হ্রদয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হ্রদয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১১

না বলা কথাগুলি

বলা হয়নি কথাগুলো সব
ছিল যা মনের কোনে,
গুনগুনিয়ে গান গাওয়া হয়নি
তোমারই কানে কানে।

গাঁথা হয়নি কথামালাগুলো
ছিল যা হ্রদয় কোনে
পড়িয়ে দিতে পারিনি যে আমি
ঝুমকো গেঁথে কানে।

হ্রদয়ের কথা হ্রদয়েতে ধরে
ছিলেম চুপটি করে
আশা ছিল মনে বুঝে নেবে তুমি
বুঝনিকো তুমি মোরে।

আশার দুপুর গড়িয়ে বিকেল
সন্ধ্যা নামে পথ চলতে
দ্বিধা ভরা রাত গড়িয়ে সকাল
মুখ ফুটে তবু পারিনি বলতে।

ঠারেঠোরে ইশারাতে
কত কথা বলি যে তোমায়
ভালোবেসেছি যে শুধু তোমাকে
একথাটি কেন বোঝ নিকো হায়।

ভালোবাসি তোমায় এ কথাটি বলতে
এত দ্বিধা ভোগে কেন যে মন
তুমি ছাড়া সেথা আর কেহ নাই
খুলে দেখ হ্রদয়ের প্রতিটি কোন।


শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১০

দহনের জ্বালা


ভালোবাসা মানে এক একজনের কাছে এক এক রকম
কেও ভালোবাসে দূর থেকে
কেও বা কাছে এসে
তোমার ভালোবাসা তীব্র ঝড়ের মত ধেয়ে চলে মিলনের পানে
আর আমার ভালোবাসা?
সে যে শুন্যতায় ঘেরা তোমাকে ভেবে ভেবে, মনে মনে
শান্ত নদীর মত, কোমল বাতাসের মত
নৈঃশব্দের মাঝে কবিতার গুনগুন ধ্বনি
এখানে আবার তোমার উপস্থিতি ঝড় হয়ে আসতে পারে, আমার মনে
ক্ষতবিক্ষত হ্রদয় অনলে কেন পোড়াতে চাও আবার কাছে এসে
এতটুকু বোঝ না কেন তুমি?
কেন জানান দিতে চাও নুপূর পায়ে আগমন বানী?
দহনের জ্বালা বোঝা হয়ে গেছে আমার অনেক আগেই
তুমি চলে যাবার কালে
আমায় কস্ট দিতে কেন এত ভালো লাগে তোমার
আমাকেই শুধু?

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১০

ভালোবাসার খাঁদ

তোমাকে দেখলেই বুকে ধাক্কা লাগে
না দেখে থাকতে পারি না একমুহুর্তও
বলতে পার কেন এমন হয়?

বৃস্টির দিনগুলিতে যখন
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজি আর মনে মনে ভাবি
চাঁদনি রাতে যখন শরীর জুরে জ্যোৎস্না মাখি
আর মনে মনে ভাবি
সাগরের তীর ধরে বালুকাবেলায় যখন
হেটে চলি একা একা বহুদুর পানে
অথবা যখন সাঁতার কাটি অস্রুজলে
আর কথা বলি মনে মনে
কেন যেন সারাক্ষন তুমি থাক আমার হ্রদয় জুড়ে
চোখ বন্ধ করে স্বপ্নাপ্লুত আবেশে
আমি বেশ থাকি ভেবে,
আছ তুমি আমার হাতদুটি ধরে
স্বপ্ন জগত থেকে বের হয়ে খুজি তোমার হাতখানি
বাড়াই হাত দুটি আমার তোমাকে একটুখানি ছুয়ে নিতে
কোথায় তুমি? শুন্য চারিধার............
স্বপ্নভংগ, আবার একা একা পথচলা

অনন্দিতা, তুমি আছ শুধু আমার স্বপ্নেরই দেশে
আছ তুমি শুধু হ্রদয় মাঝে
বস্তবতায় আছে শুধু শুন্যতা, আর অপেক্ষার প্রহরগুলো
তোমারই জন্য, শুধু তোমারই জন্য।

বলতে পার,
কতটা বৃস্টি হলে নদীতে বান ডাকে
কতটা অন্ধকার হলে অমানিশা হয়
বলতে পার কি, কতটুকু হ্রদয় পুড়লে
ভালোবাসা হয়?

