শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

মুখোশের ভেতর মুখোশ

মুখোশের ভেতর চেহারা, মুখোশের ভেতর মুখ

মুখোশ খুললেই আয়নায় চমকে উঠি, ওটা কার মুখ?


মুখোশের ভেতর মনের কাম লুকাই বাইরে আমি সাধু বনে যাই

হাসি মুখ সবাইকে দেখাই ক্রোধে উন্মত্ত চেহারা মুখোশে লুকাই 

বাইরে আলাভোলা মাটির মানুষ মুখোশের ভেতর লোভ আকাশে  

সবার সামনে ভালো মানুষ সেজে স্বার্থ ঢেকে রাখি রঙ্গিন মুখোশে 


মুখোশের বাইরে প্রেম প্রীতি ভালোবাসা ভেতরে রাগ অভিমান ঘৃণা 

বড্ড কঠিন মুখোশ পড়া মানুষগুলোর অনুভূতিগুলো চেনা 

সবার মুখেই মুখোশ আঁটা কারো রঙ্গিন কারো সাদাকালো 

ভেতরের চেহারা যতই কদাকার হোক বাইরেটা জমকালো 


আমি মনের যত আবেগ লুকাই হাসির মুখোশ পড়ে 

মনের ভেতরই রিপু লুকাই ভালোমানুষি ভাব ধরে 

হাসির মুখোশে দুঃখগুলো ঢাকতে পারে বলো ক'জনা? 

থাকুক না মুখোশে ঢাকা আমার সকল কালো আর ঘৃণা


বিপরীত এক জীবন আমাদের মুখোশের ভেতর মুখ 

দুঃখগুলো মনের মুখোশে সকলকে দেখাই সুখ

মুখোশ দেখে সবাই ভাবে, আহা! কি সুন্দর জীবন 

মুখোশের আড়ালে পরাজিত এক কান্নায় ভরা মন 

 

মুখোশের ভেতরেও মুখোশ থাকে যার যার মন জানে 

আয়না কখনো মিথ্যা বলে না মনের সাথে মনে। 


৩১ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

মুখোশের ভেতর মুখোশ 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 




শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

আজকালকার ডিজিটাল সন্তান

আজকাল সন্তানের কাছে বোধহয় খুব বেশি আশা করে ফেলছি!

আরে ওদেরও তো জীবন আছে! আছে সাদ আহ্লাদ, আনন্দ বেদনা 

আজকাল ওরা বড় হয়েছে, যার যার জীবন তার তার 

ওদের চাহিদাগুলো ঠিক যেন আমাদের সাথে মেলে না, 

কেন যে ভুলে যাই! ডানা গজালেই তো উড়ে যায় পাখির ছানা 

আরে! এগুলো তো মানুষের বাচ্চা, তাই হয়তো মায়া'টা কাটে না; 


আচ্ছা! কখনো আমার ছেলের পায়ের দিকে তাকিয়েছিলে?

তাকাও নি! তবে তো ব্র্যান্ডের জুতা কাকে বলে দেখই নি

সারাজীবন আমাকেই বলে এসেছ, ছেঁড়া স্যান্ডেলটা বদলাও

আমি হেসে উড়িয়ে দিয়েছি, আরে বাবা! আরও কদিন চলবে, 

আর না হলে মুচি তো আছে! এখনই হয় নি ফেলার কন্ডিশন 

জানো! আমার ছেলেটার না বড্ড ব্র্যান্ড ফ্যাসিনেশন;


আমার মেয়ের জামাটা দেখেছ? সে আবার কমফোর্ট খুঁজে 

আরে! ব্র্যান্ডের মাঝেই, ওটা আরও বড় সমস্যা, দুটোর কম্বিনেশন 

খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর! কি বললে? আমার ছেঁড়া পাঞ্জাবিটা! 

ওটা কিছু না, ওপর থেকে ভেতরের তালি বোঝাই যায় না,  

আর না না! এখনো হয় নি ফেলে দেয়ার কন্ডিশন 

আমার মেয়েটা বড্ড চ্যুজি আর তার ব্র্যান্ড ফ্যাসিনেশন;


এদের মানুষ করতে করতেই নিজের সব সাদ আহ্লাদ দিয়েছি বিসর্জন

মানুষ হয়েছে কি? কি জানি? হাতেপায়ে একটু বড় হতেই তো শুরু 

নানারকম চাহিদার আলাপন, আর নিত্য নতুন জামা জুতোর ফ্যাশন, 

সকাল সন্ধ্যা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সন্তানের চাহিদা, এটাই বাবা হওয়া

তিনবেলা মুখরোচক রান্না আর সন্তানের খাওয়া নিয়ে বায়না, এটাও মা হওয়া 

আমরা হয়তো শুধু বাবা-মা'ই হয়েছি, কিংবা সন্তানের চাহিদা পূরণ মেশিন; 


আজকাল সন্তানদের মাঝে মাঝে কাছে পেতে ইচ্ছে করে 

ইচ্ছে করে একসাথে বসে একটু গল্প করতে, একসাথে বসে খেতে

এরা ডিজিটাল সন্তান লেপ্টে থাকে ল্যাপটপে কিংবা মোবাইল স্ক্রিনে

বাবা-মায়ের ডাকে বড্ড বিরক্ত! এখন ব্যস্ত আছি, ডিস্টার্ব করো না তো!

