বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫

মাটির টান



মাটির টান
- যাযাবর জীবন

মাটির ডাকে এসেছি মাটিতে
মাটির শরীর সংগে নিয়ে;
আমি
তুই
সে,
আর বাকি সকলে;
মাটির দেহের এত বড়াই কেন তবে, মাটির রূপ দিয়ে?

বালু ঘড়ির টিক টিক শোন নি কান পেতে?
ডাকছে আমাদের মাটির দিকে;
মাটির দেহ সবই এক
রূপের হাতছানি অনেক অনেক
রমণ সুখের পার্থক্য কোথায়?
ব্যভিচারের পথে শরীরের ভিন্নতায়;
তবুও আকাঙ্ক্ষা বহুগামী রমণে
আর গা ভাসানো ব্যভিচারে, কারণে অকারণে।

এগোচ্ছি কি সময়ের সাথে আমরা সমুখের পানে?
না কি এগোচ্ছি মাটির পানে, মাটির টানে।



অনিদ্রার রাত



অনিদ্রার রাত
- যাযাবর জীবন

শরীরের টানে কাছে আসায়, ভালোবাসা কোথায়?
কুকুরও কাছে টানে কুকুরীকে, ভাদ্রে;

শীতের রাতে দম্পতি ওম খোঁজে লেপের তলায়,
তুই জেগে আছিস কেন চোখে শিশির মেখে? পৌষের রাতে।


অনুভবের কাব্য



অনুভবের কাব্য

- যাযাবর জীবন

প্রেমিকা ঘরণী না হলে তাকে নিয়ে শুধুই কাব্য করা যায়
প্রাত্যহিক জীবন যাপনে তার স্থান কোথায়?
অনুভবে ক্ষুধা মেটে না
পেটের কিংবা দেহের,
কবিতা'তো শুধুমাত্র অনুভবের।

মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

কাগজ কলম বিহীন চিঠি



কাগজ কলম বিহীন চিঠি
- যাযাবর জীবন

অনেক দিন পর চিঠি লিখতে ইচ্ছে করছে তোকে
সেই সে আগেকার মত
সেই পুরনো দিনের ভালোবাসার মত;

একটু মন ভালো হতেই একটা চিঠি
একটু মন খারাপ হতেই একটা চিঠি
একটা চুমু খেতে ইচ্ছে হলেই একটা চিঠি
একটু জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হলেই একটা চিঠি
বাহানা খুঁজতাম চিঠি লিখার তোর থেকে দূরে গেলেই
পুরনো সেই দিনগুলো বড্ড মনে পড়ে
আর আমাদের ভালোবাসা চিঠি লিখার ছলে;

অনেক দিন হলো চিঠি লিখা হয় না তোকে
হয়তো কালি ফুরিয়ে গেছে
কিংবা কাগজ
কিংবা মন
আর নয়তো সময়,
কিছু একটা হবে হয়তো!

আজ অনেক অনেক দিন পর চিঠি লিখতে ইচ্ছে করছে তোকে
সেই সে আগের দিনের মত;
শীতের রাতে চিঠি লিখার মজাই আলাদা
পৌষের রাতে ভালোবাসার মজাই আলাদা,
আর কিছু প্রেমের কথা
তোর আর আমার,
কাগজ কলম বিহীন চিঠিতে।




শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫

অসমাপ্ত গল্প



অসমাপ্ত গল্প
- যাযাবর জীবন

একটা গল্প বলি শোন,
একটা ছেলে ছিল অন্ধকার রাত
একটা মেয়ে ছিল চাঁদের পানে যার হাত
প্রেমে পড়লো দুজন
কিছুদিন মনে তাদের পাখিদের কূজন
কিছুকাল খুব দহরম মহরম
তারপর তালে বেতাল হতেই
বাঁশিতে রাগ বেসুরা
তারপর দা-কুমড়া
তারপর সেই আগের জায়গায় যে যার মতন,
কিংবা মেয়েটা অমাবস্যা হলো
ছেলেটা হয়তো হারিয়ে গেলো।

থাক,
অসম প্রেমের গল্প আজ অসমাপ্ত থাক
আজ পূর্ণিমার রাত;

চল আজ আকাশ দেখি
চল আজ জ্যোৎস্না মাখি।


শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

বাঁক



বাঁক
- যাযাবর জীবন

কত বাঁক নদীর
কত বাঁক নারীর
জোয়ার ভাটার মন
মনের বাঁক গভীর;

আমারও সাধ জাগে কচুরিপানা হতে,
ভাসতে কিংবা ডুবতে
নদী ও নারীতে।


সম্পর্কের ধরণ



সম্পর্কের ধরণ
- যাযাবর জীবন

কিছু সম্পর্ক রক্তের
কিছু বন্ধুত্বের
একটি মাত্র সম্পর্ক দাম্পত্যের
সব সম্পর্কই স্বার্থের,
গড়ায় কিংবা ভাঙ্গায়;
কিছু সম্পর্ক ভালোলাগার
কিছু ভরসার
আর কিছু কাঁদায়
সব সম্পর্কই বিশ্বাসের,
ভাঙে বিশ্বাসহীনতায়;

কিছু সম্পর্ক ওপর ওপর দেখাবার
কিছু সম্পর্ক শুধুই অনুভবের
কিছু সম্পর্ক বলে বোঝাবার নয়
কিছু সম্পর্ক অনেক দূর থেকেও মনে গভীর রয়
কিছু কিছু সম্পর্কে ভালোবাসা-বাসি হয়
কিছু সম্পর্ক স্বার্থের কারণে এক হয়
কিছু সম্পর্ক শুধুই ঘৃণায় বেঁচে রয়,
খুব কাছের সম্পর্কগুলোও মাঝে মাঝে খুব বেশি অচেনা মনে হয়
যুগ যুগ এক ছাদের নীচে কাটিয়ে দিয়েও যেন কেও কারো নয়;

তোর আর আমার সম্পর্ক আজো অবোধ্য, আমার কাছে।




বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

ওম



ওম
- যাযাবর জীবন

শীতের সন্ধ্যে চুমুর গন্ধে ম ম
কামগন্ধে রাতের হাতছানি
কতদিন মুখ গুঁজি না তোর বুকের ভাঁজে! একটু ওম নিতে,
আমার চোখে রাত নামার আগেই
তুই গভীর ঘুমে,
অতৃপ্ত কামনায় মন কাটে রাতঘুমে;

অনেক দিন ম ম করে না ঠোঁট চুমুর গন্ধে
তুই শহর ছাড়তেই জাঁকিয়ে শীত নেমেছিল ঊরুর ভাঁজে।

বিকেল স্বপ্ন


বিকেল স্বপ্ন
- যাযাবর জীবন

শীতের বিকেল
হিমেল হাওয়া
ঝিরিঝিরি কুয়াশা
ঠোঁটের ওমে ঠোঁট
কফির কাপে চুমুক
পাশে তুই;
চুমুকে চুমুকে চুমু
স্বপ্ন না সত্যি
ভেবে বিহ্বল রই
তোর ঠোঁটকে ঠোঁটে ছুঁই
তারপর দু-জনা একসাথে
কফির কাপে চুমুক
আমার পাশে তুই।

শীতের বিকেলে
লেপের আয়েশে
স্বপ্ন দেখতে কার না ইচ্ছে করে?
তুই বড্ড জ্বালাস
যখন তখন, স্মৃতি হয়ে।


মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

মন খারাপের রাত



মন খারাপের রাত
- যাযাবর জীবন

আজ মনমরা জোছনা
আজ রাতের গায়ে কুয়াশা
আজ মনমরা রাত
আজ মন খারাপে বিষণ্ণ চাঁদ;

আজ তোর ও তার দুজনারই মন খারাপ,
আমি দেখেছি তার কান্না তোর মন খারাপে
আমি দেখেছি তোর কান্না তোর হাসির আড়ালে,
আমার মনখারাপ না হয় আড়াল দিলাম আজ কুয়াশার চাদরে।


সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫

নয়ছয়



নয়ছয়
- যাযাবর জীবন

আঙুলগুলো হাতের নয়
শরীর যখন মনের নয়,
যখন হৃদয় খেলায় নয়ছয়
তখনই সূর্যে অমাবস্যা;

নারী তুই মনের ছিলি কবে?


পরিবর্তন



পরিবর্তন
- যাযাবর জীবন

একটা সময় থাকে শরীরের দিকে মন যায়
তারপর সময় গড়ালে মনের দিকে চোখ ধায়
কোন একটা সময়ে চোখে চোখ রাখার সময় কোথায়?
একটা সময় আসে অবসরে মন তাকাবার,
পরিবর্তন হয় ভালোবাসার ধরণ
পরিবর্তন সময়ের কারণ
চোখ বন্ধ করলেই পরিবর্তন স্বপ্নে
স্বপ্ন বন্ধ হলেই পরিবর্তন মনে
যখন অলীক কল্পনা ভেঙে যায় চোখ তাকালে
তখন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হাসে ওপরে বসে;

ডুব সাঁতারে চোখের নিমিষে সময়গুলো পারি দেয় খুনি সময়
তারপর ঘুম ভাঙ্গলে পরিবর্তন আসতেই হয়
শরীর ও মনে
স্বপ্নে ও জাগরণে
ভালোবাসা ও ঘৃণায়;

পরিবর্তন আসতেই হয় সম্পর্কে
চোখ মেলে চোখ তাকালে
মন খুলে মন দেখলে।


রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

অসভ্য রাত



অসভ্য রাত
- যাযাবর জীবন

কিছু রাত্রি ঘন অন্ধকার
কিছু রাত্রি পাহারা দেয় ঘুম
কিছু রাত্রি জেগে কাটায়
কিছু রাত্রি ঘুমে দেয় চুম;

কেও রাত্রিতে ঘুমায়
কেও নির্ঘুম চোখ পোড়ায়
কেও ঘুমায় প্রিয়ার বুকে
কারো অশ্রু প্রিয়ার শোকে;

কারো রাত্রি অমাবস্যা
তো কারো চাঁদনিময়
রাত্রিগুলো রাতেই আসে
দিনের আলো করতে ক্ষয়;

কারো রাত্রি ঘুমোচ্ছে আজ গভীর ঘুমে
মধুচন্দ্রিমায় কারো ঠোঁট জেগে গভীর চুমে
কিছু রাত্রির হাতে অন্ধকার রাখে ঘুমের হাত
অজর প্রেমে কাওকে জাগিয়ে রাখে অসভ্য রাত;

রাত্রিরও তো মাঝে মাঝে অসভ্য হতে ইচ্ছে করে
রতি রত যুগলের মত;
সব রাত'তো আর ঘুমের জন্য নয়
চাঁদনি রাত শুধুই চাঁদের।

প্রেম পার্থক্য



প্রেম পার্থক্য
- যাযাবর জীবন

প্রেম আর কতক্ষণের?
কুকুরও প্রেম করে ভাদ্রে
কুকুরী অনেকগুলো বাচ্চা বিয়োয় একসাথে,
প্রেমের সমাপ্তিতে চিৎমোচড়ে গড়াগড়ি বিড়ালিনীর
বিড়ালছানাগুলো বিড়ালিনীকে ঘিরে থাকে
বিড়াল কোথায়?
পশুর প্রেম সে তো জনসমক্ষে
মানুষও প্রেম করে, চুপেচাপে;

দায়িত্ব শুধুই কুকুরীর
বিড়ালিনীর
কিংবা নারীর,
সন্তান পালনে;

নরের প্রেম যখন শুধুই ডুবসাঁতারে ঠাকুর ডোবানোর নাম,
তখন মানুষ আর পশুর প্রেমের পার্থক্য কোথায়?


শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৫

শবচন্দ্রিমা



শবচন্দ্রিমা
- যাযাবর জীবন


মৃত শরীরে আজ পূর্ণিমা
আজ বৃষ্টি নামবে পড়ে থাকা শবে
কাম খুবলে খাবে দেহ
জেগে থাকবে চোখ;
আজ না হয় প্রথমবারের মত
শবচন্দ্রিমা হোক;

দেহটা পড়ে আছে সারারাত রমণ শেষে
শবের দেহে নতুন প্রাণ
শরীরে জেগেছিল তার শবচন্দ্রিমার গান,
তারপর
ঘর্মাক্ত পিঠে জ্যোৎস্না চমকায়
শবের চোখে স্বপ্নালু চাঁদ;

শরীর কথা বললে প্রেম আসবেই
শব কিংবা মানবের দেহে।


শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫

নিয়তি


নিয়তি
- যাযাবর জীবন

নিয়তি: চলেছিস কোথায়?
আমি: জীবন বড্ড কঠিন, ঘরে থাকার সময় কোথায়?

নিয়তি: এত ব্যস্ততা?
আমি: কাজ না করলে খাব কি?

নিয়তি: কোথা থেকে শুরু? কতদূর যাবি?
আমি: মায়ের কোল থেকে শুরু
হাঁটি হাঁটি পা পা
শৈশবে মা মা
কৈশোরে দুরন্তপনা
যৌবনে প্রেম, ভাব ভালোবাসা
তারপর ঘর সংসার
তারপর ছেলে মেয়ে সংসার
তারপর ঘাড়ে সংসারের বোঝা
ভাতের ক্ষুধা
জীবিকার অহ্নেষণ
তারপর জীবন যেখানে যেমন
বল্গাহীন চাহিদা আর অপ্রাপ্তির অনুভব
এর ঘাড়ে চড়ে ওর ঘাড় ভাঙ্গা
তারপর আরো আরো আরো চাওয়া
সীমাহীন চাহিদা
ছুটে চলা ছুটে চলা
রেসের ঘোড়ায় ছুটে চলা
এভাবেই চলছে জীবন......

নিয়তি: তারপর?
আমি: তার আর পর নেই

নিয়তি: গন্তব্য
আমি: জানা নেই

নিয়তি: এই নে এক মুঠো মাটি
আমি: কি হবে এতে?

নিয়তি: মুচকি হেসে বলে -
এতে'ই তোর শুরু
আবার এতে'ই ফিরে আসবি
আর বাকি সবই "আমি"।

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৫

চাঁদে অন্ধকার



চাঁদে অন্ধকার
- যাযাবর জীবন

কালো কফির চুমুকে তোর রাত্রি বিলাস
লাল মগে ক্ষরণ আমার
অনুভূতিগুলো আজকাল অবসন্ন তোর
প্রেমের চিৎকারে অন্ধকার;

মুঠো মুঠো চাঁদ সব দিয়েছি তোকে
তোর জীবনে জ্যোৎস্না কই?
চাঁদনি ধরতে গেলেই আমি
তো'তেই অন্ধ হই।





বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

নিস্তব্ধ কবিতা



নিস্তব্ধ কবিতা
- যাযাবর জীবন

কথা বললেই ক্ষরণ
কলমের আঁচড়েই দহন
তবে না হয় চুপ হোক আজকের রাত;

আজ না হয় নিস্তব্ধ কবিতায় অশ্রুপাত।




মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

বদল



বদল
- যাযাবর জীবন

অনেকটাই বদলেছিস তুই
বদলেছে বাঁশি,
বদলেছে সুর, তাল, লয়
বদলে গেছে সময়;

করুণ হতে হতে প্রেমের বাঁশরি সুর বদলায়
রাতের সাথে বদলায় কালোর তারতম্য
ফিকে হতে হতে রঙ বদলায় ভোর,
ভেজা অশ্রুর লোনা স্বাদ নদী হয়ে গেছে
মহুয়ার মাদকতা নেই তোর বুকের ঘ্রাণে
আজকাল তুই চাঁদের সাথে হেসে উঠিস
সূর্যের সাথে চোখ মেলিস
ঘুমের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিস আঁধার রাতে
পুরোপুরি মানুষ হয়ে উঠেছিস তুই বন্য হতে হতে,
বদলাতে বদলাতে হয়তো পুরোটাই বদলে ফেলেছিস নিজেকে;

ভালোবাসার কোন লিঙ্গ নেই
সবার সাথেই মানিয়ে যায় সে খুব সহজেই
তোর সাথে
আমার সাথে
হাসির সাথে
কান্নার সাথে
মিলনের সাথে
বিচ্ছেদের সাথে
কিংবা সময়ের সাথে সাথে;

কিছুটা'তো বদলাতে হবেই এবার আমাকে।

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

অবগাহন


অবগাহন
- যাযাবর জীবন

আমার আর চাঁদনির মাঝে যোগসূত্র চাঁদ
আমার আর জ্যোৎস্নার মাঝে হাইফেন অমাবস্যা
বাকি সব সম্পর্ক অন্ধকার
ভালোবাসা বেদনার;

চাঁদের ঈর্ষা যখনই চাঁদনির সাথে
প্রেমে অন্ধকার আসে তখন নেমে
জ্যোৎস্না ধরেছিল কে, কোথায়, কবে?
তুই ক্রমাগত ভিজে চলেছিস প্রেমে;

শারীরিক আকর্ষণ তো কিছু থাকেই প্রেমে
ক্ষরণ থাকে ভালোবাসায় বিরহ নামে;
তাই বলে কি ভালোবাসলেই ভিজে যেতে হয়?
কান্নায় কিংবা কামে।

শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

ভালোবাসার প্রতারণা



ভালোবাসার প্রতারণা
- যাযাবর জীবন

প্রেম আসতেই থাকে জীবনে
মন যদি থাকে রক্তমাংসের শরীরে;
শৈশবে বাল্যপ্রেম কিছুদিন
কৈশোরে মন কেমন কেমন উদাসীন
উথালপাথাল যৌবনে ভালোবাসা রঙিন
বিয়ের পর ঘরকুনো কিছুদিন
তারপর মন আবার বল্গাহরিণ
প্রেমসাগরে ডুবে থেকেও জীবন যেন প্রেমহীন;
পর নারীতে নরের মন ছোক ছোক
পর পুরুষে নারীর বাঁকা চোখ
শরীর যতদিন কথা বলে শরীরের সাথে
একের পর এক প্রেম আসতেই থাকে
মনের আর কি দোষ
এ যে ভালোবাসা রোগ।

শরীর ঘুমিয়ে যাওয়ার পর কোন একদিন দেখে নিস
থরে থরে সাজানো ভালোবাসার মমিগুলো
প্রেম যাদুঘরের দরজা খুলে;
আর অখণ্ড অবসরে পাঠ করিস প্রতারণার সব পুঁথি কাব্য,
প্রেমিকের সাথে প্রেমিকার
স্বামীর সাথে স্ত্রীর
আর নিজের সাথে নিজের, ভালোবাসার নামে।




শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

অসম অনুভূতি



অসম অনুভূতি
- যাযাবর জীবন

মানব মানবীর সম্পর্কগুলো শরীর বৃত্তিও
প্রেম নিমিত্ত মাত্র
অনুভূতিগুলো হয়তো ক্ষরণ ঘটায়
ভালোবাসা বায়বীয়।

স্বপ্নভঙ্গে ভোকাট্টা প্রেম-ঘুড়ি
আঘাতে বোধোদয়,
প্রেম কোথায়?
শুধুই কষ্ট কষ্ট অনুভব।

ফুলদানির হাসি বাহারি তাজা ফুলে?
অশ্রু-নয়নে রাতভর তারা গোনা, ভালোবাসা নয়।

তুই এখনো জ্যোৎস্না দেখিস
আমার চোখে রাত্রি;

ভালোবাসার বায়বীয় অনুভূতিগুলো এত অসম কেন?

