বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০

মনের ময়লা

মানব তোমার জন্ম কোথায়?

মায়ের পেটে 

নাপাকি'তে

একফোঁটা বীর্যে;


তারপর?

মায়ের পেট থেকে বের হতেই কেউ আমায় ধুইয়ে পরিষ্কার করে 

খুব যতনে

আমি যখন তখন কাঁথা ভেজাই, শরীর থেকে নাপাকি বের করে  

মা এসে পরিষ্কার করে

সেই জন্মের পর থেকে পাঁচ ছয় বা সাত বছর ধরে; 


যখন তখন কান্না ছড়াই খিদে পেলে

মা এসে কোলে তোলে, কান্না থামায় স্তন্যদানে 

খাওয়ায়, আদর করে, সোহাগ করে

তারপর লালন পালন, প্রয়োজনে শাসন 

পারিবারিক বন্ধনে মানুষ করার ছলে

উঠতে বসতে একই কথা জপতে থাকে, মানুষের মত মানুষ হ বলে;


তারপর কৈশোর তারপর যৌবন 

এখন আর আমার শরীরের ময়লা কারো পরিষ্কার করে দিতে হয় না

আমি নিজেই বেশ ভালো পারি

ধুয়ে মুছে সাবান শ্যাম্পু ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে ফেলি নিজেকে নিজে

আর শরীর থেকে প্রতিদিনের বের হওয়া ময়লা বর্জ্য!

সেও নিজেই পরিষ্কার করি খুব ভালো করে

না হলে যে গা ঘিনঘিন করে!


এই যে শরীর পরিষ্কার রাখা শিখে গিয়েছি! 

মন পরিষ্কার করি কি দিয়ে?

রাজ্যের নাপাকি তো মনের মধ্যে প্রতিমুহূর্তে ঘুরেফিরে

সেই শরীরে যৌবন আসার পর থেকে

রিপুগুলো যখন থেকে দাঁত নখ বের করে গেড়ে বসেছে মনের ঘরে,

মাঝে মাঝে আয়নার দিকে তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নেই

যদি বিবেক কামড় দিয়ে বসে! 

যদি রিপুগুলো দমিয়ে দিতে চায়! 

আমি যৌবনের দাসত্বে তখন, রিপুর গোলাম; যৌবনের চাহিদা কি ছাড়া যায়!


যে নারীর পেটে করে পৃথিবীতে এসেছি 

যে নারীর জন্য পৃথিবী দেখেছি

সে তো মা, তাই না? 

যে বোন স্নেহ দিয়ে কোলে করে ছেলেবেলা মাখিয়ে রেখেছিলো আদরে

সে শুধুই বোন, তাই না?


উঁহু! তারা শুধু মা নয়, তারা শুধু বোন নয়

যেদিন থেকে মন ময়লা আর মনে কুডাক 

তারা নারী, আলাদা জাত  

আমরা পুরুষ, আলাদা জাত   

সেদিন থেকেই মনের মধ্যে শুরু হলো নোংরামি

ময়লায় ছেয়ে গেলো মন আর অশুচি হলাম আমি;

এ ময়লা তো ধুতে শিখি নি!

এ ময়লা ধুতে শেখায় না কেউ কাউকে

যারা মনের ময়লা ধুয়ে নিতে পারে নিজ থেকে, তারাই পুরুষ

আর বাকি সব ধর্ষক কাপুরুষ। 


ওহে ধর্ষক! কি খুঁড়ছিস নারী দেহে?

বুকের তাল তাল চর্বি? 

আরে নরাধম! ওটা খাইয়েই তো জীবন বাঁচিয়েছিল মা, 

ভুলে গেলি?

নাকি আরো খুঁড়ছিস! কোথা দিয়ে বের হলি?


 

১০ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

মনের ময়লা 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত, এডিট করা। 





     


  

সম্পর্কে কথা কাটে জিহ্বার ধারে

যৌবনে প্রেম উথলে উঠে ভালোবাসা দুর্নিবার 

তারপর বিয়ে শাদী সংসার, বাচ্চা কাচ্চা পরিবার 

প্রেম ভালোবাসা গড়ায় প্রয়োজনীয় কথার ছলে

কথায় কথা কাটে গলা উঁচু হলে; 


আমরা বড্ড লোকদেখানোতে বিশ্বাসী 

সংসারে যতই লড়াই ঝগড়া আর খুঁটিনাটি

মানুষের সামনে ঠিক সামলে সুমলে খুব সযতনে ঢেকে রাখি 

অথচ চার-দেয়ালে হয়তো রণাঙ্গন ঠিকই;  


সম্পর্কে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্র মানুষের জিহ্বা  

জিহ্বাতে কথা, আর কথাতেই ব্যথা

কথা দিয়েই মানুষ পরস্পর যোগাযোগ গড়ে 

সম্পর্কে কথা কাটে জিহ্বার ধারে; 

 

কথার মাধ্যমেই প্রেম প্রীতি ভালোবাসা 

কথা দিয়েই বাদ বিবাদ আর ঝগড়ায় ঠাসা 

কথা মধুর হলে সম্পর্ক টিকে রয়

তিতা কথায় প্রায়শই সম্পর্কের ক্ষয়; 


আবার জিহ্বা যখন লালসায় সিক্ত হয়

তখনই নামে মানুষের চরম অবক্ষয় 

জিহ্বাকে সামলে রাখতে পারি আমরা কজন?