মাঝে মধ্যে এক বাসায় বাস করেও সপ্তাহে দেখা হয় না, এটা কিছু হলো! 

আমরা তো এনালগ যুগের! ওদের দেখতে ইচ্ছে করে, কি করব বলো?


ওহ! তোমার সন্তান বড় হলো! এবার তো বিয়ের সময় হলো

ধারদেনা করে বিয়ের আয়োজন বাবা-মায়েরই করতে হলো,

তারপর? আরে আর বলো না, শ্বশুর বাড়িটাই আপন হয়ে গেলো 

বাবা-মা? আরে মরে তো যায় নি! বাসাতেই আছে, যেখানে ছিলো, 

মেয়ে তো শ্বশুর বাড়িতে, আলাদা সংসারে, শ্বশুর শাশুড়ি ভালো 

ছেলেটা? বুড়োবুড়ির সাথে আর কি থাকা যায়? এবার আলাদা হলো;


উড়তে শিখলেই পাখির ছানা আলাদা, যৌবনে পশুর ছানা 

বিয়েতে বুদ্ধি পাঁকে, আলাদা হয়ে যায়, আদরের মানুষ ছানা

বাবা-মা? আরে মাসে ছ'মাসে দেখতে আসে আদরের সন্তান

একলা দুজন দুজনার সহায়, সম্বল ঐ তো মাস গেলে পেনশন, 

ছেলের বড় চাকরি, রেফারেন্স শ্বশুরের, গাড়ি বাড়ি ঠাটবাট

কিছুই নেই বাবার, শ্বশুর বাড়িতে ছেলের লজ্জায় মাথায় হাত;


ডিজিটাল যুগের সন্তান ওরা বড্ড বেশি ডিজিটাল হয়ে গেছে

এনালগ যুগের বাবা-মা শুধু তাদের কাছে যন্ত্রণাই বয়ে এনেছে

পুরনো যুগের চিন্তাভাবনায় কেন যে বাবা-মা এতটা আদি?

ছেলেমেয়ে দুজনে মিলে বুদ্ধি করে এদের বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে দি,

এখানে আসার পর বুড়িটা টেঁসে গিয়েছে আমায় ফেলে একা 

বৃদ্ধাশ্রমে বসেই লিখছি আমার কাহিনী, কাগজে কলমে আঁকা।  

  


৩০ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

আজকালকার ডিজিটাল সন্তান 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





সময়ের বিস্মৃতি

একদিন ঘুম ভাংতেই ধড়ফড় উঠে বসি

একদিন ঘুম ভাংতেই পেছনের জীবনে উঁকি  

দর্পণের আর ভেতরের চেহারার মাঝে বিশাল ফারাক

মানুষের চেহারায় ওটা কি মানুষ নাকি?


এই যে দুটো চেহারা, ভেতর আর বাইরের!

কতই না কদাকার স্বার্থ রিপু আর লোভের 

সময়ে যদি দর্পণের দিকে তাকাতাম!

আজ হয়তো ওখানে মানুষ দেখতে পেতাম; 


কোন একদিন হয়তো ঘুমিয়ে যাব দিনে 

হয়তো সূর্য তখনো ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয় নি 

কোন একদিন হয়তো রাতের ঘুম ভাঙবে না 

আকাশে জ্বলতে থাকবে প্রিয় চাঁদনি; 


কোন একদিন হয়তো ঝুম বৃষ্টি নামবে

আমিই নামব না সেদিন বৃষ্টিবিলাসে

অপলক শুয়ে শুয়ে বৃষ্টি দেখতে থাকব

ঘোলা হয়ে যাওয়া মনিতে নিথর চোখে;  


এই যে সারাক্ষণ তোকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি! 

আজকাল ভীত মনের কিছু সান্ত্বনার অনুভূতি 

কেও তো আছে পাশে! ছুঁয়ে ছুঁয়ে থেকে  

গা ঠাণ্ডা হতে হতে পাব স্পর্শের উষ্ণ অনুভূতি;


ঘুমঘোরেই তোর হাতে বরফ অনুভূতি হতেই 

হয়তো ধড়ফড়িয়ে উঠে বসবি, বাতি জ্বালবি 

কান পাতবি বুকে, ধুকপুক কোথায়? নৈঃশব্দ্যতা 

আকুল কাঁদবি, বাড়ি জেগে যাবে তোর চিৎকারে;  


আরে মরণে ভয় কি রে বোকা? তুই'ই ছিলি শেষ স্পর্শে 

শুধু পেছনে তাকিয়ে ভয়, আমলনামায় কি নিয়ে যাচ্ছি সাথে!

