বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০

খবর

এই! আজ খবরটা দেখেছ!

এই যে দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটা ছিলো না!

সে কাল রাতে মারা গেলো

আহা! দেশের কি অপচয়টাই না হলো!


আরে তুমি গতকালের খবর তো দেখই নি!

কাল যিনি মারা গেলেন না!

উনি টাকার থেকেও খ্যাত ছিলেন বেশী 

ওনার অনেক ছিলো সম্মান 

অথচ, কি অকালেই না ঝরে গেলো প্রাণ!


তুমি গত সপ্তাহের খবর তো দেখই নি!

ঐ যে নিউজ ফিড জুড়ে একটা ছবি স্ক্রল হচ্ছিলো!

গায়ে স্বর্ণের অলংকার!

স্বর্ণের গাড়ি, স্বর্ণের বাড়ি, এমনকি স্বর্ণের বিমান

টাকার অংকে তার ছিলো না কোন পরিমাণ

অথচ কি হলো!

সেই তো মাটিতেই গেলো!


আচ্ছা! এই যে টাকা পয়সা

ধন সম্পদ 

মান সম্মান!

সারা জীবন ধরে একটু একটু করে কামাই, 

সাথে করে কতটুকু নিয়ে যাই?

কিসের বিনিময়ে কি হারাই?

দম্ভে উনিশ থেকে বিশ হলে 

স্বরূপ দেখা যায় তার;  

আয়না কথা বলে আয়না ভাষায়

আয়না কথা বলে স্বার্থের টোকায়,   

এক ফোঁটা বীর্য থেকে তৈরি মানব

কি তার অহংকার!

কখনো কি ভাবে!

গন্তব্য কোথায় কার?


মাটির ঘর হাসে

মাটির ঘর ডাকে 

মাটির ঘর অপেক্ষায় বসে থাকে 

বীর্যের মাটি হতে;


ওহে! হিসেব দিতে পারবে তো!

যা কিছু কামিয়েছ!


১৮ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

খবর 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





প্রস্তুতি

সময় কি খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে? 

এই যে সকাল হচ্ছে!

হতে হতেই রাত

এই যে রাত নামছে!

নামতে নামতেই সকাল,

কই দৌড়ে তো ধরতে পারছি না কাউকেই! 


আজকাল সকাল ধরতে গেলে সূর্য মাথার ওপরে

দুপুর ধরতে গেলে রবি বিকেলের কোলে

সন্ধ্যে ধরতে গেলে আকাশে চাঁদ খেলে

চাঁদটা ধরতে গেলে অন্ধকার কথা বলে

সময়গুলো ছুটছে যেন সময়ের আগে

আমিই শুধু পেছন থেকে থাকি চেয়ে;


এই যে একটি একটি করে দিন যাচ্ছে!

আসলে কি দিন যাচ্ছে! 

নাকি এগোচ্ছি আমি?

এগোচ্ছি তো অবশ্যই এক গন্তব্যের দিকে

এমন এক গন্তব্য যা সবাই জানি 

তবুও ইচ্ছে করে ওখানে কেউ পৌঁছতে চাই না, 

তাই না?


একটা সময় ছিলো যেন দিন কাটতেই চাইতো না!

দিনমান কাজ, কাজ আর কাজ

পড়ালেখা, পড়ালেখা আর পড়ালেখা

খেলা খেলা আর খেলা 

সেই ভোর থেকে রাত অবধি

তবুও কতই না অবসর ছিলো!

আনন্দ অফুরান;

আর আজকাল!

সময়ের সাথে দৌড়ে দৌড়ে যেন হয়রান! 

কোথায় যে সকালের মাথা আর কোথায় যে বিকেলের হাত! 

বুঝতে বুঝতেই ঝরে যায় জীবন থেকে এক একটি রাত; 


আজকাল ঘুমগুলোও চোখ থেকে যাচ্ছে কমে,

হয়তো সামনে লম্বা ঘুমের প্রস্তুতি মনে মনে; 

ঐ ঢং ঢং ঘণ্টা বাজছে শোনো!

