বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

রক্ত সম্পর্ক



রক্ত সম্পর্ক
- যাযাবর জীবন


আপন কোথায়?
অভিধানের পাতায়;

সম্পর্কে?
হাসিও না তো!

আপন টাকা
তারচেয়ে আপন স্বার্থ
তারচেয়ে বেশী আপন লোভ
আমার কাছে আপনার চেয়ে আপন আমার রিপুগুলো,
প্রেম প্রীতি ভালোবাসা সম্পর্ক
এগুলো সব কাগজের পাতায়
অভিধানে
কাব্যে আর কবিতায়;

তা হলে এই যে পারিবারিক বন্ধন!
বন্ধু বান্ধব
আত্মীয় স্বজন!

আরে!
দিনের সূর্যে আলো খুঁজছ?
কিংবা রাতের অন্ধকারে, কালো?
এই যে বাবা মা
এই যে পরিবার
এই যে সন্তান
এই যে রক্ত সম্পর্কগুলো
তোমরা যাকে আপনার চেয়ে আপন বলো,
যতক্ষণ দিয়ে যাবে ততক্ষণই তোমার দাম
তুমি আমি
এরা ওরা
আমরা তোমরা
প্রত্যেকটা সম্পর্কই লেনদেনের পরিণাম;

কি বিশ্বাস হয় না?
জীবন যেচে দেখ,
একবার দেওয়া বন্ধ করেই দেখ না!
সব আপনেরই পর চেহারাটা দেখবে স্বচ্ছ ভাবে
একদম দিনের আলোয় ফকফকে আয়নায় চোখের সামনে
এর মাঝে সবচেয়ে বেশী পর চেহারাটা কে দেখাবে জানো?
তোমারই নিজের সন্তান!

খুব খারাপ লাগছে কথাগুলো তাই না?
কি করব বলো?
অভিধানের সাথে জীবনের মিল খুঁজে পাই না;

জীবনে সব চেয়ে বেশী কে কাঁদায় জানো?
রক্ত,
হয়তো লবণাক্ত বলে।







পরিবর্তন



পরিবর্তন
- যাযাবর জীবন


পরিবর্তন চারিদিকে
বদলাচ্ছে সব কিছু;
ঘণ্টায়, মিনিটে, সেকেন্ডে
চোখের পলক ফেলতে না ফেলতে
বদলাচ্ছি আমি
বদলাচ্ছে জীবন;

সময়ের সাথে বদলে যায় চাহিদা
বদলায় চাহিদার ধরণ
সময়ের সাথে সময়ই বদলে যায়
বদলে যায় জীবন

সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়াই
আয়নার মানুষটার কাঁধে দেখি হাজারো চাহিদার বোঝা
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আয়নার সামনে নিজেকে প্রশ্ন করি
ও হে! আজকের প্রাপ্তি কি?
চাহিদা ও প্রাপ্তির মাঝে ফারাক আকাশ পাতাল
ফারাক কাল ও আজকের মাঝে
ফারাক গত আর আগামীর মাঝে;

আমি পরিবর্তন দেখছি সময়ের
পরিবর্তন দেখছি নিজের
পরিবর্তন সম্পর্কের
পরিবর্তন অনুভূতির
পরিবর্তন মানুষের
পরিবর্তন জীবনের;

একটু পরেই গত হয়ে যাবে এখন
এখনটা আগামী হবে তখনকার গত
সময় বদলাচ্ছে দ্রুত,
টিক টিক টিক টিক
সময়ের ড্রাম বাজছে,
শুনতে পাচ্ছ?

সামনে কি আছে?
অনেক অনেক ভাঙন?
নাকি নতুন আরো কিছু সম্পর্ক নিয়ে
ক্রম পরিবর্তনশীল নতুন আরেকটি জীবন;

আমরা ঘড়ি দেখি, সময় চোখে দেখি না
পরিবর্তিত মানুষ দেখি, পরিবর্তন চোখে দেখি না;
আমি মাঝে মাঝে খুব অবাক হয়ে আয়নার দিকে চেয়ে থাকি,
জীবনের বদলে যাওয়া দেখি,
পরিবর্তিত আমাকে দেখি;
বদল অনুভবের
বদল অনুভূতির
বদল সম্পর্কের
বদল চেহারার
বদল জীবনের,
আচ্ছা!
সাদা চুল দাঁড়িতে ছাওয়া
কুঁচকানো চামড়ায় মোড়া
আয়নার ঐ মানুষটা কি আসলেও আমি?
কই!
এই তো সেদিন কান্না করছিলাম মায়ের কোলে;