একদিন সবাইকে যেতেই হয়, পেছনে রেখে যায় কিছু স্মৃতি 

কিছুদিন কাঁদবি, তারপর ফিকে হতে হতে সময়ের বিস্মৃতি।  


৩০ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

সময়ের বিস্মৃতি

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





বিশেষ সন্তান

তোমাদের স্কুলে আমার জায়গা হয় নি
না, না! তাতে আমার কোন দুঃখ নেই
আমি পড়ছি তো! পড়ছি বিশেষ স্কুলে
বিশেষ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে, তাদের ছায়া তলে;

এখানে আমরা সবাই বিশেষ শিশু
বিশেষ বিশেষ গুণে গুণান্বিত
কেও সব বুঝে, কিছু বলে না  
কেও অল্প স্বল্প বুঝে, বেশী বেশী বলে
কেও কিছু বুঝে না, শুধুই কথা বলে 
আমি তোমাদের অর্ধেক কথা বুঝেই চুপ করে থাকি,  
আমরা বোঝা আর না বোঝার দোলায় দোদুল্যমান
তোমরা সর্ব বোদ্ধা তবুও নও আমাদের সমান;

কিভাবে সমান হবে আমাদের বলো?
সমান হলে তো আমাদেরকে তোমাদের স্কুলেই জায়গা দিতে 
তোমাদের সাথে খেলতে নিতে
আমাদের সাথে তোমাদের টিফিন ভাগ করে খেতে 
তোমাদের পাশে বসতে দিতে
যেগুলো আমাদের বুঝতে কষ্ট হয় সেগুলো বুঝিয়ে দিতে, 
কই তোমাদের চোখে সব সময় দেখি কেমন এক অবজ্ঞা
একটু বোধহয় ঘৃণা, তাই না? 
অথচ আমরাও কিন্তু তোমাদেরই মত শিশু
হয়তো বুদ্ধিবৃত্তিতে তোমাদের থেকে একটু কম
কিংবা কে জানে! হয়তো তোমাদের থেকে অনেকটাই বেশী, 
তাই হয়তো তোমাদের মনে একরকম ভয়ের দোলা দোলে 
যদি এই বিশেষ শিশুরা তোমাদের থেকে ভালো ফল করে ফেলে!

ওহে! আমরা তোমাদেরই ভাই বোন
তোমাদেরই বাবা-মায়ের সন্তান 
কই আমার বাবা-মা তো ফেলে দেয় নি আমাকে!
তোমরা কেন ফেলে দিলে? 
আমাদের দেখে কেন তোমাদের চোখে এত ভয়?  
আর মনে সবসময়ই এক ধরণের অবজ্ঞার খেলা,     
ওহে! আমাদেরও হাসি পায়, আমাদেরও কান্না পায়
আমরা কিন্তু সবচেয়ে বেশি বুঝি তোমাদের অবহেলা;  

তোমরা আমাকে যতই অবহেলা কর আর কর অপমান 
আমি গর্বিত, আমি আমার বাবা মায়ের বিশেষ সন্তান। 


২৯ অক্টোবর, ২০২০

#কবিতা 
বিশেষ সন্তান
 - যাযাবর জীবন 

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 






 

অসংগতি

চারিদিকে বিবর্ণ সময় আর অসম অস্থির প্রতিযোগিতা 

আমার চোখ দেখে মেকি ন্যাকামি, কান শোনে অসংগতির কথা; 

 

কারো সময় জয়ের কারো পরাজয়ের

কারো লক্ষ্য পণ্যের কারো পসারের 

আজকাল সময় বড্ড শারীরিক আর আর অস্থির কামনা

চাবি দেওয়া রবোটিক জীবন কোথাও যেন থামে না, 

সময় ডিজিটাল হতে হতে কবে নিজেই ডিজিটাল হয়ে গেছি!

বাস্তবতার ছোঁয়ায় মাঝে মধ্যেই আঁতকে উঠে বলি, ওকি!


আচ্ছা! তোমরাই বলো কোথায় আছে মানবতা!

অসংগতি! সে তো জীবনের ভাঁজে ভাঁজে, তোমার চোখ দেখছে না? 


চাকরির বাজার? আজকাল দুরাশা আর হাহাকার

সরকারি চাকরি? ওহে! রেখেছ তো ঘুষের টাকার জোগাড়  

বেসরকারি? ওপর মহলের রেফারেন্স সঙ্গে আছে কি? 

কিংবা মামা চাচা কিংবা শ্বশুর বাড়ির আত্মীয় নাকি?

