বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৯

কষ্ট করে নষ্ট




কষ্ট করে নষ্ট
- যাযাবর জীবন


কষ্ট পাস?
খুব বেশী?
আরে বোকা আমার কথায় কি কষ্ট পেতে আছে?
আমার কথা কি যায় আসে?
আমি তোর কে?

কষ্ট পেতে হয় আপন জনার কথায়
অভিমান করতে হয় আপন জনার সাথে
রাগ, দুঃখ, কান্নার অনুভূতি
পর মানুষে কি বোঝে?
আমি তোর কে রে?
আমি তোর কে?

একদিন,
কোন একদিন
কষ্ট পেতে পেতে যেদিন সম্পর্কটাই নষ্ট হয়ে যাবে
সেদিন ঠিক বুঝবি
কেও ছিলাম কি আমি তোর?
কোনো দিন, কোনো কালে;

আসলে কেও কারো থাকে না
কেও কারো হয় না
শুধু ভালোবাসার টুকরো টুকরো অনুভব মনের ভেতরে
আর কষ্টগুলো নষ্ট হয় রাতের চাদরে,
আমি তোর কে রে?
আমি তোর কে?

খুব ইচ্ছে করছে একটা রাত নষ্ট করতে
কষ্ট করে;

আজ কি পূর্ণিমা?
দেখ! দেখ!
কেমন অদ্ভুতুড়ে একটা নীলচে আলো ছড়িয়ে আছে চারিদিক জুড়ে
আচ্ছা! কষ্টের আলো কি নীল হয়?
চল না আরেকবার চাঁদটাকে দেখি ঘুম নষ্ট করে!
অকারণে হাতে হাত রেখে দুজনে বসে থাকি সারারাত কষ্ট করে;

তুই আমার কেও কি?
আমি তোর কে?
থাক,
কিছু জবাব না হয় ঢেকে থাক রাতের আঁধারে;

দেখিস!
একদিন ঠিক তোর সবগুলো কষ্ট নিয়ে একটা নষ্ট কবিতা লিখব,
আমার নষ্ট খাতায়,নষ্ট মনে;
সেদিন কষ্ট করে পড়ে নিস
জবাব খুঁজতে হলে -
- তুই আমার কে রে?
- আমি তোর কে?









স্মৃতির আজ কাল ও গত




স্মৃতির আজ কাল ও গত
- যাযাবর জীবন


কিছু পুরনো গল্প
স্মৃতির অসুখ
কিছু পুরনো সম্পর্ক
ভাঙা কাঁচ,
আমরা বর্তমান সময়ে ঘুরেফিরে বেড়াই অতীত সঙ্গে নিয়ে;

বর্তমান সংসারে পুরাতন প্রেমের জাবর কাটি
যখনই একলা থাকি
আর মনে মনে তুলনার পাহাড়,
কি রঙিনই না ছিল সেইসব দিনগুলো!
কি চাঁদনিই না ছিল সেইসব রাত্রিগুলোতে!
কি বৃষ্টিই না হতো টিনের চালে!
আহ! কদম, ডালে ডালে;

কেন?
এখন দিনের গায়ে থেকে রঙ কোথায় উড়ে গেছে?
চাঁদ কি কম জ্যোৎস্না বিলাচ্ছে?
টিনের চাল হয়তো নেই আর, বিল্ডিং এ চারিধার ছেয়ে গেছে
তবে বৃষ্টি! সে কি কম হচ্ছে?
না কি গাছে কদম কম ফুটছে?

স্মৃতির জাবরে এখনকার সাথে তখনকার তুলনা
সে নতুন কিছু নয়,
সবাই কিছু না কিছু করে
কিছু না কিছু একলা সময়ে
একা একা, মনের ঘরে;

তবে দেখিস!
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পুরনো প্রেমের স্বপ্ন ভঙ্গ না হলেই কিন্তু
সম্পর্ক কাটবে ভাঙা স্মৃতির কাঁচে
বড্ড ঠুনকো, সম্পর্কগুলো;

প্রত্যেকটা প্রেমই ভুল
যখনই তা হত,
স্মৃতির আয়না থেকে ভুলের দাগ মুছে দিতে হয় ক্রমাগত
আজকের প্রেম, আগামীর গত।





গণ্ডমূর্খ




গণ্ডমূর্খ
-যাযাবর জীবন


পড়ালেখা আমার কখনোই ভালো লাগে না
আমি স্বভাব ফাঁকিবাজ,
সচরাচর লাস্ট বেঞ্চের ছাত্র ছিলাম আমি
ফাঁকি দেওয়াই ছিল কাজ,
চিরকালের ফাঁকিবাজ;

পড়ালেখা হয় নি আমার
তাই মূর্খ রয়ে গেলাম আজ;

কোন এক শুভ কিংবা অশুভ মুহূর্তে দেখা হয়ে গিয়েছিল তোর সাথে
সেই থেকে মন কবিতা
আর খাতায় আবোলতাবোল প্রেমের ভয়াবহ কাব্য প্রলাপ,
তাও কি হয়েছে আদতে?
যতসব মূর্খের প্রয়াস!

