বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

খেয়ালী স্বপ্ন



খেয়ালী স্বপ্ন
- যাযাবর জীবন

এক একটা রাত্রিতে মন খেয়ালী
এক একটা রাত্রি স্বপ্ন দেখবার
এক একটা রাত্রির নীরবতায় তোর নিঃশ্বাস
এক একটা রাত্রি আসে মন হারাবার
এক একটা রাত্রির বাতাসে তোর স্পর্শ
এক একটা রাত্রি তোকে মনে করার;
ওরে অন্ধকারের মেয়ে একবার সামনে এসে দাঁড়া
নয়তো আমার খেয়ালী স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে যাবে তোকে ছাড়া।


মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬

নষ্ট নারীর নষ্ট কথা



নষ্ট নারীর নষ্ট কথা
- যাযাবর জীবন

ঘরে দুধ শিশু আর পঙ্গু স্বামী
ভাতের যুদ্ধে পরাজিত মা কিংবা স্ত্রী,
বুভুক্ষু শরীরে লালসার চাষ
চাল ফলে ক্ষুধার্তের উদরে;
পেটের ক্ষুধার চাষে হায়েনা শরীর চষে
সন্তানের পেটে দুটো খাদ্য ফলার আশে
ওপরে বিছানায় মাংস বিদ্ধ মাংস
নীচে শিশু সামলায় স্বামী, কানে তুলোর অংশ;
মাংস চেটে গলি পথে কুকুর হেঁটে যায়
বিবেকের শব টাকা গোনে নোংরা বিছানায়
পেটে নির্লজ্জ ক্ষুধা প্রতি রাত প্রতিদিন
শরীর বিক্রি করে খাদ্য তৈরির মেশিন;
রমণ ক্লান্তিতে নষ্ট নারী আঁচলে বুক ঢাকে নির্লিপ্ত মন বন্ধ
রাতের বাতাসে ঘরজোড়া ঘর্মাক্ত অন্তর্বাসের গন্ধ;

শিশু দুধ খায়
স্বামী ভাত চড়ায়।


নেমন্তন্ন



নেমন্তন্ন
- যাযাবর জীবন

আমার ঘরের সবুজ চা ধুসর
মাটির কাপে ঠোঁট ছোঁয় নি কারো,
শীতে কাঁপছে বর্ষা ভিজে
আসে নি অতিথি কদম নিতে,
হয়তো আসবে কেও পাতা ঝরার দিনে
ধুলোমাখা নূপুর পায়ে;
হয়তো সেদিন আমি ঘুমিয়ে যাব
হেমন্তের বিকেলে।


সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

তো'তে ডুব



তো'তে ডুব
- যাযাবর জীবন

বেলা ডুবছিল যখন জীবন সায়াহ্নে
হাত ধরেছিলি তুই ভালোবেসে
এলো চুলে টেনে নিতে প্রেমের সরোবরে
দেখছিলাম মরণ পাখির ওড়াউড়ি জীবন আকাশে
আমায় নিয়ে যেতে চির ঘুম ঘরে;
আমি বলেছিলাম তোকে চোখে চোখ চেয়ে
সময় ঘনিয়েছে আমার ওপারে পাড়ি জমাবার
যদি কোন একদিন হুট করে ঘুমিয়ে পড়ি
না ফেরার খাটে শুয়ে,
কোথায় লুকোবি কান্না সেদিন
লবণ ফেলবি কোন সাগরে?
হাতটা শক্ত চেপে ধরে পিছু ফিরেছিলি সেদিন
চোখ লুকোতে
আমা হতে।

ওরে পাগলি,
তুই মরণ বুঝিস জীবন বুঝিস না?
আমি হাসিতেও তোর
কান্নায়ও তোর
তো'তেই ডুবে আছি
ভোর থেকে গোধূলি পেরিয়ে
চাঁদ থেকে সূর্য অবধি।




রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬

অন্ধকার ভালোবাসা



অন্ধকার ভালোবাসা
- যাযাবর জীবন

আমি ছবি আঁকতে পারি না
তবুও তোর অবয়ব আঁকা হয়ে যায়
মনের ক্যানভাসের পাতায়;
নিজের অজান্তেই।

আমি কবিতা লিখতে পারি না
তবুও পেন্সিলের দাগ পড়ে যায়
তোকে ভালোবাসতে গিয়ে কবিতার খাতায়;
নিজের অজান্তেই।

আমি ভালোবাসতে পারি না
তাতে তোর ছিল বড্ড অভিমান
তবে কেন গাইছিস আজ বিরহের গান?
নির্ঘুম চোখে।

তুই দিনের মত তুই আলো
আমায় ভালোবেসে তুই মন করেছিলি কালো
অন্ধকার রাতে আয়নায় ছায়া পড়ে না;
আমি অন্ধকার, আমি কালো।



খেলার পাত্র



খেলার পাত্র
- যাযাবর জীবন

তুই কি আজ সত্যিই ভালো আছিস আমা থেকে দূরে
সাত সমুদ্দুর তের নদীর ওপারে,
কেন গিয়েছিস ওখানে, কিসের মোহে পরে?
ভালোবাসার ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে আমার মাঝে;

তুই কিন্তু আজো বেঁচে আছিস আমার মাঝে আগের মত করে,
আমি কি বেঁচে নেই তোর মাঝে? তোর মনের ঘরে;
প্রেমের ছোঁয়াচে ভাইরাস তোকে কি কাবু করে নি একটুও?
আমার মত করে;
আমি জানি তোর দেহের পরতে পরতে এখনো আমার গন্ধ
তোর নিঃশ্বাস আমার চুমুর বিষে আজো হয়ে যায় বন্ধ
আজো তুই চাঁদ দেখিস প্রতি চাঁদনি রাতে, একা একা
আজো তুই বৃষ্টিতে ভিজিস প্রতি বর্ষায়, একা একা
আজো তোর নির্ঘুম রাত কাটে আমায় ভেবে ভেবে
তবুও ভালোবাসা ভাইরাসে আক্রান্ত আমরা দুজন, দু-ভুবনে
নিয়তির খেলার পাত্র হয়ে।



শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬

সম্পর্কের টানাপোড়ন


সম্পর্কের টানাপোড়ন
- যাযাবর জীবন

একটা পাহাড় বরফ ঘেরা
একটা ঝড় পাহাড়ি ধ্বস
বরফ গলা পাহাড়ি ঝর্ণা
সমতলে নদী মিঠে পানি
সাগরে গড়াতে লবণ
পাহাড়ের কান্না;
পাহাড়, বরফ, ঝর্ণা
নদীর বয়ে যাওয়া আর সাগরের লবণ
প্রকৃতি মালা গাঁথে সম্পর্কের
পাহাড়ের সাথে সাগরের;

একটা বিবাহ
একটা সম্পর্ক
আইনের কাগজে মোড়া,
একটু ভুল বোঝাবুঝি
কিছু অভিমান
রাগ দুঃখ কান্না আর অপমান
খুব সূক্ষ্ম সুতায় সম্পর্ক দোদুল্যমান
ভালোবাসা না থাকলে কাগজের কি দাম?

সম্পর্ক প্রকৃতির
সম্পর্ক মানবের
সুঁই এ গাঁথা সুতোয় বাঁধা,
এক হলে হাসে
সামনে জীবনের ঔজ্জ্বল্য দেখে,
কিংবা বিচ্ছিন্নতায় কাঁদে
পেছনে ফেলে যায় মায়া;
আমরা আকাশে শুধু উড়ন্ত ঘুড়িটাই দেখি
লাটাইয়ে জড়ানো সুতোয় বাঁধা
কিংবা সুতো ছেঁড়া;
আকাশে ঘুড়ির সুতো কে দেখে, খালি চোখে?
সম্পর্কের টানাপোড়ন কে দেখে, দূর থেকে?
সম্পর্কের বিচ্ছেদ হলে কে ছাড়ে, পিছুকথা বলতে?