নিদেন পক্ষে কোন রাজনৈতিক দলের সিল ছাপ্পড় মারা!

কি বললে? কিছুই নেই! অন্য কিছু বল বাবা চাকরি ছাড়া;


কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড? সে তো ঘিয়ের খনি

ঘানি ভাঙ্গা সরিষার তেলেও তেল মারা হয় না বলেই জানি

ওখানেও শরীর বিক্রি কর্পোরেট দরে 

দরটা যে কি তা কর্ম ভেদে নির্ভর করে

শরীরটা কি নারী নাকি পুরুষের?

আজকাল মাংস হলেই চলে রুচির বদল বসের,

কেও পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন বানায়

কেও পণ্যের বিজ্ঞাপন বনে যায় 

ওটাও এক রকম তেলেসমাতি

পণ্য বনতে গেলেও আজকাল শুতে হয় নাকি;


চাহিদা যখন নারী মাংসের পণ্যের অবয়ব 

ক্যামেরার সামনে যাওয়ার জন্য আজকাল খুলে দেয় সব 

এও এক অসম প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপনের বাজার 

এক এক পণ্যের এক এক বিজ্ঞাপনে শরীরটা যার তার; 


ওহে! এটা শোবিজ জগৎ, রঙ আর ঢঙে বিজ্ঞাপনের তেলেসমাত

পণ্য যাই হোক না কেন! শরীর প্রদর্শনেই বিজ্ঞাপনের বাজিমাত; 


কথাগুলো বড্ড র হয়ে গেলো, তাই না!

কি করব বলো! চোখে তো আর ঠুলি লাগিয়ে থাকি না!

অসংগতিগুলো বড্ড চোখে লাগে আর অস্থির ওষ্ঠাগত প্রাণ 

কিংবা ডিজিটাল যুগে আমিই এনালগ, যুগের সাথে বেমানান, 

অসংগতি জীবনের প্রতিটা পদে পদে আর দৈনন্দিন জীবন চলায়

অনেকের গায়ে হুল ফুটে যায় যে কোন অসংগতির কথা বলায়;  


যেটুকু দেখছি সেটুকুই লিখছি কারো কারো অবশ্য গাত্রদাহ 

সাদা কাগজে অসংগতি আঁকলেই অনেকেরই পেছনে হয় প্রদাহ, 

হয়তো তোমরাই ঠিক আমিই বেঠিক শুধুশুধুই অসংগতি লিখে যাই

সকল সরল সোজা মানুষের ভীরে, হয়তো আমিই উল্টা মানুষ'রে ভাই;   


আমার সামনে অসংগতি দেখি, পেছনে অসংগতি আর অসংগতি চারিধার 

অসংগতির মাঝেই সংগতি খুঁজে বেড়াই, নিজেকে হারিয়ে বারবার। 




২৮ অক্টোবর, ২০২০


#কবিতা 

অসংগতি

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 




বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০

যাত্রা - গল্প

#গল্প

বেশ ভালোই কাটছিলো দিনগুলো। স্ত্রী সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে নিয়ে; মা’ও জীবিত ছিলেন সংসারে। আলহামদুলিল্লাহ্, আর কি চাই। টাকা পয়সার ঘাটতি! তা হয়তো ছিলো খানিকটা, কিন্তু সংসারে শান্তির কাছে ওটাকে খুব বেশী আমল পায় নি কখনো। গাধার খাটনি খাটতাম সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যার পর বাসা। পঞ্চাশ বছরের পুরুষের জীবনে আর কি চাওয়ার থাকে? 


একদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সবাই মিলে চায়ের টেবিলে খোশগল্পে মশগুল ছিলাম। মা বললেন, প্রেশারের ঔষধটা শেষ হয়ে গেছে রে খোকা। ছেলে বললো আমি নিয়ে আসি, আমি বললাম না রে, তোরা গল্প কর আমিই গিয়ে নিয়ে আসি; বলে বাসায় পড়ার গেঞ্জিটা খুলে একটা শার্ট পরে রওনা দিলাম ঔষধ কিনতে। বৌ কে জিজ্ঞাসা করলাম, বাসার জন্য আর কিছু লাগবে কিনা? বৌ বললো, নাহ! কিছু লাগবে না। 


