জ্যোৎস্না লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জ্যোৎস্না লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১১

তোমাতে হারায় মন

মনে মনে ভাবি আমি যেন পাশে আছ তুমি
খাতার পাতা ভরে ওঠে কবিতার কথাগুলি
কলমের আঁচরেতে, একটু একটু রূপে।

মনে মনে ভেবে চলি যেন পাশে আছ তুমি
তুলির টানে আঁকা হয় তোমারই ছবিগুলি
মনের ক্যানভাসে, বহুরূপে বহুরূপে।

কখনো তুমি ঢেকে যাও অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে
দুচোখ হারায় তখন অমাবস্যার কালো আঁধারে
কালির প্রলেপ পড়ে যেন তোমারই দুধআলতা গায়ে।

কখনো দিয়ে উঁকি সলজ্জ ধনুকের মত বাঁকা চোখে
লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলো কেন তুমি চোখেরই পলকে
খুশির ঝলক ছুটে চলে রিনঝিন নূপুরের পায়ে পায়ে।

অধির অপেক্ষায় রেখে প্রতি পক্ষে একবার এসে
দেখা দিয়ে যাও তুমি আমাকে, পূর্ণিমায় হেসে
জ্যোৎস্না মেখে চলি আমি সারা গায়ে, সারা গায়ে।

নারকেল পাতার ফাঁক গলে চুইয়ে নেমে আসে সাদা জ্যোৎস্নার হাসি
মনে বড় স্বাদ জাগে স্নান করে নেব আমি সারাগায়ে পূর্ণিমা মেখে
ধুয়ে নেব মনের যত গ্লানিগুলি, পাশে নিয়ে তোমায়।

চাঁদনি রাতে চাঁদের খেলায়, মন যে হারায় মন যে হারায়
জ্যোৎস্না বেলায় তারার মেলায়, আমার এ মন তোমাতে হারায়
যতবার দিয়ে যাও দেখা তুমি প্রতি চন্দ্রবেলায়, প্রতি চন্দ্রবেলায়।

তাইত সারাক্ষণ ভাবি আমি, যেন পাশে আছ তুমি
তোমার কথায় তাই ভরে ওঠে কবিতার খাতাগুলি
কলমের আঁচরেতে, নবরূপে নবরূপে।

আর স্বপ্নেতে জাল বুনি, মনে মনে দেখি তুমি
তুলির টানে এঁকে যাই তোমারই ছবিগুলি
মনের ক্যানভাসে, রংমেখে বহুরূপে।


বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১১

নীলস্বপ্ন

স্বপ্ন দেখার প্রহর ছিল যখন জীবনে
তখন ছিলেম আমি গভীর ঘুমে
স্বপ্নগুলো আমার চোখ ছুয়ে দিয়ে
ফাকি দিয়ে চলে গেল
যখন ঘুম এসে চুমেছিল
নিদ্রিত আঁখিতে
আর না দেখা সেই সবপ্নগুলো মোর
আজো অজানাই রয়ে গেল
স্বপ্নেরও স্বপ্ন হয়ে।


হয়তোবা কল্পনার দেখা ওই নীল পরী সব
স্বপ্নের বলাকা হয়ে
হংস বালাকার ডানা ছুয়ে দিয়ে
নীল পরী হয়ে ভেসে চলে
ওই দূর নীলাকাশ পানে
নীল সাগরের পাড় ঘেসে ঘেসে
চোখে তার স্বপ্নেরও মায়াজাল ঘিরে
হয়তোবা সবুজ বনরাশি সব হাতছানি ডাকে
কিংবা ওই দূর তারা দেশের স্বপ্নঘেরা হাতছানি
হাতখানি বাড়িয়ে ধ্রুবতারার পানে
স্বপ্ন ধরবে বলে
স্বপ্নাপ্লুত হাতে।

স্বপ্নে দেখা লাল বেনারসি পড়েনি সে কখনো
রাঙ্গায়নি হাত কভু লাল মেহেদির রঙ্গে
লাল টিপ খানি কখনো ওঠেনি কপালে
লাল ফিতে পেচায়নি চুলে চুলে
শুধু হ্রদয় রক্তাক্ত ছিল তার
ডুবন্ত সূর্যেরও রক্তিম লাল রঙ্গে
নীল বেদনার জ্বালা সয়ে সয়ে
নীল জল ভাসে চোখে নোনা স্বাধ হয়ে।