কিংবা মাপতে পারি কজনই বা কথার ওজন?


কথার হেরফেরেই যত ভুল বোঝাবুঝি

একজন উত্তর বোঝাতে গেলে আরেকজন দক্ষিণ বুঝি 

একজনের জিহ্বার আগায় মিছরির ছুড়ি  

অন্যজনের কানের ভিতর গরম সীসা দেয় ভরি;

 

মনের ভেতর যতই থাক অনুভব অনুভূতি

কথার ভুল বোঝাবুঝি তো সম্পর্কের ক্ষতি 

সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ে 

সংসারের কথা চিন্তা করে রয়ে যায় এক ঘরে;


আজকাল ঘরের ভেতর খুব চলছে কথার লড়াই

আর হা হা হি হি লোকদেখানো সম্পর্কের বড়াই 

একেও সংসার বলে, সং সেজে সারশূন্য ঘরে 

দুজনাই জানে বোঝে, তবুও জিহ্বাকে কে সংযত করে!


একদিন হয়তো সংসারই শেষ হয়ে যাবে জিহ্বার ধারে ভারে 

শুধু তিক্ত মধুর কথাগুলো ভেসে বেড়াবে ইথারে ইথারে 

সম্পর্কচ্ছেদের কোন একলা কালো রাতে ইথারে কান পেতে শুনে নিও 

কার জিহ্বায় কি কি কথা বলেছিলে বিচ্ছেদের অবসরে গুণে নিও।     



 

১০ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

সম্পর্কে কথা কাটে জিহ্বার ধারে

 - যাযাবর জীবন  



ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 




উনুনে শব্দজট

মাথার ভেতর উনুন আছে 

ওখানে শব্দ পাকে,

লোকে কাব্য বলে; 


প্রকৃতি কিছু মশলা দেয়

বৃষ্টি দেয় পানি  

সাগর দেয় লবণ

শব্দগুলো জ্বাল হতে থাকে ভাবনার আগুনে,

কাব্য পাকে;


মাথার উনুনে ক্রমাগত কতই না বাক্য রান্না হতে থাকে! 

কিছু বাক্য আঁচের স্বল্পতায় কাঁচা থাকে

কিছু জ্বালের আধিক্যে পুড়ে যায়

আর অল্প কিছু বাক্য রান্নায় পূর্ণতা পেয়ে যায়, 

তোমরা তাকে কাব্য বলো;


কেউ রান্না বসায় মাথার বিশাল হাঁড়িতে 

শব্দগুলো উপন্যাস হয়ে যায় বাক্যের জ্বাল হতে হতে, 

কেও ছোট হাঁড়ি নেয়, অল্প কিছু শব্দ ঢালে

গল্পের স্বাদ পাও তোমরা কাগজে ঢেলে দিলে, 

কেও রান্নায় মশলাই ঢালে অপ্রচলিত রান্নার ধাঁচে 

জ্বাল হতে হতে খটমটে প্রবন্ধ হয়ে যায় খড়ির আঁচে;

আহা! কাব্যের কতই না প্রকারভেদ চারিদিকে!


আমি তেল নুন মশলা ছাড়াই শব্দ পাকাই মনের খেয়ালে

কেউ প্রলাপ বলে, কেউ কেউ কবিতা বলে, 

গল্প'তো রান্না করতেই শিখি নি! উপন্যাস তো অনেক দূরে

প্রবন্ধ! বড্ড খটমটে; ধৈর্যতে টান পরে, 

আমার শুধুই শব্দজট, বাক্য আর রান্না হয় না;  


কেউ শব্দের ভাত রান্না করে, কেও জাউ আর কেউ খিচুড়ি পাকায়

আমার মাথার ভেতর শুধু শুধুই রাজ্যের শব্দগুলো জট পাকায়,  

না হয় গল্প, না কবিতা, না কাব্য; শুধুই দুষিত কিছু বাক্যস্রাব। 



০৫ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

উনুনে শব্দজট 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 




পরস্পর জড়িত শব্দের ধরণ

এই যে সাদা আর কালো

দিন আর রাত 

এই যে অমাবস্যা আর জ্যোৎস্না

সূর্য আর চাঁদ;  


এই যে হাসি আর কান্না  

আনন্দ আর বেদনার প্রকাশ  

এই যে সুখ আর দুঃখ 

আয়নার এপাশ আর ও পাশ;  


এই যে জন্ম আর মৃত্যু 

জীবন আর মরণ 

তোমরা বলো বিপরীত শব্দ

আমি বলি পরস্পর জড়িত শব্দের ধরণ;  


এই যে বছরে বছরে জন্মদিন আসে!