ফার্মেসী বাসা থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা রাস্তা, বড় রাস্তাটা পাড় হয়ে যেতে হয়। আমি সাবধানে দেখেশুনে রাস্তা পার হয়ে ফার্মেসীতে গিয়ে ঔষধ কিনলাম; পরিচিত দু-জনের সাথে দেখা হলো, কুশলাদি বিনিময় করতে করতে পাঁচ ছয় মিনিট দেরি হয়ে গেলো। ঔষধ নিয়ে আবার বাসার দিকে রওনা দিলাম। সাবধানেই রাস্তা পার হচ্ছিলাম, কোথা থেকে হুট করে রাস্তার উল্টোদিক থেকে এক হোন্ডা এসে প্রায় গায়ের ওপর উঠিয়ে দিচ্ছিলো, আমি হোন্ডা থেকে গা বাঁচাতে একদিকে লাফ দিয়ে সরে যেতে গিয়ে হঠাৎ হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম, হাঁটুতে বেশ ব্যথা পেয়েছি; চোখে অন্ধকার দেখছি। কোনমতে চোখ কচলে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতেই রাস্তার সাথে গাড়ির টায়ার ঘষার প্রচণ্ড শব্দ কানে আসলো, চোখের সামনে দেখলাম একটা দৈত্যাকৃতি বাসের অবয়ব। পর-মুহূর্তেই মাথায় যেন কেও হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি মারলো; তারপর আর কিছু মনে নেই। 


আমি কি বেঁচে আছি? চারিদিকে অনেক মানুষের কথাবার্তা; কে কে যেন কি কি সব বলছে। আমার কি চোখ বন্ধ না খোলা? কিছুই বুঝতে পারছি না, সব যে কেমন আবছা ঘোলা ঘোলা। চেষ্টা করছি জোর করে পুরোপুরি চোখ মেলতে, কিন্তু কিছুতেই চোখের পাতা নড়াতে পারছি না। এ আমি কোথায় আছি? অর্ধ খোলা চোখে কোন পরিচিত মুখ নজরে পড়ছে না। কে যেন চোখে টর্চ মারলো, বুঝতে পারছি কিন্তু চোখের পাতা নাড়াতে পারছি না। ডাক্তার মনে হয়, তারমানে আমি এখনো বেঁচে আছি, কিন্তু পরিচিত জনারা কোথায়? ডাক্তার কি যেন বলছে, শব্দগুলো যেন মাথায় ঢুকি ঢুকি করেও ঢুকছে না। তারপর আবার চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেলো। 


কতক্ষণ পর সম্বিৎ ফিরে পেলাম জানি না। এবার পরিচিত গলা, ভাই এর গলা, আমার স্ত্রীর গলা, ছেলেমেয়ের গলা। ভাই যেন চিৎকার করে কাকে কি বলছে, ওর কথাগুলো বুঝতে পারছিলাম না। ভাইটা চিরকালই গোয়ার গোবিন্দ অথচ ওর চিৎকার চেঁচামেচিই যেন আমার সম্বিৎ ফিরিয়ে আনলো। স্ত্রী সন্তানদের কান্না শুনছি। আমি প্রাণপণে কিছু বলতে চাচ্ছি অথচ ঠোঁট নাড়াতে পারছি না, আমার স্ত্রী সন্তানকে দেখতে চাচ্ছি অথচ চোখ আগের মতই আমার বশে নেই; আধো আধো আলো আধো আধো অন্ধকারে শুধু ওদের কথাগুলোই কানে যাচ্ছে। ডাক্তারের সাথে আমার ভাই তর্ক করছে, চিকিৎসা নিয়ে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে; আরো কি কি যেন! ডাক্তার বললেন সরকারি হসপিটালে আমরা এর থেকে বেশী সুযোগ সুবিধা দিতে পারি না। ওদের কথা থেকে বুঝলাম আমি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে। আমার স্ত্রী বলছেন তাহলে আমরা অন্য কোন প্রাইভেট হসপিটালে নিয়ে যাই! ডাক্তার বলছে, লাভ হবে না; চোখের মণি ডাইলুট হয়ে গেছে, ওরা এর মধ্যেই সিটি স্ক্যান করে ফেলেছে; মস্তিষ্কের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ড্যামেজ দেখাচ্ছে। রোগী এখনো বেঁচে আছে এইতো আশ্চর্য! আমিও আশ্চর্য হয়ে গেলাম। তাদের কথা সব শুনছি, কিছু কিছু বুঝছি কিছু বুঝছি না; অসাড় হয়ে পড়ে আছি। ডাক্তার বললেন এখানে এভাবে ফেলে রাখলে কোন লাভ নেই, আপনারা ভেন্টিলেটর খুঁজুন; ওখানে রেখে অন্তত চেষ্টা করে দেখতে পারেন, এখানে থাকলে এমনিতেই মারা যাবে। আমার ভাই, স্ত্রী আরো কে কে যেন চারিদিকে ফোন দিতে লাগলো, শেষমেশ ভেন্টিলেটর এর সন্ধান মিললো শহরের দামী প্রাইভেট হসপিটালগুলোর একটাতে।   খবর পেতে যা দেরি, এবার এ্যাম্বুলেন্স খোঁজার পালা, ওটা পেতে দেরি হলো না। ওরা সবাই মিলে তাড়াহুড়ো করে আমাকে এ্যাম্বুলেন্সে ওঠালো। তারপর আবার অন্ধকার। 