তবু স্বপ্ন দেখার শেষ নেই তার
নীল বেদনা পিছু ফেলে
নীল আকাশের নীলে ভেসে ভেসে
নীল সাগর জল আরো লোনা করে করে
নীল জ্যোৎস্না ফিকে করে দিয়ে
নীলাঞ্জনা, তুমি আমার প্রতিক্ষায় রবে
নীলাঞ্জনা, তুমি আমার হবে
না দেখা ওই স্বপ্নে মোর
নীলাঞ্জনা,তুমি শুধু আমারই হবে।

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১০

ভালোবাসার খাঁদ

তোমাকে দেখলেই বুকে ধাক্কা লাগে
না দেখে থাকতে পারি না একমুহুর্তও
বলতে পার কেন এমন হয়?

বৃস্টির দিনগুলিতে যখন
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজি আর মনে মনে ভাবি
চাঁদনি রাতে যখন শরীর জুরে জ্যোৎস্না মাখি
আর মনে মনে ভাবি
সাগরের তীর ধরে বালুকাবেলায় যখন
হেটে চলি একা একা বহুদুর পানে
অথবা যখন সাঁতার কাটি অস্রুজলে
আর কথা বলি মনে মনে
কেন যেন সারাক্ষন তুমি থাক আমার হ্রদয় জুড়ে
চোখ বন্ধ করে স্বপ্নাপ্লুত আবেশে
আমি বেশ থাকি ভেবে,
আছ তুমি আমার হাতদুটি ধরে
স্বপ্ন জগত থেকে বের হয়ে খুজি তোমার হাতখানি
বাড়াই হাত দুটি আমার তোমাকে একটুখানি ছুয়ে নিতে
কোথায় তুমি? শুন্য চারিধার............
স্বপ্নভংগ, আবার একা একা পথচলা

অনন্দিতা, তুমি আছ শুধু আমার স্বপ্নেরই দেশে
আছ তুমি শুধু হ্রদয় মাঝে
বস্তবতায় আছে শুধু শুন্যতা, আর অপেক্ষার প্রহরগুলো
তোমারই জন্য, শুধু তোমারই জন্য।

বলতে পার,
কতটা বৃস্টি হলে নদীতে বান ডাকে
কতটা অন্ধকার হলে অমানিশা হয়
বলতে পার কি, কতটুকু হ্রদয় পুড়লে
ভালোবাসা হয়?

হয়ত আমার ভালোবাসাতে খাঁদ ছিল অনেকটুকু
তাই হয়তো পারি নি তোমার হ্রদয় ছুঁতে
পাই নি তোমায়,
আমার পথচলার সাথী হতে ।

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১০

চন্দ্রাহত

কুয়াশা চাদর বিছানো শুরু করেছে বিষন্ন বিকেলের গায়
শীতের বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে আসছে চারিদিক থেকে
মফস্বলের কোন এক ছোট্ট শহরে অনেক দূরে দূরে ল্যাম্পপোস্টগুলি বসানো
হলুদাভ নিওন বাতিগুলি মাত্র জ্বলে উঠেছে কুয়াশার চাদর ভেদ করে
অলৌকিক নিঃশব্দ এক ভৌতিক পরিবেশ চারিপাশ জুড়ে
মনের খেয়ালে একা একা হাঁটছিলেম একলা রাস্তা ধরে
আজব আজব সব দৃশ্য ভেসে উঠছিল মনের মাঝে
তোমাকে ভেবে ভেবে
কল্পলোকে তুমিও আমার পাশে ছিলে
আমার হাত ধরে হাঁটছিলে ঠিক আমার পাশে পাশে
আমাকে সংগী করে
আর কথামালা সব গাথা হচ্ছিল যেন মনে মনে আনমনে
শুধু তোমাকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলোকে ঘিরে
তুমি পথে হাঁটছিলে আমার হাতটি ধরে
আমাকে সংগী করে আনমনে আনমনে।