তোমরা সবাই মিলে পালন কর খুব ধুমধামে

কে জানে আগামী বছর এ দিনটাতেই হয়তো 

মৃত্যু দিবস পালন করবে আমারই স্মরণে;  

 

এই যে জন্মদিন আর মৃত্যুদিন 

এ দুটোই কিন্তু সত্য 

মাঝে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর আনন্দ-বেদনা  

এগুলো সবই বেঁচে থাকার নিমিত্ত;


সময় ঘড়িটা চলছেই টিক টিক টিক টিক 

মৃত্যুটা আসবেই ঠিক ঠিক ঠিক ঠিক 

আজ কাল কিংবা পরশু, ঘড়ি থেমে গেলে

কে জানে কার আগে, কে যায় চলে! 


০৪ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

পরস্পর জড়িত শব্দের ধরণ

 - যাযাবর জীবন 



ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 






বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পশুত্বের গর্ব

এক এক সময় পশুগুলোকে দেখি
এক এক সময় পাখিগুলোকে
প্রকৃতিতে ওরা কি সুন্দরই না মানিয়ে আছে!
আছে নিজেদের স্বজাতিতে সুন্দর মিলে মিশে;

আর প্রতিদিন মানুষ দেখি মানুষের মাঝে থেকে
মানুষে মানুষেও মিল আছে, মানুষের মত করে
কিছু রক্তের বন্ধনে, কিছু সামাজিকতার, বাকিটা স্বার্থের
মানুষের কথা লিখতে গেলেই কলম থেমে যায় অন্ধকারে;

পশু পাখিতে শুধুই ক্ষুধা, পেটের ও কামের
কোন পশুকে দেখিনি হত্যা করতে স্বজাতিকে  
কাম! সে তো স্বাভাবিক, গণ-ধর্ষণ দেখিনি পশুতে পশুতে  
হয়তো ওরা গালি দেয় আমাদের মনুষ্যবৃত্তি বলে?

পেটের ও কামের ক্ষুধা সে তো মানুষেরও আছে
মানুষ মানুষ’কে মেরে ফেলে কারণে আর অকারণে
গণ-ধর্ষণ? সে তো মানুষেই করে; ষড়রিপু কোথায় পশুতে?
মানুষ খামোখাই পশুকে অপমান করে, পশুবৃত্তি বলে;

পশু বাবা-মার বলতে হয় না, পশুর মত পশু হ  
অথচ জন্মের পর থেকেই কোন শিশুটা শোনে নি? মানুষ হ!  
আচ্ছা! তাহলে ওটা কার কার জন্ম হয়েছিলো মানুষের গর্ভে?
মানুষের মনুষ্যত্ব দেখে হয়তো পশুরও বুক ফুলে ওঠে, পশুত্বের গর্বে।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

#কবিতা
পশুত্বের গর্ব
 - যাযাবর জীবন 

বিষপিঁপড়া - গল্প

শান্তার যখন থেকে জ্ঞান বুদ্ধি হয় তখন থেকেই শুনে এসেছে – বাহ! কি মিষ্টি মেয়ে।

মিষ্টি মেয়েদের কি জ্বালা তা শান্তাই ভালো জানে। সময়ের সাথে সাথে শান্তা বড় হচ্ছিলো আর মিষ্টি মিষ্টি শুনতে শুনতে কেমন যেন মিষ্টির প্রতি বিতৃষ্ণা জেগে উঠছিলো। যখন বয়স ছ সাত হলো তখন থেকেই মনে আছে চাচাতো খালাতো ফুফাতো মামাতো ভাইয়েরা মিষ্টি মেয়ে মিষ্টি মেয়ে বলে ছুতোনাতায় শান্তাকে ছুঁয়ে দিতো; এই ছোঁয়াটা শান্তার মনে যেন কেমন অস্বস্তির জন্ম দিতো। তখন শান্ত ঠিক বুঝতো না তবুও এটুকু বুঝতে পারতো ছোঁয়াগুলোতে কেমন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি, শরীর গুলানো অনুভূতি। কই বাবা মা আদর করলে, ছুঁয়ে দিলে, কোলে নিলে তো এমন অনুভূতি হয় না! অন্যরকম এক অস্বস্তিকর অনুভূতি নিয়ে শান্তা বেড়ে উঠতে থাকে।