সময় আলোর গতিতে চলে।












মানুষ মানুষ অমানুষ



মানুষ মানুষ অমানুষ
- যাযাবর জীবন


চারিদিকে কেমন এক শান্তি শান্তি অশান্তি
আর সুখ সুখ অসুখ
আরে নাহ! ক্যান্সার ফ্যান্সার না
আরো ভয়ঙ্কর নাম না জানা অন্য কোন অসুখ,
শারীরিক?
কিছুটা হয়তো!
তবে বেশীরভাগ মানসিক;

চারিদিকে এখন নারী নারী পুরুষ
কারো কারো ফ্যাশনের নামে হাতে চুড়ি
কেও কেও কানে দুল পড়ি
বাইরে এক একজন বাঘের বাচ্চা
ঘরে বৌ এর গোলামী;
চারিদিকে ইদানীং পুরুষ পুরুষ রমণী
না হয়েই বা করবে কি?
যা দিনকাল পড়েছে!
শিশুগুলোও ধর্ষণের শিকার
দ্বিধা হও ধরণী;

মানুষ এখন মানুষ মারে নির্লিপ্তে
মনের খুশিতে পিটিয়ে পিটিয়ে
রাস্তাঘাটে সমবেত হয়ে
মনের ভেতর শঙ্কা হলে
আরে আরে! বোধহয় ছিনতাইকারী?
হতে পারে ছেলেধরা!
হোক সে পুরুষ কিংবা নারী
ধ্যাত! মরে গেছে?
বেশ তো চলছিলো খেলা খেলা
খেলার ছলে;
মানুষ না অমানুষ?

মানুষ এখন মানুষ মারে নির্লিপ্তে
ঘরের ভেতর কয়েকজনের মিলে
মনের সুখে পিটিয়ে পিটিয়ে
অন্য ঘরানার দোহাই দিয়ে
কিংবা শুধু মতের মিল না হলে
একজন পেটায় বাকি সবার হাততালি
আরে, আরে! মরে গেলো নাকি?
ধ্যাত! আনন্দটাই মাটি;
মানুষ না অমানুষ?

আমাদের দুটো চোখ আছে তবুও বড্ড দৃষ্টিভ্রম
আমাদের দুটো কান আছে তবুও বধির
আমাদের একটি মুখ আছে, একদম বোবা
আমাদের দুটো হাত আছে, শেকল পড়ানো
আমাদের দুটো পা আছে, মাটির স্ক্র্যাচের
আচ্ছা! আমাদের মন আছে কি?
অনুভব?
অনুভূতি?

আছে তো!
মন আছে, বোধশুন্য
মনের মাঝে আছে সুখ সুখ অসুখ
কারো অল্প কারো বেশী,
আমাদের বিশেষত্ব কি?
মাংস দেখলেই আমরা মাংসাশী;

আচ্ছা! আমরা কি মানুষ না অমানুষ?
ইদানীং আমরা সবাই মানুষ মানুষ অমানুষ।






















হৃদয় বাড়ি



হৃদয় বাড়ি
- যাযাবর জীবন


হৃদয় এক বিশাল বাড়ি
চারটি ঘর, চার দরজা
প্রতি ঘরেই চাবি আছে
কোথাও নেই তালা,
পুরো বাড়িটাতেই তোর বাস
ভালোবাসায় একলা,

একদিন কোন একটি চাবি কাজ না করলেই
ঘুমিয়ে যাবে বাড়ি
চারিদিক সুনসান নিস্তব্ধতা
আর বাকি দরজাগুলোতে লাগবে তালা,
সেদিন তুই মুক্ত
ভালোবাসাহীন একলা।





ভালোবাসা নামলো বলে!



ভালোবাসা নামলো বলে!
- যাযাবর জীবন


যখন রাতের বেলায় অন্ধকার নেমে আসে
তখন কেন যেন তোর কথা খুব পড়ে মনে
আর আমি অন্য কেও বনে যাই মনে
কোথায় রে তুই?
কার সনে?

যখন রাতের বেলায় মনে রাত নামে
তখন,
ঠিক তখনই আমি অন্ধকার হই তো'তে,
আর অন্ধকারটাকে যখন আপন করে ধরতে যাই
তখনই স্বপ্নগুলো ঘুম হয়ে যায় চোখে
তারপর তুই আমি আর ঘুম খেলা করি, রাত্রির চোখে;

আমি ঘুমের মাঝেই তোকে পাই
আলো'তে হারাই
ওরে ও চোখ, অন্ধকার নেমেছে
ঘুমা এখন রাত্রির কোলে
ভালোবাসা এই নামলো বলে!




ভুলে থাকা কি যায়?