আমি আজো মন পাহারা দিচ্ছি
তুই অপেক্ষায় ভালোবাসার ঘরে, কেওর মেলে।


বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

চাঁদচক্র



চাঁদচক্র
- যাযাবর জীবন

চাঁদচক্রে জ্যোৎস্নার মৃত্যুর পরও বাকি থাকে কিছু রাত
ঘুমের বোঝাপড়া ভোরের সাথে,
চাঁদের সাথে সূর্যের সংঘাত
সকালের সাথে বিকেলের
অভিমানের সাথে ভালোবাসার
তোর সাথে আমার,
তারপর সন্ধ্যের পরে অবসন্ন রাত
আর একা একা দুজনের বিরহের বিলাপ।

আমাবস্যার রাত পার হতেই ব্লাউজের বোতাম খোলে নতুন চাঁদ
আলো আসবেই জ্যোৎস্নায়,
তারপর না হয় ভালোবাসার স্রোতে ভাসিয়ে নিস আমায়
কি আসে যায়, জোয়ার কিংবা ভাটায়?
যখন তুই আমি একসাথে
আর মনে ভালোবাসার সংলাপ।

চাঁদচক্রে জ্যোৎস্না আসবেই ঘুরেফিরে
প্রত্যেক অমাবস্যার পরে,
অভিমানের বাস ভালোবাসার ঘরে।



প্রেম ঘড়ি


প্রেম ঘড়ি
- যাযাবর জীবন

শরীর কদিনের?
সকালে স্নিগ্ধ সূর্যোদয়
দুপুর কামে পুড়তে চায় সবাই
শরীরে বিকেল ঢলতেই সূর্যের তেজ মরে আসে
রাত্রি দুজনার স্পর্শানুভবের;

জীবন কদিনের?
ভালোবাসা অনুভবে।

বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৫

স্বার্থপরতা



স্বার্থপরতা
- যাযাবর জীবন

আমার চারিদিকে কতগুলো মানুষ ঘোরে
কতগুলো মানুষ খুব কাছে আসে
মানুষগুলো খুব আদরে কাছে ডাকে
পথের বাঁকে বাঁকে অপেক্ষায় থাকে
জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে থাকে
প্রায়ঃশই আমায় বলে ভালোবাসে,
আমার বোঝার সাধ্য কই?
ভালোবাসার সংজ্ঞা জানা নেই আমার।

আমার চারিদিকে কতগুলো মানুষ ঘোরে
তারা আমায় চায় খুব আপন করে
তাতে আমার কি যায় আসে?
আমার সকল চাওয়া তো শুধুই নিজের তরে,
পেয়ে আমি খুব অভ্যস্ত
দেবার প্রয়োজন বোধ করি নি কাওকে কখনো
স্বার্থপরের রাজ্যে আমার আধিপত্য একচ্ছত্র
দূরে থাকো সবাই আমার কাছ থেকে।

মানবের প্রেম তো মানবীর সাথে
স্বার্থপরের স্থান কোথায় ভালোবাসার ঘরে?



মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৫

এলোমেলো বাঁশি


এলোমেলো বাঁশি
- যাযাবর জীবন

চৌরসিয়ার বাঁশিতে রাত নামতেই
মনে হাহাকার
স্তব্ধ তবলার ধা তিন তিন
রাতের চোখে পানি
নিঃশব্দ পৃথিবী
নিঃশব্দ তুই
নিঃশব্দ আমি;
রাতের বাঁশিতেও আলো জ্বলে
যদি প্রেম থাকে মনে
চৌরসিয়ার বাঁশিতে প্রেম জাগতেই সূর্যের হাসি
সকালের মুখে
তোর চোখে;
আর নয়তো কাঁদে প্রেমহীন অন্ধকার
কাঁদে রাত
আর আমি
একা একা তবলার ধা তিন তিনে।




সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৫

সাদাকালো রঙ



সাদাকালো রঙ
- যাযাবর জীবন

সবার মনে রঙ
সবার মনে ঢং
সব রঙের মন সাজাতে হবে সব রঙে
সব ঢঙের মান ভাঙাতে হবে সব ঢঙে;
আমি না হয় সাদাকালোই রইলাম
বাস্তব মেনে।


ভালোবাসার নোনাবাতাস



ভালোবাসার নোনাবাতাস
- যাযাবর জীবন

আমার অশ্রু কান্নার
তোর অশ্রু ভালোবাসার
নোনা হতে হতে ভালোবাসাও কান্না হয়
কান্নার অশ্রু'তো আর ভালোবাসা নয়;

আমরা বেদনায় কাঁদি
কাছে আসা আর না আসার
পরস্পর ছুঁতে পারা আর না পারার
দুজন দুজনকে ভালোবাসা আর না বাসার;

তবুও আমরা প্রতিদিনই ভালোবাসি
প্রতিদিনই ঘৃণায় জ্বলি
চোখেতে বাষ্প গড়ি
বাতাস নোনা করি,
কারণে আর অকারণে;

যখন তখনই আমাদের মনে নোনাবাতাস বয়
সব লবণজল'তো আর কান্না নয়।





শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৫

ব্যঞ্জনপ্রেম



ব্যঞ্জনপ্রেম
- যাযাবর জীবন


অস্থির অসময়ের অদৃশ্য বলয়ে সকলেই যেন অশান্ত
আকাঙ্ক্ষিত আগামীর আশায় আঙিনা জুড়ে আকুল আষাঢ়ে স্বপ্ন
ইঁচড়েপাকা ইচ্ছেগুলো ইতস্তত মুখ থুবড়ে ইষ্টিশনে পড়ে থাকে বিকল ইঞ্জিনের মত
ঈশানকোণে ঈর্ষামেঘের ইঙ্গিতে ঈর্ষাকাতর মনে ঈর্ষানল জ্বলে উঠলেই ভালোবাসা ঈগল ডানায়
উম্মাদিয় উপস্থাপনার উপহাসে উৎসর্গ উভয়ের প্রেম উপাখ্যান
ঊর্বশীর ঊরুসন্ধির ঘ্রাণে ঊর্ধ্বশ্বাস ঊনকোটি ঊর্মিমালীর
ঋতুতে ঋতুতে রঙ বদল প্রকৃতি ও নারীর, ঋণ শুধতে হয় শুধুই নরের
একা একা চলার পথে এলেবেলে একটু হাওয়ায় এটেল মাটির ন্যায় এঁটে বসে একাকীত্ব
ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঐকল্য ঘুচিয়ে দিয়ে ঐতিহাসিক হতে পারাই যেন আজকালকার প্রেমের ঐতিহ্য
ওড়নার তলে ওম নিতে ওৎ পেতে থাকা প্রেমিকের ওষ্ঠ শুকিয়ে আসে হিসেবের ওলোটপালট হলে
ঔজ্জ্বল্য মরে যায় ভালোবাসার, ঔদ্ধত্যে কিংবা ঔদাস্যে।






ঘুমঘোরে স্বপ্নদের ঠুকঠাক


ঘুমঘোরে স্বপ্নদের ঠুকঠাক
- যাযাবর জীবন

অনেক দিন হলো গল্পটা অসমাপ্ত রয়ে গেল
অনেক দিন হলো কবিতাটা লেখা হলো না
অনেক দিন হলো ছবিটা আঁকা হলো না
ইদানীং কোন কিছুরই ইচ্ছে জাগে না;
বেলা কেটে যায় ছোট ছোট ভাত-ঘুমে
স্বপ্নেরা আসে ছোট ছোট স্প্যানে
মাথায় ঠোকর দিয়েই উড়ালডানা,
বড্ড বিরক্ত লাগে;
পানিতে বাতাস ঠোকরায় মাছগুলো
গাছে কাঠঠোকরার ঠুকঠুক ঠুকঠুক
স্বপ্নদের ঠোকরের আমার মাথায় তবলার তালে
আর ঠোঁট ঠুকরে মধু খেয়ে যাস তুই ঘুমঘোরে
আমি রক্তের স্বাদ পাই ঘুম ভেঙ্গে;

অসমাপ্ত রয়ে যায় জীবনের ছোট ছোট গল্পগুলো
অসমাপ্ত ছবি আর কবিতাগুলো
স্বপ্নে অধুরা তুই
অসমাপ্ত আমি;
ঘুমঘোরে স্বপ্নদের ঠুকঠাক
বেশ কেটে যাচ্ছে জীবন, অতৃপ্ত তৃপ্তিতে।

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

শীতল


শীতল
- যাযাবর জীবন

দেহের গরমে পারদের ওঠানামা শরীর জুড়ে
কাম মিটে গেলে সেই তো বরফ
তুই
আমি
দুজনে;
প্রেমের পারদের ওঠানামা মনের ভাপে,
ঈর্ষায় ভাপে সূর্য গরম
অভিমানে চন্দ্রে গ্রহণ
থার্মোমিটারের কি এসে যায় প্রেমে অথবা কামে?
পারদের ওঠানামা'তো শুধুই ঠাণ্ডা কিংবা গরমে;

তোর গরমে শীতল হতে হতে আমি বরফ হয়ে গিয়েছি
কিংবা তোর
ঈর্ষা
আর অভিমানে,
শিহরণ জাগে না এখন আর তোর চুমে।



শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৫

গ্রহণ



গ্রহণ
- যাযাবর জীবন

রাত নেমে আসতেই তুই চাঁদনি হলি
ভালোবাসার সাথে বোঝাপড়া শেষ হয় নি আমার
আলো সবার
আমি অন্ধকার
তুই প্রেমের সূর্য জ্বেলে পূবাকাশে
আমিই গ্রহণ তোর আকাশে।



আলো আঁধার


আলো আঁধার
- যাযাবর জীবন

দিন শেষ হওয়ার আগেই আমি অন্ধকার হয়ে যাই
সূর্যের সাথে বোঝাপড়া শুধুই তোর;
চাঁদ সবার
আমি চাঁদনির,
এবার তুই জ্যোৎস্না হয়ে যা;
রাত শেষ হওয়ার আগেই আমি আলো হতে চাই।



মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৫

দেয়া নেয়া


দেয়া নেয়া
- যাযাবর জীবন

সম্পর্কগুলো বেশিরভাগই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট
অর্থ
ভালোবাসা
কিংবা শরীরবৃত্তীয়;
গ্রহণ করতে হয় ততটুকু
দানের ক্ষমতা আছে ঠিক যতটুকু
হোক সে অর্থ
ভালোবাসা
কিংবা অন্যকিছু;
আর নয়তো লোভের শুরু বিন্দুতে
পাপ গড়ায় সিন্ধুতে
স্বার্থে কিংবা ভালোবাসায়
অথবা নিছক মন দেয়া নেয়ায়;
দানের আনন্দ বোঝে সে
মন খুলে দিতে পারে যে
অর্থ
ভালোবাসা
কিংবা অন্যকিছু;
গ্রহণের মাঝে আছে শুধুই দৈনতা
হোক সে অর্থ
স্বার্থ
কিংবা নিছক ভালোবাসা।




সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৫

আশীর্বাদ


আশীর্বাদ
- যাযাবর জীবন

তোর চাঁদেতে থাকুক আমার স্পর্শ একটুখানি
অমাবস্যার রাত্রি আমি কালো অনেকখানি
তোর সূর্যে ভাগ নেব না চাই না দিনের আলো
ভালোবাসায় মেঘ হয়ে যাই অন্ধকারের কালো;
একলা তুই একলা আমি একলা রাতের চাঁদ
ভালোবাসার হাতছানিতে অনেক গভীর ফাঁদ
একলা রাতে একলা বনে একলা হরিণ কাঁদে
পড়েছিল সেও যে বাঁধা গভীর প্রণয় ফাঁদে;
যেদিন আমি থাকব না কান্না বুকে ভিজুক
আমার কথা মনে করে চাই না কেও কাঁদুক
জ্যোৎস্না কিরণ তোর ওপরে চিরদিনই থাকুক
কেও তো মনে খুব গভীরে তোকে ভালোবাসুক।



আজো ক্ষরণ



আজো ক্ষরণ
- যাযাবর জীবন

তোর চোখের দিকে তাকাই নি
আজ
কাল
বা পরশু;
কথা হয় নি তোর সাথে
এমাসে
গতমাসে
কিংবা পুরো সৌর-বছরে;
অনেক অনেক দিন হয়ে গেছে
দেখা হয় নি তোর সাথে,
এর মাঝে পার হয়ে গেছে
কত চন্দ্রমাস
কত সৌর-বছর
কে তার হিসেব রেখেছে?

হয়তো এখন তোর বাগানের শিউলি গাছটা ফুল ফোটানো বন্ধ করে দিয়েছে
কিংবা আমার লাগানো বেলি গাছটা মরে মাটির সাথে মিশে গেছে;
বয়সের ভারে আজ আমি ন্যুজ
তবু তোর গায়ের শিউলিঘ্রাণ আমার নাকে বাজে আজো
এখনো কলি ফোটা তাজা তোর লাবণ্য
ভালোবাসা এখনো আমার মনে ঠিক তেমনি তোর জন্য;
আর বুকের ভেতরকার কষ্টটা ঠিক তেমনি রক্ত ঝরায়
ক্ষরণগুলো কাঁচা হয়ে ওঠে তোর কথা মনে করায়;
আজ
কাল
পরশু
কিংবা
ভালোবাসার প্রতিরাতে।



সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৫

ঘড়ি টিক টিক



ঘড়ি টিক টিক
- যাযাবর জীবন

বালু-ঘড়ি থেমেই যায় বালু শেষ হলে
চাঁদ উঠলেই থেমে যায় সূর্যের কাটা
কিংবা আঁধার নেমে এলে;

পরতে পরতে মেঘ জমেছে বালু-ঘড়ির গায়
টিক টিক কাঁটা থেমে এলো বলে
অনেক সময় পাবি কান্নার,

সূর্য ডোবার আগে দেখে নে আমায়।






রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

অনুভবে গাছ



অনুভবে গাছ
- যাযাবর জীবন

ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা
সে তো মানবীয় গুণাবলি,
আমি মানুষ'কে ভালোবাসতে পারি নি
ঘৃণা করা তো কখনো শিখিই নি;
তবুও কেন বিব্রত করো বারবার আমায়?
তোমাদের অযাচিত ভালোবাসায়;
কেন মাখিয়ে দেও মনের যত ঘৃণাগুলো?
ভালোবেসে আমার সারা গায়।

পাহাড়ে হয়তো ঝর্ণা বয় ভালোবাসায়
লোহায়ও মরচে ধরে উগরে দেয়া ঘৃণায়;
ঝর্ণা কিংবা মরচে'তে গাছের কি এসে যায়?
গাছ বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ঠায়।




গাছ


গাছ
- যাযাবর জীবন

পাখিরও নাচতে মন চায়
ভালোবাসা পেলে
কিংবা প্রেমিকের তরে;
মানুষ তো কোন ছার!

