চাঁদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চাঁদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১০

চন্দ্রাহত

কুয়াশা চাদর বিছানো শুরু করেছে বিষন্ন বিকেলের গায়
শীতের বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে আসছে চারিদিক থেকে
মফস্বলের কোন এক ছোট্ট শহরে অনেক দূরে দূরে ল্যাম্পপোস্টগুলি বসানো
হলুদাভ নিওন বাতিগুলি মাত্র জ্বলে উঠেছে কুয়াশার চাদর ভেদ করে
অলৌকিক নিঃশব্দ এক ভৌতিক পরিবেশ চারিপাশ জুড়ে
মনের খেয়ালে একা একা হাঁটছিলেম একলা রাস্তা ধরে
আজব আজব সব দৃশ্য ভেসে উঠছিল মনের মাঝে
তোমাকে ভেবে ভেবে
কল্পলোকে তুমিও আমার পাশে ছিলে
আমার হাত ধরে হাঁটছিলে ঠিক আমার পাশে পাশে
আমাকে সংগী করে
আর কথামালা সব গাথা হচ্ছিল যেন মনে মনে আনমনে
শুধু তোমাকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলোকে ঘিরে
তুমি পথে হাঁটছিলে আমার হাতটি ধরে
আমাকে সংগী করে আনমনে আনমনে।

দুর হতে মাঝে মাঝে একটি দুটি করে ট্রাক বা বাসের হেডলাইট
সামনে থেকে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল আমার
চকিত বাস্তবে ফিরছিলাম আলোর দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে
কিংবা পেছন থেকে হেডলাইট পড়ে আমার একাকিত্বের ছায়াসঙ্গী তৈরী করছিল
যে পথ হাঁটছিল আসলে আমার সাথে সাথে
আমি ও আমার ছায়াসঙ্গী দুজনে একা একা হাটছিলে ওই একাকী পথটি ধরে
মনের মাঝে তোমার হাত ধরে আর হ্রদয় মাঝে শুধু তোমাকে ভেবে।

একটু পর আকাশে উঁকি দিল জ্যোৎস্না
চন্দ্রাহত হলাম আমি চন্দ্রবেলায়
চাঁদের মাঝে তোমার মুখ যে শোভা পায়
কেন যে তোমার আর চাঁদের রূপকে আলাদা করতে পারি না
সেটাই বুঝে ওঠা হলো না আজো
দুজনার চেহারাতেই আলো ঝলকায় বলে কি?
নাকি তোমরা দুজন দুজনার আয়নার প্রতিচ্ছবি?
ধ্যাত, কি যে সব অলিক কল্পনা
আমার হাটার পথে একে যায় সব আলপনা
চাঁদ হেঁটে চলুক আকাশের গা ধরে
তুমি আলো হয়ে হেঁটে চল আমার হাত দুটি ধরে
ছায়াসঙ্গীকে পেছনে ফেলে
আজ এই ভরা জ্যোৎস্না রাতে চন্দ্রালোকিত মন আমার
ভরে উঠুক শুধু তোমার আলোতে
তাই তো খুঁজে ফিরে চাঁদকে আমি প্রতি চন্দ্রবেলায়
আকাশের গায় তোমায় মুখছবি দেখি সেথা হ্রদয় মেলায় ।

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০

প্রতিক্ষার প্রহর

এক মুঠো রৌদ্দুরের প্রতিক্ষায়
শীতার্ত আমি কতকাল
সূর্য ওঠার আগে উঠোনে বসে আছি
গায়ে কিছু রৌদ্র মাখব বলে
রবি এসে লজ্জায় মাথা নোয়াবে
হীম গায়ে তুমি এসে চুমে দিলে
তোমার ভালোবাসার তাপে গলে।