ভুলে থাকা কি যায়?
- যাযাবর জীবন


মানুষ কতকিছুই না ভুলে যায়!
মন যখন ভুলাতে চায়,
কখনো বা স্মৃতি'তে ধুলো জমে যায়
কখনো কালের বিবর্তনে মন থেকে হারিয়ে যায়,
ভালোবাসা কি ভোলা যায়?

এক এক সময় খুব ইচ্ছে করে ভুলে যেতে
ইচ্ছে করে মন থেকে মুছে দিতে তোকে
কতদিন যে কতভাবে স্মৃতি'তে রাবার ঘষেছি!
কতদিন কতভাবে রক্তে ধুয়েছি হৃদয়
লবণে ধুয়েছি চোখ,
ভালোবাসা কি মুছতে পেরেছি
নাকি ধুতে পেরেছি তোকে?
শুধুশুধুই ভুলতে চেয়ে অশ্রু ডেকেছি স্মৃতি খুঁড়ে;

এই যে দিনের বেলায় সূর্য থেকে আলো ছুঁড়িস!
এই যে রাতের বেলায় চাঁদের টর্চ জ্বালিস!
এই যে কাজের সময় স্মৃতির খোঁচায় বিরক্ত করিস!
এই যে ঘুমের সময় চোখে স্বপ্ন হয়ে বসিস!
কাছে আসতে পারিস না?
খুব কাছে!

কই, আমি তো দিনের বেলায় আলো ছুঁতে পারি না
অন্ধকার ধরতে পারি না রাতের বেলায়
স্মৃতির কাঁটা হতে পারি না কারো মনে
স্বপ্ন হতে পারি না কারো চোখে,
তবে ভালোবাসতে পারি রে
অনেক ভালো
যেখানে মন ডুবে থাকে মনে
আর তুই রক্তের অণু, পরমাণুতে;

আমি স্মৃতি'কে মাঝে মাঝে বড্ড বকা দেই
হৃদয়'কে কড়া শাসন,
কত অনুনয় বিনুনয়! তোকে ভুলিয়ে দিক পোড়া মন;
আমি সত্যিই ভুলে যেতে চাই
ভুলে যেতে চাই ভালোবাসা
ভুলে যেতে চাই স্মৃতি
ভুলে যেতে চাই তোকে,
একবার তো একলা হয়ে বাঁচি!
একটাবার ভালোবাসাহীন
একটাবার তুইহীন
আমার আমি হয়ে থাকি;

এই যে দূর, দূর থেকে এত এত ঢিল ছুড়ি!
শব্দের
বাক্যের
কবিতার
তোর গায়ে লাগে?

তোর বরফ নীরবতা আমার কান জমিয়ে দেয় মাঝে মাঝে,
নৈঃশব্দ্যতা বড্ড বুকে বাজে;

কখনো বরফ ভাঙার ভয়াবহ শব্দ শুনেছিস?
শুনবি কিভাবে?
কখনো মন ভাঙার চিৎকারে কেঁদেছিস?
কাঁদবি কিভাবে?

তুই বোবা ও বধির।

















সময়ের পথ হাঁটা



সময়ের পথ হাঁটা
- যাযাবর জীবন


সময়'কে দেখা যায় না
ছোঁয়া যায় না
অনুভব করা যায় না,
তবুও সময় ছিলো
সময় আছে
সময় থাকবে,
কালের সময়ে;
সময়'কে কে আর ধরে রাখতে পারে?
সময় হেঁটে চলে সময়ের পথ ধরে;

সময় আসে, সময় চলে যায়, সময়ের পথ ধরে
পৃথিবীতে মানুষ আসে সময়ের হাত ধরে
পৃথিবী থেকে মানুষ চলে যায় সময় ফুঁড়িয়ে গেলে
কালের চাকায় সময় ঘুরে, সময়ের পথ ধরে;

আমরা পৃথিবীতে আসি আমাদের সময় হলে
আমরা হাসি, খেলি, বেঁচে থাকি আমাদের সময়ে
রোগ, শোক, দুঃখ, বেদনা ভোগ করি আমাদের সময়ে
প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা আর মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ি আমাদের সময়ে
আমরা আমাদের দীর্ঘ এক জীবন পাড়ি দেই মহাকালের অণু সময়ে,
তারপর একসময় থমকে যাই নিথর হয়ে
পৃথিবী ছেড়ে আমাদের চলে যেতে হয়, মৃত্যুর সময় হলে;

সময় কি আর থমকে থাকে?
সময় চলতে থাকে তার পথে, সময়ে;
সেই সুদূর অতীত থেকে হেঁটে হেঁটে অজানা এক সুদূর ভবিষ্যতের পানে।