কাউকে না কাউকে ডাকছে ক্রমাগত, 

প্রস্তুতি নিয়েছ তো! 


১৮ অক্টোবর, ২০২০


#কবিতা

প্রস্তুতি

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





ক্লাব-৮৫ - আমার একটাই বাড়ি

এই যে আজকাল নেটে আসি

ক্লাবে ঢুকি

কত কত বন্ধুবান্ধব এখানে!

তবুও কতজনের কত রকম উঁকি! 

আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি;


ভার্চুয়ালে বন্ধুর অভাব কোথায়?

আমার বন্ধুর সংখ্যার দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে নিজের চোখই ছানাবড়া হয়ে যায়!

এত বন্ধু আমার!

কই! প্রয়োজনে কাছে পেয়েছি কজন'কে?

ক'জন খোঁজ নিয়েছে আমার সেই সব দুর্দিনে!

অথচ তারা কিন্তু জানতো ঠিকই, দূর থেকে

দেখতো হয়তো! অসহায় অবস্থা

মজা করতো কেও কেও

টিকা টিপ্পনীও শুনেছি কখনো কখনো

কিছু বলিনি কখনো,

কি হবে বলে?

যার যার জীবন, সেই খেলে;


এই যে নেটে আসি! 

কত কিছুই না দেখি!

আমরা এখানে সবাই একই বয়সী 

তিন চতুর্থাংশ পার করে এসেছি জীবনে

বাকি অল্প একটুই তো পথ!

কেটে যাবে কোনমতে,

তবুও এখানে কি বিষম রেষারেষি! 

কি বিষম প্রচেষ্টা নিজেকে জাহির করার!

একই গ্রুপে কত কত বিভাজন! কত কত ভাগ!

কয়েকজনের তো দেখি আবার গ্রুপে গ্রুপে সদ্ভাব; 


কয়েকজন এখানে থেকেই নতুন গ্রুপ চালায়, 

এখান থেকেই নতুন করে আমন্ত্রণ - 

 একটা কবিতার গ্রুপ করেছি আলাদা

 একটা নাচের

 একটা গানের

 একটা গল্পের

 একটা কৌতুকের

 একটা কোমর দুলানোর 

 একটা এমনি এমনিই,

চলে এসো না আমার গ্রুপে! 

একটু ঢু মেরে যাও না হয় ওমনি!


বন্ধুই তো! 

আমি মানা করতে পারি না,

গ্রুপে যাই, ঢু মারি

এখানে ওখানে ঘুরি

এখানকার পোস্ট ওখানে পড়ি

ওখানকার পোস্টগুলো এখানে পড়ি

তারপর একই পোস্ট গ্রুপে গ্রুপে দেখতে দেখতে একসময় ক্লান্ত ঘুমিয়ে পড়ি; 


আচ্ছা! কেন এই ফাটল?

কেন এই বিভাজন?

কখনো প্রশ্ন করেছি নিজেকে?

আজকাল আর কোথাও যাই না ক্লাব থেকে 

এখানেই থাকি

এখানেই হাসি

এখানেই কাঁদি

এখানেই ঘুম থেকে উঠি

এখানে শুয়ে শুয়েই রাতে ঘুমিয়ে পড়ি;


ক্লাব-৮৫ 

আমার একটাই বাড়ি। 



১৭ অক্টোবর, ২০২০


#কবিতা

ক্লাব-৮৫ - আমার একটাই বাড়ি

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 






  

নজর নিজের ঘরে

পেপারে প্রায়শই খবর আসে
ধর্ষণ হচ্ছে
খবরের নিউজ ফিডে ক্রল হচ্ছে, ধর্ষণ 
এখানে হচ্ছে, ওখানে হচ্ছে 
আমরা চোখ বুলাই, খেয়াল করি কি?
গভীরে যাই কি?

একদিন খবরের কাগজ খুলতেই দেখলাম 
ধর্ষণ হয়েছে
আমার খুব কাছাকাছিই 
আরেকদিন খবর পেলাম, আমার মহল্লাতেই
এবার টনক নড়োলো 
হচ্ছে টা কি?