এক ফালি চাঁদের আশায়
বসে আছি সেই সন্ধ্যে থেকে
কতদিন জ্যোৎস্না দেখি নি বলে
তোমার ছবিটি ভাসে নি এখনো
ওই চাঁদের গায়ে
তুমি চাঁদ হয়ে উঠে এসো
আর ভাসাও আমায় জ্যোৎস্না জলে।

এক নদী জল পান করব বলে
বসে আছি নদীকুলে
তৃষ্নার্ত আমি কতকাল
তোমার ঠোটের সুধা পরে
একরাশ কামনামদির নয়নে এসে
সিক্ত কর আমায়
তোমার ভালোবাসার জলে।

এক সাগর ভালোবাসা বুকে ধরে
প্রতিক্ষার প্রহর গুনি শুধু
তুমি ফিরে আসবে বলে
প্রতিক্ষা ঘড়ির ঘন্টা শেষে
নীল কস্টগুলোকে পিছু ফেলে
ভালোবাসায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে
আমায় তুমি ওই সাগর নীলে।

শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১০

অপেক্ষা অন্যভুবনে

একদিন আমি চলে যাব পৃথিবীর মায়া ছেড়ে
কোন দূর সুদূরের দেশে
আর পথচেয়ে বসে থাকব তোমার অপেক্ষায়
তুমি আসবে বলে
এভূবনের সকল না পাওয়া
আর চাওয়া গুলোর ডালি সাজিয়ে
হে আমার অমরাবতি।

তুমি অভিমানে গাল ফুলিয়েছিলে
দেইনি বলে একগাছি বেলিমালা
সেদিন তোমার খোপায় গুজে।
কি করে দেব বল?
সেই কোন সুদুর দেশে বসে
বেলিমালা চেয়েছিলে
পাঠিয়ে চিঠি মেঘপিওনের কাছে,
আমি এক এক করে মালা গেথে তুলে রেখেছি আজো
তুমি আসবে বলে - কথা রাখনি,
শুধু অভিমান আর অভিমানে মুখ ফিরিয়েছ
হে অভিমানি বালিকা।

আচ্ছা তুমি এত হিংসুটি কেন?
চাঁদের গায়ে তোমার ছায়া দেখি বলে
চাঁদটাকে তুমি দেখতে পার না দু চোখে
আমি কি আকাশে চাঁদের রূপ দেখি
না মনে মনে ওখানে তোমার ছবি আকি?
কি করব বল -
আমার আকাশে যখন চাঁদ ওঠে
তোমার আকাশে তখন সূর্য হাসে
শুধু তোমার ভালোবাসার কিরণটুকু পাঠিয়ে দেয়
আমার আকাশে
চাদের রূপ ধরে
তাইতো আমি চন্দ্রাহত
হে হিংসুটি বালিকা।


অনন্ত নক্ষত্রবিথী বিছিয়ে রাখব আকাশে আমি
তোমায় পথ দেখাবে বলে,
চাঁদটাকেও না হয় বলে দেব
পূর্নিমার কিরন হয়ে যেন হাটে তোমার সাথে
গোলাপের পাপড়িগুলো সব থাকবে
বিছিয়ে তোমার পথে পথে
আর বেলিমালা গেথে বসে থাকব প্রতিক্ষায়
তুমি আসবে বলে।


বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০১০

চাঁদ ডাকে

আজ পূর্নিমা
চাঁদ সেজেছে নববধু রূপে
মেঘ টেনেছে ঘোমটা ওই চাঁদবদন মুখে
সলজ্জে জ্যোৎস্না উঁকি মারে ঘোমটার ফাঁকে ফাঁকে
আর আমারে করে ব্যাকুল, দিয়ে হাতছানি
তার পানে, অপার রূপের পরশে
আজ পূর্নিমা।