দুর হতে মাঝে মাঝে একটি দুটি করে ট্রাক বা বাসের হেডলাইট
সামনে থেকে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল আমার
চকিত বাস্তবে ফিরছিলাম আলোর দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে
কিংবা পেছন থেকে হেডলাইট পড়ে আমার একাকিত্বের ছায়াসঙ্গী তৈরী করছিল
যে পথ হাঁটছিল আসলে আমার সাথে সাথে
আমি ও আমার ছায়াসঙ্গী দুজনে একা একা হাটছিলে ওই একাকী পথটি ধরে
মনের মাঝে তোমার হাত ধরে আর হ্রদয় মাঝে শুধু তোমাকে ভেবে।

একটু পর আকাশে উঁকি দিল জ্যোৎস্না
চন্দ্রাহত হলাম আমি চন্দ্রবেলায়
চাঁদের মাঝে তোমার মুখ যে শোভা পায়
কেন যে তোমার আর চাঁদের রূপকে আলাদা করতে পারি না
সেটাই বুঝে ওঠা হলো না আজো
দুজনার চেহারাতেই আলো ঝলকায় বলে কি?
নাকি তোমরা দুজন দুজনার আয়নার প্রতিচ্ছবি?
ধ্যাত, কি যে সব অলিক কল্পনা
আমার হাটার পথে একে যায় সব আলপনা
চাঁদ হেঁটে চলুক আকাশের গা ধরে
তুমি আলো হয়ে হেঁটে চল আমার হাত দুটি ধরে
ছায়াসঙ্গীকে পেছনে ফেলে
আজ এই ভরা জ্যোৎস্না রাতে চন্দ্রালোকিত মন আমার
ভরে উঠুক শুধু তোমার আলোতে
তাই তো খুঁজে ফিরে চাঁদকে আমি প্রতি চন্দ্রবেলায়
আকাশের গায় তোমায় মুখছবি দেখি সেথা হ্রদয় মেলায় ।

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০

প্রতিক্ষার প্রহর

এক মুঠো রৌদ্দুরের প্রতিক্ষায়
শীতার্ত আমি কতকাল
সূর্য ওঠার আগে উঠোনে বসে আছি
গায়ে কিছু রৌদ্র মাখব বলে
রবি এসে লজ্জায় মাথা নোয়াবে
হীম গায়ে তুমি এসে চুমে দিলে
তোমার ভালোবাসার তাপে গলে।

এক ফালি চাঁদের আশায়
বসে আছি সেই সন্ধ্যে থেকে
কতদিন জ্যোৎস্না দেখি নি বলে
তোমার ছবিটি ভাসে নি এখনো
ওই চাঁদের গায়ে
তুমি চাঁদ হয়ে উঠে এসো
আর ভাসাও আমায় জ্যোৎস্না জলে।

এক নদী জল পান করব বলে
বসে আছি নদীকুলে
তৃষ্নার্ত আমি কতকাল
তোমার ঠোটের সুধা পরে
একরাশ কামনামদির নয়নে এসে
সিক্ত কর আমায়
তোমার ভালোবাসার জলে।

এক সাগর ভালোবাসা বুকে ধরে
প্রতিক্ষার প্রহর গুনি শুধু
তুমি ফিরে আসবে বলে
প্রতিক্ষা ঘড়ির ঘন্টা শেষে
নীল কস্টগুলোকে পিছু ফেলে
ভালোবাসায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে
আমায় তুমি ওই সাগর নীলে।

বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০১০

চাঁদ ডাকে

আজ পূর্নিমা
চাঁদ সেজেছে নববধু রূপে
মেঘ টেনেছে ঘোমটা ওই চাঁদবদন মুখে
সলজ্জে জ্যোৎস্না উঁকি মারে ঘোমটার ফাঁকে ফাঁকে
আর আমারে করে ব্যাকুল, দিয়ে হাতছানি
তার পানে, অপার রূপের পরশে
আজ পূর্নিমা।

প্রতি ভরা পূর্নিমাতে চাঁদ ডাকে, দিয়ে আমায় হাতছানি
রূপসুধার ডালি মেলে দিয়ে ডাকে আমায় কার পানে জানি
আমি অসহায়, ঘর ছাড়া হই কি এক ব্যাকুলতায়
হয়ে শুধু খেলার পুতুল তার
আজ পূর্নিমা
চাঁদ সেজেছে নববধু রূপে
আর ডাকিতেছে আমায় তার পানে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০১০