শান্তার বয়স যখন দশ এগারো তখন  এই সব ভাইদের সাথে সাথে যেন বাসায় বেড়াতে আসা বাবার কিছু কিছু বন্ধুরাও বাহ! আমাদের মিষ্টি মেয়ে বলে আদরের ছুঁতোয় শান্তার শরীর ছুঁয়ে দিতো। শান্তা কিছু বলতে পারতো না, কেমন এক ঘিন্না মেশানো অনুভূতিতে তার শরীর গুলিয়ে উঠতো। সে পারতপক্ষে এর পর থেকে আর বাবার বন্ধুদের সামনে যেতে চাইতো না।

একদিন শান্তার চাচ্চু বাসায় এলো, সেদিন বাবা-মা নেই; শান্তা একা। চাচ্চু বললেন শান্তা মা একটু পানি দে তো! শান্তা পানির গ্লাস হাতে ড্রইংরুমে এলো। চাচ্চুকে পানি দিয়ে অন্যদিকের সোফায় বসলো। চাচ্চু পানি খেয়ে শান্তার সাথে টুকটাক গল্প করতে করতে উঠে এসে শান্তার পাশে বসলো। শান্তা কিছু মনে করে নি, আপন চাচ্চুই তো! আস্তে আস্তে মামনি মামনি বলে এটা ওটা গল্প করতে করতে চাচ্চুর হাত শান্তার মাথা বেয়ে পিঠে হাত বুলাতে লাগলো, শান্তা চমকে উঠলো; তার গা ঘিনঘিনে অনুভূতিটা প্রবল হয়ে উঠলো। সে চাচ্চুর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখে সেখানে কেমন যেন এক গা ঘিনঘিনে চকচকে অপরিচিত দৃষ্টি। কোথায় জানি! কোথায় জানি! এ দৃষ্টি দেখেছে সে কিছুতেই মনে করতে পারছে না। তারপর চট করেই মনে পড়লো ‘দি ডেভিল’ সিনেমায় হায়েনার চোখের সাথে যেন চাচ্চুর এ দৃষ্টি পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে। কথা বলতে বলতেই একবার যখন মাথা থেকে হাত পিঠে না গিয়ে সামনে থেকে বুক বেয়ে পেটে নেমে এলো তখনই শান্তার প্রবল বমির বেগ পেয়ে গেলো, সে দৌড়ে গিয়ে বাথরুমে ওয়াক ওয়াক করতে লাগলো। শান্তার চাচ্চু কি হয়েছে! কি হয়েছে! বলে তার সাথে সাথে বাথরুমের দরজার পাশে এসে দাঁড়ালো। আরেকবার কি হয়েছে মামনি বলতেই শান্তা তীব্র চোখে তার চাচ্চুর দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলো। চাচ্চু চোখ নামিয়ে নিলেন, ধীর পায়ে হেঁটে বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন। শান্তা এ কথা কোনদিন কাওকে বলতে পারে নি, তবে সে তার চাচ্চুর সামনে একা আর কখনোই যায় নি।
 
শান্তার ফুপু থাকেন লন্ডনে, ফুপা রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে প্রচুর টাকার মালিক। ওনারা দুই এক বছর পর পর দেশে আসেন। প্রত্যেকবারই ফুপু শান্তাদের জন্য অনেক অনেক গিফট নিয়ে আসেন, আসল শান্তাদের বাড়িতেই ওঠেন। এবার ফুপুরা এলেন প্রায় দুই বছর পর। এই ফুপুকে শান্তা অনেক পছন্দ করে, ফুপুও শান্তাকে মেয়ের মতই দেখেন। ফুপাও খুবই ভালো আচরণ করেন। ওনারা আসার প্রথম দুইদিন হৈ চৈ করে খুব ভালোভাবেই কেটেছে। শান্তা লক্ষ্য করেছে এবার ফুপার আচরণে কেমন যেন একটু পরিবর্তন এসেছে, আড়ে আড়ে কেমন চোখে যেন শান্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। সবার সামনে মা মা করে অথচ ওনার চোখে শান্তা যেন চাচ্চুর ছায়া দেখতে পায়। তৃতীয়দিন বিকেলে শান্তা ড্রইংরুমে বসে একমনে টিভি দেখছিলো, ফুপা ফুপু দুপুরে লাঞ্চের পর বেডরুমে শুয়ে রেস্ট নিচ্ছিলেন। হঠাত করেই শান্তা লক্ষ্য করলো ফুপা এসে তার পাশে বসেছেন। কি দেখছিস রে মা, বলে একদম কাছ ঘেঁষে বসলেন। শান্তার মনে হঠাত করেই পুরনো অস্বস্তিকর অনুভূতিটা ফিরে আসলো, খালুর রান শান্তার রানে ঘষা খাচ্ছে, খালু কথা বলতে বলতেই শান্তার মাথায় হাত দিয়ে আদর করতে করতে পিঠে নামাতে লাগলো; তারপর খুব হঠাৎই মাথা থেকে শান্তার বুকে হাত চলে আসলো। ঝট করে শান্তা খালুর চোখে তাকাতেই হায়েনার চোখ দেখতে পারলেন, মুখে নেকড়ের হাসি। হতভম্ব শান্তার বুঝতে দেরি হয়ে গেলো মা মা ডাকতে ডাকতে কিভাবে একটা লোক অবলীলায় তার বুক ছানছে। শান্তা লাফ দিয়ে উঠে দৌড়ে তার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে হাঁপাতে লাগলো। সারা শরীর ঘৃণায় রি রি করছে, শান্তা বাথরুমে ঢুকে শাওয়ারের নীচে ভিজতে লাগলো, যেন ফুপার নোংরা হাতের স্পর্শ ধুয়ে ফেলতে চাচ্ছে।

