সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

নিন্দিত নরক


নিন্দিত নরক
- যাযাবর জীবন

ভাবনার সহস্র জ্বালামুখ
আজ টুঁটি চাপা সংকীর্ণ
চেতনারা চেপে বসে বুকের ওপর
গ্রাস করছে এক বিষণ্ণ গহ্বর;
চিন্তা ভাবনার রংধনু কথন
স্তব্ধ হয়ে নিস্তব্ধ অবহেলায়
ক্ষয়িষ্ণু কাগজ টুকরো টুকরো
ভাঙ্গা পেন্সিলের শীষে
এলোমেলো রঙ ছড়িয়ে আছে
বিচ্ছিন্ন ভাবে সাদা ক্যানভাসে
বিচ্ছিন্ন কথার ফুলঝুরি
আজ তিমির নিস্তব্ধতায়
নিজেরই বেঁছে নেয়া
নিন্দিত নরক জ্বালায়।


অনুভবে অনুভূতি


অনুভবে অনুভূতি
- যাযাবর জীবন

সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না
চাওয়া পাওয়া
রিপুর তাড়না
কখনো পেয়ে হারানোর বেদনা;
কতরকম অনুভূতি কাজ করে
মনের ভেতরে
প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে
দিন রাত্রির অষ্টপ্রহরে।

অনুভবে অনুভূতির তীক্ষ্ণতা
প্রারম্ভ, ভোরের সূর্যোদয়ের কালে
খুব মাঝে মাঝে বিষের মত বিঁধে গায়ে
মধ্যাহ্নের তাতানো রৌদ্দুরে
বিকেলের সূর্যালোকে অনুভবগুলো
হেলে পড়ে উপলব্ধির দুয়ারে;
অনুভূতির ছায়া দীর্ঘ হতে হতে মিলিয়ে যায়
সন্ধ্যের আলোছায়ায়
আলো আঁধারির উপলব্ধির মায়ায়;
নতুন করে জন্ম নিতে নতুন অনুভূতিগুলো
নতুন তীব্রতায়
চন্দ্রোদয়ের কালে
রাতের মধ্যপ্রহরে
নির্ঘুম বিষ চোখের পাতায়
কারো কথা মনে হলে
বুকের অনেক গভীর ভেতরে
কেমন এক অন্য অনুভূতির তীক্ষ্ণতা
নতুন করে;
চন্দ্র হেলে পড়ে রাতের শেষ প্রহরে
নতুন সূর্যোদয়
আবার নতুন অনুভূতির জন্ম লয়
এভাবেই ক্রমাগত
চলে আসছে অবিরত
যুগ যুগ কাল ধরে।

মনের দুয়ার খুলে রেখেছি
নতুন নতুন অনুভূতির উপলব্ধিগুলোকে
স্বাগত জানাতে
দিবা রাত্রির অষ্টপ্রহরে
নতুন আবাসন
নিত্য নতুন
বসত গাড়ে মনের ঘরে।


গতি


গতি
- যাযাবর জীবন

তোকে ছাড়া চলতো না আমার একটি মুহূর্ত
কিংবা আমা বিহীন তোর
আজ মনে হয় আঁটকে ছিলেম দুজনেই
ফাঁপা একটা সম্পর্কের ভেতর;
কাওকে ছাড়া কারো চলে না
বড্ড মিথ্যে, ভুল ধারণা;
জীবন চলে তার নিজস্ব পথে
থাকুক আর না থাকুক
কেও কারো সাথে;
ঘূর্ণায়মান পৃথিবী
ঘুরে চলেছে অবিরাম
তার নিজস্ব কক্ষপথে;
থেমে নেই কেও
না তুই
না আমি
না আমাদের জীবন
না ঘূর্ণায়মান পৃথিবী।

চলাই জীবন
চলাই গতি
সাথে নিয়ে এসেছি কপালে লিখে
অমোচনীয় কালিতে যার যার নিয়তি.........

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

পথ চলতে পথের বাঁকে


পথ চলতে পথের বাঁকে
- যাযাবর জীবন

এইতো সেদিন
অনেক দিন পর খুব হঠাৎ
কেন জানি বাইরে লাঞ্চ করতে ইচ্ছে হলো
তুই তো খুব ভালো করেই জানিস
একা খাওয়ার অভ্যাস নেই
তাই সাধারণত: লাঞ্চ করা হয় না
তবু সেদিন কি যে হলো?
সকালে নাস্তা করিনি বলেই বোধহয়
ভর দুপুরে একটু পেটে টান পড়লো
কেন জানি তোর খুব পরিচিত সেই
রেস্টুরেন্টটার কথা মনে পড়ে গেলো;
অনেকটা পথ আমার জন্য, হাঁটতে হয় আজকাল
তোর মত লাটসাহেবা তো আর নই
যে কালো জীপে, টিনটেড কালো গ্লাসে মুখ ঢেকে চলব!
অগত্যা পায়ে হেঁটেই গন্তব্য পথ যাত্রা
একটু সময় লাগলো
পৌঁছে গেলাম পথ হাঁটায়
পথ যতই লম্বা হোক না কেন
কোন এক সময় তো পথ ফুঁড়োয়।