এবার সম্বিৎ ফেরার পর শুনি কে যেন কথা বলছে, একটু পর হালকা নীল এপ্রোন পড়া এক নার্স এসে যেন মাথার কাছে কি করলো, কাকে যেন ডাকলো। একটু পর দেখি সাদা এপ্রোন গায়ে এক ডাক্তার পাশে এসে দাঁড়ালো; চোখের মাঝে আবার টর্চ ফেললো, অনেকক্ষণ ধরে চোখে টর্চের আলো, আমার অসহ্য লাগছে আবার কিছু বলতেও পারছি না। এবার চোখের পাতা টেনে ধরে আবার টর্চ জ্বালালেন নিভালেন, আবার জ্বালিয়েই রাখলেন; আমার চোখে কি খুঁজছে ওরা? জীবন না মৃত্যু! জানি না। শুধু অনুভব করতে পারছিলাম শরীরে বিভিন্ন জায়গায় কি কি যেন লাগানো আছে, কি সেটা বুঝছিলাম না। কোথাও যেন মেশিনের ক্রমাগত টিকটিক টিকটিক শব্দ, আমি আবার তলিয়ে গেলাম অন্ধকারে। 


কতক্ষণ, কতদিন এভাবে কেটেছে জানি না, মাঝে মধ্যে স্ত্রীর গলা শুনতে পাই, মাঝে মধ্যে ভাই এর, মাঝে মধ্যে ছেলেমেয়ের; একবার যেন মায়ের গলাও পেলাম। কেন জানি বাবাকে বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে, অথচ আমি জানি বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন প্রায় ছ বছর হলো; তবুও কেন বাবার কথাই মনে হচ্ছে? জানি না। 


একদিন সম্বিৎ ফিরলো মায়ের ডাকে, অনেক দূর থেকে যেন ডাক শুনতে পাচ্ছি; খোকা উঠ, খোকা উঠ! আমার ঔষধের দরকার নেই, তুই চোখ খোল। আমি প্রাণপণে উঠে বসার চেষ্টা করছি, অথচ অসাড় শরীরটা কোন কথাই শুনলো না। বোন কাঁদতে কাঁদতে এসে মা'কে সরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলো, মা কিছুতেই যাবেন না। এর মধ্যে ভাই এলো, ভাই বোন মিলে কথা বলছিলো – ভাবীর কাছে তো আর টাকা নেই রে, এদিকে প্রত্যেকদিন ভেন্টিলেটর চার্জ তো বিশাল অঙ্কের টাকা, ভাবী তার ভাই বোনের কাছ থেকে ধার করছে, আমাদেরও যতটুকু সম্ভব দেওয়া উচিৎ; মা কাঁদতে কাঁদতে ভাইকে বললেন আমার সঞ্চয়ে যা আছে তা ব্যাঙ্ক থেকে উঠিয়ে নিয়ে আয়।  

একদিন স্ত্রী এসে অনেক অনেকক্ষণ হাত ধরে পাশে বসে রইলো, বিড়বিড় করে কি যেন দোয়াদরূদ পড়ছে! আমি প্রাণপণে ওর হাতে হাত রাখতে চাইছি অথচ অসাড় শরীরটা এক সুতোও নড়াতে পারলাম না। আচ্ছা! আমি তো সব শুনছি, আধো আধো কিছু দেখছিও তবুও শরীরে কোথাও কোন সাড়া পাচ্ছি না কেন? একদিন শুনি ডাক্তার ভাইকে বলছেন, আপনারা শুধু শুধুই গুচ্ছের টাকা খরচ করছেন ভেন্টিলেটরে; কোন লাভ হচ্ছে না; এবার ভেন্টিলেটরটা সরিয়ে নিন, ওনাকে যেতে দিন। আমি চমকে উঠলাম। 


একদিন শুনি আমার স্ত্রী আমার ছেলেকে বলছেন, তোর বোনের বিয়ের জন্য আলমারিতে রাখা গয়নাগুলো নিয়ে বেঁচে দিয়ে আয় বাবা, সবার কাছ থেকেই তো ধার করে ফেলেছি, আর তো কেও বাকি নাই। বিল পরিশোধ না করলে তো তোর বাবাকে আর এখানে রাখতে পারবো না; হু হু করে বিল বেড়েই চলেছে। আমার কান্না পেয়ে গেলো, চোখের জল কি গড়ালো! নাহ! তাহলে তো ওরা দেখতে পেত।

 