মানুষ ভালোবাসা বোঝে,
গাছ নয়;
মানুষ মানুষকেই ভালোবাসে
স্বাভাবিক ভাবে;
তবুও কেও কেও ভুল করে গাছের প্রেমে পড়ে
যেমন তুই;
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রই।


চক্রবুহ



চক্রবুহ
- যাযাবর জীবন

অস্থির প্রেমিক প্রেমিকা
অস্থির মন
অস্থিরতা বোঝে সে'ই
প্রেম করেছে যে জন;

আমি অস্থির তার জন্য
তুই অস্থির আমার জন্য
সে অস্থির তোর জন্য
মন অস্থির প্রেমের জন্য
প্রেম অস্থির শরীরের জন্য
ধন্য ধন্য প্রেম ধন্য
কাম মিটে গেলে সব শূন্য;

তুই
আমি
সে ও তার মধ্যে
প্রেমের চক্রবুহ;
হায় প্রেম, ধন্য ধন্য
প্রেম উন্মুক্ত, সবার জন্য।


শুকনো একা



শুকনো একা
- যাযাবর জীবন

চোখের বাইরে পুরো পৃথিবী
ভেতরে শুধুই তুই
মনের ভেতর কতজনের উঁকি!
আমি মন-বন্ধ করে রই,
চারিদিকে মানুষের ঢল
আদতে মন একা
বুকের এপাশটায় তোর বাস
ওপাশটায় ব্যথা।

পাহাড়ি ঝর্ণায় পাথরের ওপরে যতই শ্যাওলা জমুক
ভেতরটা রয়ে যায় শুকনো খটখটে,
পাথর ভাঙ্গতে পেরেছে কে, কবে? হৃদয়ের আঘাতে;
ঝর্ণা জলে তৃপ্তি মিটিয়ে নে
লবণ হওয়ার আগে।




শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৫

দাম্পত্য



দাম্পত্য
- যাযাবর জীবন

অন্য এক ভুবনে তৈরি হয় সম্পর্ক,
যার নাম দাম্পত্য;

এ ভুবনে সূত্রপাত চোখাচোখিতে
তারপর চেয়ে থাকা
অপলক বা চোখচোরা,
স্পর্শে পুলক
হালকা কুয়াশার ঝলক
শীত গভীর হতে হতে
সম্পর্ক জাঁকিয়ে বসে,
তারপর হাতের চুড়ি থেকে বিয়ের নোলক
মধুচন্দ্রিমা? পড়ে না চোখের পলক;
বিছানায় বিলীন
সম্পর্ক কুলীন
সংসারে মধুর ঢল
হাসি খুশি ছলছল।

সূর্যের গোলায় দিন গড়ায়
চাঁদের গোলায় রাত
ওহে সম্পর্ক আছে কি এখনো?
দুজনের হাতে হাত;
মাসের গড়ানোতে বছর গড়ায়
বছর গড়িয়ে যুগ
ওহে সম্পর্ক এখনো কি চেহারায়?
প্রথম দেখার চাঁদমুখ।

জোড়ায় বেধে যুগ কেটে গেলো
তবে তো সম্পর্ক সত্যি আঠালো
আর নয়তো সম্পর্কটুকু শুধুই
বিয়ের পিঁড়িতেই ছিল।

সে ভুবনের সম্পর্ক
এ-ভুবনে লাগে জোড়া
যখনই শরীরে যৌবনের তাড়া;
ভুল বোঝাবুঝিতে ভাঙ্গে সংসার
আর না হয় ঝুলে থাকে সুতোয়
বিশ্বাস আর ভালোবাসা ছাড়া।

দম্পতি সবাই রাতের বিছানায়
দাম্পত্য কাঁদে কেন আঁধারে?




গন্ধ



গন্ধ
- যাযাবর জীবন

খৈ ফোটে বালুতে
মরুর গরমে
তপ্ত দুপুরে;
তোর চোখে ঘৃণা
পুড়ে যাই আমিও
তাকালে অন্ধকারে;

কেও পোড়ায় ভালোবাসায়
কেও ভালোবাসাটাই পুড়িয়ে ফেলে
ঘৃণার আগুন জ্বেলে;
লু বাতাসে প্রেম পোড়া ছাই ওড়ে
যেখানে সেখানে,
এখনো কোথায় জানি
হৃদয় পোড়া গন্ধ ভাসে
ঈর্ষার আগুন তলে;

আমি তো কবেই ডুব দিয়েছি
দিঘির শান্ত জলে। ।


শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৫

বাকি



বাকি
- যাযাবর জীবন

সেদিন হাতে হাত ছোঁয়া লাগতেই তুই অবাক
কেঁপে উঠেছিলি তোর ঠোঁট;
চিবুকে হাত বুলিয়ে দিতেই হয়েছিলি নির্বাক
ভয়ে কাঁপছিল তোর বুক;
ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতেই তুই আমার হলি
বুকের ভেতর আপন করে জাপটে নিলি;
বাতাসে ভালোবাসার গন্ধ পাচ্ছিস কি?
তবে কেন খোঁপায় বেলি জড়ালি?

বড্ড ইচ্ছে হচ্ছে একটু তোর গাঁয়ের গন্ধ শুঁকি
আচ্ছা, আজ থাক;
ওটা না হয় রইলো বাকি।



বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৫

ভার্চুয়াল কাব্য চোর



ভার্চুয়াল কাব্য চোর
- যাযাবর জীবন


চোর চুরি করে
খুব স্বাভাবিক
গৃহস্থের মন পুড়ে
বাকি সবাই চোরকে দেয় ধিক্;
তোমাদের না হয় আছে কাড়ি কাড়ি অর্থ
আমার শুধুই কবিতা, 'তোর' জন্য নিঃস্বার্থ
আমার তো মন পুড়ে
কবিতা চোর যখন আমার ঘরে।

আরে বেটা চোর,
কাব্য চুরি শুধুই তো তোর সুন্দরী পটানোর স্বার্থে
রেখে নে না রে বেতন-ভুক্ত লেখক
তোর ব্যাংক উপচানো অর্থে;
ব্যাংক লুটে মিটে নি তোর ক্ষুধা?
কার তরে লুটতে চাস ভার্চুয়ালে কাব্যের সুধা?
আমার কলম কি লিখে বোঝার সাধ্য কি আছে তোর?
তুই তো শুধুই এর ওর প্রোফাইলের নিম্ন-সারির এক কাব্য চোর;
আগে তাও নিজের লিঙ্গে তোকে প্রোফাইলে পেতাম উপস্থিত
ধরা খাওয়ার পর দেখি লিঙ্গটাই বদলে ফেলেছিস,
নারী লিঙ্গ নিয়ে কেন ফেইক আইডি খুলেছিস?
তুই নারী? না পুরুষ? না হিজরা?
প্যান্ট খুলে লিঙ্গ দেখে নিস।

ও হে নারী পরিচয়ের নপুংসক
ধিক্ ধিক্ ধিক্, তোকে হাজারো ধিক্।










বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫

পূর্ণ-মানবী ও অর্ধ-মানব



পূর্ণ-মানবী ও অর্ধ-মানব
- যাযাবর জীবন

তোর হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলাতে না পারলেও
নাগুলো সব সময়ই মেনে নিয়েছি,
অর্ধেক খুশি বিলাতে না পারলেও
অর্ধেক দুঃখ তো কমিয়েছি!
অর্ধ-মানব অর্ধেকটুকু বোঝে
প্রেম
ভালোবাসা
কিংবা ঘৃণার;
আমার কাছে অবোধ্য পূর্ণ-মানবী
তাদের ভালো লাগা
আর না লাগা,
অপূর্ণ মানবের জন্য তাদের
প্রেম প্রীতি কিংবা ঘৃণা;
আমি পূর্ণ হতে চাই না,
না পাওয়ায়, না দেওয়ায়;
স্বার্থপর পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ হতে আমার কি পরেছে দায়?
হতে চাই না আমি পূর্ণ-মানব,
চাই না পূর্ণ হতে
ভালোবাসা কিংবা ঘৃণায়।



ভুক্তভোগী



ভুক্তভোগী
- যাযাবর জীবন

চুমুরও-তো ইচ্ছে জাগে মাঝে মাঝে উড়তে ঠোটের ওপর
দেহ ছোটে দেহের তরে
মুঠো মুঠো প্যারাসিটামলে কি আর
তোকে চাওয়ার কামজ্বর সারে?

ঘুম স্বপ্নেও এখন আর দেখি না তোরে
লুটিয়ে পড়তে বুকের পরে;
তবুও চোখ খুললেই ভুগি কেন
"তুই" নামক হাহাকারে............



প্রহর


প্রহর
- যাযাবর জীবন

ওরাও প্রেম করে
তারাও প্রেমে মজে
পশু বা পাখি হোক
জীবন সবার তরে;

মানবের দোষ হয় পদে পদে
প্রেমে পরে, প্রেম করে;
আর শুকনো ঠোঁট প্রহর গোনে
চুমুর তরে।


অন্ধকারের ওপারে


অন্ধকারের ওপারে
- যাযাবর জীবন

মনের গহীনে যখন অন্ধকারের কোলাহল
দুপুরের বুক চিরেও নামে অমাবস্যার কালো ঢল,
শীতের কুয়াশা যেন রাতের জ্যোৎস্না ঢাকা চাদর
সেই কতকাল হয়ে গেছে! তোকে করি নি সেভাবে আদর;
ইদানীং বড্ড মন কেমন করে
তোর তরে, তোর তরে,
তোকে বড্ড বেশি মনে পড়ে
আলো কিবা অন্ধকারে।
কোথায় তুই?
জ্যোৎস্নার ছায়াতলে?
নাকি অমাবস্যার ওপারের আলো ঘরে?
অন্ধকারের বিষণ্ণ গান বাজে অশরীরী সুরে
তোর কথা মনে হলে
মনঘরে, মনঘরে।
মনের গ্রহণে চোখে পর্দা পড়লে
হারিয়ে যায় মনের মানুষ অন্ধকারের ওপারে
চিরতরে, চিরতরে।


যখন তখন



যখন তখন
- যাযাবর জীবন

মেয়েদের প্রেমে পড়ার কোন কারণ লাগে না
কারণ লাগে না কাছে আসার
কারণ লাগে না ভালোবাসার
কারণ লাগে না ভুলে যাওয়ার
লাগে না কারণ ছুড়ে ফেলার;
দাসত্ব ইচ্ছার, শৃঙ্খলিত মন
যুক্তি-তর্কের ধার ধারে না
লাগে না ভালোবাসা কিংবা ঘৃণার কোন কারণ;
মনে প্রেম আসে যখন তখন
আর ভালোবাসে পাগলের মতন
যখন তখন, যখন তখন;

ভালোবাসার অত্যাচার সইবার ক্ষমতা দেয়া হয় নি আমায়;
যখন তখন, যখন তখন।

দুঃখ-বিলাস



দুঃখ-বিলাস
- যাযাবর জীবন

কবিতার খাতায় গল্পও লেখা যায়
জীবন'তো আর কবিতা নয়;
কেও স্বপ্নেও কবিতা লেখে
কারো জীবন কণ্টকময়;
আমি না হয় দু:খই লিখলাম চাঁদনী মনে করে
তোর জীবন হোক জ্যোৎস্নাময়।

লোনা কাব্য



লোনা কাব্য
- যাযাবর জীবন

জলের বিছানায় শুয়ে
কান্নার মেঘ ছুঁয়ে দিতেই
তোর চোখ থেকে মুক্তা গড়ালো,
আমি ধরতে যেতেই অশ্রু হলো,
টুপ করে ঝরে পরতেই ঝর্ণা;
সময়ের পিঠে চেপে কুলকুল রবে সাগরে পড়তেই
সাগরের জল লোনা;
ভাগ্যিস সেদিন তোর অশ্রু ধরতে পারি নি!
তাই তো আজো লোনা কাব্য লেখা হয়
জলের বিছানায় শুয়ে
ফোঁটা ফোঁটা কান্না গড়ায়
চোখের কোল বেয়ে;
তোর কথা মনে হলে।


রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৫

যেদিন ঘুম ভাঙবে



যেদিন ঘুম ভাঙবে
- যাযাবর জীবন

ছোট ছোট কিছু ইচ্ছের পূর্ণতা পাশাপাশি জীবনের কিছু অপূর্ণতা
কর্ম সম্পাদনের তৃপ্তি আর অতৃপ্ত কিছু অসমাপ্তি
কিছু চাওয়া অবাস্তব, প্রাপ্তি অসম্ভব
কেও মনকাড়া কেও অধরা
কেও ভালোবাসে কেও করে ঘৃণা
কখনো দিন কখনো রাত্রি
কারো আনন্দ কারো বেদনা
কারো খোঁজ শুধুই জাগতিক
কেও খোঁজে অমাবস্যায় অলৌকিক জ্যোৎস্না;

থাকুক না এ জীবনে কিছু অপূর্ণতা
তবেই না থাকবে বেঁচে থাকার স্পৃহা;

তারপর না হয় কাটাবো অসীম প্রতীক্ষার প্রহর
দিনরাত্রিহীন এক নির্জন ঘুমঘরে, ঘুমঘোরে;
তারও অনেক অনেক কাল পরে
মাটির ঘরগুলো জেগে উঠবে কোন একদিন বিস্তীর্ণ হাশরে;
তারপর আবার একদিন জেগে উঠবো ঘুম ভেঙে
আমি
তুমি
তুই
সে
আমরা
ও তাহারা সকলে.........
শেষ বিচার দিনে।






মালা



মালা
- যাযাবর জীবন

সব সৌন্দর্য ক্যামেরায় ধরা যায় না
যেমন জ্যোৎস্না,
সব ভালোবাসায় কবিতা হয় না
যেমন তুই;

পাথর খোদাই করে করে তুই ভালোবাসার মালা গেঁথে চলেছিস
শব্দের কবিতা বোনা আমারই হয় না,
ভালোবাসা আমার সয় না ........


শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৫

মন পাথর



মন পাথর
- যাযাবর জীবন

প্রেমের চিঠিটা পরে আছে খুব অবহেলায়
মুখবন্ধ খামে অনেক দিন ধরে,
চিঠিটা পড়ার ইচ্ছেই হয় নি আমার
মন বন্ধ বলে;

এই সকল হাবিজাবি লিখা, শুধুই কথার কথা
আর সূর্যের ক্যানভাসে অস্থির মনের রংহীন ছবি আঁকা;
কেও কেও ভাবে আরে আরে! এ তো দেখি লেখা হয়েছে কবিতা,
এতই সোজা?
আরে, নাই বা হলো কবিতা!
রাতের অন্ধকার পাতায় কয়লার কালিতে না হয় কিছু প্রেমই লিখা হোক
হৃদয়ের আর্তনাদে,
কিছু মুখবন্ধ প্রেমের চিঠি না হয় পরেই থাকুক না পড়া কবিতা হয়ে।

প্রেমিকার কান্না বিক্রি করতে পারলে তবেই না কবি হবে,
আমি না হয় শুধুই মানুষ হতে চেয়েছি;
মন-বন্ধ মানুষ পাথর সম,
তোর ভালোবাসা অরণ্যে রোদন;
কাঠফাটা মরুভূমিতে বীজ বপনে কি আর অঙ্কুরোদগম হয়?



রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অনর্থ


অনর্থ
- যাযাবর জীবন

অতৃপ্ত উপার্জনের ক্ষুধা মিটে গেলে
কি হারিয়েছিস দেখে নিস একবার, পেছন ফিরে চেয়ে;

অর্থের কি অর্থ আছে?
অনর্থ ঘটে গেলে জীবনে।

দেহ'তো নিত্যই কেনাবেচা হয় জীবিকার প্রয়োজনে,
সম্পর্ক কিনতে পেরেছে কে কবে?
অর্থের বিনিময়ে?



বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

চোর



চোর
- যাযাবর জীবন

কত রকম চোর'ই না আছে
জীবন চালায় চুরি করে
কারো চুরি পেটের দায়ে
চুরি শেখে কেও পায়ে পায়ে
কেও চুরি করে মনের আশে
কেও বা শুধুই স্বভাব দোষে;
কেও আছে অর্থ চোর
কেও শুধুই মন চোর
কেও বা আছে কাব্য চোর
চোর মানেই স্বভাব চোর;

সিঁদ কাটা চোর ঘরে ঘরে
প্রেম-রসিক মন চুরি করে
লেখা চুরি ব্লগে ব্লগে
লেখকের কাব্য চোরের ভোগে,
সিঁদ কাটা চোর জেলের ঘরে
মনচোর কারো মনের ঘরে
লেখা চোর আজকাল ফেসবুক জুড়ে
গুগল সার্চ কাব্য চোর ধরে,
চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা
যদি না চোর ধরা পড়ে;

চোরের প্রতিদিন স্বভাব দোষে
মিঠাই মণ্ডায় পেট পুড়ে
পুলিশের একদিন শনির দোষে
কিল চড় ঘুষি পিঠের পরে।



শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আগুন



আগুন
- যাযাবর জীবন

কিছু আগুন গাছের ডালে
আগুন যখন ফাগুনে
আগুন যখন মনের চালে
আগুন লাগে আগুনে;

ছাইচাপা যতই দেয়া হোক মনের আগুন
ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে মনে।



বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বিনিময়



বিনিময়
- যাযাবর জীবন

অনেক সম্পদ তোদের
অনেকগুলো বাড়ি
অনেক গাড়ি তোদের
উঠোনে সারি সারি;

টাকার মূল্যে
সুখ কিনতে পেরেছিস কি?
এক কানাকড়ি!