প্রতি ভরা পূর্নিমাতে চাঁদ ডাকে, দিয়ে আমায় হাতছানি
রূপসুধার ডালি মেলে দিয়ে ডাকে আমায় কার পানে জানি
আমি অসহায়, ঘর ছাড়া হই কি এক ব্যাকুলতায়
হয়ে শুধু খেলার পুতুল তার
আজ পূর্নিমা
চাঁদ সেজেছে নববধু রূপে
আর ডাকিতেছে আমায় তার পানে।

রবিবার, ১১ জুলাই, ২০১০

অমাবস্যা

আকাশে যখন চাঁদ না থাকে
তখন জ্যোৎস্না খুঁজো
জ্যোৎস্নাকে না পেলেও
পেয়ে যেতে পারো আমায়
অমাবস্যা আর আমার মধ্যে
পার্থক্য কতটুকু?

শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০১০

পথচলা

আধার রাত
নিঃশব্দ চারিধার
নিস্তব্ধ প্রকৃতি
আমার একা একা পথ চলা
ক্লান্ত পরিশ্রান্ত
আর কতকাল এ পথ চলতে হবে একা
আর কতদুর পথ গেলে পাব তোমার দেখা
পথের কি শেষ নেই
বা রজনীর?

জান?
আজ চাঁদটাও কেন জানি মুখ লুকিয়েছে
লজ্জাবতী নারীর মত
ঠিক যেমন লুকিয়েছিলে প্রথম মিলনে
আমার বুকের মাঝে তুমি

অমাবস্যার অন্ধকারে পথে আমি একা
হাত ধরার কেও নাই আজ তোমার মত করে
আর কতকাল
কতকাল একা পথচলা

বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০১০

লাশ পচা গন্ধ

কেন যেন শুধু লাশ পচা গন্ধ পাচ্ছি
কবরের চোরা ফাক চুয়ে ভেসে আসছে
গলিত শবের দুর্গন্ধ

মধ্যদুপুরের ঝাঁ ঝাঁ রোদে হেঁটে চলেছি
নাকে এসে লাগে ভক করে পচা লাশের গন্ধ
শিউরে উঠে এদিক ওদিক তাকাই
আশে পাশে কারো দেখা নাই
তবু নাকে এসে বাজে পচা লাশের দুর্গন্ধ
আমি একা হেঁটে চলি ফুটপাত ধরে
পিছু পিছু আসে আমার সাথে সাথে
ছাল ওঠা নুয়ে পড়া রাস্তার কুকুরগুলি সব
একটুকু দুরত্ব বজায় রেখে
যেন আমার সাথে সাথে তারাও পেয়েছে
পচা লাশের গন্ধ।

ঘন বারিসনে সবাই যখন জুবুথুবু হয়ে
ঘরে বসে দেখে অলস প্রকৃতির শোভা
আমি বৃস্টি মাথায় করে হেঁটে চলেছি
গায়ের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে
সোনালি বলের মত কদমের বন হয়ে
বুক ভরে নিচ্ছিলাম কদমের ঘ্রাণ
আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধটুকু
কোথা থেকে এর মাঝে ভক করে নাকে বাজে
গলিত শবের পচা গন্ধ এসে
চমকে তাকাই, খুজি এদিক ওদিক পানে,
কোথাও কেও নেই
শুধু দূর থেকে দেখি এক শিয়ালের ঝাঁক
পিছু নিয়েছে আমার অতি সন্তর্পনে
যেন সেও পেয়েছে আমার মত
গলিত লাশের ওই শব পচা গন্ধ।