আজকাল বেশিরভাগ সময় অন্ধকারেই থাকি, মাঝে মাঝে যেন এখানে ফিরে আসি। এক একবার যেন জীবিতরা আমায় টানে, ওদের কাছে বড্ড ফিরে আসতে ইচ্ছে করে; আবার এক একসময় যেন আমার মৃত বাবা, দাদা দাদীর ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম। ঘোরের মধ্যে ঠিক বুঝতে পারছি না আমার স্ত্রী সন্তানদের ফিরে আসবো না বাবার কাছে চলে যাব! কোন একদিন সম্বিৎ ফিরলো ডাক্তারের উত্তপ্ত কথায়। ডাক্তার বলছেন আপনারা বিল ক্লিয়ার করুন নয়তো আমরা ভেন্টিলেটর খুলে দিতে বাধ্য হবো। ভাই অনেক কাকুতি মিনতি করছে, আর দুটো দিন সময় দিন; ওনার ফ্ল্যাটটা বিক্রি করারা চেষ্টা করছি। আমার ভাই ডাক্তারকে বলছেন, ভাই আপনার তো অনেক টাকা, আপনি কিনে নেন না! আমরা অনেক সস্তায় ছেড়ে দেব, আমার ভাই কে বাঁচাতে না পারলে ফ্ল্যাট দিয়ে কি করবো? আমার ভেতরটা কেঁপে উঠলো। ফ্ল্যাটটা বেঁচে দিলে আমার ছেলেমেয়েগুলো কোথায় থাকবে? ওদের তো মাথাগোঁজার ঠাই ঐ ফ্লাটটাই। আমি আল্লাহ্‌কে ডাকতে লাগলাম, হে আল্লাহ্! আমাকে এবার নিয়ে যান, আমার সন্তানদের মাথার ওপরের ছাদটা'তো থাকুক! মনে মনেই কাঁদছি শুধু, কেও শুনছে না। 


ভাই এর মুখ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রির কথা শোনার পর থেকে হঠাত করেই আমার জীবিতদের মাঝে ফিরে আসার ইচ্ছেটা অসাড় হতে শুরু করলো, সমস্ত স্বত্বা দিয়ে যেন চিৎকার করে বলতে চেষ্টা করছি আমার সন্তানদের মাথার ছাদের বিনিময়ে আমি ফিরতে চাই না। আমি একমনে আল্লাহ্‌কে ডাকতে লাগলাম আমাকে বাবার কাছে নিয়ে যাবার জন্য। 


হয়তো মহান আল্লাহ্ তায়ালা আমার ডাক শুনতে পেলেন। আমার প্রায় অসাড় সম্বিতে একদিন ডাক্তারদের চিৎকার শুনতে পেলাম; নার্স হার্ট-বিট কমে যাচ্ছে, পালস নেমে যাচ্ছে! দৌড়ে কি জানি একটা ইনজেকশন আনতে বললেন, বুকের ওপর যেন আচমকা এক শক অনুভব করলাম; ওরা কি শক দিয়ে আমার হৃদপিণ্ড চালাতে চাচ্ছে? হবে হয়তো! আমার চোখের ওপরের আধো আলোটা ধীরে ধীরে কমে আসতে লাগলো, সামনে একটা অন্ধকার গহ্বর দেখতে পেলাম, গহ্বর এর দূর ওপাশটায় যেন এক অপার্থিব আলো। অনেক দূরে ওপাশে আলোতে যেন বাবা দাঁড়িয়ে আছেন, তারও পেছনে যেন দাদা দাদী, ওনাদের পাশে নানা নানী; ইশারায় যেন আমাকে ডাকছেন। আমি ওদের ডাকে সাড়া দিয়ে গহ্বরে ঢুকে যেতে যেতেই যেন খুব সহসাই আমার সমস্ত জীবনটা চোখের সামনে চলে আসতে লাগলো, আমার জন্ম, আমার শৈশব, আমার কৈশোর, যৌবন, বিয়ে সংসার ছেলেমেয়ে সব, সব দেখতে লাগলাম ছবির মত; তারপর প্রৌঢ়ত্বে এসে ধাক্কা খেলাম বাসের সাথে। আমি গহ্বরের ভেতরে ঢুকে যেতে লাগলাম, মনে একটা অদ্ভুত প্রশান্তি – যাক! আমার স্ত্রী সন্তানদের মাথার ওপরের ছাদটা'তো থাকবে! থাকুক। ওরা ভালো থাকুক, অনেক অনেক ভালো; অনেক অনেক অনেক ভালো। তারপর একসময় সব অন্ধকার হয়ে গেলো। 


০২ অক্টোবর, ২০২০ 


#গল্প

যাত্রা 

- যাযাবর জীবন 

 


একটি দুঃখী ব্রাশের আত্মকাহিনী - রম্য

#রম্য

আমি একটি দুঃখি ব্রাশ; গরীব লোকজন আমারে দিয়া দাঁত মাজে। ব্রাশ সমাজে আমার অবস্থান নিচের দিকে, আমার জীবন শুরু জিঞ্জিরার চিপে। ওরা যদিও আমার গায়ে সিল মাইরা সেনসোডাইন নাম লাগাইছে, তবুও আমি নকল সেনসোডাইন। আমার বিক্রি ফুটপাতে। 