আরে আরে! ঘরে ঢুকে যাচ্ছে নাকি? 
ধর্ষক! এরা তো বয়স মানে না
নারী হলেই হলো
মাংস হলেই বলে চলো 
ঘরে আমার মা আছে শত্তুর ঊর্ধ্ব
স্ত্রী আছে পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব
বোন আছে চল্লিশ ঊর্ধ্ব 
কন্যা আছে যুবতী
হায় হায়! এবার আমার কি হবে গতি?

ধর্ষক কারা?
ঐ তো সেদিন দেখলাম মহল্লার কিছু যুবক
একদিন দেখলাম আমারই বয়সী প্রৌঢ় 
একদিন দেখলাম ছোট ভাই এর সমবয়সী
একদিন দেখলাম একজন আমার ছেলের বয়সী  
এরা কারা?
আমার তোমার তার আর আমাদের বন্ধুর সন্তান
তাদের ভাই, তাদের পরিবার
তাই না?
এরা তো প্রতিদিনের মুখচেনা
তবুও ধর্ষক?
চারিদিক কেমন জানি গুলিয়ে যাচ্ছে,
আচ্ছা! আমার ছেলেটাও তো এদেরই খেলার সাথী
আমার ছোট ভাই, ভাইস্তা, ভাইগ্না
কি করছে ওরা?
আসলে জানি কি?

এই যে আজকের সমাজ ব্যবস্থা!
একই বাড়িতে বসবাস অথচ চার দেয়ালে বন্ধী জীবন 
কে কার সম্পর্কে কতটুকু জানি?
ঘরের কেওড় বন্ধ করে ওপারে ছেলে কি করে?
বন্ধ ঘরের ওপাশে মেয়ে কি করে?
আদতে জানি কি?
একটু ভাবি!
আমার ঘরেই ধর্ষক তৈরি হচ্ছে নাকি!

আজ ঘরের ভেতর ঘর
সমাজের ভেতর সমাজ
অথচ আমাদের নিজেদের অবস্থান কি?
আমি কি ঠিক আছি?
নাকি বন্ধ বাথরুমের দরজার ওপাশে খুলেছি পর্ণগ্রাফি
পরকীয়ায় মত্ত হয়েছি নাকি!  
একবার না হয় আমি নিজেকেই যাচি!

হয়তো ধর্ষণ আমারই মনে 
হয়তো ধর্ষক আমারই ঘরে 
ঘর থেকেই তো সমাজ, তাই না?  
আগে নিজের ঘরে একটু নজর দিয়েই দেখি না! 



১৬ অক্টোবর, ২০২০ 

#কবিতা 
নজর নিজের ঘরে
 - যাযাবর জীবন 

ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 






 

ভাবনার ডানাগুলো

ভাবনাগুলোর কোন নির্দিষ্ট ডানা থাকে না, 

তবে থাকে;   

কখনো পোকার ডানা 

কখনো পাখির ডানা

মাঝে মধ্যে উড়োজাহাজের ডানা তো কখনো বা রকেটের ডানা,

কোথা কোথা থেকে জানি আজকাল ডানাগুলো উড়ে আসে! 

ভাবনার দেহে বসে 

তারপর উড়িয়ে নিয়ে যায় আমাকে কোন কোন সুদূর পানে! 


ভাবনার গায়ে ডানা লেগে গেলেই সে যে কি বিশাল বিশাল দূরত্ব পাড়ি দেয়!

তোমরা চিন্তাও করতে পারবে না,

অথচ একা একা নিশ্চিন্তে শুয়ে ছিলো ভাবনা

হয়তো একা একা গরম-তন্দ্রা

হয়তো একা একা শীত-নিদ্রা

ডানাগুলো এসে পিঠে বসেই আর একা থাকতে দিলো না;


একদিন প্রজাপতির এক ডানা এসে ভাবনার পিঠে চেপে বললো, চল

ওমনি গা ঝাড়া দিলো ভাবনা

দুজনে মিলে ফুলের মাঠে, সবুজ ক্ষেতে দাপিয়ে বেড়ালো সারাদিন

তারপর সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে বললো, অনেক হয়েছে; এবার ঘরে চল;