হয়ত আমার ভালোবাসাতে খাঁদ ছিল অনেকটুকু
তাই হয়তো পারি নি তোমার হ্রদয় ছুঁতে
পাই নি তোমায়,
আমার পথচলার সাথী হতে ।

সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১০

আঁচরের গভীরতা হ্রদয়ে

ভালোবেসেছিলে তুমি আমায় ঝড়ো হাওয়া হয়ে ঝড়ের মত করে
ভালোবাসা জাগিয়েছিলে তুমি আমার হ্রদয়ে
ধিরে ধিরে, মৃদু মধুর বাতাশের লয়ে

ভালোবেসে তুমি আছড়ে পড়েছিলে সাগরের তীব্র ঢেউ এর মত করে
আমি বয়ে চলেছিলেম ঐ নদীটার শান্ত ছোট ঢেউ হয়ে
কুলুকুলু বেগে এগিয়েছিলেম তোমা পানে

ভালোবাসার দহনে তুমি জ্বালিয়েছিলে পেট্রোলিয়ামের তীব্র দহে
আমি জ্বলেছিলাম কয়লার আগুন হয়ে
ধ্বিকিধ্বিকি পুড়ে নিঃশেষ হতে

তুমি ভালোবেসেছিলে মধ্যগগনের সূর্যটার তীব্রতা নিয়ে
আমি ভালোবেসেছিলেম তোমাকে
জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধতায় মেখে

তুমি ভালোবেসে খরগোসের গতিতে ছুটে এসেছিলে আমার পানে
আমি কচ্ছপের গতিতে হেঁটেছিলেম
তোমা পানে ধীর লয়ে

আজ আর সেই ভালোবাসা নেই
তোমার, আমার কিংবা
আমাদের দুজনের কারো মাঝেই
শুধু রয়ে গেছে আঁচর কিছু হ্রদয়ের মাঝে
কারোটা হালকা হয়ে
আর কারো গভীর ভাবে।

সাগরের ঢেউ আছড়ে পরে শেষ হয়ে যায় বালুকাবেলায়
নদীর ঢেউ বয়ে আনে বন্যা চারি ধার
তীব্র ঝড় লন্ডভন্ড করে দেয় আশ পাশ
ক্ষনিকের তরে
ধীরে আসা বন্যা ক্ষতি করে যায় চারি পাশ
রেখে যায় তার দীর্ঘছাপ
বহুকাল ধরে
তেলের আগুন পুড়ে নিঃশেষ হয় বাতাসে
কয়লার আগুন জ্বলে ধ্বিক ধ্বিক করে
সূর্যের দাহ পোড়ায় শুধু কস্ট দিতে
জ্যোৎস্না কিরণ বিকায় আজো শান্তি রূপে।

বন্য ভালোবাসা চলে আসে হঠাৎ করে
তীব্র রূপে ক্ষনিকের তরে
হ্রদয়ে হয়তো আঁচর কাটে
গভীর হয়ে না বসে;
ধীর লয়ে যে ভালোবাসা আসে
কোমল রূপে ধিরে ধিরে
ধীর লয়ে দাগ কাটে হ্রদয়ে
দাঁত বসাতে থাকে আস্তে আস্তে করে
মস্তিস্কের কোষে কোষে
আঁচর কাটে গভীর করে
আর কামড়ে ছিঁড়ে হ্রদয় প্রতিদিন
শুধু রক্ত ঝরাতে।

রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১০

কস্ট

আমি তোমায় দেখি না, সে কতকাল হয়ে গেছে

এখন শুধু ভাপ ওঠা ধোঁয়া ভাসে আকাশে বাতাশে

কস্টগূলো পুড়ে পুড়ে

তোমাকে না পাওয়ার বেদনাটুকু খুড়ছে হ্রদয়

রক্তে ভাসাতে, একটু একটু করে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১০

হ্রদয়ের তলদেশে তুমি

হ্রদয়ের তলদেশে খুঁজে পাই
গভীর অন্ধকার
শুধু তুমিতে তুমিতে একাকার।

তোমাকে মনে পড়ছে খুব করে আজ
হ্রদয়ের পরতে পরেতে শ্যওলা জমে আছে
তোমার স্মৃতিগুলো আজ বেদনা হয়ে
টুকরো টুকরো কথামালা
আর ছোট ছোট অভিমান
মন ভার করে আছে পাহাড় সমান।

ইট কাঠ আর পাথরের শহর হতে
পালাতে হবে খুব তারাতারি
হ্রদয় পাথর হওয়ার আগে
তোমার স্মৃতিগুলো বুকে ধরে
নইলে হয়তোবা আমিও তোমার মত
কাঠ বনে যাব
বাস্তবতার কঠিন নিস্পেষনে।

বড্ড দূরে যেতে ইচ্ছে করছে আজ
নির্মম শহর ছেড়ে
আকাশের কোল ঘেষে
দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়স্রেনীর কাছে
যেখানে ঝরণা নদী সব এক হয়ে মিশে আছে
যেখানে হ্রদয় সরোবর হতে
অস্রুধারা গুলো কুলুকুলু রবে
ধীর গড়িয়ে নেমে যাবে
পাহাড়ের কোল ঘেসে
সাগরের পানে
খুঁজে নিতে তোমায়
যেথায় তোমার বাস
নদী জল হতে অস্রুজলটুকু
আলাদা করে নিতে পারবে কি আজ!