বয়সের সাথে সাথে একদিন প্রেম ভুত মাথা থেকে নেমে যেতেই আমি আবার গণ্ডমূর্খ
মাথা থেকে প্রেম তো নেমে গিয়েছিল, তুই নামিস নি;
মন থেকে লেখা নেমে গিয়েছিল, খাতা থেকে কলম নামে নি;
যখন তখন তোর কথা মনে হলেই এখনো
মাঝে মধ্যে কলমের বদহজমে দাগ পড়ে খাতায়
অনেক চেষ্টা করেও থামাতে পারি নি আঙুলের হাবিজাবি আঁক
শুধু শুধুই কাগজে রক্তদাগ,
মূর্খ হলে যা হয় আর কি!

একবার কোন এক কবিতার গ্রুপে
তোকে নিয়ে আমার এক পাতার এক ফালতু প্রেম আঁক তুলে ধরতেই
শিক্ষিত কবিগণের উপদেশের তুবড়ি -

কিছু নমুনা বলি,
- আরে বাবা! রাবীন্দ্রিক যুগ আছে নাকি? ছোট লিখ;
- এত বড় লেখা কেও পড়ে নাকি? ছোট লিখ;
- বাপু, আজকাল ছোট কবিতা লিখতে হয়;
- আরে মশাই, শুধু ভাবটুকু তুলে আনো তাহলেই কবিতা হয়;

একজন তো আমার পুরো এক পৃষ্ঠা আবোলতাবোল প্রেম আঁক সংশোধন করে এটিকে কবিতা আকার দিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে বললো
- ভাই, আপনার কবিতাটা সংশোধন করে দিলাম, এবার সংশোধিত পুরো কবিতাটা আবার পোষ্ট করেন
ওনার সংশোধিত কবিতাটি ছিল -
"তোমাকে খুব মিস করছি"

আমি জিজ্ঞাসা করলাম
- ভাই এটি কি কবিতার নাম?

সে হেসে জবাব দিলো
- না রে ভাই এটিই পুরো কবিতা;

জবাবে আমি বললাম
- ভাই, মাফও চাই দোয়াও চাই

মাফ চান কেন?
- এই যে কবিতা লিখতে না শিখেই আপনাদের গ্রুপে পোষ্ট দিয়ে ফেলেছি বলে!

তিনি উত্তর দিলেন
- ঠিক আছে, ঠিক আছে ভাই
সবাই তো আর কবিতা লিখতে পারে না!
সবাই আধুনিক কবিতা বোঝেও না,
ব্যাপার না, চালিয়ে যান;

আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তা কি দোয়া চান?

জবাবে আমি বললাম,
- ভাই, আপনাদের থেকেও ভালো কবিতা লিখতে চাই
আপনাদের থেকেও ছোট
এক লাইনের না কিন্তু!
দোয়া করেন যেন মাত্র এক অক্ষরের কবিতা লিখতে পারি;

জিজ্ঞাসা করলেন, সে আবার কেমন?

- এই যে!
যেমন
'ক' তে তো কবিতা হয়ই,
আমি ক এর মাথার উল্টো শুঁড়টা খুলে নিয়ে ব অক্ষর বানিয়ে একটা বিশাল প্রেমের কবিতা লিখতে চাই;

আমায় গ্রুপ থেকে বের করে দেয়া হলো;

আমার আর কবিতা লিখা শেখা হয় নি ...............

মূর্খদের আসলে জীবনে কখনো কিছু হয় না,

আমি সেদিনও মূর্খ ছিলাম
আজো মূর্খই রয়ে গেলাম।








বোকার কান্ড



বোকার কান্ড
- যাযাবর জীবন


একদিন বুকের বাঁ দিকে খচ করে চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হতেই
বুঝে গেলাম কোথায় জানি গণ্ডগোল,
ডাক্তারের কাছে যাবার প্রস্তুতি নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই সামনে তুই
বুঝে গেলাম ডাক্তারের কিছু করার নেই এ ব্যথায়
কপালে প্রেম ডাকলে বুকে তো পিন ফুটবেই,
আমি অলীক কল্পনায় বারান্দায় হাসনাহেনার ডাল বুনে বিছানায় নতুন চাদর বিছানো শুরু করেছিলাম
তুই বারান্দা থেকে সূর্যের উঁকি দিয়ে অন্ধকারে নেমে যেতেই আবারও পিন ফুটেছিল বুকে,
প্রেম পিন ফোঁটায়
আসতে ও যেতে,
চালাকেরা ডাক্তার দেখায়
বোকারা কবিতা লিখে ব্যথা নিয়ে;

আমি খুব বোকা,
তাই না রে?