এবার শান্তা আর চুপ থাকতে পারলো না, রাতের ডিনারের শেষে শান্তা তার ফুপুকে তার রুমে ডেকে নিয়ে আসলো। ফুপু এসে বললো কিছু বলবি? শান্তা অনেকক্ষণ আমতা আমতা করে কাঁদতে কাঁদতে দুপুরের ঘটনা ফুপুকে খুলে বললো। ফুপু কতক্ষণ হতভম্ব চোখে শান্তার দিকে চেয়ে থেকে তার গালে সজোরে থাপ্পড় মেরে বসলেন। ছিঃ শান্তা ছিঃ! এই বয়সেই তোর মনে এইগুলো! তোর ফুপার মত এমন সুফি মানুষের নামে তুই এই কথা বলতে পারলি? তার থেকে বেশি হতভম্ব হয়ে গেলো শান্তা, যেন বলে বিশাল এক অন্যায় করে ফেলেছে। পরদিনই ফুপুরা বোঁচকা বুঁচকি নিয়ে ফুপাদের বাড়ি চলে গেলো। সেই শেষ, ফুপুরা আর কখনো শান্তাদের বাড়ি আসে নি।

শান্তা এখন বড় হয়েছে, কলেজে পড়ে। সে ছেলেদের দৃষ্টি কোনটা কি, ছেলেদের ছোঁয়া কোনটা কি খুব ভালোই বুঝতে পারে। বন্ধুদের মধ্যে অনেক ভালো বন্ধুই আছে যাদের সামনে সে কোন অস্বস্তি অনুভব করে না, আবার কিছু বন্ধু আছে যারা সামনে এলে যেন চোখ দিয়ে চাটে। খালাতো, চাচাতো, মামাতো, ফুপাতো ভাইদের মধ্যেও কয়েকজন খুবই আন্তরিক যাদের দৃষ্টির মাঝেই বোন সুলভ এক মায়া অনুভব করে, তাদের সাথে শান্তা খুব স্বাচ্ছন্দ্য; আর কয়েকটা আছে যারা থাকলে পারতপক্ষে শান্তা ভাইবোনদের আড্ডাতেও বসে না, ঐ গা গুলানো বিবমিষা। আর এখন শান্তার চেহারা যতই মধু হোক না কেন, সময় আর পরিস্থিতি তাকে আমূলে বদলে দিয়েছে; ছোঁয়াছুঁয়ি তো অনেক দূরে তার কথাতেই অনেকে এখন বিষ অনুভব করে। এই বয়সেই শান্তা খুব ভালো বুঝে গেছে কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে। শান্তার চাচ্চু আজকাল খুব কমই বাসায় আসে, আসলেও শান্তা এমনভাবে তীব্র এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে! যেন উনি পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচেন।

ইদানীং মহল্লার ছেলেপেলেগুলি শান্তাদের বাড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করে, মিষ্টির গন্ধ দূর দূর বোধহয় ছড়িয়ে পড়েছে। শান্তা বাড়ি থেকে বের হলেই পেছনে অনেকগুলো দৃষ্টি অনুভব করে। শান্তার এগুলো সয়ে গেছে, পুরুষমানুষ মাত্রই সুন্দর দেখবে এ আর এমন নতুন কি! তবে আজকাল ছেলেগুলো যেন একটু বেশীই ডেয়ারিং হয়ে গেছে, প্রায়ই এটা ওটা মন্তব্য ছুঁড়ে দেয় শান্তার আসা যাওয়ার পথে, শান্তা না শোনার ভান করে রিক্সায় উঠে যায়। বাড়ি থেকে কলেজ আরা কলেজ থেকে বাড়ি, এর বাইরে সাধারণত শান্তা একা আর কোথাও যায় না। এর মধ্যে একদিন দুজন খুব সাহস দেখিয়ে রাস্তায় শান্তার রিক্সা থামিয়েছিলো, সেই পুরনো কথা – বাহ! কি মিষ্টি! কি মিষ্টি! মনে হয় খেয়ে ফেলি! শান্তা তীব্র দৃষ্টিতে তাদের দিকে চেয়ে থাকে, কিন্তু ওদের মধ্যে এ দৃষ্টির কোন আছর পড়ে না। একজন রিক্সায় উঠতে গেলে শান্তা ধাক্কা মেরে তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। আশেপাশে থেকে মানুষজন জড়ো হয়ে যায়, ছেলেগুলো দেখে নেব বলে শাসিয়ে চলে যায়। বাসায় এসে এ কথা বলতেই এরপর থেকে মা শান্তাকে সাথে করে কলেজে দিয়ে আসে, কলেজ থেকে নিয়ে আসে; মহল্লার বখে যাওয়া ছেলেপেলেগুলো দূরে সরে থাকে। এভাবেই কাটছিলো শান্তার দিন।

