রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১০

হ্রদয়ে কান পেত না

হ্রদয়ে কান পেত না
সইতে পারবে না।

কান পেতো না বুকে মোর
ওখানে হ্রদয় ধ্বক ধ্বক করে না
এখানে কোন মিস্টি কবিতা গুনগুন করে না
এখানে কোন পাখি কোকিল সুরে ডাকে না
ওখানে যে হ্রদয়ের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে
না বলা সব কথামালা
না দেখা অনেক কান্না
আর হাহাকার ধ্বনি সব
সইতে পারবে না।

তবু কান পাতবে বুকে মোর?
সইতে কি পারবে সব?
যদি কান পাত বুকে মোর -

এখানে শুনবে রাজনীতিবিদ, আমলা বুদ্ধিজীবি
কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের
উচ্চকন্ঠে বলা সব ফাকা বুলি ,
বড় বড় কথা মালা
স্বাধীনতা নিয়ে, স্বৈরাচার নিয়ে, রাজাকার নিয়ে
কিংবা শুধু কথায় দেশটাকে বেচে দিয়ে।

ওখানে যে শোনা যায় খিদের যন্ত্রনায় কাতর
অভুক্ত সব পথ শিশুদের কান্নার ধবনি
কিংবা ছাল ওঠা ভুখোপেটা কুকুরের আর্তনাদ
মিলে মিশে একাকার হয়ে।

মাতমের মাদল ধবনি বাজে ওখানে,
সন্ত্রাসীদের হাতে বিধবা ওই নব্য বিবাহিতা কিশোরীর
কিংবা সন্তান হারানো মায়ের
কিংবা বাবা হারানো ওই ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলির ।

ওখানে রয়ে গেছে বুড়ো বাবা মায়ের একেলাপন, দীর্ঘশ্বাস
তাদের না দেওয়া সব অভিশাপগুলো,
যা ছিল ওই কুলাঙ্গার সন্তানের প্রাপ্য
যে আজ রেখে এসেছে বাবা-মা’কে বৃদ্ধাশ্রমে
কোন এক কুহকিনীর মায়ার ছলানায় ভুলে।


ওখানে শুনতে পাবে অন্ধকার রাস্তায় কুহেলিয়া বাঁশি ধবনি
যেখানে জরিনা, সখিনারা ফেরি করে নরমাংস
নারিলোলুপ হায়েনাদের কাছে
শুধু দু মুঠো খাবার জোটানোর তাগিদে;
শুনবে কি
ওই বেশ্যাদের বোবাকান্না
মাংসলোভী পিশাচের অট্টহাসি আর
নোংরা শিশ্নের ক্ষুধা মেটানোর শিৎকার ধ্বনি?
আর পৈশাচিক আনন্দের মাসুল ওই
লোলচর্ম বেশ্যার জঠোরে ধরা
পিশাচের নোংরা বিরজে জন্ম
অবৈধ নবজাতকের কান্না।

বলেছিলেম তোমায় –
হ্রদয়ে কান পেত না

সইতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১০

তুমি আর তুমিতে মাখামাখি


তোমাকে নিয়ে আমার স্বপ্নগুলো
আঁকিঝুকি কাটে মনের আকাশে
আমার অনেক পাওয়া আর না পাওয়ার বেদনাবিধুর
ওই স্বপ্নগুলি মোর

জীবনের ভিরে জীবন সংগ্রামে হারিয়ে যাই মাঝে মাঝে
তাই কথা হয় না সহসাই তোমার সনে
কিন্তু তুমি আছ, থাক প্রানে মোর সর্বদাই
চেতনায়, কিংবা কল্পনায়, মনে মনে।

কিছু কিছু মুখ আছে যাকে ভাবতে হয় না
চেহারাটা ভেসে ওঠে মনের আয়নায়
যেমন তুমি

কিছু কিছু রূপ আছে ভোলা যায় না
যারা স্নিগ্ধ কিরণ ছড়ায় মনের আকাশে
যেমন তুমি

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা মনে আসে সর্বদাই
চিন্তায় বা চেতনায়
যেমন তুমি


যার মুখ নেই সে কথা বলে হাতে লিখে
যার হ্রদয় নেই সে প্রকাশ করে ভালোবেসে
আর আমার তো আমি’তেই নেই
হারিয়েছি কবে তোমার মাঝে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।