নির্বাক আঁখিপানেঃ


নির্বাক আঁখিপানে তাকাই
আর সুধাই কিছু সুখ দুঃখের কথা
কিন্তু এ চোখে কোন ভাষা নাই কেন
সাদা কালো আঁখি দুটি চেয়ে থাকে বোবা হয়ে
যেন জীবনের সব রঙ মুছে গেছে
জীবনের খাতা থেকে।
তবু সে চোখ কি যেন কথা কয়!
আর শুধু নির্বাক চেয়ে রয়
বাক্যহারা, ভাষাহারা শুধু
একরাশ কান্নায় ভরা।

কতগুলি কস্ট, কতগুলি কান্না একসাথে হলে
চোখ তার ভাষা হারায় বলতে পার?
আমি শুধু চেয়ে দেখি তার বাকহারা আঁখি পানে
কি যেন বলতে পারে না সে
শুধু নির্বাক চেয়ে থাকে
আর থাকে কিছু কান্না,
কিছু বেদনা আর কিছু অব্যক্ত যন্ত্রনা।

যখন চাঁদ ওঠে ওই দূর আকাশে
আর জ্যোৎস্না ছড়াতে থাকে চরাচর ধরি
মায়াবী আলোটুকু যেন সে দেখে না কভু
দেখে শুধু নীল জ্যোৎস্নার বেদনা
আর নির্বাক চেয়ে থাকে নিঃশব্দ বেদনায়।

যখন বৃস্টি নামে রিমঝিম
কালো মেঘের ভেলা করে
আর কান্না হয়ে ঝরে পরে ধরাতলে আপনমনে
বারিরাশি হঠাৎ চমকে চেয়ে দেখে সেই আঁখি পানে
একটু থমকে উঠে সে যে
বৃস্টির কান্নাও থমকে যায়
তার চোখের জলের ধারা দেখে।

স্বপ্নগুলো তার চোখে বসে না কখনো
বুলিয়ে দিতে সুখের পরশ
দুঃস্বপ্নের ঝড়ো হাওয়া উড়িয়ে নিয়ে চলে ঘুমপরীদের
অচিন কোনো দেশে
নির্ঘুম কাটে রাত যে তার একাকি বসে।

মাঝে মাঝে শুধাই তাকে
তোমার চোখের ভাষা পরতে পারি না কেন
কি হারিয়েছ তুমি বল না আমায়
কেন তুমি নিশ্চুপ?
নির্বাক চেয়ে থাকা চোখে জবাব খুজি
দেখি শুধু বোবা কান্না।

সোমবার, ১২ জুলাই, ২০১০

ওপারের ডাক

আমি আজো বসে আছি পথ চেয়ে
ক্লান্ত নয়নে, হতাশায়
শুধু তোমারই প্রতিক্ষায়।

সেই যে রাগ করে বালিয়ারি ধরে হেঁটে চলে গেলে
সে কথাটি মনে আছে?
শুধু শুধু অভিমানে আমাকে কস্ট দিয়ে
তোমার সে চলে যাওয়া আজো আমার বুকে বাজে।

সেই যে রাগ করে সাগর পার ধরে হেঁটে গিয়েছিলে
জল জ্যোৎস্নায় পথ খুজে নিয়ে আর আমাকে একাকি কাঁদিয়ে
সেদিন কালো মেঘগুলো ঢেকে রেখেছিল
আমার অস্রুভেজা চোখ দুটি
যাতে সাগরে পানিতে চোখের জলের ছায়া দেখা না যায়।

সেই যে একদিন রাগ করে হেটে গিয়েছিলে বন জ্যোৎস্নায়
হারিয়ে যেতে গভীর বনের অন্ধকারে
আমাকে একা ফেলে একাকি বনের ওই নিঃসসিম অন্ধকারে
এতটুকু ভাবোনি আমার কথা একটি বারের তরেও।

আর আমি গভীর দুঃস্চিন্তায় তোমার পথপানে তাকিয়ে ছিলাম
পাগল মেয়ে করে কি ভেবে, লৌহমানবের মত অপেক্ষায় ছিলাম
ধৈর্যের দিন গুনে গুনে আর প্রতিটা পধের বাঁকে
তোমাকে বাঁচাতে জগতে সব লোলুপ নজর থেকে
পিছু নিয়েছিলাম চুপিচুপি যাতে কোথাও হারিয়ে না যাও।