একদিন পাহাড়ের ডানা ডাকতেই ছুট দিলাম পাহাড়ে

চারিদিকে কি অপরূপ শোভা আহারে

বেশ কিছুদিন পাথরে, বরফে কাটিয়ে আবার ক্লান্ত থিতু 

বললাম অনেক হয়েছে, এবার ঘরে চল;  

একদিন নদী ডাকলো, একদিন সাগর

একদিন প্রকৃতি ডাকলো, একদিন ডাক দিয়ে বসলো ঝড়

একদিন দিন ডাকলো, একদিন রাত 

একদিন চাঁদ ডাকতেই ঘর থেকে বের হয়ে জ্যোৎস্না দেখলাম

একদিন সূর্য ডাকতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ ঝলসালাম;


একদিন একদিন খুব ভাবি!

আচ্ছা! ঐ যে কোন এক সুদূর থেকে একদিন বিশেষ এক মৃত্যু-ডানা পিঠে বসে বলবে

চল রে, এবার চল! 

সে যাত্রাটা বড্ড একমুখী হয়ে যাবে না! 

সেদিন সেই যে চলে যাব! আর তো ফিরে আসা হবে না

ফিরে এসে তোদের বলে যেতে পারব না, কেমন ছিলো যাত্রাটা, 

তাই না?


আমার ভাবনায় একটা মৃত্যু-ডানা উড়ে এসে বসার অপেক্ষায়

আজ, কাল বা পরশু.........

তারপর, ঐ তো শব!  


খুব হঠাৎ একদিন একদম চুপ হয়ে গেলে ভুলে যাস কিন্তু সব। 

 


১৫ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা 

ভাবনার ডানাগুলো 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 





স্পর্শের হাহাকার

ছোট্ট একটা ঘর

দুটা ঘুলঘুলি

জানালাই বলি!


একচিলতে করে আলো আসে, পর্দাটা সরিয়ে দিলে

আমি পর্দা ফেলে অন্ধকার করেই রাখি

আপাতত: বাইরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি

আমার এখন একাকী নিভৃতে কারাবাস,

কি এক পজিটিভ এলো! ওলোটপালট সর্বনাশ;


এ ঘরে সব আছে

টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, মোবাইল, ইন্টারনেট

এ ঘর থেকে আমি পৃথিবী দেখতে পারি

কথা বলতে পারি যার তার সাথে যতক্ষণ ইচ্ছে

মুঠোফোনে কিংবা ভিডিও চ্যাটে

নেট অন করলেই হাতের মুঠোয় পৃথিবী 

আজকালকার জামানায় এর থেকে বেশী চাওয়ার আর আছেই বা কি?


আছে, আছে

আরে এটুকুই কি পৃথিবী?

তাহলে ঐ যে একটু স্পর্শ!

প্রিয়জনের একটু ছোঁয়া!

একবার বুকে জড়িয়ে ধরা!

একবার চামড়ার চোখে দেখা!

না হয় দূর থেকেই

তোমরা কেও কেও অনুভূতি বলো

আমি বলি হৃদয়ের হাহাকার

এখানে সবকিছু থেকেও যেন কিছুই নেই আমার;


এখানে রক্ত মাংসের মানুষ নেই একটাও

অথচ খুব ইচ্ছে করে একটা মানুষের স্পর্শ নিতে 

এখানে প্রিয়জনগুলো ছড়িয়ে আছে দূরে দূরে 

বন্ধ দরজার ওপাশে 

এপাশে আসার অনুমতি নেই কারো 

অথচ বুক ভরা হাহাকার!

তাদের ও আমার; 

শুধু একটিবার যদি একটু জড়িয়ে ধরতে পারতাম!  

ওটুকুই,

ব্যাস! ঠিক ওটুকুই যেন বাকি রয়ে গেলো চাওয়ার!




১৪ অক্টোবর, ২০২০ 


#কবিতা

স্পর্শের হাহাকার 

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত। 




 


 

'+' চিহ্ন

'+' চিহ্নটার শাব্দিক অর্থ জুড়ে দেয়া, 

তাই না?