রেস্টুরেন্টে ঢুকেই খুব আকস্মিক
ধাক্কা খেলাম যেন হাজার ভোল্টের ইলেকট্রিক;

কোনার টেবিলে কে বসে?
যদিও পেছন থেকে তবুও একটুও অসুবিধা হয় নি চিনতে;
আরে বোকা যতই চুল উল্টে ভোল পাল্টাস না কেন
তোকে সামনে কিংবা পেছন থেকে
এক পলকের একটু দেখাই আমার জন্য যথেষ্ট।

অনেক অনেক দিন পর দেখলাম তোকে
খুব হঠাৎ করেই
একদম অনিচ্ছাকৃত অজান্তে;
আমি দেখতে চাই নি
কেন যেনও চোখটা আটকে গেলো
আঠার মত
পলক ফেলতে কষ্ট হচ্ছিল খুবই
তবু খুব সহসাই বোধোদয় হলো;
ঘুরে দাঁড়ালাম চট করে পেছন ফিরে
তোর চোখ যাতে না পড়ে আমার তরে;
হয়ত ইতস্তত করবি
হয়তোবা একটু অস্বস্তি
কি দরকার তোকে বিব্রত করে?
খুব অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ঠ বসে ছিলি তোরা দুজনে
হয়তো অর্ডার দিয়ে লাঞ্চের অপেক্ষায়
কিংবা লাঞ্চের সমাপ্তিতে একটু সময় পার করায়
হাতে হাত রেখে
যেমনটি করতাম আমরা দুজনে মিলে
বাইরে কোথাও খেতে গেলে।

তোর হাতটাতেই আড়চোখ চলে গেল
কেন জানি
তোর হাত নেই তোর কাছে
ওটা বন্দী হয়ে আছে তোর সাথীর হাতের মুঠোয়;
কেন জানি খুব বড় একটা ধাক্কা লেগেছিল বুকে
খুব সহসাই ঝটকা ইলেকট্রিক ভোল্ট, হঠাৎ করে
হয়তো পুরনো কথা মনে পড়ে,
আমার হাতটাও কেন জানি
বড্ড বেয়ারা হয়ে উঠলো খুব সহসাই
কখন যে পাশের টেবিলে রাখা গ্লাসটা ভেঙ্গে গেল
চোখের নিমিষে মুঠোর চাপে;
এই যাহ্‌, এ কি হলো?
ভাগ্যিস তুই পেছন ফিরে বসেছিস
কিংবা মত্ত দুজনে দুজনার মাঝে
খেয়াল করিস নি, বেঁচে গেলাম বাবা;
আমার আসলে কিছু মনে করার নেই
ঝটকা লাগারও কিছু নেই
আমিও তো ঠিক এমনই করতাম
কোন এক সময়
তোর পাশে আমি এলে;
হাত কেটে রক্ত ঝরছে, ওয়েটার দৌড়ে এলো
সাদা ন্যাপকিন হাতে;
বুকের ক্ষরণেও কি রক্ত ঝরে?
নাহ আজ আর লাঞ্চটা হলো না এখানে
থাক অন্য কোনো দিন;
ওয়েটারের পকেটে কটি টাকা বকশিশ গুঁজে দিয়ে
উল্টো পথে হাঁটা ধরলাম রাস্তার দিকে।

আমি দিবাস্বপ্ন দেখতে চাই নি
তবু তোকে দেখে ফেলেছিলাম
খুব সহসাই কোন এক বিষণ্ণ বিকেল বেলায়
লাল শারীতে বড্ড মানিয়েছিল তোকে
এখনো চোখে লেগে আছে;
সে দিন থেকে কেন যেন বিকেলটাই বদলে গেলো
আমার কাছে, খুব সংগোপনে;
এখন আর বিকেল দেখি না
দুপুর গড়িয়ে বিকেল আসে
বিকেলের ম্লান আলো সন্ধ্যেয় গড়ায়
গড়াক; প্রকৃতির নিয়মে;
আমার কি এসে যায়?
হাত বাড়িয়ে এখন আর ছোঁয় না
আমার হাত অন্য কারো হাত
আমি চলি আমার নিয়মে;
তুই হাতে নিয়ে বসে থাক নতুন প্রিয়ার হাত
তুই খেলিস প্রেম খেলা তোর নিয়মে;
ইচ্ছে নাকি স্বেচ্ছাচারিতা
আমি জানি না
জিজ্ঞাসা করি নি কখনো
জানতে ইচ্ছে হয় না।

এ জীবনে দেখতে চাই নি তোকে আর
তবু দেখতেই হলো
প্রকৃতির খেলা হয়তো
অথবা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস নয়তো;
হয়, এটা প্রায়শই: হয়
আমার সাথে হতেই হয়;
ন-মানুষের ভাগ্যে অনেক বড় একটা "না" ছাপ
মেরে দিয়েছেন ওপরওয়ালা
পরিত্রাণ? এ জন্মে হবে না বোধহয়।