অনেক টাকা তোদের
অনেক তোদের নাম
টাকার মূল্যে মানুষ
অনেক তোদের দাম;

ভুলে যাস কেন?
মিশবে একদিন মাটিতে তোদেরও
হাড় মাংস আর চাম।


মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

এপিঠ ওপিঠ



এপিঠ ওপিঠ
- যাযাবর জীবন

আলোতে ভিজে যায় দিন, প্রতিদিন প্রতিদিন
অন্ধকার তো প্রতি রাতেই ভেজে, তিমির আঁধারে;
আজ না হয় রাতটা ভিজুক বৃষ্টিতে
তুই ক্রমাগত অশ্রুতে
আর আমি তো ভিজেই চলেছি প্রতিদিন প্রতি রাতে
শুধুই তোতে;

কেও কাওকে পায় না ছুঁতে
না দিন রাত্রিকে
না অন্ধকার আলোকে
না হাসি কান্নাকে
না তুই আমাকে
না আমি তোকে;

তোর দিন
আমার রাত্রি
তোর সূর্য
আমার চাঁদনি
আমরা দুজন গোল গোলকের দু-প্রান্তে
তোর আর আমার বাস দুজনার দু-ভুবনে,
শুধু ভালোবাসার কিছু অনুভূতি একই রকম আমাদের অনুভবে
মনে মনে
মনে মনে,
আর আমাদের ভালোবাসা
দুজনার দুজনে।



রঙ



রঙ
- যাযাবর জীবন

তোর গালে আঙুল ছোঁয়াতেই লাল হলি তুই
ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতেই রাঙা হলো লজ্জা
তুই আমার না হলেও আমি তোর হয়ে রই;

মন দুয়ারের দরজা মেলে প্রতীক্ষায় প্রহর গোনে জনে জন
কেও দেখা পায় সবুজ মনের
নীল কষ্টে নীলাভ হয় কারো মন;

শরতের মেঘ ভাসে সাদাকালো
সুখের ভেলায় ডানা ভাসায় জোড়া জোড়া মনহংস
বলাকা মন উড়ে বেড়ায় রঙিন
আমি না হয় রইলামই হয়ে তোর অশ্রুর অংশ।


সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

নিমিত্ত



নিমিত্ত
- যাযাবর জীবন

শারীরিক অতৃপ্তিতেই বেশিরভাগ নারী অন্য পুরুষে আসক্ত
নারী দেখলেই ছোক ছোক, পুরুষের স্বভাবগত চরিত্র
পরকীয়া পুরোটাই শরীর নির্ভর
ভালোবাসা কেবলই নিমিত্ত।



মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৫

অনুভব



অনুভব
- যাযাবর জীবন

অনুভূতি ভালো লাগার
অনুভব ভালোবাসার
সেদিনও যেমন ছিল
আজো আছে তেমনি,
আছিস তুই
এখনো বেঁচে আছি আমি;

মানুষ একই থাকে
শুধু বদলে যায় সময়
সময়ের সাথে সাথে বদলায় চাহিদা
শরীর ও মনের,
আর বদলায় মানুষের বাহ্যিক অবয়ব;

অনুভূতিগুলো একই রকম থাকে
একই রকম থাকে ভালোবাসার অনুভব।



বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

পতন


পতন
- যাযাবর জীবন

বৃষ্টি ভিজছে বৃষ্টিতে
তুই আমাতে
আমি তোতে;
ভেজা রাস্তায় পা পেছলানোর ভয় তো থাকেই
থাকে ভেজা হৃদয়ে মন পেছলানোর ভয়;
তবুও হাঁটা বন্ধ হয়েছিল কবে, কার, কোথায়?
কিংবা হৃদয় পুড়তে ভালোবাসায়।


সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৫

কথা



কথা
- যাযাবর জীবন

নিত্যদিনের খাওয়া পরা আর ঘুম মিশে আছে অভ্যেসে
সাদাকালো স্বপ্ন রাতে ঘুমের আবেশে
তুই আসলেই স্বপ্নগুলো রঙ্গিন;
প্রতিদিন কিছু লিখতেই হবে এমন কোন কথা নেই
তবে প্রতিদিন তোকে ভালোবাসতেই হবে আমার
ঘুমে বা জাগরণে
কথা দিয়েছিলাম নিজেকে;

আমি কথা রাখতে জানি।



শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৫

খোঁজ



খোঁজ
- যাযাবর জীবন

খাতা কলমের দিন শেষ হয়েছে
তবুও নেট এর বদৌলতে অনলাইনে থেকে
আজকাল সাহিত্যের চর্চা চতুর্দিকে;
কেও কবিতা লিখে
কেও গল্প
কেও ব্লগ
কেও বা শুধুই তার নিজের জীবনী,
ইদানীংকালে প্রায় সকলেই লেখক
সকলেই কবি
আর বাকি বাঁচোয়া কিছু প্রেমিক প্রেমিকা,
আজকাল প্রায় সকলেই সাহিত্যিক;
মানুষ কোথায়?
আমি সাহিত্য বুঝি না
দুটো মনের কথা বলার জন্য
আমি মানুষ খুঁজি।

তিনবেলা পেট পুজোর পরে
কিবা রাস্তাঘাট কিবা ঘরে
আজকাল রাজনীতির চর্চা চতুর্দিক;
অফিস আদালত আর বাড়ি ফেরার পথে
সিগারেটের ধোঁয়ায় কিংবা চায়ের কাপে
ইদানীং রাজনীতির তুবড়ি ছোটে
সবারই মুখ ফুটে,
এখনকার দিনে কেও বিএনপি
কেও আওয়ামীলীগ
আর সুশীলের ভাষায় বাকি বাঁচোয়া প্রায় সকলেই রাজাকার,
আজকাল সবাই রাজনীতিবিদ;
মানুষ কোথায়?
আমি রাজনীতি বুঝি না
দুটো মনের কথা বলার জন্য
আমি মানুষ খুঁজি।


বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৫

প্রহরগুলো মনখারাপের



প্রহরগুলো মনখারাপের
- যাযাবর জীবন

দুপুরের এলোমেলো রোদে
গলা কষ্টগুলো কালো পিচের রাস্তায়
রেলের কু ঝিকের সাথে
ঘরে ফেরা পাখি বিকেলের ডানায়
বিষণ্ণতার ছায়া মনে সন্ধ্যে নামায়;
জেগে থাকে অন্ধকার
জেগে থাকি আমি
জাগে নির্ঘুম রাত;
খুব মাঝে মাঝে আমাদের সাথে সঙ্গী হয়
জ্যোৎস্না ও কিছু জোনাক।

তুই অন্ধকার হওয়ার পর থেকে
এখন আর কবিতা লিখতেও ভালো লাগে না।



মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০১৫

অমিল


অমিল
- যাযাবর জীবন

আমার সাথে মিলবে না তোর কিছুতেই
না চিন্তায় না চেতনায়
না ভাবে না অনুভবে
না ভালোবাসায় না অনুভূতিতে;
তোর বেদনা আকাশ নীল
আমি ক্ষরণে দেখি লাল,
তুই শোকে কালো রঙ পরিস
আমার মনে প্রশ্ন, বৈধব্যের রঙ সাদা কেন?

আমার সাথে মেলে না কারো,
মিলবে না তোরও।


শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫

ভালোবাসাবাসি



ভালোবাসাবাসি
- যাযাবর জীবন

প্রেম প্রেম গন্ধ তোর ঠোঁটের ফাঁকে ফাঁকে
হৃদয়ে ভালোবাসার বাসি গন্ধে রাতের প্রহর কাটে
কি আশ্চর্য! এখনো মনেতে প্রেম আসে?
তোর, আমার; দুজনারই দুজনাতে;
আমরা আজো কারণ ছাড়াই সারারাত জেগে থাকি
দুজনা দুজনাতে মেতে,
হ্যাঁরে!
আমাদের ভালোবাসার কত যুগ পার হয়েছে?


ভাগাভাগি



ভাগাভাগি
- যাযাবর জীবন

শিহরণ তো চুম্বনেই জাগে, কিংবা কামে
প্রেমে তো শুধুই ক্ষরণ
দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গেচুরে হৃদয়ে অশ্রু নামে;

কিছু মন ভেজে বৃষ্টিতে
আঁধারে জড়ায় রাত্রি
কারো চোখ ভেজে কান্নাতে
কেও ওপারের যাত্রী

পথের শেষ মাথায় এসে পথ ফুরিয়ে গেলে
আমার শবে কিছুদিন না হয় কাঁদবি
তারপর হাসি খেলায়, চাঁদ সূর্যে আবার ভালোবাসবি;

ভালোবাসার জন্মই হয়
হৃদয়ের চোরা ফাঁদে
জ্যোৎস্নারও মৃত্যু হয়
অমাবস্যার কালো চাঁদে

শিহরণ ছিল সেদিন সবই তোর
প্রেমটুকু দিয়েছিলি আমার ভাগে
সেদিনই আমারও মৃত্যু হয়েছিলো
আলোকিত জ্যোৎস্নার আগে।


দুপুরের মন খারাপ


দুপুরের মন খারাপ
- যাযাবর জীবন

তপ্ত রোদে পুড়ছে দুপুর, মন তুই এবার ঘরে চল
মনটা আজ তোতে ভেজা, চাইছে মন তোর হাতের একফোঁটা জল;
আজ মন পুড়ছে তোতে, একবার তুই ঘরে আয়
হৃদয় উঠোন জুড়ে, শূন্যতার হাহাকার ছায়,
ঘরটা ঠিক তেমনি আছে, তুই ছাড়া বাকি আর সবই
খুব ইচ্ছে করছে তোকে ছোঁয়ার, একটু আমায় ছুঁবি?
রোদ পড়ে এসেছে, বিকেল হলো বলে; এবার তো তুই ঘরে চল
অন্ধকার নামার আগে, একবার তুই ভালোবাসার কথা বল।


বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৫

বদল



বদল
- যাযাবর জীবন

সময় বদলায়
বদলায় মানুষ অবয়বে,
বদলায় কি মানুষ ভেতর থেকে?

সময়ের সাথে বদলায় চেহারা
কালো থেকে সাদা হয় দাঁড়ি
ঘন থেকে পাতলা হতে হতে পড়ে যায় চুলগুলো সব নিয়ে আড়ি,
টান টান চামড়ায় বয়সের ভাঁজ পড়ে
কালে কালে কুঁচকে রূপ নেয় থুরথুরে
পড়ে যায় দাঁত সহসাই টুপ করে
কখনোবা ঝুলে থাকে মাড়িতে নড়বড়ে
বদলায় মানুষের অবয়ব শুধুই বাইরে
বদলায় কি মানুষ, চরিত্রে ভেতরে?

সম্পর্ক বদলায়
বদলায় চারিপাশের চরিত্রগুলো স্বার্থে,
বদলায় কি মানুষ ভেতর থেকে?

সময়ের সাথে বদলায় সম্পর্কের ধরণ
সাদা থেকে কালো হয় শুধুই স্বার্থের কারণ,
সময়ের সাথে সাথে মূল্য বাড়ে টাকার
পারে না মানুষ তার লোভী চেহারা ঢাকার
লোভীদের পাল্লা এ জগতে নির্লোভীদের থেকে ভারী
স্বার্থ গুলো সব মধুর সম্পর্কে টানে আড়ি
লোভের ফাঁদে মানুষ যখন হয় শয়তান
কে তখন বাবা-মা, ভাই-বোন; কে'বা সন্তান
বদলায় সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে
স্বার্থ যেখানেই থাবা গেঁড়ে বসে থাকে।

সময়ের সাথে সাথে বদলায় মানুষের বাইরের রূপ
স্বার্থের আঁচড়ে বদলে দেয় মানুষকেই আমূল
বদলায় মানুষের বাইরের অবয়ব কালের স্রোতে
মানুষই বদলে যায় স্বার্থের নৌকোয় চাপলে, ভেতর থেকে।





বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫

দাগ



দাগ
- যাযাবর জীবন

সম্পর্ক কি আর সবার সাথে সমান হয়?
ভার্চুয়াল কিংবা বাস্তবে;
দাগ কাটতে পারে কজন হৃদয়ে?

পেছন ফিরলেই সবাই ঠোকর মারে
সাপ বিচ্ছুতে কখনো পথ কাটে, কখনো পা
একটু অসাবধান হলে,
এই তো মাত্র কিছুদিন আগে
বন্ধুত্বের রূপ ধরে
পেঁচিয়ে ছিল যারা সারা গা,
একটু বিশ্বাস করতেই গলায় চাপ অনুভব
স্বার্থের কালো হাতে
এরাও কিন্তু দাগ কাটে, হৃদয়ে;

অনেক কালো দাগের ভীরে
চক পাউডারে সাদা দাগ পড়ে হৃদয়ে
খুব মাঝে মাঝে
যখন তোর মত কেও আসে জীবনে;

অমাবস্যা হৃদয়ে দু একটি সাদা সম্পর্ক জ্বলজ্বল করে বলেই
বেঁচে থাকাটা সহনীয়
বাস্তবে কিংবা ভার্চুয়ালে।



সাধ



সাধ
- যাযাবর জীবন

পাখিই ওড়ে।
কে বলেছে উড়তেই হবে মানুষ'কে পাখি হয়ে
ডানা ভেঙ্গে,
ওপরে তাকালেই দেখা যায় আকাশ
উড়তে জানলেই কি আর চাঁদ ধরা যায়?

সাঁতার শেখার দরকার হয় না মাছেদের
পানি না খেয়ে মানুষ সাঁতার শিখেছে কবে?
তুই জলাধারের অর্ধেক খালি দেখিস
অর্ধেক ভরা অংশে আমার ডুব সাঁতার;
সবাই কি আর সাঁতার জানে?

প্রেমের নেশায় ভালোবাসার পানপাত্রে চুমুক দিতে চায় সবাই
প্রেম চাখে শুধুই প্রেমিকে
দহনে কিংবা মিলনে।

কিছু সাধ পুরণ হয় কিছু হয় না
জীবন থেমে থাকে না;
শুধু মানুষই পারে অতৃপ্তির স্বাদ নিতে।




মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০১৫

অন্ধত্ব



অন্ধত্ব
- যাযাবর জীবন

মনে কিছু কিছু পুরনো স্মৃতিদের ভিড়
কড়ানাড়া যাতনারা মনঘরে অস্থির;
ইন্দ্রিয়গুলোর কপাট করে দিয়ে বন্ধ
আমি একা বসে থাকি তোর তরে মনঘরে
উফফ! বড্ড গুমোট, দম বন্ধ
তালপাখা তোর হাতে ঘুড়েঘুড়ে নড়েচড়ে,
মনচোখ বুঁজে রেখে তোতে আমি অন্ধ
আমার মন বন্ধ, মন বন্ধ;

চোখ খুললেই ধ্বক করে চোখে চেনা মুখ
মন খুললেই তোর তরে ভালোবাসার অসুখ;
কিছু পুরনো স্মৃতি
কিছু না লেখা চিঠি
তোকে ভাবলেই তুই কবিতা
সাদা কালির আঁকিঝুঁকিতে ভরি সাদা খাতা,
ছাপা হতেই হবে এমন কি আছে কথা?
মুখে বললেই কি হয়ে যায় ভালোবাসা?
মনচোখ বুজে রেখেও আমি তোতে অন্ধ
আমার মন বন্ধ,
শুধু তোতে'ই
শুধুই তোতে
আমার মন বন্ধ।

স্পর্শ



স্পর্শ
- যাযাবর জীবন

একটুখানি ছোঁয়া
একটু আদর
কি এক অনুভূতি
ভালোলাগার অনুভব;
একটু দূরে, হৃদয় হতে
বিষণ্ণতা, মন খারাপ
সে ও তো অনুভূতি
সেটাও অনুভব।

পার্থক্য আকাশ জমিন
পার্থক্য দিন আর রাত
পার্থক্য আলো আঁধার
পার্থক্য মনের
ভালো আর খারাপ,
যখনই দূরত্ব
দেহ আর মনের
যখনই দূরত্ব
তোর আর আমার;

স্পর্শে অনুভব
স্পর্শে অনুভূতি
স্পর্শে কাছে থাকা
স্পর্শে ভালোবাসা,
তোর আর আমার।







বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫

বিলীন



বিলীন
- যাযাবর জীবন

তুই আর আমি এক হতেই
ট্রাফিক সিগন্যাল সবুজ
কিংবা আমাদের মন,
বাকি সব মোড়েই লাল
রাস্তার কিংবা মনের
আমার আর তোর।

রেললাইন সমান্তরালই দেখায়
বিচ্ছেদ আর ভালোবাসার,
তুই আর আমি মিলতেই
রেলের পাতে ইঞ্জিন কু ঝিক ঝিক
পথটা আমাদের,
হাতে হাত।

আকাশে মেঘ সাদা কিংবা কালো
ঘর্ষণে বজ্র
ভালোবাসায় না ভিজলে কি আর
আষাঢ় আসে?
অপেক্ষায় প্রকৃতি, বর্ষায় ভিজে যেতে;
তুই আর আমি মিলতেই বৃষ্টি,
পরস্পরে বিলীন।



মনের ঘর



মনের ঘর

- যাযাবর জীবন

দিনমান পাখিই'তো ওড়ে
আমাদেরও না হয় কদিন পাখি জীবন
আপাতত থাকুক না কিছুদিন
ঘরখানা শূন্য পড়ে;
আকাশে সাদা কালো কত মেঘের ভেলা
কদিনের জন্য আমরা না হয় মেঘই হলাম
তারপর'তো সেই আবার হাঁড়িকুঁড়ি ঠোকাঠুকি
জীবন যুদ্ধের সংসার জুড়ে;
মেঘের ডাকে ময়ূর পেখম তুলুক আর নাই তুলুক
আমার পাখি জীবনে মন'তো বসে আছে শুধুই তোতে
সেই ছেলেবেলা থেকে আজ পর্যন্ত
তুইও তো আছিস ঠিক তেমনি, আমায় আগলে ধরে;