মাসে একবার করে আজব এক চাঁদ উঠে আকাশে,
খুব ছোট থেকে বড় হয় অল্প সময়ে
ঠিক ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার অনুভূতির মতন,
অথচ জ্যোৎস্নাটা না তোর
না আমার,
তবুও খুব ইচ্ছে করে একদিন শুকনো চাঁদে তোকে নিয়ে ভিজতে,
জ্যোৎস্নাস্নানে;
আমি সাদা চোখে হলুদ রঙের জ্যোৎস্না দেখি
কবিরা একে নীল জ্যোৎস্না ডাকে
প্রেমের আগমনে
জ্যোৎস্না নেমে যেতে সময় লাগে না
প্রেমের নির্গমনে,
চালাকেরা বাতি জ্বালায়
বোকারা কবিতা লিখে অন্ধকারে;

আমি খুব বোকা,
তাই না রে?




বুঝি তোকে



বুঝি তোকে
- যাযাবর জীবন


সুন্দর তো সবাই দেখে
আমি দেখি তোকে,
সুন্দর সবাই চায়
আমি চাই তোকে;

কপালে পড়ে থাকা তোর এলোমেলো চুল
ঘর্মাক্ত নাক
টোল বিহীন মসৃণ গাল
অনুভূতিহীন চোখ
বাঁকানো ঠোঁট
গলার ওপরের ছোট্ট তিলটা
সব
সবকিছুই আমার চাই;
আর তোর রাগ!
অভিমান!
আর সকল বোকামি আচরণ!
আরে, তোকে না চাওয়ার এগুলো কি হতে পারে কারণ?

আমি তোর গায়ের রঙ দেখি না
দেখি তোকে
আমি সৌন্দর্য বুঝি না
বুঝি তোকে,
তুই সেজে থাকলি না আটপৌরে
তাতে আমার কি যায় আসে?
আমি চাই তোকে
শুধুই তোকে;

বাইরে চেয়ে দেখ! কেমন এলোমেলো রৌদ্দুর
আয় ছাতার তলে গরম মাখি দুজনে;

দেখ, দেখ! ঐ যে অস্তগামী বিষণ্ণ লাল সূর্য
আয় বিষণ্ণতায় ডুবে যাই ঠোঁটে ঠোঁটে;

চেয়ে দেখ! কেমন উথাল পাথাল জ্যোৎস্নার ঢেউ
চল না একবার, জ্যোৎস্নাস্নানে;

ঐ দেখ! ঝুমঝুমান্তি বৃষ্টি নেমেছে
আয় ভিজি দুজনে;

আমি ভালোবাসা বুঝি না রে,
বুঝি তোকে।










আজকালকার প্রেম




আজকালকার প্রেম
- যাযাবর জীবন


চোখের দেখাতেই ভালো লাগা
চোখ থেকে শুরু
কথা বলার জন্য মন আনচান
মুখ ফুটে ভালোবাসা,

তারপর?

স্পর্শ ছাড়া কি ভালোবাসা হয়?
হাতে হাতে প্রেমের যাত্রা শুরু
তারপর ঠোঁটে ঠোঁট
হাত থেকে শরীর
শরীর ভাঙে বিছানায়
প্রেমের সাতকাহন;

কিছুদিন খুব চলে,
চলতেই থাকে
মান
অভিমান
শরীর কচলে শরীর,
কিছু সম্পর্ক পরিণয়ে গড়ায়,
তারপর তো
ডাল
ভাত
আলুর দম
কচলে কচলে নিরামিষ জীবন;

তবে বেশীরভাগ ছাড়াছাড়ি,
কিছুদিন মনখারাপ ওড়ে ছাদে
ভালোবাসা পোড়ে চাঁদে
তারপর শরীর ধুয়ে শুদ্ধ হতে না হতেই
মন আবার নতুন প্রেমের ফাঁদে;

আবার চোখের দেখা নতুন অন্য একজন
চোখের দেখাতেই ভালো লাগা
চোখ থেকে শুরু

...
...
...
...

চক্রাকারে প্রেম ভাঙে বিছানায়
শরীরের সাতকাহন,
আজকালকার প্রেম! বড্ড অন্যরকম;

বিছানার ডাক উপেক্ষা করতে পেরেছে কজন?
ভালোবাসা?
বছরে ডজন।






শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯

কাছে ও দূরে




কাছে ও দূরে
- যাযাবর জীবন


দূরেই ভালো
দূর থেকেই ভালো

কাছের কাছে অনেক আশা
কাছে আসলে অনেক হতাশা

তুই অনেক কাছে থেকেও অনেক দূরে
আমি অনেক দূরে থেকেও তোর ভেতরে

থাক না কিছু আড়াল
বাইরে ও ভেতরে

থাক না কিছু আড়াল
কাছে ও দূরে