তোকে দেখতে চাই না কখনই আর
তবু আমার চাওয়া আর না চাওয়ায়
যাবে আসবে কার?
তোর; না কি ঐ নিষ্ঠুর ওপরওয়ালার?
এভাবেই না চাইতেও দেখা হয়ে যাবে
আবার হয়তো
কোন এক রেস্টুরেন্টে কিংবা কোন জানা আর অজানা
রাস্তার ধাঁরে
পথ চলতে পথের বাঁকে, বারে বারে।

এখন আর এ নিয়ে ভাবি না খুব বেশী
নিয়তির খেলা খেলছে নিয়তি
আমি, তুই, আমরা খেলার পুতুল
শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি;
খুব মাঝে মাঝে দেখা হয়ে গেলে
তোর সাথে
এখনো কেন জানি ঝাপসা হয়ে ওঠে
চশমার কাঁচ দুটো, অন্ধকার হয়ে
ও কিছু নয় রে, চোখের জলীয় বাষ্প
সময়ের সাথে সাথে উবে যায় হাওয়ায়
ঠিক তোর মত।

তোকে এভাবে দেখতে চাই নি
তবু দেখতে হলো
তোকে নিয়ে আর কিছু লিখতে চাই নি
তবু কলমটা হাবিজাবি এঁকে গেল;
আমি শুধু একটু ঘুমাতে চেয়েছিলেম
গভীর শান্তির ঘুম
চেতনার জগত থেকে অচেতন জগতের গভীর আত্ম-ধ্যানে
যেখানে নির্জনতা কথা কইবে নীরবতার সাথে
মাটির অনেক গভীর তলদেশে
একেবারে মাটি হয়ে, মাটিতে মিশে।





মানব ধর্ম


মানব ধর্ম
- যাযাবর জীবন

লবণ ছিটাতে আমাদের জুড়ি মেলা ভার
লাগুক আর না লাগুক
তরকারির বাটিতে কিংবা জীবন চলার পথে;
মুখে বন্ধু বলে ডাকতাম গাধাটারে
কুত্তা বিলাই যা ইচ্ছা তাই মনে মনে
বেটা বেক্কল মূর্খ জীবনেও বুঝে নাই
ওর মাথায় কাঁঠাল ভাইঙ্গা খাই;
বেচারার হাতটা নাকি কাইট্টা গেছে
আহহারে যাই, একটু দেখতে যাই
চুপে চাপে হাতে লবণ মাখাইয়া লইয়া যাই;
যাওয়া আর আসার পথে
হাত বুলানোর ছলে
গাধাটার কাঁটা ঘাঁ'য়ে একটু লবণ ছিটাই
দেখি না একটু কেমুন লাগে
লবন ছিটাইতে; মনে বড্ড আনন্দ পাই
ও শালা তো আগের থাইকাই গোমূর্খ
ইদানীং তো আর মানুষের পর্যায়েও নাই।

রে মূর্খ; এটাই মনুষ্যত্বের পরিচয়
ও হে গাধা; মানব ধর্ম কথা কয়।


অর্থ




অর্থ
- যাযাবর জীবন

ছোট্ট একটি নাম
অথচ বিশাল কলেবরে
নানাবিধ কর্মযজ্ঞ তার
সে এক অমূল্য রতন
সকলের মনের ভেতরে থাকে খুব সযতন
সকলে পিছনে পেছনে দৌড়োয় তার
কেও কেও এদিক আর ওদিক হাতড়ায়
তীব্র আকাঙ্ক্ষা মনে – তারে ধরিবার।

কি সেই মহামূল্যবান বস্তু?
বাঁধায় তুলকালাম অনর্থ;

যার জন্য পৃথিবীতে সকল মতপার্থক্যের কারণ
নির্ণয় করে দেয় সম্পর্কের ধরণ
শুধুই দেবার আর নেবার
এর মাঝে নেই কোনই তৃতীয় পক্ষ
যদি অদৃশ্য কিছু থেকে থাকে তবে তা ‘স্বার্থ’;
তুচ্ছ তার নাম অথচ মহামূল্যবান মহার্ঘ্য
এরই লাগি সকল বিসর্জন বিবেকহীন
না হয় হলোই সকলের সাথে সম্পর্ক বিহীন
হোক না বাবা, মা ভাই বোন পরিবার পরিজন
কিংবা অন্য যে কোন সম্পর্ক
এর কাছে সব একদম তুচ্ছ;
সকল অনর্থের যে কারণ
অমানুষের হৃদয় করেছে তারে ধারণ;

খুব ছোট্ট একটি ডাক নাম তার – “অর্থ”





রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মানুষের মন



মানুষের মন
- যাযাবর জীবন

নিজের সাফল্যে আমরা যত না খুশী হই
কাছের মানুষকে বিপদে পড়তে দেখলে
তার থেকে অনেক বেশী আনন্দিত হই
হায়, আমার সাধু সন্ন্যাসীর মনের দরবার!
দূর থেকে দাঁড়িয়ে আহা উহু করাতে
আমাদের জুরি মেলা ভার
মানুষ না কি পরিচয় আমাদের
হায়, বুঝি না মানুষের আজব কারবার।