মনের ঝড়ে ভালোবাসার ধুলো ওড়ে,
উড়ুক না!
মাখামাখি তো হয়ে আছি দুজন দুজনে,
দুজনার মনের ঘরে।



সোমবার, ২০ জুলাই, ২০১৫

ক্ষরণ



ক্ষরণ
- যাযাবর জীবন

প্রেম গলে গেছে ঘন বৃষ্টিতে
মনে কাঁদার ছোপ
রোদ উঠলেই পুড়িয়ে নেব ভাণ্ড
ভালোবাসার;
হয়তো আবার ভালোবাসা ডুবে যাবে খুব শীগগির
জমাট বাঁধা রক্তে,
ক্ষরণ দিতে জুড়ি নেই তোর
বার বার,
নতুন করে প্রতিবার;
হৃদয় সয়ে গেছে আমার
আমিও সয়ে গেছি তো'তে।



রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৫

প্রহর



প্রহর
- যাযাবর জীবন

আরেকটি দিন মৃত্যুর দিকে হাঁটি হাঁটি পা পা
খেয়ালে বা বেখেয়ালে,
আরেকটি দিন মৃত্যু আমার দিকে খুব ধীরে পা পা
নিয়তি মুচকি হেসে,
কদম বাড়তেই থাকে একে অপরের দিকে
পরস্পর আপন করে নিতে;

জীবন তো হারিয়ে যাবে আমার কাছ থেকেই
যেদিন ওদের, কদমে কদম মিলে যাবে;
অপেক্ষার প্রহর গোনে, "মাটির ঘর"।


রবিবার, ১২ জুলাই, ২০১৫

আলো আঁধার


আলো আঁধার
- যাযাবর জীবন

শার্শি বেয়ে চুইয়ে নামা অভিমানে বাষ্পীভূত মন-জানালার কাঁচ
জ্যোৎস্না আটকে আছে কালো মেঘের ওপরে,
রাতের কপাট খুলে দিতেই দরজার বাইরে অন্ধকার
তুই মন ফিরিয়েছিস বলে,
রাগের ধোঁয়ায় কান্না নামলেই প্রেমের বন্যায় ভেসে যাবি তুই
সেদিন আমি ধরাছোঁয়ার ওপারে;
দেরি হয়েই যায়
কোথাও না কোথাও
প্রেম গাড়ির চাকা হুইসেলের অপেক্ষায় প্রহর গোনে
অভিমানের কুয়াশা সরে যেতে যেতে থেমে যায় জীবন গাড়ি;

আফসোসের বাস কোথায়?
রাগের অস্থিমজ্জায়,
অন্ধকার কোথায়?
অভিমানে সময় বয়ে যায়;
আলো কোথায়?
ভালোবাসা যেথায়।


প্রতিবিম্ব



প্রতিবিম্ব
- যাযাবর জীবন

আরশিতে দুটি মানুষ
মুখোমুখি
একটি রক্তমাংসে গড়া
অন্যটি প্রতিচ্ছবি;

মানুষ কথা বলে
ছবির মুখ নড়ে
মানুষ কাঁদে
জলের দাগ প্রতিচ্ছবির গালে,
নিজের সাথে মূকাভিনয়
প্রতিফলন প্রতিচ্ছবির গায়
অভিনয় যখন মনের সাথে
কান্না কেন প্রতিচ্ছবির চোখে?

তবুও প্রতিদিন আয়নায় চোখ রাখি প্রতিচ্ছবির চোখে
যদি আলোর প্রতিসরণে ভুল করে তোর চোখ ভেসে ওঠে
ভালোবাসা দেখে নিস কাঁচের প্রতিবিম্বে।




শনিবার, ১১ জুলাই, ২০১৫

দূরত্ব


দূরত্ব
- যাযাবর জীবন


প্রথম দেখাটা,
কেমন যেন;
একটু ভয়
একটু শঙ্কা
লজ্জা ছিল কি? একটু;
কিংবা মন জ্বর,
প্রথমবার চোখে দেখার পর?
দেখেছিলাম তোর চোখে বিস্মিত থমক!
আমি যেনো তোর স্বপ্নের উল্টোরথ,
চমকে ওঠাটা চোখ এড়ায় নি আমার।

তারপর টেবিলের এপার আর ওপার
চোখে চোখে তাকিয়ে থাকা
সময়ের সাথে সাঁতার কাটা
চোখের ভেতর চোখ
তারপর ডুবতে ডুবতে ভেসে ওঠা
আবেগগুলো সামলে ওঠা
তারপর?
সময়ের দূরত্বে তুই আর আমি,
যোজন দূরত্বে ভালোবাসা;

তারপরও অনুভব রয়েই যায়
কোথাও না কোথাও
চিন্তা ও চেতনায়;
তোর,
আমার,
কিংবা ভালোবাসার।








মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০১৫

ভার্চুয়াল পুরুষ



ভার্চুয়াল পুরুষ
- যাযাবর জীবন

বাইরে ঝুম বৃষ্টি, হঠাৎ করেই;
মনটা একটু উচাটন হয়েছিল কি?
হঠাৎ করেই;
বৃষ্টি হলেই ভিজতে হবে এমন কোন কথা নেই
বৃষ্টির গান আর শুনব না বলে কানে আঙ্গুল;
বাইরে হোক না ঝড়, উড়িয়ে নিয়ে যাক সব
বৃষ্টি আসুক ঝেঁপে, ভাসিয়ে নিয়ে যাক সব
কি যায় আসে? মানুষের দেহে যদি পড়ে থাকে শব;
ভার্চুয়াল পুরুষ হতে হতে সেই কবেই ভেতরে হয়ে গেছি নির্লিপ্ত
সারাক্ষণ ফেসবুক মেসেজে রত থাকি, নারীতে সম্পৃক্ত
আমার কি আর বৃষ্টি-বিলাস মানায়?
নামুক না বৃষ্টি ছাদের ওপর একা
আমি নারীতে ভিজে আছি,
বৃষ্টিতে আর আমার ভেজা হবে না;
ভার্চুয়াল পুরুষ যখন ভার্চুয়াল জগতে রত
বাস্তব অনুভূতিগুলো তার আসলে তখন মৃত।

সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫

মাটির ঘর



মাটির ঘর
- যাযাবর জীবন

এখানে আলো নেই
নেই অন্ধকার
কেমন জানি ধুসর ধুসর
চারিদিকে কুয়াশা,
এখানে থমকে আছে সময়
দিন আর রাত্রির পার্থক্য বুঝি না
চারিদিক ধোঁয়া ধোঁয়া
দৃষ্টিসীমা ঝাপসা।

এখানে শীত নেই
নেই চাদর গায়ে দেবার
এখানে গরম নেই
নেই ফ্যান বাতাস ছড়াবার;
এখানে আষাঢ় নেই বৃষ্টি দেখার
শরত নেই আকাশ দেখার
হেমন্ত নেই ধান ভানার
নেই বসন্ত মন হারাবার
এখানে সব ঋতু মিলেমিশে একাকার
চারিদিকে শুধুই আবছায়া অন্ধকার।

এখানে স্বামী নেই
স্ত্রী নেই
সন্তান নেই
নেই পরিবার,
এখানে সঙ্গী নেই কথা বলার
এখানে তুই নেই ভালোবাসার
এখানে আমি একা,
একাতে একাকার।

এখানেই এখন আমার বাস
ছোট্ট এক মাটির ঘরে;
তোমাদেরও আসতেই হবে
আজ
কাল
কিংবা পরশু
এখানেই,
এ কবরে।





হ-য-ব-র-ল



হ-য-ব-র-ল
- যাযাবর জীবন

তোর কলম
তোর খাতা
তোর মন
তা'তে গাঁথা,
তুই লেখ
তার কথা
সে ভাবে
তোর কথা,
তার মন
তো'তে গাঁথা
সে লেখে
তোর কথা;

আমি কে?
ছাতামাথা
কে ভাবে?
আমার কথা;

তুই
আমি
আর
সে'তে মিলে
হ-য-ব-র-ল
ব্যঙ্গের মাথা।




রবিবার, ৫ জুলাই, ২০১৫

ঈর্ষা



ঈর্ষা
- যাযাবর জীবন

এইতো সেদিন আগুন লাগলো মন নদীতে
মেঘ পুড়ে হলো ছাই
রাতের গায়ে ঈর্ষার বরফ জমতেই
সূর্য মুখ লুকোলো চাঁদে তাই;

দেশে যখন অমাবস্যা বিদেশে তখন রাগ পুড়ে কয়লা
চাঁদনি কোথায় পাই?
হিংসা বুড়ি দাঁত কাটে নক্ষত্রে বসে
তাইতো চাঁদে জ্যোৎস্না নাই;

কোথাও আগুন জ্বলে
কোথাও গন্ধ পোড়ে
কারো নাক বন্ধ
কেও ধোঁয়া গেলে;
ঈর্ষায় মন জ্বলে গেলে
ভালোবাসা পুড়ে ছাই।



শনিবার, ৪ জুলাই, ২০১৫

নিক্বণ



নিক্বণ
- যাযাবর জীবন

নূপুর কি আর নিজে বাজে?
রুমঝুম নিক্বণ বাজায় যে কে?
নারীর পায়েই যাদু আছে;
চুড়ির রুনঝুন সেও'তো নারীর হাতে
চুড়ি কি সে কথা জানে?
চুড়িতে নারীই সাজে।


অহং



অহং
- যাযাবর জীবন

কলার নূপুর ঝমঝম, হেঁটে চলে নারী
দৃপ্ত পদে, অহংবোধে
পদচিহ্ন রেখে যায় কিছু, পদদলিত করে
হৃদয় মাড়িয়ে নরে;
তবুও নারী
প্রেমিকা
কন্যা
জায়া
ও জননী;
অহং তো তার থাকতেই পারে
কলায় পটু নারী;
নর চিরকালই আনাড়ি।




শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০১৫

দূরত্ব



দূরত্ব

- যাযাবর জীবন

চাইলেই কি আর বাঁধতে পাবি?
মনটুকু পার হতে পারলেই আমার হবি
ভালোবাসা দেখবি যদি
বাইরে চেয়ে দেখ জ্যোৎস্না নদী;

দরজাটা পেরোলেই তো
অন্ধকার মুছে গিয়ে আমি
এইটুকু দূরত্বও পার হতে পারলি না?
ঐতো দেখা যায় শার্শির ফাঁক গলে চুইয়ে আসা জ্যোৎস্না;

এই যে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকা
তবুও দূরত্বটুকু পার হওয়া হয় না,
আমরা অন্ধকারে জ্যোৎস্নার গান শুনি
স্বপ্নে চাঁদ দেখি,
সময়ের রেলগাড়িতে চড়ে আফসোসের দীর্ঘশ্বাস ফেলি;
সেদিন একটু চেষ্টা করলেই তো হতো
কতটুকুই বা ছিল দূরত্ব?
তার সাথে আমার
কিংবা মনের সাথে ভালোবাসার।



বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫

নির্ঘুম চোখে তুই



নির্ঘুম চোখে তুই
- যাযাবর জীবন

ঘুম, ঘুমিয়ে গেছে
জেগে আছে চোখ,
ভেড়া গুনতে গুনতে তোর ভুরু গুনে ফেলেছি
এবার মাথাটা বাড়িয়ে দে
তারা আর চুল গোনায় পার্থক্য কোথায়?
কোন না কোন ভাবে রাত তো কেটেই যায়;
তুই শুধুই চোখ দেখিস
আমি চোখের নদীতে দেখি জোয়ার ভাটা
কান্না কে দেখতে পায়?

রাত জেগে থাকলে
চোখ স্বপ্ন হয়ে যায়
ঘুম জেগে থাকলে
তুই কবিতায়।

মন বন্ধ



মন বন্ধ
- যাযাবর জীবন

নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে বিষ, ধুতুরা গন্ধ
বিশ্বাসের দেয়ালে দেয়ালে ফাটল, মন বন্ধ;
তবে কেন আর মিছে শব্দ বুনন?

কলম তোমায় দিলেম ছুটি
বদলে হাতে সুঁই সোনামুখি
সেলাই করে দিলাম সব কবিতার রন্ধ্র;
আজ মন বন্ধ
মন বন্ধ।


বুধবার, ১ জুলাই, ২০১৫

এ কেমন জীবন?


এ কেমন জীবন?
- যাযাবর জীবন

ভাঙ্গতে কম ভাঙ্গ নি
খুঁড়তে কম খোঁড় নি
এখানে, ওখানে, সেখানে
দিন রাত্রির অষ্টপ্রহরে
বছরের প্রতিটা ঋতু জুড়ে
হৃদয়টা ক্ষততে ভরে;
ক্ষত, ক্ষত আর ক্ষত
খুবলে তুলে ফেলেছ প্রতিদিন
আমার শরীর থেকে সব রক্ত মাংস;
এক একবার এক এক জন আসে জীবনে
এক একটি ক্ষত তৈরি করে যায়
আমার সারা গায়,
তারপর আবার হয়তো নতুন কেও আসে জীবনে
একটু করে হাত বোলায়
মলম লাগায় ক্ষতর গায়
তারপর ছুড়ে ফেলে রেখে আবার চলে যায়;
আবার জীবনে নতুন কারো আগমন
আবার নতুন করে ক্ষতের কারণ,
এ আমার কেমন জীবন?
আমি যেন বেশ্যার থেকেও অধম
যে যেভাবে করে যাচ্ছে আমায় ধর্ষণ;
আর কত?
আর কত ক্ষত দেবে একই শরীরে?

দোহাই তোমাদের
এবার একটু করুণা কর আমায়
আর ধর্ষণ করো না আমাকে তোমরা
সারাটা বছর জুড়ে বন্ধ কর এ খেলা,
আমি তোমাদের চলার পথ,
"আমি ঢাকার রাস্তা"।




অসীমের পথে



অসীমের পথে

- যাযাবর জীবন

বাইরে রৌদ্দুর ভেতরে ঝড়
মনে শঙ্কা পথ হারানোর;
মধ্য দুপুরের পিছলে আসা রোদ সরু রেলের পাতে,
চোখ ধাঁধায়
হয়তো কাঁদায়,
হাত কি থাকে হাতে?

রেলের পাত সমান্তরাল চলে গেছে
অসীমের পথে,
কেও কাওকে পায় না ছুঁতে;
না আমি তোকে
না তুই আমাকে
না ভালোবাসা, ভালোবাসাকে।


মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫

ইদানীং সন্তান



ইদানীং সন্তান
- যাযাবর জীবন

সামনে ঈদ
ছেলে প্রতিবারই ফোনে জিজ্ঞাসা করে, বাবা তোমার জন্য কি পাঠাবো?
রফিক সাহেব প্রতিবারই ফোনে উত্তর দেন, কিছু লাগবে না বাবা।

আচ্ছা বাবা তাইলে রাখি, বলেই ছেলে ফোন রেখে দেয়।

রফিক সাহেব নিঃশ্চুপ হয়ে যাওয়া ফোনটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন।

তারপর নার্গিস, এক কাপ চা বানিয়ে দে বলে ড্রইং রুমে এসে বসেন।

রফিক সাহেবের স্ত্রী লতিফা গত হয়েছেন তাও প্রায় তিন বছর হয়ে গেলো। এখন বাসায় মানুষ বলতে কেয়ারটেকার মজিদ আর তার স্ত্রী নার্গিস। এদের নিয়েই রফিক সাহেবের ইদানীংকার পরিবার।

ছেলে রুবেলকে সেই যে লন্ডনে পড়তে পাঠিয়েছিলেন সেই থেকে ওখানেই রয়ে গেছে, লন্ডনি বাঙ্গালী মেয়ে বিয়ে করে। শেষবার দেশে এসেছিল তাও প্রায় পাঁচ বছর আগে, লতিফা বেঁচে থাকতে। মায়ের লাশ দেখতে আসার সময়ও পায় নি লায়েক ছেলে। এখন মাসে এক দু বার নিতান্ত দায়সারা ফোনে বাবার খবর নেয়, আর কি পাঠাবে জানতে চায়।

ছেলের ফোন এলে রফিক সাহেব মনে মনে প্রতিবারই বলেন, একবার দেশে আয় বাবা, তোকে দেখি মন ভরে, তোর ছেলে মেয়েদের একবার দেখি প্রাণ ভরে; কত দিন হয়ে গেছে দেখি না তোদের!