প্রতিবারই ছিল মান ভাঙ্গাবার পালা আমার
প্রতিবার ই ফিরিয়ে এনেছিলাম তোমায় অনেক বুঝিয়ে
কিন্তু প্রতিদিনের এই লুকোচুরি খেলায় সেদিন ছিলাম আমি ক্লান্ত বিধ্বস্ত
তোমার নিত্যখামখেঁয়ালির সাথে তাল মিলাতে মিলাতে
আমার জীবনতাল কেঁটে গেছে কবে কখনো বুঝতেও পারি নি।

আজ পিছন ফিরে দেখি জীবনের সবই ভুল
সবই মিছে জখন শেষবারের মত তুমি চলে গেলে
পারাপারের ওপারে আমার ভালোবাসার চাঁদের দেশে
বা তাঁরার দেশে আমাকে একা ফেলে অনেক অভিমানে
যেখান থেকে তোমাকে ফিরিয়ে আনার স্বাধ্য কি আমার?
ফিরিয়ে আনার অন্যভুবন থেকে।

শুধু আমাকে দিয়ে গেলে বাকিজীবনের অপেক্ষা
আর ভালোবাসার ডাক তোমার কাছে ফিরে যাবার
ওপারের পথ ধরে।

কেঁদেছি কেঁদেছি আহা কত কথা মনে করে
কেঁদেছি সমুদ্রকে বানে ভাসিয়ে দিয়ে
কিংবা বৃস্টিকে হারিয়ে দিয়ে জল বর্ষনে
কিংবা কেদেছি তোমারে হারায়ে প্রতিদিন অনুক্ষন
নিরবে নির্জনে।

আমি আসছি সুরঞ্জনা,
ফিরে আসছি তোমার বুকে
পেছন ফেলে সব জাগতিক সুখটুকু
পারি দিয়ে পার্থিব জগতের সকল বাধা।

কিন্তু ওখানে নিয়েও আমাকে শুধু
উপেক্ষা করো না যেমন করেছিলে
সান্ধ্য প্রেমেরও কালে,
একটুকু সুযোগ করে দিও ভালোবাসিবার
যেমন দিয়েছিলে প্রথম সকালের প্রেমে।

রবিবার, ১১ জুলাই, ২০১০

অমাবস্যা

আকাশে যখন চাঁদ না থাকে
তখন জ্যোৎস্না খুঁজো
জ্যোৎস্নাকে না পেলেও
পেয়ে যেতে পারো আমায়
অমাবস্যা আর আমার মধ্যে
পার্থক্য কতটুকু?

বুধবার, ৭ জুলাই, ২০১০

নীল স্বপ্ন

কখনো দেখিনি তারে সাদাকালো শাড়ি তে
মীনায় আকা এক কালো টিপ পরে
সাঁঝের বেলায় বসে নিরালায়
বোবা কান্নায় পথ চেয়ে হায়
পথ পানে পথ চায়।

কখনো দেখিনি তারে জ্যোৎস্নারও হাত ধরে
হেঁটে যেতে বালুকা বেলায়
পিছু ফেলা হেঁটে যাওয়া
পদচিহ্নগুলি সব ধুয়ে নিয়ে যায়
সৈকতের ওই জলরাশি সব
আশা নিরাশায় ।

কখনো দেখিনি তারে ধুঁ ধুঁ বালি প্রান্তরে
ফেলিয়া আঁচলখানি
ধুলিমাখা পথ ধরি
আনমনে হেটে চলা
আর ধুসর কুয়াশা আড়াল করে
তার মেলা আঁচলের ঘসে চলা
পথ চিহ্নটুকু ।

শুধু দেখেছি তারে আমি
নীল স্বপ্নেরও ঘোরে
বন জ্যোৎস্নার ছায়া অন্ধকারে
ছায়া ছায়া স্বপ্নময় আলেয়ার মত;
হারিয়ে ফেলেছিলাম শুধু
হাত বাড়িয়েছিলাম বলে।

মঙ্গলবার, ৬ জুলাই, ২০১০

খেলা

খেলায় মশগুল ধরাচল
কখনো ক্রিকেট কখনো হকি
কখনো বা ফুটবল

একদিকে খেলছ নিয়ে তুমি আমায়
রাগে বা অনুরাগে
আর একদিকে খেলছে আমায় নিয়ে বিধাতা
নিত্য এ বিশ্ব চরাচরে।