নাহ, পাহাড়ে যাব না
যদি দুটি জলরাশি কে আলাদা করতে না পার
তবে নদীজল সব নোনা হয়ে যাবে
পৃথিবীতে নেমে আসবে মিঠে জলের হাহাকার
হ্রদয়ের হাহাকার গুলিকে ছাপিয়ে।

তার থেকে বনে চলে যাব
যেখানে বুনো ফুলের গন্ধের সাথে
মিলেমিশে এক হয়ে আছে
তোমার গায়ের গন্ধখানি
যেখানে বুনো হরিণী খেলা করে আজ
তোমার প্রথম ভালোবাসা দিনের
চপল চঞ্চলতায়
যেথায় প্রজাপতি ডানায় রংধনু রঙ ছড়ায়
তোমার ভালোবাসায় রঙে রাঙিয়ে
সিদুর লাল হতে যে ভালোবাসা
মুছে গেছে বেদনার নীলে হারিয়ে।

আবার না হয় বনের মাতাল রূপ দেখব
যত রূপে দেখেছিলেম তোমায়
তোমাকে হারানোর বেদনায়
প্রকৃতির মাঝে নিজেকে হারাব
আর খুঁজে নেব তোমায় সেথায়
হ্রদয়ের গভীর তলদেশ হতে।

রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১০

হ্রদয়ে কান পেত না

হ্রদয়ে কান পেত না
সইতে পারবে না।

কান পেতো না বুকে মোর
ওখানে হ্রদয় ধ্বক ধ্বক করে না
এখানে কোন মিস্টি কবিতা গুনগুন করে না
এখানে কোন পাখি কোকিল সুরে ডাকে না
ওখানে যে হ্রদয়ের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে
না বলা সব কথামালা
না দেখা অনেক কান্না
আর হাহাকার ধ্বনি সব
সইতে পারবে না।

তবু কান পাতবে বুকে মোর?
সইতে কি পারবে সব?
যদি কান পাত বুকে মোর -

এখানে শুনবে রাজনীতিবিদ, আমলা বুদ্ধিজীবি
কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের
উচ্চকন্ঠে বলা সব ফাকা বুলি ,
বড় বড় কথা মালা
স্বাধীনতা নিয়ে, স্বৈরাচার নিয়ে, রাজাকার নিয়ে
কিংবা শুধু কথায় দেশটাকে বেচে দিয়ে।

ওখানে যে শোনা যায় খিদের যন্ত্রনায় কাতর
অভুক্ত সব পথ শিশুদের কান্নার ধবনি
কিংবা ছাল ওঠা ভুখোপেটা কুকুরের আর্তনাদ
মিলে মিশে একাকার হয়ে।

মাতমের মাদল ধবনি বাজে ওখানে,
সন্ত্রাসীদের হাতে বিধবা ওই নব্য বিবাহিতা কিশোরীর
কিংবা সন্তান হারানো মায়ের
কিংবা বাবা হারানো ওই ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলির ।

ওখানে রয়ে গেছে বুড়ো বাবা মায়ের একেলাপন, দীর্ঘশ্বাস
তাদের না দেওয়া সব অভিশাপগুলো,
যা ছিল ওই কুলাঙ্গার সন্তানের প্রাপ্য
যে আজ রেখে এসেছে বাবা-মা’কে বৃদ্ধাশ্রমে
কোন এক কুহকিনীর মায়ার ছলানায় ভুলে।


ওখানে শুনতে পাবে অন্ধকার রাস্তায় কুহেলিয়া বাঁশি ধবনি
যেখানে জরিনা, সখিনারা ফেরি করে নরমাংস
নারিলোলুপ হায়েনাদের কাছে
শুধু দু মুঠো খাবার জোটানোর তাগিদে;
শুনবে কি
ওই বেশ্যাদের বোবাকান্না
মাংসলোভী পিশাচের অট্টহাসি আর
নোংরা শিশ্নের ক্ষুধা মেটানোর শিৎকার ধ্বনি?
আর পৈশাচিক আনন্দের মাসুল ওই
লোলচর্ম বেশ্যার জঠোরে ধরা
পিশাচের নোংরা বিরজে জন্ম
অবৈধ নবজাতকের কান্না।

বলেছিলেম তোমায় –
হ্রদয়ে কান পেত না

সইতে পারবে না।