*************

মালেক সাহেবের বয়স প্রায় আশির কোঠায়। ওনার এক ছেলে এক মেয়ে, বকুল ও জুঁই। স্ত্রী ফিরোজা প্রায় পাঁচ বছর ধরে ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এখন অনেকটা সুস্থ। বুড়ো বুড়ি সারাজীবন কঠিন সংযমের জীবন কাটিয়েছেন। মালেক সাহেব একটু বেশী মাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক ছিলেন বলে আত্মীয় স্বজনের সাথে খুব বেশী একটা সখ্যতা গড়ে ওঠে নি। স্ত্রী, ছেলে মেয়ে নিয়েই তার পুরো জগত সংসার। বিয়ের পর মেয়ে কানাডা প্রবাসী প্রায় বিশ বছর ধরে। মেয়ে স্বামী সংসার নিয়ে আলাদা হয়ে যাবে এটা মালেক সাহেব মেনে নিয়েছিলেন। তবুও খুব কষ্ট হতো প্রথম প্রথম, তবে মেয়ের ঘরের নাতি নাতনিগুলোকে খুব মিস করতেন। ছেলে, ছেলে বৌ ছেলের ঘরের নাতনি নিয়ে মোটামুটি ভালোই কেটে যাচ্ছিল জীবন।

হঠাতই যেন বদলে গেলো তার জীবন। ছেলের মনেও একসময় বিদেশ পাড়ি জমানোর বাসনা উঁকি দিতে দিতে তা দুর্দমনীয় হয়ে উঠলো সময়ের সাথে সাথে। বোনের কাছে পাড়ি জমালো একমাত্র ছেলে একসময় বৌ বাচ্চা সহ। সেও প্রায় ছয় বছর হতে চলল। এখন মালেক সাহেব আর ওনার স্ত্রী ফিরোজা বেগম পুরো বাড়িতে একা, সময় কাটে তাঁদের ছেলে মেয়েদের এ্যালবাম দেখে আর তাদের কথা মনে করে চোখের পানি ফেলে।

এই ছয় বছরে ছেলে এসে গেছে দু বার, গুনে গুনে এক একবার বিশ দিনের জন্য, আর মেয়ে দুবছর পর পর একবার তাও গুনে পনেরো কিংবা বিশ দিনের জন্য। ছুটির বড্ড অভাব তাদের? অভাব সময়ের। অথচ এদিকে বাবা মায়ের হাতে এখন সময়ই সময়, সারাদিনে একবেলার রান্নায় না হয় মিসেস ফিরোজার এক ঘণ্টাই ব্যয় হয়, আর বাকি সময়? শূন্য খাঁ খাঁ বাড়িময় ঘুরে বেড়ান একাকী, চোখের পানি ফেলে দিনভর, আর ভাবে এত পানি চোখে এলো কিভাবে? কখনো কখনো খুব বেশী মন খারাপ হলে মন'কে জিজ্ঞাস করে - হ্যাঁরে মন আমি ক্যান্সারকে বশ মানিয়ে ফেললাম অথচ তোকে বশ মানাতে পারলাম না কেন রে? সন্তানের মধ্যে এমন কি আছে রে?

ইদানীং মালেক সাহেব ও ফিরোজা বেগমের সময় কাটে অপেক্ষায়
অপেক্ষা সন্তানদের ফোনের
অপেক্ষা বছর দুবছরে একবার তাঁদের চোখের দেখার
কিংবা হয়তো অপেক্ষা মৃত্যুর।

************

বিধবা আয়েশা আমেনা, এক সময়ের ডাকসাইটে স্কুল শিক্ষক। বনানীতে ওনার ছয় তলা বিশাল বাড়ি, এখন সাড়ে তিন হাজার স্কোয়ারফিটের একটি ফ্লোরে উনি থাকেন, আর বাকি পাঁচ তালা ভাড়াটিয়া। স্বামী পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি ছিলেন, মারা গিয়েছেন প্রায় পনরো বছর হলো। দুই ছেলে তিন মেয়ের সবাই বিদেশের বাসিন্দা। তিনজন ইউরোপে আর দুজন আমেরিকায়। আগে বছরে দু বছরে ওরা কেও না কেও দেশে আসতো, গত তিন বছর ধরে কোন ছেলেমেয়ের মুখ দর্শন হয় নি। ওদের বাবা বেঁচে থাকতে ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল, সেই পাঠানোই কাল হয়েছে; একজন সন্তানের মধ্যেও দেশের জন্য কোন মায়া মমতা ভালোবাসার ছিটে ফোঁটা আয়েশা দেখেন নি, অথচ সারা জীবন ছাত্র ছাত্রীদের দেশ প্রেমের বুলি শিখিয়েছেন। আজ দূর সম্পর্কের এই ভাইয়ের বিধবা বৌ'টাকে নিজের কাছে এনে রেখে কথা বলার সঙ্গী করেছেন। যত না বিধবা ভাই বৌ এর প্রতি দরদে তার চেয়ে নিজের স্বার্থে। আজকাল ছেলে মেয়েরা মাসে দুই মাসে হয়তো ভুলে একবার ফোন করে মায়ের খোঁজ নেয়, আদতে জানতে চায় বুড়িটা এখনো বেঁচে আছে কি না? বুড়ি চোখ বন্ধ করলে'তো বাপের করা বাড়িটা বেঁচে দিয়ে ভাই বোনে মিলে টাকা ভাগাভাগি করে একবারে দেশের মাটির সাথে সম্পর্ক ঘুচিয়ে দেবে, এই আশাতেই হয়তো আছে তারা।

মায়ের বেঁচে থাকা আর না থাকায় তাদের কি আসে যায়?

*************

রফিক সাহেব, মালেক সাহেব ও ফিরোজা বেগম, আয়েশা আমেনা - এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এদের মত হাজার হাজার পরিবার (কিংবা কে জানে হয়তো লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে এ সংখ্যাটি); প্রতিদিন প্রতিক্ষণ পথ চেয়ে থাকে সন্তান'কে দুচোখ ভরে দেখার, পথ চেয়ে থাকে সন্তানের ফিরে আসার, পথ চেয়ে থাকে তার উত্তরসূরিদের এক নজর দেখার। এ সকল সন্তান'রা হয়তো বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে কেও পেটের টানে, কেও বৈধ পথে আর বেশিরভাগ অবৈধ পথে। যারা অবৈধ উপায়ে বাইরে গিয়েছে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরতে পারছে না বাবা-মায়ের কাছে। আবার কেও উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসে নি বাবা-মা, কিংবা দেশের টানে।

শেকড় ছিল সবারই; এ দেশেই।
কারো শেকড় হয়তো এখনো অনেক গভীর শুধু পরিস্থিতির কারণে বাধা পড়ে আছে।
কারো শেকড় আলগা হয়ে গেছে, এই টুপ করে বাকিটুকু আলগা হলো বলে;
কারো কারো শেকড় একদমই মরে গেছে।

সন্তানদের শেকড় মরে যায়
বাবা মা পথ চায়;
আজকের সন্তান সেদিন হয়তো বুঝবে, যেদিন তাদের সন্তানও শেকড় ছিঁড়ে বের হয়ে পড়বে চাকচিক্যের হাতছানিতে, অন্যদেশে।

ইদানীংকার সন্তানরা বোঝে না, বাবা-মায়েদের এখন আর জাগতিক কোন উপহারের প্রয়োজন নেই, তাঁদের প্রয়োজন একটু সঙ্গ, সন্তানদের সঙ্গ, উত্তরসূরিদের সঙ্গ, তাঁদের ভালোবাসা তাঁদের কাছে থাকা।

আজকের এইসব বাবা-মায়েদের পথ চাওয়া শেষ হবে কবে?
আজকের এই সব পথচেয়ে থাকা বাবা-মায়ের চোখের জল মোছাবে কে?


**************************************************




অনেকগুলো হিবিজিবি


অনেকগুলো হিবিজিবি
- যাযাবর জীবন


কেন অভিমানে পোড়াচ্ছিস সূর্যকে?
অভিমানটুকু উড়িয়ে দে বৈশাখী ঝড়ে
প্রেম থেকে বাঁচিয়ে রাখ নিজেকে
মধুমাস এলো বলে;
জ্যৈষ্ঠের পাকা ভালোবাসায় কাঁচা প্রেমের ঠাই কোথায়?
গোঁফে তেল দিয়ে বসে আছি এই আম পাকলো বলে।


/////////////////


আকাশে সূর্যের রূপার থালা
চোখে দুপুরের জ্যোৎস্না
ভ্রম তো হতেই পারে
নারী চিনে নিতে;
দৃষ্টি পেতে ও দিতে আমি চিরকালের আনাড়ি।


////////////////////


চল রোদে ভিজি
কামনা ধুয়ে যাক সূর্যস্নানে,
তারপর না হয় প্রেম করব।

////////////////////

তুই গল্প লিখিস
তুই কবিতা ছাপিস
তুই ছবি তুলিস
তুই ছবি আঁকিস
আমায় আঁকতে পারিস কি?
কিংবা প্রেম?

////////////////////


আগুন লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়
লাল রঙ দেখলেই তোর ঠোঁটের কথা মনে হয়


////////////////////

আকাশ তো কেঁদেছে রাতে
সকালে তোর চোখে পানি কেন?
তোকে আর আমার বোঝা হলো না;
তারচেয়ে কবিতা লেখা অনেক সহজ।


////////////////////

কেও কেও স্বার্থে আপন
কারো কারো কাছে স্বার্থ আপন;
এটা দৃষ্টিভঙ্গি না, জীবন কথন।

না আমি কারো আপন হতে পারলাম
না কেও হলো আমার আপন;
এটা কথার কথা না, সত্যভাষণ।


////////////////////

আব্রুতেই নারীর সৌন্দর্য;
আর নয়তো বাজারেও মাংস বিকোয় কেজি দরে,
সে কষাই বাজার হোক
কিংবা চিপাগলির রাতের বাজার।


////////////////////

রাবার ঘষে কি আর প্রেম মোছা যায়?
শুধুমাত্র ঘৃণার আগুনেই প্রেম গলে যায়;
আর বাকি সবই নিষ্ফল প্রহসন।


////////////////////

তোর রাত হয়ে আসার দরকার ছিল না
আমি তোকে ছাড়াই অন্ধকার ছিলাম।


////////////////////

আমি যা দেখি না তা আমার কলম দেখে
আমি যা লেখি না তা আমার কলম লেখে
তোর কি দায় হে দুষ্ট কলম
লেখার ঘায়ে ভালোবাসা ভেঙ্গে দিতে!


////////////////////

স্বচ্ছতা ছিল তোর ভালোবাসায়
স্বচ্ছতা ছিল আমার ভালো না বাসায়;

অস্বচ্ছতা যদি কিছু থেকে থাকে তবে
সে তোর বোঝার ভুল
কিংবা আমার বোঝানোর ভুল;

আমার কি দায় পড়েছে ভুলের মাশুল গুনে যাওয়ার?
প্রতিবার।


////////////////////


কেজি কেজি চুমু খেয়ে মন ভরালি তুই
আমার পেটে শুধুই লিপস্টিক;
এ কেমন অসামঞ্জস্যতা প্রেমের?




////////////////////

খোলা চুলে প্রেমের ঢেউ মনে
ধরতে গেলেই ভালোবাসা ধুয়ে নদীর জলে
প্রেমের সরোবর পারি দিলে দিনান্তে সূর্যে লাল রঙ ধরে
মানুষ তো কোন ছাড়!






////////////////////


ভালোই তো কাটছিল জীবনটা করে ঘরবার
ভালোবেসে বড্ড ক্ষতি করে দিলি আমার




////////////////////


রোদ মাথার ওপরে চলে আসতেই ছায়া আলিঙ্গনে
তোকে ধরতে গেলেই হাঁটি হাঁটি রোদ এগোয়
রোদ চলতে শুরু করার সাথে সাথে
ছায়াটুকু মরীচিকা হয়ে অনেক দূরে সরে যায়
প্রেমের ওৎ পাতা মনের ফাঁদে ধরা দেয় বিষণ্ণতা
বলতে পারিস, ভালোবাসা ধরা যায় কোন আঠায়?




////////////////////


মেঘ কাঁদলেই কি প্রেম হয়?
মন তো আর মেঘ নয়,
হয়তো উড়ে কিংবা নয়
ভালোবাসা শুধুই হৃদয়ের সঞ্চয়;

কেও বোঝে
কেও ধারণ করে;

আমি কোন দলেই পড়ি না।





////////////////////



ঘুমের চুমু চোখের কোনে
স্বপ্নবাসরে তুই
ঝড় এলো বলে;
ঘাসফুলগুলো নিষ্পেষণের অপেক্ষায়।




////////////////////


আকাশে মেঘ
মন বৃষ্টির কোলে
আঁধারের জন্য বসে আছি
তোর সাথে ভিজব বলে;

এসেই দেখ না একবার দুপুরস্বপ্নে
নতুন কিছু করি নিয়ে তোরে,
রাতের বেলা তো প্রতিদিনই প্রেম হয়
গাঢ় অন্ধকারে।





////////////////////


আমি কোথায়?
কিংবা কোথায় তোর বাস?
আসলে কি জানি আমরা?
আমাদের মন এক জায়গায় তো শরীর অন্য কোথাও
তবুও দেখা হয়ে যায় মাঝে মাঝে শরীরের সাথে মনের
কিংবা তোর সাথে আমার
এখানে
ওখানে
কিংবা স্বপ্নে কোথাও;
মাঝে মাঝে
খুব মাঝে মাঝে।






////////////////////


বৃত্ত বন্দী ভালোবাসায় কেন্দ্র কখনো পরিধিকে ছুঁতে পায় না,
প্রেম চক্রাকারে ঘুরছে বৃত্তের ভেতরে
তুই আমি আর সে হয়ে;
তোর আর আমার দূরত্ব মাত্র এক ব্যাসার্ধ ।



////////////////////

প্রেমের কাপে চুমুক দিয়ে
নিশ্চিন্তে বসে পরেছিস বিয়ের পিঁড়িতে;
ও লীলাবতী!
তারে কেন কলা দেখালি?
তুই কি সুখী হলি?



////////////////////

মনবনের নকশিকাঁথায় শুয়ে
যখন স্বপ্ন বুনছিলাম তোর ভেজা আঁচল তলে
বৃষ্টি চুমু খেয়েছিল কদমের ঠোঁটে
রিমঝিম কবিতার ছলে;
আষাঢ় আসলো অবশেষে
তোর পুরোটা আকাশ জুড়ে
শুধু শুধুই কান্না ঝরিয়েছিলি এতদিন
অকারণ অভিমানে পুড়ে।




////////////////////

না দেখেও'তো ভালোবাসা হয়,
মনে যখন মন মিশে রয়
হৃদয়ে অনুভূতি কথা কয়;
জেগে থাকলে অনুভবের অসীম সময়
শুধুই তুইময়
ঘুমে থাকলে তুই
স্বপ্নে স্বপ্নময়,
নিথর শবের সাথে তো মাটি কথা কয়;
তোর কথা মনে হবে কি?
সে সময়।






////////////////////


বাদল দিনে দেখি ফেবু প্রেমে ভাসে
প্রেমিকারে নিয়া কবিতা হয়
ভালোবাসার কাব্য হয়
বৃষ্টির গানে ওয়াল ভাসে;
আমার কিছুই ভালো লাগে না,
বেগুন ভাজি আর গরুর কালা ভুনা দিয়া পাতলা খিচুড়ি খাইয়া
তোর কোলে মাথা রাইখ্যা ঘুমাইতে ইচ্ছা করে;
তুই কই রে?





////////////////////




তপ্ত দুপুর তপ্ত রোদে
দেহ জুড়ে লবণ ঘামে
শরীরটা জ্বলে যায়;
তপ্ত চুমু তপ্ত ঠোঁটে
মিশে থাকে তপ্ত কামে
মনটা তোরে চায়;
এই বৃষ্টি নামলো বলে!
চল, ভিজি দুজনে
শরীরে ও মনে।





////////////////////

ধুন্ধুমার গরম চলছে
চলছে ধুন্ধুমার ছাড়াছাড়ি;
গরমে নাকি সবচেয়ে বেশী ব্রেক আপ হয়
মেক আপ সব যে ধুয়ে যায়।







////////////////////



বর্বর যুগের কাম উত্তাপে প্রেম ঝলসে গেলে
রোদ গলে পরে আমারই ওপরে,
ঘৃণার আগুনে মন জ্বালাতে তোর জুরি মেলা ভার;
পোড়া প্রেমে ঘি ঢাললেই কি আর সম্পর্ক ফিরে আসে?





////////////////////

ঝিরিঝিরি বৃষ্টির পর রোদ উঁকিতে ভ্যাপসা গরম নামে
জ্যৈষ্ঠ দুপুরে ভাদ্রপ্রেমেতে শরীরে শরীর টানে
সেগুন খাটেতে প্রেম ছেয়ে যায় শীৎকার আর ঘামে
শঙ্খবুকে পুরুষ ডুবে যায় শরীরতত্ত্ব কামে।



////////////////////

সকালটা মেঘ হতেই জানালায় বৃষ্টি ঝুম
স্বপ্নটা ভিজে গেলো ধুয়ে গেলো ঘুম


প্রকৃতি ও নারী



প্রকৃতি ও নারী
- যাযাবর জীবন

বৃষ্টিতো প্রকৃতি চাইলেই হয়
তোর কান্নার আছে কি কোন সময়?

গত কালকের রাতটা ছিল শুধুই আমাদের
রেলের ছোট্ট কামরায় শোবার সিট দুটি, ওপরে ও নীচে;
একটি সারা রাত খালিই পড়ে ছিল একা
আর অন্যটিতে তোর কোলে আমার মাথা
তোর হাত আমার মাথায়
আমি স্বপ্ন বুনেছি রেলের চাকায়;
রাত কেটে গেছে ঝমঝম গানে
রেলের চাকার
তোর কথার

জানালায় বৃষ্টির ছিটার;

বৃষ্টি তো ঝরেছে সারারাত বাইরে
তোর চোখ ভেজা ছিল কেন সকালে?