টুকরো কথাগুলি সাজাই শুধু
মনে মনে
আর কথা বলি নিজমনে
একাকি তোমার সনে।

তুমি শুধু তুমি নয় আজ
হয়ে আছ আমার জীবনে শুধু
তুমি হয়ে
আমার জীবনের সাথে মিলেমিশে
তুমি আর তুমি'তে মাখামাখি হয়ে।

শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১০

বিবর্ন সময়

বিবর্ণ সময় আজ বিবর্ণ প্রজাপতি
বিবর্ণ দিন শেষে নামে বিষন্ন রাতি
অন্ধকার চারিধার অন্ধ আজ আমি
শুধু তোমকেই খুঁজে ফিরে।

ব্যকুল হয়ে আকাশেতে খুজ়েফিরি
হাজার তারার মাঝে সুকতারা খানি
দিশাহারা প্রানের দিশা খুঁজি ফিরে
সুকতারা আর চন্দ্রেরও ভিরে।

বিবর্ণ কুয়াশায় চাঁদ ঢাকা হায়
আলৌকিক রূপ নিয়ে রাত্রি নামায়
আমি পড়ে রই বিবর্ণ কালের মাঝে
শুধু তোমারই পথ চেয়ে বিষন্ন হ্রদয়ে।

বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১০

তোমার জন্য


ডানা মেলতে ইচ্ছে করে সাত আসমান পরে

রংধনু কস্টগুলোকে ঈগলের ডানায় মাখিয়ে নিয়ে

উড়িয়ে আকাশের গায়

ফিরে আসব হয়তো আবার আমি বক হয়ে

শুভ্র সাদা গায়

শুধু তোমার জন্য।

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

কথা মালা

আমি কুলে বসে আছি
পথ চেয়ে আকুল হয়ে
তোমার সাথে শুধু কথা বলব বলে
হ্রদয়ে যে অনেক কথা মালা গাঁথা আছে
গল্প জমে চলেছে প্রতিদিন এক পাহাড় সম
শুধু বলব বলে, চেয়ে তোমার আঁখিতে আঁখিতে।

মনে মনে আর কতকাল কথা কব
তুমিতে আমিতে?
কতকাল একসাথে হেঁটে যাওয়া হয় নি আমাদের
নদীকুল ধরে, হাতে হাত রেখে
কতকাল কথা বলি না তুমিতে আমিতে
চেয়ে চেয়ে ওই আঁখিতে আঁখিতে
অনন্তকালের কথা জমে আছে সব
বলে কি শেষ করা যাবে এক জীবন কালে?

শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০

জীবনের ঘন্টা

সেই সকাল থেকে স্টেশনে বসে আছি
ট্রেনটা আসব আসব করছে সেই কখন থেকে
স্টেশন বোঝাই লোকজন অপেক্ষার প্রহর গুনছে
গুনছি আমিও, স্টেশনের কোনার দিকের একটা বেঞ্চ এ বসে একাকী
কান পেতে আছি কু ঝিক ঝিক আওয়াজের অপেক্ষায়
ট্রেনের ঘন্টাধ্বনি শুনতে কি পাই?
নাকি শুনি জীবনের ঘন্টাধ্বনি!

প্রতিক্ষা শূন্যতায়

এক মুঠো অন্ধকার হাতে করে বসে আছি।
তারার মেলার মিটিমিটি আলোখেলা
নারকেল পাতায় পিছলে নামা জোস্নার ছায়া,
আর ওই আলো আধারির অপরূপ খেলা
এখন আর হ্রদয় আপ্লুত করে না।

একরাশ কালো অন্ধকার হ্রদয়ে চেপে বসে আছি।
কাশবনে হিমেল হাওয়া
বসন্তের কোকিলের কুহুতান ধ্বনি
কিংবা মাটি থেকে প্রথম বৃস্টির ভাপ ওঠা
মিস্টি মধুর সোঁদা সোঁদা গন্ধ
এখন আর হ্রদয়ে দোলা জাগায় না।

এক জীবন অন্ধকার বুকে ধরে বসে আছি।
শূন্যতার ভিতর, শূন্য চোখে অন্ধকারের দিকে চেয়ে
আর শুধু প্রতিক্ষা প্রতি পলের
তুমি ফিরে আসবে বলে।