সূর্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সূর্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০

প্রতিক্ষার প্রহর

এক মুঠো রৌদ্দুরের প্রতিক্ষায়
শীতার্ত আমি কতকাল
সূর্য ওঠার আগে উঠোনে বসে আছি
গায়ে কিছু রৌদ্র মাখব বলে
রবি এসে লজ্জায় মাথা নোয়াবে
হীম গায়ে তুমি এসে চুমে দিলে
তোমার ভালোবাসার তাপে গলে।

এক ফালি চাঁদের আশায়
বসে আছি সেই সন্ধ্যে থেকে
কতদিন জ্যোৎস্না দেখি নি বলে
তোমার ছবিটি ভাসে নি এখনো
ওই চাঁদের গায়ে
তুমি চাঁদ হয়ে উঠে এসো
আর ভাসাও আমায় জ্যোৎস্না জলে।

এক নদী জল পান করব বলে
বসে আছি নদীকুলে
তৃষ্নার্ত আমি কতকাল
তোমার ঠোটের সুধা পরে
একরাশ কামনামদির নয়নে এসে
সিক্ত কর আমায়
তোমার ভালোবাসার জলে।

এক সাগর ভালোবাসা বুকে ধরে
প্রতিক্ষার প্রহর গুনি শুধু
তুমি ফিরে আসবে বলে
প্রতিক্ষা ঘড়ির ঘন্টা শেষে
নীল কস্টগুলোকে পিছু ফেলে
ভালোবাসায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে
আমায় তুমি ওই সাগর নীলে।

শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১০

অপেক্ষা অন্যভুবনে

একদিন আমি চলে যাব পৃথিবীর মায়া ছেড়ে
কোন দূর সুদূরের দেশে
আর পথচেয়ে বসে থাকব তোমার অপেক্ষায়
তুমি আসবে বলে
এভূবনের সকল না পাওয়া
আর চাওয়া গুলোর ডালি সাজিয়ে
হে আমার অমরাবতি।

তুমি অভিমানে গাল ফুলিয়েছিলে
দেইনি বলে একগাছি বেলিমালা
সেদিন তোমার খোপায় গুজে।
কি করে দেব বল?
সেই কোন সুদুর দেশে বসে
বেলিমালা চেয়েছিলে
পাঠিয়ে চিঠি মেঘপিওনের কাছে,
আমি এক এক করে মালা গেথে তুলে রেখেছি আজো
তুমি আসবে বলে - কথা রাখনি,
শুধু অভিমান আর অভিমানে মুখ ফিরিয়েছ
হে অভিমানি বালিকা।

আচ্ছা তুমি এত হিংসুটি কেন?
চাঁদের গায়ে তোমার ছায়া দেখি বলে
চাঁদটাকে তুমি দেখতে পার না দু চোখে
আমি কি আকাশে চাঁদের রূপ দেখি
না মনে মনে ওখানে তোমার ছবি আকি?
কি করব বল -
আমার আকাশে যখন চাঁদ ওঠে
তোমার আকাশে তখন সূর্য হাসে
শুধু তোমার ভালোবাসার কিরণটুকু পাঠিয়ে দেয়
আমার আকাশে
চাদের রূপ ধরে
তাইতো আমি চন্দ্রাহত
হে হিংসুটি বালিকা।


অনন্ত নক্ষত্রবিথী বিছিয়ে রাখব আকাশে আমি
তোমায় পথ দেখাবে বলে,
চাঁদটাকেও না হয় বলে দেব
পূর্নিমার কিরন হয়ে যেন হাটে তোমার সাথে
গোলাপের পাপড়িগুলো সব থাকবে
বিছিয়ে তোমার পথে পথে
আর বেলিমালা গেথে বসে থাকব প্রতিক্ষায়
তুমি আসবে বলে।


মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০১০

ইচ্ছে করেঃ

বড্ড স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে
বড্ড ইচ্ছে করে ঐ আকাশটাকে ছুঁতে,

নীল আকাশের গাঁয়ে যখন সাদা সাদা মেঘগুলো ছুটে চলে
ইচ্ছে করে ঐ মেঘের ভেলায় ভেসে হারিয়ে যাই দূরে কোথাও
সেই সুদূরের পানে,

রাখালিয়া যখন বাঁশরীতে টান দেয় ভাওয়াইয়া কোন সুর ধরে
ইচ্ছে করে তার সাথে সাথে বটমূলে হেলান দিয়ে বসে দেখি
মধ্য দুপুরের অলস নিস্তব্ধতা,

গায়ের বধু যখন কলসি কাঁখে পানি ভরে আনে
ঐ দুরের সেই চৌধুরি বাড়ির টিউবয়েল থেকে
ইচ্ছে করে হাত পেতে সামনে দাড়াই
অঞ্জলি ভরে পানি খেতে,

গায়ের মেঠোপথ ধরে চলতে চলতে থমকে দাড়াই
আর দেখি দামাল ছেলেদের দলবেধে ঝাপিয়ে পড়া
ঐরাবতী নদীর ভাঙ্গা পাড় থেকে
আমারও ইচ্ছে জাগে মিশে যেতে
ওই দস্যু ছেলেদের পালের ভিড়ে,

শীতের ভোরে মেঠো পথে হেটে চলি আর দেখি
ঘাশের শীষে শিশির বিন্দু খেলা করে
পাখিদের কিচির মিচির গানের শব্দে মুখরিত চারিধার
বড্ড ইচ্ছে করে তোমার গালে বুলিয়ে দেই শিশিরের বিন্দুগুলি
আর শোনাই তোমায় পাখিদের ভৈরবি গানের সুর,

সরতের বিকেলের মিঠে আলোতে হালকা বৃস্টির ছাট
রংধনুর রঙ ছড়ায় পূবের আকাশে পড়ন্ত সূর্যের বাকা কিরণে
বড্ড ইচ্ছে করে তোমায় ডেকে এনে দেখাই
সবুজ ধানের মাঠের ওপর থেকে
সূর্যের সাথে মেঘের আর রংধনুর রঙ্গিন খেলা,

যখন পাগলা কোকিলের পাগল করা কুহুতান শুনি
পাগল সুরে খুজে ফিরে কোকিলারে
তখন তোমার কথা মনে পড়ে আর ইচ্ছে করে
তার মত তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি ঘর বাধার,

বড্ড ইচ্ছে করে তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে
বড্ড ইচ্ছে করে তোমায় সাথে নিয়ে আকাশটাকে ছুঁতে।