প্রকৃতি ও নারীর মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
বিসর্জনে কিংবা কান্নায়।





বুধবার, ২৪ জুন, ২০১৫

একটু পর



একটু পর
- যাযাবর জীবন

এই
একটা ফোন কর না প্লিজ,
একটু পর;
কথা বলতে ইচ্ছে করছে তো!
একটু পর;
আরে বাবা পাঁচ মিনিট মাত্র,
আরে বাবা একটু পর;

একটু পরের একটু সময় আসবে কখন?
একটু পরের সেই একটু সময় দিল না তাকে আর জীবন;
একটু পরে নিথর পড়ে থাকতে দেখলাম তারে
তারই একটু পর শুইয়ে দিলাম তাকে মাটির ঘরে।



অপচয়



অপচয়
- যাযাবর জীবন

প্রেম হিসাবের সমীকরণ নয়
ভালোবাসা কাঁদায়, সম্পর্ক নয়
চারে চারে তোর আট মিললেও
আমার সব সময়ই পাঁচ, ছয় কিংবা নয়;
আমি চোখ বন্ধ করে রাখি
তোর বিদ্যুৎ অপচয় ঘোচাতে,
সময়ের অপচয় করিস না তুই
আমায় ভালোবেসে।





সোমবার, ২২ জুন, ২০১৫

দ্বিধা




দ্বিধা

- যাযাবর জীবন

দ্বিধা কেন? মনের মাঝে
প্রেম করি চল
এলো বৃষ্টি, দুচোখ বেয়ে
ভালোবাসি বল;

চাঁদ দেখেছিস? জ্যোৎস্না হবে
ইতিউতি না তাকিয়ে
প্রেমের কথা বল
এক সাথে তুই আর আমি
চাঁদনি দেখি চল,
ও বাবু'রে একটি বার
ভালোবাসি বল;

আজ নয় কাল করে করে
অনেক করলি ছল
থাকিস নে আর পাথর হয়ে
এবার হ তুই জল;
চোখের জলের দু ফোঁটাতে
ঝুম বৃষ্টি আকাশ থেকে
মনের মাঝে কান্নাবিলাস
এবার ভিজি চল;

চুমু খাবি? একটি না হয়,
মুখ ফেরাবি? তা কি করে হয়?
অভিমান'তো অনেক হলো
প্রেমে ভিজি চল
একটা কিছু বল;
ও বাবু'রে
শুধু একবার '
মুখ ফুটে তুই
ভালোবাসি বল।



রবিবার, ২১ জুন, ২০১৫

আমি তুই সে



আমি তুই সে
- যাযাবর জীবন

তুই দৌড়া মন খুলে প্রেমের মাঠ জুড়ে
সে আছে অন্য ভুবনে, দূরে কোথাও সরে
আমি আক্রান্ত পক্ষাঘাতে, পুরোটা মন জুড়ে;

কখনো দেহ সায় দিলে মন সায় দেয় না তোতে
কখনো মন সায় দিলে দেহ খোঁজে তাকে,
আমি তুই আর সে
একই বৃত্তের ব্যাসার্ধ জুড়ে পরস্পর সম্পৃক্ত আমরা
ভয়াবহ এক জীবনচক্রে;
পক্ষাঘাতগ্রস্ত মন বেঁধে রেখেছে আমাদের মনকে
কেও কাওকে পায় না ছুঁতে
দেহ ও মনে;
শূন্যতার অনুভবে শূন্য
তুই
আমি
আর সে।




শনিবার, ২০ জুন, ২০১৫

গন্তব্য



গন্তব্য
- যাযাবর জীবন

ঘর ভরা রাশি রাশি কড়ি
এখানে ওখানে গুটি কতক বাড়ি
সার দিয়ে থাকে সেথা গাড়ি
টাকার ওপর টাকা
তার ওপর টাকা
সম্পদ যেন তোর পাহাড় সারি সারি;
কোথায় নিয়ে যাবি?

টাকার চাপে দমবন্ধ
তবুও টাকা টাকা করে মরে
বাড়িতে রাখার জায়গা নাই
ব্যাঙ্কগুলো উপচে পরে,
তবুও আরো চাই আরো চাই
আকাশ তুল্য লোভ মন তোর পেঁচিয়ে ধরে;

আরে ভেবেছিস কখনো, হে মূর্খ মানব;
কি নিয়ে যাবি মাটির ঘরে?



শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০১৫

পরগাছা


পরগাছা
- যাযাবর জীবন

একটা চুমু না হয় খেয়েছিলই "সে"
ঠোঁট থাকলে ঠোকর মারতেই পারে পাখিতে
তাই বলে তুই মুখ ফিরিয়ে নিবি?
কেন রে?
ঈর্ষা?
এত?
অনেক ভালোবাসিস বুঝি আমায়?
কই, বুঝতে পারি নি তো আগে;

বন্ধুত্বের বটগাছে প্রেমের পরগাছা জন্মেছিল কবে?
পরগাছার এতই যত্ন নিয়েছিলি?
যে বন্ধুত্বটাই মেরে ফেললি!




মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫

বেলা অবেলা



বেলা অবেলা

- যাযাবর জীবন

বুকের এপাশটা দেখ
এখানে হৃদয় আছে ভালোবাসার
ওপাশটা দেখ
ওখানে হাহাকার শূন্যতার;

বাইরে রোদ বৃষ্টি ঝড়
প্রকৃতির খেয়াল
ভেতরে দমবন্ধ
রক্ত মাংসের দেয়াল;
অবেলায় ঝড় হলেও প্রকৃতিতে খুব মানিয়ে যায়
অবেলায় তুই এলেই মন বিহ্বলতায়
বেশ তো সুখেই ছিলাম প্রেমহীন জীবনে হাসিখেলায়
সব ওলটপালট করে দিলি ভালোবেসে অবেলায়;

এলিই যদি জীবনে কেন'রে এলি শেষবেলায়?



সোমবার, ১৫ জুন, ২০১৫

আজকালকার ভালোবাসা



আজকালকার ভালোবাসা
- যাযাবর জীবন

কামারের হাপরে হৃদয়ের ওঠানামাতেই কি প্রেম হয়?
কুমারের হাতে কাদার দলা শুকোয়
পুতুল হতেও তো আগুনে পুড়তে হয়;

বাঁশরিয়া বাঁশি বাজায় নিজমনে
প্রেমিকের হৃদয় পোড়ে ক্ষরণে
কলায় ব্যস্ত প্রেমিকা স্বামী ভোলানোর গানে
রতিক্লান্ত স্বামী রমণীর বন্ধনে
কামনা পুড়ে অন্ধকার রাতে,
বাকি সবাই পুড়তে থাকে যে যার স্থানে;

সবাই ব্যস্ত যার যার মত
আজকালকার ভালোবাসায়
অনুভূতি মাপার নিক্তি কোথায়?

ই-ডাকবাক্সে ভালোবাসার চিঠিগুলো জমা হয়
স্বামী ঘুমোলে প্রেমিকা প্রেমের ঘ্রাণ নেয় বুক ভরে।





রবিবার, ১৪ জুন, ২০১৫

ই-প্রেমপত্র



ই-প্রেমপত্র
- যাযাবর জীবন

এই তো মাত্র সেদিনের কথা
বাংলিশে আমাকে লিখা তোর প্রথম প্রেমপত্র;
মনে আছে?
বাংলিশ আমার অপছন্দের জানিয়ে দিতেই তুই ভুল ভাল বানানে
বাংলায় টাইপ করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলি কম্পিউটারের কীবোর্ড ঘষে,
আমি প্রশ্রয়ের হাসি দিয়ে
তোর প্রতিটা ভুল বানান শুধরে দিতাম এক একটা চুমুতে;
সেদিনের ভুল বানানে লিখা চিঠিগুলো বড্ড আপন ছিল
প্রেমের আকুতিগুলো তোর লেখায় ফুটে উঠত;
তারপর ধীরে ধীরে যতই তুই বাংলায় পটু হয়ে উঠতে লাগলি
কমে আসতে লাগলো আমাকে প্রেমপত্র পাঠানো
সাথে সাথে কমে আসতে লাগলো আমার ভুল বের করার ক্ষেত্র;
যখনই তুই বুঝতে পারলি তোর দক্ষ হয়ে ওঠা
তখন চিঠির পরিবর্তে কবিতা বুনতে লাগলি একের পর এক
আর আমার ঠোঁট হারালো তোর লেখাগুলোর ছোঁয়া,
বড্ড মন কেমন করত সে সময়
তোকে বুঝতে দেই নি;
তারপর সময় গড়ানোর সাথে সাথে
পটু হতে হতে আজ তুই বিশাল কবি
ওখানকার পত্রিকাতে নাকি নিয়মিত তোর লেখা ছাপা হয়;

আমার ঘরে অনেক দিন ই-পিয়নের পদচিহ্ন পড়ে নি
কতদিন হয়ে গেছে আমাকে চিঠি পাঠাস নি
তোর ভুল বানানে চুমু খাওয়া প্রায় ভুলেই গেছি;
অনেক বড় লেখিকা হয়ে
কোন একদিন হয়তো আমাকেও ই-অটোগ্রাফ দিবি
ভুলে কিংবা ইচ্ছে করে,
শুদ্ধ বানানে প্রেম পত্রের বদলে;

তোকে বাংলা শেখানো আমার কি ভুল ছিল?









হৃদয়ে অনুভব



হৃদয়ে অনুভব

- যাযাবর জীবন

না দেখেও'তো ভালোবাসা হয়,
মনে যখন মন মিশে রয়
হৃদয়ে অনুভূতি কথা কয়;
জেগে থাকলে অনুভবের অসীম সময়
শুধুই তুইময়
ঘুমে থাকলে তুই
স্বপ্নে স্বপ্নময়,
নিথর শবের সাথে তো মাটি কথা কয়;
তোর কথা মনে হবে কি?
সে সময়।



শনিবার, ১৩ জুন, ২০১৫

ভ্রম


ভ্রম
- যাযাবর জীবন

সাদা কালো কিংবা রঙিন যা কিছু ছিল আমাদের ভ্রম
মনে করলেই তো মনে পড়ে যায় একে একে সব পর্যায়ক্রম;
তার থেকে থাকুক না কিছু গোপন কথা
রাতের অন্ধকারে
দূরে সরিয়েছিল যে সকল কারণ
আমা থেকে তোরে;

নিদ্রাহীন চোখ নিদ্রা দেবীর খোঁজে অন্ধকার সাজঘরে
স্বপ্ন দেখতে চাই না আর ভুল করে ঘুমঘোরে;

মানুষ না হয়ে পাথর হলে বড্ড ভালো হতো
নোনা জলের শ্যাওলায় ভালোবাসা পিছলে যেত;

চল পাথর হই
হৃদয়ের প্রেমঘরে।



শুক্রবার, ১২ জুন, ২০১৫

বিলীন



বিলীন

- যাযাবর জীবন

আমি তোকে মনে করি দিনরাত্রির অষ্টপ্রহরে
আমাকে মনে করার মত কিছুই ফেলে আসি নি তোর ঘরে;

প্রেম একতরফাই হতে হয়-
দিন আর সূর্যে
আমি না হয় হলাম রাত্রি,
চাঁদ আর চাঁদনিতে
আমি না হয় অমাবস্যা,
রাত্রি আর অন্ধকারে
আমি না হয় নিদ্রাহীন,
পানি আর সাগরে
আমি না হয় ধু ধু বালিয়াড়ি;
তুই স্বপ্নের নৌকায় দুলতে থাক
আমি না হয় জোয়ারভাটা;

আমাকে মনে করার মত কিছু নেই
আমি মিশে আছি প্রকৃতিতে
তোর সাথে,
ভালোবেসে,
তোর হয়ে, তোতে।




বুধবার, ১০ জুন, ২০১৫

তপ্ত ভেজা



তপ্ত ভেজা
- যাযাবর জীবন

তপ্ত দুপুর তপ্ত রোদে
দেহ জুড়ে লবণ ঘামে
শরীরটা জ্বলে যায়;
তপ্ত চুমু তপ্ত ঠোঁটে
মিশে থাকে তপ্ত কামে
মনটা তোরে চায়;

এই বৃষ্টি নামলো বলে!
চল, ভিজি দুজনে
শরীরে ও মনে।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০১৫

বিভেদ


বিভেদ
- যাযাবর জীবন

গরম পড়েছে আজকাল বড্ড হাঁসফাঁস
চারিদিকে সর্দি-গর্মি, জ্বর-জারি আর কাশ
ডিহাইড্রেশন চারিদিকে, স্যালাইনের ব্যবসা তুঙ্গে
চিড়বিড়ে রোদে বার-বি-কিউ মানুষ, পুরো বঙ্গে
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ চিরদিনই প্রকট
অর্থের মাপকাঠিতে কেও খাটো, কেও বিকট
গরমে গরম পুড়ে যায়, তাতে কার কি?
যে যার জায়গায় আগুন কিংবা বরফ দেখি;
টাকার গরম যদি আমার বেলায়
কাঁথা গায়ে ঘুমে থাকি এসির তলায়
কাঁঠাল জনতার কাতারে যখন আমি
আমতলায় বাতাস খুঁজি রাতের বেলায়;

ইশশ্, তাল পাকা গরমে বড্ড হাঁসফাঁস
তোমাদের এসির ঘর, ঠাণ্ডায় কর বাস
উনিশ থেকে বিশ হলে তোমাদের সর্বনাশ
ইটের বালিশ মাথায় আমার বারোমাস;

ঋতুর বিভেদ মেনে নেয়া যায়
মানুষে মানুষে এত বিভেদ কেন?


দাম্পত্য



দাম্পত্য
- যাযাবর জীবন

গরমে সিদ্ধ আমি দিনে
কামে সিদ্দ তুই রাতে;
দিনমান ছুটাছুটিতে শরীর ভিজে যায় ঘামে
রাতভর ঘাম ভিজে যায় জাপটে ধরা কামে,
জোড়ায় জোড়ায় ভালোবাসা শরীর নির্ভর প্রেমে
চাহিদা মিটে গেলেই বিচ্ছিন্ন দুজন, বিছানার দু কোনে;

ডিজিটাল যুগে মানুষ ঘর বাঁধে কেন দুজনে?
বিয়ে ছাড়াও তো সন্তান জন্ম নেয় এখানে ওখানে।


সোমবার, ৮ জুন, ২০১৫

আগুন



আগুন
- যাযাবর জীবন

সূর্যের চেয়ে বালি গরম
মধ্য দুপুর হলে
অভিমানে প্রেমে আগুন
জ্বলে দাবানলে;

জ্যোৎস্না পুড়ে আলো জ্বলে
অন্ধকারে রাত পুড়ে যায়
মনের আলোয় দেখি তোকে
অমাবস্যায় কি আসে যায়?

রৌদ্র পুড়ে সূর্য তাপে
প্রেম পুড়ে যায় রাগের ভাপে
কাম পুড়ে যায় আঁধার রাতে
আমি পুড়ি শুধুই তো'তে।





রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

নির্ঘুম



নির্ঘুম

- যাযাবর জীবন

পানিকম্পে স্বপ্ন ধুয়ে গেলে
ঘুম ভেসে যায় ভাটার টানে
তোর কথা মনে হতেই
অমাবস্যা চাঁদনি আনে;
অনেক ভেবেছি তোর কথা
জ্যোৎস্নার কালো আঁধারে
খুঁজেছি তোকে মরুদুপুরে
খুঁজেছি তুষার পাহাড়ে;
মনকম্পে হৃদয় কেঁপেছে
প্রেমের জোয়ার আর না
চাঁদের রোদে শুকিয়ে নেব এবার
নির্ঘুম রাতের কান্না।

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০১৫

নিদ্রাহীন



নিদ্রাহীন

- যাযাবর জীবন


আমার এখানে যখন প্রাত
তোর ওখানে নামছে রাত
আমার যখন রৌদ্র দুপুর
তোর তখন মধ্যরাত
তুই হয়তো আমার ভাবনায়
জ্যোৎস্না যখন তোর মাথায়
নিদের সাথে আমি না হয় যুদ্ধ খেলায়
তোর ভাবনায় তোর ভাবনায়;

রেলের পাতে জীবন গড়ায়
দু-ভুবনে জীবন খেলায়
তুই হয়তো আমার ভাবনায়
তুই হীনা আমি যাতনায়;

ঘুম হারিয়েছে কবেই আমার
যখন আমাদের মুলুক ভিন্নে
তুই আমার ঘুম ঘুমিয়ে নে
জ্যোৎস্না যখন তোকে চুমে।



সোমবার, ১ জুন, ২০১৫

ঝিমদুপুর



ঝিমদুপুর
- যাযাবর জীবন

দুপুর ডানায় রোদ উড়তে উড়তে
ঠিক তোর বাড়ির কৃষ্ণচূড়া গাছে
মন পুড়লে রোদের কি আসে যায়!
বিকেলবিষণ্ণ কোকিল দুপুররোদে ঝিমায়
পরাগায়ণ হয় না মৌমাছি ডানায়
কবে মধু খেয়েছে কৃষ্ণচূড়ায়?
বাগানে বিছানো পাপড়ি রক্তাক্ত লাল
কষ্টেরা সিঁদ কাটে তোর জানালায়
দুপুরের গায়ে হেলান দিয়ে মনখারাপ ঘুমায়;

রৌদ্দুর ক্ষরণ কাটছে মনকরাতের ধারে
বরফ গলছে দুপুর রোদে মনসাগরের পারে;

আমি ঘুমিয়ে বিকেলস্বপ্নে মেঘের অন্ধকারে।




জাহির



জাহির
- যাযাবর জীবন

নিজেকে জাহির করায়
আমাদের জুড়ি মেলা ভার;
ছলে, বলে কৌশলে
প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে
সামনে এর, ওর, তার;

উপেক্ষার নিয়মে উপেক্ষা
তবুও জাহির করে বার বার
সামনে এর, ওর, তার;

আসলে মানসিকতা, জাহির করার;
এভাবে, সেভাবে
নিজেরে যে কোন ভাবে,
এর সামনে
ওর সামনে
তার সামনে
নিজেরে বড় ভেবে;
মুঠোভরা উপেক্ষায় কি আসে যায়?
জাহির করেছে নিজেরে
বিকারগ্রস্তে মানসিক শান্তি পায়।


রবিবার, ৩১ মে, ২০১৫

বদল



বদল
- যাযাবর জীবন

সময়ে বদলে যায় জীবন
বদলায় অনুভব, বদলায় অনুভূতি
বদলায় ভালোবাসার ধরণ,
বদলায় প্রেম, বদলায় কামের চাহিদা
বদলায় শরীরের গড়ন;
বদলে যায় সুখ, বদলায় দুঃখ
সময়ে মানুষই বদলে যায়, কিবা চুল কিবা চরণ
বদলায় হৃদয়াভুতি, করেছিল যা হৃদয়ে ধরন।

সময় হলেই বদলে যায় সময়
শুধু একটু ধৈর্য ধরলেই হয়।



বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০১৫

মাটির যন্ত্র


মাটির যন্ত্র

- যাযাবর জীবন

মাটির ঢেলায় বড্ড সযতনে
ওপরওয়ালা পুতুল বানায় মাটি হতে,
ঐ ওপরে কোথাও বসে আপন মনে;
মাটির যন্ত্রে জীবন নামক চাবি দিয়ে
গড়িয়ে দেয় মাটির পৃথিবীতে;
তারপর ওপরে বসে
দম দেওয়া মাটির পুতুলের খেলা দেখে।

মাটির ঢেলা'কে আজকে না হয় শরীর বলে
মান অভিমান দুঃখ বেদনা
রাগ অনুরাগ ভালোবাসা ঘৃণা
কত অনুভূতির তরঙ্গই না খেলে
শরীর নামক এই মাটির যন্ত্রের ভেতর দিয়ে;

চাবির দম শেষ হলে
কাল'তো এ আবার শুধুই একদলা মাংস পিণ্ড হবে
মাটিতে পরে স্থবির শুয়ে রবে
তারপর মাটির পুতুল মাটিতে ঘরে যাবে,
তারপর?
মাটির ঢেলা সেই'তো আবার মাটিতে মিশে মাটি হবে।

এত অহংকার কেন হে, মাটির শরীরের ভেতরে?



মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০১৫

বেসুরাসুর



বেসুরাসুর

- যাযাবর জীবন

জ্বলন্ত উনুন
তোর রাগ,
মেঘ থমথম
তোর অভিমান,
শ্রাবণ ধারা
তোর কান্না,
জোয়ার ভাটা
তোর ভালোবাসা,
ঘণ্টায় ঘণ্টায় ঋতু পরিবর্তন
ষড়ঋতু তুই;

রৌদ্র দুপুরে তপ্ত মরুতে
বালি-কাঁথা গায়ে ভাত ঘুম দিতেই
ঝটিকা স্বপ্নে তোর আগমন;

আহা! কি সুখের সময়ই না ছিল সেটা!
কে বলেছিল প্রেম করতে?

ক্যাকটাসও জ্যোৎস্না দেখে
খেজুর কাঁটা আমার চোখে
ঝর্ণার কলতান পাহাড়ের কানে
আমি পূর্ণিমায় শুনি অমাবস্যা বেহাগ।




রবিবার, ২৪ মে, ২০১৫

ঘুম ভাঙানিয়া



ঘুম ভাঙানিয়া
- যাযাবর জীবন

কোন এক মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে
ভালোবাসার ডাক শুনি দূর থেকে,
ওভাবে ডাকতে হয় না ভালোবেসে;
রক্তমাংসের দলার ভেতরেও হৃদয় থাকে
বুকের বালুচরে ঝড় ওঠে উড়িয়ে নিতে
রক্তনদীতে প্লাবন জাগে ভেসে যেতে
সাদাকালো ঘুমে রঙ্গিন স্বপ্ন জাগে তোতে ডুবে যেতে;

ওভাবে ডাকতে হয় না রে ভালোবেসে
ক্ষরণ হয়
স্মৃতির নদীতে জোয়ার আসে,
তোতে ডুব দিয়ে উঠতেই আবার সাদাকালো স্বপ্নে শূন্যতা ভাসে;
আর রাতভর জেগে থাকে দুচোখের ঘুম।




অনুভূতি



অনুভূতি
- যাযাবর জীবন

শূন্যের একটু পরে, একের একটু আগে আমার বাস
আমি একের দিকে এগোতেই তুই চললি শূন্যের দিকে
বিপরীত পথ চলাতেই আমাদের পথ দুটি গেলো বেঁকে
তুই শূন্য হয়ে যাওয়াতেই হয়েছিল প্রেমের সর্বনাশ;

কেও কেও ছেঁড়া সুতোটা দেখতে পায়, যেমন তুই
আমার কাছে অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা সম্পর্ক চিরকাল রয়ে যায়;

কেও কেও ভুল করে প্রেমে পরে
কেও প্রেমে ডুবে প্রেমে মরে,
আমার শূন্য আর একের মধ্যবর্তী জায়গাটা অনুভূতি শূন্য।







শনিবার, ২৩ মে, ২০১৫

নেশা


নেশা
- যাযাবর জীবন

তাতানো রোদের ওপারেই স্নিগ্ধ রাত
তারা ঝিলমিল অমাবস্যা হলে ভালো
জ্যোৎস্নাবৃষ্টি হলে সোনায় সোহাগা
রাতের শরীরে কাম জাগানো নেশা
ঠিক তো'তে ডোবার মত;

পাহাড়ের ঠোঁটে অন্ধকার দেখি
জ্যোৎস্নায় ভেজানো রাত
মিটিমিটি জোনাক জ্বলছে
মাদল বাজে দূরে কোথাও
মহুয়ার ঘ্রাণ নেশা জাগায়
তোর চুমুর মত;

দিনের ওপারে বিশাল কামজাগানিয়া রাত
তোর স্পর্শের অপেক্ষায়;
সমুদ্র স্নান করতে ইচ্ছে করে
তোর শরীরে ডুব দিয়ে।


তপ্ত-দুপুর



তপ্ত-দুপুর
- যাযাবর জীবন

জ্যৈষ্ঠের সকালটাও আজ ছিল না নরম
দুপুরটা তো তোর মেজাজের থেকেও গরম
আকাশে নেই মেঘের আনাগোনা
কোন ভাবেই বিকেল হচ্ছে না মন;

বৃষ্টিতেও মাঝে মাঝে বরফ মেলে
তোর মেজাজ ঠাণ্ডা হলে
শিলা সামলাতে হয় আমাকেই
তোর শুধুই বৃষ্টিস্নান;

রোদেরও ক্ষয় হয় সন্ধ্যের সঙ্গমে
শরীরে শরীর মিলতে গরম ক্ষয় হবে কি?
একটু বরফ পেলে তোর জ্বর কমাতাম।





শুক্রবার, ২২ মে, ২০১৫

পতন



পতন
- যাযাবর জীবন

ইকারাস ডানায় যতই ওপরে ওঠা যায়
সূর্যের প্রখর তাপে ততই ডানা গলে যায়
পতন যত ওপর থেকে
ডেবে যায় তত মাটির নীচে;
খ্যাতির যতই শীর্ষে ওঠা যায়
পতনের ভয় ততই বেড়ে যায়
পতন হলে শীর্ষ থেকে
মাথা ঠেকে মাটির নীচে।


বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০১৫

গরম



গরম
- যাযাবর জীবন

রোদ আজ বড্ড তেতে উঠেছে তোর রাগে
চিড়বিড়ে গরমে পক্ষীকুলের কি এসে যায়?
বৌ কথা কও জুটি এ গাছ থেকে সে গাছের ডালে
পরস্পর মেতে আছে আদরে সোহাগে;

রাগের মাথায় অভিমান ঢালিস না রোদ কমলে
বাঁধাস না কামজ্বর আমি ছাড়া একলা বিকেলে।


ভালোবাসা



ভালোবাসা
- যাযাবর জীবন

মানুষইতো ভালোবাসে
দুজন কাছে আসার আশে
প্রেমিক প্রেমিকা অগোচরে
স্বামী স্ত্রী অধিকারে
বাবা মা স্বার্থ ছাড়া
সন্তান সন্ততি পাগলপারা, স্বার্থ হলে দিশাহারা
বাল্যকালে ভাই বোন
বড় হলে স্বার্থ আপন
ভালোবাসার কত রূপ?
সম্পর্ক ভালো হলে অপরূপ
আর নয়তো দেখি স্বার্থের কদাকার রূপ।

প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা
সারাক্ষণ শরীর ঘষা
রিক্সা ট্যাক্সি কিংবা গাড়িতে
বাবা মা না থাকলে বাড়িতে
রেস্টুরেন্টের অন্ধকারে
ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আবেগ ভরে
সুযোগ পেলেই এখানে ওখানে
হাত চলে যেখানে সেখানে;
যখন একটু স্বার্থের টোকা
দুজনই সাজে বড্ড বোকা;
ভালোবাসা না দেহের নেশা?

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা
কারণবারির নেশা নেশা
বিয়ের সময় প্রথম প্রথম
কেওর মারা যখন তখন
মধ্য বয়সে সময় বুঝে
খালি বাড়ির সুযোগ খোঁজে
শেষ বয়সে অনেক মায়ায়
হাতের ভেতর হাত গোঁজে;
পরস্পর নির্ভরশীলতাও ভালোবাসা
অনেক ঝড় ঝাপটার পরে বোঝে।







ব্যস্ততা


ব্যস্ততা
- যাযাবর জীবন

বাস্তবতা বদলে দিয়েছে আমার জীবন
জীবনের সাথে লড়াই করতে করতে বদলে গেছে তোরও মন;

আমার মোবাইল স্ক্রিনে এখন আর ভেসে ওঠে না
তোর অতি পরিচিত নাম্বারটি আগের মতন;
ইদানীং মিস কল লিস্ট দেখার দেখার কথাও ভুলে যাস বোধহয় তুই
যেখানে চুপটি করে রয়ে যায় আমার মোবাইল থেকে করা ফোন;
হাজার হোক মোবাইলে মোবাইলে অনেক দিনের পুরনো সম্পর্ক,
আমাদের যোগাযোগ আগের মত না হলেও সম্পর্ক কিন্তু রয়ে গেছে অনুভবে;
আর ভালোবাসা?
সে তো এখনো রয়েছে ঠিক সেই আগের মতন।



মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০১৫

তরঙ্গ


তরঙ্গ
- যাযাবর জীবন

ভাব তরঙ্গের খেলায় মনে দোলা লাগলেই
হৃদয় মাঝে প্রেম তরঙ্গের ঢেউ;
মন তরঙ্গের নৌকা স্রোতের অনুকূলে তো প্রেম তরঙ্গ
নৌকার পালে অভিমানের উল্টো হাওয়া তো রাগ তরঙ্গ;
মনতরঙ্গে ঢেউ উঠলে তবেই না প্রেমতরঙ্গ
আর নয়তো তরঙ্গ তরঙ্গে সব জলে গেলে জলতরঙ্গ;
ভালোবাসার প্রচেষ্টা জলে গেলে শুধুই মন জ্বলে
মন জ্বালায় ভাবতরঙ্গে বুঁদ হলে তবেই কানে বাজে জলতরঙ্গের গান।

সোমবার, ১৮ মে, ২০১৫

মানুষ ও পরীর গল্প



মানুষ ও পরীর গল্প
- যাযাবর জীবন

একটা মানুষ ছিল
ছন্নছাড়া

মন ছিল তার
প্রেমেভরা

একটা পরী ছিল
কোন অজানায়

ভাসতো সে তো
পাখির ডানায়

বাতাস এলো ঝড়ের ডানায়
মিললো দুজন এক ঠিকানায়
তারপর প্রেম হলো
গান হলো
কবিতা হলো
সংসার হলো,
তারও অনেক পরে এলো রাগ
তারপর অভিমান
তারপর গল্প
তারপর নাটক;

তারপর কি হলো দাদী?

অনেক রাত হয়েছে এবার ঘুমো তো বাছা;

না শেষটুকু শেষ কর তারপর ঘুমোব;

তারপর মনকম্পে বেসুরা সুর
তারপর হৃদকম্পে বিচ্ছেদ;

এবার ঘুমো

আগে বল বিচ্ছেদ হলো কেন?

আরে বোকা, মানুষ আর পরীতে প্রেম হয় না;

আমার গল্প ফুরলো তোর চোখে ঘুম মুড়লো।





অপেক্ষা



অপেক্ষা

- যাযাবর জীবন

অভিমানে তুষ-চাপা আগুন জ্বলছে ধিকিধিকি
ভালোবাসা গলতে শুরু করেছে মাত্র
প্রয়োজন শুধু একটু জোর বাতাসের
চুয়ানো মন থেকে ঘি ঢালছে ঈর্ষা
ঘৃণার দাবাগ্নির পথ চেয়ে আমি
প্রেমের কামাগ্নি নয়;

এখনো রসে টইটম্বুর তুই
প্রেমে ও কামে,
ভালোবাসা ধরার ছেলেমানুষি ব্যাকুলতা তাই
মনে ও প্রাণে;
অথচ প্রেমে কি যায় আসে মৃত মানুষের?
অপেক্ষা তার মুখাগ্নির কিংবা কবরের।




শনিবার, ১৬ মে, ২০১৫

ঘুমবড়ি



ঘুমবড়ি
- যাযাবর জীবন

ঘুমের চাকা কখনো ঘড়ির দিকে
কখনো উল্টো দিকে,
দুচোখ ভরা ঘুম কিছুদিন কুম্ভকর্ণকে হার মানায়
তারপরের কিছুদিন চোখদুটি অর্ঘুম রয়ে যায়;
চোখ ঘুমেই থাক আর অর্ঘুমেই থাক
দুচোখে 'তোর' বাস;
দিনে সূর্যস্বপ্ন হয়ে
রাতে চন্দ্রস্বপ্ন হয়ে;

কিছু ঘুমবড়ি কিনতে চাই
চোখ স্বপ্নহীন করতে।


শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫

প্রেমের কঙ্কাল


প্রেমের কঙ্কাল
- যাযাবর জীবন

শরীরে শরীর টানলে তারে নাকি প্রেম বলে
এদিক-ওদিক-সেদিক
উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম
অগ্নি-বায়ু-ঈশান-নৈর্ঋত ঘুরিয়ে বিছানার কথা বলে;
তাহলে, প্রেমে মন কোথায়?
আরে বোকা!
ভালোবাসার কথা বলতেই টুপ করে বিছানায় ঝরেছে হেথায়;
তবে যে দেখি ভার্চুয়ালে প্রেমের ছড়াছড়ি!
আরে রাম বোকা,
আজকাল ভার্চুয়ালেই তো মেলে প্রেমের দেখা;
ওখানে কারা প্রেম করে?
সেটাও জানো না? ভার্চুয়ালে শুধুমাত্র বিবাহিতরাই প্রেম করে;
আর বাকিরা?
বাকিরা তপ্ত রোদে মন নিয়ে ডাংগুলি খেলা শেষে
ভালোবাসার কঙ্কালের ছায়া দেখে, ঘন অন্ধকারে।




দুষ্টু ছেলের দল


দুষ্টু ছেলের দল
- যাযাবর জীবন

রকে একঝাঁক কুকুর বসা
দূর থেকে হেঁটে আসছে একটা নারীর অবয়ব
ধীরে ধীরে জিহ্বা বের হওয়ার সাথে লালা ঝরছে কুকুরদলের
মুখে কুই কুই আনন্দ ধ্বনি;
চেহারা দৃষ্টিগোচর হতেই একটা কুকুরের জিব মুখের ভেতর
দোস্ত আমার মা, আওয়াজ দিস না;

সামনে থেকে-
নারী মা হয়
নারী বোন হয়
নারী মেয়ে হয়;
পেছন থেকে সবাই নারী
ওড়না টানায় কুকুরের নেই জুড়ি।

কুকুরে ওড়না টানে
সুযোগ পেলে;
বাবা দুষ্টুমি বলে
ধরা খেলে।



বুধবার, ১৩ মে, ২০১৫

পরাজয়



পরাজয়
- যাযাবর জীবন

দিনের মৃত্যুর আগে আকাশ বিমর্ষ লাল
অন্ধকার নেমে এলে জোনাকি ডানায় তারার ফুলঝুরি
রাত্রির আগমনে হৃদয়ে বাতি জ্বালিয়ে তুই
তারপর সারারাত দুজনার জ্যোৎস্নায় হলুদ স্নান
চাঁদ ডুবলে ক্লান্ত চোখে নিদ নামতেই স্বপ্নগুলো ঘুমকালো;
রাতেরও মৃত্যু ঘটে একসময় আজানের সাথে সাথে
আকাশ ডানায় নীল মেখে সকাল হেসে উঠতেই ঘুমের মৃত্যু,
আমি খাদ্যান্নেষনে;
সময় কোথায় সারাদিন প্রেম মনে করার?

..................হৃদয় হার মানে পেটের কাছে।

আবার দিনের মৃত্যুতে রাত জন্ম নিতেই
প্রেম হৃদয়ের কাছে,
এভাবেই ক্রমাগত:

একদিন আমারও মৃত্যু হবে
দিনের মত
রাতের মত
চাঁদের মত
ঘুমের মত;
আমার মৃত্যুতে প্রেমের কি আসে যাবে?

..................সেদিন না হয় তুই নতুন কারো স্বপ্নঘুমে।