সে হোক অংকে, কথায় কিংবা সম্পর্কে;  


অথচ ২০২০ 

'+' হয়ে গেলো পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর চিহ্ন 

জীবনটাকে করে দিলো বিষ; 


এখন '+' অর্থ জুড়ে দেয়া নয় বরং ছিঁড়ে ফেলা

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনুভূতিগুলোকে 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্কগুলোকে 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো পুরো জীবনটাকেই;


এই যে + আর + এর মিলনে সম্পর্কগুলো!

সে পারিবারিকই হোক, আত্মীয় সম্পর্কই হোক কিংবা রক্তেরই হোক

কাগজে একটা + চিহ্ন! যেন সকল সম্পর্ক ছিন্ন,

হ্যাঁ! আদতে প্রথম প্রথম চারিদিকে সম্পর্ক ছিন্নই দেখেছি 

সম্পর্ক ছিন্ন বাবা-মা আর সন্তানের মাঝে

সম্পর্ক ছিন্ন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে 

ভাই বোন তো অনেক দূরে; 

'+' বহনকারী যেন অচ্ছুৎ, সমাজের বোঝা

হয় একঘরে এককোণে, সম্পর্কহীন বিভীষিকাময় জীবনে

কিংবা হসপিটালের কোন এক কোনে, কোনমতে ফেলে আসা জিন্দা লাশ

মরে গেলো তো যেন বেঁচেই গেলো, 

জানাজা? দাফন? প্রথম দিকে সেও কপালে জুটেছে ক'খানা?

রক্ত সম্পর্কগুলো তো সামনেই আসে নি

কোথাকার কোন কোন মানব-সেবক কিছু কর্মী হাত লাগিয়েছিলো লাশে

হয়তো গোসল দিয়েছিলো যত্ন করেই, হয়তো যত্নেই কবরে রেখেছিলো লাশ

গণকবরেরও নাম কিন্তু শোনা গিয়েছিলো, আর ভয়ংকর বিভীষিকাময় কিছু রাত;


সময়ের সাথে সাথে + চিহ্নটায় হয়তো কিছু সহনীয়তা এসেছে

এখন আর ফেলে আসে না গণ হসপিটালে, 

মানবিকতা কি হঠাৎ বেড়ে গেলো? 

উঁহু! ভয়টা হয়তো কমে গেছে অনেকটাই 

হয়তো  সময়ের সাথে কিছু ফিরে এসেছে সম্পর্কের মানবিকতাটুকুও 

তবুও কিন্তু পনর কিংবা বিশ দিন ঘরবন্দী, একা একা 

একা ঘরে বিশ দিন! থেকেই দেখ তো! 

বিস্ময় লাগে? না বিষ? 

মাঝে মধ্যে বাবা-মায়ের সাথে মোবাইল কথন

মাঝে মধ্যে স্বামী -স্ত্রী কিংবা সন্তানদের সাথে ভিডিও চ্যাটে দর্শন 

এটুকু সর্বোচ্চ,  

আরে বাবা! একই বাড়িতেই তো আছ! দরজার সামনে খাবার দিয়ে যাচ্ছে সময় মত

সেটুকুই কম কিসে! 

আর আজকাল লাশের গোসল হয়, কাফন হয়, জানাজা হয়, দাফন হয়

আত্মীয়-স্বজনরাও আসে ভয়ে ভয়ে, দেখে দূর থেকে;


খুব খারাপ লাগলো কি?

আমি কিন্তু চারিদিকের চিত্রটাই তুলে ধরেছি;

কেও কি কখনো চিন্তা করেছ!

এই একটা + এ কতকিছু - হলো!


ওহে! ওটা '+' নয় 

ওটা মৃত্যুভয় 

নিজেকে নিজের থেকে বেশী ভালোবাসা! মানুষের আর কোনকিছুতেই নয়। 




১৩ অক্টোবর, ২০২০


#কবিতা  

'+' চিহ্ন

 - যাযাবর জীবন 


ছবিঃ নেট থেকে সংগৃহীত।