আসল সেনসোডাইন বিক্রি হয় মনোহারি দোকানে, ১০০ থাইক্কা ১৫০টাকা দরে।আমারে কিছু গরীব মানুষ ফুটপাতে লইয়া বয়, দরদাম বিশ টাকা থাইক্কা শুরু হয়। কিছু ভালো মানুষ আছে ২০টাকাতেই কিনে, কেও দরদাম করতে করতে ১০টাকায় নামায়; আর কিছু বদমাইশ আছে দামাদামিতে তিনটা কিনে ২০টাকা দরে। আমার কদর কমে সস্তার দরে। 


তবে ঐ ওপরতলার সেনসোডাইন থাইক্কা আমার ব্যবহারের ক্ষেত্র অনেক বেশি, এইটা ভাইব্বা আরাম লাগে। বড় লোকেরা দাঁত ব্রাশ করার কাজে ব্যবহারের পর ব্রান্ডের সেনসোডাইন ফিক্কা ডাস্টবিনে ফালায় দেয়, তাও এক থাইক্কা দেড় মাস পরে পরে; ওগোর জীবন ঐ এক দেড় মাসেই সীমিত;  তারপর জায়গা হয় ভাগারে।


আমার বিচিত্র জীবন, নতুন ব্রাশ পাইয়া গরীব পোলাপাইনগুলা খুশি হয় সবচেয়ে বেশী, ব্রাশ করব কি কামড়াইয়া কামড়াইয়া আমারে ফাতাফাতা কইরা ফালায়, যত কামড়ায় আমার সুখ তত বাইরা যায়। আহহারে! বাচ্চাটা কি সুন্দর কামড়াইতাছে; মাঝে মাঝে আনন্দে আমার চোক্ষে পানি আইসা যায়! তয় বাড়ির গিন্নিগুলো বড্ড খচ্চর, বাচ্চারে ব্রাশ কামড়াইতে দেখলে ডাইনি বুড়ীর লাহান হা হা কইরা ছুইট্টা আহে মাঝে মইধ্যে মুখের ঝাড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকে মাঝে মইধ্য বাচ্চার পিঠে ধুম ধুম হাতের শান্তি করে; আসলে বাচ্চার উপ্রে জামাইয়ের কিলগুলার শোধ লয়, আমার মনে হয়।

তারপর মাসের পর মাস দাঁতের ঘষায় আমার ছালছিবড়া উইঠা যায়, যহন আর দাঁত মাজনের লাহান ছিবড়ায় দম থাহে না তহন হাতবদল হইয়া আমি খন্নাস গিন্নির কবলে, আমার দিয়া হের চিরুনির ময়লা পরিস্কার করে, ইশশ! তহন কি অপমানডাই না লাগে!


আরে ব্রাশের কাম দাঁত ঘষা, তা ছোবড়া উইঠা গেলে ফালায় দে! তা না। চলতে থাকে আমার চিরুনির ময়লা পরিস্কার করার কাম, যতদিন ছোবড়ায় থাকে দম! তারপর যহন ডান্ডির গায়ে চুলের লাহান ছিবড়া বইলাও কিছু থাকে না তহন খালি ডান্ডিখান। আমি ভাবলাম এইবার বুঝি ফালাইব আমারে। কিসের কি? বেটি আমার ডান্ডি কামে লাগায় তার পেটিকোটের ফিতার ড্রাইভার হিসাবে। পেটিকোটের ফিতা আটকাইলো তো আমার ডান্ডি, জামাই এর পায়জামার ফিতা লাগাইব, তো আমার ডান্ডি! পেটিকোটের চিপের ভিত্রে দিয়া ফিতা লইয়া ছুটতে ছুটতে দম আটকাইয়া আহে; মান ইজ্জত তো খুইয়া বইছি হেই খন্নাস বেটির চিরুনীর পরিস্কার করতে গিয়াই! ভাবি কতদিন আর এইভাবে ধুইকা ধুইকা জীবন? ততদিন যতদিন না হের পেটিকোটের চিপের ভিত্রে হান্দাইয়া ডান্ডির টেমপার মইরা গিয়া দম আটকাইয়া ভাইঙ্গা দুই টুকরা হইয়া যাই। তারপর শান্তি। আমারে ঢিলা দিয়া ফালায় দেয় বাড়ির চিপায়, নইলে ডাষ্টবিনে।  


আমি চিরকুটের গান গাইতে থাকি মরতে মরতে, আহারে জীবন! জীবন জীবন......... 


১০টাকার ব্রাশের এক থেকে দুই বছরের জীবন, আর কে পারে মানুষরে এত কম টাকায় এত বেশীদিন সার্ভিস দিতে? 



০৭ জুলাই, ২০২০ 

#রম্য 

একটি দুঃখী ব্রাশের আত্মকাহিনী 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত।