবা-মা গত হয়েছে অনেক দিন, ভাই-বোন? যার যার সংসারে 

বন্ধুবান্ধব? মাঝে মাঝে একসাথে হয়, একটু সময় বের করে;  


আজকাল কথা বলারও কেউ নেই, বাসায় শুধু দুটো বুড়োবুড়ি 

মাঝেমাঝে পরস্পর কথা, বিকেল বারান্দায় দুজনে চা দিয়ে মুড়ি

বাকি সময়টা পরকালের চিন্তা, ধর্ম কর্ম শেষে ঘুম কাঁথা মুড়ি

জীবনের শেষ স্তরে বুড়ির জন্যে বুড়ো আর বুড়োর জন্যে বুড়ি;


একটা সময় হয় বুড়ো মারা যাবে কিংবা বুড়িটাই ঘুমোবে আগে  

তারপরের জীবনটা একাকীত্বের, ওরা বুঝে গিয়েছে আগেভাগে

জীবনের শেষ স্তরে আগের স্তরগুলো চোখের সামনে উঠে ভেসে  

স্তরের পরতে পরেতে স্বার্থগুলো সম্পর্কের আষ্টেপৃষ্ঠে ছিলো মিশে। 



১৫ ডিসেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


জীবনের স্তরগুলো 

 - যাযাবর জীবন 


বাড়ি আর ঘর

কোন একটা সময় আমরা বাড়িতে বাস করতাম

কোন একটা সময় দিনশেষে আমরা বাড়িতে ফিরতাম, 

টিনের চাল দেওয়া খোলা উঠোনের বাড়ি

উঠোনে কিছু ফল ফলাদির গাছ আর সেখানে দাঁড়িয়ে দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ   

বাবা-মা, দাদা-দাদী, চাচা-চাচী, ফুপুদের নিয়ে এক ছাদের নীচে বসবাস,  

মাঝে মধ্যে মামারা কিংবা খালারা বেড়াতে এলে 

সে দিনগুলো যেন প্রায় ঈদের খুশি,

আগে বাড়িটাতে মায়া ছিলো, ভালোবাসা ছিলো সম্পর্কগুলোতে 

এখন সে-সকলই যেন ইতিহাস; 

  

আজকাল আমরা ঘর বলি, কাজের শেষে ঘরে ফিরি 

কারো দুই বেডরুম এপার্টমেন্ট, কারো বা তিন বেডরুম  

ইটের পর ইট গাঁথা খোপ খোপ ইমারত 

উঠোনের জায়গায় আড়াই ফিট বাই সাড়ে তিন ফিট বারান্দা

পাশের বিল্ডিং একদম লাগোয়া, মনে হয় হাত দিয়ে ছোঁয়া যাবে

ঐ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখব কিভাবে? 

আকাশ দেখার ইচ্ছে হলে মাঝে মধ্যে ছাদে চলে যাই

নীলের মাঝে বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার ঘরে ফিরে আসি 

ঘরের কোণে বসে মাঝে মধ্যে স্মৃতি খুলে খুলে দেখি

তার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দু-কামরার বেডরুমে ঘুমিয়ে থাকি, 

বাড়িটা ভাগ হতে হতে আজ খোপ খোপ এপার্টমেন্ট ঘর

এক এক ভাই বোন এক এক এপার্টমেন্টে 

দেখা হয় মাঝে মাঝে, সিঁড়িতে কিংবা লিফটে

আজকাল ইট কাঠের ইমারতে মায়া খুঁজে পাই নাই

ভালোবাসার বন্ধন বড্ড আলগা সম্পর্কগুলোতে   

তাও বাড়ির বদলে একটা ঘর তো পেয়েছি! এই তো বেশি; 


আজকাল অবশ্য বাড়ির দরকারই ফুরিয়ে গিয়েছে

আজকালকার শিক্ষা ব্যবস্থা বদলে গিয়েছে 

বদলেছে ছেলেমেয়েদের মানসিকতা 

এখন আর একান্নবর্তী সংসার ওদের পছন্দ হয় না

ওদের প্রাইভেসি দরকার, 

সন্তানরা চাকুরী কিংবা ব্যবসায় রত, যার যার মত 

ফ্ল্যাট কিনে আলাদা হয়ে নিজের মত টোনাটুনির সংসার 

বাবা-মাই তাদের কাছে আজকাল দায় হয়ে পড়েছে! 

দাদা-দাদী, চাচা-চাচীর ওরা তো অনেক দূরে, 

মাঝে মধ্যে অবশ্য সবার সাথে দেখা হয় পালা পার্বণে,  

আজকাল বাবা-মায়ের থেকে ছেলে মেয়ে সব আলাদা, ঘরে ঘরে  

তাহলে আর বাবা-মায়ের বাড়িরই বা কি দরকার?


আমরা বেশ আছি বুড়োবুড়ি 

আর আমাদের দু বেডরুমের ছোট্ট সংসার,

একটা বেডরুম খালিই পড়ে থাকে

যদি কখনো কোন ছেলেমেয়ে এক রাতের জন্য থাকতে আসে! 


মাঝে মধ্যে ছেলেমেয়েদের কথা বড্ড মনে হয়

মাঝে মধ্যে নাতি নাতনিদের দেখতে ইচ্ছে হয়,

ওরা বড্ড ব্যস্ত, তাও ভালো! আজকাল মাঝে মধ্যে ভিডিও কল করে

কখনো সখনো ওদের দেখা মেলে মোবাইলের ওপারে,

ইদানীং মাঝে মধ্যে খুব চিন্তা হয়,

 - একদিন টুপ করে মরে গেলে বুড়িটা বড্ড একা হয়ে যাবে।  


১২ ডিসেম্বর, ২০২১


#কবিতা 


বাড়ি আর ঘর 

 - যাযাবর জীবন