একদিন মা অসুস্থ, শান্তা গায়ে হাত দিয়ে দেখে বেশ জ্বর; তাই কলেজে যাওয়ার সময় সাথে যেতে পারেন নি। কেও কি লক্ষ্য করেছে? শান্তা কলেজে গেলো ভয়ে ভয়ে, নাহ! কেও বোধহয় লক্ষ্য করে নি; কেও সামনেও আসে নি। বিকেলে কলেজ থেকে বের হয়ে দেখে মা আসেন নি; শান্তা ভাবছিলো – তবে কি মায়ের জ্বর বেড়ে গেলো? শান্তা তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরার তাগিদ অনুভব করে। রিক্সাওয়ালাকে বলে, মামা একটু জোরে টানো, তাড়াতাড়ি পৌঁছতে হবে। কলেজ থেকে মহল্লায় ঢোকার মুখে কয়েকটা খালি প্লট, এখনো এখানে বিল্ডিং ওঠে নি; জায়গাটা খানিকটা নির্জন। হঠাত করেই যেন প্লটের ভেতর থেকে ছজন একসাথে বের হয়ে আসলো, সামনে থেকে এসে রিক্সার পথরোধ করে দাঁড়ালো। ওদের মধ্যেই একজনকে শান্তা ঐদিন রিক্সা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো; শান্তা ভয়ে কুঁকড়ে গেলো।  আজ আর রিক্সায় ওঠার চেষ্টা না করে শান্তাকে জোর করে টেনে হিঁচড়ে রিক্সা থেকে নামিয়ে নিলো, একা শান্তা এতজন ছেলের সাথে জোড়ে পেরে উঠবে কি করে? রিক্সাওয়ালাকে দুইটা ঘুষি মেরে তাকে রাস্তায় ফেলে ওরা রিক্সার মধ্যেই ঝাঁপিয়ে পড়লো শান্তার ওপর। চার পাঁচ জনার একসাথে বুকে পেটে পাছায় থাবা চালাচ্ছে। শান্তার মনে হলো বিষপিঁপড়া কামড়াচ্ছে। কেও কাপড় খোলার চেষ্টা করছে কেও বা কাপড়ের ওপর দিয়ে শরীর ছানছে। রিক্সাওয়ালাটা সেদিন খুব বুদ্ধিমানের কাজ করেছিলো, সে মাটি থেকে উঠেই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে, একজনকে এর মধ্যে ধরে মাটিতে শুইয়ে ফেলেছে। আশেপাশের কিছু মানুষেরও ততক্ষণে এইদিকে নজর পরেছে তারা দলবেঁধে ছুটে আসতে শুরু করতেই বখাটেরা চম্পট দিলো। তারপর এ নিয়ে থানা পুলিশ অনেক কিছু হয়েছিলো, দুজনকে পুলিশ ধরে আনতে পেরেছিলো আর বাঁকি চারজনকে খুঁজে পেতে প্রায় মাস খানেক লেগেছিলো। শেষ পর্যন্ত ধরা তারা পড়েছিলো সকলেই। মেয়েদের বোধহয় এটাও এক জীবন, রাস্তাঘাটে সাবধানে চলতে হয় কুকুর দেখে, কে জানে! কখন যে কুকুরগুলো কামড়ে দেবে পেছন থেকে। মহল্লায় এ ঘটনার রেশ থেকেছে অনেকদিন ধরে।

শান্তা এতদিনে বুঝে গেছে - আসলে মিষ্টি তার চেহারা না, মিষ্টি তার শরীরটা; আর তার চারপাশে ঘুরঘুর করছে হাজারে হাজারে বিষপিঁপড়া।  


২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

#গল্প
বিষপিঁপড়া
 - যাযাবর জীবন


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত ।



মাটি দেও - গল্প

আইজ তিনদিন ধইরা ধলু ব্যাপারির মিজাজ আসমানে উইঠঠা আছে। মিজাজ খারাপ হইলে ধলুর মুখে খালি থুথু আহে, একটু পর পিচিক পিচিক কইরা থুথু ফালাইতাছে; তারপরও মিনিটে মিনিটে মুখ ভইরা যেন এক পুস্কুনি থুথু আইয়া জমে।  