দিনে দিনে দিন কেটে যায়
যুগে যুগে যুগ
আমাকে স্হির হতে দেয়া না কোথাও
খেলায় মগ্ন ওই সময়েরও কাল।

সব ছেড়ে মন চায় উড়ে যেতে
ওই জ্যোৎস্নারও কাছে
সেখানেও মেঘের ভেলা
খেলা করে মোর সাথে।

আজ আমি ক্লান্ত তোমাদের খেলার পুতুল হয়ে
তুমি, চাঁদ আর জ্যোৎস্না খেলেছ আমায় ঘিরে
আর বিধাতাও খেলা করে মোর সাথে
সময়ের পথ ধরে,
নিয়ে চলে আমায় অসীম অন্ধকারে যুগে ।

সোমবার, ৫ জুলাই, ২০১০

রাতের সাথী

আচ্ছা তুমি ঘুমাও নি কেন এখনো
রাত কত হয়েছে সে খেয়াল আছে?

রাত জাগা পাখি নও তুমি
নও রাতের আকাশের ওই শুকতারা
যে আমার সাথে সাথে জেগে থাকবে
আর শুনবে আমার দুঃখগাথা
যখন আমি আনমনে গাইতে থাকব
ওই নীহিলাসুরের গান গুলি।

তুমি তো দেখতে পারবে না আমার সাথে সাথে
তোমার প্রতিচ্ছবি আমার কল্পনায়
যখন চেয়ে রব নীল জ্যোৎস্নার পানে
আর অলীক কল্পনায় তোমার মুখছবি আকব।

তবুও তুমি কেন জেগে রও আমার সাথে
সারারাত শুধু সাথ দিতে দূর হতে
আর কস্ট কস্ট ভালোবাসায় কস্ট পাও
ভাসিয়ে আমায় কস্ট সাগরে।

শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০১০

ভালোবাসার পাপ


সেই ছোটবেলা থেকে
বোকার মত চাঁদ টাকে ধরতে গিয়েছিলাম
ভালোবেসে
তখনো বুঝতাম না যে বামন হয়ে
চাঁদ ধরা যায় না
সেই থেকে ভালোবেসেছিলাম চাঁদনিটুকু
এখনো বোকাই রয়ে গেলাম আমি
চাঁদনি কি আর ধরা ছোঁয়া যায়?
তবুও গায়ে মেখে চলেছি চাঁদের আলো
প্রতি জ্যোৎস্নায়
যদি ভালোবাসার পাপটুকু কাটা যায়।

বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০১০

লাশ পচা গন্ধ

কেন যেন শুধু লাশ পচা গন্ধ পাচ্ছি
কবরের চোরা ফাক চুয়ে ভেসে আসছে
গলিত শবের দুর্গন্ধ

মধ্যদুপুরের ঝাঁ ঝাঁ রোদে হেঁটে চলেছি
নাকে এসে লাগে ভক করে পচা লাশের গন্ধ
শিউরে উঠে এদিক ওদিক তাকাই
আশে পাশে কারো দেখা নাই
তবু নাকে এসে বাজে পচা লাশের দুর্গন্ধ
আমি একা হেঁটে চলি ফুটপাত ধরে
পিছু পিছু আসে আমার সাথে সাথে
ছাল ওঠা নুয়ে পড়া রাস্তার কুকুরগুলি সব
একটুকু দুরত্ব বজায় রেখে
যেন আমার সাথে সাথে তারাও পেয়েছে
পচা লাশের গন্ধ।

ঘন বারিসনে সবাই যখন জুবুথুবু হয়ে
ঘরে বসে দেখে অলস প্রকৃতির শোভা
আমি বৃস্টি মাথায় করে হেঁটে চলেছি
গায়ের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে
সোনালি বলের মত কদমের বন হয়ে
বুক ভরে নিচ্ছিলাম কদমের ঘ্রাণ
আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধটুকু
কোথা থেকে এর মাঝে ভক করে নাকে বাজে
গলিত শবের পচা গন্ধ এসে
চমকে তাকাই, খুজি এদিক ওদিক পানে,
কোথাও কেও নেই
শুধু দূর থেকে দেখি এক শিয়ালের ঝাঁক
পিছু নিয়েছে আমার অতি সন্তর্পনে
যেন সেও পেয়েছে আমার মত
গলিত লাশের ওই শব পচা গন্ধ।