জ্যোৎস্নায় মাখামাখি চারিধার
নিঝুম রাত্রি,
মায়াবি চাঁদ ডেকে নিয়ে যায় আমায় ঘরছাড়া করে
নেমে আসি বনের মাঝে
আর হেঁটে চলি নিস্তব্ধ চাঁদনি রাতে
যেথা গহীন বনের ফাঁকে ফাঁকে খেলা করে
আলো আধারিতে মাখামাখি করে
বন জ্যোৎস্না এবং কালো অন্ধকার;
আনমনে হেটে চলি একা বুনো পথ ধরে
আর চেয়ে দেখি আলো আধারির খেলাটুকু
হঠাৎ ভক করে নাকে বাজে পচা লাশের গন্ধ
এদিক ওদিক খুঁজি আমি কোথায় আছে
কার কবর একধারে পরে অবহেলায়
ঘন জংগলের মাঝে
কবর পাই না কোথাও
শুধু দেখি হায়েনার দল পিছু নিয়েছে আমার
দূর থেকে অতি সন্তর্পনে
যেন আমার সাথে সাথে তারাও
পেয়ে গেছে লাশ পচা গন্ধটুকু ।

কি হয়েছে আমার
কেন শুধু চারিদিক ঘিরে আমার
ওই পচা লাশের দুর্গন্ধ?
আর ভাবি একা মনে
আমাকে ঘিরে ধরা ওই
কুকুর, শিয়াল কিংবা হায়েনার ঝাঁকগুলির কথা
যারা নিত্য পেয়ে চলেছে পচা লাশের দুর্গন্ধটুকু
আমারই সাথে সাথে।
তবে কি লাশ পচা গন্ধ আসছে আমারই শরীর থেকে
যেথায় তুমি কবর দিয়েছিলে আমার ভালোবাসাটাকে।

মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০১০

পার্থক্য


আকাশে যখন চাঁদ না থাকে
তখন জ্যোৎস্না খুঁজো
জ্যোৎস্নাকে না পেলেও
পেয়ে যেতে পারো আমায়
অমাবস্যা আর আমার মধ্যে
পার্থক্য কতটুকু?

চন্দ্রবেলা


আকাশে উঁকি দিয়ে কালো পথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে সাদা চাঁদ
ধবধবে সাদা জ্যোৎস্নায় চারিদিক আলোকময়
কিন্তু একি? সাদা চাদের গায়ে ওগুলো কিসের দাগ
ছোপছোপ কালো দাগগুলো কিসের,
ওগুলো কি চাদের কলংক?
না শুভ্র চাদের গায়ে কলংক দিতে হয় না
ওগুলো চাদের টুকরো টুকরো কস্টগুলো
একসাথে জমা হয়ে সাদা চাঁদের গায়ে কালো বেদনা হয়ে ফুটে উঠেছে
ঠিক যেমন আমার বুকের ভেতর টুকরো টুকরো কস্টগুলো দানাবেধে আছে
তাইতো চাদের কস্ট দেখে ছুটে যাই বার বার ওর কাছে
প্রতি চন্দ্রবেলায় ।

রবিবার, ২০ জুন, ২০১০

একটু পর

আকাশে কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে

জানালা দিয়ে একটু তাকাও না!


একটু পর……….


এই দেখ দেখ ঝুম বৃস্টি হচ্ছে

চলো না একটু ছাদে গিয়ে ভিজে আসি দুজনে

একটু পর……….

আজকে ব্রাজিল-আরজেন্টিনার খেলা হচ্ছে

চলো না আজকে রাত্রি জেগে দুজনে খেলা দেখি

একটু পর……….

এই তোমার কি আজ রাতের কথা মনে আছে

আজকের এই রাতে তোমার সাথে আমার প্রথম পরিচয়

চলো না আজ রাতটাকে স্বরন করে রাখি

চলো না সারারাত জেগে গল্প করে কাটাই

একটু পর……….

একটু পর

একটু পর

একটু পর

তোমার এই একটু পর শুনতে শুনতে

আমার কান পচে গেছে

তোমার এই একটু পর শুনতে শুনতে

নদী হারিয়েছে গতি

পাখি ভুলে গেছে গান

গাছের পাতাগুলো ঝড়ে গেছে বিবর্ণ হয়ে

তবুও তোমার একটু পর আর শেষ হয় নি

তোমার একটু পর কি আর শেষ হবে না?

একটু আগের কথা একটু ভাবো না!