পুস্কুনির পাড় ধলু ব্যাপারির সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। পুস্কুনির দক্ষিণ পাড়ে একটা ছোট্ট একচালা বেড়ার ঘর বানায় লইছে। যত্তসব আকাম কুকাম ধলুর এই চালাঘরে। সন্ধ্যাডা হইতে দেরি, চ্যালা আক্কাসের বাংলা মদের বোতল খুইল্লা দিতে দেরি হয় না, লগে পিয়াইজ মরিচ দিয়া বাদাম, নাইলে চানাচুর মাখা রেডিই থাকে। ধলু ব্যাপারি সারাদিন গুদামের কাম শেষে সন্ধ্যা বেলায় আইয়া এই চালাঘরে ঢুকে। নেশা রঙিন হইয়া উঠলে শরীলডা মাইয়া মাইন্সের লাইজ্ঞা কানতে থাহে। আক্কাইস্যা মাঝে মইধ্যে গঞ্জ থাইক্কা মাগী ভাড়া কইরা লইয়া আহে, তারপর নেশা জইমা উঠলে সারারাইত মচ্ছব। ধলু বেশিরভাগ রাইত এইহানেই কাটায় দেয়, মাঝে মইধ্যে মাগীর আমদানি না হইলে নেশায় বুঁদ হইয়া ঘরে ফিরা বৌ এর উপ্রে ঝাপায় পড়ে। আইজ তিনদিন ধইরা তার নেশার বারটা বাজছে, সব ওলোটপালট হইয়া গেছে। যত নষ্টের গোড়া ঐ কামলা সামসুর হারামি বৌডা।

সামসুর যুয়ান সুন্দরী বৌ এর দিকে ধলুর কুনজর পড়ছে অনেকদিন ধইরাই, এতদিন চেষ্টা কইরাও বাগে আনতে পারে নাই। গত সপ্তাহে সামসুরে অনেক ফুসলাইয়া টেকার লোভ দেহাইয়া এক সপ্তাহের লাইজ্ঞা চরের ক্ষেতে কামলাগো সর্দার বানায় পাঠাইতে পারছে। চর গ্রামের থাইক্কা নৌকায় আধা দিনের রাস্তা, তাই ঐহানে কামলারা একবারে সাত দিন কইরা বদলি ডিউটি করে। এর আগে সামসুরে কামলা হিসাবে চরে পাঠাইতেই পারে নাই, তাই সর্দার হওনের প্রস্তাব দিতেই সামসু আর লোভ সামলাইতে পারে নাই। সর্দারের মজুরি কামলা থাইক্কা আড়াইগুন বেশি, আর চরে সব ক্ষেমতাও সর্দারগো হাতে; এইবার সামসু টোপ গিলছে।

সামছু যাইতেই ঐ রাইতে আক্কাসরে পোলাপাইন সহ পাঠাইয়া সামসুর বৌরে হাতপা বাইন্ধা তুইলা লইয়া আইছে। তারপর তিন রাইত ধইরা চলছে মচ্ছব। চিন্তা করছিলো সামসুর বৌরে প্রথম রাইতেই বাগে আনতে পারব, কিন্তু হারামি বেডি এত্ত বদ তিনরাইতেও বাগে আহে নাই। প্রত্যেক রাইতেই জোড় খাটাইতে হইছে। জোড় খাটাইয়া প্রত্যেকদিন কি আর মজা পাওন যায়? হারামি বেটি চতুর্থ রাইতে সুযোগ পাইয়া পায়ের গোড়ালি কামড়াইয়া ধরছিলো, এই যে ধরছে আর ছাড়াছাড়ির নাম নাই। ধলুর পায়ের গোড়ালির মাংস কাইট্টা দাঁত বইয়া গেছিলো, রক্তে তোষক বিছানা সব সয়লাব। চিল্লাইয়া আক্কাসরে ডাইকা হেরে দিয়া পা ছুডাইছিলো। একে লালপানির নেশা তারপর মাগীর তামশা, রাগের চোটে ধলুর মাথা পুরাই আউলায় গেছিলো, বারান্দা থাইক্কা দাওডা আইন্না মাগীরে ধামাধাম কোপাইতে লাগলো, রক্তে পুরা ঘর ভাইসা গেলো। শেষে আক্কাইসা আইসা থামাইয়া দাও কাইড়া লইলো। আক্কাসে ভালো কইরা দেইহা কইলো হুজুর মাগী তো মইরা গেছে! এহন কি হইবো!