জ্যোৎস্নায় মাখামাখি চারিধার
নিঝুম রাত্রি,
মায়াবি চাঁদ ডেকে নিয়ে যায় আমায় ঘরছাড়া করে
নেমে আসি বনের মাঝে
আর হেঁটে চলি নিস্তব্ধ চাঁদনি রাতে
যেথা গহীন বনের ফাঁকে ফাঁকে খেলা করে
আলো আধারিতে মাখামাখি করে
বন জ্যোৎস্না এবং কালো অন্ধকার;
আনমনে হেটে চলি একা বুনো পথ ধরে
আর চেয়ে দেখি আলো আধারির খেলাটুকু
হঠাৎ ভক করে নাকে বাজে পচা লাশের গন্ধ
এদিক ওদিক খুঁজি আমি কোথায় আছে
কার কবর একধারে পরে অবহেলায়
ঘন জংগলের মাঝে
কবর পাই না কোথাও
শুধু দেখি হায়েনার দল পিছু নিয়েছে আমার
দূর থেকে অতি সন্তর্পনে
যেন আমার সাথে সাথে তারাও
পেয়ে গেছে লাশ পচা গন্ধটুকু ।

কি হয়েছে আমার
কেন শুধু চারিদিক ঘিরে আমার
ওই পচা লাশের দুর্গন্ধ?
আর ভাবি একা মনে
আমাকে ঘিরে ধরা ওই
কুকুর, শিয়াল কিংবা হায়েনার ঝাঁকগুলির কথা
যারা নিত্য পেয়ে চলেছে পচা লাশের দুর্গন্ধটুকু
আমারই সাথে সাথে।
তবে কি লাশ পচা গন্ধ আসছে আমারই শরীর থেকে
যেথায় তুমি কবর দিয়েছিলে আমার ভালোবাসাটাকে।

ভালোবাসার খাঁদ

তোমাকে দেখলেই বুকে ধাক্কা লাগে
না দেখে থাকতে পারি না একমুহুর্তও
বলতে পার কেন এমন হয়?

বৃস্টির দিনগুলিতে যখন
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজি আর মনে মনে ভাবি
চাঁদনি রাতে যখন শরীর জুরে জ্যোৎস্না মাখি
আর মনে মনে ভাবি
সাগরের তীর ধরে বালুকাবেলায় যখন
হেটে চলি একা একা বহুদুর পানে
অথবা যখন সাঁতার কাটি অস্রুজলে
আর কথা বলি মনে মনে
কেন যেন সারাক্ষন তুমি থাক আমার হ্রদয় জুড়ে
চোখ বন্ধ করে স্বপ্নাপ্লুত আবেশে
আমি বেশ থাকি ভেবে,
আছ তুমি আমার হাতদুটি ধরে
স্বপ্ন জগত থেকে বের হয়ে খুজি তোমার হাতখানি
বাড়াই হাত দুটি আমার তোমাকে একটুখানি ছুয়ে নিতে
কোথায় তুমি? শুন্য চারিধার............
স্বপ্নভংগ, আবার একা একা পথচলা

অনন্দিতা, তুমি আছ শুধু আমার স্বপ্নেরই দেশে
আছ তুমি শুধু হ্রদয় মাঝে
বস্তবতায় আছে শুধু শুন্যতা, আর অপেক্ষার প্রহরগুলো
তোমারই জন্য, শুধু তোমারই জন্য।

বলতে পার,
কতটা বৃস্টি হলে নদীতে বান ডাকে
কতটা অন্ধকার হলে অমানিশা হয়
বলতে পার কি, কতটুকু হ্রদয় পুড়লে
ভালোবাসা হয়?

হয়ত আমার ভালোবাসাতে খাঁদ ছিল অনেকটুকু
তাই হয়তো পারি নি তোমার হ্রদয় ছুঁতে
পাই নি তোমায়,
আমার পথচলার সাথী হতে ।

মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০১০

পার্থক্য


আকাশে যখন চাঁদ না থাকে
তখন জ্যোৎস্না খুঁজো
জ্যোৎস্নাকে না পেলেও
পেয়ে যেতে পারো আমায়
অমাবস্যা আর আমার মধ্যে
পার্থক্য কতটুকু?