ধলুর যেন হুশ ফিরলো, অনেক্ষণ চিন্তা কইরা কইলো, এক কাম কর, লাশটা বস্তায় ভইরা বিশ পঁচিশটা ইটা বাইন্ধা পুস্কুনিত ফালায় দে। মাছে খাইয়া ফালাইব নে। হেই থাইক্কা আইজ তিন দিন হইয়া গেলো ধলু মিয়ার ঘুম হারাম হইয়া গেছে। চোখ লাগলেই হারামি মাগীডা চোখের সামনে চইলা আহে, ধলু ধরফরাইয়া ঘুম থাইক্কা উইঠঠা বসে। একে তো দুশ্চিন্তা যে সামসুর আওয়ার  সময় হইয়া গেছে আরেকদিকে অর্ঘুমে চোখ মুখ সব বইয়া গেছে। সারাক্ষণ মুহের ভিতর থুথু জমতে থাকে আর ধলু পিচিক পিচিক কইরা থুথু ফালায়।

আইজ বিকাল বেলায়ই ধলু ব্যাপারি তার চালা ঘরে ঢুইকা বোতল লইয়া বইছে। আক্কাসরে পাঠাইছে গঞ্জের বাজারে। সন্ধ্যা হইব হইব ভাব, এর মইধ্যেই ধলু মিয়ার আধা বোতল সাবার।  পুস্কুনি পাড়ে কেও নাই, হঠাত কইরাই শুনে কে যেন কানতেছে; ধলু মিয়া এদিক চায় ওদিক চায়, কাওরে দেহে না। চালাঘর থাইক্কা বাইর হইয়া পুস্কুনি পাড়ে আইসা খুঁজতাছে কে কান্দে? হঠাত কইরা পুস্কুনির দিকে চাইয়াই ধলু মিয়ার কইলজায় কামুড় দিয়া উঠলো। দেহে সামসুর হারামি বৌডা পানির থাইক্কা গলা বাইর কইরা তার দিকে চাইয়া রাইছে আর খুনখুন কইরা কানতাছে। ধলুর যেন জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পাইলো, চিৎকার কইরা উঠলো – ঐ মাগী কান্দস কেরে?   

সামসুর বৌ এর কান্দা বন্ধ হয় না, বরং বাড়তেই থাকে। খুনখুন কান্নাটা যেন ধলু মিয়ার মাথায় গিয়া বিনতাছে, সাথে সাথে কইত্থাইকা যানি এক অসম্ভব রকম ভয় শরীরে ভর করতে থাকে, ধলু মিয়ার হাত পা অবশ হইয়া আসতে থাকে।
ধলু মিয়া এইবার গলার স্বর নামাইয়া আস্তে আস্তে জিগাইলো, ঐ মাগী! তরে না মাইরা ছালার ভিতর ভইরা ডুবাইয়া দিসি? তুই উঠলি কেমনে?
সামসুর বৌ কথার জবাব দেয় না, খুনখুন কান্না বাড়তেই থাকে, সাথে সাথে বাড়তে থাকে ধলু মিয়ার ভয়।
ধলু মিয়া আবার জিগায় – ঐ মাগী! কি চাস তুই?
সামসুর বৌ এইবার কয় – মাটি চাই ব্যাপারি, মাটি চাই; পানিতে আর ভালো লাগতেছে না, আমারে পুস্কুনি থাইক্কা তুলো, গোসল দেও, জানাজা দেও, কব্বর দেও, মাটি দেও।
ধলু মিয়া এইবার ভয়ের চোটে সাদা হইয়া যাইতে লাগলো, কইলো ভাগ মাগী, ভাগ। দূর হ চোখের সামনে থাইক্কা! দূর হ মাগী, দূর হ।
সামসুর বৌ ঐদিকে ক্রমাগত কইতেই লাগলো – মাটি দেও, মাটি দেও, মাটি দেও, মাটি দেও, মাটি দেও………… যেনো সমস্ত পুস্কুনি জুইড়া পানিগুলোও একসাথে কইতে লাগলো মাটি দেও, মাটি দেও, মাটি দেও; আশেপাশের গাছগুলাও যেন সুর মিলাইলো – মাটি দেও, মাটি দেও, মাটি দেও।
এইবার ধলু ব্যাপারি ঘামতে লাগলো, ভয়ের চোটে দোয়া দুরূদ পড়তে চাইলো কিন্তু কিছুই মনে করতে পারলো না; আর চারিদিক থাইক্কা সবাই যেন কানের ভিতর ড্রাম বাজইতে লাগলো মাটি দেও, মাটি দেও, মাটি দেও …………।
ধলু ব্যাপারি নিজের অজান্তেই আস্তে আস্তে পুস্কুনির দিকে আগাইতে লাগলো, তারপর কে যেন তারে টাইন্না পুস্কুনির ভিতরে নিয়া যাইতে লাগলো। হাটু পানি, কোমর পানি, বুক পানি, তারপর অঠাই; ধলু ব্যাপারি ডুবতে লাগলো আর চারিদিক থাইক্কা রব উঠতে লাগলো মাটি দেও, মাটি দেও, মাটি দেও।

পরদিন সকালে ধলু ব্যাপারির লাশ ভাইসা উঠলো পুস্কুনির মইধ্যেখানে, পানির ভিতর মাথা দিয়া উপুর হইয়া ভাসতে আছে।


২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

#গল্প
মাটি দেও
 - যাযাবর জীবন